সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় হেভী ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের মতবিনিময় সভাস্বাস্থ্যকর্মকর্তা  ও আব্বাসী কর্তৃক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য : নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানবন্ধনপ্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক রহমাতুল্লাহর মৃত্যুসাতক্ষীরায় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সভা: সভাপতি মুনির- সম্পাদক সামাদসাতক্ষীরায় ঘোড়ার মাংস গরু বলে বিক্রির অভিযোগে এক ব্যক্তি আটকসরকার গণতন্ত্রের পরিবর্তে জবরদখল ও দলীয়করণ শুরু করেছে: এমপি ইজ্জত উল্লাহআ.লীগ ও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করে দেশ চালাচ্ছে সরকার: নাহিদএনসিপির কমিটি পুনর্গঠন: পাটওয়ারী-হাসনাত-সারজিস-আসিফের পদোন্নতি৮১ বছরে জাতিসংঘ: বিশ্ব চায় প্রতিশ্রুতির কার্যকর বাস্তবায়ন – নিকোলাস বিশ্বাসএরশাদের ৯ বছরের শাসন আমলে দেশের মানুষ সবচেয়ে ভালো ছিল: সাবেক এমপি আশু

আলোচনায় আটক রাজের বিকৃত যৌনাচারের খাট

অনলাইন ডেস্ক : রাজ মাল্টিমিডিয়ার স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম রাজ ওরফে নজরুল রাজের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি ব্র্যান্ডের দামি মদ, তিন প্যাকেট ইয়াবা, সিসা, সিসা সেবনের সামগ্রী, বেল্ট, দড়ি, ডাণ্ডা, মাদক সেবনের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ কম্বলসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বাসাকে টর্চার সেল বানিয়েছিলেন। যার জন্য বেল্ট, দড়ি ও ডাণ্ডা মজুদ রেখেছেন।

অভিযানে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত ছিলেন নজরুল রাজ। তার বাসা থেকে একাধিক নারী-পুরুষ একসঙ্গে যৌনাচারের জন্য ব্যবহৃত এবং বিশেষ কৌশলে তৈরি করা খাট পাওয়া গেছে। রাজ মাল্টিমিডিয়া প্রডাকশন হাউসের একটি কক্ষে সমন্বিত যৌনাচারে ব্যবহার্য বিভিন্ন সরঞ্জাম দেখে অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারাও তাজ্জব বনে গেছেন।
এই খাট নিয়ে মিডিয়াপাড়ায় তুমুল আলোচনা চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও কম আলোচনা চলছে। সবার প্রশ্ন নজরুল রাজ কী করতেন এই খাটে? সাধারণত পর্ন সিনেমায় বিকৃত যৌনাচারের জন্যই এই খাট ব্যবহার করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। সংস্কৃতি সাংবাদিকরাও নজরুল রাজের বাসা থেকে এসব উদ্ধারে বিস্মিত হয়েছেন।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর বনানী থানার ৭ নম্বর সড়কের ৪১ নম্বর বাসায় অভিযান শুরু করে র‌্যাব। রাত সাড়ে ১০টায় রাজকে একটি গাড়িতে তুলে র‌্যাব সদর দপ্তরে নেওয়া হয়। নজরুল রাজ প্রযোজক ও অভিনেতা।

র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মিশু হাসানকে গ্রেফতারের পর তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতেই রাজকে আটক করা হয়েছে। তার বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।

নজরুল রাজ সম্পর্কে জানা গেছে, বনানীতে পুলিশ পরিদর্শক মামুনকে হত্যার পর গাজীপুরের জঙ্গলে লাশ ফেলে দেওয়ার মামলার তদন্তে নজরুল, মিশু হাসান, পিয়াসাসহ কয়েকজনের নাম আসে। ওই সময় নজরুলের বিরুদ্ধে দীর্ঘ তদন্ত করে পুলিশ। যদিও পরে ওই মামলা থেকে নজরুল রাজকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আলোচিত এই সিনেমার পরিচালকের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের দুর্গাপুর গ্রামে। তিনি ড্রেজিং ব্যবসাসহ বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। রাজ মাল্টিমিডিয়া থেকে প্রিয়জন প্রয়োজনসহ কয়েকটি সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন নজরুল। র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ একাধিক মামলার প্রস্তুতি চলছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অলিম্পিকের ফাইনালে আজ ব্রাজিল-স্পেনের লড়াই

খেলার খবর : টানা দ্বিতীয়বারের মতো অলিম্পিক ফুটবলের স্বর্ণ জেতার সুযোগ সেলেসাওদের। অন্যদিকে, স্পেনের সামনে হাতছানি ১৯৯২ সালে বার্সা অলিম্পিকের পর আবারও স্বর্ণ জেতার।

টোকিওর ইয়োকোহামা স্টেডিয়ামে দু’দলের ফাইনালে জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় আছে ফুটবলপ্রেমীরা।

বাংলাদেশ সময় শনিবার বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

ব্রাজিল ও স্পেনের অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দল এর আগে সরকারিভাবে কোনও প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হয়নি। এই প্রথম দু’দলের লড়াই হতে চলেছে। সিনিয়র পর্যায়ে ব্রাজিল ও স্পেন এখনও পর্যন্ত ৯বার মুখোমুখি হয়েছে। তার মধ্যে পাঁচটি ম্যাচে জয় পেয়েছে ব্রাজিল। স্পেন জিতেছে মাত্র দু’টি ম্যাচে এবং বাকি দু’টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ফলে অলিম্পিক ফাইনালে যেমন ব্রাজিলের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার লড়াই, তেমনই আবার স্পেনের তরুণ ফুটবলারদের কাছে নিজেদের প্রমাণ করার তাগিদ।

চলতি অলিম্পিক ফাইনালে ওঠার পথে চারটি ম্যাচ জিতেছে ব্রাজিল। ড্র একটি ম্যাচ। অন্যদিকে, স্পেন তিনটি ম্যাচ জিতেছে এবং দু’টি ম্যাচ ড্র করেছে। ফলে ফর্মের বিচারে কিছুটা হলেও এগিয়ে ব্রাজিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি :
তুচ্ছ ঘটনায় সাতক্ষীরায় মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের উপর হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
শনিবার বেলা ১২টায় সাতক্ষীরা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ হলরুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা বি এম আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার মৃত. আব্দুল মালেকের পুত্র আ: রহিম বাবু একজন নব্য সন্ত্রাসী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বর্তমানে সুলতানপুর এলাকার অনেক সম্মানি মানুষ সন্ত্রাসী বাবুর কাছে অসম্মানিত হয়েছে। হয়েছে নির্যাতিত এবং মারপিটের শিকার।

কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় তার সন্ত্রাসী কার্যাকলাপের জন্য একটি লেবার বাহিনী রয়েছে।
গত ০৪ আগস্ট দুপুর আড়াই টার দিকে আমার বাড়ি ভাড়াটিয়া কামরুজ্জামানের ব্যবসায়ীক পার্টনারের গলার ওয়াজ পেয়ে পাশ^বর্তী মোজামের ভুট্টোর মিলের অফিসে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু একজন ব্যক্তিকে আটকে রেখে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করছে। এর কারন যানতে চাইলে বাবু বলে আমি তার কাছে টাকা পাবো। তখন আমি বলি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার দায়িত্ব আমি নিচ্ছি। তাকে ছেড়ে দাও। কিন্তু বাবু কথা না শুনে বাজারের লেবার বাহিনী ডেকে এনে তাকে বেধড়ক মারপিট করতে থাকে। আমার পুত্র সামিউল হাসান সজল এতে বাধা দিতে গেলে উত্তেজিত হয়। এ সময় আমার শ্যালক তৌহিদুজ্জামান চপল ও তার পুত্র তামজিদুজ্জামান বাড়ি ছুটে এসে প্রতিবাদ করলে বাবুর সন্ত্রাসী বাহিনী এবং ওয়াজেদ আলীর পুত্র কিশোর গ্যাংয়ের নেতা ই¯্রাফিল, কামাল, আব্দুল জব্বারের পুত্র জাবেদ, তামিম, হাকিম, সবুজ, কাশেমসহ কতিপয় ব্যক্তি ছুটে এসে আমার পুত্র ও শ্যালকের পুত্রকে এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে। আমি ঠেকাতে গেলে আমাকেও মারপিট করে। এতে শ্যালক চপলের পুত্র তামজিদুজ্জামান মারাত্মক আহত হয়।

এঘটনায় আমরা আহত হলেও আগে তাদের মামলাটি রেকর্ড করা হয়। যদিও পরে আমাদের মামলাটিও রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আব্দুর রহিম বাবু তার অপকর্ম ঢাকতে নিজের ভাইপের পেটে নিজেরা চুরিকাঘাত করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন।
বর্তমানে নব্য সন্ত্রাসী আব্দুর রহিম বাবুর সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কারনে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। সে প্রশাসন ও রাজনৈতিক ছত্র ছায়ায় এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ওই সন্ত্রাসী আব্দুর রহিম বাবুর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোশাররফ হোসেন মশু বলেন, আব্দুর রহিম বাবু বড় বাজারে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছে।
বাজার কমিটি খারাপ মানুষের হাতে চলে যাচ্ছে। আব্দুর রহিম বাবু একজন সুদের কারবারী। বাবুর লোকজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে মারধর করেছে কিন্তু মামলা দিতে গেলে পুলিশ নিতে গড়িমসি করেছে। আবার যারা মারাধর করেছে তাদের মামলা নেওয়া হয়েছে প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির চাপে। এটি দুঃখজনক। করোনা পরিস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কোন কর্মসূচি গ্রহন করতে পারছে না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোশাররফ হোসেন মশু, সাবেক সদর উপজেলা কমান্ডার মাহবুবুর রহমান, বীরমুক্তিযোদ্ধা রফিকুজ্জামান খোকন, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহমান প্রমুখ।

এদিকে, অভিযুক্ত আব্দুর রহিম বাবু বলেন, আমি সদরের আনিস নামক এক ব্যক্তির নিকট টাকা পাই। গত ০৪ আগষ্ট দুপুরে আমি চপলের বাড়ির কাছে আনিসকে খুজে পাই। এনিয়ে চপল ও তার বাহিনী আমাকে আক্রমন করলে আমার ভাইপো ইসরাফিল ঠেকাতে আসে। তখন চপলের ছেলে তামজিদুজ্জামান ইসরাফিলকে ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক আহত করলে তাকে

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পরীমনির সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার অনৈতিক সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে সিআইডি

বিনোদন ডেস্ক : পরীমনির সঙ্গে তার পূর্বের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার (৭ আগস্ট) মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ওমর ফারুক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘৬ আগস্ট আমরা মামলার ডকেট বুঝে পেয়েছি, আসামির হেফাজতও বুঝে পেয়েছি। আসামিদের মধ্যে পরীমনি, মডেল মৌ, পিয়াসা ও নজরুল ইসলাম রাজ বর্তমানে সিআইডির হেফাজতে রয়েছে। তবে হেলেনা জাহাঙ্গীর ও মিশু হাসান বর্তমানে আমাদের হেফাজতে নেই। তারা অন্য মামলার তদন্তে ডিএমপির হেফাজতে।’

পরীমনি এখন আসামি। তবে এর আগে অন্য একটা মামলায় তিনি বাদী ছিলেন। ঘটনাক্রমে একজন মামলার বাদীর সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগগুলো তদন্তে উঠে আসবে কি-না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, ‘অবশ্যই উঠে আসবে। আমরা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করব। সেই কারণে মামলা এবং আসামি সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যম ও গণমাধ্যমে যা প্রকাশ পাবে, সেই বিষয়গুলোও তদন্তের সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, ‘সবেমাত্র আমরা তদন্ত শুরু করেছি। সুতরাং এই মুহূর্তে আমাদের পক্ষ থেকে বেশি কিছু বলা মুশকিল। সিআইডিতে যেকোনো তদন্তই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে করা হয়। আমাদের ফরেনসিক ল্যাব, কেমিক্যাল ল্যাব, ডিএনএ ল্যাব ও আইটি ফরেনসিক ল্যাব রয়েছে। আমরা মামলার তদন্ত সুষ্ঠুভাবে করতে চাই। এর জন্য তদন্ত কার্যক্রমে আমাদের সময় লাগবে। ইতোমধ্যে সিআইডির হেফাজতে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে’।

পরীমনির অপর্কমের অভিযোগগুলোর সঙ্গে প্রভাবশালীরাও জড়িত, এ প্রসঙ্গে শেখ ওমর ফারুক বলেন, ‘অবশ্যই, যদি প্রভাবশালী কেউ জড়িত থাকে। তবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’

ইতোমধ্যে পরীমনিসহ মডেল মৌ, পিয়াসা ও রাতের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত ও ডকেট বুঝে পেয়েছে সিআইডি। এছাড়া পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সিআইডির তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, চিত্রনায়িকা পরীমনি কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার। তার নাম গোলাম সাকলায়েন। তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান জোনের এডিসি হিসাবে কর্মরত আছেন। সর্বশেষ পরীমণি সেই পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় এসে অবস্থান করেন প্রায় ১৮ ঘণ্টা। পরীমনি গ্রেপ্তারের পর অকপটে স্বীকার করেছেন সবকিছু। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে পুলিশে।

গত ১৩ জুন ঢাকা বোট ক্লাবে গিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেন চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমনি। এর পরদিনই উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদকে। পরে এই ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ পরীমনিকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন থেকেই গোলাম সাকলায়েন শিথিলের সঙ্গে পরিচয় হয় পরীমনির। এরপর থেকেই শুরু হয় যোগাযোগ।

সূত্র বলছে, বোট ক্লাবের সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তদন্ত করতে গিয়ে পরীর সঙ্গে সাকলায়েনের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। তবে বিষয়টি এতদিন অজ্ঞাত কারণে গোপন ছিল। র‌্যাবের হাতে পরী গ্রেপ্তারের পর ডিবি কর্মকর্তার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি সামনে এলো।

জিজ্ঞাসাবাদে পরীমনি জানিয়েছেন, নিয়মিত কথা বলতে বলতে গোলাম সাকলায়েন শিথিলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় তার। এরপর তারা নিয়মিত গাড়ি নিয়ে ঘুরতে যেতেন। এমনকি সাকলায়েন তার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সর্বশেষ গত ১ আগস্ট তার সরকারি বাসভবন রাজারবাগের মধুমতির ফ্ল্যাটে যান পরীমণি।

সাকলায়েন বিবাহিত এবং তার স্ত্রী প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। ঢাকার পার্শ্ববর্তী একটি জেলায় তার স্ত্রী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে।

গোলাম সাকলায়েনের সরকারি বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ১ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে পরীমনির নিজের হ্যারিয়ার গাড়ি নিয়ে গোলাম সাকলায়েন মধুমতির ফ্লাটে যান। এ সময় ১০তলা থেকে নেমে এসে খোদ গোলাম সাকলায়েন পরীমনিকে রিসিভ করে বাসায় নিয়ে যান। পরীমনির খালাতো বোন শায়লা ও তার স্বামী গোলাম রাতে সাকলায়েনের ওই বাসায় যান। পরে রাত ২টার দিকে পরীমনি ও তার স্বজনরা গোলাম সাকলায়েনের বাসা থেকে বের হয়ে যান।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, পরীমনিকে গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কটি ফাঁস হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত রাজারবাগের মধুমতির বাসভবনের কেয়ারটেকার শামীমকে সিসিটিভি ফুটেজের ডিভিআরসহ পুলিশ সদর দফতরে ডেকে পাঠান। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পরীমণির বক্তব্যের সত্যতা পান। তবে শুক্রবার রাত পর্যন্ত গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পরীমনির গাড়িচালক নাজির হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ১ আগস্ট পরীমনিকে নিয়ে তিনি রাজারবাগের সরকারি কোয়ার্টারে এক বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে আসেন। এরপর তিনি সেখান থেকে বনানীর বাসায় চলে যান। পরে রাতে তাকে পরীমণি গাড়ি নিয়ে তার খালাতো বোন ও বোন জামাইকে তুলে রাজারবাগের ওই বাসায় যেতে বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে নাজির হোসেন বলেন, ‘ওই লোকের (পুলিশ কর্মকর্তা সাকলায়েন) সঙ্গে পরীমনি দুই দিন রাতের বেলা হাতিরঝিলে ঘুরতে গিয়েছিলেন। হাতিরঝিলে গাড়িতে বসেই তারা মদ খেয়েছে।’

এসব অভিযোগ সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে গোলাম সাকলায়েন শিথিল বলেন, পরীমনির সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। তবে তা প্রেমের সম্পর্ক নয় এবং তারা বিয়েও করেননি। পরীমণি তার বাসায় যাওয়ার কথাও তিনি অস্বীকার করেন। পরে তার বাসায় যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে জানালে এ বিষয়ে তিনি আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সিভিল সার্জন অফিস থেকে দেওয়া তথ্যে করোনা উপসর্গ নিয়ে পাঁচ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেলায় এ পর্যন্ত করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৫৭২ জন ও আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ২০ জনের পজেটিভ আসে। শনাক্তের হার ২১.২৭% শতাংশ। আগের দিনের সনাক্তের হার ২২ শতাংশ।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিস থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ি এ পর্যন্ত সাতক্ষীরায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৯৭১ জন। নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৪ হাজার ৭৮৩ জনের। জেলায় সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৮২৩জন। বর্তমানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ১৬৬ জন। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন ২০৬ জন। এর মধ্যে ২৩জন সামেক হাসপাতালে ও ৪জন বেসরকারি হাসপাতালে। হোম আইসোলেশনে আছেন ১১৩৯ জন। উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি ১৬০ জন ও বেসরকারি হাসপাতালে ৪৬ জন। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি মোট রোগীর সংখ্যা ২০৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ০৫জন। করোনায় মারা গেছেন ৮৫জন। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৫৭২জন।#

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সারাদেশে আজ থেকে শুরু হলো গণটিকাদান কর্মসূচি

দেশের খবর : সারাদেশে পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়স্ক জনগোষ্ঠী, নারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে আজ (৭ আগস্ট) থেকে দেশে গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় সারাদেশে চার হাজার ৬০০টি ইউনিয়নে, এক হাজার ৫৪টি পৌরসভায় এবং সিটি করপোরেশন এলাকার ৪৩৩টি ওয়ার্ডে ৩২ হাজার ৭০৬ জন টিকাদানকারী এবং ৪৮ হাজার ৪৫৯ জন স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে একযোগে কোভিড-১৯ টিকা দেওয়া হবে।

ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক স্বাক্ষরিত নির্দেশনা পরিচালক (স্বাস্থ্য), করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য গঠিত-বিভাগীয় কমিটির সদস্য, সিটি করপোরেশন কমিটির সদস্য সচিব, জেলা কমিটির সদস্য সচিব, উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ও সব পৌরসভার মেডিক্যাল অফিসারদের পাঠানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে তাদের কাছে এই টিকাদান কর্মসূচি একটি পাইলট প্রজেক্টের মতো। এখান থেকে তারা শিক্ষা গ্রহণ করবে।

যেভাবে পরিচালিত হবে কর্মসূচি :

ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইনকে সামনে রেখে শুক্রবার (৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতর এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে টিকাদান কর্মসূচির বিষয়ে স্বাস্থ্যের ডিজি অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকার সম্প্রসারিত আকারে শনিবার দেশব্যাপী ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৭ আগস্ট ২৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠী; অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়স্ক জনগোষ্ঠী, নারী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে আমরা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে যাচ্ছি।’

শনিবার দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এলাকায় ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন শুরু হবে। ৮ ও ৯ আগস্ট ইউনিয়ন ও পৌরসভার বাদ পড়া ওয়ার্ডে এবং ৭ থেকে ৯ আগস্ট সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি চলবে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৮ ও ৯ আগস্ট ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম চালু থাকবে। ১০ থেকে ১২ আগস্ট জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের জনগোষ্ঠীর ৫৫ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম পরিচালিত হবে- জানান খুরশীদ আলম।

১৮ নয়, বয়স হবে ২৫ :

এক সপ্তাহে এক কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার কথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বারবার জানালেও টিকা স্বল্পতার কারণে সেখান থেকে সরে এসেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সেইসঙ্গে এ কর্মসূচিতে ১৮ বছর এবং তার বেশি বয়সী সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও সেখানেও পরিবর্তন এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হবার আশঙ্কায় সেখানেও পরিকল্পনায় পরিবর্তন হয়েছে।

টিকা নেওয়ার বয়সসীমা ১৮ থেকে কেন আবার ২৫ বছর করা হলো- জানতে চাইলে অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, ১৮ বছর বয়সী অনেকের এনআইডি নেই। আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি, এই এনআইডি ছাড়া যদি ১৮ বছর বয়সীদের টিকার আওতায় আনি; মাঠে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে সেটাকে আমরা সামাল দিতে পারবো না। সে জন্য অনেক আলোচনা করে ঠিক করেছি, বয়সসীমা ২৫ বছর হবে।

পাইলট প্রজেক্ট-সক্ষমতা যাচাইয়ের কর্মসূচি :

এখন পর্যন্ত এক কোটি ২৮ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধন করেছে এক কোটি ৭৭ লাখ ৯৫ হাজার। ঢাকায় যারা নিবন্ধন করছেন তারা ২০ থেকে ২৫ দিন পরে ভ্যাকসিনের এসএমএস পাচ্ছেন। কারণ সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের পক্ষে একসঙ্গে এত মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব না। এছাড়া সরকারের হাতেও এত টিকা নেই যে, এই মানুষগুলোকে দিতে পারবে।

তাহলে কী এমন প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলো যে, সারাদেশে এত বড় ক্যাম্পেইন চালু করছেন এবং যারা নিয়মিত নিবন্ধন করছেন তাদের কবে টিকার আওতায় আনতে পারবেন- এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যের ডিজি বলেন, ‘সারা বিশ্বে ভ্যাকসিনের ডিপ্লোম্যাসি আছে। যে ভ্যাকসিন বেশি আকারে আমাদের কাছে দেওয়া হয়েছে সেটি হচ্ছে সিনোফার্ম। এই ভ্যাকসিন সিঙ্গেল ডোজ, সিঙ্গেল ভায়েল। এর আগে আমরা এনেছিলাম অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সেটা ছিল ১০টি ডোজের একটি ভায়েল। এটি বেশি পরিমাণে সংরক্ষণ করা যায়। ঈদের আগে আমাদের টিকা গ্রহণের পরিমাণ কম ছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্যাম্পেইনের ঘোষণা দেওয়ার পর গত ১০ দিনে আমরা দেখলাম প্রায় ৩০ লাখ মানুষ টিকা গ্রহণ করেছে। এটাও একটা বড় বিষয়।’

‘আমরা চিন্তা করেছিলাম, যদি ম্যাসিভ আকারে ক্যাম্পেইন না করতে পারি বা মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি করতে না পারি, তাহলে সারাদেশে যেখানে আমাদের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে হবে; এত মানুষকে আমরা কীভাবে কাভার করবো? এটা পাইলট প্রজেক্ট বলা যেতে পারে। আমরা নিজেদের সক্ষমতা যাচাই করতে চাই। দেখতে চাই, আমাদের লোকেরা প্রান্তিক পর্যায়ে একদিনে কী পরিমাণ টিকা নিতে পারেন’- বলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে হত্যার পরিকল্পনা, দুজন আটক

বিদেশে খবর : জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে হত্যা অথবা আহত করার পরিকল্পনার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। আটক করা ব্যক্তিরা মিয়ানমারের নাগরিক। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

নিউইয়র্কে মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, ফিও হেইন হুত এবং ইয়ে হেইন জাউ পরিকল্পনা করেছিলেন—ভাড়া করা আততায়ীর মাধ্যমে রাষ্ট্রদূত কিয়াও মোয়ে তুনের ওপর হামলা চালানো হবে, যাতে তিনি রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমার সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে কিয়াও মোয়ে তুন সামরিক জান্তা সরকারের কড়া সমালোচনা করে আসছেন।

সামরিক জান্তা পরবর্তীকালে কিয়াও মোয়ে তুনকে বরখাস্ত করে। কিন্তু, তিনি বিশ্ব দরবারে মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারের প্রতিনিধিত্ব অব্যাহত রেখেছেন।

এদিকে, সর্বশেষ এই ঘটনার ব্যাপারে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য আসেনি।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।

মিয়ানমারের নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চি এবং তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির সদস্যেরাসহ আরও অনেক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ফিও হেইন হুত এবং ইয়ে হেইন জাউ মিলে পরিকল্পনা করছিলেন—জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলা করে আহত অথবা হত্যা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এই হামলা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বিদেশি কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরলস চেষ্টাকে আমরা সাধুবাদ জানাই।’

চলতি বছরের শুরুর দিকে ২০ বছর বয়সী ফিও হেইন হুতের অ্যাকাউন্টে চার হাজার মার্কিন ডলার পাঠিয়েছিলেন ২৮ বছর বয়সী ইয়ে হেইন জাউ। যে অর্থ হামলার পরিকল্পনার অগ্রিম হিসাবে দেওয়ার কথা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান : অর্ধেক মামলার তদন্তই শেষ হয়নি

অনলাইন ডেস্ক : ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের দুই বছর পূর্তি হচ্ছে আগামী সেপ্টেম্বরে। কিন্তু প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাগুলোর অর্ধেকেরই তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়নি। বাকি অর্ধেক মামলায় চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হলেও করোনা মহামারিতে সেগুলোর বিচার কার্যক্রম অনেকটা ঝুলে আছে।

ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হওয়া প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এক ডজনের বেশি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে ইসমাইল হোসেন সম্রাটসহ হাফ ডজন অবৈধ সম্পদশালীর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

লোকমান হোসেন ভূঁইয়াসহ আরও হাফ ডজনের বিরুদ্ধে করা অবৈধ সম্পদের মামলা এখনো তদন্তাধীন। এসব অবৈধ সম্পদশালীর মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রসহ নানা দেশে অর্থ পাচারের তথ্য জানতে এবং পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনতে এরই মধ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছে দুদক।

প্রভাবশালীদের মধ্যে ইসমাইল হোসেন সম্রাট, জি কে শামীম, সেলিম প্রধান, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, জাকির হোসেন, কাজী আনিছ দম্পতি, পাপিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে করা মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তবে করোনার কারণে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেসব মামলার বিচার কার্যক্রম তেমন অগ্রসর হয়নি। এছাড়া লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, এনামুল হক এনু, রূপন ভূঁইয়া, তারেকুজ্জামান, পাগলা মিজান ও আরমানের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো তদন্তাধীন।

দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, যেহেতু প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়ে গেছে, সেহেতু যারা তেমন প্রভাবশালী নন, তাদের ক্ষেত্রেও চার্জশিট দিতে কোনো বাধা নেই বা কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার সুযোগ নেই। আমরা যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আইনের আওতায় তাদের (ক্যাসিনোকারবারিদের) বিচারের সম্মুখীন করা আমাদের দায়িত্ব। আর দৃষ্টান্তমূলক বিচার হলে নিঃসন্দেহে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশে টাকা পাচার হলে তা আনা সহজ বিষয় নয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত পর্যায়ে রিপোর্ট সাবমিট করলে পরে কমিশন মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট রিকুয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। যেসব দেশের সঙ্গে আমাদের চুক্তি রয়েছে- সেসব দেশে এমএলএআর পাঠানো যাবে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারে দীর্ঘসূত্রতার নমুনা রয়েছে। সার্বিকভাবে দীর্ঘ সময়েও তদন্ত শেষ করতে না পারায় তদন্ত সংস্থার দক্ষতার ঘাটতি প্রতীয়মান হয়।

জানতে চাইলে দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, প্রভাবশালী অনেকের বিরুদ্ধেই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন। তবে করোনার প্রাদুর্ভাবে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম তেমন অগ্রসর হয়নি। তা না হলে এতদিনে এসব মামলার বিচার অনেকটা অগ্রসর হতো।

ইসমাইল হোসেন সম্রাট :

ক্যাসিনো গডফাদার যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামলায় চার্জশিট দিয়েছে দুদক। সেখানে বলা হয়েছে, অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে সম্রাট ২২২ কোটি ৮৮ লাখ ৬২ হাজার ৪৯৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা নিজে ভোগদখলে রেখেছেন। অপরাধলব্ধ আয়ের ২১৯ কোটি ৪৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাচার করেছেন।

জি কে শামীম :

প্রভাবশালী ঠিকাদার জি কে শামীমের (এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম) বিরুদ্ধে দেওয়া চার্জশিটে ২৯৭ কোটি ৩৯ লাখ ১২ হাজার ৭৮৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে। চার্জশিটে জি কে শামীমের সঙ্গে তার মা আয়েশা আক্তারকেও আসামি করা হয়েছে।

সেলিম প্রধান :

অবৈধভাবে ১২ কোটি ২৭ লাখ ৯৫ হাজার ৭৫৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনোর মূল হোতা মো. সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে এ বছরের ১৭ জানুয়ারি মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়।

খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া :

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত পাঁচ কোটি ৫৮ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৯ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর আদালতে মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়।

জাকির হোসেন :

যুবলীগ নেতা সম্রাটের কথিত ‘ডানহাত’ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি ৪৯ লাখ তিন হাজার ৯৩৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে এ বছরের ১৮ জানুয়ারি আদালতে মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়। চার্জশিটে পাঁচ কোটি ৮৬ লাখ সাত হাজার ৬৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়।

কাজী আনিছুর রহমান :

যুবলীগের বহিষ্কৃত দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ১২ কোটি ৮০ লাখ ৬০ হাজার ৯২০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে চলতি বছর শুরুর দিকে আদালতে এ মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়। চার্জশিটে আনিছুর রহমানের ১৪ কোটি ৯৫ লাখ ২৯ হাজার ৮৩৬ টাকা এবং তার স্ত্রী সুমী রহমানের দুই কোটি ৬১ লাখ ৬২ হাজার ২১৮ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ করা হয়েছে।

পাপিয়া দম্পতি :

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ দম্পতির বিরুদ্ধে দেওয়া চার্জশিটে পাঁচ কোটি ৮৪ লাখ ১৮ হাজার ৭১৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

লোকমান হোসেন ভূঁইয়া :

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে চার কোটি ৩৪ লাখ ১৯ হাজার ৬৪৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়। ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলাটি তদন্তাধীন।

এনামুল হক এনু :

গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক এনুর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ২১ কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়। ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলাটি তদন্তাধীন।

রূপন ভূঁইয়া :

গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক রূপন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ১৪ কোটি ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৮২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়। ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ মামলাটিও তদন্তাধীন।

তারেকুজ্জামান রাজীব :

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিল মো. তারেকুজ্জামান রাজীবের বিরুদ্ধে ২৬ কোটি ১৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে মামলা করা হয়। ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলাটি তদন্তাধীন।

পাগলা মিজান :

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানের বিরুদ্ধে ৩০ কোটি ১৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়। ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ মামলাটিও তদন্তাধীন।

আরমান :

সম্রাটের সহযোগী যুবলীগ নেতা আরমানের বিরুদ্ধে দুই কোটি পাঁচ লাখ ৪০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়। দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলাটির তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।সূত্র:যুগান্তর

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest