সর্বশেষ সংবাদ-
তালায় উপজেলার শ্রেষ্ঠ সংগঠক নির্বাচিত তরুণ সমাজকর্মী এস. এম. নাহিদকলারোয়ায় প্রবাসীর অর্ধকোটি টাকার ইটভাটা জবরদখলের অভিযোগ- বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলননক্ষত্রের অভিবাদন: শ্যামনগরে ১০ গুণী ব্যক্তিকে সংবর্ধনাসাংবাদিক পুত্র কাজী ফাহিমের অতুলনীয় সাফল্য : প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের অভিনন্দনসাতক্ষীরায় জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষের আবাসন, খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার নিশ্চিতে ১১ দফা দাবিসাতক্ষীরার সাংবাদিকপুত্র কাজী ফাইম আব্দুল্লাহর এইচএসসিতে গোল্ডেন এ-প্লাস অর্জনসাতক্ষীরায় নির্মাণাধীন ভবনের সাব-কন্টাক্টরের কাছে চাঁদা দাবি : থানায় অভিযোগতালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: সার সংকট, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে গুরুত্বারোপদেবহাটায় শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে খেলাভিত্তিক সেশন পরিদর্শনসাতক্ষীরায় আবাসিক হোটেল-রেস্তোরাঁ – বেকারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময়

ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে চেয়েছিল পুলিশ, পরে প্রাণটাও গেল দোকানির

দেশের খবর: টাঙ্গাইলে সদর থানার একজন এসআই-এর বিরুদ্ধে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ধস্তাধস্তির সময় এক দোকানির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার সময় আমির হামজা নামে পুলিশের ওই কর্মকর্তার ধস্তাধস্তিতে অসুস্থ হয়ে বাদল মিয়ার মৃত্যু হয়।

রোববার রাতে পৌর শহরের শান্তিকুঞ্জ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে এক ঘণ্টা ধরে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এসআই আমির হামজাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

বাদল মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এসআই আমির হামজার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. শফিক মিয়া জানান, রাতে পুলিশের এক সোর্স এসে তার দোকানে পাঁচটি সিগারেট চায়। এ সময় তিনি সিগারেট দেয়ার পর ওই প্যাকেটে সোর্স ইয়াবা ট্যাবলেট রেখে দিয়ে বলে আপনি এগুলোর ব্যবসা করেন।এটি বলার সঙ্গে সঙ্গে এসআই আমির হামজাসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে শফিককে জেরা করতে থাকেন।

তিনি জানান, প্যাকেটে আপনাদের সোর্স (পুলিশের) ইয়াবা রেখেছে। আমার দোকানে সিসি টিভি লাগানো আছে, ফুটেজ দেখতে পারেন। এর পরপরই পুলিশ ফুটেজ নিয়ে নেয় এবং শফিককে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের ব্যবসায়ীরা তাদের ঘিরে ফেলেন এবং পুলিশের সোর্সকে গণপিটুনি দেয়। এসআই আমির হামজার সঙ্গে দোকানের আরেক মালিক বাদল মিয়ার ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় বাদল মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিরালার মোড়ের এক ব্যবসায়ী জানান, সম্প্রতি এসআই আমির হামজা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে জোর করে থানায় নিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন মামলার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।

আরেকজন ব্যবসায়ী জানান, দোকানে রেডবুল নামের ড্রিংস রাখার কারণে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে দোকান থেকে পাঁচটি রেডবুল ও টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল থানার এসআই আমির হামজা বলেন, বিষয়টি বড় না করলে হয় না? আর বাদল মিয়া ধস্তাধস্তির কারণে নয়, তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিএনপিতে যোগ দিয়েছি, মৃত্যু পর্যন্ত থাকব : রনি

রাজনীতির খবর: বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। যোগ দিয়ে পেয়েছেন বিএনপির মনোনয়নও। রনি বলেন, ‘আমি বিএনপিতে যোগ দিয়েছি এবং মৃত্যু পর্যন্ত থাকব ইনশা আল্লাহ।’

আজ সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাত থেকে ‘ধানের শীষে’র মনোনয়ন নেন তিনি।

এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘কঠিন সময়ে ও সংগ্রামে রনির যোগদান আমাদেরকে প্রেরণা জোগাবে। তাঁর মতো মেধাবী ও দেশপ্রেমিক মানুষ বিএনপিতে যোগদানের জন্য অনুরোধ করছি। তাঁকে স্বাগত জানাই।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে গণতন্ত্রের সংগ্রাম দেশনেত্রীর নেতৃত্বে রনি যোগ দিলেন। তাঁকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমরা খুব জটিল অবস্থার মধ্যে কাজ করছি।’ ফখরুল আরো বলেন, ‘চেষ্টা করছি যাতে কোনো আসনে কেউ বাদ পড়লে সেটা শূন্য না থাকে। বিএনপি রনিকে অবশ্যই মূল্যায়ন করবে।’

গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘আমি স্বজ্ঞানে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দিলাম। আল্লাহকে হাজির-নাজির জেনে দেশের মানুষকে সেবাদানের জন্য যোগদান করলাম।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপিতে যোগ দিয়েছি এবং মৃত্যু পর্যন্ত থাকব ইনশা আল্লাহ।’

এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতরাসহ ২০ দলীয় শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, গোলাম মাওলা রনি পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নের চিঠি গ্রহণ করেন। ২০০৮ সালে ওই আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তবে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ খ ম জাহাঙ্গীরের কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়াইয়ে নেমে হেরে যান তিনি।

এবার এই আসন থেকে মনোনয়ন পাননি বর্তমান সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর। তাঁর পরিবর্তে ‘নৌকা’র টিকিট পেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার ভাগ্নে এস এম শাহজাদা সাজু।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ২৩দলীয় প্রার্থী ঘোষণা ॥ ৩টিতে জামায়াত, ১টিতে বিএনপি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
২৩দলীয় জোট থেকে সাতক্ষীরার ৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ৪টি আসনের মধ্যে তিনটি পেয়েছে জামায়াত এবং একটি পেয়েছে বিএনপি। এদের মধ্যে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা সদর-২ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনে জামায়াতের শূরা সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ও সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের শূরা সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার রাতে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির একজন উর্দ্ধতন নেতা এবং সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরার ৪টি আসনে প্রার্থীতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভুলবশত পুলিশের পাঠানো ই-মেইলে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের তথ্য

দেশের খবর: সম্ভাব্য নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। বেশ কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এমন অভিযোগ পাওয়ার মধ্যেই এবার এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া গেল। খুলনায় ৭৪ জন সম্ভাব্য নির্বাচনী কর্মকর্তার নামসহ তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি তালিকা ‘ভুলবশত’ স্থানীয় সাংবাদিকের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে খুলনার হরিণটানা থানা পুলিশের কাছ থেকে সাংবাদিকদের কাছে ওই ই-মেইলটি আসে। এতে দেখা যায়, ৭৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ১১ জনকে বিএনপি ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া, একজনকে নিরপেক্ষ এবং বাকি সবাইকে আওয়ামী লীগের মতাদর্শী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব সম্ভাব্য নির্বাচনী কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াও তাদের আরও নানা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে পুলিশ, তালিকার বিবরণী থেকেই তা স্পষ্ট হওয়া গেছে।
ওই তালিকায় বিএনপি-জামায়াত সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত চার জন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছে দ্য ডেইলি স্টার। তারা প্রত্যেকেই হতাশ এবং বিব্রত বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ভাবমূর্তি সঙ্কটে পড়েছেন উল্লেখ করে তারা কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলেও জানান।
পুলিশের তালিকায় রায়েরমহল হামিদনগর হাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোল্লা তাজউদ্দিনকে বিএনপি সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘২৫ বছর ধরে আমি শিক্ষকতায় যুক্ত, কিন্তু এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হইনি কখনও। আমি সরকারি কর্মকর্তা এবং কখনই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না।’
একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের প্রেস বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে ওই তালিকাটি সাংবাদিকদের কাছে চলে আসে। তিন পৃষ্ঠার ওই ই-মেইলের প্রথম পৃষ্ঠায় ছিল মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তারের তথ্য এবং পরের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পৃষ্ঠায় টেবিল আকারে ছিল সম্ভাব্য নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নাম, পরিচয়, কর্মক্ষেত্র, মোবাইল ফোন নম্বর এবং রাজনীতি সংশ্লিষ্টতার তথ্য। এতে দেখা যায়, তারা সবাই স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক।
ওই ই-মেইলের তথ্যানুসারে দেখা গেছে, হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মাধ্যমে সম্ভাব্য নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে শিক্ষকদের বিবরণ সম্বলিত ওই তালিকাটি খুলনা মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখার বিশেষ পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সেখানে হরিণটানার ওসির বরাতে বলা হয়, ‘যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আপনার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং পোলিং কমকর্তাদের তালিকাটি নিম্নে প্রদত্ত।’
হরিণটানা থানার তৎকালীন ওসি নাসিম করিমের (বর্তমানে গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত) সঙ্গে গতকাল যোগাযোগ করা হলে, তিনি এ ধরনের তালিকা সম্বলিত কোনো প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর কথা স্মরণে নেই বলে দাবি করেন।
একই থানার বর্তমান ওসি আশরাফুল আলম বলেন, তিনি যোগ দেওয়ার পূর্বে এই ভুলটি হয়েছিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ রুহুল আমিন হাওলাদার, দল থেকে বহিষ্কারের দাবি

দেশের খবর: জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়ন বাণিজ্য, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন দলটির বঞ্চিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা। এ অভিযোগে তারা দল থেকে অবিলম্বে তাকে বহিষ্কারেরও দাবি তুলেছেন।

জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার জাতীয় পার্টির মহাসচিবের পদ ব্যবহার করে কেবলই নিজের স্বার্থ দেখেছেন, নিজের আখের গুছিয়েছেন। কেবল জাতীয় পার্টির রাজনীতিকে ব্যবহার করে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এবার নির্বাচনকে সামনে রেখেও বেপরোয়া বাণিজ্যে মেতে ওঠেন তিনি। নিজের এবং স্ত্রী নাসরিন জাহান রত্নার আসন নিশ্চিত করতে গিয়ে গিয়ে দলের স্বার্থ, মাঠপর্যায়ের নিবেদিত জনপ্রিয় নেতাকর্মীদের স্বার্থ এবং তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষাকে পুরোপুরি জলাঞ্জলি দিয়েছেন।

দলটির নেতাকর্মীরা মনে করেন, দলীয় স্বার্থ উপেক্ষা করে নিজের স্বার্থ হাসিল করার মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জাতীয় পার্টি। দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র মিলেছে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় পার্টি। এর অংশ হিসেবে সোমবার বিকাল ৩টায় দলটির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার কথা জানান জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।

সে অনুযায়ী পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বনানী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনেরও আহ্বান করা হয়। কিন্তু এরই মধ্যে মহাসচিবের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের খবর ওঠে। এ অবস্থায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বনানী কার্যালয়ে ভিড় করেন। এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের সঙ্গে দেখা করে তার কাছে জানতে চান- কেন এমনটা হলো? জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতারা কেন মনোনয়ন পাওয়া থেকে বাদ পড়ল? নেতাকর্মীদের এ ধরনের মারমুখী আচরণ দেখে সিদ্ধান্ত বদলান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। প্রার্থী তালিকা ঘোষণা দেয়া থেকে বিরত থাকেন তিনি।

বলেন, জাতীয় পার্টি ২০০ আসনে প্রার্থী দেবে। তার এ ঘোষণায় নেতাকর্মীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা মহসচিবকে বনানী কার্যালয়েই প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদেরর অনুগতরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে গুলশানের বাসায় নিয়ে যান।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টিকে প্রত্যাশিত আসনে ছাড় দেয়ার কথা থাকলেও মূলত মনোনয়ন বাণিজ্যের জন্য অনেক জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের নাম বাদ দেন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। জোটগত নির্বাচনে ন্যূনতম ৫০টি আসন দাবি ছিল জাতীয় পার্টির। কিন্তু রুহুল আমিন হাওলাদারের রহস্যপূর্ণ ভূমিকার কারণে জাতীয় পার্টির বেশ ক’জন সংসদ সদস্য, মনোনয়নপ্রত্যাশী তালিকা থেকে বাদ পড়েন।

বিশেষ করে, ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির বর্তমান সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, চট্টগ্রাম-৯ আসনে জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, কুমিল্লা-২ আসনে জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি আমির হোসেনকে মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে একটি বিশেষ মহলের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এসব আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করেননি এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। দলের মনোনয়নে হবিগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুল মুনিম চৌধুরী বাবুর নাম রোববার পর্যন্ত থাকলেও বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে শেষ মুহূর্তে তার নাম কেটে দিয়ে এই আসনে আতিকুর রহমান আতিককে অন্তর্ভুক্ত করেন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।

সূত্র জানায়, মনোনয়ন পাননি এমন অনেক নেতার কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব। প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু, ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান, কাজী মামুনুর রশীদ, মোস্তফা আল মাহমুদ, আলাউদ্দীন মৃধা, ছাত্রসমাজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম রিপনসহ অর্ধশতাধিক নেতার কাছ থেকে তিনি টাকা নিয়েছেন মনোনয়ন নিশ্চিত করা হবে বলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় পার্টির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য সোমবার বলেণ, দলের মহাসচিব প্রায় শতকোটি টাকার মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন। চাপের মুখে এখন অনেককে টাকা ফেরত দেয়ারও আশ্বাস দিচ্ছেন এখন।

ওই নেতা জানান, মূলত ব্যক্তিস্বার্থে দলকে বলি দিয়েছেন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি নিজের ও স্ত্রী নাসরিন জাহান রত্নার আসন দুটি নিশ্চিত করেছেন সবার আগে। বিপরীতে গোপন সমঝোতা আর আর্থিক সুবিধা নিয়ে দলের ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়নবঞ্চিত করেছেন। এ নিয়ে জাতীয় পার্টির কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। এ ক্ষোভ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে রোববার। সোমবারও এই ধারা অব্যাহত থাকে।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলকে বিকিয়ে দিতে মনোনয়ন বাণিজ্যে মেতে ওঠেন রুহুল আমিন হাওলাদার। প্রথমেই তিনি নিজের জন্য পটুয়াখালী-১ আসন এবং স্ত্রী নাসরিন জাহান রত্নার জন্য বরিশাল-৬ আসন বাগিয়ে নেন আওয়ামী লীগের কাছ থেকে। অথচ এই দুটি আসনই আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখানে হাওলাদার এবং তার স্ত্রীর কোনো জনসমর্থন নেই বললেই চলে।

দলের মহাসচিবের মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে মুখ খুলেছেন জাতীয় মহিলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক অনন্যা হোসাইন মৌসুমী। সোনারগাঁও থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে এ আসনে লিয়াকত হোসেন খোকার মনেনানয়ন নিশ্চিত করেন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে অনন্য হোসাইন মৌসুমী ফেসবুকে প্রকাশ্যে পোস্ট দেন।

এতে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি এই সময়ের শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও পার্টির মহাসচিবের মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে অনেক ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি।’

অনন্যা হোসাইন মৌসুমী আরও বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে জাতীয় পার্টিকে বিক্রি করে দিয়েছেন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। তার কারণে দল এখন ভাঙনের মুখে পড়েছে। তিনি দ্রুত জাতীয় পার্টি থেকে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে বহিষ্কারেরও দাবি জানান।

কেবল অনন্যা হোসাইন মৌসুমী একা নন, মহাসচিবের মনোনয়ন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন দলটির অসংখ্য নেতাকর্মী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় মিড নাইট সানের সাধারণ সভা

 

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটায় বেসরকারী সেবামূলক সংস্থা মিড নাইট সানের সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকাল ৪টায় সখিপুর ধোপাডাঙ্গা প্রধান কার্যালয়ে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কমিটির সহ-সভাপতি আবু রায়হান তিতুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম, সাইফুজ্জামান প্রিন্স, কবির হোসেন, জাহিদ আলম, খায়রুল ইসলাম। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শেখ কামরুজ্জামান, কবির আহহম্মেদ, সেলিমউল্লাহ, রকিবুল ইসলাম, নুর জাহান, আব্দুল হামিদ, আসাদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, ধ্বনীর গাজী, আরিফ বিল্লাহ, রিয়াজ উদ্দীন, মোস্তাকিম গাজী, আলমগীর হোসেন, তৈমুুর রহমান, শিবপদ দাস, আব্দুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, মাসুম বিল্লাহ, সুভাষ দাস, মাহবুব আলম প্রমূখ। উল্লেখ্য, উক্ত প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকে সমাজের অবহেলিত মানুষের সেবা দিয়ে আসছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফলোঅনে পড়ে প্রতিরোধ নিউজিল্যান্ডের

খেলার খবর: দুবাই টেস্টে ইয়াসির শাহর ঘূর্ণিতে প্রথম ইনিংসে দাঁড়াতেই পারল না নিউজিল্যান্ড। মাত্র ৯০ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। ৩২৮ রানে পিছিয়ে থাকা কিউইদের ফলোঅনে পাঠাতে ভুল করেনি পাকিস্তান।

তবে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নেমে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে সফরকারিরা। ২ উইকেটে ১৩১ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করেছে নিউজিল্যান্ড। এখনও অবশ্য ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কা কাটেনি কেন উইলিয়ামসনের দলের। পাকিস্তানকে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে পাঠাতে হলে আরও ১৯৮ রান করতে হবে তাদের।

ফলোঅনে পড়ে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে নিউজিল্যান্ড। সেই ইয়াসির শাহই হেনেছেন আঘাত। জিত রাভালকে ২ রানে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন পাকিস্তানি লেগস্পিনার।

এরপর ভালো খেলতে খেলতে কেন উইলিয়ামসনও উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ হন ইয়াসিরের বলে। কিউই অধিনায়ক করেন ৩০ রান। ৬৬ রানে ২ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ড পরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে রস টেলর আর টম লাথামের ব্যাটে। টেলর ৪৯ আর লাথাম ৪৪ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে আছেন।

এর আগে, বিনা উইকেটে ৫০ রান তোলা কিউইরা ইয়াসির শাহর ঘূর্ণিতে অলআউট হয়ে যায় ৯০ রানে। তাদের ১০টি উইকেট পড়েছে ৪০ রানের ব্যবধানে। ইয়াসির একাই নেন ৮ উইকেট।

অথচ দুই ওপেনার জিত রাভাল আর টম লাথাম তৃতীয় দিনের শুরুটা করেছিলেন বেশ দেখে শুনেই। ৩১ রান করা রাভালকে বোল্ড করে তাদের ৫০ রানের উদ্বোধনী জুটিটি ভাঙেন ইয়াসির। সেই শুরু। এরপর ২২ রানে টম লাথামকে সাজঘরের পথ দেখান পাকিস্তানের এই স্পিন জাদুকর।

রস টেলর আর হেনরি নিকোলস শূন্য রানে বোল্ড হন ইয়াসির এক ওভারেই। বিজে ওয়াটলিংয়ের (১) রানআউটেও ছিল তার হাতের ছোঁয়া। মাঝে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে (০) কেবল এলবিডব্লিউ করেছেন হাসান আলি।

পরেরটুকু আবার ইয়াসির শো। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন একটা প্রান্ত ধরে দলের মান সম্মান বাঁচাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে যান ২৮ রানে। সবমিলিয়ে উপরের সারির তিন ব্যাটসম্যানই কেবল দুই অংকের কোটা ছুঁতে পেরেছেন, বাকিদের সবাই দশের নিচেই আউট।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় উপজেলা আনসার ও ভিডিপির উপজেলা সমাবেশ

কে.এম রেজাউল করিম, দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটায় উপজেলা আসনার ও ভিডিপি কার্যালয়ের আয়োজনে সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা মুক্ত মঞ্চে উপজেলা আনসার ও ভিডিপির উপজেলা সমাবেশ ২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ। প্রধান অতিথি ছিলেন দেবহাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ¦ আব্দুল গনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন যথাক্রমে সাতক্ষীরা জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট কে.এম মনিরুল ইসলাম ও দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মান্নান আলী। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দেবহাটা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নার্গিস পারভীন। এসময় অনুষ্ঠানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুল হাই রকেট, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জসিমউদ্দীন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান, উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা বিঞ্চুপদ বিশ^াস, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মিসেস নাজমুন নাহার, অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আশিকুর রহমান, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব আর.কে.বাপ্পা, সাংবাদিক আকতার হোসেন ডাবলু, সাংবাদিক কে.এম রেজাউল করিম, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন দলপতি সাদিকুর রহমান টফি, আনসার প্লাটুর কমান্ডার সুফিয়া পারভিন, কুলিয়া ইউনিয়ন দলনেত্রী আফিফা সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন। উক্ত উপজেলা সমাবেশে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের সকল আনসার ও ভিডিপি সদস্য/সদস্যাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নওয়াপাড়া ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার নুর হোসেন ও কুলিয়া ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার রবিউল ইসলাম।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest