সর্বশেষ সংবাদ-
এডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসাতক্ষীরায় যৌতুকের বলি মা-মেয়ে : হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ডসাতক্ষীরায় নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আওতায় আনার দাবিসাতক্ষীরায় হেভী ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের মতবিনিময় সভাস্বাস্থ্যকর্মকর্তা  ও আব্বাসী কর্তৃক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য : নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানবন্ধনপ্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক রহমাতুল্লাহর মৃত্যুসাতক্ষীরায় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সভা: সভাপতি মুনির- সম্পাদক সামাদসাতক্ষীরায় ঘোড়ার মাংস গরু বলে বিক্রির অভিযোগে এক ব্যক্তি আটকসরকার গণতন্ত্রের পরিবর্তে জবরদখল ও দলীয়করণ শুরু করেছে: এমপি ইজ্জত উল্লাহ

সাতক্ষীরা উপকূলে দোলনায় প্রসূতিকে নদী পার করার পথে ট্রলারে সন্তান প্রসব

বিশেষ প্রতিবেদক : শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের উপকূলে মধ্যরাতে এক প্রসূতি মায়ের প্রসব যন্ত্রণা।কাতর মাকে বাগে করে নিয়ে হাসপাতালের পথেই ট্রলারে ফুটফুটে সন্তান প্রসাব।

গত ৩০ জুলাই শুক্রবার মধ্যরাতে প্রসব যন্ত্রণা ওঠে এই প্রসূতি মায়ের।সে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের ইমরান হোসেনের স্ত্রী কেয়া মনি (২০)। দ্বীপ ইউনিয়ন হওয়ায় ইচ্ছা করলেই তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব নয়। সেই সাথে মুশলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তাঘাট কাদা পানিতে ছড়াছড়ি। সচারাচার মোটরসাইকেলই একমাত্র যানবাহন হিসেবে ব্যবহৃত হয় এই দ্বীপ ইউনিয়নে। কিন্তু কাদা পানিতে তাও চলার কোন উপায় নেই।ওদিকে, প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন মা। পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রাম্য চিকিৎসক ও ধাত্রী দিয়ে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয় পরদিন শনিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত। কিন্তু সব চেষ্টা যখন ব্যর্থ হয়, তখন কোন উপায় না পেয়ে এবং অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অন্য কোন বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় স্বামী-শ্বশুর মিলে বাগে করে (ভারী জিনিস ঘাড়ে বহনযোগ্য স্থানীয়ভাবে তৈরি সরঞ্জাম) প্রসূতি কেয়ামনিকে নিয়ে রওনা হন খোলপেটুয়া নদীর পাতাখালি খেয়াঘাটের দিকে। সঙ্গে ছিল ধাত্রীসহ অন্যান্য স্বজনরা। খেয়াঘাটে পৌঁছে নিজেদের ট্রলারে রওনা হন নওয়াবেকী ঘাটের উদ্দেশ্যে। সেখানে পৌঁছে সড়ক পথে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছুতে যেতে হবে আরও ১২/১৪ কিলোমিটার। এরই মধ্যে দুপুর দেড়টার দিকে ট্রলারেই ফুটফুটে একটি সন্তান প্রসব করেন কেয়ামনি।কেয়ামনির শ্বশুর ইব্রাহিম হোসেন জানান, বর্তমানে মা ও নবজাতক দু’জনেই সুস্থ আছে। তারপরও তাদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।শুধু কেয়ামনি নয়, এ যেন উপকূলের দৈনন্দিন চিত্র, জীবন-মৃত্যুর খেলা।

একদিকে, প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত, অন্যদিকে গ্রামীণ অবকাঠামোর অনুন্নয়ন কিংবা কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকা।
স্থানীয় ফজলুল হক জানান, এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও তাদের কয়েক কিলোমিটার হেটে খেয়াঘাটে পৌঁছে কয়েক ঘণ্টা নদী পথ পাড়ি দিয়ে স্থলভাগের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে আরও ১২ থেকে ১৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। চারদিকে নদীবেষ্টিত দ্বীপ হওয়ায় নেই ভাল কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা, মেলে না চিকিৎসা সেবা। মাঝেমধ্যেই নদী পথে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার আগেই ট্রলারে সন্তান জন্ম দেন অনেক গর্ভবতী মা, আবার জীবনহানির ঘটনাও ঘটে প্রসব যন্ত্রণায় কাতর অনেক মায়ের। অনেকে বাড়িতে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে রক্তক্ষরণেও মারা যায়, কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ থাকে না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
করোনায় আজও ২১৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৯৩৬৯

দেশের খবর : দেশে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০ হাজার ৬৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া দেশে নতুন করে আরও নয় হাজার ৩৬৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৮৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ১৪ হাজার ১৭ জন। এ নিয়ে দেশে মোট ১০ লাখ ৭৮ হাজার ২১২ জন করোনা থেকে সুস্থ হলো।

শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৬৪৯টি ল্যাবে ৩০ হাজার ৯৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩০ হাজার ৯৮০টি। করোনা শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ২৪ শতাংশ। এই পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় নতুন ২১৮ জন মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে পুরুষ ১৩৪ জন ও নারী ৮৪ জন। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন ১৪ হাজার তিনজন ও নারী ছয় হাজার ৬৮২ জন।

মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ১০ বছরের নিচে একজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৩৭ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৬৬ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৩৩ জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে চারজন ও ১০০ বছরের বেশি দুজন।

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৬৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২ জন, খুলনা বিভাগে ২৭ জন, বরিশাল বিভাগে ১০ জন, সিলেট বিভাগে নয়জন, রংপুর বিভাগে ১৬ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১২ জন।

এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে ১৫৬ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৪৯ জন ও বাসায় ১৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ওই বছরের ১৮ জুন তিন হাজার ৮০৩ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে লাখ ছাড়িয়েছিল করোনার রোগী। সেদিন পর্যন্ত মোট শনাক্ত ছিল এক লাখ দুই হাজার ২৯২ জন। এ ছাড়া দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত বছরের ১৮ মার্চ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
করোনায় স্থায়ীভাবে বন্ধ ৩ হাজার কিন্ডারগার্টেন, বেকার ৬০% শিক্ষক-কর্মচারী

শিক্ষা ডেস্ক : করোনা মহামারিতে দেশে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে তিন হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুল। বেকার হয়েছেন প্রায় তিন লাখ ৬০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী।

এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের।

শিক্ষকদের মধ্যে কেউ কেউ গার্মেন্টস কর্মী, সবজি বিক্রেতা, কাপড় বিক্রেতা, দোকানদার, পাঠাও চালক হিসেবে কাজ করছেন। চেষ্টা করেও কাজ জোগাড় করতে পারছেন না অনেকেই।

স্কুলের ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ চালাতে না পেরে অনেক প্রতিষ্ঠানের মালিক স্কুল বিক্রি করে দিতে চাচ্ছেন।

অনেক স্কুলের মালিক আছেন, যারা বাসা ছেড়ে দিয়ে বাড়ি ভাড়ার খরচ কমানোর জন্য সপরিবারে স্কুল ভবনে অবস্থান করছেন। কেউ আবার ব্যয় কমানের জন্য স্কুল ভবনের কিছু অংশ ভাড়া দিয়েছেন।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে দেশে কিন্ডারগার্টেনের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭৫ লাখ।

দিনাজপুরের হোপ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক সাদ্দাম হোসেন টেলিফোনে বলেন, ‘করোনার আগে স্কুল থেকে যে বেতন পেতাম তা দিয়ে পরিবার নিয়ে ভালোভাবেই চলতে পারতাম। স্কুল বন্ধ থাকায় এখন স্ত্রী-সন্তানসহ আমার বাবার ওপর নির্ভর করে চলছি। আমার মতো স্কুলের আরও ১৭ থেকে ১৮ জন শিক্ষক বেকার হয়েছেন। সবাই অনেক কষ্টে দিন পার করছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে আমাদের এই সমস্যা আর থাকতো না।’

বন্ধ হয়ে যাওয়া রাজধানীর পূর্ব ধোলাইপাড়ের হলি হার্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ১৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ছিল। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হৃদয় সৈয়াল টেলিফোনে বলেন, ‘প্রতিমাসে বাসা ভাড়া ছিল ১২ হাজার টাকা। শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য খরচ বাবদ আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হতো। করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা বেতন দেয় না। উপায় না পেয়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি। বর্তমানে গার্মেন্টসে চাকরি করে সংসার চালাই।’

রাজধানীর রামপুরার ইকরা আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘স্কুলের জন্য বাসা ভাড়া, শিক্ষকদের বেতন সব মিলে প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকার বেশি খরচ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা বেতন দিচ্ছে না। কয়েক মাস ঋণ করে ভাড়া ও শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার পর বাধ্য হয়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে গ্রামের বাড়ি চলে এসেছি। এখন দু-একটা টিউশনি করে সংসার চালাই।’

অন্য শিক্ষকরা কী করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেউ গ্রামে চলে গেছেন, কেউ গার্মেন্টসে কাজ করেন, কেউ পাঠাও চালান, কেউ দোকান করেছেন।’

নতুন জুরাইন এলাকার নলেজ হেভেন আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘স্কুলের ভাড়া ও শিক্ষকদের বেতনসহ প্রতিমাসে আমার ৭০ হাজার টাকার বেশি খরচ হতো। মহামারির মধ্যে আমরা অনলাইনে ক্লাস করার কথা বললেও অনেক অভিভাবক তা মানেননি এবং তারা বেতন দেওয়া বন্ধ করে দেন। বাধ্য হয়ে আমাকেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়েছে।’

‘আগে বেশ কয়েকটি টিউশনি করাতাম। কিন্তু এখন সেগুলোও নেই। কারণ অনেক পরিবার গ্রামে চলে গেছে। যেসব এলাকায় কম ভাড়া সেখানে চলে গেছেন অনেকে। কেউ আবার স্ত্রী-সন্তান গ্রামে পাঠিয়ে নিজে মেসে উঠেছেন। সব মিলিয়ে আমার পাঁচ জনের পরিবার চালাতে এখন অনেক কষ্ট হচ্ছে,’ তিনি বলেন।

মিরপুর-১০ নম্বরের সান ওয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রধান ছিলেন মনোয়ার হোসেন। গতবছর জুনে তিনি স্ট্রোক করে মারা যান। মারা যাওয়ার আগে স্কুলের ভাড়া বাবদ দেড় লাখ টাকা বাকী ছিল। মনোয়ারের স্ত্রী তানিয়া সুলতানা বর্তমানে স্কুলটি ধরে রেখেছেন।

তানিয়া সুলতানা বলেন, ‘এই স্কুলে প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়। স্কুলটির অনেক সুনাম। তাই শত কষ্টেও স্কুলটি ধরে রেখেছি। বর্তমানে আমাদের তেমন কোনো আয় নেই। আত্মীয়-স্বজনের কাছে ঋণ করে এখনও আমাকে প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। কোনো জায়গা থেকে আমি বিন্দুমাত্র সহযোগিতা পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘স্কুলের দুটি ঘর ভাড়া দিয়েছি। সেখান থেকে কিছু আয় হয়। তা দিয়েই দুই সন্তান নিয়ে খুব কষ্ট করে চলছি।’

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন মহাসচিব মো. মিজানুর রহমান সরকার বলেন, ‘কিন্ডারগার্টেনগুলোর আয়ের ৪০ শতাংশ যায় বাড়ি ভাড়ায় আর ৪০ শতাংশ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনে। বাকী ২০ শতাংশ দিয়ে নিজেদের পরিবার চালাতে হয়। আমাদের আয়ের একমাত্র উৎস শিক্ষার্থীদের বেতন। গত বছর মার্চ থেকেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আয় শূন্য। তবে খুব সামান্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর এখনও পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ বেতন দেয়।’

‘স্কুলের ভাড়া দেওয়ার জন্য আমাদের প্রতিনিয়তই বাড়িওয়ালাদের নানা কথা শুনতে হচ্ছে। অনেকে বাড়ির জমি বন্ধক রেখে, গরু বিক্রি করে, ঋণ করে স্কুলের ভাড়া দিচ্ছেন। অনেকেই আবার উপায় না পেয়ে বাসা ছেড়ে দিয়ে সপরিবারে স্কুলে থাকছেন। ইতোমধ্যে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু আত্মসম্মানের ভয়ে অনেকেই তা স্বীকার করছেন না,’ তিনি বলেন।

মিজানুর রহমান সরকার জানান, তার নিজের রোজ গার্ডেন হাইস্কুলে ২০২০ সালে প্রায় এক হাজার ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু ২০২১ সালে আছে ৭০০ জনের কিছু বেশি।

বাংলাদেশে প্রাথমিকের সাফল্যের ৩০ শতাংশ দেশের কিন্ডারগার্টেনগুলো পূরণ করে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এই স্কুলগুলোকে সরকার বই ছাড়া আর কিছুই দেয় না। কিন্ডারগার্টেনগুলো না থাকলে সরকারকে আরও ২০ হাজারের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হতো। এতে সরকারের অনেক টাকা ব্যয় হতো।’

তিনি বলেন, ‘কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকদের প্রণোদনার জন্য আমরা সরকারের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগ করেছি। কিন্তু আমাদের কথা শোনা হয়নি। শেষ পর্যন্ত আমরা বলেছি, সরকার সাধারণ মানুষকে যে আড়াই হাজার টাকা করে প্রণোদনা দিচ্ছে সেখান থেকে কিন্ডারগার্টেনের কিছু শিক্ষককে দেওয়ার জন্য। কিন্তু সেটিও শোনা হয়নি। স্কুলের ভাড়া পরিশোধ ও অন্যান্য খরচের জন্য আমরা সরকারের কাছে ঋণ চেয়েছিলাম, সেটিও শোনা হয়নি।’

এ বিষয়ে কথা বলতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও শিক্ষাসচিবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তারা কল রিসিভ করেননি এবং বিষয় জানিয়ে তাদের পাঠানো ম্যাসেজেরও কোনো জবাব দেননি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
হেলেনার সঙ্গে টাকা নয়, হৃদয়ের লেনদেন : সেফু

দেশের খবর : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহুল আলোচিত অস্ট্রিয়া প্রবাসী সেফাত উল্লাহ সেফু বলেছেন, ‘হেলেনা জাহাঙ্গীরের সঙ্গে (আমার) টাকা নয়, হৃদয়ের লেনদেন।’ শনিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এ কথা বলেন।

সেফাত উল্লাহ সেফু বলেন, ‘র‍্যাব বলেছে আমি নাকি হেলেনা জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিই কিংবা সে নাকি আমাকে টাকা-পয়সা দেয়। এরকম কী কী জানি বলেছে।’

তিনি বলেন, ‘হেলেনা জাহাঙ্গীরের সঙ্গে আমার টাকা-পয়সার লেনদেন নেই। সম্পদের লেনদেন নেই। হৃদয়ের লেনদেন আছে। হেলেনা জাহাঙ্গীর লাস্ট কালকেও আমাকে বলেছে, দাদা আই লাভ ইউ। আমি বলেছি লাভ ইউ টু। কারণ লাভ ইজ পাওয়ার। আপনারা জানেন ভালোবাসা আমার আদর্শ।’

এসময় লাভ ইজ পাওয়ার লেখা সম্বলিত এবং তার ছবি সংযুক্ত টি-শার্ট দেখিয়ে বলেন, ‘হাজার হাজার লোক এই টি-শার্ট কিনছে।’

তিনি বলেন, ‘আই লাভ হেলেনা জাহাঙ্গীর। হোয়াই নট, হোয়াই আই সুড নট লাভ হেলেনা জাহাঙ্গীর?’ এরপর অবশ্য তিনি বলেন, ‘হু ইজ হেলেনা জাহাঙ্গীর? আই ডোন্ট নো, আই ডোন্ট নিড টু নো।’

এরপরই তিনি আবার বলেন, ‘অনলাইনে গত প্রায় তিন বছরের কম সময় ধরে আমি তাকে চিনি। মানে আমাকে সে আবিষ্কার করেছে।’

সেফু বলেন, ‘হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতারের সময় চেহারায় কোনো অনুতাপ নেই (ছিল না)। অনুতাপ থাকবে কেন? তিনি কঠোর পরিশ্রমী একজন শিল্পউদ্যোক্তা। নিজের পরিশ্রমের ফসল আজ তার কোটি কোটি টাকা, অনেকগুলো শিল্প, অনেক বাড়ি-গাড়ির মালিক। তিনি সমাজের ওপর স্তরের মানুষ। টাকা-পয়সা না থাকলে তার কোনো দাম নেই।’

নিজেকে অনেক ধনী দাবি করে সেফু এসময় বলেন, ‘আমার ছেলে স্বপ্নীল আমাকে অনেক সময় বলে আব্বু আপনি যত বড় স্কলারই হোন না কেন, আপনার চেয়ে বড় দার্শনিক, বড় স্কলার পৃথিবীতে নেই। কিন্তু আপনার পকেটের টাকা নাই, তাই আপনাকে কেউ সম্মান করে না। আমি বলেছি, তারা বেকুব। তারা মূর্খ। তারা অশিক্ষিত বর্বর। যারা সম্পদকে সম্মান করে, টাকাকে সম্মান করে, তারা অশিক্ষিত-বর্বর-মূর্খ। ওদের জন্যই পৃথিবীতে অশান্তি, পৃথিবীটা নরকের মতো হয়ে যায়। কথা বোঝা গেছে?’

এর আগে গতকাল এক ভিডিওতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের মুক্তি দাবি করেন সেফু। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে হেলেনা জাহাঙ্গীরের দেখা হয়নি। তবে টেলিফোনে কথা হতো। হেলেনা জাহাঙ্গীর একজন স্মার্ট নারী, তিনি দুঃসাহসের সঙ্গে কথা বলতেন। অবিলম্বে এবং সম্মানের সঙ্গে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে ছেড়ে দিতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাত ১২টার দিকে গুলশানের ৩৬ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাসায় দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান শেষে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করে র‍্যাব।

এ সময় তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, চাকু, বৈদেশিক মুদ্রা, ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়। আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‍্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এছাড়া হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন আইপি টেলিভিশন জয়যাত্রার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। তার বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলাও হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৫ আগস্টের পর বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল হতে পারে

দেশের খবর : আগামী ৫ আগস্টের পর চলমান কঠোর বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘চলমান কঠোরতম বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হতে পারে, যাতে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়, আবার শিল্প উৎপাদনও চালু রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা যায়।’ শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন ফরহাদ হোসেন।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পোশাক কারখানার আশপাশের শ্রমিকদের দিয়েই আপাতত গার্মেন্টস চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মালিকেরা। এ সময় ঢাকার বাইরের শ্রমিকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা নেই।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ৩ আগস্টের দিকে আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। বিরাজমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সেখানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

দেশবাসীকে করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সবাইকে পরিস্থিতি বুঝে আরও সচেতন হতে হবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জয়যাত্রা টিভির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক : নানা অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন চ্যানেল জয়যাত্রা টেলিভিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

শুক্রবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় তিনি বলেন, তিন বছর আগে উনার (হেলেনা জাহাঙ্গীর) লোকজন আমাকে জয়যাত্রা টেলিভিশনের উপদেষ্টা করার জন্য আবেদন নিয়ে আসেন। তখন আমি বলি যে, পরে দেখা যাবে। বর্তমানে জয়যাত্রা টিভির সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

সম্প্রতি ‘চাকরিজীবী লীগ’ বিতর্কে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটি থেকে হেলেনা জাহাঙ্গীরের পদ হারানোর পর দলের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি এ সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গণমাধ্যমে জানান।

চুমকি জানান, হেলেনা জাহাঙ্গীর কুমিল্লা আওয়ামী লীগের সদস্য। তাকে তিনি আওয়ামী পরিবারের হিসেবেই চেনেন। জয়যাত্রা নামে তার একটি মিডিয়া আছে, যেটির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীও রয়েছেন। মন্ত্রীর সঙ্গে ভালো জানাশোনা থাকার কারণেই হেলেনাকে উপকমিটিতে রাখা হয়েছিল।

জানাশোনা বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, এমনি তার সঙ্গে পরিচয় আছে, জানাশোনা আছে। তিনি একজন নারী উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী। অনেকের সঙ্গে পরিচয় থাকে না? কিন্তু কেউ যদি কিছু করে, সেটি তার নিজের দায়িত্ব।

মন্ত্রী আরও বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। আমরা কি বলেছি, তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না?

বৃহস্পতিবার রাতে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটকের পর মিরপুর-১১ নম্বরের এ ব্লকের ৩ নম্বর রোডে জয়যাত্রা টেলিভিশন কার্যালয়ে অভিযান চালায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‍্যাব। সেখানে চ্যানেলটির কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। বিটিআরসি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া টিভি চ্যানেল পরিচালনার কারণে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অভিযান শেষে র‍্যাব সদরদফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির শাহ জানান, হেলেনা জাহাঙ্গীর তার জয়যাত্রা টেলিভিশনের জন্য সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ করেছিলেন। প্রবাসী প্রতিনিধি নিয়োগের নামে তিনি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। বৈধ কাগজপত্র না পাওয়ায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও এখানে জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের অফিস পেয়েছি। এ বিষয়েও তদন্ত করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় পানি নিষ্কাশন নিয়ে ঝগড়ায় বৃদ্ধকে মারপিট

নিজস্ব প্রতিনিধি : পানি নিষ্কাশনের যাতায়াতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধকে বেদম মাপিটের ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টার দিকে দেবহাটা উপজেলার পুষ্পকাটি এলাকায়।

আহত ওই বৃদ্ধের নাম শহিদুল ইসলাম (৬৫)। সে একই এলাকার মৃত আব্দুল আজিজ সরদারের ছেলে। বর্তমানে ওই বৃদ্ধকে আশঙ্খাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত বৃদ্ধ জানান, একই এলাকার মৃত মান্নাফ আলীর ছেলে ওই বৃদ্ধের ভাইপো মনিরুজ্জামান লাল্টু (২৫) প্রবল বর্ষনে তার পুকুর ডুবে যায়। পুকুরের মাছ ঠেকাতে সে তার চাচার বাড়ির সামনে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নেটপাটা দিলে পানি যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। নেটপাটা না দিতে লাল্টুর বৃদ্ধ চাচা তাকে নিষেধ করে বাড়ির মধ্যে চলে যায়। এসময় লাল্টুর স্ত্রী সুমাইয়া (২৩) তার বৃদ্ধ চাচাকে পিটিয়ে ঘরে ঢুকতে বলে। লাল্টু সাথে সাথে একটি লাঠি নিয়ে বাড়ির গেটে ভেঙ্গে ভিতরে গিয়ে তার বৃদ্ধ চাচার মাথায় আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তখন লাল্টু বৃদ্ধকে আরো মারপিট করে এবং বলে এর আগেও জেল খেটেছি। দরকার হলে আমি আবার জেল খাটবো। পরে তার পরিবারের সদস্যরা বৃদ্ধকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

বর্তমানে ওই বৃদ্ধের অবস্থা আশংকাজনক। তিনি আরো জানান, গত দুই বছর আগে একই ঘটনা ঘটলে তার ভাইপো লাল্টুর আঘাতে ডান দিকের একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। আহত বৃদ্ধ শহিদুল এঘটনায় পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য, মনিরুজ্জামান লাল্টু পুষ্পকাটি এলাকার চাঞ্চল্যকর শিশু ফারিয়া হত্যার এক নম্বর ও কয়েকটি নাশকতা মামলার আসামী এবং আহত বৃদ্ধ শহিদুল একটি নাশকতা মামলার বাদী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
১ আগস্ট থেকে গার্মেন্টসসহ রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলছে

দেশের খবর : আগামী ১ আগস্ট থেকে গার্মেন্টসসহ রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

শুক্রবার (৩০ জুলাই) বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১ আগস্ট (রোববার) সকাল ৬টা থেকে রফতানিমুখী সব শিল্প ও কলকারখানা বিধিনিষেধের আওতা বহির্ভূত রাখা হলো।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত দেশের রফতানিখাতসহ সব উৎপাদনমুখী শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলে দেওয়ার দাবি জানায় ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই)।

ওই দিন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, করোনায় বিধিনিষেধের আওতায় সব শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রাণশক্তি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ ব্যবস্থা) সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, আগামীতে পণ্য-সামগ্রী সঠিকভাবে সরবরাহ ও বাজারজাত না হলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এতে স্বল্প আয়ের ক্রেতারা ভোগান্তির শিকার হবেন। পাশাপাশি রফতানি খাতের উৎপাদন ব্যবস্থা বন্ধ থাকলে সময়মতো পরবর্তী রফতানি অর্ডার অনুযায়ী সাপ্লাই দেওয়া সম্ভব হবে না। এতে রফতানি অর্ডার বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ২৩ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করছে সরকার। যা চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। বিধিনিষেধ চলাকালে দেশের সব শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে ঈদের পর থেকেই কারখানা খোলার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলেন শিল্প-কারখানার মালিকরা। ওই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজ গার্মেন্টসসহ রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলার সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।দেশের

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest