সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষের আবাসন, খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার নিশ্চিতে ১১ দফা দাবিসাতক্ষীরার সাংবাদিকপুত্র কাজী ফাইম আব্দুল্লাহর এইচএসসিতে গোল্ডেন এ-প্লাস অর্জনসাতক্ষীরায় নির্মাণাধীন ভবনের সাব-কন্টাক্টরের কাছে চাঁদা দাবি : থানায় অভিযোগতালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: সার সংকট, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে গুরুত্বারোপদেবহাটায় শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে খেলাভিত্তিক সেশন পরিদর্শনসাতক্ষীরায় আবাসিক হোটেল-রেস্তোরাঁ – বেকারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময়সাতক্ষীরায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী হ%ত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতারশ্যামনগরে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মানববন্ধনএবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন

সাতক্ষীরায় শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা : জামিন পেলেন ৭ আসামি

ডেস্ক রিপোর্ট : ২০০২ সালে সাতক্ষীরায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ৭ আসামিকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

জামিন পাওয়া আসামিরা হলেন- গোলাস রসুল, আব্দুস সামাদ, আব্দুস সাত্তার, জহিরুল ইসলাম, রাকিব, শাহাবুদ্দিন ও মনিরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৫ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চে এ আদেশ দেন। আদালতে জামিন আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট গাজী মহসীন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর।

এ মামলায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তারসহ ১৮ জন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। তাদের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি করে আদেশ দেয়া হয়। যশোর-সাতক্ষীরা সড়কে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ওইদিনই কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন বাদি হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় তদন্ত শেষে হাবিবুল ইসলামসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

অভিযোগে বলা হয় শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা হয়েছে। এরপর মামলার আসামি রাকিবের আবেদনে ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। একইসঙ্গে রাকিবের ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। পরে রাকিবকে জামিন দেয়া হয়। রাকিবের আবেদন ছিল, যখন ঘটনার কথা বলা হয় তখন অর্থাৎ ২০০২ সালে তার বয়স ছিল ১০ বছর।

সুতরাং তার বিচার হতে হলে শিশু আইনে হবে। বড়দের সঙ্গে দায়রা জজ আদালতে করা যাবে না। গতবছর ৮ অক্টোবর ওই রুল খারিজ করে রায় দেয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাকিবুর। এ আবেদনে আপিল বিভাগ তিনমাসের মধ্যে নিম্ন আদালতে বিচার সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। এরপর বিচার শেষে সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ৪ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় সকল আসামিকে সাজা দিয়ে রায় দেয়। রায়ে হাবিবুল ইসলামকে কয়েকটি ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তারসহ অপরাপর আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিতর্কিত বক্তা মুফতি আমির হামজা গ্রেফতার

দেশের খবর : ওয়াজের মাধ্যমে ধর্মের অপব্যাখ্যা ও উগ্রবাদ ছড়ানোর অভিযোগে আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একটি টিম।

সোমবার (২৪ মে) দুপুরে কুষ্টিয়ায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটে তদন্তাধীন একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলায় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে আজ কুষ্টিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তাকে সিটিটিসি কার্যালয়ে আনা হচ্ছে।

ধর্মের অপব্যাখ্যা ও উগ্রবাদ ছড়ানোর বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট সূত্রে জানা যায়, মুফতি আমির হামজা ওয়াজ-মাহফিলে ইসলামের নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন। ইউটিউবে প্রকাশিত তার বেশকিছু বক্তব্য উগ্রবাদ ছড়াচ্ছে। যা শুনে কোমলমতি কিশোর-তরুণরা জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট হচ্ছে। সম্প্রতি হেফাজতের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অভিযানের কারণে আত্মগোপনে ছিলেন আমির হামজা।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ৫ মে সংসদ ভবন এলাকা থেকে তলোয়ার নিয়ে সংসদ ভবনে হামলা চালানোর চেষ্টায় সাকিব নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। সাকিবকে গ্রেফতারের পর শেরেবাংলা নগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় সাকিবসহ আলী হাসান ও মাওলানা মাহমুদুল হাসান গুনবীকে আসামি করা হয়।

এছাড়া সাকিবের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সাকিবের মোবাইলে আলী হাসান উসামা, মাহমুদুল হাসান গুনবী, আমির হামজা, হারুন ইজহার প্রমুখ ব্যক্তির উগ্রবাদ সংবলিত ভিডিও পাওয়া যায়। যা দেখে সে উগ্রবাদে আসক্ত হয়।

এর আগে গত ১৫ মে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট জানিয়েছিল, তলোয়ার নিয়ে সংসদ ভবনে হামলা চালানোর চেষ্টাকারী সাকিব নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক জানায়, এক ইসলামী বক্তার নির্দেশে সে এই পরিকল্পনা করেছিল। কয়েকজনের ওয়াজ ও বক্তব্য শুনে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হয় বলে জানায় সে।

যা বলছে আমির হামজার পরিবার : আমির হামজার পরিবারের দাবি, কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের বাড়ি থেকে বিকেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ৬/৭ জন মুফতি আমির হামজাকে তুলে নিয়ে যায়। প্রথমদিকে জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

আমির হামজার দাদা জান মোহাম্মদ বলেন, মুফতি আমির হামজাকে সাদা পোশাকে আসা কিছু মানুষ প্রশাসনের পরিচয়ে নিজ বাড়ি থেকে নিয়ে গেছে। আমির হামজা আজকেই বাড়িতে তার মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল।

আমির হামজার স্ত্রী তামান্না সুলতানা জানান, বিকেল ৫টার দিকে আমার শ্বশুর বাড়িতে ৬/৭ জন সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তি প্রবেশ করেন। কোনো কিছু বলার আগেই তাকে হাতে হ্যান্ডক্যাপ পরিয়ে কালো একটি হাইচ গাড়িতে তোলেন। পরে ওই পোশাকধারীরা গাড়িতে উঠে তাদের কালো পোশাক গায়ে দিয়ে গাড়ি টান দেন। তাদের কাছে রাইফেলসহ অস্ত্রও রয়েছে।

উল্লেখ্য, অল্প বয়সেই কোরআনের হাফেজ হন মুফতি আমির হামজা। এরপর তিনি কওমি
মাদরাসা থেকে মুফতি হন। পাশাপাশি আলিয়া মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিমে অত্যন্ত ভালো ফলাফল অর্জন করেন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া থেকে আল-কুরআন এর ওপর অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
খাদ্য সহায়তা চেয়ে ইউএনওর হটকারিতায় শাস্তি পাওয়া ফরিদ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন

ভিন্নরকম খবর : সরকারি সহায়তা চেয়ে ৩৩৩ হটলাইনে কল দেয়াই কাল হল বৃদ্ধ ফরিদ আহমেদ শেখের (৬৫)। লোক লজ্জার ভয়ে অনেকটা গোপনেই ফোন দিয়েছিলেন ত্রাণের জন্য। কিন্তু টের পাননি কী হতে চলেছে এর পরিণতি।

ফরিদ আহমেদ শেখ বলেন, আমি জীবনেও ভাবি নাই এ বয়সে এ দিন দেখবো। দুই বার স্ট্রোকের পর চোখ ও মাথায় সমস্যা শুরু হয়। নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে না পারায় চোখ দুটো প্রায় নষ্ট হওয়ার পথে। অল্প বেতনে একটি চাকরি করলেও চোখের জন্য কাজ করতে পারছি না। কিন্তু পেট তো এত কিছু মানে না। প্রতিমাসে ছেলের জন্য ৮ হাজার টাকা লাগে। সেই সাথে সংসার খরচতো আছেই। অর্থাভাবে মেয়ের পড়াশুনা বন্ধ।

তিনি বলেন, কী করবো ভাবতে পারছিলাম না। তাছাড়া হাতও তো পাততে পারি না মানুষের কাছে। কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে রেডিও’র মাধ্যমে জানতে পেরে ৩৩৩ হটলাইনে ফোন দেই। কিন্তু সহযোগিতার বদলে দিতে হলো জরিমানা। তার সাথে মিলল লাঞ্ছনা, অপমান। এখন সমাজে মুখ দেখাবো কেমনে সেটাই ভাবতাছি। বলতাছে, যে টাকা খরচ হইছে তা দিব সরকার। কিন্তু আমার মানসম্মান কি দিতে পারবো?

রোববার (২৩ মে) দুপুরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন ফরিদ আহমেদ শেখ। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩৩৩ নম্বরে ফোন দিয়ে সরকারি সহযোগিতা চাওয়ায় তাকে শাস্তিস্বরূপ ১০০ জনকে খাদ্য সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরা। এ কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে যান বলে উল্লেখ করেছেন ফরিদ।

প্রথমে সম্পদশালী ভেবে এ শাস্তি দেওয়া হলেও কিন্তু শনিবার ত্রাণ বিতরণকালে জানা যায় ফরিদ শেখ চারতলা ভবনের নয় তিনি এ ভবনের মাত্র দু’টি কামরার মালিক। ফরিদ শেখ নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলা ফতুল্লা কাশিপুর ইউনিয়নের সুরুজ্জামান খানের ছেলে। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ষোল বছর বয়সী প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে কাশিপুর দেওভোগ এলাকার নাগবাড়ি ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া চারতলা ভবনের দুটি কক্ষে বসবাস করেন তিনি।

ফরিদ আহমেদ শেখ জানান, ১৬ থেকে ১৭ বছর আগে সৌদি আরব থেকে ফিরে পোশাকের নিজস্ব ব্যবসা গড়ে তুললেও সেই ব্যবসা আর নেই। বর্তমানে একটি হোসিয়ারিতে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে কাটিং মাস্টার হিসেবে নিযুক্ত আছেন। এ বেতনে প্রতিবন্ধী ছেলের চিকিৎসা খরচ যোগাতে পারলেও পরিবারের খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হয় তার।

এদিকে করোনাভাইরাস মহামারিতে এ ভোগান্তি আরও বৃদ্ধি পায়। তাই স্থানীয় মেম্বারসহ বিভিন্নজনের সহযোগিতা নিয়েই চলছিলেন তিনি। সর্বশেষ রেডিও’র মাধ্যমে ৩৩৩ হটলাইনে ফোন দিয়ে সহযোগিতা চান উপজেলা প্রশাসনের কাছে।

ঘটনার দিনে বর্ণনা দিতে গিয়ে ফরিদ জানান, মঙ্গলবার ফোন দিলে পরদিন নাম-ঠিকানা নিয়ে যায়। পরে কাশিপুর ইউনিয়ন মেম্বার আইয়ুব আলী সেদিন রাতে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেন। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউএনও বাসার সামনে এসে ডাক দিলে তিনি নিচে গিয়ে দেখতে পান বেশ কয়েকটা গাড়ি দাঁড় করানো।

তিনি আরো বলেন, তখন ইউএনও আরিফা জহুরা জিজ্ঞেস করে, ‘এ বাড়ি কার?’ আমি বলি, ‘আমাদের।’ এরপর কাজকর্মের কথা জিজ্ঞেস করলে আমি বেকার বললে, পাশ থেকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী আমাকে থামায় দিয়া বলে, আমার ব্যবসা আছে কিন্তু মিথ্যা কথা বলছি। এ সময় আমি বিস্তারিত বলতে চাইলেও তারা আমার কোনো কথা না শুনেই সরকারিভাবে যে পরিমাণ খাদ্য বরাদ্দ রয়েছে সমপরিমাণ খাদ্য ১০০ জন গরীব দুঃস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণের শাস্তি দিয়ে দেয়।

ফরিদ জানান, আমি উপায় না পেয়ে দুইবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করি। কী করবো? এত মানুষের খাবার কোথা থেকে জোগাড় করবো, যেখানে নিজের পরিবারের খরচ যোগাতে পারি না।

ফরিদ শেখের স্ত্রী হিরণ বেগম জানান, এর কিছুই জানতাম না আমি। নিচে কে যেন ডাকলো। কিছুক্ষণ পর উপরে এসে বলতাছে, আমি শেষ। দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করে। পরে উপায় না পেয়ে একজনের কাছে এক ভরি স্বর্ণ ৩ হাজার টাকা সুদের বিনিময়ে বন্ধক রেখে ৪৫ হাজারা টাকা এনে দেই। বাকি টাকা ধার দেনা করে যোগাড় করি। এখনও ১০ হাজার টাকা চালের দোকানে পাওনা। অথচ নিজেদের খাওয়ার চাল নাই ঘরে। ছেলেটাকে ডাক্তার কাছে নিতে পারছি না টাকার জন্য।

কাঁদতে কাঁদতে হিরণ বেগম বলেন, চারতলা বাড়ি হলে কী হবে কিন্তু অংশীদার তো সাতজন। ভাগে আমাদের দুই কামরার একটি ঘর। তারা শিক্ষিত মানুষ হয়ে কেমনে এটা পারলো। টাকা পয়সা কম থাকলেও আমাদের মান সম্মান তো আছে। লোক সমাজে এখন মুখ দেখাবো কেমনে।

এদিকে এ ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে জেলা প্রশাসন ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (প্রশাসন) শামীম বেপারীকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।

পাশাপাশি ইউএনও আরিফা জহুরাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ফরিদ যে পরিমাণ টাকা খরচ করেছেন তা রোববারের মধ্যে ফেরত দিয়ে দেওয়ার জন্য।

তিনি আরো বলেন, এ ধরনের ঘটনা কখনওই কাম্য না। ৩৩৩ হটলাইনটি মূলত গরীব-দুঃস্থ পরিবারগুলোকে সহযোগিতা করার জন্য খোলা হয়েছে। কিন্তু আমরা প্রায়ই বিভ্রান্তির শিকার হই। ফলে তদন্ত সাপেক্ষে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। আর এ বিষয়টা অনেকটাই এমন ছিলো। কিন্তু তথ্য বিভ্রাটে এ ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে এ ব্যাপারে কথা বলতে ইউএনও আরিফা জহুরাকে একাধিক কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এর আগে নারায়ণগঞ্জ ইউএনও আরিফা জহুরা জানান, করোনা মহামারির শুরু থেকেই ৩৩৩ নম্বরের মাধ্যমে সরকারিভাবে আমরা দুঃস্থ-অসচ্ছল পরিবারগুলোকে সহায়তা করে আসছি। কিন্তু গত বুধবারের ঘটনাটা একটু অন্যরকম ছিলো। ফরিদ আহমেদ নামের ওই লোক ৩৩৩ নম্বরে বার্তা পাঠায় ত্রাণের সাহায্যে চেয়ে। নিয়ম অনুযায়ী আমরা যাচাই বাছাই শুরু করি। কিন্তু যাছাই বাছাইয়ে জানতে পারি ওই লোকের নাকি চারতলা একটি ভবন আছে। পরে আমি ঘটনাস্থলে নিজে গিয়ে তার এ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তাকে শাস্তিস্বরূপ ১০০ জন গরীব দুঃস্থকে খাবার বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় আজ ২৮ জনের করোনা শনাক্ত

ডেস্ক রিপোর্ট : সাতক্ষীরায় এক দিনের পরীক্ষায় ২৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের আরটিপিসিআর ল্যাবে আজ সোমবার ২৪ মে সর্বমোট ৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিস থেকে এই তথ্য পওয়া গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ঘর না ছেড়ে উল্টো হুমকি-ধামকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি : পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ার পর সম্পত্তি না ছেড়ে জোরপূর্বক দখলে রাখার প্রতিবাদ করায় ভাই এবং ভাইপোকে খুন জখমসহ বিভিন্ন হুমকি-ধামকির অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, সদরের ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের বাঁধনডাঙ্গা গ্রামর মৃত জনাব গাজীর সম্পত্তি তার পুত্রসহ ওয়ারেশগণের মধ্যে গত ২০১৯ সালে ভাগ বাটোয়ারা হয়। সে সময় কবির হোসেনের দখলে একটি কাঁচাঘর ছিলো। ঘরটি আব্দুল খালেকের ভাগে পড়ে। ফলে ৬ মাসের মধ্যে ঘরটি আব্দুল খালেককে বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু কবির হোসেন ৬মাস অতিবাহিত হলেও ঘরটি খালেককে বুঝিয়ে না দিয়ে জোরপূর্বক দখল করে রাখে এবং সংস্কার করতে থাকে। গত ২৪ মে ২০২১ তারিখে কবির হোসেন পুরনায় ঘরটি সংস্কার করতে গেলে আব্দুল খালেক ও তার পুত্র রবিউল ইসলাম বাধা দিতে গেলে কবির তাদের অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে এবং খুন জখমসহ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির হুমকি প্রদর্শন করে। এছাড়া ইতোপূর্বে কবির হোসেন আব্দুল খালেকদের মারপিটও করেছেন বলেছেন জানান ভুক্তভোগী। এঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল খালেকের পুত্র রবিউল ইসলাম প্রতিকার চেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পুলিশ সদস্যকে ব্যতিক্রমী অবসরজনীত বিদায় দিলেন দেবহাটা থানা

দেবহাটা ব্যুরো: সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার এক পুলিশ সদস্যকে ব্যতিক্রমী অবসরজনীত বিদায় দিলেন দেবহাটা থানা। সোমবার দুপুরে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দেবহাটা থানা পুলিশ।

সদ্য অবসর নেওয়া পুলিশ সদস্য নিলেন মাসুদুল ইসলাম। তিনি পাশ্ববর্তী উপজেলা কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা গ্রামের বাসিন্দা।

এদিকে এ পুলিশ সদস্যকে বিদায় উপলক্ষে থানার সভা কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার সাহার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন দেবহাটা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এস এম জামিল আহমেদ।

থানার সেকেন্ড অফিস এসআই নয়ন চৌধুরীর পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন এসআই মিজানুর রহমান, এসআই আবু হানিফ, এএসআই রশীদুল ইসলাম, এএসআই শামিম হোসেন সহ সকল পুলিশ সদস্যরা।
থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিদায় সদস্যকে ফুল দিয়ে বরন ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

এছাড়া নতুন পোশাক পড়িয়ে পুলিশ জীপে ফুল আর বেলুনের সাজিয়ে বর বেশে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটার কুলিয়ায় যুবকের আত্মহত্যা

দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটার কুলিয়ায় বটগাছ থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে দেবহাটা থানা পুলিশ। নিহত ঐ যুবকের নাম আশিকুর রহমান (২১)। কে কুলিয়া বহেরা পাটনীপাড়া এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে। স্থানীয় ইউপি সদস্য রওনাকুল ইসলাম রিপন জানান, আশিকের সাথে গত একমাস আগে পাশর্^বর্তী শ্রীরামপুর এলাকার এক মেয়ের বিবাহ হয়। বিবাহের পরে গত ১ সপ্তাহ আগে আশিকুরের স্ত্রী পিতার বাড়িতে যায়। এরমধ্যে আশিক তার স্ত্রীকে কয়েকবার নিয়ে আসতে গেলে তার শশুর শাশুড়ি ও বড় শালী আশিকের সাথে খারাপ ব্যবহার করে তাদের মেয়ে আর দেবেনা বলে জানায়। এতে আশিক মানুষিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। ঘটনার দিন অর্থ্যাৎ ২৪ মে, ২০২১ সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন আশিকের শশুর বাড়িতে বউ আনতে গেলে তার শশুর মেয়ে আর দেবেনা এবং কাবিনের টাকা দিতে বলে। এ কারনে মানুষিক চাপে আশিক তার বাড়ির পাশে পাটনীপাড়া বটগাছে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। আশিক ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। সকালে বাড়ি থেকে ভ্যান নিয়ে বের হয়ে দুপুরে বাড়ি না আসলে আশিকের মা খুজতে গিয়ে বটগাছে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। ঘটনা জানতে পেরে দেবহাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা জানান, লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা প্রেরন করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের প্রক্রিয়া চলছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
লাবসার আলমগীর, রবিউল ও জাহাঙ্গীর হোসেনের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি ঃ সাতক্ষীরার লাবসা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের বহু অপকর্মের হোতা আলমগীর হোসেন, রবিউল ও জাহাঙ্গীর হোসেনের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেক্লাব আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন, সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে আজহারুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, লাবসা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের আলমগীর হোসেন, শিবনগর গ্রামের রবিউল ইসলাম, রাজনগর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন, তরিকুল ইসলাম ও শিবনগর গ্রামের রনি, জনি, সনির নেতৃত্বে এলাকায় চাঁদাবাজী সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, মাদক ব্যবসা, ঘেরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন, অন্যের মাছ লুটপাটকারী ও চুরিসহ নানা অপকর্ম করে থাকেন। উক্ত সন্ত্রাসীরা আমার মৎস্য ঘেরে বিষ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করেন এবং আমার চাচা মনিরুল, মিন্টু ও আমাকে মারপিট ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছেন। এঘটনায় আমরা হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। কিন্তু সন্ত্রাসীরা উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটান। এছাড়া তারা আমাদের বাড়িতে গিয়ে গত ১২ মে ২০২১ তারিখে প্রকাশ্যে খুন জখমসহ ভয়ভীতির হুমকি প্রদর্শন করেন। এঘটনায় আমার বাবা সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যার নং- ৬৪৮।
তিনি আরো বলেন, এর আগে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর লাবসা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের আইনুল ও একই গ্রামের সোহরাবের নেতৃত্বে আমাদের মৎস্য ঘেরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন করাসহ চাঁদা দাবি করেন। এঘটনায় আমার বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং -৬৪/৭০৩। উক্ত মামলা দায়েরের পর তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আবারো চলতি বছরের গত ২৫ এপ্রিল তারিখে মাদক ব্যবসায়ী আলমগীরের নেতৃত্বে উল্লেখিত আসামীরা আমার মৎস্য ঘেরে বিষ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করেন এবং আমার চাচা মনিরুল, মিন্টু ও আমাকে মারপিট ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেন। এঘটনায় আমার পিতা কামরুল ইসলাম সন্ত্রাসী আলমগীর হোসেন, রবিউল ইসলাম, জনি, রনি, সনি, তরিকুলসহ ৮/৯ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং জিআর ৪৭/২৮৬। উক্ত মামলা দায়েরের এক মাস অতিবাহিত হলেও কোন আসামী এখনও গ্রেফতার হয়নি। আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তারা আটক না হওয়ায় এলাকায় প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছেন “পুলিশ ম্যানেজ করা হয়েছে, আমাদের কেউ আটক করতে পারবেন না”। এছাড়া মামলা তুলে নিতে হুমকি প্রদর্শন করছেন। এদিকে, আসামীরা কেউ আটক না হওয়ায় তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে আমাদের খুন জখমসহ বিভিন্ন হুমকি প্রদর্শন করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে চলেছেন। এর ফলে আমিসহ আমার পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি (আজহারুল) এ সময় উক্ত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest