সর্বশেষ সংবাদ-
মুন্সিগঞ্জ আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে অসহায় মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ায় মানববন্ধনসাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনাসাতক্ষীরায় কৃষকের ছেলে সহকারী সিভিল জজ, আনন্দে ভাসছে পরিবার ও গ্রামঝাউডাঙ্গা কলেজে একাদশ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ৫০তম জাতীয় দাবা ‘বি’ বাছাই না করিয়ে খেলোয়াড় পাঠানোর পায়তারা: সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলনসাতক্ষীরায় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়৬ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরাসাতক্ষীরায় এবি পার্টির আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহ্বায়ক শাকিল, সদস্য সচিব শাহীনসাতক্ষীরায় রিইবের সিএসও’র ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিতসাতক্ষীরায় চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাংচুর ও মারপিট: গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

গণভবনে চোখের পানি ফেললেন মনোনয়নবঞ্চিতরা

রাজনীতির খবর: দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একান্তে পেয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রাণ খুলে কথা বললেন। কেউ তুলে ধরলেন স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বহুবিধ অভিযোগ। কেউ শোনালেন রাজনীতি করতে গিয়ে নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হওয়ার বর্ণনা। কেউ বা জানালেন দলে নিজের অবদানের নানা তথ্য। সঙ্গে সঙ্গে দলীয় সভাপতির উত্তরও মিলল। শেখ হাসিনা কাউকে কঠিন, কাউকে কোমল ভাষায় দলীয় অবস্থান বোঝালেন। বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনের ব্যাংকোয়েট হলে ক্ষমতাসীন দলের দুই শতাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীকে ডাকেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তাঁদের মনোবেদনার নানা কথা শোনেন।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র মতে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে বেশ কয়েক দিন ধরেই বহুবিধ অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন বিপুলসংখ্যক মনোনয়নপ্রত্যাশী। ফলে তাঁদের কথা সরাসরি যাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জানতে পারেন, সে উদ্যোগ নেওয়া হয়। বুধবার রাতে দুই শতাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী হাজির হন গণভবনের ব্যাংকোয়েট হলে। তবে কোনো কোনো আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজে উপস্থিত না থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিজের পক্ষে বক্তব্য দিতে গণভবনে পাঠান। মঞ্চে বসেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

সূত্রগুলো জানায়, উপস্থিত নেতাদের মধ্য থেকে অর্ধশতাধিক নেতা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান। কথা বলার সময় কেউ কেউ কেঁদে ফেললে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ মহাজোটের সমীকরণে শরিকদের আসন ছেড়ে দেওয়ায় নিজেদের বঞ্চিত ও নির্যাতিত হওয়ার কথা তুলে ধরেন। কেউ কেউ নিজ দলীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নানা অন্যায় ও জুলুম-নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন।

বক্তব্য দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন ঢাকা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কোহিনূর বেগম। তিনি বলেন, ‘আমাদের আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একদিকে এলাকায় উন্নয়ন হয়নি, অন্যদিকে আমরা বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমরা চাই এই আসনে নৌকার প্রার্থী দেওয়া হোক’।

কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রুহুল আমিন অভিযোগ এনে বলেন, ‘ঢাকা-৪ আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা আমাদের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন। আমাদের নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা চাই এখানে দলীয় প্রার্থী দেওয়া হোক।’ এ সময়ে শেখ হাসিনা জানতে চান, ‘ওখানে বিএনপির কে নির্বাচন করবে?’ উত্তরে একজন বলেন, ‘সালাউদ্দিন।’ আরেকজন জানান, ২০০৮-এর নির্বাচনে সানজিদা খানম ৪৮ হাজারের বেশি ভোটে বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করেছিলেন।

চাঁদপুরের একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী দলীয় সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, চাঁদপুরের চরে নৌকা আটকে গেছে। তখন শেখ হাসিনা জানতে চান, ‘কেন?’ উত্তরে ওই মনোনয়নপ্রত্যাশী বলেন, এমপির দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে। উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দীপু মনির বিরুদ্ধে তো দুর্নীতির অভিযোগ নাই।’

বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা জানান, নাটোরের একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তখন শেখ হাসিনা জানতে চান, ‘ওখানে বিএনপির কে নির্বাচন করবে?’ উত্তরে মনোনয়নপ্রত্যাশী ওই নেতা বলেন, ‘দুলু’। তখন শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনাদের মনে নাই? আগে তো আহাদ আলী সরকারকে দিয়েছিলাম। তার পরিবারের স্ত্রী, ছেলে কী করেছে?’

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে মহাজোটের সমীকরণে বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ার আলোচনা চলছে। ওই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গোলাম সারোয়ার কবীর বলেন, ‘নেত্রী আমাদের আসনে জনপ্রিয় প্রতীক বা জনপ্রিয় প্রার্থী দিন। যেকোনো একটা হলে জয়লাভ সহজ হয়। আমরা অনেকেই এমপি হতে চাই। তবে আপনার প্রধানমন্ত্রী হওয়া বেশি জরুরি। যাকে মনোনয়ন দিলে আপনি প্রধানমন্ত্রী হবেন সেটাই আপনি করুন।’ জবাবে শেখ হাসিনা হেসে বলেন, ‘তুমি তো ডাবল স্ট্যান্ডার্ড কথা বললা। একদিকে জোটের বিরুদ্ধে বললা, আবার অন্যদিকে বললা আমি প্রধানমন্ত্রী হই এটা চাও।

নেত্রকোনা সদর আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ভিপি লিটন বলেন, ‘২০০১-এর নির্বাচনের পর আমার দুইটা পা ভেঙে দেওয়া হয়। প্রায় দেড় বছর চিকিৎসার পর পায়ের ওপর দাঁড়াতে পারি। আপনি ক্ষমতায় না এলে আমাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়ত।’

নীলফামারী-১ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সরদার ফারহানা আখতার সুমী বলেন, ‘নেত্রী, আপনি আমাদের যেভাবে তৈরি করেছেন তাতে আমরা এখন যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত। আমার এলাকায় এমনভাবে কাজ করেছি যে এখানে বিএনপির চেয়ারপারসন দাঁড়ালেও আমি জয়লাভ করব।’ তরুণ নেত্রীর এমন বক্তব্যে শেখ হাসিনা হাততালি দেন। অন্যরাও হাততালি দেয়। শেখ হাসিনা জানতে চান, ‘তোমার নাম কী?’ উত্তরে সুমী তাঁর নাম বলার পর শেখ হাসিনা উপস্থিত নেতাদের বলেন, ‘দেখছ কী আত্মবিশ্বাস!’

সূত্রগুলো জানায়, নড়াইলের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তিকে মনোনয়ন না দিতে স্থানীয় একজন নেতা বক্তব্য দেন। তবে অন্য একজন নেতা মুক্তির পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লার বিরুদ্ধেও বক্তব্য দেন একজন নেতা। এ ছাড়া পাবনা, বরিশাল, বরগুনা, নরসিংদী ও ঢাকার একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী তাঁদের বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেন।

সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আলাপকালে শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে জয়লাভের ওপর গুরুত্ব দেন। শেখ হাসিনা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কড়া নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘তোমরা যদি গ্রুপিং কর, তাহলে তোমাদের আমি দেখব না। সবাই একসঙ্গে কাজ করে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। নৌকা জিতলে আমরা সরকার গঠন করব। তখন তোমাদের আমি দেখতে পারব। দল ক্ষমতায় আনাই এখন তোমাদের মূল টার্গেট।’

এদিকে গতকালও গণভবনে সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা। এ সময় অনেক নেতা নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। তবে অনেকে দলের অন্য নেতাদের নামে বিষোদগার শুরু করায় শেখ হাসিনা বিরক্ত হয়ে একপর্যায়ে প্রত্যেক জেলা থেকে একজনকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন। খুলনা বিভাগের এক নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে বিভিন্ন সময় সাক্ষাত্ করতে চেয়ে পাননি বলে জানান। এ কথা শুনে শেখ হাসিনা তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দেন এবং পরে ওই নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার

দেশের খবর: আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নের জন্য ঢাকায় এসে চার দিন আগে পল্টন থেকে নিখোঁজ যশোরের বিএনপি নেতা আবু বকর আবুর লাশ মিলেছে বুড়িগঙ্গায়।

বিএনপি দাবি করেছে, ক্ষমতাসীনদের মদদে হত্যা করা হয়েছে ধানের শীষ নিয়ে ভোট করতে আগ্রহী স্থানীয় এই নেতাকে।

আবু বকর আবু (৫৮) যশোর জেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। চিরকুমার এই জনপ্রতিনিধি টানা চতুর্থ বার কেশবপুরের মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করলেও সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন চেয়েছিলেন এবারই প্রথম।

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি শাহ জামান বলেন, মঙ্গলবার বিকালে বুড়িগঙ্গা নদীর ফরিদাবাদ ডকইয়ার্ড বরাবর নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।

বুধবার রাতে তার স্বজনরা সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন বলে জানান তিনি।

ওসি শাহ জামান বলেন, “লাশ অনেকটাই পচে গেছে। পরনে ছিল স্যান্ডো গেঞ্জি আর পাজামা। তার ভাগ্নে আর ভাতিজা তাকে আবু বকর আবু হিসেবে শনাক্ত করেছেন।”

তার ভাগ্নে খুলনার একটি স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক জাহিদ হাসান বলেন, “গত রোববার রাতে পল্টনের মেট্রোপলিটন হোটেল থেকে মামা নিখোঁজ হন। আজ তার লাশ পাওয়া গেল।”

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, আবুকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকাও আদায় করা হয়েছে। কিন্তু তাকে আর মুক্তি দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে বুধবার দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে যে তালিকা দেওয়া হয়েছিল, সেখানেও আবুর নাম ছিল।

তবে কারা কেন কীভাবে আবুকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা পুলিশ দিতে পারেনি।

ভাগ্নে জাহিদ হাসান জানান, যশোর-৬ আসনের মনোনয়ন ফরম নেওয়ার জন্য গত ১২ নভেম্বর ঢাকায় এসে পল্টন এলাকার মেট্রোপলিটন হোটেলে ওঠেন আবু। মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম তার সঙ্গে ছিলেন।

বিএনপির মনোনয়ন ফরম তুলে ও জমা দেওয়ার পর সোমবার সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি ওই হোটেলেই ছিলেন। সেখান থেকে রোববার রাত ৮টার দিকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনি অপহৃত হন বলে স্বজনদের ধারণা।

জাহিদ জানান, সেদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মামার ফোন থেকে কয়েকটি মিসড কল যায় কেশবপুরে তার ফুপাতো ভাই (আবুর ভাতিজা) হুমায়ূন কবিরের ফোনে। পরে অন্য একটি নম্বর থেকে হুমায়ূন কবিরকে ফোন করে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দেওয়ার জন্য একটি বিকাশ নম্বরও দেওয়া হয়।

“কিন্তু সেদিন রাত হয়ে যাওয়ায় বিকাশে আর টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। সোমবার অপহরণকারীরা অন্য একটি নম্বর থেকে যোগাযোগ করে। পরে তাদের দেওয়া কয়েকটি নম্বরে দেড় লাখ টাকা বিকাশ করা হয়।”

জাহিদ বলেন, মঙ্গলবার অপহরণকারীরা যোগাযোগ করে দেড়লাখ টাকা পাওয়ার কথা জানিয়ে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার রফা হয়। দুটি নম্বরে সেই টাকা পাঠানো হয়।

“অপহরণকারীরা টাকা পাওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে পল্টন এলাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও মামাকে আর ছাড়েনি। পরে তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।”

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, “আবু বকর আবুর ভাতিজা হুমায়ুন কবির মঙ্গলবার থানায় এসে তার চাচার নিখোঁজ হওয়ার কথা জানান। এরপর আমি অনুসন্ধান শুরু করি। পল্টনের ওই হোটেলে গিয়ে সিসিটিভির ফুটেজও সংগ্রহ করি। সেখানে রোববার রাতে একটি ব্যাগ হাতে তাকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।”

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে আবুর মোবাইল ফোনের সিগনাল পাওয়া যায় পুরান ঢাকার নবাবপুর রোডের একটি টাওয়ারে। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন, কেরানীগঞ্জে একটি লাশ পাওয়া গেছে, যেটি আবুল লাশ হিসেবে শনাক্ত করেছেন তার ভাতিজা ভাগ্নেরা।

‘পরিকল্পিত হত্যা’

আবু বকরের লাশ শনাক্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, “সরকার এখন আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছে। যশোর জেলা বিএনপির নেতা ও চারবারের একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধিকে হোটেল থেকে তুলে নেওয়া হল, আর গায়েব করে হত্যা করার মাধ্যমে তার লাশ বুড়িগঙ্গায় ফেলা দেওয়া হল।

“বর্তমান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এজেন্সির মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। আমি আবু বকর আবুর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। অবিলম্বে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।”

রিজভী বলেন, “বুড়িগঙ্গা নদীতে তার লাশ পাওয়া গেছে। জনপ্রিয় এই জনপ্রতিনিধিকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর লাশ বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেয় হত্যাকারীরা। কোটা সংস্কার আন্দোলনে এভাবেই একজন আন্দোলনকারীর লাশ ভেসে উঠেছিল বুড়িগঙ্গায়। সরকার গোটা দেশকে এখন মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত করেছে।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে সংখ্যালঘু নির্যাতন কয়েকগুণ বেড়ে যাবে—- শাহারিয়ার কবির

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৩ সালের ২০জুন কালিগঞ্জের বিশ্বানাথপুর গ্রামের সরকার পরিবারের জমি জবরদখল করতে তারালী ইউপি চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আব্দুল গফুরের নেতৃত্বে মন্দির ভেঙে আগুন দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ বিঘা জমি দখল করে বানানো হয়েছিল খেলার মাঠ। বাধা দেওয়ায় ধীরেন্দ্র নাথ সরকার, নরেন্দ্র নাথ সরকার, সুরেন্দ্র নাথ সরকার, বীরেন্দ্র নাথ সরকার, রবীন্দ্র নাথ সরকার, তাদের স্ত্রী আদুরি, বনলতাসহ কয়েকজনকে পিটিয়ে জখম করা হয়। ওই পরিবারের এক গৃহবধুকে উপর্যুপরি নির্যাতন করে ধর্ষণ করা হয়েছিল। সম্ভ্রম বাচাতে ওই নারী অত্যাচারি জামায়াত নেতাদের পায়ে ধরেছিলেন। ধরম বাপ ডেকেছিলেন। এরপরও শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ডাক্তার দেখে বলেছিলেন এ ধরণের অত্যাচার মেনে নেওয়া যায় না। অথচ ওই ডাক্তার যখন ডাক্তারি সনদ পত্র দিয়েছিলেন তখন ধর্ষণের আলামত মেলেনি। ডাক্তার জামায়াত ছিল বলেই এমনটি হয়েছিল।
বৃহষ্পতিবার বিকেলে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের হরি মন্দিরের সামনে আয়োজিত সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন সম্পর্কিত এক স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রদান অতিথির বক্তব্যে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সভাপতি শাহারিয়ার কবির এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ২০০১ সালের ২২ নভেম্বর তাকে জেলে পাঠানো হয়। এসময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আসামী ছিল সাত হাজার। দু’ মাস পর যখন তিনি জেল থেকে বের হন তখন আসামী ছিল ১৩ হাজার। যার ৯২ শতাংশই ছিল আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী। তাদের জেলে বাইরে ও ভেতরে যেভাবে মেরে হাত পা’ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল তাদের চিৎকার ও যন্ত্রনায় রাতে ঘুমোতে পারতেন না তিনি। অথচ সে দিনের অত্যাচারিরা এখন গায়েবী মামলায় তাদের লোকজনকে ধরে জেলে পাঠানো হচ্ছে বলে চিৎকার করছেন। বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে ফাতেমা বলে এক গৃহপরিচারিকাকে রাখতে দিয়ে জেল কোড আইন ভঙ্গ করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
শাহারিয়ার কবীর বলেন, ২০০১ সালে নির্বাচন পরবর্তী খুলনার সাংবাদিক মানিক সাহা, হুমায়ুন কবীর বালু, হুমায়ুন আজাদসহ ১৬ জন সাংবাদিক ও কলামিষ্টকে হত্যা করেছিলো মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি জামায়াত ও শিবির। তারা তো আর আওয়ামী লীগ করতেন না। স্বাধীনতা পরবর্তী ২৪ বছর স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বাংলাদেশে শোষন ও শাসন করাটা দূঃখের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা ও জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছিল। হত্যাকারিদের প্রধান ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে এসব ঘটনায় আত্মস্বীকৃত কয়েকজনের বিচার হলেও আইএসআই এর প্রধান প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সিআই এর গুপ্তচরদের শাস্তি হয়নি। ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ১০ হাজার ঘটনায় ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল। এসব ঘটনায় সনাতন ধর্মের অনুৃসারী ধর্মীয় সংখ্যালঘু হওয়া ও নৌকায় ভোট দেওয়ার কারণে তাদের উপর নির্যাতন করা হয় বলে শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়। সিরাজগঞ্জে পূর্ণিমাকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল তা সংবাদ সস্মেলন করার সময়শুনতে পেরে বিবিসি’র নারী সাংবাদিক শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। নির্যাতিতদের অনেকেই মামলা করেত পারেনি। আবার মামলা করলেও তুলে নিতে হয়েছে জামায়াত নেতাদের হুমকিতে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি পরবর্তী সময়ে রামু, নাসিরনগর ও গোবিন্দগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাঠ হয়েছিল। হামলাকারি জামায়াত শিবিরের লোকজন আওয়ামী লীগের ঘাড়ে ভর করে এসব সহিংসতা করেছিল। জামায়াত ইসলামের সংবিধানে শুধু মাত্র মুসলমান ছাড়া কোন হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তি সদস্য হতে পারবে না। যেটা বাংলাদেশর সংবিধানের পরিপন্থী, যে কারণে তাদের সংবিধান বাতিল হয়ে নির্বাচন করতে পারছে না। আজ সেই জামায়াত বি,এন,পির ঐক্যে ডাঃ কামাল হোসেন নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ডাঃ কামাল হোসেন ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি সংবিধানে রেখে সংবিধান রচনা করেছিলেন। ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট গে্েরনড হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪ জনকে হত্যা সম্পর্কিত কমিশনের সদস্য হিসেবে ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন এ দায় বর্তমান সরকারের। অথচ সেই কামাল হোসেন বিএনপি জামায়াতের সমন্বয়ে গঠিত ঐক্যফ্রন্টর নেতৃত্ব দিয়ে নিজের ভাবমুর্তি নষ্ট করেছেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সময় বাংলাদেশে ৮.৬ শতাংশ হিন্দু বসবাস করেছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন বর্তমানে এ দেশে হিন্দুৃদের বসবাসের সংখ্যা ১০.২ শতাংশ। ভারতে চলে যাওয়া অনেক হিন্দুই দেশে ফিরে এসেছে এবং এদেশ থেকে কোন হিন্দুই এখন ভারতে যাচ্ছে না ফলে দেশে হিন্দুর সংখ্যা বাড়ছে এটা একটি মানবাধিকা সূচক বলে দাবি করেন তিনি। ১২ থেকে ৪৮ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট আছে এমন ৯৬টি কেন্দ্রে তারা ভোট পর্যবেক্ষন করবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে ৫৮টি কেন্দ্রে নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি বিশেষ কমিটি গঠণ করবে। এজন্য সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু সরকার নয় এলাকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে এজন্য কাজ করতে হবে। ২০০১ সালে ও ২০১৪ সালে নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার হয়েছিল। আগামিতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না গেলে ওই অত্যাচার কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলে সকলকে সতর্ক করে তিনি বলেন, জামায়াত , মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি ও হাইব্রীড আওয়ামী লীগারদের আগামী সংসদীয় নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান শাহারিয়ার কবির। সহিংসতা প্রতিরোধে পাড়ায় পাড়ায় ও মহল্লায় মহল্লায় প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তারালী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির খুলনা অঞ্চলের সভাপতি ডাঃ শেখ বাহারুল আলম, ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ আশেক এলাহী, শ্যামনগর উপজেলা হিনউ বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি জয়দেব বিশ্বাস, নির্যাতিত ধীরেন্দ্র নাথ সরকার প্রমুখ। স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে শাহারিয়ার কবীর সরকার পরিবারের নির্যাতিত ১০জন নারী ও পুরুষের হাতে বস্ত্র তুলে দেন। পরে তিনি নির্যাতিতদের বাড়িতে যেয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সিরাজগঞ্জের নির্যাতিত পূুর্ণিমা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্রীউলায় শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের ইউনিয়ন কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে নাকতাড়া কালিবাড়ী বাজার প্রাঙ্গনে আশাশুনি উপজেলা শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের সভাপতি ও ইউপি সদস্য দিবাকর সেন এবং সাধারণ সম্পাদক বাবলুর রহমান বাবলুর স্বাক্ষরিত ১১ সদস্যের এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।
শ্রীউলা ইউনিয়ন নবগঠিত এ কমিটিতে সৌমিত্র কুমার মন্ডলকে সভাপতি ও মো: আশরাফুল আলমকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
এছাড়া কমিটিতে সহসভাপতি-১ আব্দুস সবুর মল্লিক,সহসভাপতি-২ রবিউল ইসলাম, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক রামদাস সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক সুকৃতি সরকারকে করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, শ্রীউলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মাদ সরদার, সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফেরদৌস আহমেদ মিঠু।
আশাশুনি উপজেলা শাখার সভাপতি দিবাকর সেন জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১ বছরের জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
উক্ত কমিটির নেত্রীবৃন্দ আগামী দিনে দেশ ও জাতির কল্যানে জননেত্রী শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করবে এই আশাবাদ ব্যাক্ত করে অভিনন্দন বার্তা প্রদান করেন জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ল স্টুডেন্টস ফোরামের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ল স্টুডেন্টস ফোরামের ৩য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ল স্টুডেন্টস ফোরামের আয়োজনে ল কলেজের হল রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ল স্টুডেন্টস ফোরামের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ল কলেজের অধ্যক্ষ এড. এসএম হায়দার। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রভাষক এড. অরুন কুমার ব্যানার্জী, এড. মুনির উদ্দীন, এড. সিরাজুল ইসলাম, এড. নাজমুন নাহার ঝুমুর, এড. লাকি ইয়াছমিন, এড. হোসনেয়ারা, এড. শরীফ আজমীর হোসাইন রোকন। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন ল স্টুডেন্টস ফোরামের সাবেক সভাপতি নাজমুল হক, সাধারণ সম্পাদক কাজী শাহাবুদ্দীন সাজু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোখলেছুর রহমান, অহিদুল ইসলাম, ইখতেয়ার সহ ল স্টুডেন্টস ফোরামের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন ল স্টুডেন্টস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব হোসেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফিংড়ীতে ডি,এই ব্লুগোল্ড সিএ,ডাব্লু,এম’র মাঠ দিবস

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
ব্লুগোল্ড কর্মসূচির আওতায় কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রকল্পের আওতায় গোবিন্দপুর ও ফিংড়ী ঠাকুরপাড়া ডি,এই ব্লুগোল্ড সিএ,ডাব্লু,এম কৃষক মাঠ স্কুলের মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় ফিংড়ী মাঠে নিমাই চন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবেস প্রধান অতিথি ছিলেন, সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ অরবিন্দু বিশ^াস। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আমজাদ হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ প্লাবনী সরকার, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার রঘুজিৎ গুহ, বিশ^জিৎ দাস, নীলকণ্ঠ সরকার, মোঃ হাবিবুল্লাহ, হাসানুজ্জামান প্রমুখ।
প্রধান অতিথি বলেন, আমরা বাংলাদেশীরা খাদ্যে, মাছে ও মাংসে স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়েছি। আমাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, তেলের ঘাটতি পূরণে ফল,সবজি ও মশলার আবাদ বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি কৃষি অফিসার আমজাদ হোসেন বলেন, টেকসই কৃষি উন্নয়ন, কৃষকদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ক্লাব গঠন করে দলগতভাবে কাজ করা। সঞ্চয় করা ও ব্লুগোল্ড স্কুল শেষ হওয়ার পরে নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সকল কার্যক্রম বজায় রাখার আহ্বান জানান।
উপ-সহকারী কৃষি অফিসার রঘুজিৎ গুহ বলেন,ফিংড়ী এলাকার মাঠে রোপা আমন ধান কেটে বারি সরিষা-১৪ বপন করে বোরো চাষ করা, ফল গাছের পরিচর্যা করা, গাছে সুষম সার ব্যবহার করা, নারিকেল গাছঝোড়া ও মাকড় নাশক ব্যবহার করা এবং বেগুন ও সবজি,আম, পেয়ারার মাছিপোকা দমনে সেক্সফেরমন ফাঁদ ব্যবহার করার আহ্বান জানান। উক্ত মাঠ দিবসে ২০০জন কৃষক-কৃষানী উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রেজাউদ্দিন স্টালিনের ৫৬তম জন্মদিন সাতক্ষীরায় উদযাপিত

আশির দশকের অগ্রগণ্য কবি, লেখক, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও নজরুল ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিনের ৫৬তম জন্মদিন সাতক্ষীরায় উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা নজরুল একাডেমিতে এই মহান ব্যক্তির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শিক্ষক প্রাণকৃষ্ণ সরকার, সভাপতি অগ্নিবীণা সাতক্ষীরা জেলা সংসদ। অগ্নিবীণা সাতক্ষীরা জেলা সংসদ ও নজরুল একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক ছিলেন কবি শুভ্র আহমেদ। আলোচক ছিলেন স ম তুহিন, হাফিজুর রহমান, মনিরুজ্জামান মুন্না, তৃপ্তিমোহন মল্লিক, পলাশ রহমান। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন আব্দুল আজিজ মোল্লা, রাজ্জাক আলী, সাইদুল ইসলাম টিপু, ইঞ্জিনিয়ার কবির উদ্দীন, সোনালী আক্তার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নাজমুল হক পল্টু, চিত্র শিল্পী এম এ জলিল, স্বপন কুমার শীল, বাবলু ভঞ্জ চৌধুরী, এ এফ এম আহাদ, সুলতান মাহমুদ রতন। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রঞ্জু আহমেদ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মাত্র দুটি সবজি খান, হবে না স্কিন ক্যান্সার

স্বাস্থ্য কণিকা: সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির কারণে ত্বকের ক্যান্সার হয়, সকলেরই জানা। তাই রোদ থেকে গা বাঁচতে ছাতা, সানস্ক্রিন আরও কত কি ব্যবহার করি আমরা। অথচ প্রচুর পরিমাণে সবজি খেলে এ ক্যান্সার ঝুঁকি আপনি কমাতে পারেন ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত!
অস্ট্রেলিয়ায় এক হাজার মানুষের ওপর ১১ বছর ধরে চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে যারা কমপক্ষে নিয়মিত তিন দিন সবজি খেয়েছেন, তাদের ত্বকের ক্যান্সার ৫৫ শতাংশ কমে গেছে।
বিজ্ঞানীরা এর কারণ হিসেবে এসব সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যান্সাররোধী উপাদান থাকার কথা জানান।
তবে সবজিগুলোর মাঝে বিশেষ করে ব্রোকলি আর ফুলকপি বেশি বেশি খাওয়ার কথা বলা হয়েছে। কারণ ত্বকের ক্যান্সার রোধে এই সবজি দুটি বেশি কার্যকরি।

ফুলকপি:
পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সবজি রোগ প্রতিরোধক হিসেবে দারুণ উপকারী। তাই খাওয়ার আগে জেনে নিন কেন খাবেন এই সবজি। ফুলকপিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ উপাদান।
ভিটামিন এ, বি ছাড়াও আয়রণ, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও সালফার পাওয়া যায়। ফুলকপির ডাঁটা ও সবুজ পাতায়ও রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম।
ফুলকপিতে ক্যালরির পরিমাণ অনেক কম। ক্যান্সার প্রতিষেধক হিসেবে খেতে পারেন সবজিটি। ফুলকপি ক্যান্সার সেল বা কোষকে ধ্বংস করে। এছাড়া মূত্রথলি ও প্রোস্টেট, স্তন ও ডিম্বাশয় ক্যান্সার প্রতিরোধে ফুলকপির ভূমিকা অপরিসীম।
ফুলকপিতে থাকা ভিটামিন এ ও সি শীতকালীন বিভিন্ন রোগ যেমন: জ্বর, কাশি, সর্দি ও টনসিল প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ফুলকপির ভিটামিন এ চোখের জন্যও উপকারী।

উচ্চ রক্তচাপ, হাই কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস রোগীরা ফুলকপি খেতে পারেন নিঃসঙ্কোচে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও কোলেস্টেরল কমাতেও ফুলকপি ভালো কাজ করে। ফুলকপিতে থাকা আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

ব্রোকলি:
পুষ্টিগুণে ভরা ব্রোকলিতে (এক ধরনের ফুলকপি) ক্যানসার এবং হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধী উপাদান রয়েছে। তবে চলুন জেনে নেই ব্রোকলির প্রধান প্রধান স্বাস্থ্যগুণের কথা। ব্রোকলিতে ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান রয়েছে। এটি ক্রুসিফেরাস জাতীয় সবজি। এই গ্রুপের সব সবজি পাকস্থলী ও অন্ত্রের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ব্রোকলিতে দ্রবণীয় আঁশ রয়েছে, যা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে। ফটোকেমিক্যালস গ্লুকোরাফ্যানিন, গ্লুকোনাসটারটিন এবং গ্লুকোব্র্যাসিসিন উপাদান রয়েছে ব্রোকলিতে। এসব উপাদান শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সহায়তা করে।

কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। তাছাড়া, হৃদপিণ্ডের রক্তনালীকে শক্তিশালীকে করে ব্রোকলি। সালফোরাফানে উপাদান রয়েছে ব্রোকলিতে, যা প্রদাহ প্রতিরোধী হিসেবে কাজ করে।

ব্রোকলিতে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন সি ও ফ্ল্যাভোনয়েডস রয়েছে। তাছাড়া, ক্যারটিনয়েড লুটিয়েন, জিয়াজানথিন, বেটা ক্যারোটিন এবং অন্যান্য শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest