আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরায় ৫ বছরের কন্যাশিশুকে ধর্ষনের অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার বালিথা এল্লারচর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ওই কন্যা শিশুর বাবা বাদী অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে সকালে থানায় মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্ত কিশোরের নাম বায়োজিদ হোসেন (১৬)। সে বালিথা এল্লারচর গ্রামের মান্নান গাজীর ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী কিশোর বায়োজিদ প্রায়ই ওই কন্যা শিশুর বাড়িতে যাতায়াত করতো এবং তার সাথে খেলাধুলা করতো। কন্যা শিশুটির বাবা রাজমিস্ত্রীর কাজ করায় তিনি প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কাজে যান। মঙ্গলবার (২৯ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে শিশশুটির মা সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকার সুবাদে কিশোর বায়োজিদ শিশুটি বাড়ির পাশে খেলা করার সময় তাকে টাকা ও খাবার কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বালিথা এল্লারচর কবরস্থানের বাগানের মধ্যে নিয়ে তার মুখ চেপে ধরে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। এ সময় তার আতœচিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে ধর্ষক কিশোর বায়োজিদ পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই কিশোরের বিরুদ্ধে সকালে মামলা দায়েরের পর পুলিশ দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করে। এদিকে, নির্যাতিতা ওই কন্যা শিশুটি বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হুসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত শিশুকে সাতক্ষীরা শিশু আদালতে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক তাকে মামলার তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক) যশোরে আটক রাখার আদেশ দেন। সে মোতাবেক তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র যশোরে পাঠানো হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি : বৈদ্যুতিক তারে জড়িতে এক ঘের কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে সাতক্ষীরা শহরতলীর বাঁকালের হারুণ অর রশিদের চিংড়ি ঘেরে এই ঘটনা ঘটে।
মৃত্যের নাম খোরশেদ আলী(৪০)। তিনি সাতক্ষীরা তালা উপজেলার খলিষখালী গ্রামের বাসিন্দা।
ঘের মালিক হারুণ অর রশিদ জানান তার কর্মচারী খোরশেদ আলী বুধবার সকাল ১০টার দিকে তার চিংড়ী ঘেরের বাসায় চাল মেরামতের কাজ করছিল। এ সময় বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে সে মারাত্মক জখম হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হুসেন জানান খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ###
আসাদুজ্জামান : চলমান লকডাউনের মধ্যে সাতক্ষীরায় করোনা সংক্রমনের হার কমলেও বাড়ছে মৃত্যুর হার। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে চার নারীসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে দুই জন ও উপসর্গ নিয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে, জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ৭০ জন। আর ভাইরাসটির উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরো অন্ততঃ ৩৪০ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৬২ জনের নমুনা পরীক্ষা শেষে ৫০ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে।
যা শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ। এ নিয়ে জেলায় আজ পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩৭১ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৪৮৫ জন। এছাড়া বর্তমানে জেলায় ৮১৬ জন করোনা আক্রান্ত রুগী রয়েছেন। এর মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৫ জন করোনা আক্রান্ত রুগী ও ২৬০ জন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর বেসরকারী হাসপাতালে ১৭ জন আক্রান্ত রুগী ও ১৩৭ জন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া ৭৭৪ জন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, চতুর্থদফা লকডাউনের ২৭ তম দিনেও চলছে ঢিলেঢালা লকডাউন। কাল থেকে সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে এবং কড়াকড়ি লকডাউন হবে এমন খবরে আজ বাজার সওদা করতে বাড়ির বাইরে চলে এসছেন বহু মানুষ। তারা মাস্ক ব্যবহার ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি তেমন মানছেন না। অধিকাংশ মানুষ সামাজিক দুরত্ব বজায় না রেখে কেনা কাটা করছেন। স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের খুবই অনীহা লক্ষ্য করা গেছে। বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। অন্যান্য যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। শহরের অধিকাংশ দোকানপাট গুলোতে চলছে চুরি করেই বেচাকেনা। পুলিশের বাধা ও ব্যারিকেডও মানছে না কেউই। যদিও পুলিশ মোড়ে মোড়ে চেকপোষ্ট বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।
লকডাউনে জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। তবে, লকডাউনে সবথেকে বেশী বিপাকে পড়েছেন মোটর চালিত ভ্যান, ইজিবাক ও রিক্সা চালকসহ খেটে খাওয়া মানুষ। পুলিশ তাদের যানবাহন গুলো আটক করে রেখে দেয়ায় তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত এ সময় সকলকে মাস্ক পরার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়েছেন।
দেশের খবর : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কাল (বৃহস্পতিবার) থেকে আবারও সারাদেশে প্রথম ডোজের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে সিনোফার্মের টিকা দেশের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালসহ টিকা কেন্দ্রগুলোতে দেওয়া হবে। আর ফাইজারের টিকা রাজধানীর সাতটি কেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। তবে আপাতত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতেই সারাদেশে টিকা দেওয়া হবে।
বুধবার (৩০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত করোনা বুলেটিনে এসব তথ্য জানিয়েছেন অধিদপ্তারের লাইন ডিরেক্টর ও কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল হক।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) দেশব্যাপী সিনোফার্মের টিকা কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সকল জেলা সদর হাসপাতালসহ চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশন ডিজিজেস হাসপাতাল ও সৈয়দপুর সদর হাসপাতালে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে। ঢাকা শহরের মধ্যে আমরা আগে ৪৮টি কেন্দ্রে টিকা কার্যক্রম শুরু করেছিলাম, কিন্তু এই মুহূর্তে আটটি কেন্দ্রকে বাদ দিয়ে ৪০টি কেন্দ্রে পুরোদমে টিকাদান কার্যক্রম চালু করব।
শামসুল হক বলেন, অগ্রাধিকার তালিকায় যারা আছেন, বিশেষ করে আমাদের মেডিকেল, নার্সিং ও ম্যাটস শিক্ষার্থীরা টিকা পাবেন। একইসঙ্গে আমাদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, পুলিশ বাহিনীর লোকজন ও অন্যান্য অগ্রাধিকার কর্মীরাও টিকা নিতে পারবেন। এছাড়াও যারা আগেই নিবন্ধন করে টিকা নিতে পারেননি তারা নিতে পারবে।
টিকা কর্মসূচির পরিচালক বলেন, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে যারা পাওয়ার যোগ্য তাদের জন্য আজ থেকে নিবন্ধন কার্যক্রম খুলে দেওয়া হচ্ছে। নিবন্ধনের পর কেন্দ্র থেকে যখন এসএমএস আসবে, তখন সে অনুযায়ী কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নেবেন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই টিকা কার্ড ও এনআইডি সঙ্গে নিয়ে যাবেন।
তিনি আরো বলেন, আমাদের করোনা টিকাদান কেন্দ্রগুলো লকডাউনের আওতা বহির্ভূত থাকবে। টিকা নেওয়ার জন্য বের হওয়া কাউকে যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তাহলে টিকা কার্ডটি দেখাবেন ও কোনো কেন্দ্রে যাচ্ছেন সেটি বলবেন।
অনলাইন ডেস্ক : বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। বুধবার (৩০ জুন) বিধিনিষেধ আরোপ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
কঠোর এই বিধিনিষেধে যা বন্ধ থাকবে:
>> সব ধরনের গণপরিবহন (অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটসহ)।
>> সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস।
>> শপিংমল/মার্কেটসহ সকল দোকানপাট।
>> সকল পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র।
যা চালু থাকবে:
>> ব্যাংক, শিল্প-কারখানাসমূহ
>> পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক/লরি/কাভার্ড ভ্যান/কার্গো ভেসেল, রিকশা।
>> আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
>> বন্দরসমূহ (বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল)।
>> খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ (সকাল ৮টা-রাত ৮টা)।
>> কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি (উন্মুক্তস্থানে বিক্রি)।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ২১টি শর্ত যুক্ত করে ১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকাল ৬টা থেকে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ হয়েছে বলে জানানো হয়।
যা আছে ২১ শর্তে
১. সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।
২. সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহন (অভ্যন্তরীণ বিমানসহ) ও সকল প্রকার যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
৩. শপিংমল/মার্কেটসহ সকল দোকানপাট বন্ধ থাকবে।
৪. সকল পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।
৫. জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান-ওয়ালিমা, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
৬. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতসমূহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।
৭. ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।
৮. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষি পণ্য ও উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত কার্যাবলি, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবা, ব্যাংক, ফার্মেসি ও ফার্মাসিটিক্যালসসহ অন্যান্য জরুরি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহের কর্মচারী ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যাতায়াত করতে পারবে।
৯. পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক/লরি/কাভার্ড ভ্যান/কার্গো ভেসেল এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে।
১০. বন্দরসমূহ (বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল) এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে।
১১. শিল্প-কারখানাসমূহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে।
১২. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন/বাজার কর্তৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
১৩. অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। নির্দেশনা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৪. টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।
১৫. খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রয় (অনলাইন/টেকওয়ে) করতে পারবে।
১৬. আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে এবং বিদেশগামী যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকিট প্রদর্শন করে গাড়ি ব্যবহারপূর্বক যাতায়াত করতে পারবে।
১৭. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদে নামাজের বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেবে।
১৮. ‘আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মাঠ পর্যায়ে কার্যকর টহল নিশ্চিত করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা মোতায়েন করবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় সেনা কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।
১৯. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও আনসার নিয়োগ ও টহলের অধিক্ষেত্র, পদ্ধতি ও সময় নির্ধারণ করবেন। সেই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে বিশেষ কোন কার্যক্রমের প্রয়োজন হলে সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহ এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।
২০. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
২১. স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করবেন।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় এর আগে গত ২৮ জুন থেকে তিন দিনের সীমিত বিধিনিষেধ দেয় সরকার। সেই বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় শেষ হবে।
দেশের খবর : কোভিড ১৯ সংক্রমণ রোধকল্পে আগামী ১ জুলাই ভোর ৬টা থেকে সারা দেশে সাতদিনের জন্য জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচল এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বন্ধের বিষয়ে সরকার বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ সময়ে জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী কর্মরতগণ ছাড়া এবং জরুরি কারণ ছাড়া ঘরের বাইরে কেউ বের হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মঙ্গলবার সরকারের তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংবলিত প্রজ্ঞাপন আগামীকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা হবে।
মাস্ক পরিধানসহ সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে তথ্য অধিদপ্তর।
এদিকে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৭ জুন নতুন বিধিনিষেধ জারি করে সরকার। এ বিধিনিষেধ অনুযায়ী সারা দেশে পণ্যবাহী যানবাহন ও রিকশা ব্যতীত সব গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে সব হোটেল-রেস্তোঁরায় বসে খাওয়া-দাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রি করা যাবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২৮ জুন সকাল ৬টা থেকে দেশে মানুষ ও যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে- সারা দেশে পণ্যবাহী যানবাহন ও রিকশা ব্যতীত সব গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত টহলের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
সব শপিংমল, মার্কেট, দোকানপাট, পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার এবং সব ধরনের বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে। খাবারের দোকান, হোটেল, রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮ট পর্যান্ত খোলা থাকবে। এসব হোটেল-রেস্তোরাঁ শুধু খাবার বিক্রি করতে পারবে। হোটেল রেস্তোরাঁয় বসে কেউ খেতে পারবেন না।
সরকারি-বেসরকারি সব অফিস ও প্রতিষ্ঠান শুধু প্রয়োজনীয় সংখ্যক উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লোকজন আনা-নেওয়া করবে।
গত শনিবার সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে ‘সীমিত আকারের লকডাউন’ ও ‘সর্বাত্মক লকডাউনের’ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সভাপতিত্ব করেন।
সভা শেষে সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘২৮ জুন (সোমবার) থেকে সীমিত লকডাউন থাকবে। অনেক আর্থিকপ্রতিষ্ঠানের জুন ক্লোজিং আছে। এজন্য ১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) থেকে সারা দেশে টোটাল (সর্বাত্মক) লকডাউন শুরু হবে।’
২৭ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এক অনুষ্ঠানে বলেন, এবারের লকডাউনে পুলিশ, বিজিবির বাইরে সেনাবাহিনী থাকবে।
দেশের খবর : জুলাই মাসে দেশে ব্যাপকভাবে টিকাদান অভিযান শুরু হবে এই আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবার জন্য বিনামূল্যে টিকা নিশ্চিত করবে সরকার। করোনা টিকা সংগ্রহের জন্য যত টাকা লাগুক সরকার তা ব্যয় করবে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছি, সরকার সবার জন্য বিনামূল্যে টিকা নিশ্চিত করবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহের জন্য আমরা তহবিল সরবরাহ করব, যতই প্রয়োজন হোক।
টিকা সংগ্রহের জন্য সরকার জাতীয় বাজেটে ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ৮০ শতাংশ মানুষকে পর্যায়ক্রমে টিকা দেওয়ার আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছি। এ সময় তিনি বলেন, সরকার যখন গবেষণা পর্যায়ে ছিল তখন টিকা উন্নয়নকারী দেশগুলির সাথে যোগাযোগ শুরু করে এবং টিকার আগাম অর্থ সরবরাহ করে। কিন্তু করোনা সংক্রমণ ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত সমস্যায় পড়ে যায়। তাই দেশটি টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন টিকার ব্যবস্থা করেছি। আমাদের আর কোনও সমস্যা হবে না (টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে)। সরকার চীন, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য টিকা উৎপাদনকারী দেশ এবং সংস্থাগুলির সংস্পর্শে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন উৎস থেকে ১.১৪ কোটি টিকা সংগ্রহ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা আশা করছি এই জুলাই থেকে আরো অনেক টিকা আসবে এবং আমরা টিকাদান ব্যাপকভাবে শুরু করতে পারবো।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রবাসী কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিদেশের কর্মস্থলে পৌঁছে তাদের যেন কোয়ারান্টাইনে থাকতে হয়। করোনা মহামারি অব্যাহত থাকায় স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছর সরকার সফলভাবে প্রথম ঢেউকে মোকাবেলা করেছে। সেই অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে চলমান দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে আমরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা মহামারি মোকাবিলার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য এবং জনজীবনকে রক্ষা করতে সক্ষম হবো।
বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাওলানা রহমাতুল্লাহ নামে এক মাদ্রাসার আরবি প্রভাষকের মৃত্যু হয়েছে। …
নিজস্ব প্রতিনিধি : যারা জনগণের সাথে প্রতারণা করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একসময়…
অনলাইন ডেস্ক : পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোতেকোশি নদীতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯-এ দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন…