সর্বশেষ সংবাদ-
এবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধনএডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসাতক্ষীরায় যৌতুকের বলি মা-মেয়ে : হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ডসাতক্ষীরায় নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আওতায় আনার দাবিসাতক্ষীরায় হেভী ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের মতবিনিময় সভাস্বাস্থ্যকর্মকর্তা  ও আব্বাসী কর্তৃক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য : নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানবন্ধনপ্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক রহমাতুল্লাহর মৃত্যুসাতক্ষীরায় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সভা: সভাপতি মুনির- সম্পাদক সামাদ

নারীর সঙ্গে প্রক্টরের ‘টিকটক’ ভাইরাল, সমালোচনার ঝড়

দেশের খবর : পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) সদ্য যোগদান করা প্রক্টর অধ্যাপক ড. হাসিবুর রহমানের একটি টিকটক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। অধ্যাপক হাসিবুর রহমানকে ওই ভিডিওতে রোমান্টিক গানে এক নারীর সঙ্গে নানা অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনায় মুখর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাবিপ্রবির সদ্য বিদায়ী প্রক্টর ড. প্রীতম কুমার দাসের মেয়াদ শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত ২৮ জুন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাসিবুর রহমানকে প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হয়েছে।

এদিকে, প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই অধ্যাপক হাসিবুর রহমানের টিকটক ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, অধ্যাপক হাসিবুর রহমান টিকটকে বাংলা সিনেমার রোমান্টিক গানে এক নারীর সঙ্গে ঠোঁট মেলাচ্ছেন এবং নানা অঙ্গভঙ্গি করছেন। ভিডিওটি অধ্যাপক হাসিবুর রহমান নিজেই তার ফেসবুকে পোস্ট করার পর তা ভাইরাল হয়ে যায়। বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ভিডিওটি পোস্ট করে সমালোচনা ও বিদ্রুপ করছেন অনেকে।

লেলিন খান নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি শিহরিত, একজন শিক্ষক এমন রোমান্টিক হলে তার ছাত্র-ছাত্রী না জানি কত রোমান্টিক হবে। স্যারকে আমরা আলিফ লায়লার জিন চরিত্রে দেখতে চাই।’

আব্দুল্লাহিল ফয়সাল নামে অপর এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘স্যারের এক্সপ্রেশনগুলো দারুণ ছিল। নিশ্চয়ই প্রক্টর হিসেবে তার সময়ে পাবিপ্রবি রোমান্টিকতার স্বর্গভূমি হয়ে উঠবে।’

অপরদিকে, নবনিযুক্ত প্রক্টরের টিকটক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে অধ্যাপক হাসিবুর রহমানকে ‘টিকটক প্রক্টর’ নাম দিয়ে ট্রল করছে অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাবিপ্রবির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, ‘সহকর্মীর এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় আমরা চরম বিব্রত। উনি কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ করেছেন। শিক্ষার্থীদের কাছে লজ্জায় কোনো কথাই বলতে পারছি না। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মীরাও এ ভিডিও মেসেজ করে হাসাহাসি করছেন।’

এমন কাণ্ডে নানা সমালোচনায় যুক্ত হয়েছে পাবনার সচেতন সমাজও। পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান স্বপন বলেন, ‘ভিডিওটি দেখে আমি বাকরুদ্ধ। যখন দেশব্যাপী টিকটক, ভিগোর মতো অ্যাপসগুলো নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে এবং সরকার তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রক্টরের টিকটকে কুরুচিপূর্ণ অভিনয় অনভিপ্রেত।’

এ বিষয়ে পাবিপ্রবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক হাসিবুর রহমান বলেন, ‘টিকটক ভিডিওটি আমি নিজেই তৈরি করেছি। এটি আমার ব্যক্তিগত বিষয়। এসব নিয়ে নিউজ করার কিছু নেই।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
লাবসায় জনকল্যাণের নামে জনবসতি এলাকা থেকে বালু উত্তোলন!

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় জনকল্যাণের নামে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার একটি নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবদুল আলিমের প্রত্যক্ষ মদদে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইকবাল জমাদ্দার এ বালু উত্তোলন করাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির দাবি চেয়ারম্যান আবদুল আলিমের চাপে পড়েই নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। তার ভাষ্য, নদী থেকে বালু না উঠিয়ে অন্যত্র থেকে বালু কিনে ট্রাকযোগে রাস্তায় ফেলতে যে খরচ নদী থেকে বালু উত্তোলন করে রাস্তায় ফেলতে তাদের আরও বেশি টাকা ব্যায় হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (০১ জুলাই) সকালে সরেজমিনে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের খেজুরডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ওই গ্রামের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত বেতনা নদীতে পৃথক দুটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০’ এর তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০’ এর ৪ এর ‘খ’ ধারায় সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা, অথবা আবাসিক এলাকা হতে সর্বনিম্ন ১ (এক) কিলোমিটার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত সীমানার মধ্যে থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকলেও খেজুরডাঙ্গায় বেতনা নদীর যে অংশ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে তার তীর ঘেষে শতাধিক পরিবারের বসবাস। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মন্দিরের মতো ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও আছে।

আইনটির ৪-এর ‘গ’ ধারায়, বালু বা মাটি উত্তোলন বা বিপণনের উদ্দেশ্যে ড্রেজিংয়ের ফলে কোন নদীর তীর ভাঙ্গনের শিকার হতে পারে এরূপ ক্ষেত্রেও বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। অথচ এসবের তোয়াক্কা না করেই একই আইনের ৫নং ধারার ভূ-গর্ভস্থ বা নদীর তলদেশ হতে বালু বা মাটি উত্তোলন সংক্রান্ত বিশেষ বিধানও অমান্য করছেন বালু উত্তোলনকারীরা।

এদিকে বালু উত্তোলন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের কাছে বালু উত্তোলনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের সাথে কথা বলে লাভ নাই। আমরা শ্রমিক, শ্রম দিতে এসেছি। আপনারা চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে কথা বলেন তার নির্দেশনায় এখান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংখ্যালঘু হওয়ায় প্রথমে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে মুখ খুলতে দ্বিধা করলেও পরে শোনান আশঙ্কার কথা। তারা জানিয়েছেন, বাড়ির মাত্র কয়েকফুট সামনেই নদী। এ নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় আমাদের ঘরবাড়ি, বাড়ির সামনের রাস্তা ধ্বসে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। আবার নদীর পাড় ভেঙ্গে চলতি বর্ষা মৌসুমে বন্যার কবলে পড়ার ভয়ও কাজ করছে তাদের মনে।

খেজুরডাঙ্গা পূর্বপাড়া গ্রামের গৃহবধূ সুচিত্রা রানী সরকার বলেন, এভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করার ফলে আমদের ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।

একই এলাকার কণ্ঠরাম সরকার বলেন, আমাদের বাড়ির সামনে থেকে বালু উঠানো হচ্ছে আমরা খুব বিপাকে পড়েছি। চেয়ারম্যান সাহেবকে বলেছি যে, আপনার নাম করে এখান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, আপনি একটা ব্যবস্থা নিন। কিন্তু তিনি এখনো কোন ব্যবস্থা নেননি।

এ বিষয়ে লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবদুল আলিম বলেন, খেজুরডাঙ্গা আর.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোড় থেকে খেজুরডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ২.২ কিলোমিটার রাস্তার কাজ হচ্ছে ১কোটি ৩০লক্ষ টাকা ব্যায়ে। শিডিউলে এ রাস্তায় মাত্র ১৭ইঞ্চি বালু দেওয়ার কথা কিন্তু এতো কম বালু দিলে রাস্তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হবে এবং দ্রুতই রাস্তাটি নষ্ট হয়ে যাবে এজন্য সাতক্ষীরা সদর এমপি মহোদয় এবং এসিল্যান্ডের সাথে কথা বলে তাদের অনুমতি নিয়েই নদী থেকে বালু উত্তোলন করে রাস্তায় ৩ফুট করে বালি দিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করেছি এবং তারা আমার এ অনুরোধ রেখেছেন।

তিনি আরও বলেন, এই বালু উঠিয়ে আমারতো কোন লাভ নেই। এতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানেরও লাভ নেই। শুধুমাত্র এলাকাবাসীর কথা ভেবে এবং সরকারের ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা যেন নষ্ট না হয় সে জন্যই নদী থেকে বালু উঠাতে বলেছি।

তবে এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. বেনজির আহমেদ বলেন, আমরা যদি অন্যত্র থেকে বালু কিনে নিয়ে আসি সে ক্ষেত্রে প্রতি ফুট বালুর দাম পড়বে ০৭টাকা। নদী থেকে বালু তুলতেও আমাদের প্রতি ফুটে ০৭টাকা বা তার বেশি খরচ হচ্ছে। শুধুমাত্র চেয়েরম্যানের চাপে পড়েই আমাদের নদী থেকে বালু তুলতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইকবাল জমাদ্দার এর কর্ণধর ইকবাল জমাদ্দার বলেন, ওই রাস্তার ইস্টিমেটে ১৭ ইঞ্চি বালু দেওয়ার কথা। কিন্তু চেয়ারম্যান সাহেব আমাদেরকে অনুরোধ করেন বালুটা যেন তিন ফুট দেই তা না হলে রাস্তা বর্ষাকালে তলিয়ে যাবে। কিন্তু আমরা ওই অতিরিক্ত বালু দিতে রাজি না হলে উনি আমাদেরকে নদী থেকে শুধুমাত্র উত্তোলন খরচ দিয়ে বালি উঠিয়ে রাস্তায় দিতে বলেন। আমরা যতদূর জানি উনি বালি উঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদর ভূমি কর্মকর্তার মন্তব্য জানার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল করলেও নাম্বার বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জনবসতি এলাকা থেকে বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলন করে তো রাস্তায় দেওয়ার কথা না। আর আমি এব্যাপারটা জানতাম না। আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানলাম। আমি একটু খোঁজ-খবর নিয়ে দেখছি কি করা যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা মেডিকেলে অক্সিজেন সঙ্কটে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : অক্সিজেন সঙ্কটের কারণে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আগামী ৩ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কুদরত-ই খোদা এ কমিটি গঠন করেন। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরর মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. কাজী আরিফ আহমেদকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন ডা. সাইফুল্লাহ ও ডা. মারুফ।

এদিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কুদরত-ই খোদা বিকেলে অক্সিজেন সঙ্কটে ৪ জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছেন।

তার দাবি, অক্সিজেন সঙ্কট ছিল না। কিন্তু প্রেসার কমে যায়। এতে সমস্যা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কেন প্রেসার কমে গেল তা খতিয়ে দেখতে ডা. আরিফ আহমেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালায় ‘কঠোর লকডাউন ১১ হাজার টাকা জরিমানা

তালা প্রতিনিধি:
কঠোর লকডাউনের’ প্রথম দিনে সাতক্ষীরা তালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি।

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) ভোর থেকে লকডাউন সর্বাত্মকভাবে পালনে বাধ্য করতে মোড়ে মোড়ে টহল দিচ্ছেন পুলিশ ।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মোঃ তারিফ-উল-হাসান,উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম তারেক সুলতান,তালা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মেহেদী রাসেল পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তারিফ-উল-হাসান এর নেতৃত্বে  বিশেষ সচেতনতামূলক অভিযান ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয় ।

বৃহস্পতিবার, ৩টা পর্যন্ত ১১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এসময় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সকলকে সংশ্লিষ্ট আইন ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মোঃ তারিফ-উল-হাসান।

তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার সবাইকে ঘরে থাকতে বলেছেন, কোনোভাবে ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ও মাস্ক ব্যবহার করতেও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অনলাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরো ৮৩০১ জন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা মেডিকেলে একদিনে রেকর্ড ১৫ মৃত্যু, গুরুতর অক্সিজেন সংকটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়। সেখানে ২৪ ঘণ্টায় এখন পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১৫ জনের মধ্যে অক্সিজেন সংকটে আট জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া তাদের মধ্যে মোট ছয় জন ছিলেন করোনা পজিটিভ। অন্যরা মারা গেছেন উপসর্গ নিয়ে।

অভিযোগ উঠেছে, গতকাল বুধবার বিকেলে সাতক্ষীরা মেডিকেলে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের প্রেশার কমে আসতে থাকে। সেই সংকট শুরুর পরপরই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দুজন, করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) দুজন এবং সাধারণ ওয়ার্ডে আরও চার জনসহ আট জনের মৃত্যু হয়।

রোগীদের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, অক্সিজেন সংকট দেখা দিলেও তা পূরণ করতে কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এসব রোগী মারা গেছেন। পরে রাত ৮টার দিকে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।

এর আগে ওই হাসপাতালে গতকাল বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আরও সাত জনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে দুজন ছিলেন করোনা পজিটিভ। অন্যরা উপসর্গে মারা গেছেন।

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়েত দাবি করছেন, সেন্ট্রাল অক্সিজেনে প্রেশার কমে গেলেও অক্সিজেন সংকটে কেউ মারা যায়নি। এ সময় চার জন করোনা পজিটিভ রোগীর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক ছিল। তাঁরা ছিলেন সিসিইউ ও আইসিউতে।

ডা. শাফায়েত আরও বলেন, সাতক্ষীরা মেডিকেলে ৭৬টি বড় আকারের অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে। সংকট দেখা দিলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে।

এদিকে, এই করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ২৭৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে করোনা পজিটিভ ২৬ জন। অন্যরা করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।

এ ছাড়া সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৫৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ, জন্ম যার সতত গৌরব ও আনন্দের- শেখ মফিজুর রহমান

এক ঐতিহাসিক আনন্দ ও গৌরবের মাহেন্দ্রক্ষণে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাঁড়িয়ে। বিশ্বের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ডের বয়স যখন ৩৮৫ বছর, ক্যামব্রিজের বয়স ৭৫৫ বছর, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স ৯১৫ বছর, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স কেবল একশত। মহাকালের গর্ভে একশত বছর খুব বেশি না হলেও একটি দেশ সৃষ্টিতে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটুও বেশি নয়। তাই বিশ্বের যেকোন প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বসেরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণায় লেখা ছিল– এই প্রতিষ্ঠান শুধু জ্ঞান বিতরণের জন্য স্থাপন করা হচ্ছে না, নেতৃত্ব গুণসম্পন্ন পূর্ণাঙ্গ মানুষ গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য।

স্যার এ.এফ. রহমান, ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদার, অধ্যাপক মাহমুদ হাসান, অধ্যাপক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসাইন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিচারপরি হাবিবুর রহমান শেলি, বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, বুদ্ধদেব বসু, জি.সি. দেব, মুনীর চৌধুরী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, বিজ্ঞানী আব্দুল মতিন চৌধুরী, সরদার ফজলুল করিম, তালুকদার মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন প্রমুখেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখিয়েছে নতুন পথ, নতুন আলো। সে আলোর পথ ধরে এগিয়ে গেছে এ জনপদের মানুষ। পদার্পণ করেছে এক নতুন যুগে, নতুন দেশে। সে দেশ বাংলাদেশ। ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধিকার আন্দোলন, ৬ দফা হয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ — সকল ক্ষেত্রেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনন্য, অসাধারণ ও সম্মুখ সারিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে যারা দেশ এবং আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদেরকে অনন্য উচ্চতায় স্থাপন করেছেন, তাদের মধ্যে ড. মুহম্মদ ইউনুস (নোবেল বিজয়ী), বিজ্ঞানী এম.এ. ওয়াজেদ মিয়া, এস.এ.এম.এস কিবরিয়া, বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, জাহানারা ইমাম, ড. হুমায়ুন আজাদ, ড. হুমায়ুন আহমেদ, ড. জাফর ইকবাল অন্যতম। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তিনিও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী।

বাঙালি রাজনৈতিকভাবে প্রথম সচেতন হয়েছে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময়। ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিটি এসেছিল স্বদেশি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ১৯০৬ সালে। তারপরের ইতিহাস করুণ, রক্তাক্ত ও বিশ্বাসঘাতকতায় পূর্ণ।

জাতীয়তাবাদের উপাদানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভাষা। ভাষাই জাতীয়তাবাদের প্রধান ভিত্তি।

বাংলাদেশের প্রথম শহিদ মিনার প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, যা পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্রে বড় প্রেরণা যুগিয়েছে। এর পথ ধরেই রচিত হয়েছে ‘৬৯ – এর গণ অভ্যুত্থান এবং ‘৭১ – এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ। অবশেষে জন্ম নিল স্বাধীন ভাষিক রাষ্ট্র বাংলাদেশ। পরবর্তীকালে ১৯৯৯ সালে এই গৌরবের পথ ধরে বাংলা ভাষা পেল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি।
আমি ঢাকা বিশ্বদিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র। যে বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একই বিভাগের শিক্ষক ছিলেন বহু ভাষাবিদ জ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। সে কারণে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্ররা বিশেষ গৌরব বোধ করেন। উল্লেখ্য যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুষ্টিমেয় যে কয়টি বিভাগ নিয়ে ১৯২১ সালের ১ লা জুলাই যাত্রা শুরু করে তার মধ্যে আইন বিভাগ অন্যতম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর দেয়ালে একটি লেখা দেখে মন আনচান করে উঠেছিল–
” জেগে উঠল কি সময়ের ঘড়ি,
এসো তবে আজ বিদ্রোহ করি ” — কিশোর কবি সুকান্তের এই চরণ কিশোর তথা প্রাক-যৌবনে আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে, বিপ্লবী হওয়ার চেষ্টাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই সেই সময়ের উত্তপ্ত জাতীয় রাজনৈতিক তাপ আমাকেও দগ্ধ করেছে।

ঢাকা বিশবিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে বলতে চাই, আমাদের মধ্যে অহংবোধ নয় একজন ভালো মানুষ জন্মগ্রহণ করুক, মমতা ও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটুক পূর্ণ মাত্রায়। ভালোবাসার মধ্য দিয়ে আমাদের হৃদয় আরো প্রস্ফূটিত হোক যাতে আমরা আরো বেশি সেবা ও ভালোবাসা দিতে পারি। জীবনের উদ্দেশ্য তো তা-ই। দেশ ও মানুষের জন্য কিছু করতে পারলাম কী না – এটাই আসলে সবার কাজের মূল প্রেরণা হওয়া উচিৎ। এ চিন্তাটা সবসময় সামনে থাকলে একজন মানুষ অসাধারণ অর্জনের শক্তি পায়। আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি নিজের কাজ সবচেয়ে ভালোভাবে করাই প্রকৃত দেশপ্রেম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্ররা যেমন সফলতার গর্বে গর্বিত হন, তেমনি অনেককেই দেখা যায় ব্যর্থতার গল্প শোনাতে। আমি বিশ্বাস করি, সফলতার গল্পে কেবল একটি বার্তা থাকে, কিন্তু ব্যর্থতার গল্পে সফল হওয়ার অনেক উপায় নিহিত থাকে। প্রকৃত প্রস্তাবে শেষ্ঠ্যত্ব একটা অবিরাম প্রক্রিয়া। এটা কোন নিছক ঘটনা বা দুর্ঘটনা নয়।

জন্ম থেকে আমাদের অনেক ঋণ রয়েছে, যা শোধ করার চেষ্টা করা উচিৎ। মাথার উপর যে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলছে, আমরা কি জানি Tomas Alva Edison ১০,০০০ বার ব্যর্থ চেষ্টার পর তা আবিষ্কার করেন। কীভাবে আপনি এই ঋণ শোধ করবেন? একটাই উপায়, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ভালো কিছু করে যাওয়া, রেখে যাওয়া। চারিদিকে আলো ছড়ানোর নিরন্তর চেষ্টা করা। সে লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি চাই সংঘবদ্ধ উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা। কারণ ব্যক্তি প্রধানত শক্তিহীন — যদি না সে যুক্ত হতে পারে সমষ্টির সাথে। ফেসবুকের জগতে “সামাজিক যোগাযোগ” নয়, প্রয়োজন প্রত্যক্ষ মানবিক যোগাযোগ।

বাংলাদেশের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে আমার আপনার ব্যাপক দায়িত্ব রয়েছে, যা আমরা কোনক্রমেই অস্বীকার করতে পারি না। জীবনে চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন কিনা, আপনি কঠিন সময়ে ভেঙ্গে পড়েন নাকি দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন — এটাই মানুষ হিসেবে আপনার নিয়ামক যোগ্যতা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের ভাষায়-

” চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে,
অন্তরে আজ দেখব যখন আলোক নাহিরে…” —

চোখের আলো হারালেও আমরা যেন মনের আলো না হারাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে এটাই আমার অন্তরের আকুতি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে গর্ব ও আনন্দ দুটোই আমার রয়েছে। আসলে জীবন এক যাযাবর। জীবনের প্রয়োজনেই অনেকের সঙ্গে মিশতে হয়, পথ চলতে হয়। আজ প্রচলিত পড়াশোনা শেষ করে তথাকথিত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে, সংসার করছি। জীবনের একেক সময়ের অনুভূতি একেক রকম। প্রত্যেক সময়ের নিজস্ব ব্যাখ্যা আছে। বেঁচে থাকাটাই আনন্দের। ভোরের শিশিরস্নাত সকাল, তরুলতা, গাছপালা ভরা নিঃস্বার্থ প্রকৃতিকে ভালোবেসেও জীবনটাকে উপভোগ করা যায়। যতই টানাপোড়ন থাকুক তবুও দিন শেষে জীবন মানে উৎসব। প্রতি মুহূর্তে ইংরেজ কবি Lord Tennyson – এর ভাষায় বলা যায়, ” I will drink life to the lees.”
সদ্য কিশোর পেরুনো ছেলে-মেয়েরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, তখন তারা নিতান্তই সাধারণ কিন্তু তুমুল স্বপ্নবাজ। এখান থেকে উত্তীর্ণ হয়েই তারা স্ব-স্ব পেশায় সফলতার শীর্ষে। এই রূপান্তর দেখাটা সত্যি স্বর্গীয় আনন্দের। বারবার এই আনন্দের দেখা পেতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছেন। সৃষ্টিকর্তা যদি আবার বা বারবার আমাকে জন্মলাভের সুযোগ দেন, তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের মাটিতেই কাজ করতে চাই — অন্য কোথাও নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শত ভাবনা বিকশিত হোক। শত চিন্তার প্রসারে ঘটুক ব্যক্তি ও জাতির ক্রম-উত্তোরণ। স্বপ্নে-কর্মে-উদ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্রমাগত আরো প্রস্ফূটিত হোক, জন প্রত্যাশা পূরণ করুক, এটাই আন্তরিক প্রত্যাশা।

 

*শেখ মফিজুর রহমান- সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, সাতক্ষীরা

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা মেডিকেলে অক্সিজেন সংকটে ৭ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ !

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা করোনা ডেডিকেটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেন সংকটের কারণে বুধবার সন্ধ্যা সাতটা ১০ মিনিট থেকে পৌনে ৮টার মধ্যে সাত করোনা করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। এ সময় ২০টির ও বেশি রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয় বলে জানা গেছে। তবে এবিষয়ে সঠিক কোন দিচ্ছেন না সাতক্ষীরা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। যদিও অক্সিজেন সংকটে মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সাতক্ষীরা সির্ভিল সার্জন।

অক্সিজেন সংকটে মৃত্যুবরণকারীরা হলেন- মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটের করোনা পজেটিভ রোগী সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ভাড়াসিমলা গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে আকরাম হোসেন খান (৬৩), সিসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন শহরের ইটাগাছা এলাকার মফিজুল ইসলামের স্ত্রী খাইরুন্নেছা (৪০), শহরের কুকরালী আমতলা এলাকার মনিরুজ্জামানের স্ত্রী করোনা আক্রান্ত নাজমা খাতুন, শ্যামনগরের সোনাখালি এলাকার কাশেম গাজীর ছেলে আশরাফ হোসেন, সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আশাশুনির শ্রীউলা ইউনিয়নের বকচরা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম পারভেজ (৫৪), সিসিইউতে চিকিৎসাধীন দেবহাটা উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকার আব্দুস সামাদ পাড়ের ছেলে আবু জাফর মো: শফিউল আলম তুহিন, সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আশাশুনির নৈকাটি এলাকর বেনু গাজির ছেলে আব্দুল হামিদ (৭৫)।

বুধবার রাত ৮টায় সরেজমিনে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের ৪র্থ তলায় আইসিইউ ইউনিট ও সিসিইউনিটের সামনে দেখা যায়, মৃতের স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে সেখানকার বাতাস। আইসিইউ ওয়ার্ডের সামনে রোগীর স্বজনদের হুড়োহুড়ি এবং কান্নার রোল পড়ে যায়।

আইসিইউ ইউনিটে মারা যাওয়া আকরাম হোসেন খানের ছেলে তাজ মুহাম্মদ খান কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, তার বাবা করোনা আক্রান্ত হয়ে ৪৫ দিন ধরে ভর্তি ছিলেন। কয়েকদিন ধরে শ্বাস কষ্ট দেখা দিচ্ছিল। গত কয়েকদিন ধরে এই হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজিনের সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেদিকে নজর দেয়নি। সে কারণে বুধবার সন্ধ্যার পর কতগুলো রোগী মারা গেল। কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে বাবাকে হারাতে হলো তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যা সাতটা থেকে অক্সিজেন নেই। রাত ৮টা অক্সিজেন আনা হয়। বাবার মত আর কাউকে যে এ ভাবে অক্সিজেনের অভাবে মরতে না হয়। এব্যাপারে বিভাগীয় তদন্তের দাবীও জানান তিনি।
শহরের মাষ্টারপাড়ার ফিরোজ হোসেন বলেন, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তার করোনা আক্রান্ত মেয়ে সীমা খাতুনকে বুধবার দুপুরে আইসিউতে ভর্তি করান। বিকেল পাঁচটার দিকে সিসিইউ থেকে বের হয়ে একজন চিকিৎসক বারান্দায় অবস্থানকারি রোগীর স্বজনদের উদ্দেশ্যে বলেন, হাসপাতালে অক্সিজেন কমে আসছে। তবে দ্রুত অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যদি কেউ কোন রোগী অন্যত্র নিয়ে যেঙতে চান তাতে তাদের কোন আপত্তি নেই। সন্ধ্যা সাতটা ১০ থেকে রাত পৌনে ৮টা পর্যন্ত সেন্টাল অক্সিজেন না থাকা অবস্থায় স্বল্প কয়েকটি সিলিণ্ডারের মাধ্যম্যে রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

শ্রীউলা ইউনিয়নের বকচরা গ্রামের আসাদুল্লাহ বলেন, শুক্রবার তার বড় ভাই রবিউল ইসলাম পারভেজকে মেডিকেলের ওয়ার্ডে ভর্তি করেছিলেন। আক্সিজেন সংকটের কারণে সাড়ে ৭টার দিকে তার ভাই মারা যায়। এখানে ভালো চিকিৎসা হচ্ছে না। নার্সরা ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
সরদারের ছেলে তার দুলা ভাই নাজিমউদ্দিন গত করোনা আক্রান্ত হয়ে ৪৪০ নং ওয়ার্ডের বারান্দায় গত ২৮ জুন থেকে চিকিৎসাধীন। বুধবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় অক্সিজেন বিপর্যয়ের কারণে তার দুলা ভাই যেভাবে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করেছেন সেই স্মৃতি জীবদ্দশায় ভোলার নয়।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকাল পার্সন ডা. মানস কুমার মন্ডল বলেন, বিকেল থেকে হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমের প্রেসার কমে যায়। সকালে এই বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। যশোর থেকে অক্সিজেন নিয়ে আসা হয়েছে। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পরপরই হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম স্বাভাবিক হয়েছে।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: কুদরত-ই-খোদাকে একাধিকার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাঃ হুসাইন শাফায়াত বলেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের সংকট দেখা দেওয়ার কথা ছিলনা। সেন্ট্রাল অক্সিজেন ছাড়াও ৭০টির অধিক সিলিন্ডার আছে। তবে অক্সিজেন সংকটে নয়, করোনায় ৪জন মারা গেছে। এখানে কর্তৃপক্ষের কোন গাফিলতি ছিলো কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখবে প্রশাসন।

তাংÑ০১.৭.২১

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest