সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষের আবাসন, খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার নিশ্চিতে ১১ দফা দাবিসাতক্ষীরার সাংবাদিকপুত্র কাজী ফাইম আব্দুল্লাহর এইচএসসিতে গোল্ডেন এ-প্লাস অর্জনসাতক্ষীরায় নির্মাণাধীন ভবনের সাব-কন্টাক্টরের কাছে চাঁদা দাবি : থানায় অভিযোগতালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: সার সংকট, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে গুরুত্বারোপদেবহাটায় শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে খেলাভিত্তিক সেশন পরিদর্শনসাতক্ষীরায় আবাসিক হোটেল-রেস্তোরাঁ – বেকারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময়সাতক্ষীরায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী হ%ত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতারশ্যামনগরে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মানববন্ধনএবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ভারতে পাচারকালে সাতক্ষীরায় বিপুল পরিমাণে জন্মনিয়ন্ত্রণ ট্যাবলেট উদ্ধার

আসাদুজ্জামান : ভারতে পাচারকালে সাতক্ষীরার আলীপুর থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার পিস জন্মনিয়ন্ত্রন ট্যাবলেট আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

এ সময় গ্রেফতার করা হয় সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছার জাহাঙ্গীর আলম ও আলীপুরের সবুজ সরদার নামের দুই চোরাচালানীকে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোঃ ইয়াসিন আলম জানান, সীমান্ত এলাকায় পুলিশের টহলের সময় গোপন সূত্রে আমরা জানতে পারি আলীপুর গ্রামের সবুজ সরদারের বাড়িতে বিপুল সংখ্যক জন্মনিয়ন্ত্রণ ট্যাবলেট জড়ো করে রাখা হয়েছে। যেকোন সময় চোরাপথে তা ভারতে পাচার করা হতে পারে।

তিনি জানান, খবর পেয়ে মঙ্গলবার ভোরে সবুজ সরদারের বাড়ি ঘেরাও করে এসব ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। তার ঘরের ভেতর থেকে ১২ হাজার পাতার সুখী ট্যাবলেট বের করে আনা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইয়াসের প্রভাবে সাতক্ষীরায় ঝড়ো হাওয়া, অরক্ষিত বেঁড়িবাধ আতঙ্কে মানুষ

আসাদুজ্জামান : ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর প্রভাবে সাতক্ষীরায় ঝড়ো হাওয়ার সাথে সাথে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে। সুন্দরবন সংলগ্ন নদীগুলিতে জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আনার আগাম ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা বহনযোগ্য সম্পদ নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাবার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। কয়েকটি স্থানে বেঁড়িবাধের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে বালির বস্তা দিয়ে তা বন্ধের জন্য প্রানপন চেষ্টা চালাচ্ছেন।
উপকূলীয় এলাকা আশাশুনির প্রতাপনগর, শ্রীউলা, আনুলিয়া, খাজরা এবং শ্যামনগরের পদ্মপুকুর, গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, আটুলিয়া, কৈখালি, ঈশ^রীপুর, রমজাননগর, কাশিমারিসহ সুন্দরবন লাগোয়া মুন্সিগঞ্জ হরিনগর এলাকায় মাইকিং করে জনগনকে সতর্ক করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে ১৪৫ টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে শ্যামনগর উপজেলার ১০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্রের ধারন ক্ষমতা ৭৫ হাজার বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু জার গিফারি। এ ছাড়াও জেলায় দেড় হাজার স্কুল কলেজ মাদ্রাসাও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। কোভিড পিরিয়ডে নিরাপত্তা বজায় রেখে তাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে বলেও জানান ইউএনও।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধগুলি চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার বেড়িবাঁধের ৪০ টি পয়েন্ট খারাপ অবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যে খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারের চাপে সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার নাপিতখালি, পাশ্বেমারী ও ৩ নং সোরাসহ কয়েকটি স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে পানি ওভার ফ্লো হয়ে চিংড়ি ঘের ও বসতি এলাকায় ঢুকতে থাকলে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে বালির বস্তা দিয়ে তা বন্ধের জন্য প্রানপন চেষ্টা চালাচ্ছেন। পূর্নিমার ভরাকাটাল ও পূর্নচন্দ্র গ্রহনের সময় ইয়াস আঘাত হানলে জলোচ্ছাসের আশংকা করছেন উপকূলবাসী। এর ফলে বেড়িবাঁধগুলি ভেঙ্গে পানিতে সয়লাব হতে পারে উপকূলের জনপদ।
অপরদিকে, পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন বিভাগের ৮ টি টহল ফাঁড়ির সব সদস্যকে নিরাপদে সরে যাবার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সহকারি বন সংরক্ষক এমএ হাসান বলেন, ইয়াস আঘাত করলে এবং অস্বাভাবিক জলোচ্ছাস হলে তাদেরকে উদ্ধার করে আনার জন্য নৌযানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ বিদ্রোহ ও মানবতার কবি নজরুলের জন্মদিন

সাহিত্য ও সংস্কৃতি : বেঁচেছিলেন ৭৭ বছর। জন্মের পর থেকে মাত্র ৪৩ বছর বয়স পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবন কাটিয়েছেন। এর মধ্যে সাহিত্য রচনার কাল ছিল মাত্র ২৪ বছর। তারপরও বাঙালির জীবনে নজরুলের দিগন্তবিস্তারি প্রভাব! কেন? গবেষকরা বলছেন, সাহিত্য রচনার সময়কালের ব্যাপ্তি যাই হোক না কেন নজরুলের প্রভাব শতাব্দী পেরিয়ে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

মানবতাবাদী কবি নজরুল একুশ শতকে এসে হয়ে উঠেছেন মনুষ্যত্বের কবি। যখন দেশে দেশে সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, ধর্মীয় কুসংস্কার বাড়ছে। তার বিপরীতে, অসাম্প্রদায়িক ও মানবতার কবি নজরুল চর্চার বিকল্প নেই।

আজ মঙ্গলবার ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮। সাম্যের কবি, বিরহ-বেদনার কবি, বিদ্রোহের কবি, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মবার্ষিকী। জাতীয় কবির জন্মদিন উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেছেন, বাংলা সাহিত্য-সংগীতে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান অনস্বীকার্য। ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি গেয়েছেন মানবতার জয়গান। নজরুলের লেখনী থেকেই আমরা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং বাঙালির মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রেরণা পেয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেছেন, জাতীয় জাগরণের অন্যতম পথিকৃত্ কবি নজরুল ছিলেন বাঙালি জাতির রাজনৈতিক মুক্তি-সংগ্রামের অকুতোভয় সৈনিক। অসামান্য ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কবি নজরুলের আজীবন সাধনা ছিল সমাজের শোষিত ও নিপীড়িত মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি এবং মানুষের সামাজিক মর্যাদার স্বীকৃতি অর্জন। তার সাহিত্যকর্মে উচ্চারিত হয়েছে পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের বাণী।

নজরুল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তার লেখনী ধূমকেতুর মতো আঘাত হেনে জাগিয়ে দিয়েছিল ভারতবাসীকে। নজরুল তার কবিতা, গান, উপন্যাসসহ অন্যান্য লেখনী ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পরাধীন ভারতে বিশেষ করে অবিভক্ত বাংলাদেশে সাম্প্র্রদায়িকতা, সামন্তবাদ, সাম্রাজ্য ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বলিষ্ঠ ও সোচ্চার কণ্ঠ ছিলেন। সে কারণে ইংরেজ সরকার তার গ্রন্থ ও রচনা বাজেয়াপ্ত করেছে এবং কারাদণ্ড দিয়েছে। কারাগারেও বিদ্রোহী নজরুল টানা ৪০ দিন অনশন করে বিদেশি সরকারের জেলজুলুমের প্রতিবাদ করেছিলেন।

রবীন্দ্রসৃষ্ট বিশাল জগতের পাশে কবি নজরুল গড়ে তোলেন নিজস্ব জগত্। সেখানে ফুটিয়ে তোলেন স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ নজরুলের সদম্ভ অভ্যুদয়কে এই বলে স্বাগত জানিয়েছিলেন, ‘আয় চলে আয়রে ধূমকেতু, আঁধারে বাধ অগ্নিসেতু’। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত কাজী নজরুল ইসলাম বিশ শতকের বিশ ও ত্রিশের দশকে উপমহাদেশের অবিভক্ত বাংলার সাংস্কৃতিক জগতে সবচেয়ে বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

তার কবিতা ‘চ্ল চল্ চল’ বাংলাদেশের রণসংগীত। দ্রোহ, প্রেম, মানবতা কবির রচনাকে করেছে চিরন্তন, নিয়ে গেছে গণমানুষের কাছাকাছি। কবিতায় বলেছেন, ‘গাহি সাম্যের গান/ মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান…’। কবির এমন অজস্র রচনা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর বাঙালিদের দিয়েছে শক্তি ও জুগিয়েছে প্রেরণা। এখনো সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে, সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে তার রচনা আমাদের গভীরভাবে উদ্দীপ্ত করে।

কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম বাংলা ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬/১৮৯৯ ইং। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে। তার পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ, মা জাহেদা খাতুন। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় দুঃখ-দারিদ্র্য ছিল তার নিত্যসঙ্গী। তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া। পিতার অকাল মৃত্যুতে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তিনি শিশু বয়সেই মক্তবে শিক্ষকতা, হাজি পালোয়ানের মাজারে খাদেম এবং মসজিদের মুয়াজ্জিনের কাজ করেছেন। যা পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্যে ইসলামী ঐতিহ্যের সার্থক ব্যবহারে এ সম্পৃক্ততা খুব ফলপ্রসূ হয়েছে।

১৯৭২ সালের ২৪ মে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে কবি সপরিবারে বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশ সরকার কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করেন এবং জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা দেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশেই ছিলেন। তার জীবনকাল ৭৭ বছর হলেও ১৯৪২ সালের জুলাই মাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর দীর্ঘ ৩৪ বছর ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি অসহনীয় নির্বাক জীবন কাটিয়েছেন।

জন্মদিনে যত আয়োজন:

আজ সকাল ৯টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে আওয়ামী লীগ। এছাড়াও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবে। এদিকে, নজরুল একাডেমি জাতীয় কবির জন্মদিন উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

এদিকে, নজরুলজয়ন্তীতে এ বছর ছায়ানটের নিবেদন ‘শান্তির জয় হোক’। নজরুলের মানবতা, স্বদেশ ও উদ্দীপনামূলক গান ও কবিতা দিয়ে সাজানো হয়েছে এ আয়োজন। অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে আজ মঙ্গলবার, বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়, ছায়ানটের ফেসবুক গ্রুপ (facebook.com/groups/chhayanaut) ও ইউটিউব চ্যানেলে (youtube.com/ ChhayanautDigitalPlatform)।

এছাড়া, বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে ‘কবি স্মরণ’-এর আয়োজন করেছে। আজ মঙ্গলবার রাত ৯টায় সংগঠনের ফেসবুক পেইজে অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখা যাবে। ৯টি সদস্য সংগঠনের ৯ জন শিল্পী এ অনুষ্ঠানে যুক্ত থাকবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইসরায়েলে ফিলিস্তিনিদের গণগ্রেপ্তার করা হচ্ছে

বিদেশের খবর : ইসরায়েলে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের গণহারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে এ কথা জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযোগ, তারা শেখ জাররাহ, আল আকসা ও গাজায় বিভিন্ন সমাবেশ বা প্রতিবাদ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।

মিডল ইস্ট আই জানায়, রোববার ইসরায়েলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ৪৮ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে ইসরায়েলি পুলিশ অন্তত ৫০০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে।

গতকাল সোমবার ‘আইনশৃঙ্খলা’ নামের ওই অভিযান শুরু হয়। ইসরায়েলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমির ওহানা এবং দেশটির পুলিশপ্রধান কোবি সাবতাই ওই অভিযান পরিকল্পনায় স্বাক্ষর করেছেন।

ইসরায়েলি পুলিশের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইসরায়লি পুলিশ এই গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছেন। গত ৯ মে থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত এক হাজার ৫৫০ জনের মতো ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের গ্রেপ্তার করতে সোমবার রাতভর অভিযান চলছে বলেও জানায় ইসরায়েলি পুলিশ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঢাকায় ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সন্দেহে একজনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে তিন দিন আগে মারা যান এক রোগী। মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ওই রোগী অন্যান্য রোগের পাশাপাশি মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত ছিলেন।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে সংক্রমিত একজন রোগী এখনো বারডেম হাসপাতালে ভর্তি আছেন। শনাক্ত হওয়া আরেকজন রোগী অন্য হাসপাতালে চলে গেছেন।

মঙ্গলবার (২৫ মে) সকালে বারডেম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভর্তি থাকা রোগীর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক নয়। তাকে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালে চলতি মাসে দুজনের শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত করা হয়। সম্প্রতি ভারতে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে সতর্ক বার্তা জারি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এমন উদ্বেগের মধ্যে রোগটি দেশে শনাক্ত হয়েছে।

বারডেম হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. লাভলি বাড়ৈ গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের ল্যাবে দুজনের শরীরে মিউকরমাইকোসিস শনাক্ত হয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। বারডেমের ল্যাবরেটরিতে করোনা রোগীর শরীরে এবারই প্রথম রোগটি শনাক্ত হয়।

ডা. লাভলি বাড়ৈ জানান, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে অবস্থা গুরুতর হতে পারে। তাই, তাদের সতর্কভাবে চিকিৎসা দিতে হয়।

জানা গেছে, গত ৮ মে ৪৫ বছর বয়সী এক রোগীর শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরে গত ২৩ মে ৬০ বছর বয়সী আরেকজনের দেহে রোগটি শনাক্ত হয়।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছত্রাক–জাতীয় এক রোগ, যা প্রধানত কভিড রোগীদের মধ্যে ছড়াচ্ছে। মাত্রা ছাড়া স্টেরয়েড নিলে, বেশি দিন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকলে অথবা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের এই ছত্রাকের শিকার হওয়ার আশঙ্কা বেশি। শাকসবজি, মাটি, ফল, একই মাস্ক প্রতিদিন পরা থেকে এই রোগ ছড়ায় বলে সতর্ক করা হয়েছে।

উপসর্গ হলো জ্বর, মাথাব্যথা, নাক ও চোখ লাল হয়ে যাওয়া, দৃষ্টি কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, রক্তবমি ইত্যাদি।

ভারতে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৮০০ জনের দেহে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কালো ছত্রাক পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ২১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারতের তামিলনাড়ু, গুজরাট, উড়িষ্যা, রাজস্থান ও তেলেঙ্গানা—এই পাঁচ রাজ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ভারতে ছড়িয়ে পড়া ব্ল্যাক ফাঙ্গাস যাতে বাংলাদেশে না ছড়াতে পারে সেজন্য সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে একটি গাইডলাইনও তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আতঙ্ক না ছড়িয়ে সতর্ক হতে বলেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভারতের ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বাংলাদেশের জন্য নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যে এই ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হলে করণীয় কী হবে, চিকিৎসা ব্যবস্থা কী হবে তার বিস্তারিত গাইডলাইন তৈরিতে। আর সারাদেশে সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান ডা. মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উৎপত্তিস্থল নিয়ে নানা কথা আছে। তবে এটা এখন প্রায় নিশ্চিত যে মাটি এবং গাছপালা থেকে ছাড়ায়। তবে কেউ কেউ বলছেন করোনা চিকিৎসায় যে স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয় সেখান থেকে ছাড়ায়। তাহলে ভারতে কীভাবে এলো? সংকটের কারণে ভারতে যে ইন্ড্রাষ্ট্রিয়াল অক্সিজেন ব্যবহার করা হয়েছে সেখান থেকে এটা ছাড়াতে পারে।

তার মতে, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সুস্থ সবল মানুষের ক্ষতি করতে পারে না। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের ক্ষতি করে। ডা. শহিদুল্লাহ বলেন, গাইড লাইন তৈরির জন্য স্বাস্থ্য অধিপ্তরের একটি কমিটি আছে। করোনা শুরুর পর থেকে তারা এ পর্যন্ত আটটি বিভিন্ন ধরনের গাইড লাইন তৈরি করেছেন। টেকনিক্যাল কমিটি তাদের কাজের তদারকি করে। আমরা তাদের সঙ্গে এ নিয়ে বসব।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফরহাদ হোসেন বলেন, করোনা চিকিৎসায় স্টেরয়েড ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে ভারতে। আমাদের এখানেও হচ্ছে। স্টেরয়েড রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে রোগী ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সনাক্ত করার ব্যবস্থা আছে। আর কিছু উপসর্গ দেখেও এটা চিহ্নিত করা যায়। করোনা রোগির নাক দিয়ে যদি রক্ত পড়ে, নাকে ঘা হয়ে যায়, চোখে অস্পষ্ট দেখে, ফুসফুসে একবার ইনফেকশন হয়ে কমে যাওয়ার পর যদি আবার বাড়ে তাহলে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সন্দেহ করা যায়। আমরা চিকিৎসকেরা এখন এদিকে খেয়াল রাখছি।

তার মতে, এটা নিয়ে আতঙ্ক ছাড়নোর কোনো কারণ নাই। এখনো ক্লিনিক্যালি বাংলাদেশে কোনো রোগীর শরীরে এই ছত্রাক পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতা জরুরি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরাসহ দেশের সীমান্তবর্তী ৭ জেলায় করোনা সংক্রমণ বেড়েছে

অনলাইন ডেস্ক : সাতক্ষীরাসহ বাংলাদেশে সীমান্তবর্তী জেলা আছে ৩২টি। এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত আছে ৩০ জেলার। এই ৩০ জেলার মধ্যে সম্প্রতি নতুন করে সংক্রমণ বেড়েছে ৭ জেলায়। জেলাগুলো হচ্ছে যশোর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিলেট। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের তালিকায় আছে চাপাইনবাগঞ্জ, সাতক্ষীরা এবং রাজশাহী। তবে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট কিনা তা এখনও বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনরা। তবে তারা সংক্রমণ বাড়ার পেছনে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঈদ যাত্রাকেই দায়ী করছেন।

দেশের সাত জেলায় ঈদের পর সংক্রমণের হার কম থাকলেও চার-পাঁচদিন আগে থেকে তা বাড়তে শুরু করেছে। রাজশাহী বিভাগের চাপাইনবাবগঞ্জে ২২ শতাংশ থেকে ছয়দিনের ব্যবধানে ৫০ শতাংশের বেশি দাঁড়িয়েছে সংক্রমণের হার। গত ১৮ মে থেকে এই সংক্রমণের হার বেড়েছে বলে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। পার্শ্ববর্তী জেলা রাজশাহীতে দাঁড়িয়েছে ৩৩ শতাংশের কাছাকছি। অপরদিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় গতকাল সোমবার ৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শতকরা হিসেবে যা ৪১% এর বেশি।

উচ্চ সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাতদিন লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার দিবাগত রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে এই লকডাউন কার্যকর হবে। এই সাতদিন জেলা থেকে কেউ বের হতে পারবেনা বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ। বর্তমানে সারাদেশে একটি জেলাই আছে বিশেষ এই লকডাউনের আওতায়।

জেলা পুলিশ সুপার এএইচএম আবদুর রকিব জানান, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনকে সহায়তায় মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সুপার বলেন, আগামীকাল থেকে জেলায় প্রবেশের সকল পথ সিলগালা করা হবে যাতে কেউ জেলায় প্রবেশ করতে এবং জেলা থেকে বাইরে যেতে না পারে। পাশাপাশি সর্বাত্মক কঠোর লকডাউন মেনে চলতে বাধ্য করা হবে জনগণকে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী মনে করছেন এই সংক্রমণের হার বেড়েছে সাস্থ্যবিধি না মানার কারণে। তিনি বলেন, এক কোথায় বলতে গেলে চাপাইনবাবগঞ্জের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বেশ কিছু লোক জেলার বাইরে ধান কাটতে যায়। তারাও ফিরে এসেছে। আবার অনেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন, এরাও ফিরে চলে এসেছে। শিবগঞ্জ আর চাপাইনবাবগঞ্জ সদরের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনও বালাই নেই। জেল জরিমানা সবই করা হয়েছে কিন্তু মাস্ক পড়তে চায় না।

তবে ভারতের সঙ্গে সীমান্তজনিত এলাকা হওয়ার কারণে সংক্রমণ বাড়ার কারণ খুব কম বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানি বেশি হয় আর ক্রস বর্ডার বাণিজ্য মাত্রাতিরিক্ত বলে মনে হচ্ছে না। স্থানীয়ভাবেই এই সংক্রমণ বেড়েছে বলে আমার ধারণা। আমরা বিজিবির সঙ্গে কথা বলেছি সীমান্ত দিয়ে মানুষ যাতে কম পারাপার হয় সেই বিষয়ে আমরা তাদের জানিয়েছি।

তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে এখনই সীমান্তজনিত যাতায়াতের কারণে বেড়েছে কিনা বলা যাবে না। চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে ৪২ জনের নমুনা ঢাকায় জিনোম সিকোয়েন্স করার জন্য পাঠানো হয়েছে।

ঈদের ছুটির কারণে ১২ দিনে ঢাকা থেকে প্রায় ১ কোটি মোবাইল গ্রাহক গেছে অন্যত্র। মোবাইল অপারেটর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই সংখ্যা জানা যায়। তার মধ্যে প্রায় ৭৯ লাখ ফেরত এসেছে ২৩ মে পর্যন্ত। ঈদের সময় সরকাররের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ থাকায় দুরপাল্লার যানবাহন ছিল বন্ধ। গত ২ মে থেকে দেশের ফেরিঘাটগুলোতে দেখা যায় ঘরমুখো মানুষের চাপ। জনস্রোত ঠেকাতে ফেরি বন্ধ ঘোষণা করে শুধু মালবাহী পণ্য নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে তাতেও বাধে বিপত্তি। জনস্রোত ঠেকাতে বিজিবি মোতায়েন করা হলেও তাতে কোনও কাজ হয়নি। ফলে আবার ফেরি চালু করে দিতে অনেকটা বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। সাধারণ মানুষ যে কোনও উপায়ে ঢাকা ছাড়ছেন। কেউ ট্রাকে, কেউ পিকআপে কিংবা অনেকে পায়ে হেঁটেই রওনা হচ্ছেন গন্তব্যের দিকে। মানুষের এমন নাড়ির টানে বাড়ি যাওয়ার প্রবনতায় ঈদের পর সংক্রমণ বাড়ার শংকা করেছিলেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।

তখন কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় সংক্রমণ একটু বাড়বে। তৃতীয় ঢেউ হবে কি না সেটা এখন বলা যাবে না। এখন সাস্থ্যবিধি না মানার কারণে যে ক্ষতি তা হবে আমাদের। সেটা আমরা ১৫ দিন পর দেখতে পারবো। ১৫ দিন পর বাড়বে সংক্রমণ। তৃতীয় ঢেউ বলতে গেলে অনেক কিছু হিসেব নিকেশ করে বলতে হবে।’

এদিকে রাজশাহীর সংক্রমণের হার এক দিনের ব্যবধানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ শতাংশে। একদিন আগেও ছিল তা ২২ শতাংশ। চাপাইনবাবগঞ্জের মানুষের স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অবাধ যাতায়াতের কারণে রাজশাহীর সংক্রমণের হার বেড়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. মো. কাইয়ুম তালুকদার। তিনি বলেন, রাজশাহীর অবস্থা চাঁপাইনবাবগঞ্জের মতো খারাপ না, তবে খারাপের দিকে। আমরা সব জায়গায় প্রস্তুতি নিচ্ছি। অন্য জেলা থেকে যারা আসছে তাদের নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ করে চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে এখানে যেন কেউ আসতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। মানুষ যাতে স্বাস্থ্যবিধি পালন করে সেজন্য নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

বেড়ের যাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা অপ্রত্যাশিত না, এমনটা হবে আমরা আগেই ধারণা করেছিলাম। সীমান্তবর্তী এলাকা আরও আছে সবখানে তো একই পরিস্থিতি না। মূল কথা হচ্ছে মানুষের অসচেতনতা। ঢাকা থেকে যখন এতগুলো মানুষ অন্য জেলায় গেল সেখানে অবশ্যই সংক্রমিত হওয়ার সুযোগ থাকে এবং ঈদের পর থেকে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের শরীরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। তবে জিনোম সিকোয়েন্সিং শেষ হলে আরও রোগী পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

অন্যদিকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে সাতক্ষীরায় ফিরে আসা ৩৩৭ বাংলাদেশি নাগরিকের নমুনা পরীক্ষা শেষে ১৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের নমুনা আইইডিসিআর-এ পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট আসার পর জানা যাবে তাদের শরীরে ভারতীয় ভেরিয়েন্ট ভাইরাস আছে কিনা। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার তালিকায় আছে এই সীমান্তবর্তী জেলাও। সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন সাফায়াত জানান, ভারত থেকে আসা ৩৩৭ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে ১৭ জন করোনা রোগীকে রেখে বাকি ৩২০ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। করোনা আক্রান্তদের সাতক্ষীরার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আলাদা ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ‘বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা ক্ষীণ

বিদেশের খবর : বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা ক্ষীণ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মনোয়ার হোসেন বলেন, “ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িষা রাজ্যে এটি আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা ক্ষীণ। খুলনা উপকূলে এর কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে কমবেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।”

আবহাওয়াবিদ আরো জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৫২৫ কিলোমিটার, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৯০ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এটি আরও শক্তিমাত্রা অর্জন করতে পারে।

এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার। ঝড়ো হাওয়ার আকারে এর গতি ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া সাগর বিক্ষুব্ধ অবস্থায় রয়েছে।

এরই মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থান করা সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিলেও ইয়াসের গতিপথ দেখে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান আশা করছেন, ঝড়টি এই পথে এগোলে বাংলাদেশের ক্ষতির ঝুঁকি কমবে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ আভাস দিয়েছে, মঙ্গলবার প্রথম প্রহরেই ইয়াস শক্তি বাড়িয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে, তখন এর কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারে উঠতে পারে। আর যখন এটি উপকূলে আঘাত হানবে, তখন এর গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার, যা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তি বাড়িয়ে ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ রূপ নিয়ে বুধবার দুপুর নাগাদ সাগর দ্বীপ ও প্যারাদ্বীপের মধ্য দিয়ে উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে। তখন বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ১৬৫ কিলোমিটারে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার সাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপ রোববার তা নিম্নচাপে রূপ নেয়। সোমবার সকাল ৬টায় গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এ পরিণত হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেশে দুজনের শরীরে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ শনাক্ত

অনলাইন ডেস্ক : মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন দেশে এমন অন্তত দুজনের শরীরে এবার ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালে তাদের শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত করা হয়। সম্প্রতি ভারতে বিরল ছত্রাকজনিত এই রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বারডেম হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, গত ৮ মে ৪৫ বছর বয়সী এক রোগীর শরীরে মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এরপর গত রোববার ৬০ বছর বয়সী আরেকজনের শরীরেও ছত্রাকজনিত এ রোগটি শনাক্ত হয়।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, যাদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল তাদের মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest