সর্বশেষ সংবাদ-
৬ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরাসাতক্ষীরায় এবি পার্টির আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহ্বায়ক শাকিল, সদস্য সচিব শাহীনসাতক্ষীরায় রিইবের সিএসও’র ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিতসাতক্ষীরায় চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাংচুর ও মারপিট: গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনআশাশুনিতে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ইজিবাইকের ওপর: অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন পথচারীসাতক্ষীরায় উপজেলা পর্যায়ে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি সমাবেশশ্যামনগরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি সেবা প্রাপ্তির মানোন্নয়নে পাবলিক হেয়ারিংগভীর রাতে গাবুরায় গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ‌দাফন সম্পন্নগাজী নজরুলের ফাঁ*সির দাবিতে উত্তাল শ্যামনগরসাতক্ষীরায় যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা, আনন্দ মিছিল

নেইমারের গোলে ব্রাজিলের জয়

খেলার খবর: লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতে প্রীতি ম্যাচে উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে টানা পঞ্চম জয় তুলে নিল ব্রাজিল।
১৪তম মিনিটে একক প্রচেষ্টায় দলকে এগিয়ে নেওয়ার দুটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন নেইমার। প্রথমবার পিএসজি ফরোয়ার্ডের ফ্রি-কিক ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান গোলরক্ষক। দ্বিতীয়বার তার দূরপাল্লার শট ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়।

আর ২২তম মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় উরুগুয়ে। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে লুইস সুয়ারেসের জোরালো শটে বল গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে ক্রসবারের একটু উপর দিয়ে যায়। বিরতির ঠিক আগে এদিনসন কাভানির কাছ থেকে নেওয়া শটও কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন আলিসন।

৭৬তম মিনিটে স্পট কিকে জয়সূচক গোলটি করেন নেইমার। ডি-বক্সে দানিলো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টিটি পায় ব্রাজিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সব সাম্প্রদায়িক শক্তি এখন ধানের শীষে ভর করেছে

রাজনীতির খবর: সব সাম্প্রদায়িক শক্তি এখন ধানের শীষে ভর করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘যারা এতদিন গণতন্ত্রের বেশে ছিল, তারা ছদ্মবেশী। তারা এতদিন মুক্তিযুদ্ধের নানা বুলি ছড়িয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধেও ছিল, তারা ছদ্মবেশী মুক্তিযোদ্ধা।’

শুক্রবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

কাদের বলেন, তারা সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে নির্বাচনে জেতার জন্য, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আঁতাত করতে থাকে। তাদের সবার পরিচয় সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। এটার বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই।

আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছে বিএনপির এমন অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা বেপরোয়া হয়ে গেছে। আসলে জনসমর্থের যে পারদ তাতে তাদের অবস্থান নিচের দিকে। তারা অনুধাবন করতে পেরেছে, তারা হতাশা থেকে বেপরোয়া হয়ে গেছে এবং বেপরোয়া বক্তব্য দিচ্ছে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে কয়েকটি মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের অভিযোগ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই – এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগুন দিয়ে পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে ফেলবে, ভাঙচুর করবে, ২০ জন পুলিশকে আহত করে হাসপাতালে পাঠাবে, এই অপকর্ম সন্ত্রাস, সহিংসতার কাজ কি বিনা শাস্তিতে ঢাকা পড়ে যাবে? তফসিল ঘোষণার পর এই দুঃসাহস তারা কিভাবে দেখায়? অপরাধ করলে কি অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা হওয়া অপরাধ? এটা ক্রিমিনাল অফেন্স, অ্যাক্ট অব টেররিজম। এ ধরনের অপরাধ বিনা শাস্তিতে যাবে না। পুলিশ কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করছে না, যাতে নির্বাচনটা ভালোভাবে হয়। দেশের মানুষ যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারে এজন্য সরকারি দল হিসেবে আমরা অনেক কিছু সহ্য করে যাচ্ছি। তারা যেন আমাদের সহনশীলতাকে দুর্বলতা না ভাবে।

কাদের আরও বলেন, পল্টনে পুলিশের ওপর হামলা করে তারা প্রমাণ করেছে। তারা তাদের পুরানো পথ, আগুন সন্ত্রাসের পথ, সেই পথ ধরে এগিয়ে যেতে চায়। কারণ তারা জানে বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন তাদের পক্ষে নেই। সেই কারণে তারা সহিংসতার পথ, নাশকতার পথ বেছে নিয়েছে। কানাডার আদালত যেই রায় দিয়েছে সেই চরিত্র থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পারবে না।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবাহান গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, দক্ষিণ মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জাতিসংঘে মিয়ানমারবিরোধী রেজ্যুলেশন গৃহীত

বিদেশের খবর: মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করার জন্য একটি নিরপেক্ষ মেকানিজম প্রতিষ্ঠার দ্রুত তাগিদ দিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের তৃতীয় কমিটিতে।

শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) এ বিষয়ে ভোট হয়। ১৪২টি দেশ এই প্রস্তাব সমর্থন করে, ১০টি দেশ বিরোধিতা এবং ২৬টি দেশ ভোট দানে বিরত থাকে।

থার্ড কমিটির রেজ্যুলেশনটি ৯৯টি দেশ কো-স্পন্সর করছে।

গত বছরেও থার্ড কমিটিতে রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি রেজ্যুলেশন পাস হয়। ওই রেজ্যুলেশনটিও ৯৭টি দেশ কোস্পন্সর করেছিল।

রেজ্যুলেশনে বলা হয়েছে, রাখাইনে মুসলিমরা মিয়ানমারের স্বাধীনতার পূর্বেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বসবাস করছে। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন পুনর্বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব প্রদানের আহ্বান জানিয়ে মিয়ানমার সরকারকে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর যারা অত্যাচার করেছে, তাদেরকে বিচারের আওতায় আনার জন্য।

বর্তমান রেজ্যুলেশনে মিয়ানমারে মানবাধিকার লংঘন তদন্তের জন্য দ্রুততার সঙ্গে নিরপেক্ষ মেকানিজম প্রতিষ্ঠার ওপরে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের মিলিটারির ওপরে যেন বেসামরিক সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

রাখাইনে সামরিক অভিযানের কারণে নিয়মতান্ত্রিকভাবে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লংঘন করা হচ্ছে এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানানো হয়, এই অভিযান বন্ধের এবং এর জন্য যারা দোষী তাদেরকে বিচারের আওতায় আনার জন্য।

আরও বলা হয়, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে রাখাইনে ফেরত যেতে পারে এবং রাখাইনে যেন জাতিসংঘসহ অন্যান্য সাহায্য সংস্থা কাজ করতে পারে।

রেজ্যুলেশনে জাতিসংঘের মহাসচিবকে ‘মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত’ নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রশংসা করে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ যেন মিয়ানমারকে সহায়তার প্রস্তাব করে।

এছাড়া, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনসহ সব সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সহযোগিতাকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন, নাগরিকত্ব প্রদান, কফি আনান কমিশন রিপোর্টের পূর্ণ বাস্তবায়ন, রোহিঙ্গাদের নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় এই রেজ্যুলেশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া, রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দ্রুত যাচাই-বাছাই করে ফেরত নেওয়ার জন্য এবং এ বিষয়টিও এই রেজ্যুলেশনে উল্লেখ আছে।

রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠির মধ্যে অস্থিতিশীল ও নিরাপত্তাহীনতা পরিস্থিতি যাতে করে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেবারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে ২০১৫ সালে অং সান সুচি সরকার গঠনের আগে একই শিরোনামে ‘মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক একটি রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়। সেখানে মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। সেই রেজ্যুলেশনে ১৯টি প্যারার মধ্যে রোহিঙ্গা বিষয়ে শুধুমাত্র একটি প্যারা ছিল।

২০১৭ এর রেজ্যুলেশন:

গত বছরের রেজ্যুলেশনে ৯৭টি দেশ কোস্পনসর ছিল। এছাড়া, অনেক দেশ আছে, যারা কোস্পনসর হয়নি, তারা এর পক্ষে ভোট দিয়েছে।

এই রেজ্যুলেশনের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল চীন, রাশিয়াসহ ১০টি দেশ এবং কোনও ভোট দেয়নি ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ ২৬টি দেশ। এর পক্ষে ভোট দিয়েছিল ১৩৫টি দেশ।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা রেজ্যুলেশনটির পক্ষে ১০৪টি দেশ ভোট দেয়, ১৩ টি দেশ বিপক্ষে এবং বাংলাদেশসহ ৩৭ জন কোনও ভোট দেয়নি।

২০১৫ সালের রেজ্যুলেশনের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল চীন, রাশিয়া, ইরান, উজবেকিস্থানসহ ১৩টি দেশ এবং কোনও ভোট দেয়নি ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ ৩৭টি দেশ।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর জাতিগত নিধন অভিযান শুরু হলে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শত ভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না বাংলাদেশে -কবিতা খানম

ন্যাশনাল ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন শত ভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না বাংলাদেশে। তিনি বলেন, হানড্রেড পারসেন্ট (শত ভাগ) সুষ্ঠু নির্বাচন হবে—এটা পৃথিবীর কোনো দেশেই হয় নাই। আমাদের দেশেও হবে না। সুতরাং আমরা বলতে চাই, একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন (করতে হবে), যেটা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকবে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন কমিশনার ।

তিনি বলেন, দেশে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। এই হাওয়া যেন কোনোভাবেই বৈরী না হয়, এই নির্দেশনা কমিশন থেকে থাকবে। আপনাদের সেটা প্রতিপালন করতে হবে।

কমিশন চায় না নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হোক উল্লেখ করে কবিতা খানম বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে তুলে আনা অনেক কঠিন কাজ। সবার সঙ্গে সদাচারণ করে, সৎ ব্যবহার করে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু করার দায়িত্ব শুধু নির্বাচন কমিশনের নয়, এটা সবার দায়িত্ব। এজন্য সবার সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন কবিতা খানম।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হবে, এটা ফিক্সড। এই নির্বাচন হবে সব দলের অংশগ্রহণে। তাই নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক।’

দেশের অনেক জায়গায় এখনও ব্যানার, পোস্টার নামানো হয়নি উল্লেখ করে হেলালুদ্দীন আহমদ নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘১৮ নভেম্বরের মধ্যে যাতে এগুলো নামিয়ে ফেলা হয় এবং মনোনয়নপ্রাপ্তরা যাতে ব্যানার-পোস্টার লাগানোর সুযোগ পান।’

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর এবং ভোটের দিন ৩০ ডিসেম্বর।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইল ঐক্যফ্রন্ট

দেশের খবর: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ সহযোগিতা চায় ঐক্যফ্রন্ট।

মতবিনিময়ের পর ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সম্পাদকদের সঙ্গে আমরা মতবিনিময় করেছি। এই মতবিনিময় আমাদের জন্য খুবই মূল্যবান। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের কাছ থেকে তারা কী আশা করেন সে বিষয়ে তারা মত দিয়েছেন, আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সরকারের যেসব জিনিস আমরা চিহ্নিত করেছি, আশা করবো সংবাদমাধ্যম এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখবে।’

পরে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমরা সংবাদমাধ্যমের সব ধরনের সহযোগিতা চেয়েছি।’

জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনের লক্ষ্যে গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর এবারই প্রথম এই জোটের নেতারা গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন।

সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে অংশ নেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমেদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

অন্যদিকে সম্পাদকদের মধ্যে ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, হলিডে সম্পাদক সৈয়দ কামালউদ্দিন, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবীর, আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান, বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, দিনকাল সম্পাদক রেজোয়ান সিদ্দিকী, সাপ্তাহিক বুধবার সম্পাদক আমির খসরু, সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোর্তজা প্রমুখ। এছাড়া সিনিয়র সাংবাদিকদের মধ্যে এএফপি ব্যুরো প্রধান শফিকুল আলম, রয়টার্সের ব্যুরো প্রধান সিরাজুল ইসলাম কাদির, ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক মুন্সি আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশের খবরের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, সমকালের প্রধান প্রতিবেদক লোটন একরাম প্রমুখ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিএনপির গ্রেফতার ৪৭২ নেতাকর্মীর তালিকা ইসিতে

রাজনীতির খবর: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে দেশব্যাপী গ্রেফতার হওয়া ৪৭২ জন নেতাকর্মীর তালিকা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দিয়েছে বিএনপি।

নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারসহ গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিতে ইসির হস্তক্ষেপ চেয়েছে দলটি।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি শুক্রবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে পৌঁছে দেন দলটির কেন্দ্রীয় মামলা ও তথ্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন খান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠিতে মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে আপনাদের নিরপেক্ষতা নিয়েও জনগণের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আজ চার দিন ধরে নয়া পল্টনের আশপাশে যত লিংক রোড আছে সেখানে পাহারা বসিয়ে বিএনপি কার্যালয়ের দিকে আগমন ও প্রস্থানরত নেতাকর্মীদের তল্লাশি করছে।’

চিঠিতে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিএনপির অফিস ও তার আশপাশের এলাকা থেকে ৬০/৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। এখনো আটক অভিযান অব্যাহত আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতি উৎসাহী কিছু সদস্য ইসির নির্দেশ অমান্য করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনোনয়ন ফরম কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তি দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

গত ৮ নভেম্বর নির্বাচনের পুনঃতফসিলের পর সারা দেশে ৪৭২ জন নেতাকর্মীকে ‘মিথ্যা ও গায়েবি মামলায়’ গ্রেফতার করা হয়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়। নাম-পরিচয়সহ গ্রেফতার নেতাকর্মীদের তালিকা চিঠির সঙ্গে দেওয়া হয়।

গত বুধবার ইসির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সারা দেশে ‘গায়েবি মামলা’ দিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদা বলেছিলেন, বিএনপির কাছে কোনো তালিকা থাকলে তা যেন ইসিতে পাঠানো হয়। ইসি ব্যবস্থা নেবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করবেন না তাই ফরমও নেননি

রাজনীতির খবর: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অথচ তিনি সবসময়ই গণমাধ্যমে বিএনপির হয়ে সরব ছিলেন।

১২ নভেম্বর থেকে হাজার হাজার সংসদ সদস্যের মনোনয়ন প্রত্যাশীর মাঝে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করে গেলেও তিনি নিজে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি।

কেন নির্বাচন করছেন না এমন প্রশ্নে গণমাধ্যমকে রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবো না আমি। এটি আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। দলীয় কোনো বিষয় নয়।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে মনে করেন না। তবে যদি নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার দেয়া হতো তাহলে নির্বাচন করতেন বলে জানান। কিন্তু তা দিবে না এই সরকার।

রুহুল কবির রিজভী বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত৷ ১/১১ বিএনপি যখন নেতৃত্বহীন প্রায়, সংস্কারপন্থীদর দ্বারা বিএনপি যখন ভেঙে যাওয়ার পথে এবং বেগম খালেদা জিয়া যখন কারাবন্দি সেসময় নিয়মিত সরব থেকে বিএনপিকে চাঙ্গা রাখেন।

ছাত্রজীবনে রাকসুর নির্বাচিত ভিপি ছিলেন রিজভী। ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত এবং পরে নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন।

বর্তমানে বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রিজভী আহমেদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অত্যন্ত বিশ্বস্ত নেতা হিসেবে পরিচিত।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম কিনে ইতোমধ্যে জমা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া স্থায়ী কমিটির প্রায় সবাই এর মধ্যে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন।

কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষেও তিনটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া ৭ এর মনোনয়ন ফরম কেনা হয়েছে খালেদা জিয়ার জন্য।

তবে তারেক রহমানের জন্য কোনো মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়নি। বর্তমানে তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘অডিট হয়রানি’ আয়কর বৃদ্ধিতে বড় প্রতিবন্ধকতা

দেশের খবর: মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বিপরীতে বাংলাদেশে কর আদায় একেবারে কম। জিডিপির অনুপাতে মাত্র ৯ শতাংশ কর আদায় হয়। দক্ষিণ এশিয়াতে এটিই সর্বনিম্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ব্যক্তি খাতের করহার বৃদ্ধিতে বড় বাধা আয়কর সংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও অডিটের নামে হয়রানি।
বেশির ভাগ মানুষই মনে করেন, কর-ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল। এছাড়া কর প্রদানের পর অডিটের নামে নানা হয়রানির অভিজ্ঞতার কথা শুনে অনেকে ভয়ে আয়কর দিতে যান না।

বর্তমানে আয়কর প্রদানে সার্বজনীন স্ব-নির্ধারণী পদ্ধতি চালু রয়েছে। কিন্তু এটি চালু থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে অডিটের নামে হয়রানি কমেনি বলে অভিযোগ করদাতাদের। ভুক্তভোগীরা বলছেন, রিটার্নের সঙ্গে আয় ও সম্পদের সঠিক কাগজপত্র দেয়া হলেও ‘ঘুষ’ আদায়ে নানা হয়রানি করেন কর্মকর্তারা। এতে রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি নিরুৎসাহিত হচ্ছেন তারা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানায়, সার্বজনীন স্ব-নির্ধারাণী পদ্ধতিতে একজন করদাতা নিজেই কর নির্ধারণ ও অগ্রিম কর দিতে পারেন। এক্ষেত্রে কোনো শুনানিতে অংশ নিতে হয় না। ঝামেলা এড়াতে চাকুরীজীবী ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষরা এ পদ্ধতিতে কর প্রদান করে থাকেন। কিন্তু আয়কর অধ্যাদেশ-৯৩ ও ১২০ ধরা মোতাবেক নিজস্ব ক্ষমতা বলে সঠিকভাবে সম্পদ ও আয়কর নিধার্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন আয়কর কর্মকর্তারা।

এনবিআর সূত্র আরও জানায়, দেশে মোট করদাতার সংখ্যা ৩৩ লাখ। এর মধ্যে কর দেন ১৬ লাখ। মোট করদাতার প্রায় সবাই স্ব-নির্ধারণী পদ্ধতিতে কর দিয়ে থাকেন। যারা ফরম পূরণ করতে না পারেন তারা আইনজীবী দিয়ে পূরণ করে জমা দেন।

আয়কর রিটার্ন না দেয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্ব-নির্ধারণী পদ্ধতিতে আয়কর দিতে হিসাবায়ন নিয়ে অস্পষ্টতা। এনবিআর ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত একটি ক্যালকুলেটর ছিল একসময়, এখন সেটা নেই। এছাড়া আয়কর জমা দেয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে হয়। কারণ অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম বন্ধ রয়েছে। এর চেয়েও বড় সমস্যা হলো অডিট হয়রানি। ছোট-বড় সব শ্রেণির করদাতারা অডিটের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সার্কেল অফিসের কর্মকর্তারা ইচ্ছা করলেই যে কাউকে এ বিষয়ে তদন্তের জন্য ডাকতে পারেন। এতে অনেকেই বিরক্ত হয়ে অন্যকে কর না দিতে উৎসাহিত করেন। এসব রিটার্ন সাধারণত দুই পদ্ধতিতে অডিট করা হয়। এক. দ্বৈবচয়ন পদ্ধতি, দুই. বিশেষ অডিট। দ্বৈবচয়ন হলো- একটি কর অফিসে যদি ১০০ কর ফাইল জমা পড়ে তাহলে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে ৩০-৫০টি ফাইল অডিটের জন্য নির্বাচন করা। পরবর্তীতে এসব করদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফাইলের তথ্য সংক্রান্ত বিষয়ের সত্যতা জানতে চাওয়া।

জানা গেছে, বিশেষ অডিটের নামে সার্কেল অফিসের আয়কর কর্মকর্তা স্ব-প্রণোদিত হয়ে যেকোনো করফাইল নিয়ে অডিট করতে পারেন। গত অর্থবছরে মোট করদাতার মধ্যে ২৭ হাজার করফাইল অডিট করা হয়েছে বলে জানায় এনবিআর সূত্র।

মিরপুরের ব্যবসায়ী সোহান রহমান বলেন, গত বছর কর দিয়েছি প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা। এখন বলা হচ্ছে, সম্পদের হিসাব ও গচ্ছিত টাকা দেখানো হয়নি বলে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। এটা এক ধরনের হয়রানি ছাড়া কিছুই নয়।

একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, অডিটের জন্য শুনানি হলে কিছু টাকা দিতেই হয়। কিছু পয়সা খরচ না করলে সমস্যার শেষ হয় না। অনেক সময় এখানকার কর্মচারীদের মাধ্যমেও সহায়তা পাওয়া যায়। পয়সা দিলে তারা আর ডাকাডাকি করে না।

একশ্রেণির অসাধু কর্মচারীও যুক্ত হয় অসাধুদের তালিকায়। অডিটের জন্য কোনো ইন্সপেক্টর কল (ডাক) করলে তারা (অসাধু কর্মচারী) সেসব করদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ অবস্থায় তারা করদাতাকে জানান, ইন্সপেক্টরের সঙ্গে কথা বলার দরকার নাই। আমরা ম্যানেজ করে দেবো। এজন্য একটা বড় অংকের টাকা বকশিশ দিতে হয়। এতেই শেষ নয়, ট্যাক্স ফাইল তারা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়। কয়েক বছর পর আবার সমস্যা হয়।

আয়কর আইনজীবী এস এম মঞ্জুরুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, একটা ফাইল যদি অডিটের নামে তোলা হয়, তাহলে প্রায় ক্ষেত্রে নাজুক অবস্থা তৈরি হয়। অডিট অফিসাররা সরসরি সম্পদের হিসাবে ঠিক নাই বলে অভিযোগ করেন। এছাড়া আজগুবি কথাও বলে দিতে পারেন। এজন্য অনেকে পয়সা দিয়ে হলেও ঝামেলা থেকে বাঁচতে চান।

জানা গেছে, অডিট আপত্তি সার্কেল অফিসে মিটমাট না হলে মামলা হয়। অনেক সময় এসব মামলা নিষ্পত্তি হতে ৫ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ফাইল নিয়ে অডিট করতে চাইলে সার্কেল অফিসের কর্মকর্তা ওই করদাতাকে তলব করেন। অনেকে স্ব-শরীরে কর অফিসে এসে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন, আবার অনেকে আয়কর আইনজীবী পাঠিয়ে দেন। তখন যদি কোনো অডিট আপত্তি থাকে তাহলে সেটা মেনে নিয়ে যদি করদাতা তা পরিশোধ করেন- তাহলে অডিট সেখানেই শেষ। আর যদি মেনে না নেন, তাহলে কর অফিস ১৫ দিনের সময় দিয়ে একটি ডিমান্ড নোটিস পাঠান। ১৫ দিন পরও ওই করদাতা দাবি করা কর পরিশোধ না করলে পরবর্তীতে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলা সহসা নিষ্পত্তি হয় না। ৫ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়। পুরো প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে করদাতাদের হয়রানি করা হয়।

এ প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আগে কী হয়েছে বলতে পারবো না। এটা সবাই জানে, রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অডিটের নামে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে থাকেন। এসব না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
‘এখন থেকে এমন অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমনকী এ বিষয়ে একটি যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৩০ জুন মোট ই-টিআইএনের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৫০ হাজার ২৬৮। পরের বছরে চার লাখ বেড়ে ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৮-তে উন্নীত হয়। ২০১৬ সালের ৩০ জুন তা ১৯ লাখ ৭৯ হাজার ১৮৯-এ দাঁড়ায়। ২০১৭ সালের এপ্রিলে ই-টিআইএনের সংখ্যা ২৮ লাখে উন্নীত হয়।

তবে যে হারে আয়কর বাড়ার কথা ছিল সেটা হচ্ছে না। এর আরেকটি অন্যতম কারণ আইনি জটিলতা। জানা গেছে, একজন করদাতা জীবনের প্রথমবার রিটার্ন জমা দিতে গিয়েই পড়েন নানা ঝামেলায়। শুরুতে আট পৃষ্ঠার (আইটি ১১গ) একটি দীর্ঘ ফরম পূরণ করতে হয়। এ ফরমের অনেক অংশ রয়েছে, যেগুলো তার জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আয়-ব্যয়ের হিসাব কষে কত টাকা কর দিতে হবে, সেজন্য অন্যের পরামর্শ নিতে বাধ্য করা হয়। এরপর করের টাকা জমা দিতে দাঁড়াতে হবে ব্যাংকের লম্বা লাইনে। সর্বশেষ টাকা জমার রসিদ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সার্কেলে জমা দিতে হবে। ১৬ লাখ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার মধ্যে অধিকাংশই রিটার্ন জমা দেয়ার এ প্রক্রিয়া জটিল বলে মনে করেন। এ জটিলতায় অনেকে কর দিতে নিরুৎসাহিত হন।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘কর আদায়ে বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। কারণ ২০১৭ সালে নেপালের মাথাপিঁছু আয় ছিল এক হাজার ৩৩০ মার্কিন ডলার। কর আদায় জিডিপির ১০ শতাংশের কম। কিন্তু আলোচ্য সময়ে নেপালের মাথাপিঁছু আয় ছিল ৭৩০ মার্কিন ডলার। কর আদায় হয় জিডিপির ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ কম আয় করেও তারা বেশি কর আদায় করতে পেরেছে। ফলে এখানে নজর দিতে হবে।’

‘বিশেষ করে কর আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’ করনীতি ও কাঠামো পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

কর জটিলতার এ তথ্য সরকারের দায়িত্বশীলরাও অবগত। বিভিন্ন সময় তারা এ বিষয়ে কথাও বলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এনবিআর গত কয়েক বছর ধরে রিটার্ন জমা ও ফরম সহজীকরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ সংক্রান্ত একাধিক সহজ ফরম প্রণয়ন করেছে এনবিআর। এর মধ্যে রয়েছে আইটি ১০বি, আইটি ১০বিবি ও আইটি ১১গ ২০১৬। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এসব ফরম সচরাচর পাওয়া যায় না। এমনকী আয়কর মেলা কিংবা সার্কেল অফিসে রিটার্ন পূরণের জন্য এসব ফরম দেয়া হয় না। আট পৃষ্ঠার ফরম পূরণ করেই রিটার্ন জমা দিতে হয়।

আয়কর আইনজীবী ও আয়কর কর্মকর্তারা বলছেন, বহু চেষ্টার পর তৈরি করা হয়েছিল নতুন রিটার্ন ফরমটি (আইটি ১১গ ২০১৬), যা অনেক সহজবোধ্য। যে কেউ এটি পূরণ করতে পারতেন। পুরনো ফরমের পরিবর্তে আয়কর মেলায় নতুন ফরম দিলে অনেকেই সহজে তা পূরণ করে নিজেই আয়কর দিতে পারতেন। এটি চালুও হয়েছিল। কিন্তু এখন আর পাওয়া যায় না।

এ বিষয়ে মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া আরও বলেন, সারাদেশে এখন ই-টিআইএনের সংখ্যা ৩৫ লাখের বেশি। এর মধ্যে ২০ লাখ রিটার্ন দিচ্ছেন না। অন্যতম কারণ হলো, কর নিয়ে এক ধরনের ভয়। তাই করদাতাবান্ধব এনবিআর গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, ট্যাক্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আরও প্রশিক্ষিত করা, মোটিভেট করা এবং জনবল বৃদ্ধির জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আশা করি এর সুফল পাওয়া যাবে।’
‘এনবিআরের কর্মকর্তারা আমাকে সহায়তা করছেন। কিন্তু দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর মেম্বারদের একেবারে বের করে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না’- যোগ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest