সর্বশেষ সংবাদ-
এডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসাতক্ষীরায় যৌতুকের বলি মা-মেয়ে : হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ডসাতক্ষীরায় নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আওতায় আনার দাবিসাতক্ষীরায় হেভী ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের মতবিনিময় সভাস্বাস্থ্যকর্মকর্তা  ও আব্বাসী কর্তৃক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য : নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানবন্ধনপ্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক রহমাতুল্লাহর মৃত্যুসাতক্ষীরায় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সভা: সভাপতি মুনির- সম্পাদক সামাদসাতক্ষীরায় ঘোড়ার মাংস গরু বলে বিক্রির অভিযোগে এক ব্যক্তি আটকসরকার গণতন্ত্রের পরিবর্তে জবরদখল ও দলীয়করণ শুরু করেছে: এমপি ইজ্জত উল্লাহ

শ্রমিকদের ঢাকায় ফিরতে বাধ্য করার অভিযোগ

দেশের খবর : প্রতিদিনই করোনায় প্রাণ হারাচ্ছেন শতাধিক মানুষ। এমন অবস্থায় পোশাক মালিকদের অনুরোধে বিধিনিষেধের মধ্যেই কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে আকস্মিক ১ আগস্ট থেকে রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা খোলা থাকবে বলে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার জন্য পরিবহন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক আয়োজন সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্রমিকদের টিকার আওতায় না এনে, ফের গাদাগাদি করে কাজ করাতে বাধ্য করছেন মালিকরা। তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে উপেক্ষিত।

চাকরি হারানোর ভয়ে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে আটকে থাকা লাখো শ্রমিককে গণপরিবহন বন্ধ থাকা অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে একদিনের মধ্যে কর্মস্থলে ফেরত আসছেন পোশাক শিল্পের কর্মীরা।

রফতানিমুখী গার্মেন্ট খুলে দেয়ার ঘোষণায় শনিবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় প্রবেশ করেছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ভাড়া নৈরাজ্যসহ পদে পদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা।

ঢাকায় ফেরা শ্রমিকরা বলছেন, শুক্রবার রাতে কারখানার সুপারভাইজাররা ফোনে কর্মস্থলে আসতে বলেছেন। আগামী ১ আগস্টের মধ্যে কর্মস্থলে না আসতে পারলে অনেকেই চাকরি হারাবেন এই শঙ্কায় ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় কয়েক গুণ ভাড়া বেশি দিয়ে গাদাগাদি করে ঢাকায় ফিরছেন।

দুপুরে আমিন বাজার ব্রিজে দেখা হয় মো. সোহাগ হোসেনের সঙ্গে। পাবনার কাশীনাথপুর থেকে আসা এই পোশাক শ্রমিক বলেন, ‘আমরা অফিসে সময়মতো না গেলে চাকরি থাকবে না।’ নারায়ণগঞ্জের টিআইসি নামের একটা গার্মেন্টে লোডারের কাজ করেন তিনি। কাঁধে একটি ও দুই হাতে দুটি ব্যাগ নিয়ে আমিন বাজার ব্রিজ পার হয়ে নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার জন্য রিকশা খুঁজছিলেন।

কাশীনাথপুর থেকে সিএনজিতে পাবনার কাজীর হাট আসেন। সেখান থেকে পিকআপে করে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। পরে প্রাইভেটকারে আমিন বাজার এসেছেন সোহাগ। পুরো যাত্রায় তার ১৩০০ টাকার বেশি খরচ হয়েছে বলে জানান এই শ্রমিক।

তিনি বলেন, ‘আমার ছুটি ছিল ৮ দিন, আগামী ৫ তারিখ পর্যন্ত। গতকাল রাতে হঠাৎ করে স্যার ফোন করে বলছে ১ তারিখে নাকি অফিস খোলা। এজন্য অনেক ঝুঁকি নিয়েই চলে আসতে হলো। কষ্ট যাইহোক যেহেতু আমরা গরিব মানুষ আমাদের চাকরিটা বাঁচাইতে হবে।’

আমরা অনেক কষ্ট করে আসছি। গার্মেন্ট খোলা রাখার পাশাপাশি গাড়িও খুলে দেয়া উচিত ছিল। অন্য শ্রমিকরাও বলছেন, গতকাল রাতে গার্মেন্ট থেকে সুপারভাইজার তাদের ফোনে ঢাকায় ফিরতে বলেছেন ও ১ তারিখ ফ্যাক্টরিতে দেখা করতে।

রবিউল ইসলাম নামের আরেক গার্মেন্টকর্মীও একই কথা জানান। তিনি বলেন, গতকাল রাত ৮টার পরে আমাকে ঢাকায় ফিরতে বলে আমাদের সুপারভাইজার। চাকরি বাঁচাতে ১৫০০ টাকা খরচ করে তিনি ঢাকা পর্যন্ত এসেছেন বলে জানান।

আমিন বাজারে কর্মরত দারুস সালাম ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট ফাহিদ আহমেদ বলেন, কলকারখানা শ্রমিকদের ঢাকায় ফেরার প্রেসার তুলনামূলক বেশি। আগামীকাল থেকে ফ্যাক্টরি খুলে দিচ্ছে এজন্য সকাল থেকেই শ্রমিকরা ঢাকায় ফিরছেন। প্রমাণ দেখানো সাপেক্ষে আমরা ছেড়ে দিয়েছি। যারা বিনাপ্রয়োজনে বের হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তবে গার্মেন্টে ফিরতে কাউকে বাধ্য করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মালিকরা। ফতুল্লা এপিরিয়ালসের মালিক বিকেএমইএর সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জাগো নিউজকে বলেন, শ্রমিকদের বাধ্য করব কিভাবে? আমরা যেটা করেছি ফোনে বা এসএমএসে সুপারভাইজারদের বলছি, আপনারা যার যার লাইনের শ্রমিকদের বলে দেন ফ্যাক্টরি চালু হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাক্টরি চালু হচ্ছে আর বাধ্য করা দুটো তো এক না। শ্রমিককে চাকরি থেকে বাদ দিতে তো আমরা পারব না। একটা তো আইন বলে আমরা তাকে বাদ দিতে পারব না। আমি ফ্যাক্টরি খুলছি তাকে তো বলতেই হবে তুমি কাজে যোগদান করো। তাকে তো ইনফর্ম করতে হবে। এখন এটা যখন সুপারভাইজাররা শ্রমিকদের বলছে, সেটা তার ল্যাঙ্গুয়েজে বলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ তারিখের আগে চাকরিতে না আসলেও কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই করা হবে না। কারও কোনো চাকরি যাবে না, এটা বাংলাদেশের শ্রম আইন ও মালিকপক্ষ গ্যারান্টি দিচ্ছে।’

শ্রমিকদের কষ্ট লাঘবে গণপরিবহন খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘বাস চালু থাকলে সমস্যা কোথায়। এই জিনিসটা আমি বুঝি না। পরিবহন খোলা রাখলে সবার জন্য ভালো। এই জিনিসটা চেকিংয়ের মধ্যে রাখতে হবে। কেননা আজকে তো গার্মেন্ট শ্রমিকদের ফিরতে কষ্ট হচ্ছে কিন্তু যারা টিকা, চিকিৎসা নিতে ঢাকা আসছে তাদের তো বেশি টাকা খরচ করে ঢাকায় আসতে হচ্ছে।’

তবে চিত্রনায়ক ও ব্যবসায়ী অনন্ত জলিল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেয়ার নির্দেশ দিয়ে গতকাল রাতে একটি পোস্ট করেন।

সেখানে তিনি লেখেন, ‘এতদ্বারা এ.জে.আই গ্রুপ ও এ.বি গ্রুপে কর্মরত সকল কর্মকর্তা এবং শ্রমিক ভাই বোনদের উদ্দেশে জানানো যাচ্ছে, আগামী ১ আগস্ট থেকে আমাদের ফ্যাক্টরি সম্পূর্ণভাবে খোলা থাকবে। তাই সবাইকে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো, কেউ যেন অনুপস্থিত না থাকে।’

এরপরেই নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েন এই চিত্রনায়ক। অধিকাংশের ভাষ্য- গণপরিবহন বন্ধ থাকায় গ্রাম থেকে কীভাবে আসবে শ্রমিকরা?

গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল বলেন, কারখানা চালুর আগে শ্রমিকদের জন্য পরিবহন, টিকা ও ঝুঁকি ভাতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা গত বছর দেখেছি শিল্প মালিকরা ঢাকায় অবস্থানরত শ্রমিকদের দিয়ে কারখানা চালু করার অনুমতি নিয়ে কিভাবে গ্রামে অবস্থানকারী শ্রমিকদের ফোন করে চাকরিচ্যুতের ভয় দেখিয়ে কাজে যোগ দিতে বাধ্য করেছিল। পূর্বের এই অভিজ্ঞতার পরেও সরকার ফের গণপরিবহনের ব্যবস্থা না করে কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের স্বার্থ ও সুরক্ষা বিবেচনা না করার আরও একটি নজির।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের তীব্রতর যায়গায় রয়েছে। প্রতিদিনই রোগী বাড়ছে। ইতোমধ্যে হাসপাতাল রোগীতে পরিপূর্ণ রয়েছে। আইসিইউতে সিট খালি নেই।’

তিনি বলেন, ‘লকডাউন যদি সঠিকভাবে কার্যকর না করা যায়, তাহলে সংক্রমণের লাগাম টানা না যাবে না। সামনের দিনগুলো অনেক ভয়াবহ হবে।’

পোশাক কারখানা খোলার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, হাসপাতালের বেড আর কতটা বাড়ানো যাবে। রোগীর সংখ্যা বাড়তে না দেয়াটাই করোনা নিয়ন্ত্রণের প্রধান কৌশল। সেজন্য লকডাউন বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বিশেষ ডেস্ক : শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন রোববার। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙালি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

পরবর্তীতে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড ছুড়ে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল জাতির জনকের কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী, আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।

আগস্টের কালরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, তাঁর সহধর্মিনী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন।

সেনাবাহিনীর কিছু সংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেলজয়ী পশ্চিম জার্মানীর নেতা উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যেকোনো জঘন্য কাজ করতে পারে।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ শ্রী চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে।

‘দ্য টাইমস অব লন্ডন’ এর ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় উল্লেখ করা হয় ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ, তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোনো অস্তিত্ব নেই।’

একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের রায় কার্যকর করে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। একইভাবে বাঙালির আত্মঘাতী চরিত্রের অপবাদেরও অবসান ঘটেছে।

টেলিগ্রাফ পত্রিকার মন্তব্য প্রসঙ্গে আফজাল হোসেন বলেন, পত্রিকাটি সেদিন সুদূরপ্রসারী মন্তব্য করেছিল। দেশের মানুষ এখন অনুধাবন করতে পারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নস্যাৎ করে দেশে পাকিস্তানি ভাবধারা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই স্বাধীনতার বিরোধীতাকারী এবং দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল।

শোকাবহ আগস্টে সমগ্র জাতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংগঠনসমূহ যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভাবগম্ভীর আর বেদনাবিধূঁর পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন করবে।

তবে, এবার জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি সীমিত পরিসরে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ওবায়দুল কাদের জানান, বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে শোকাবহ, মর্মান্তিক হত্যার স্মৃতিবিজড়িত আগস্ট মাস আমাদের দুয়ারে সমাগত। প্রতিবছর আগস্ট মাসে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করা হয় কিন্তু এবারও করোনার ভয়াবহতায় লকডাউনের কারণে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে আগস্টের কর্মসূচি সীমিত পরিসরে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মাসব্যাপী আগস্টের কর্মসূচি

৫ আগস্ট শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮টায় আবাহনী ক্লাব প্রাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন।

৮ আগস্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ১১টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দলের শ্রদ্ধা নিবেদন।

এদিন জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া ১৬ আগস্ট বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। পরের দিন ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা।

নারকীয় গ্রেনেড হামলা দিবস ২১ আগস্ট উপলক্ষে সকাল ৯টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন। বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ঘরোয়াভাবে আলোচনা সভা।

এ ছাড়া ২৭ আগস্ট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
করোনার টিকাদানে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার পিছনে বাংলাদেশ

দেশের খবর : করোনার গণটিকাদানের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশে সাত দিনের গড়ে দৈনিক টিকাদানের হার শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনে টিকা পাচ্ছে শূন্য দশমিক ১১ জন।

উন্নয়নশীল বিশ্বে টিকাদান পর্যবেক্ষণে আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাংক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত টাস্ক ফোর্সের প্রতিবেদনে এই চিত্র দেখা গেছে। শুক্রবার টাস্ক ফোর্সের ওয়েবসাইটে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

টাস্ক ফোর্সের ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ভারতে সাত দিনের গড়ে দৈনিক টিকাদানের হার শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ, পাকিস্তানে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ, নেপালে শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এই দেশগুলো টিকাদানে বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে আছে।

ভুটানে টিকাদানের হার শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ, মালদ্বীপে শূন্য দশমিক ০৮ শতাংশ, আফগানিস্তানে শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ।

যদি এই বছরের মধ্যে ৪০ শতাংশ মানুষকে টিকাদান সম্পন্ন করতে হয়, তবে বাংলাদেশকে দিনে শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ হারে টিকা দিতে হবে। আর ২০২০ সালের মাঝামাঝিতে ৬০ শতাংশকে টিকা দিতে হলে দিনে শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ হারে টিকা দিতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভোমরা সীমান্তের মাদকের লিডার আজিজুর রহমান পলতা গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা ভোমরা সীমান্ত এলাকার ত্রাস, মাদকের লিডার আজিজুর রহমান পলতা অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। সে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাহমুদপুর গাগনিয়া এলাকার আব্দুর রশিদ কারিগরের ছেলে। সে সীমান্তবর্তী এলাকা ভোমরা, গাংনিয়াসহ আশেপাশের কয়েটি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতো। তার বাহিনীর কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

এলাকায় তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই পড়তে হয় রোষানলে এমনকি তাকে হতে হয় হামলার শিকার। গত সোমবার সন্ধা ৭ টায় সদরের মাহমুদপুর এলাকায় এমনই একটি ঘটনা ঘটে মাদক বিক্রিতে বাঁধা দেওয়ায় কিশোরকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
এঘটনায় তার বাহিনীর হামলায় এলাকার সালাম ঢালির পুত্র সালাউদ্দীন গুরুত্বর জখম হয়।

গাগনিয়া ব্রিজ এলাকায় পলতা ও বাহিনী ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে কুপিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
এদিকে গত শুক্রবার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আমির হোসেন নামের ভোমরার একজন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে আজিজুর রহমান পলতা ও তার বাহিনী।
আমির হোসেনের উপর হামলার ঘটনায় শনিবার আজিজুর রহমান পলতাকে গ্রেফতার করে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ।
এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এস আই দেব আজিজুর রহমান পলতাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একটি মারপিটের মামলায় তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক-২০২১ ব্যাচের সংবর্ধনা প্রদান

আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক-২০২১ ব্যাচের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। ইন্টার্ন চিকিৎসক এ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ও এস.কে.এফ’র সহযোগিতায় শনিবার দুপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে উক্ত সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

হাসপাতালটির তত্বাবধায়ক ডা. শেখ কুদরত-ই খোদার সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা আসনের সংসদ সদস্য  মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি রবি বলেন, এক সময়ে গ্রামে ডাক্তার পাওয়া অনেক কষ্টের ছিলো। এখন কিন্তু সেটা নাই। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের ডাক্তাররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিবারের কথা চিন্তা না করে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানায়। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য তোমাদেরকে ভালো ডাক্তার হতে হবে। এই করোনা দূর্যোগের সময় মানুষের পাশে থেকে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। সফলতার জন্য ভাল শিক্ষার পাশা পাশি ভাল চিকিৎসক হতে হবে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ডা. কাজী আরিফ আহমেদ, ডা. সুমন কুমার দাশ, ডা. মাহমুদুল হাসান পলাশ, ডা. হাবিবুর রহমান, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সুমন কুমার, ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের উপদেষ্টা ডা. মো. ইমরান হোসাইন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক-২০২১ ব্যাচের সংবর্ধনা ও নবাগত ৫৭ জন মেডিকেল শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং তাদেরকে ফুল ও উপহার দিয়ে বরণ করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনাা করেন ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. রসিফুর রহমান দীপ।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় খাল থেকে অবৈধ নেট-পাটা অপসারণে অভিযান
দেবহাটা ব্যুরো:
অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে এবং প্রবহমান সরকারী খালগুলো থেকে অবৈধ নেট-পাটা অপসারণে অভিযান পরিচালনা করেছেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছলিমা আক্তার।
শনিবার দিনভর তিনি নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালতের এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে বোটঘাটার খালে নেট-পাটা বসিয়ে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির দায়ে জগন্নাথপুরের রবিউল ইসলাম নামের এক মৎস্য ঘের মালিককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন তিনি।
একইসাথে খালে একাধিক স্থান থেকে অবৈধ নেট-পাটা অপসারণের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন তিনি। এসময় নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, ইউএনও’র বেঞ্চ সহকারী প্রদীপ কুমার ঢালী, ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান সরদার ও ইউনিয়ন সহকারী ভুমি কর্মকর্তাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল বিক্রির অভিযোগে ২ ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে অবৈধ নেটপাটা, কারেন্ট জাল অপসারণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার সকালে সাতক্ষীরা বড় বাজারে কারেন্ট জাল বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, কাটিয়া এলাকার আব্দুল মাজেদের পুত্র আজিজার রহমান,গড়েরকান্দা গ্রামের মুনছুর আলীর পুত্র আলতাফ হোসেন। এসময় মৎস্য সংরক্ষণ আইনের ৫ ধারায় দুইজনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে সদর উপজেলা নিবার্হী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরার নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন, সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন, উপ-পরিদর্শক রবীন্দ্র নাথ মন্ডল প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৭ মামলায় পলাতক সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য দেলোয়ার গ্রেপ্তার

আশাশুনি প্রতিনিধি:  আশাশুনি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য জিআর ১৮৩/১৭ ও ৬২১/১৭ নং মামলার সাজাপ্রাপ্ত ও ৭ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার রাতে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ গোলাম কবিরের নেতৃত্বে এসআই নাজিম উদ্দিন ও এসআই পূর্ণেন্দু গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযানে রাজবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, দেলোয়ার হোসেন জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার পর থেকে এলাকার চাপড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ, কচুয়া জামে মসজিদ নতুন করে নির্মাণ, বাউশুলি মাদ্রায় মহাশ্মশান নির্মাণ সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরে জেলা পরিষদ থেকে অনুদান দেয়ার নাম করে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। শুধু তাই নয় তিনি চাকরি বাণিজ্য, ডলার ব্যবসা, হুন্ডি ব্যবসার মত অপরাধের সাথে জড়িত।

তার বিরুদ্ধে এলাকার বিভিন্ন লোকের চাকরি দেয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ আছে। দেলোয়ার হোসেন জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে কোটি টাকার মালিক হয়েছে। তার অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে অনেকে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

জানা যায়, দেলোয়ার হোসেন সব সময় সরকারি দলের লোক। তিনি বিএনপি’র শাসনামলে ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতা ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের শাসনামলের সময় তিনি অনেক টাকার বিনিময়ে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছিলেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের অনেকে তাকে হাইব্রিড আওয়ামী লীগ বলে অভিহিত করেছেন।

জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার পূর্বে তিনি এলাকায় ডলার ব্যবসা ও হুন্ডির ব্যবসা করতেন। তারপর হঠাৎ করে এলাকাছাড়া হয়ে যায় এবং বেনাপোল ও ভোমরা বন্দরে কালোবাজার এর মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায় লিপ্ত হয়ে কয়েক বছরের মধ্যে কোটি টাকার মালিক হয়। এরপর দেলোয়ার এলাকায় এসে চেয়ারম্যান নির্বাচন করে সেখানে পরাজিত হওয়ার পরে আবারও এলাকা ছেড়ে পূর্বের ব্যবসায় চলে যায় এবং পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে এসে কোটি টাকার বিনিময়ে জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরে জেলা পরিষদ থেকে বিভিন্ন সরকারি অনুদান দেয়ার নাম করে অসংখ্য স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, ক্লাবের ভবন নির্মাণ ও সংস্কারে জেলা পরিষদের অনুদান দেয়ার কথা বলে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। শুধু তাই নয় তিনি চাকরি দেওয়ার নাম করে অনেক অসহায় পরিবারকে পথে বসিয়েছে।

তারা তাদের শেষ সম্বল টুকু বিক্রি করে দিয়েছিল শুধু সন্তানের চাকরি হবে বলে। কিন্তু তিনি চাকরি তো দেন নাই বরং তাদের টাকাও ফেরত দেয় নাই। তার দেয়া অঙ্গীকারনামা অনেক স্ট্যাম্প ও চেক রয়েছে এলাকার আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী মানুষের কাছে।

আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ গোলাম কবির জানান যেহেতু তিনি সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এ ধরনের আসামিদের খুঁজে বের করে ধরে আনার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তাই আমি সেটা করেছি।

বহুদিন ধরে তাকে ধরার চেষ্টা করেছিলাম অবশেষে গতকাল রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই নাজিম উদ্দিন ও এএসআই পূর্ণেন্দু রাজবাড়ি জেলার এক বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest