কে এম রেজাউল করিম দেবহাটা ব্যুরো : পবিত্র কুরআনে বর্ণিত সেই তীন ফলের চাষ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। তেমনতি সাতক্ষীরার দেবহাটা এই প্রথম তীন ফলের চাষ শুরু করেছন এক ব্যবসায়ী। যদিও তিনি থাকেন তবুও গ্রামের বাড়িতে ভিন্ন ধরনের ফলের আবাদ শুরু করেছেন এই উদ্যোক্তা। খোজ নিয়ে দেখা গেছে দেবহাটা উপজেলার চক মোহাম্মাদালীপুর গ্রামের খন্দকর রিয়াসাদ আলীর ছেলে আকবর আলী ২০২১ সালে ময়মনসিংহ থেকে তীন ফলের গাছ এনে বানিজ্যিক ভাবে চাষ শুরু করেছেন।
সরেজমিনে আকবর আলীর খেতে গিয়ে দেখা মেলে সারি সারি তীন গাছের। প্রথমে স্থানীয়রা ধারণা করেছিল মরুভূমির এই গাছ বাংলাদেশের মাটিতে টিকবে না। কিন্তু সবার ধারণাকে তুল প্রমাণিত হয়েছে। ছোট ছোট গাছগুলো ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করেছে। কিছু গাছে ফলও ধরেছে। যা স্থানীয়দের মনে কৌতুহল সৃষ্টি করেছে।
দেবহাটা কৃষি অধিদপ্তর ও ইন্টারনেট থেকে পাওয়া তথ্যে মতে, কুরআনে যে তীনের কথা উল্লেখ রয়েছে সেটির বৈজ্ঞানিক নাম ঋরপঁং পধৎরপধ। ফাইকাস দলভুক্ত ৮০০ প্রজাতির মধ্যে এই তীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশীয় কাকডুমুর থেকে বড়। স্বাদে সুমিষ্ট, অত্যধিক সুস্বাদু এবং রসালো। এককথায়, স্বাদে, ঘ্রাণে এবং পুষ্টিগুণে সেরা একটি ফলের নাম তীন। তীন গাছ তিন থেকে দশ মিটার পর্যন্ত বড় হয়। ঘন এবং খসখসে পাতায় ভরপুর থাকে। এছাড়া এই সেই তীন গাছ যার নামে পবিত্র কোরআনে একটি সূরাই নাযিল হয়েছে। এই তীনের নামে মহান আল্লাহ তায়ালা শপথও করেছেন। তাই মুসলমানদের কাছে এই তীন গাছ ও এর ফল একটু ভিন্ন অর্থ বহন করে। কোরআনের ৩০তম পারার ৯৫ নম্বর সূরার প্রথম আয়াত وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ ‘ওয়াত্তীনি ওয়াযাইতূনি। বর্ণিত সূরায় আল্লাহতায়ালা তীন গাছের নামে শপথ করেছেন।
তীনের বাংলা অর্থ আঞ্জীর বা ডুমুর। মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিম এশিয়ায় এ ফলের উৎপাদন বাণিজ্যিকভাবে করা হয়। সৌদি, কুয়েত, মিসরসহ আফগানিস্থান থেকে পর্তুগাল পর্যন্ত এই ফলের বাণিজ্যিক চাষ হয়ে থাকে। তীনে আছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-বি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, কপার, আইরন ইত্যাদি।
এতকিছু উপকারী উপাদান থাকলেও ক্যালরি এবং ফ্যাট নেই বললেই চলে। মোটা হয়ে যাওয়ার চিন্তা ঝেড়ে ফেলে পেটভর্তি খাওয়ার মতো একটি ফল তীন। বড় সাইজের একটি তীনে মাত্র ২ গ্রাম ফ্যাট থাকার কথা খাদ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন। ডায়েটেড এবং ফিট থাকতে চাইলে তীন সবচেয়ে কার্যকর ফল। আর এন্টিঅক্সিডেন্ট-এর তীনের চেয়ে ভালো ফল আর নেই বললেই চলে। প্রোস্টেট এবং জরায়ু ক্যান্সারের প্রতিষেধক হচ্ছে তীন। বøাড প্রেসার এবং স্নায়ুরোগ কমাতে দারুণ কার্যকর। মায়ের বুকে দুধ উৎপাদনে তীনের জুড়ি মেলা ভার। পাইলসে ভোগা ব্যক্তিরা অসাধারণ ঔষধ হিসাবে তীন খেতে পারেন। গরুর দুধে এলার্জি থাকলে তীন খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ক্যালসিয়ামের ঘাটতি নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না।
ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণ, হাঁপানি রোগ, শ্বাসকষ্ট, ত্বক সমস্যা, চুলের রোগে তীন সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে। গর্ভবতী মহিলাদের এসিডিটি নির্মূল করে তীন। কিডনি, লিভার, ইউরিনারি বøাডারের কার্যকারিতা বহুগুণে বৃদ্ধি করে। শরীরের দুর্বলতা দূর করে আনে সজীবতা আর অদম্য শক্তি। তীন ফলের উপকারিতা লেখতে চাইলে শেষ করা কষ্টকর হয়ে যাবে। আল্লাহর রাসুল (সা.) তীন ফল অনুসারীদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়ার সময় বলতেন, ‘এটি খাও, কারণ এতে অনেক রোগের ঔষধ রয়েছে।’
তিন বাগানটির পরিচর্যাকারী অহিদুল ইসলাম জানান, তীন গাছকে দেখতে অনেকেই আসছেন। এটি এলাকায় নতুন হওয়া মানুষের মনে আলাদা আগ্রহ দেখা দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, বাগান শুরুতে প্রথমে চারাগুলো এনে নির্দিষ্ট মাপে গর্ত খুড়ে তারপর চারা রোপন করি। এরপর ধারাবাহিক ভাবে পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলো বড় হচ্ছে। অনেক গাছে ফল আসছে। বাহিরের কোন পশুপাখি যাতে বাগানের গাছ খেয়ে না ফেলে সেজন্য নেটের বেড়া দেওয়া হবে। বর্তমান বাজারে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই আমরা বেশি আকারে এই তীন চাষ করা হবে। এ ফলের আকার ডুমুরের চেয়ে বড়, খেতে মিষ্টি ও রসালো বলে জানান তিনি।
তীন চাষের উদ্যোক্তা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আকবর আলী জানান, ময়মনসিংহ থেকে তীন গাছের চারা সংগ্রহ করেন তিনি। প্রথমে ৯শত চারা রোপন করা হয়েছে। বিদেশী ফল হিসাবে এটি বেশ চাহিদা রয়েছে। তবে আগামী কয়েক মাসের ভিতরে সব গাছে ফল এসে যাবে তখন বাগানটি দেখতে আরো ভালো লাগবে। এর পাশাপশি আমি পেয়ারা, লটকন, ড্রাগন, বারোমাসি আম সহ বিভিনন্ন ফলের আবাদ করেছি। আগামিতে আরো অনেক ফলের আবাদ করার ইচ্ছা রয়েছে।
দেবহাটা উপজেলা কৃষি অফিসার শরীফ মোহাম্মাদ তিতুমীর জানান, সাতক্ষীরার দেবহাটায় প্রথম তীন গাছের চাষ হচ্ছে। সখিপুর ইউনিয়নের একজন উদ্যোক্তা প্রায় দেড় বিঘা জমিতে এটি চাষ করেছেন। ফলটি গুনেমানে ভালো হওয়ায় এর চাহিদা রয়েছে। আমি ঐ বাগানটি পরির্দশন করে আসছি। যদি কেউ নতুন ভাবে উপজেলার কোথাও কৃষিভিত্তক উদ্যোক্তা হতে চাই তাদের জন্য আমার দপ্তর সব সময় উন্মুক্ত। তাছাড়া তীন বর্তমানে সম্ভবনাময় চাষ হিসাবে দেখা দিতে পারে। তাই এই চাষের মাধ্যমে অনেক বেকার তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে।
আশাাশুনি ব্যুরো: সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক এমপি’র সহধর্মিণী প্রয়াত ইলা হকের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আশাশুনির বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাদ আসর আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের নৈকাটি উত্তর পাড়া জামে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আশাশুনি রিপোর্টার্স ক্লাবের সদ্য সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে মোনাজাত পরিচালনা করেন অত্র মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান।
এসময় মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেম মোড়ল, সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন, আশাশুনি সরকারী কলেজের প্রভাষক মোখলেছুর রহমান, সমাজ সেবক হাফিজুর রহমান, সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম, মোক্তারুজ্জামান, মসজিদের মুসল্লিবৃন্দ সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া অনুষ্ঠানে এক সফল ও সার্থক জীবনের জীবনসঙ্গী নিভৃতচারী প্রেরনাময়ী রমনী ইলা হকের ১ম মৃত্যু বার্ষিকীতে অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও প্রয়াতার রুহের শান্তি কামনা করা হয়। এসময় ১৫ আগস্টে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ উনার পরিবারের শহীদ বরনকারী সকলের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।
এছাড়া আশাশুনি উপজেলা শ্রমিকলীগ সভাপতি ও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ঢালী মোঃ সামছুল আলমের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সহধর্মিণী ইলা হকের ১ম মৃত্যু বার্ষিকীতে আশাশুনি সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাদ মাগরিব উপজেলা সদরের মোল্যা বাড়ি জামে মসজিদে এবং বাদ ঈশা আশাশুনি ফজলুর রহমান হাফিজিয়া মাদ্রাসায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আনুলিয়া ইউনিয়নের মির্জাপুর বায়তুল রুহুল জামে মসজিদে ইউপি সদস্য মোঃ সাহাবুদ্দিন সানার ব্যবস্থাপনায় বাদ আসর দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিদেশের খবর : হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্টে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তোলা হলো৷ ভৎসনা করা হয়েছে হামাসকেও৷ গত মে মাসে ১১ দিন ধরে লড়াই হয়েছিল হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের সেনার৷ তার দুই মাস বাদে রিপোর্ট প্রকাশ করল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ৷ যেখানে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধ’ বা ‘ওয়ার ক্রাইমে’র অভিযোগ তোলা হয়৷
গাজা স্ট্রিপে একের পর এক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী৷ ইসরায়েলের সেই বিমান হামলা নিয়ে এর আগেও অনেক বিতর্ক হয়েছে৷ হামলায় গাজা স্ট্রিপে অবস্থিত সংবাদ সংস্থার ভবনও সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে৷ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্টে বলা হয়েছে ইসরায়েলের অন্তত তিনটি বিমান হামলায় ৬২জন সাধারণ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে৷ যুদ্ধের সঙ্গে যাদের কোনো সম্পর্ক নেই৷
মানবাধিকার সংস্থাটির প্রশ্ন, কেন ওই নিরপরাধ মানুষদের উপর আক্রমণ চালানো হলো? সংঘাতের গোড়া থেকেই ইসরায়েল দাবি করছিল, গাজা স্ট্রিপে শুধুমাত্র হামাসের ঘাঁটি লক্ষ্য করেই তারা আক্রমণ চালাচ্ছে৷ এমনকি, সংবাদ সংস্থার ভবনটিও হামাসের ঘাঁটি বলে তারা দাবি করেছিল৷ কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনটির বক্তব্য, অন্তত তিনটি বিমান হামলা শুধুমাত্র জনবসতির উপর হয়েছে৷ সেখানে কোনো হামাসের ঘাঁটি ছিল না৷ লোকালয়ে ওই হামলার ফলে ৬২ জনের মৃত্যু হয়৷ তার মধ্যে নারী এবং শিশুও আছে৷
মানবাধিকার সংগঠনটির অন্যতম কর্মকর্তা গেরি সিম্পসন সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, ”ইসরায়েলের আক্রমণে গাজা স্ট্রিপে বহু অসহায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে৷ যুদ্ধের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্কই নেই৷ এটা শাস্তিযোগ্য যুদ্ধাপরাধ৷”
বিনোদন ডেস্ক : সাদিকা পারভীন পপি, ঢালিউডের এ অভিনেত্রীকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার নামে বিভিন্ন রকম গুঞ্জন শোনা গেলেও তার অবস্থান জানেন না কেউ। শোনা যাচ্ছে, এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করে গোপন সংসার করছেন পপি। পপির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের কাছেও পপির কোনো তথ্য নেই।
কিন্তু একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই অভিনেত্রীর হঠাৎ এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে চলচ্চিত্রপাড়ায়। তার কিছু কাজ আটকে আছে। এ নিয়ে যেমন বিপাকে আছে কিছু নির্মাতা-প্রযোজক; পাশাপাশি পপির খোঁজ না মেলাটাও সবাইকে ভাবাচ্ছে। উঠছে প্রশ্নও, একজন প্রথম সারির নায়িকা কোথায় উধাও হয়ে গেলেন!
সম্প্রতি পপির মা মরিয়ম বেগম এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন মেয়ে তার কোনো খোঁজ রাখেন না। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে পপির মা বলেন, পপিআমার সাথে থাকে না। আমিও পপির সাথে থাকি না। পপি কোথায় থাকে আমি জানি না। আমি কোথায় থাকি পপি জানে না। পপি বলে, আমাকে সে খাওয়ায়-পরায়, আসলে সে খাইতেও দেয় না, পরতেও দেয় না। পপির বাসায়ও আমি থাকি না।
তিনি বলেন, পপি আমাকে ২০০৭ সালে ছেড়ে দিছে। এখন আমি কোথায় আছি না আছি পপি বলতে পারে না। আর পপি কোথায় আছে আমি বলতে পারি না। আমাকে নিয়ে যারা পপির কথামতো লিখতেছেন তারা ভুল লিখছেন।
হঠাৎ করে একজন গুণী অভিনেত্রী, জনপ্রিয় নায়িকার এমন নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি কানাঘুষা ও মজার বিষয় থেকে সিরিয়াস হয়ে উঠছে ক্রমেই। অনেক রহস্য যেমন জমছে তেমনি উৎকণ্ঠাও প্রকাশ পাচ্ছে অনেকের ভাবনায়। কেউ কেউ দাবি করছেন পপির সন্ধানে আইনি পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
আবার অনেকের মতে হয়তো কোনো কারণে বা অভিমানে গা ঢাকা দিয়ে আছেন পপি। সময় হলেই ফিরে আসবেন। শুরু করবেন বাকি থাকা কাজও।
বিদেশের খবর : সহিংসতা বন্ধে তালেবানের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছে আফগান সরকার। দুইপক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী কাতারের মাধ্যমে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে তালেবানের হাতে ১০ম প্রাদেশিক রাজধানী পতনের দিনে এ প্রস্তাব দিল কোণঠাসা আফগান সরকার। মার্কিন গোয়েন্দাদের বিশ্বাস, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে তালেবানের হাতে কাবুল সরকারের পতন হবে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গজনি প্রদেশের রাজধানী দখল করেছে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। শহরটি আফগান রাজধানী কাবুল থেকে মাত্র ১৩০ কিলোমিটার দূরে। তীব্র লড়াই চলছে হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী ও আফগানিস্তানের অন্যতম বৃহত্তম শহর লস্কর গাহেও। ইতোমধ্যে সেখানকার আঞ্চলিক পুলিশ সদরদফতরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান।
আল জাজিরার খবর বলছে, তীব্র আক্রমণের মুখে তালেবানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন লস্কর গাহের একদল পুলিশ কর্মকর্তা। বাকিরা আশ্রয় নিয়েছেন এখনো সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা গভর্নর অফিসে। লড়াইয়ে সরকারি বাহিনীর অনেক সদস্য হতাহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে, কান্দাহার কারাগারে তাণ্ডব চালিয়েছে তালেবান। স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, বিদ্রোহীদের একটি দল কান্দাহার কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢুকে কয়েকশ’ বন্দিকে ছেড়ে দিয়েছে। কারাগারটিতে এর আগেও হানা দিয়েছিল তালেবান। তখনো অসংখ্য বন্দি পালানোর ঘটনা ঘটেছিল।
তালেবানের হামলা-সহিংসতায় চলতি বছর আফগানিস্তানজুড়ে অন্তত ৩ লাখ ৯০ হাজার মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে, গত মে মাস থেকে এর হার ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের বলেছেন, আমাদের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, গত ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে অন্তত ৫ হাজার ৮০০ জন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি কাবুলে পৌঁছে সংঘাত ও অন্যান্য হুমকি থেকে নিরাপত্তা চেয়েছেন। তবে এ ধরনের ভুক্তভোগীদের জন্য অতীতের হাজার কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা এখন কমে মাত্র ৮০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।
দেশের খবর : করোনাভাইরাস মহামারিতে লকডাউনের (বিধিনিষেধ) কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের বয়স ২১ মাস ছাড় দিতে প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
প্রস্তাব অনুযায়ী, গত বছরের ২৫ মার্চ পর্যন্ত যাদের বয়স ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি চাকরির নিয়োগে যত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে সেখানে তাদের আবেদনের সুযোগ থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রণোদনা দিয়েছি। সেক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। আবার নতুন করে। গত বছর ২৫ মার্চ থেকে যাদের চাকরির বয়স শেষ হয়েছে, তারা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য বয়স শিথিল করেছিলাম। আবার নতুন করে আরেকটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুমোদন হয়ে আসলে সেই বিষয়ে আমরা বলতে পারব। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে চাকরি প্রার্থীরা একটা ছাড় পাবে। গত বছরের (২০২০) ২৫ মার্চ যাদের বয়স ৩০ বছর হয়েছে, তারা এই ছাড়ের আওতায় আসবে।’
তিনি বলেন, ‘তারা ২১ মাস পর্যন্ত বয়সের ছাড় পাবে। এটা একটা বড় সহযোগিতা। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে আমরা এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করব। আমরা এটি সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠিয়ে দেব। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা যেসব বিজ্ঞাপন দেবে সেই বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করবে, যাদের বয়স ২৫ মার্চ ৩০ বছর হয়েছে তারা আবেদন করতে পারবে।’
বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে ৩২ বছর। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদগুলোতে নিয়োগের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের।
করোনা মহামারির প্রথম দফায় সাধারণ ছুটির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত চাকরি প্রার্থীদের বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় দেয় সরকার। গত বছরের ২৫ মার্চ যাদের বয়স ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছিল তাদের পরবর্তী পাঁচ মাস, অর্থাৎ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু গত এপ্রিল থেকে ফের লকডাউন চলছে। মন্ত্রণালয়, বিভাগ কিংবা সংস্থাগুলো চাকরির জন্য বিজ্ঞপ্তি দিতে পারছে না।
করোনা মহামারি বেকারত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কয়েক লাখ চাকরিপ্রার্থীর ন্যূনতম বয়স লকডাউনের মধ্যে চলে গেছে বলে জানিয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের বয়স বাড়ানোর আন্দোলন করা সংগঠনগুলো।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী প্রথম শনাক্ত হয়। পরিস্থিতি ক্রম অবনতির দিকে যেতে থাকলে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়তে থাকে। ওই বছরের ৩০ মে পর্যন্ত টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ছিল। পরে ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে অফিস খুলে দেয়া হয়, চালু করা হয় গণপরিবহন।
করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ফের উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় গত ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত লকডাউন দেয় সরকার। গণপরিবহন, মার্কেট খোলা রেখে এই লকডাউন ছিল অনেকটাই অকার্যকর।
পরে গত ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে আটদিনের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়। কয়েক দফায় শিথিলতাও আনা হয় বিধিনিষেধে। শেষে গত ২৩ জুলাই থেকে ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। গত ৫ আগস্ট থেকে আরও ৫ দিন সেই বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেই বিধিনিষেধের মেয়াদ শেষ হয় গত মঙ্গলবার (১০ আগস্ট)। এরপর বুধবার (১১ আগস্ট) থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্প-কারখানা, গণপরিবহন, দোকান ও শপিংমলসহ মোটামুটি সবই খুলছে।
দেশের খবর : জাতিসংঘ শান্তি মিশনে থাকার সময় ধর্ষণের অভিযোগ এনে পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা মো. মোকতার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক নারী পরিদর্শক।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার সাত নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামসুন্নাহারের আদালতে এই মামলাটি হয়। পরে বিচারক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং এ বিষয়ে পরবর্তীতে আদেশ দিবেন বলে জানিয়েছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বাদি এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ২০১৯ সালে বাদি ও আসামি দুজনই সুদানে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এরপর, ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর দুপুরে আসামি বাদির বাসায় যান। তিনি বাদির ব্যবহৃত গাড়ির চাবি চান। বাদি চাবি ইউনিফর্মের পকেট থেকে আনতে গেলে আসামি পেছন থেকে জাপ্টে ধরে এবং পরবর্তীতে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এরপর এ ঘটনা কাউকে না জানাতে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি হুমকি-ধামকি দেখান এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বাদি বিষয়টি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে অভিযোগ করেন। সে অভিযোগটি চলমান রয়েছে।
বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাওলানা রহমাতুল্লাহ নামে এক মাদ্রাসার আরবি প্রভাষকের মৃত্যু হয়েছে। …
নিজস্ব প্রতিনিধি : যারা জনগণের সাথে প্রতারণা করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একসময়…
অনলাইন ডেস্ক : পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোতেকোশি নদীতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯-এ দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন…