সর্বশেষ সংবাদ-
এবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধনএডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসাতক্ষীরায় যৌতুকের বলি মা-মেয়ে : হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ডসাতক্ষীরায় নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আওতায় আনার দাবিসাতক্ষীরায় হেভী ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের মতবিনিময় সভাস্বাস্থ্যকর্মকর্তা  ও আব্বাসী কর্তৃক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য : নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানবন্ধনপ্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক রহমাতুল্লাহর মৃত্যুসাতক্ষীরায় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সভা: সভাপতি মুনির- সম্পাদক সামাদ

আগুনে ছাই ৫২ প্রাণ, নিখোঁজের তালিকায় ৪৭

অনলাইন ডেস্ক : ছয়তলা বিশাল ভবনে আগুন জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে আগুনের দাপটে। ধোঁয়া আর আগুনে ঢাকা পড়া ভবনের সামনে চলছে শত শত লোকের আহাজারি। এরই মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের লাশবাহী গাড়ি এসে দাঁড়াল ভবনটির সামনে। উদ্ধারকারীরা একে একে ৪৯টি বডিব্যাগ (লাশ রাখার ব্যাগ) বের করে এনে তুললেন গাড়িতে। দুপুরে যখন হুইসেল বাজিয়ে স্বজনহারাদের পাশ কাটিয়ে চলে গেল পাঁচটি লাশবাহী গাড়ি, তখন ভবনের পাঁচ ও ছয়তলার আগুন নেভাতে ব্যস্ত হয়ে গেল ফায়ার সার্ভিসের আরেকটি দল।

শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতার কর্ণগোপ এলাকায় সজীব গ্রুপের মালিকানাধীন হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ছয়তলা কারখানা ভবনে ভয়াবহ আগুন এমন বিষাদমাখা পরিবেশ আর বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করে। এই আগুনের সূচনা গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে। গতকাল সন্ধ্যার ৭টার দিকে যখন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ততক্ষণে কেটে গেছে ২৬ ঘণ্টা। তখনো পাঁচ ও ছয়তলায় তল্লাশি চালানো বাকি ছিল। আগুন লাগার পরপর ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রাণ হারান তিন শ্রমিক।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা জানা যাবে। এ ছাড়া স্বজনদের দাবি অনুযায়ী নিখোঁজ ৪৭ জনের তালিকা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

নিখোঁজ প্রিয়জনের জন্য ভবনের সামনে যখন স্বজনদের আকুতি আর আহাজারি চলছিল তখন কারখানার অন্য শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁরা সড়ক অবরোধ করতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়াধাওয়ির ঘটনা ঘটে। এ সময় আনসার সদস্যদের ওপর হামলা ও তিনটি অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কারখানাটির ছয় হাজার কর্মীর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রায় ৪০০ শ্রমিক ওভারটাইম (অতিরিক্ত সময়) কাজ করছিলেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে শ্রমিকদের দাবি, সহস্রাধিক শ্রমিক কাজ করছিলেন। আগুন লাগার পর সেখানে আটকা পড়ে শতাধিক। নিরাপদে বের হওয়ার আকুতি জানাতে একদল শ্রমিক চার তলায় কর্মকর্তাদের কাছে যান। সেখানে আটকা পড়েই ওই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলেছেন, গতকাল দুপুর পর্যন্ত যাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেগুলো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের বেশির ভাগের দেহ আগুনে এমনভাবে পুড়েছে যে শনাক্ত করা কঠিন। পরিচয় শনাক্তে তাঁদের ডিএনএ পরীক্ষা লাগবে।

অবশ্য গতকাল পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ চিহ্নিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। ঘটনার তদন্তে ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন ও কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর আলাদা তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, এত নিরীহ শ্রমিকের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, মোড়কীকরণ কাগজ (ফয়েল পেপার), তেলসহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থের কারণে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারখানার ছাদে ওঠার একটি সিঁড়ির তালাবদ্ধ থাকা এবং জরুরি বহির্গমনের পথ না থাকায় শ্রমিকরা আটকা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, দাহ্য পদার্থ থাকার কারণে ভবনটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং তা পুরোপুরি নির্বাপণ করা সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে তাত্ক্ষণিক ধারণা করা হলেও তদন্ত ছাড়া আসল কারণ জানা যাবে না। ঘটনার তদন্তে ফায়ার সার্ভিস পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তিনি রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, আগুন পুরোপুরি নেভানো ও আবর্জনা সরানোর কাজ চলছে। সঙ্গে পাঁচ ও ছয়তলায় তল্লাশিও চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকরা বলছেন, ভবনটির নিচতলার গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত। পরে ভবনের একটি ইউনিট থেকে অন্য ইউনিটে ও ওপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের কারণে নিচে নামতে না পেরে ওপরে ছাদে উঠতে চেয়েছিলেন শ্রমিকরা, কিন্তু সিঁড়ি তালাবন্ধ থাকায় মাঝখানে আটকা পড়ে তাঁদের মৃত্যু হয়।

সরেজমিনে কর্ণগোপ এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কমপ্লেক্সে ১১টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে ছয়তলা যে ভবনে আগুন লেগেছে সেটির নাম ‘সেন্ট্রাল স্টোর’। ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী নূর আলম ও বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি নূরনবী জানান, নিচতলায় কাগজ ও কার্টন রাখা হয়। সেখানে আগুনের সূত্রপাত। দোতলায় ট্যাং জুস ও টোস্টের কারখানা। তিনতলায় লাচ্ছি নামের পানীয় তৈরির কারখানা। চার তলায় অফিসকক্ষ। পাঁচ তলায় সেমাই ও রাসায়নিক গুদাম এবং ছয়তলার পুরোটাই জিনিসপত্রের গুদাম। ভবনটি সেজান জুস কারখানা বলে পরিচিত হলেও কমপ্লেক্সের আরেকটি ভবনে ওই জুস তৈরি হয় বলে জানান কর্মীরা। দুই কর্মী বলেন, আগুন লাগার পর প্রাণ বাঁচাতে ভবনটির তিনতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা যান স্বপ্না রানী (৪৪), মিনা আক্তার (৪৩) ও মোরসালিন (২৪) নামের তিন শ্রমিক। তাঁরা বলছিলেন, দুই থেকে পাঁচ তলার একদল কর্মী চার তলায় কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে নিরাপদে বের হওয়ার আকুতি জানান। তখন কর্মকর্তারা আগুন নিভে যাওয়ার আশ্বাস দেন। পরে সেখানেই আটকা পড়ে প্রাণ হারান তাঁরা।

শ্রমিকরা বলেন, ওই ভবনে থাকা কারখানাগুলোতে তিন শিফটে কাজ হয়। ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা, দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা এবং রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এই শিফটগুলো চলে। একেকটি শিফটে প্রায় দুই হাজার কর্মীর কাজ করার কথা থাকলেও বিকেলের শিফটে অনেক কম কর্মী কাজ করেন। তবুও হাজারের বেশি শ্রমিক কাজে ছিলেন বলে তাঁদের দাবি। তবে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের সময় সেকশনের পাঁচটি ফ্লোরে প্রায় ৪০০ শ্রমিক ওভারটাইম করছিলেন।’

হঠাৎ একের পর এক লাশ

গতকাল দুপুর ২টার দিকে আগুনের লেলিহান শিখা কমে এলে ভবনটির সামনে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি লাশবাহী গাড়ি আনা হয়। এ সময় উদ্ধারকারীরা একের পর এক লাশ এনে গাড়িতে তোলেন। এই দৃশ্য দেখে স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়।

ওই সময় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাঁচটি অ্যাম্বুল্যান্সে করে আমরা ৪৯ জনের মৃতদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি ময়নাতদন্তের জন্য।’ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দেবাশিষ বর্ধন বলেন, ‘ছয়তলা কারখানা ভবনের ওপরের দুটি তলায় আগুন নেভানোর কাজ এখনো চলছে। আমাদের সার্চ এখনো শেষ হয়নি।’

দুপুরে লাশ উদ্ধারের আগে স্বজনদের বক্তব্যের ভিত্তিতে ৪৭ জন নিখোঁজ শ্রমিকের তালিকা করে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ নুসরাত সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনেক লাশ শনাক্ত করার মতো অবস্থায় নেই। সেগুলো ঢাকা মেডিক্যালে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য বলা হবে।’

যে কারণে এমন প্রাণহানি

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দেবাশিষ বর্ধন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা গাড়ির মই সেট করে ছাদ থেকে ২৫ জনকে উদ্ধার করেছি। বাকিরা যদি ছাদে উঠতে পারত, আমরা কিন্তু বাঁচাতে পারতাম। ছয়তলা ভবনের ছাদে ওঠার জন্য দুটি সিঁড়ি রয়েছে, যার একটির দরজা বন্ধ ছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘চতুর্থ তলায় যাঁরা ছিলেন, সেখান থেকে ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি তালাবন্ধ ছিল। আর নিচের দিকে সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে ছিল ভয়াবহ আগুন। উনারা নিচের দিকেও আসতে পারেন নাই, তালাবন্ধ থাকায় ছাদেও যেতে পারেন নাই।’ অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না—জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সেটা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে। আমাদের তদন্ত কমিটি বের করবে কী কারণে আগুন লাগল, কত টাকার ক্ষতি হলো, অগ্নিনির্বাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না।’

দেবাশিষ বর্ধন বলেন, ওই কারখানায় কেমিক্যালসহ প্রচুর দাহ্য পদার্থ ছিল। প্লাস্টিক, ফয়েল, কাগজ, রেজিন, তেল, ঘিসহ তৈরি করা মালপত্রসহ বিভিন্ন পদার্থ ছিল। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগে এবং বেগ পেতে হয়। সন্ধ্যায় তিনি বলেন, আগুন নেভানোর কাজ শেষে সেখানে আরো লাশ রয়েছে কি না তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও শ্রমিকরা বলেন, একদিকের আগুন নেভালে অন্যদিকে আবার ধরে যায়। ভবনটি কয়েকটি ইউনিটে বিভক্ত। আগুন সব ইউনিট ও তলায় পৌঁছে গিয়েছিল, এ কারণে নেভানো কঠিন হয়ে পড়ে। আর সেখানে তেলও ছিল। চার তলার দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে একসঙ্গে ২৫টি লাশ পাওয়া গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের কাঞ্চন স্টেশনের ইনচার্জ শাহ আলম বলেন, মধ্যরাতে ১২টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ভোর ৬টার দিকে আবার কারখানার চার তলায় আগুন বাড়তে থাকে।

গতকাল বিকেলে কলকারখানা পরিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কারখানার কোনো ত্রুটি বা দায় আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি আমরা গঠন করেছি।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘ঘটনার তদন্তে আমরা সাত সদস্যের আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।’

র‌্যাবের মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বিকেলে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে বলেন, ‘তদন্ত করে এই ঘটনায় কারো দায়দায়িত্ব কী আছে, সেটা দেখা হবে। কারো গাফিলতি থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

১০ মাসে চারবার আগুন

কারখানার কয়েকজন শ্রমিক জানান, ভবনটিতে গত ১০ মাসে চারবার আগুন লাগে। এর আগে আগুন লাগলে নিচের ও ওপরের ইউনিটগুলোর কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। মাসুদ ও হোসেন নামের দুই শ্রমিক বলেন, এবারের আগুন নিভে যাবে বলে সবাইকে ভেতরে থাকতে বলেন অফিসাররা। তবে তাঁদের সেকশনের লোকজন গেটের তালা ভেঙে বের হতে পারে। তিন তলা থেকে যাঁরা চার তলায় চলে গেছেন তাঁরাই আটকা পড়েছেন। বারবার আগুন লাগলেও অগ্নিনির্বাপণের কোনো প্রশিক্ষণ শ্রমিকদের দেওয়া হয়নি বলে জানান তাঁরা। এদিকে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।

স্বজনদের আহাজারি থেকে বিক্ষোভ

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই কারখানা ভবনের সামনে আটকা পড়া শ্রমিকদের খোঁজে স্বজনরা ভিড় করতে থাকেন। গতকাল দুপুর পর্যন্ত স্বজনের খোঁজ না পেয়ে অনেকে বিলাপ করতে শুরু করেন। তাঁদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্বজনরা বলছিলেন, ভবনটির চার তলা থেকে কোনো শ্রমিকই বের হতে পারেননি। সেখানে অন্তত ৭০ জন কাজ করছিলেন। তাঁদের মধ্যে ইনচার্জ মাহবুব, সুফিয়া, তাকিয়া, আমেনা, রহিমা, রিপন, শম্পা রানী, নাজমুল, মাহমুদ, রিতা, তাছলিমার নাম জানান তাঁরা।

সন্তানের খোঁজ না পেয়ে পাগলপ্রায় ফিরোজা বেগম (৩৮) দুপুরে কারখানার সামনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ঘিরে ধরেন। কারো হাতে ধরে, কারো পায়ে ধরে বিলাপ করে বলছিলেন, ‘আমার মায়েরে আইনা দেন। ও স্যার, আমার মায়ের হাড্ডিগুলা খুঁইজ্জা দেন স্যার।’ ফিরোজা জানান, তাঁর কিশোরী মেয়ে তাসলিমা (১৬) কারখানায় কাজ করত। তাকে তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। মানজিলা বেগম নামের আরেক নারী জানান, তাঁর ছেলে নাজমুল হোসেন (২৫) আগুন লাগার পর ভেতরে আছেন বলে ফোনে একবার জানালেও পরে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সহকর্মী ও স্বজনদের খোঁজ না পেয়ে অনেকে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দুপুরে কারখানার সামনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন তাঁরা। পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় ধাওয়াধাওয়ি হয়। কারখানার গেটসংলগ্ন আনসার ক্যাম্প থেকে চারটি শর্টগান ছিনিয়ে নিয়ে বিক্ষোভকারীরা পাশের খালে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পরে তিনটি শর্টগান উদ্ধার করা গেলেও আরেকটি পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের হামলার শিকার হন কয়েকজন সংবাদকর্মীও। প্রায় এক ঘণ্টা পর রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

রাতে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির জন্য কারা দায়ী, সেটা তদন্ত করে দেখা হবে। হতাহত শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।’

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল এক শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।

পৃথক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বিদেশের খবর : রাশিয়া বলেছে, আফগানিস্তানের নতুন নতুন এলাকা দখলকারী তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসা জরুরি হয়ে পড়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ মন্তব্য করে বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
রাশিয়া তলেবানকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ বলে মনে করে।

পেসকভ শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, আফগানিস্তানে যা কিছু ঘটছে বিশেষ করে আফগানিস্তান-তাজিকিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তালেবানের সঙ্গে সংলাপ জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে তালেবান গোটা আফগানিস্তান দখল করে ফেললে মস্কো সম্ভাব্য তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেবে কিনা এমন প্রশ্নের কোনও উত্তর দেননি পেসকভ।

দিমিত্রি পেসকভ এমন সময় তালেবানের সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বললেন যখন তালেবানের একটি প্রতিনিধিদল মস্কো সফর করছে। তাজিকিস্তানসহ মধ্য এশিয়ার কয়েকটি দেশের সঙ্গে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর চলমান গোলযোগ নিয়ে রাশিয়ার উদ্বেগ দূর করতে তালেবানের একটি রাজনৈতিক প্রতিনিধিদল মস্কো সফরে গেছে। তালেবান হামলার জের ধরে আফগানিস্তানের শত শত সীমান্তরক্ষী ও সাধারণ নাগরিক এরইমধ্যে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে পালিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার মস্কোয় তালেবান প্রতিনিধিদল রাশিয়ার আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জামির কাবুলোভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ওই সাক্ষাতে তালেবান রাশিয়াকে এই নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, তারা মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সীমান্তে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করবে না।

জাখারোভা শুক্রবার মস্কোয় বলেন, সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র তাজিকিস্তানেরর সঙ্গে আফগানিস্তানের সীমান্তের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বর্তমানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অন্যদিকে রাশিয়া সফরকারী তালেবান কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন দেলোয়ার মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তারা কোনও অবস্থায় আফগান ভূমিতে আইএস (দায়েশ) এর মতো উগ্র গোষ্ঠীগুলোকে তৎপরতা চালাতে দেবেন না। তিনি বলেন, কোনও প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে আফগান ভূমি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

তিনি আফগানিস্তানের ৮৫ শতাংশ এলাকা তালেবানের দখলে রয়েছে বলে দাবি করেন। দেলোয়ার বলেন, “আফগানিস্তানের মোট ৩৯৮ জেলার মধ্যে ২৫০ জেলা এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।” তবে তালেবানের এই দাবি আফগান সরকার মেনে নেয়নি। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত বুধবার ৮০টি জেলা তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের রান্না করা খাবার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি : মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেশ ব্যাপি কঠোর লকডাউনে সাতক্ষীরায় লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সাতক্ষীরা ইউনিট। প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার (০৯ জুলাই) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও সাতক্ষীরা পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডে পলাশপোল তেঁতুলতলা এলাকায় এ রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।

দেশব্যাপি কঠোর লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের কথা ভেবে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সাতক্ষীরা ইউনিট আত্মমানবতার সেবায় প্রতিদিন এ রান্না করা খাবার বিতরণ করছে।

এসময় উপস্থিত থেকে অসহায় কর্মহীন মানুষের হাতে রান্না করা খাবার তুলে দেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সাতক্ষীরা ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা শেখ নুরুল হক, কার্যকরী সদস্য ও জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মকসুমুল হাকিম, সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের কার্যকরী কমিটির সদস্য বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা শেখ তহিদুর রহমান ডাবলু, সাবেক ফিফা রেফারী তৈয়েব হাসান বাবু, মুকুল ও শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। এসময় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সাতক্ষীরা ইউনিটের যুব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জে তিন ভূমিহীনকে পিটিয়ে জখম করার ঘটনায় আটক-১

কালিগঞ্জ প্রতিনিধি : কালিগঞ্জের ভূমিহীন পল্লী চিংড়িখালিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তিন ভূমিহীনকে পিটিয়ে জখম করার ঘটনার মামলায় পুলিশ এক সন্ত্রাসী আসামিকে আটক করেছে। শুক্রবার সকালে চিংড়িখালি এলাকা থেকে কৌশলে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

আটককৃত আসামির নাম আব্দুর রহমান। সে বৈরাগীর চকের রহিম বক্স পাড়ের ছেলে। থানার উপ-পরিদর্শক হাসানুজ্জামান জানান, চিংড়িখালি সরকারি ৩০০‘শ বিঘা খাস জমিতে ১৪৯টি পরিবার দীর্ঘদিন যাবৎ ডিসিআর নিয়ে বসবাস করে আসছে। তাদেরকে ওই জমি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য প্রতিপক্ষ কাদের পাড়, রেজাউল পাড়, মনিরুল পাড়সহ একটি প্রভাবশালী চক্র চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এ বিষয় নিয়ে ঐ চক্রটি ইতিপূর্বে ভূমিহীনদের কয়েকবার হুমকিও দিয়েছিল।

এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে ভূমিহীন শহীদুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম বোল¬া, মহাতাব, তৌহিদ বসুখালি যাওয়ার পথে বসুখালি ব্রীজের পশ্চিমপাশে চিংড়িখালির পাড়ে পৌছালে লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও শাবল দিয়ে হামলা চালায় ইন্দ্রনগরের মনিরুল পাড়, রেজাউল পাড়, কাদের পাড়, আব্দুস সালাম সরদার, গোলাম সরদার, চিংড়িখালির ইসরাফিল সানা, গফফার সানা, কাশীবাটির মনির সরদার, বৈরাগীর চকের রহমান পাড়, করিম পাড়সহ বেশ কয়েকজন তাদের উপর হামলা চালায়। এসময় স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কালিগঞ্জ ও সখীপুর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় শহীদুল ইসলাম বাদি হয়ে বৃহষ্পতিবার থানায় একটি মামলা দায়ের করলে এজাহার নামীয় আসামি সন্ত্রাসী আব্দুর রহমানকে শুক্রবার সকালে চিংড়িখালি এলাকা থেকে আটক করেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও এমডি’র দেশত্যাগে দুদকের নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক : আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার দু’জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ইভ্যালির এমডি মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন গোপনে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। দুদক অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশত্যাগ করলে সার্বিক অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে প্রতীয়মান হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ৮ জুলাই ইভ্যালির এমডি মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে সংস্থাটি।

গত ৮ জুলাই গ্রাহক ও মার্চেন্টের ৩৩৯ কোটি টাকার হদিস না থাকার বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। সংস্থাটির দুই কর্মকর্তাকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা যায়, গ্রাহক ও মার্চেন্টের টাকাগুলো আত্মসাৎ অথবা পাচার হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিষয়ে ইতোপূর্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি অভিযোগ পাওয়ার পর প্রকাশ্য অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। সদস্যের টিমের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং অনুবিভাগ থেকে নতুন প্রাপ্ত অভিযোগটি পূর্বের অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নতুন অভিযোগটি আরও সুনির্দিষ্ট হওয়ায় এখন অনুসন্ধান কার্যক্রম গতিশীল হবে বলে জানায় দুদক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেশে একদিনে করোনায় রেকর্ড ২১২ মৃত্যু

দেশের খবর : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে একদিনে আরো ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এ ছাড়া একদিনে নতুন করে ১১ হাজার ৩২৪ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০ লাখ ৫৪৩ জনে। এর আগে বৃহস্পতিবার ১১ হাজার ৬৫১ জনের করোনা শনাক্ত হন, যা এক দিনে ছিল সর্বোচ্চ। তার আগে মঙ্গলবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৫২৫ জন শনাক্ত হন।

শুক্রবার (৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনা-বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ২০৯ জনের। পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৫৮৬টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৬৯ লাখ ৩ হাজার ২৬৮টি। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ সময়ে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৩৮ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৬২ জন ৩৮৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২১২ জনের মধ্যে ৫৩ জনই ঢাকার। এছাড়া খুলনায় ৭৯, চট্টগ্রামে ২৬, রাজশাহীতে ২৩, বরিশালে ৫, সিলেটে ৬, রংপুরে ১২ এবং ময়মনসিংহে ৮ জন মারা গেছেন। মারা যাওয়াদের মধ্যে ১১৯ জন পুরুষ এবং ৯৩ জন নারী। এদের মধ্যে ১৬ জন বাসায় মারা গেছেন। বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মোট মারা যাওয়া ১৬ হাজার ৪ জনের মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ২৫৪ জন এবং নারী ৪ হাজার ৭৫০ জন।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ৯০ জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের ৫৬, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৪০, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ১৭, ২১ থেকে ৩০ বছরের ৭ এবং ১১ থেকে ২০ বছরের ২ জন রয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) ১৯৯ জনের মৃত্যু হয়। বুধবার (৭ জুলাই) প্রথম মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়ায়। এদিন মৃত্যু হয় ২০১ জনের। সোমবার (৫ জুলাই) ১৬৪ এবং মঙ্গলবার (৬ জুলাই) ১৬৩ জন মারা যান। এছাড়া জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে প্রতিদিন ১৩০ জনের বেশি মানুষ করোনায় মারা যান।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গে আরও ৮ মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার উপসর্গ নিয়ে তিন নারীসহ ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ (সামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিভিন্ন সময়ে তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে জেলায় ৮ জুলাই পর্যন্ত করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৪০৪ জন। পাশাপাশি করোনায় মারা গেছেন ৭৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিরা হলেন সাতক্ষীরা পৌরসভা ইটাগাছা এলাকার তৈয়ব আলী ফকিরের ছেলে আমিরুল ইসলাম (৬২), সাতক্ষীরা সদরের সাতিয়ানতলার ইদ্রিস আলির স্ত্রী মাহফুজা (৫০), সদরের ঝাউডাঙ্গার পাথরঘাটা এলাকার কলিমউদ্দিনের ছেলে সুরত আলী(৮০), কলারোয়ার হামিদপুর এলাকার নগর আমীর ছেলে নাসিম উদ্দিন (৪০), কালিগঞ্জের মৌতলার মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে আব্দুল খালেক (৯০), আশাশুনির শোভনালীর বাটরা এলাকার মৃত ছবেদ গাজীর ছেলে মোকছেদ গাজী(৬৯), কলারোয়ার বড়ালী গ্রামের মোশারফ হোসেনের স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৬৮) ও মামুন শেখের স্ত্রী তাহমিনা (৩৫)।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ করোনার নানা উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ জুন থেকে ৮ জুলাইয়ের মধ্যে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন এসব ব্যক্তি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

এদিকে সাতক্ষীরায় করোনা সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সামেক হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৮৮টি নমুনা পরীক্ষায় ১৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

আগের দিন শনাক্তের হার ছিল ২২ দশমিক ৫১ শতাংশ।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল কর্মকর্তা ও জেলা করোনা বিষয়ক তথ্য কর্মকর্তা ডা. জয়ন্ত কুমার সরকার বলেন, এ পর্যন্ত সাতক্ষীরায় করোনা রোগীর সংখ্যা চার হাজার ১৭৩ জন। জেলায় সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ৯৬৫ জন। বর্তমানে করোনা রোগী রয়েছেন এক হাজার ১৩৫ জন। হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীর সংখ্যা ৪৩ জন। এদের মধ্যে সামেক হাসপাতালে ২৪ জন ও বেসরকারি হাসপাতালে ১৯ জন ভর্তি আছেন। হোম আইসোলেশনে আছেন এক হাজার ৯২ জন। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩৭৯ জন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি ২৪১ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ১৩৮ জন। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪২২ জন। করোনায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৭৬ জন। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৪০৪ জন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় অক্সিজেনবহনকারী পুত্র আটক, পিতার মৃত্যু : এএসআই সুভাষ ক্লোজড

নিজস্ব প্রতিনিধি :  অসুস্থ বাবার জন্য অক্সিজেন নিতে আসা যুবককে আটক করে দুই ঘন্টা দাঁড় করিয়ে ঘুষ গ্রহণের ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআই সুভাষ চন্দ্রকে সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। বিষয়টির অধিকতর তদন্তের জন্য সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার) ইকবাল হোসেন প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। এই তদন্ত টিমের অন্য দুই সদস্য হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম ও ইটাগাছা পুলিশফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর তারেক আজিজ।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হুসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তের পর এএসআই সুভাষ চন্দ্রকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সুভাষচন্দ্র বলেন, দুই ঘণ্টা নয়, তাকে কয়েক মিনিট দাঁড় করিয়ে কাগজপত্র দেখছিলাম। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘুষ গ্রহণের কথাও অস্বীকার করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার করোনায় অসুস্থ বাবার জন্য শহরে অক্সিজেন নিতে এসে পুলিশের হাতে আটক হন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈচনা গ্রামের ওলিউল ইসলাম। অভিযোগ, ২০০ টাকা ঘুষ দিয়ে দুই ঘণ্টা পর ছাড়া পেয়ে অক্সিজেন নিয়ে বাড়ি ফিরে দেখেন অক্সিজেনের অভাবে বাবা রজব আলীর (৬৫) নিথর দেহ। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা মোড়ে। ওলিউল ইসলাম জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে তার বৃদ্ধ বাবা রজব আলী মারাত্মক শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। জেলা পরিষদের সদস্য আল ফেরদৌস আলফার কাছ থেকে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার দান হিসেবে গ্রহণ করতে বৈচনা গ্রাম থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে সাতক্ষীরায় আসছিলেন তিনি। ইটাগাছায় মোড়ে পৌঁছালে ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সুভাষ চন্দ্র তার গাড়ির কাগজপত্র আছে কি না তা দেখার জন্য আটকে দেন তাকে। এরপর দুই হাজার টাকার ঘুষ দাবি করেন তিনি। কিন্তু ওই পরিমাণ টাকা না থাকায় দুই ঘণ্টা পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় এএসআইকে ২০০ টাকা ঘুষ দিয়ে মুক্তি পান তিনি। পরে অক্সিজেন সিলিন্ডারটি নিয়ে দ্রুতবেগে বাড়ি ফিরে গিয়ে দেখতে পান তার বাবার নিথর দেহ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, পুলিশ আমাকে আটকে না রাখলে হয়তো বাবাকে বাঁচাতে পারতাম। আমি ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিচার দাবি করছি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest