সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরার সাংবাদিকপুত্র কাজী ফাইম আব্দুল্লাহর এইচএসসিতে গোল্ডেন এ-প্লাস অর্জনসাতক্ষীরায় নির্মাণাধীন ভবনের সাব-কন্টাক্টরের কাছে চাঁদা দাবি : থানায় অভিযোগতালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: সার সংকট, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে গুরুত্বারোপদেবহাটায় শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে খেলাভিত্তিক সেশন পরিদর্শনসাতক্ষীরায় আবাসিক হোটেল-রেস্তোরাঁ – বেকারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময়সাতক্ষীরায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী হ%ত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতারশ্যামনগরে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মানববন্ধনএবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধনএডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামের

করোনা প্রতিরোধে সাতক্ষীরা সীমান্ত জুড়ে বিজিবির কঠোর নজরদারী

নিজস্ব প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমন অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাতক্ষীরা সীমান্ত জুড়ে কঠোর নজরদারী শুরু করেছে বিজিবি। কেউ যাতে সাতক্ষীরার কোন সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাতায়াত না করতে পারেন সে জন্য সীমান্তে এই কঠোর নজরদারী রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত জুড়ে রয়েছে গোয়েন্দা নজরদারী। এছাড়া হঠাৎ করেই সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় করোনা সংক্রমনের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় এই নজরদারী আরো বাড়ানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি’র ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আল মাহমুদ জানান, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমন অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির কারণে ভারতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দিয়ে জনগণের অবৈধ গমনাগমনের মাধ্যমে উক্ত ভাইরাস বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে প্রেক্ষিতে সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরার ভোমরা, গাজীপুর, কুশখালী, কালিয়ানী, মাদরা, কাকডাঙ্গা ও তলুইগাছা এলাকাগুলো স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নত করা হয়েছে। উক্ত এলাকা সমূহে অবৈধ গমানাগমন প্রতিরোধে ইতিমধ্যে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত টহল হিসেবে মোটর সাইকেলযোগে কঠোর নজরদারীতে রাখা হয়েছে। তিনি আরো জানান, সীমান্তে ৫৯০টি মোবাইল টহল পরিচালনা করে অবৈধ গমনাগমনের সময় ইতিমধ্যে ৮ জন বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ যাতায়াত বন্ধে শুন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ইতিমধ্যে সীমান্তের প্রতিটি মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে কেউ যাতে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার না করেন সেটিও মাইকিং করে জানানো হয়েছে।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা পৌর তাঁতীলীগের কমিটি অনুমোদন

রাশিদুল ইসলাম মিঠু কে সভাপতি ও সামিউল ইসলাম জুয়েল কে সাধারণ সম্পাদক ও শেখ নাজমুল হাসান ইমনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে সাতক্ষীরা পৌর তাঁতি লীগের ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দিয়েছে জেলা তাঁতি লীগ।সোমবার ( ৩১ মে) জেলা তাঁতীলীগ এর সভাপতি কাজী মারুফ ও সাধারন সম্পাদক শেখ আলমগীর হোসেন সাক্ষ্যরিত এক পত্রের মাধ্যমে এই ৩১ সদস্য বিশিষ্ট পৌর তাঁতি লীগের কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে যুবলীগের খাদ্য বিতরণ

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মইনুল হাসান খান নিখিল এর নির্দেশে সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের উদ্যোগে ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিশুদ্ধ খাবার পানি শুকনা খাবার বিতরণ করা হযে়ছে। মঙ্গলবার কালীগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নে সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের সিনিয়র সদস্য মীর মাহি আলমের নেতৃত্বে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের সদস্য জিয়াউর বিন সেলিম জাদু, যুব নেতা অ্যাডভোকেট তামিম আহমেদ সোহাগ, কালিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ, সহ সভাপতি সুলতান আহমেদ, মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মহব্বত হোসেন প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ছিন্নমুল মানুষের মাঝে গ্রীষ্মকালীন ফল বিতরণ

রোটার‌্যাক্ট ক্লাব অব সাতক্ষীরা এবং ইন্টার‌্যাক্ট ক্লাব অব সাতক্ষীরা যৌথ আয়োজনে সাতক্ষীরা নিউমার্কেট চত্তরে ছিন্নমুল মানুষের মাঝে গ্রীষ্মকালীল ফল বিতরণ করেছে। মঙ্গলবার ফল বিতরন অনুষ্ঠানে এ রোটার‌্যাক্ট ক্লাব অব সাতক্ষীরা এর সভাপতি রোঃ এ,কে,এম মাহবুবুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এ প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন রোটারী ক্লাব অব সাতক্ষীরা এর পি.এস.সি.সি রোটাঃ পিপি মাগফুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন রোটারী ক্লাব অব সাতক্ষীরা এর সেক্রেটারি ইলেক্ট রোটাঃ মিজানুর রহমান। উপস্থিত ছিলো রোটার‌্যাক্ট ক্লাব অব সাতক্ষীরা এর সভাপতি নমিনী ও সেক্রেটারি রোঃ মোঃ উজ্জল মোল্যা রোটার‌্যাক্ট ডিস্ট্রিক্ট ৩২৮১ এর অ্যাডভাইজার রোঃ পিপি জি.এম আবুল হোসাইন, ট্রেজারার রোঃ আল আমিনুর রহমান, সদস্য রোঃ নাজমুল হক, ইন্টার‌্যাক্ট ক্লাব অব সাতক্ষীরা এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলো চ্যার্টার সভাপতি ইন্টাঃ সিপি আবুল ফারাহ তানভির চ্যার্টার সেক্রেটারি ইন্টাঃ মোঃ মোন্তাসির রহমান সহ-সভাপতি ইন্টাঃ মাসুদ পারভেজ প্রোফোশেনাল সার্ভিস ডাইরেক্টর ইন্টাঃ হৃদয় সহ প্রমুখ। সমগ্র বিতরন প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেডর রোঃ উজ্জল মোল্যা, ইন্টাঃ সিপি আবুল ফারাহ তানভির। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পরিকল্পনামন্ত্রীর মোবাইল ছিনতাই

অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর বিজয় স্মরণী থেকে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের মোবাইল ফোন ছিনতাই হয়েছে। রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যায় জ্যামে আটকা থাকা অবস্থায় মন্ত্রীর হাত থেকে আইফোন কেড়ে নিয়ে পালিয়েছে এক ছিনতাইকারী।

মঙ্গলবার পরিকল্পনা কমিশনে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ের মান্নান বলেন, কাল সন্ধ্যায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে যাবার পথে বিজয় সরণিতে গাড়িতে বসে মোবাইল ব্রাউজ করছিলাম। তখন গাড়ির গ্লাস নামানো ছিল। হুট করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই কেউ একজন মোবাইল নিয়ে দৌড় দেয়। ব্রাউজিংয়ে মনোযোগ থাকার কারণে মুহূর্তের মধ্যে কি ঘটেছে তা বুঝতেও কয়েক সেকেন্ড কেটে যায়। সম্বিৎ ফিরে পেয়ে গাড়িতে থাকা পুলিশের গানম্যানকে বলি আমার মোবাইল নিয়ে গেল।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গাড়ি থামিয়ে গানম্যান ওই ছিনতাইকারীর পিছু নিলেও তাকে আর ধরতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার ছেলে ১ হাজার ডলার দিয়ে আইফোনটি পাঠিয়েছেন। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোন খোয়ানোর বিষয়টি জানানোর কথা সাংবাদিকদের বলেন তিনি।

এদিকে মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনায় ওই রাতেই কাফরুল থানায় মামলা করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর। মামলা নম্বর ৩৬। এজাহারে বলা হয়, পরিকল্পনামন্ত্রী রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে অফিস থেকে সরকারি গাড়ি নম্বর ঢাকা মেট্রো ঘ-১৮-৫৮২৪ তে করে বেইলি রোডে নিজ বাসার উদ্দেশে রওনা হন। বিজয় সরণি ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়ানো অবস্থায় সন্ধ্যা সাতটার দিকে মন্ত্রী গাড়ির জানালা খুলে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। ওই সময় অজ্ঞাতনামা এক চোর মন্ত্রীর ব্যবহৃত আইফোন এক্স (আইএমইআই নম্বর ৩৫৭২৭৫০৯২৭৫৪৮৪ কালো রং) হাত থেকে টান মেরে নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। গাড়িতে বসা মন্ত্রীর গানম্যান অজ্ঞাতনামা ওই চোরের পেছনে ধাওয়া করলেও চোর পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিমুজ্জামান জানান, মন্ত্রীর পিএস ছিনতাইয়ে ঘটনায় মামলা করেছেন। মন্ত্রী মহোদয় অফিস শেষে বিজয় স্মরণী হয়ে ফিরছিলেন। বিজয় স্মরণীতে মন্ত্রীর গাড়ি বহন জ্যামে আটকে ছিল। গাড়ির গ্লাস নামিয়ে ফোনে কথা বলা অবস্থায় তার ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় এক ছিনতাইকারী। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে মোবাইলটি উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কয়রায় জনগণের ধাওয়ায় ট্রলার নিয়ে পালালেন এমপি

খুলনা ব্যুরো : খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া এলাকায় কপোতাক্ষ নদের ভেঙে যাওয়া বাঁধ স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামতে করছিলেন স্থানীয় কয়েক শ মানুষ। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি ট্রলার নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. আক্তারুজ্জামান। বাঁধে কাজ করা উত্তেজিত জনতা এমপিকে দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কাঁদা ছুড়ে মারতে থাকেন ট্রলারের দিকে। বাধ্য হয়ে সেখান থেকে ট্রলার নিয়ে চলে যান এমপি আক্তারুজ্জামান।

তবে এমপি মো. আক্তারুজ্জামান দাবি করেছেন, তাকে বহনকারী ট্রলারে কাঁদা ছুড়ে মারা হয়নি। তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষ চান টেকসই বেড়িবাঁধ। প্রতিবছর ভাঙনে তারা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হন। ভাঙন এলাকায় কাজ করছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। সেখানে গেলে তাকে (সাংসদ) দেখে মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, তাদের ওই দাবি যৌক্তিক। বারবার বাঁধ ভাঙে আর বারবার স্বেচ্ছাশ্রমে তাদের কাজ করতে হয়। এ কারণে এমপির ওপর তাদের ক্ষোভও বেশি। পরে ওই এলাকায় নেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বাঁধের কাজ করা হয়েছে।

বাঁধে কাজ করা কয়েকজন মানুষের কাছ থেকে জানা গেছে, ইয়াসের পর ওই এলাকার বাঁধ ভেঙে মহারাজপুর ও পাশের বাগালী ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে সাগরের নোনাপানিতে। ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে গত বুধবার ভেঙে যাওয়া ওই বাঁধ এখনো মেরামত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে নিয়মিত জোয়ারভাটা আসা-যাওয়া করছে গ্রামগুলোর মধ্য দিয়ে। ঘূর্ণিঝড় আইলার দীর্ঘ এক যুগ পর আবার এমন দুর্ভোগে পড়েছে। চার দিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামত করছেন এলাকার মানুষ।

মঙ্গলবার (১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় এমপি একটি ট্রলারে করে ওই ভাঙা বাঁধের স্থানে যান। যখনই তার ট্রলারটি ঘাটে ভিড়তে যায়, তখনই কাঁদা ছুড়তে শুরু করেন স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করা মানুষগুলো। বারবার মাইকে ঘোষণা করেও তাদের নিবৃত্ত করা যায়নি। প্রায় ১০ মিনিট বৃষ্টির মতো কাঁদা ছুড়ে মারার একপর্যায়ে ট্রলারটি পিছু হটে নদীর অপর পাড়ে চলে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর কাজ করতে থাকা মানুষকে শান্ত করা হলে আবার এমপি সেই ভাঙা বাঁধের কাছে যান।

এ সময় এমপি মাইকে স্থায়ী বাঁধ না করতে পারায় নিজের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বাঁধ মেরামতের কাজে লেগে পড়েন। কিন্তু সেটিও পছন্দ হয়নি কাজ করতে থাকা সাধারণ মানুষের। এমপি কাজে নামার পর অধিকাংশ মানুষ কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে যান।

এমপির ওপর ক্ষোভের কারণ হিসেবে স্থানীয় লোকজন বলছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন এমপি। বাঁধের কাজ আসলেই এমপি তার আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে কাজ করান। ফলে কাজ ভালো হয় না। একটু ঝড়-বৃষ্টি হলেই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ জনগণ। সে কারণে এমপির ওপর উপজেলার অধিকাংশ মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। তার প্রকাশ ঘটেছে আজ।

মহারাজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর দেয়াড়া ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন বলেন, এমপি সাহেব আসলেন ট্রলারে করে। তখন স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করতে আসা জনগণ তার (এমপি) আসার প্রয়োজন নেই বলে কাঁদা ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে এমপি বাঁধের কাজ শুরু করতে গেলে অধিকাংশ জনগণ কাজ ছেড়ে চলে যান। তা না হলে আজ বাঁধের কাজ শেষ হয়ে যেত।

সকাল থেকে ভাঙা বাঁধের কাছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করছিলেন কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম মোহসিন রেজা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম, বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ছোট ভাই জি এম আবদুল্লাহ আল মামুন, বর্তমান নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মাহমুদসহ আরো অনেকেই। ঘটনাটি তারা প্রত্যক্ষ করেছেন। মানুষের এমন আচরণে বিস্মিত হয়েছেন তারা।

উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গেই তারা কাজ করছিলেন, এমন সময় এমপি এসেছেন শুনেই দেখতে পান সাধারণ মানুষ কাঁদা ছুড়ে মারছে। এতে এমপির শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কাঁদা লাগে। চেষ্টা করেও সাধারণ মানুষকে নিবৃত্ত করা যায়নি। প্রায় এক ঘণ্টা পর মানুষ একটু শান্ত হলে এমপি আবার বাঁধের কাছে এসে সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ করে বক্তব্য দিয়ে কিছুক্ষণ সেখানে অপেক্ষা করেন। তবে এরপর বাঁধের কাজ আর হয়নি। এ কারণে আজ বাঁধ পুরোপুরি মেরামত করা যায়নি। তবে ওই ঘটনা না ঘটলে বাঁধ পুরোপুরি মেরামত হয়ে যেত।

তবে ঘটনা অস্বীকার করে এমপি মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘তুমি শুধু নেগেটিভ ঘটনাই শোনো আর কোনো পজিটিভ ঘটনা শোনো না। তুমি আমার বাড়ি নিয়ে নিউজ করে দিলে একেবারে। এসব মিথ্যা কথা বলে না।’

আপনি কাজে নামলে এলাকার মানুষ কাজ বাদ দিয়ে চলে যান কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তুমি শুধু খারাপটা শোনো কেন, ভালোটা শোনো না কেন? আমি এখন তাদের সঙ্গে কাজ করছি আর তাদের খাওয়াচ্ছি।’

এ বিষয়ে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষ একটু সমস্যা করছিল। পরে এমপি সাহেব বক্তৃতা করলে তারা আবার শান্ত হয়ে যায়। তেমন কোনো বড় ঘটনা না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় গত ৮ দিনে করোনা শনাক্ত ৪১.২ শতাংশ

আসাদুজ্জামান : করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল সীমান্তে কড়া নজরদারির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহবান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরার ২২৮ কিলোমিটার সীমান্ত গলিয়ে বৈধপথে আসা মানুষকে কোয়ারেন্টিনে নেওয়া এবং একইসাথে চোরাপথে অবৈধভাবে আসা লোকজনকে আটক করে কোয়ারেন্টিনে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে তার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক। তিনি তথ্য উপাত্ত হাজির করে বলেন, গত ১৬ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১২৬২ জনের। এর মধ্যে করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে ২৭০ জনের। সর্বশেষ ৩১ মে তারিখে ৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষা শেষে পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে ৩৫ জনের। এদিকে, গত ২৩ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত শনাক্তের হার ৪১.২ শতাংশ। গত বছর থেকে এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ৪৭ জন। জেলায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১ হাজার ৬১৯ জন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ১ জুন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে ৫৩ জনের। জেলা প্রশাসক আরও উল্লেখ করেন সাতক্ষীরায় ৮টি পিসিআর ল্যাব এবং র‌্যাপিড টেস্ট কীটের মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নমুনা পজেটিভ ১৩৮ জনের মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ৩৯, কালিগঞ্জে ২৪, আশাশুনিতে ২০ ও শ্যামনগরের ১৫ জন রয়েছেন।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও একটি করোনা ইউনিট গড়ে তোলা হচ্ছে। একইসাথে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এরই মধ্যে একটি করোনা ইউনিট স্থাপন করে তার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এছাড়া জেলার কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল সিবি হাসপাতাল, বুশরা, ন্যাশনাল হাসপাতাল এবং ইসলামী হাসপাতালে অনেক করোনা রোগী রয়েছে। তাদের সাথে যাতে সাধারন রোগীদের সংযোগ না থাকে সে বিষয়ে নিশ্চিত করার জন্য জেলার সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
বর্তমান সময়ে করোনা প্রতিরোধে বেশ কিছু বাধানিষেধ আরোপ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ভোমরা স্থলবন্দরে প্রতিদিন আসা ভারতীয় ট্রাক ও হেলপারদের প্রকাশ্যে বেড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অপরদিকে বিজিবির টহল জোরদার করে চোরাচালানী, মানুষ পাচারকারী ও অবৈধ যাতায়াতকারীদের প্রতিরোধ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বিজিবির জনবল বৃদ্ধি করার জন্য আমরা সরকারের কাছে সুপারিশ করেছি।

‘মিট দ্য প্রেস’ এ আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত। এসময় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী, সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারন সম্পাদক এম কামরুজ্জামানসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা করোনা বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্ন করেন জেলা প্রশাসকের কাছে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সাতক্ষীরায় বর্তমান সময়ে কোভিড সংক্রমনের পাশাপাশি চলছে ইয়াশের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারের দাপট। মানুষ এখানে দুর্ভোগে রয়েছে। তিনি সকলকে মাস্ক ব্যবহার করা এবং আইন লঙ্ঘন করলে জরিমানা করা, একইসাথে পুলিশি টহল জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ৩ জুন তারিখে সব রিপোর্ট সমন্বয় করে করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় লকডাউন ঘোষনা বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঢাকায় টিকটক হৃদয়ের ৪ সহযোগী গ্রেফতার

দেশের খবর : ঢাকার মগবাজারের এক তরুণীকে ভারতে পাচারের পর নির্যাতনের ঘটনায় অন্তত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদের একজন হলেন আশরাফুল মণ্ডল ওরফে রাফি। ভারতের কয়েকটি শহরে তিনি নিজেকে ভারতীয় ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেন। ২৯ বছরের এই যুবক ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতে নারী পাচারে জড়িত। তার পিতার নাম আইন উদ্দিন মণ্ডল। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার পশ্চিমপাড়া।

আটককৃত অপর যুবকের নাম আব্দুর রহমান শেখ। তবে ভারতে তিনি আরমান নামে বেশি পরিচিত। টিকটক হৃদয় এবং রাফি চক্রের অন্যতম সদস্য রহমান শেখের বয়স মাত্র ২৫ বছর। তার পিতার নাম জামাল শেখ। গ্রামের বাড়ি যশোরের বেনাপোল থানার পোড়াবাড়ি। বাকি ৩ জনের বিস্তারিত নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। আজ এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফে সংবাদ সম্মেলনে আটককৃতদের বিস্তারিত প্রকাশ করা হতে পারে। ঢাকার বাইরে থেকে আটকের পর তাদের ঢাকার একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান কার্যালয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রসঙ্গত, ভারতের বেঙ্গালুরুতে একটি পাচারকারী চক্রের হাতে বাংলাদেশি এক তরুণীর যৌন নিপীড়নের ভিডিও ফাঁসের পর তোলপাড় শুরু হয়। একপর্যায়ে নিপীড়ক ৩ যুবক এবং ১ কিশোরীকে গ্রেফতার করে ভারতীয় পুলিশ। এদের সবাই বাংলাদেশি। ঘটনার পর রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় নামের এক যুবকের নাম বেরিয়ে আসে। যিনি টিকটক অ্যাপসে ভিডিও বানানোর আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ভারতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নারী পাচার করে আসছিলেন। টিকটক হৃদয় ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন নির্যাতনের শিকার তরুণীর বাবা।

সূত্র বলছে, টিকটক হৃদয়ের নারী পাচার চক্রের মূল হোতা আশরাফুল মণ্ডল ওরফে রাফি। তিনি একাই এখন পর্যন্ত কয়েকশ’ তরুণীকে ভারতের পতিতালয়ে পাচার করেন। বছরের বেশিরভাগ সময় তিনি ভারতেই অবস্থান করেন। রাফির হাতে ভারতের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জাল কাগজপত্র রয়েছে।

সূত্র বলছে, ভারতীয় পুলিশের হাতে আসা একটি ভিডিওতে রাফিকে কোকেন সেবন করতে দেখা যায়। এর সূত্র ধরে তাকে চিহ্নিত করা হয়। তিনি ভারতে পাচারের শিকার তরুণীদের কোকেনসহ বিভিন্ন মাদক সেবনে বাধ্য করেন। কারণ উচ্চমাত্রায় মাদক সেবনের পর পাচারের শিকার নারীদের অনেকেই বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। হিতাহিত জ্ঞানশূন্য অবস্থায় দিনের পর দিন তারা মুখ বুজে পাশবিক নির্যাতন সহ্য করে যান। একপর্যায়ে তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

পুলিশ বলছে, টিকটক হৃদয়ের হাতে ভারতীয়দের ব্যবহৃত জাল আধার কার্ড এবং রেশন কার্ড পাওয়া গেছে। এছাড়া ভুক্তভোগী তরুণীকেও একটি আধার কার্ড করে দেয় ভারতীয় অংশের দালালরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest