সর্বশেষ সংবাদ-
মুন্সিগঞ্জ আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে অসহায় মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ায় মানববন্ধনসাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনাসাতক্ষীরায় কৃষকের ছেলে সহকারী সিভিল জজ, আনন্দে ভাসছে পরিবার ও গ্রামঝাউডাঙ্গা কলেজে একাদশ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ৫০তম জাতীয় দাবা ‘বি’ বাছাই না করিয়ে খেলোয়াড় পাঠানোর পায়তারা: সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলনসাতক্ষীরায় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়৬ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরাসাতক্ষীরায় এবি পার্টির আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহ্বায়ক শাকিল, সদস্য সচিব শাহীনসাতক্ষীরায় রিইবের সিএসও’র ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিতসাতক্ষীরায় চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাংচুর ও মারপিট: গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

‘তারকা মেপে শাস্তি দেওয়া যাবে না’

বিনোদন সংবাদ: ‘মি টু’ ঝড় চলছে বলিউড পাড়ায়। একে একে যেমন অনেক নারী তারকা তাদের যৌন হেনস্তার অভিজ্ঞতার কথা বলছেন তেমনি অন্য নারী তারকাও তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে নিজেদের অবস্থানের কথা বলেছেন। সম্প্রতি কারিনা কাপুর এক অনুষ্ঠানে এ নিয়ে কথা বললেন।

সম্প্রতি ভারতের একটি রেডিও চ্যানেল ইশকের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আলোচনার বিষয় ছিল ‘নারীরা কী চান?’ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি নারী তারকাদের যৌন হেনস্তা নিয়ে কারিনা বলেন। শুধু তাই নয়, কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ পরিবেশ। চলচ্চিত্র অঙ্গনের নারীরাও চান তাদের এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি যেন নারীদের জন্য নিরাপদ হয়।

কারিনা বলেন, ‘যৌন হেনস্তা নিয়ে যারা মুখ খুলেছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কারণ এতদিন ধরে যে বিষয়টি অনেকেই বলতে পারেননি তারাও সাহস করছেন বলার। অভিযুক্ত সবাইকে শাস্তি দিতে হবে। ছোট বা বড় সব তারকাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তারকা মেপে শাস্তি দেওয়া যাবে না। ইন্ডাস্ট্রিতে একজন পুরুষের মতো নারীর অবদানও কম নয়।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এ বছরের ‘সেরা ১০ রিয়েল হিরো’

বিদেশের খবর: যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম সিএনএন চলতি বছরের ‘সেরা ১০ রিয়েল হিরো’ বাছাই করেছে। পৃথিবী বদলে দেওয়ার মতো কাজ করায় তাদেরকে এই তকমা দিয়েছে গণমাধ্যমটি। তারা প্রত্যেকেই একটি করে পথ বেছে নিয়ে নিজের জ্ঞান ও উৎসাহ দিয়ে অসংখ্য মানুষকে সহযোগিতা করেছেন।

এই বছরের সেরা ১০ সিএনএন হিরোর মধ্যে আছেন একজন ডাক্তার, যিনি সহিংসতার চক্র ভাঙতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এই পথপ্রদর্শকদের মধ্যে আছেন এক নারী, যিনি বিকলাঙ্গ মানুষদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। একজন শিক্ষক তার লেখনীর মাধ্যমে আশাহীনদেরকে উজ্জীবিত করছেন।

এই ১০ জনের প্রত্যেকেই ১০ হাজার ডলারের ক্যাশ প্রাইজ পাবেন। আর এই ১০ জনের মধ্যে যিনি ‘সিএনএন হিরো অব দ্য ইয়ার’ হবেন, তিনি পাবেন অতিরিক্ত এক লাখ ডলার।

একটি ব্রডকাস্ট টিভি অনুষ্ঠানে তাদের প্রচেষ্টাগুলো তুলে ধরা হবে। স্থানীয় সময় ৯ ডিসেম্বর রবিবার রাত আটটায় ‘সিএনএন হিরোজ: অ্যান অল-স্টার ট্রিবিউট’ নামের এই অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে। গত ৬ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শীর্ষ ১০ সিএনএন হিরোদের নাম-পরিচয় এবং তাদের প্রচেষ্টা সম্পর্কে তুলে ধরে সিএনএন।

আবিসোয়ে আজায়ি-আকিনফোলারিন:

নাইজেরিয়ার লাগোসে মেয়েদের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখাতে নিজের চাকরি ছাড়েন আবিসোয়ে আজায়ি-আকিনফোলারিন। এখানে চলতি বছর ফেসবুক ও গুগল তাদের অফিস খুলেছে। ২০১৩ সালে একটি জরিপে বলা হয়, নাইজেরিয়ার ৮ শতাংশেরও কম নারী প্রফেশনাল, ম্যানেজেরিয়াল বা টেকনোলজি জবের সঙ্গে জড়িত। আজায়ি-আকিনফোলারিন এই পরিসংখ্যান পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

‘পার্লস আফ্রিকা ফাউন্ডেশন’ নামের একটি দল আছে তার। দলটি ২০১২ সাল থেকে চার শতাধিক সুবিধা বঞ্চিত ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী মেয়েদেরকে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস অর্জনে সহযোগিতা করে আসছে, যা তাদের জীবন পাল্টানোর জন্য খুবই অত্যাবশ্যকীয় ছিল। এই ফাউন্ডেশন পরিচালিত ফ্রি গার্লসকোডিং প্রোগ্রাম থেকে এইচটিএমএল, সিএসএস, জাভাস্ক্রিপ্ট, পাইথন ও স্ক্র্যাচ সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ নেয় এসব মেয়েরা। তাদেরকে বিষয়গুলো ভালো করে বোঝানোর জন্য টেক কোম্পানিগুলোতেও নিয়ে যাওয়া হয়। কোম্পানিগুলোতে তাদের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হয়। এসব মেয়েদের বেশিরভাগই বস্তি, এতিমখানা, সংশোধনাগার থেকে আসা। এমনকি বোকো হারাম জঙ্গি গোষ্ঠীর ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা মেয়েরাও অংশ নিয়েছে এই প্রোগ্রামে।

আজায়ি-আকিনফোলারিনের মতে, টেকনোলজি এমন একটি জায়গা, যা পুরুষরা নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা কেন এটা তাদের হাতে ছেড়ে দেব?

মারিয়া রোজ বেল্ডিং:

মারিয়া রোজ বেল্ডিং যুক্তরাষ্ট্রে নষ্ট হয়ে যাওয়া প্রায় ৪০ শতাংশ খাবার নিয়মিত যথেষ্ট পরিমাণ খেতে না পারা কয়েক লাখ আমেরিকানকে খাওয়াতে চান। তিনি তার সঙ্গে সহমত পোষণকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘মিনস’(MEANS) নামের একটি ফ্রি অনলাইন প্ল্যাটফরম খুলেছেন, যেখানে কেউ চাইলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার দান করতে পারে ক্ষুধার্তদের জন্য। ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৮ লাখ পাউন্ড খাবার পুনর্বিতরণ করেছে অলাভজনক এই অনলাইন প্ল্যাটফরম।

মারিয়া রোজ বেল্ডিংয়ের মতে, ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলা খাবার ক্ষুধার্তদেরকে দান করার মাধ্যমটি সহজ করাই মিনসের লক্ষ্য। আমরা একটি সেতুর মতো, যার অস্তিত্ব আগে ছিল না।

আমান্দা বক্সটেল:

আমান্দা বক্সটেল একটি ভয়ঙ্কর স্কিইং দুর্ঘটনার শিকার হন। ডাক্তাররা বলেন, তিনি আর কখনোই হাঁটতে পারবেন না। কিন্তু তিনি বায়োনিক এক্সোস্কেলিটন স্যুট নামের এক ধরনের মেশিনের সাহায্যে তাদের কথাকে মিথ্যায় পরিণত করেছেন। আর এটিই তাকে ‘ব্রিজিং বায়োনিকস’ তৈরি করতে অনুপ্রাণিত করে। এই অলাভজনক ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্রের কোলোরাডো অঙ্গরাজ্যের আস্পেন এলাকার আশেপাশের বিকলাঙ্গ মানুষদেরকে সক্রিয় ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে হাই-টেক ফিজিক্যাল থেরাপি দিয়ে থাকে।

ব্রিজিং বায়োনিকসের ফিজিক্যাল থেরাপিস্টরা ক্লায়েন্টদের কাছে গিয়ে তাদের চলাচলের সমস্যার ভিত্তিতে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে থাকেন। ক্লায়েন্টদের মেরুদণ্ডের সমস্যা থেকে শুরু করে অঙ্গ প্রতিস্থাপন, মস্তিষ্কে পক্ষাঘাত ও পার্কিনসনের রোগসহ বিভিন্ন স্নায়ুবিক সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকেন তারা। ব্রিজিং বায়োনিকস বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে ৬০ জনেরও বেশি মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছে, যারা আর হাঁটতে পারবে না বলেই জানিয়েছিলেন ডাক্তাররা।

বক্সটেল বলেন, মানুষের নিজের এবং নিজের সম্ভাবনায় বিশ্বাস রাখা দরকার। জীবন শেষ হয়নি। তারা এখনও স্বাভাবিক হতে পারবে।

রব গোর:

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হিসেবে খুব কাছ থেকেই সহিংসতার পরবর্তী অবস্থা দেখেছেন রব গোর। তিনি ২০০৯ সালে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে কিংস এগেইনস্ট ভায়োলেন্স ইনিশিয়েটিভ(কেএভিআই) শুরু করেন। তারা হাইস্কুলে শিক্ষার্থীদেরকে মেডিটেশন এবং দ্বন্দ্ব নিরসনের উপায় শিক্ষা দিতেন শুরু করেন।

কেএভিআই কিংস ইতোমধ্যে কিংস কাউন্টি হসপিটাল, স্থানীয় স্কুলগুলো এবং বর্ডার কমিউনিটিতে এন্টি-ভায়োলেন্স প্রোগ্রাম চালু করে ২৫০জনের বেশি তরুণকে সহযোগিতা করেছে। তারা অলাভজনকভাবে ‘হসপিটাল রেসপন্ডার্স’ হিসেবে সহিংসতার শিকার এবং তাদের পরিবারকে সহযোগিতা করে থাকে।

গোরের মতে, সহিংসতা সব জায়গায়…কিন্তু সহিংসতাকারীরা যেন তোমার কাছ থেকে শেখে যে কিভাবে এটা এড়ানো যায়।

লুক মিকেলসন:

যুক্তরাষ্ট্রের ইডাহো অঙ্গরাজ্যের টুইন ফলসে বসবাসকারী লুক মিকেলসন ২০১২ সালে জানতে পারেন তার শহরের অনেক শিশুই বেড না থাকায় মেঝেতে ঘুমায়। এটা জানার পর খুবই মর্মাহত হন তিনি। নিজের টাকায় কাঠ কিনে এসব শিশুকে বেড তৈরি করে দেন। এজন্য তাকে অবশ্য বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের দ্বারস্থ হতে হয়।

পরবর্তী মিকেলসন ‘স্লিপ ইন হ্যাভেন্টলি পিস’ নামের একটি দাতব্য সংস্থা প্রতিষ্ঠান করেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মেঝেয় ঘোমানো শিশুদেরকে দেড় হাজারেরও বেশি বেড সরবরাহ করেছে। দাতব্য সংস্থাটি বর্তমানে দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে।

মিকেলসনের মতে, এসব শিশু স্বেচ্ছায় এই পরিস্থিতি মেনে নেয়নি। এসব শিশুর জন্য কিছু করার পর তাদের চোখে-মুখে আমি যে আনন্দ দেখেছি, তা আমাকে ব্যতিক্রমী কিছু করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে অনুপ্রাণিত করেছে।

সুসান মুনসে:

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্যালিফোর্নিয়ার একটি পতিতালয়ের পতিতা হিসেবে কিশোরী সুসান মুনসে একজন তরুণীর অপব্যবহার হওয়া সরাসরি দেখেন। শেষমেশ তিনি এই জগৎ থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। তিনি ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার এবং সাইকোথেরাপিস্ট হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেন। ২০০৯ সালে তিনি ‘জেনারেটহোপ’ নামের একটি অলাভজনক দল গড়ে তোলেন, যা যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আশার একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল। দলটি এসব নারীদেরকে দীর্ঘমেয়াদে থাকার জায়গা, থেরাপি, শিক্ষা ও মেডিকেল কেয়ার দেয়।

মুনসে জানান, জেনারেটহোপ এখন শতাধিক নারীর আশ্রয়স্থল, যাদের কয়েকজনের বয়স ১৮। তারা কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিজেদের জীবনের অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা থেকে যেন তারা বেরিয়ে আসতে পারে সেজন্য তাদেরকে থেরাপি দেয়া হয়। এখানে একজন নারী দুই বছরের মতো থাকতে পারেন। তাদেরকে আর্ট থেরাপি, নাচ ও যোগব্যায়ামও শোখানো হয়।

তিনি বলেন, আমি ভালো করেই জানি যে আমরা যে খারাপ সময় কাটাই, তার পরিবর্তে গড আমাদেরকে ভালো কিছু দিয়ে থাকে। আমাদের কোনও সময় নষ্ট হয় না।

ফ্লোরেন্স ফিলিপস:

ফ্লোরেন্স ফিলিপস কয়েক বছর ধরে কেনিয়া, গুয়েতেমালা ও জ্যামাইকাতে বিভিন্ন কমিউনিটি-বিল্ডিং প্রজেক্ট এবং ইংরেজি শোখানোর কাজ করেছেন। শেষমেশ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের কার্সন সিটিতে স্থায়ীভাবে বাস করতে শুরু করেন। এখান প্রায় ২০ শতাংশ জনগণ অভিবাসী। তাদের কথা বিবেচনায় নিয়ে তিনি উত্তর নেভাদায় ‘ইংলিশ অ্যাজ অ্যা সেকেন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ(ইএসএল) নামের একটি অলাভজনক ইন-হোম প্রোগ্রাম শুরু করেন। যেখানে হাইস্কুলের সমমানের শিক্ষা এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে পাঁচ হাজার অভিবাসী এবং তাদের পরিবার উপকৃত হয়েছে।

ফিলিপ বলেন, আমার শিক্ষার্থীরা এখান থেকে ইংরেজি শিখছে এবং আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারছে। আমি গর্ববোধ করি যখন তারা বলে, ‘আই অ্যাম অ্যান আমেরিকান।’

রিকার্ডো পুন-চোং:

ডা. রিকার্ডো পুন-চোং তার জীবনের একটা বড় সময় ধরে পেরুর রাজধানী লিমার বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনের দায়িত্ব পালন করেছেন। দিনের পর দিন তিনি হাসপাতালে মেঝেয় অসংখ্য পরিবারকে ঘোমাতে দেখেছেন। শহরের ভালো কোনও জায়গায় থাকার অর্থ না থাকায় এবং নিজের বাসা থেকে অনেক দূরে হওয়ায় হাসপাতালের মেঝেয় রাত কাটায় তারা। অনেক পরিবারের সন্তানদের জীবন যখন শঙ্কার মুখে, তখন তাদের বাবা-মা গৃহহীন। এসব মানুষের জন্য কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন পুন-চোং।

তার গড়ে তোলে অলাভজনক সংগঠন ‘ইন্সপিরা’। তারা ২০০৮ সাল থেকে চিকিৎসাধীন রোগীর আত্মীয়দেরকে আশ্রয়, খাবার এবং যথাসম্ভব রোগীকে সহায়তা করে থাকে। সংগঠনটি এ পর্যন্ত নয় শতাধিক পরিবারকে সহযোগিতা করেছে।

পুন-চোং বলেন, আমি যখন এসব শিশুর সঙ্গে থাকি, তখন আমি অনুভব করতে পারি যে তারা কতো দৃঢ় মানসিকতার। আমার মনে হয় এমন কোনও সমস্যা নেই, যা আমরা সমাধান করতে পারি না।

এলেন স্ট্যাকেবল:

শিক্ষিকা হিসেবে এলেন স্ট্যাকেবল যখন তার গ্র্যাজুয়েট স্কুল থিসিস করতে যান, তখন একটি বিষয় জানতে পেরে তিনি খুবই অবাক হন। আর তা হলো আমেরিকায় নারী কারাবন্দির সংখ্যায় শীর্ষে তার নিজের অঙ্গরাজ্য ওকলাহোমা। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন বেশির ভাগ নারীই প্রথমবারের মতো কারাবন্দি হয়েছেন। তাও আবার অসহিংসতামূলক অপরাধের দায়ে। তিনি তাদের কথা শোনেন এবং তাদের জটিল জীবন বোঝার চেষ্টা করেন।

তিনি ২০১৪ সালে এসব কারাবন্দিদের সহযোগিতা করার জন্য অলাভজনক সংগঠন ‘পোয়েটিক জাস্টিস’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সৃজনশীল লেখনী শক্তিকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। এসময় ওকলাহোমার পাঁচটি কারাগারের সাপ্তাহিক ক্লাসে নারী কারাবন্দিদেরকে কবিতা ও সৃজনশীল লেখনী এবং মেডিটেশন সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়। স্বেচ্ছাসেবীরা প্রত্যেকের চিন্তা-ভাবনা জানার চেষ্টা করেন। ক্লাস শেষে এসব নারীরা একে অন্যের সঙ্গে নিজেদের কাজগুলো শেয়ার করতেন। স্ট্যাকেবলের এই দল এ পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি নারীকে তাদের পূর্ববর্তী খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে।

তার মতে, আমি দেখতে পাচ্ছি যে এসব নারীরা আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছেন এবং নিজেদের জীবনের মূল্য খুঁজে পেয়েছেন। আমি চাই তারা যেন আশাবাদী হন। তারা যদি আশাবাদী হতে পারেন, তবে তা তাদের জীবন পাল্টে দেবে।

ক্রিস স্টাউট:

যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সদস্য ক্রিস স্টাউট যখন আফগানিস্তান থেকে মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটিতে ফেরেন, তখন তিনি আহত ছিলেন এবং পোস্ট-ট্রম্যাটিক স্ট্রিস ডিসঅর্ডারে(পিটিএসডি) ভুগছিলেন। যুদ্ধের ময়দানে ঘটনা ও দৃশ্যগুলো তাকে হতাশ করে ফেলেছিল। তিনি গৃহহীন যোদ্ধাদেরকে রাস্তায় বসবাস করতে দেখেন।

তিনি ও তার কয়েকজন বন্ধু ২০১৫ সালে চাকরি ছেড়ে দেন এবং ‘ভেটেরানস কমিউনিটি প্রজেক্ট’ শুরু করেন। তারা এই প্রজেক্টের আওতায় গৃহহীন সৈন্যদের থাকার ব্যবস্থা করতে জানুয়ারিতে ১৩টি ছোট বাড়ি নির্মাণ করেন। আরও ১৩টি বাড়ির নির্মাণ কাজ এই নভেম্বরের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। এভাবে তারা ইতোমধ্যে আট হাজার সৈন্যকে সহযোগিতা করেছেন। তারা তাদের থাকার জায়গার পাশাপাশি যাতায়াত, চাকরি, আইনি সুবিধা, খাবার সুবিধা, পোশাক ও জরুরি আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে থাকেন।

স্টাউট বলেন, সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমরা সবার আগে ‘ইয়েস’ বলি। পরে অন্যকিছু জানার চেষ্টা করি। আমরা তাদের সেবা করি, যারা আমাদের সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে হাত উঁচু করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শরিকদের ছাড় দিয়ে প্রার্থী বাছাইয়ে গলদঘর্ম দুই জোট

রাজনীতির খবর: ১৪ দল এবং মহাজোটের নতুন দুই শরিক এইচএম এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা) ও অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ত সময় পার করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ১৪ দলের কোনো কোনো শরিক দলের এবং জাপা ও যুক্তফ্রন্টের নেতারা দফায় দফায় দৌড়াচ্ছেন গণভবনে। কেউ কেউ ছুটছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে। শরিকদের প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার সমন্বয় ঘটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে। বিশেষ করে বেশকিছু আসনে দলীয় প্রার্থী ও শরিকদের চাওয়ার মূল্যায়ন করতে গিয়ে রীতিমতো অগ্নিপরীক্ষার অবস্থা। আওয়ামী লীগ, ১৪ দল ও মহাজোটের শরিকদের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সর্বশেষ যে বার্তা পাওয়া গেছে তা হলো আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ১৪ দলের শরিকদের বড় ধরনের কোনো মতপার্থক্য নেই। মূল ঝামেলা হচ্ছে এরশাদ ও তার দলকে নিয়ে। অন্যদিকে, বি. চৌধুরীর বিকল্পধারা ও যুক্তফ্রন্টের চাওয়ার সঙ্গে বাস্তবের হিসাব মেলাতেও বেগ পেতে হচ্ছে আওয়ামী লীগকে।

শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতা হচ্ছে কি-না, এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘দর কষাকষি হলেও কোনো ধরনের টানাপড়েন নেই। এখানে বানরের পিঠা ভাগ করে তো লাভ নেই। সবকিছু আমাদের (আওয়ামী লীগের) নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে। এখানে কে কত সিটে জিততে পারবে, এটাই হলো আমাদের প্রাইম কনসিডারেশন। যারা ইলেক্টেবল, উইনেবল, তাদেরই আমরা সিলেক্ট করব।’ জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হয়েছে কি-না, সে বিষয়ে তিনি বলেন, মৌখিকভাবে হয়েছে। শরিকদের কত আসন দেওয়া হতে পারে সেই প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা আমি একটা অনুমান করতে পারি। আমি বারবার বলেছি প্রার্থীকে ইলেক্টেবল হতে হবে, উইনেবল হতে হবে। সেক্ষেত্রে শরিকদের ৬৫-৭০টি আসন ছাড়া হতে পারে, ২/৪টা হয়তো বাড়তেও পারে।’

ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের আরও একাধিক দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলীয় ও জোট শরিকদের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ মূল যে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে তা হলো-যেই আসনে যাকে প্রার্থী করা হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসতে পারবে তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। ১৪ দলের শরিকদের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের মোটামুটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে- বড় ধরনের ও যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়া শরিকদের যারা বর্তমানে যেই যেই আসনে সংসদ সদস্য রয়েছেন তাদেরকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। এর বাইরে ১৪ দল শরিকদের কারও কারও অন্য শক্তিশালী প্রার্থী থাকলে সেক্ষেত্রেও ছাড় দিতে প্রস্তুত আওয়ামী লীগ। সবমিলিয়ে আসন বণ্টন নিয়ে ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা নেই দলটির।

আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে ১৪ দলকে নিয়ে তেমন সমস্যা না হলেও এরশাদের জাপাকে নিয়ে বেশ ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে আওয়ামী লীগকে। বর্তমান দশম সংসদে জাপা ৩৪টি আসনে জয়ী হলেও এখন দলটি আওয়ামী লীগের কাছে ৫০টি আসন চায়। যদিও মূল টার্গেট অন্তত ৪৫টি আদায় করা। এই পর্যন্ত ৪০ থেকে ৪২টি আসনের বিষয়ে মোটামুটি সমঝোতা হলেও মানতে চাচ্ছেন না এরশাদ। সমঝোতার বাইরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আরও পাঁচটি আসন চাচ্ছেন আওয়ামী লীগের কাছে। এনিয়ে গতকাল শুক্রবার রাত পর্যন্ত কোনো ফয়সালা হয়নি।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়ে জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার মিলে একটা উদ্যোগ নিলেও এরশাদ তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এই তিন নেতাকে এরশাদ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে তিনি একাই সিদ্ধান্ত নেবেন। জানা গেছে, জাপা চেয়ারম্যান তার বারিধারার বাসায় ব্যক্তিগত দু’তিন জন লোককে নিয়ে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছেন। এতে তার একক পছন্দ-অপছন্দই প্রাধান্য পাচ্ছে। জিএম কাদের গতকাল বলেন, ‘প্রার্থী বাছাইয়ের কাজটা উনি (এরশাদ) একাই করছেন। কী করছেন জানি না।’

এদিকে, বিকল্পধারা প্রেসিডেন্ট ও যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান অধ্যাপক বি. চৌধুরী মঙ্গলবার গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে ২২ জনের তালিকা দিয়ে এসেছেন। যুক্তফ্রন্টের টার্গেট অন্তত ১০টি আসনে ছাড় পাওয়া। তবে বি. চৌধুরীর চাহিদার সঙ্গে বাস্তবতার হিসাব মেলাতে পারছে না আওয়ামী লীগ। বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান জানান, যারা নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসতে পারবেন বিকল্পধারা তাদের নামই প্রস্তাব করেছে, এক্ষেত্রে কোনো অযৌক্তিক দাবি করা হচ্ছে না।

তালিকা চূড়ান্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে বিএনপিকে

আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে গিয়ে শেষ মুহূর্তে এসে বেগ পেতে হচ্ছে নীতি নির্ধারকদের। এক দশক ধরে নির্বাচন না করায় এবং জোটের পরে ঐক্যফ্রন্টের সাথে আসন ভাগাভাগির নতুন সংযুক্তির কারণে প্রার্থীর সংখ্যা অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়েছে। কাকে রেখে কাকে দিবে মনোনয়ন- এনিয়ে বেশ অস্বস্তি চলছে । আবার অনেক আসনে দলের পুরানো সংসদ সদস্যের ইন্তেকাল ও বয়সজনিত অক্ষমতার কারণে সেখানে নতুন মুখের ছড়াছড়ি। সবাই চান প্রার্থী হতে। ইতোমধ্যে বিএনপির প্রায় তিন হাজার প্রার্থীর সাক্ষাত্কার সম্পন্ন করেছেন দলের পার্লামেন্টারী বোর্ড সেখানে কাউকে সবুজ সংকেত দেয়নি। কিংবা কেউ রেড সিগন্যালের আভাসও পাননি। ফলে সবাই আশাবাদী। তবে কেউ নিশ্চিত নন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্ভাব্য প্রার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন। একজনকে দল প্রার্থী করবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে কাজ করা ও দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাদেরকে যে বার্তাগুলো দেওয়া হচ্ছে তা হলো-১. ফাঁকা মাঠে গোল নয়, ২. ভোট কেন্দ্র পাহারা, ৩. ধানের শীষ যার হাতে, পক্ষ তারই, ৪. বিদ্রোহী হলে কঠোর ব্যবস্থা, ৫. বলা মাত্র মনোনয়ন প্রত্যাহার।

স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের সাথে আসন বণ্টন নিষ্পত্তির পর বিএনপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে ঘোষণা দেয়া হবে। এক্ষেত্রে আওয়ামীজোট কাকে কোন আসনে প্রার্থী করছে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। তাদের প্রার্থীর ওজন বুঝে হেভিওয়েট না সাহসী তরুন প্রার্থী দেয়া হবে তা নির্ধারিত হবে।

দলটি গতকাল শরিকদের সাথে আসন ভাগাভাগি নিয়ে বৈঠক করলেও চূড়ান্ত করতে পারেননি। জোট ও ফ্রন্টের নেতারা ইতোমধ্যে যে তালিকা দিয়েছে তাতে বিএনপির নীতি নির্ধারকরা বিস্মিত। দুই শতাধিক প্রার্থীর তালিকা পেয়েছেন তারা। সেখান থেকে কতজনকে বিএনপি ছাড় দিতে পারবে তা নিয়ে হিসাবে মেলাতে গলদঘর্ম অবস্থা নেতাদের। কারণ ৩০০ আসনেই বিএনপির যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন। সেখানে জামায়াত, এলডিপি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য বড় ভাগ বসাতে চায়। দলের একজন নেতা বলেন, আমাদের সাথে আছে মোট ২৭ টি দল। ২০ দলীয় জোটের মধ্যে আছে ২৩ দল আর ড.কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আছে ৪ দল। এই জোটে মাঠের শক্তিতে বিএনপির পরেই জামায়াতের অবস্থান। তাদের সাথে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতার চেয়ে কর্নেল অব.অলি আহমেদের এলডিপিকে নিয়ে আমাদের চিন্তা বেশি। কারণ তাদের দলে নির্বাচনী জয়ী হওয়ার মতো নেতার সংখ্যা মাত্র দুই জন। অথচ তারা প্রথমে ৩০ জনের একটি তালিকা জমা দেয়। পরে আমরা সংক্ষিপ্ত তালিকা চাইলে ১২ জনের নাম দিয়ে এখন কমপক্ষে ৮টি আসন চাচ্ছেন। এর মধ্যে কর্নেল অলি আহমেদ (চট্টগ্রাম-১৩) ও রেদোয়ান আহমেদকে (কুমিল্লা-৭) ছাড় দেয়ার কথা বললে তারা সেটা মানতে রাজি নন। জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী বিএনপির কাছে ৫০ জনের তালিকা দিয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতকে ৩৪ আসন দিয়েছিল বিএনপি। ২টি আসন ছিল ওপেন। সেই অনুপাতে তারা বলছেন, তারা গত দশ বছরে সবচেয়ে বেশী নির্যাতিত ও ত্যাগ স্বীকার করেও বিএনপির সাথে আছেন। ফলে তাদের চাহিদা এবার একটু বেশী। ২০০৮ সালের চেয়ে এবার বেশী আসনে বিএনপির কাছে ছাড় চায় জামায়াত। তবে বিএনপির দায়িত্বশীল একজন নেতা জানান, প্রার্থী তালিকা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতকে যেসব আসন দিয়েছিল এবারও সেখান থেকে জয়ী হওয়ার মতো আসনগুলোতে ছাড় দিতে পারে বিএনপি।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ১২ আসনের তালিকা দিয়েছে। এর মধ্যে দলটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিমকে চট্টগ্রাম-৫ আসনটি ছাড় দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিএনপিকে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। কারণ ওই আসনে বিএনপির একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর নাসির, চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্য ওই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

জাতীয় পার্টির (জাফর) ১৬ জনের একটি তালিকা বিএনপির কাছে জমা দিয়েছে। পার্টির চেয়ারপারসন জয়া কাজী চান কুমিল্লা-১৪ (চৌদ্দগ্রাম) আসন। তবে ওই আসনে জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরও মনোনয়ন চাইছেন। জাগপা তিনটি আসনের তালিকা দিলেও মরহুম শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানকে পঞ্চগড়-২ আসন দেওয়া হতে পারে।

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বিজেপির চাওয়া তিনটি আসন। তবে ভোলা-১ আসনটি পার্থকে দেওয়া হবে এটি মোটামুটি নিশ্চিত। এ ছাড়া খেলাফত মজলিস ৪টি আসন দাবি করলেও তাদের একটিতে ছাড় দেওয়া হতে পারে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের দুটি অংশ থেকে ৫ জন করে তালিকা দেওয়া হয়েছে। এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২ থেকে নির্বাচন করতে চান। মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের রীতা রহমান নীলফামারী-১ আসন চান।

ঐক্যফ্রন্টের দলগুলো চায় শতাধিক আসন। তার মধ্যে মাহমুদুর রহমান মান্না একাই চান ৩৫টি আসন। তবে মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-২), এস এম আকরাম (নারায়ণগঞ্জ-৫) মনোনয়ন পেতে পারেন। গণফোরাম ও ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, মোস্তফা মহসিন মন্টু, জাসদের আসম আবদুর রবকে ছাড় দেয়া হবে এটা নিশ্চিত। আবদুল কাদের সিদ্দিকী একটি আসনে পাবেন। এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংখ্যার ভিত্তিতে নয়; আসন বণ্টন হবে প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনার ভিত্তিতে। ১০ বছর আগে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। কেউ কেউ ইতিমধ্যে মারাও গেছেন। ফলে অনেক যাচাই-বাছাই করে এবার প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন,আসন ভাগাভাগিতে জোটের শরিকদের সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ‘উইনেবল’ প্রার্থী হলে শরিকদের আসন ছাড় দিতে আপত্তি নেই আমাদের। জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা যার বেশি, তাকেই মনোনয়ন দিবে দল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নির্বাচনে জামায়াতকে পরিহার করতে আলেমদের বিবৃতি

রাজনীতির খবর: নবী, দেশ ও জাতির দুশমন মওদুদীবাদী জামায়াতে ইসলামীকে পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন শোলাকিয়ার ঈদগাহের খতিব ফরীদ উদ্দীন মাসঊদসহ ১০১ জন আলেম। শুক্রবার বিকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

১০১ জন আলেমের স্বাক্ষর সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে মওদুদীবাদী জামায়াতে ইসলামী ইসলামের নাম ভাঙিয়ে এ দেশের সাধারণ নারী-পুরুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। জ্বালিয়ে দিয়েছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি। দেশের সর্বত্র জামায়াতি বর্বরতার চিহ্ন লেপটে আছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী এই জামায়াতকে কোনোভাবেই নির্বাচনে জয়ী করা যাবে না।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে এ দেশের মানুষের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইসলামের ভাবাদর্শ নতুনভাবে জাগরিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ইসলামকে ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরে দেশের মানুষকেই হত্যা করেছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, জামায়াতিরা জ্বালাও পোড়ায়ে বিশ্বাসী। এরা সুযোগ পেলেই রক্ত নিয়ে খেলতে জানে। এদের কারণেই কওমি মাদ্রাসার কোনও উন্নতি হয়নি। কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতির বিষয়টিও ঝুলে ছিল। এরা মসজিদে মসজিদে ফাসেক লোকদের বসাতে চায়। দেশকে পাকিস্তানের মতো একটি অকার্যকর রাষ্ট্র বানাতে তত্পর রয়েছে এরা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও শোলাকিয়ার খতিব ফরীদ উদ্দীন, রামপুরা তাকওয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবদুর রহীম কাসেমী, মহাখালী সেন্ট্রাল মসজিদের খতিব মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাইফী, খুলনা খালিশপুর জামিয়া আশরাফিয়ার মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম, জামিআ ইকরা বাংলাদেশ ঢাকার মুহতামিম মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ, রংপুর ধনতোলা মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হোসাইন আহমদ, দিনাজপুর বীরগঞ্জ ফয়জে আম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আইয়ুব আনসারী, খুলনা মাদানীনগর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ইমদাদুল্লাহ কাসেমী, ময়মনসিংহ জামিয়া আশরাফিয়ার মুহতামিম মুফতি তাজুল ইসলাম কাসেমী, উত্তরা মাদ্রাসার বাহসিল ইলমির মুহতামিম মাওলানা ইবরাহীম শিলাস্থানী, কিশোরগঞ্জ জামিয়াতুল ইসলাহর মুহতামিম মাওলানা সাঈদ নিজামী, আশরাফিয়া নূরেরচালার মুহতামিম মাওলানা আবদুল আলিম ফরিদী, বাগেরহাট শরৈই মাদ্রাসার সহকারী মুহতামিম মাওলানা শামসুদ্দীন ত্বহা, ইকরা বাংলাদেশের মুহতামিম ও প্রধান সমন্বয়কারী মাওলানা সদরুদ্দীন মাকুন প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাড়ে ৭ বছরেই উঠে আসবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের খরচ

দেশের খবর: প্রায় ছয় মাস ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকার পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর নিয়ন্ত্রণ বুঝে নিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) সার্বিক তত্ত্বাবধানে এখন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে দেশের প্রথম এই স্যাটেলাইট। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, আগামী সাড়ে সাত বছরেই উঠে আসবে স্যাটেলাইট প্রকল্পে বিনিয়োগ করা অর্থ। আর বাকি সাড়ে সাত বছর মুনাফা এনে দেবে কৃত্রিম এ উপগ্রহটি।

গত ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ফ্যালকন-৯ রকেটযোগে মহাকাশে পাঠানো হয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। মহাকাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথ ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান হয় স্যাটেলাইটটির। এরপরেও নানাবিধ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এর নিয়ন্ত্রণ রকেটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থ্যালেস অ্যালেনিয়ার কাছেই ছিল। পুরো প্রকল্পের জন্য খরচ হয় দুই হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা।

গত ৯ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে স্যাটেলাইটটির যাবতীয় কাগজপত্র ও নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি। পরে সেদিনই সংস্থাটির কাছ থেকে এর নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেয় বিসিএসসিএল।
বর্তমানে গাজীপুরের জয়দেবপুরে অবস্থিত সজীব ওয়াজেদ জয় ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে স্যাটেলাইটটি। বিদেশ থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৮ জন প্রকৌশলী পালা করে ২৪ ঘণ্টা তত্ত্বাবধানে রেখেছে এটিকে। এছাড়াও আরও ১২ জন প্রশিক্ষিত প্রকৌশলী বিটিআরসিতে ‘স্ট্যান্ডবাই’ অবস্থায় আছেন। কোনো কারণে গাজীপুরের ভূ-উপগ্রহকেন্দ্রে কোনো ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে বেতবুনিয়ার ভূ-উপগ্রহ থেকেও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এরইমধ্যে শুরু হয়েছে এটির পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

বিসিএসসিএল এর চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, থ্যালেস অ্যালেনিয়ার কাছে থাকার সময়েও আমরা বন্ধবন্ধু স্যাটেলাইটটি থেকে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়েছি। তখন সীমিত পরিসরে সাফ ফুটবল গেমের সরাসরি সম্প্রচার করেছিলাম আমরা। তবে এখন আর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। এখন আমাদের স্যাটেলাইট সবার জন্য উন্মুক্ত।

‘সবকিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে স্যাটেলাইটটির কার্যকালের (কমপক্ষে ১৫ বছর) অর্ধেক সময়ের মধ্যেই বিনিয়োগের পুরো টাকা উঠে আসবে। বাকি সময়টুকু থেকে আমরা যা আয় করবো তা আমাদের লাভ।’

এরইমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানার টিভি চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে সম্প্রচার কাজ পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির সূত্রে জানা যায়, চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই পাঁচ থেকে ছয়টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল সম্প্রচারিত হবে এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। আর আগামী ডিসেম্বর মাস নাগাদ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করবে দেশের প্রায় অর্ধেক সংখ্যক টিভি চ্যানেল।

তবে বিসিএসসিলের কাছ থেকে প্রতি মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি কত দামে কেনা হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশের চ্যানেলগুলো বাইরে থেকে প্রতি মেগাহার্টজ প্রতি মাসের জন্য চার হাজার ডলার দামে কিনছে। চ্যানেলগুলো সাধারণত মাসে চার মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি কেনে। যারা হাই ডেফিনিশনে সম্প্রচার করে তারা ছয় মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি কেনে। আমরা আশা করছি আমাদের দেশের চ্যানেলগুলোও আমাদের থেকে এই দামেই ফ্রিকোয়েন্সি কিনবে। তবে আমরাও অন্যদের থেকে শর্ত সহজ ও শিথিল রাখবো। সেই হিসেবে ২০টি চ্যানেলও যদি আমাদের থেকে প্রতি মাসে চার মেগাহার্টজ করে ফ্রিকোয়েন্সি কেনে তাহলে আমাদের এখান থেকেই মাসে আয় হবে প্রায় তিন কোটি টাকা। আয়ের আরও খাত তো রয়েছেই।

শাহজাহান মাহমুদ আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশের চ্যানেলগুলো ফ্রিকোয়েন্সির জন্য বিদেশে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার অর্থ পরিশোধ করে। এতে আমাদের দেশীয় মুদ্রা বিদেশে চলে যায়। চ্যানেলগুলো যদি আমাদের স্যাটেলাইট ব্যবহার করে তাহলে জাতীয় স্বার্থে উপকার হবে দু’দিক থেকে। একদিকে দেশীয় মুদ্রার সাশ্রয় হবে, অপরদিক থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানই মুনাফা অর্জন করবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সবার মুখে মুখে ‘দহন’-এর প্রশংসা

বিনোদন সংবাদ: আসছে ৩০ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘দহন’। সমসমায়িক রাজনৈতিক ঘটনা নিয়ে নির্মিত ছবিতে আবারও জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন তরুণ অভিনেতা সিয়াম আহমেদ ও পূজা চেরী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রকাশ পেয়েছে ছবির ট্রেলার। যা প্রকাশের পর প্রশংসায় ভাসছে পুরো ‘দহন’ টিম।

তরুণ নির্মাতা রায়হান রাফীর পরিচালনায় দ্বিতীয় ছবি ‘দহন’। জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় ছবিটি নিয়ে দারুণ আশাবাদী চলচ্চিত্র প্রেমীরাও। কারণ বৃহস্পতিবার ছবির ট্রেলারটি চমকে দিয়েছে সবাইকে। প্রশংসা করছেন ছবির গল্প নির্বাচন ও নির্মাণশৈলী নিয়ে।

ট্রেলার দেখে অনেকেই আঁচ করতে পারছেন বাংলাদেশের ভয়ঙ্কর রাজনীতির দিকটি। যা হুবুহু রিয়েলেস্টিকভাবে ‘দহন’-এর কাহিনীতে উঠে এসেছে। এর জন্য বাহবা পাচ্ছেন রাফী।

বিশাল আয়োজন করে বৃহস্পতিবার এফডিসিতে ‘দহন’-এর ট্রেলার লাঞ্চিং অনুষ্ঠান করে জাজ মাল্টিমিডিয়া। যেখানে উপস্থিত ছিলেন ‘দহন’ টিমের সঙ্গে জড়িত অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ অন্যান্য সকল কলাকুশলীরাও। উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রের নবীন প্রবীন মানুষেরাও। ট্রেলার লাঞ্চিংয়ের পর নিজেদের অনুভূতি জানিয়ে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

ট্রেলারের প্রশংসা করে ছবিটি যে সুপার হিট হতে যাচ্ছে, সে বিষয়েও ভবিষ্যৎ বাণী করেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। তারমতে, এই ছবি টানা কয়েক সপ্তাহ সিনেমা হলে হাউজফুল চলবে।

ওমর সানীর মতো ‘দহন’ নিয়ে উচ্ছ্বসিত অভিনেতা অমিত হাসানও। সমসাময়িক রাজনীতিকে চলচ্চিত্রে তুলে ধরায় নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়াকে অভিনন্দন জানান।

ট্রেলার দেখে শুধু চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মানুষরাই নয়, উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মুখে মুখেও ‘দহন’-এর প্রশংসা শোনা যায়। অনেক বলাবলি শুরু করেছেন, রায়হান রাফীর পরিচালনায় প্রথম ছবি ‘পোড়ামন ২’-এর ব্যবসায়ীক সফলতাকেও ছাড়িয়ে যাবে ‘দহন’!
ট্রেলারে ‘দহন’:

https://www.youtube.com/watch?v=5FAo09tiNrA

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদের কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের খবর: ভবিষ্যত স্বপ্নের বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে তরুণদের বিভিন্ন উদ্যোগ, পরামর্শ ও চাওয়া-পাওয়ার কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) আয়োজিত ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’ অনুষ্ঠানে তরুণদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। সেই সঙ্গে তরুণদের কাছ থেকে গ্রহণ করেন দেশ গঠনে তাদের পরিকল্পনা ও পরামর্শের কথা।

‘ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চায় তরুণরা অথবা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলে কোন কোন সমস্যার সমাধান করবে তারা’- এমন অনেক বিষয়ে আলোচনা হয় এবারের লেটস টক-এ।

সারাদেশ থেকে আসা ১৫০ জন অংশগ্রহণকারী তরুণের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন নীতি নির্ধারনী বিষয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন পেশাজীবী, চাকরিজীবী, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং দেশ গঠনে উদ্যমী তরুণ প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এই আয়োজনে। সেখানে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তরুণদের মুখোমুখি হয়ে তাদের বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন। তরুণদেরকেও বেশ কিছু প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার কৈশোর ও তারুণ্যের সময়ে ঘটে যাওয়া অজানা অনেক তথ্য তুলে ধরণের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে।

একটি রাজনৈতিক পরিবারে বড় হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, তার কৈশোর এবং তারুণ্য কী অন্যদের চাইতে আলাদা ছিল? কী রকম দুরন্ত সময় পার করেছেন তিনি? এমন অনেক প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়াও কৈশোর ও তারুণ্যে রাজনীতিতে যোগদান, স্কুলের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনে যোগ দান, মুক্তিযুদ্ধকালে তার অবরুদ্ধ জীবন, পঁচাত্তরে দেশের বাইরে তার পরিবারের কঠিন জীবনযাপন, ১৯৮০ সালে লন্ডনে যাওয়া, রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের অনুপ্রেরণা, দেশের মানুষের কাছে ফিরে আসা এমন আরো অনেক বিষয়ে অজানা তথ্য তরুণদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তরুণদের কাছ থেকে আসা এমন আরো সব আকর্ষণীয় প্রশ্ন ও তার উত্তর নিয়ে অপেক্ষা করছে ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় তা প্রচার হবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পাইকগাছার কাঠামারীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত

পাইকগাছা ব্যুরো: পাইকগাছায় লতার কাঠামারী রাস মিলন মেলা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে ৪৭তম রাস উৎসব উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে ইউনিয়নের গুনোখালী নদীতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ৩টি নৌকা দলের মধ্যে পুটিমারী খাঁজা বাবা নৌকা প্রথম, গড়খালীর আল্লারদান দ্বিতীয় এবং শামুকপোতা জয়মা নৌকা তৃতীয় স্থান অধিকার করে। প্রতিযোগিতা শেষে উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রেমাংশু সরকারের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাস, প্যানেল চেয়ারম্যান স.ম. আব্দুল বারী, এস,আই শরীফ আল-মামুন, পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ, ক্রীড়া সম্পাদক এস,এম, বাবুল আক্তার, ইউপি সচিব জাবেদ ইকবাল, আ’লীগনেতা গোলক বিহারী মন্ডল, ভূধর চন্দ্র বিশ্বাস, প্রকাশ সরকার টুকু, মহিলা আ’লীগনেত্রী রাধিকা রাণী গোলদার, ইউপি সদস্য কৃষ্ণ রায়, আলমগীর খলিফা, আজিজুল বিশ্বাস, সাবেক ইউপি সদস্য লক্ষ্মী রাণী গোলদার, ব্যাংক কর্মকর্তা নিউটন রায়, সঞ্জিব সরকার, কুমারেশ মন্ডল, বিধান চন্দ্র, যুবলীগনেতা মৃগাঙ্গ মন্ডল, বাবলু গোলদার, উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রসাদ সরকার, আনন্দ বিশ্বাস, সুজিত বিশ্বাস, দেবব্রত শীল, দেবনাথ স্বর্ণকার, সঞ্জয় হালদার, সুকান্ত সরকার, উৎপল সরকার, সরাজ মন্ডল, কৌশিক সরকার, অসীম অধিকারী, সোমনাথ স্বর্ণকার, গৌতম মন্ডল, বিপ্লব সরকার ও অনুপ বিশ্বাস। এর আগে সকালে নীলকোমল ঠাকুরের পূজা, পূণ্য¯œান ও সবশেষে সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest