সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় এবি পার্টির আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহ্বায়ক শাকিল, সদস্য সচিব শাহীনসাতক্ষীরায় রিইবের সিএসও’র ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিতসাতক্ষীরায় চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাংচুর ও মারপিট: গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনআশাশুনিতে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ইজিবাইকের ওপর: অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন পথচারীসাতক্ষীরায় উপজেলা পর্যায়ে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি সমাবেশশ্যামনগরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি সেবা প্রাপ্তির মানোন্নয়নে পাবলিক হেয়ারিংগভীর রাতে গাবুরায় গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ‌দাফন সম্পন্নগাজী নজরুলের ফাঁ*সির দাবিতে উত্তাল শ্যামনগরসাতক্ষীরায় যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা, আনন্দ মিছিলগণপিটুনিতে মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

ডিসেম্বরেই ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়

অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নতুন করে তফসিল ঘোষণা করায় ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারি স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে সরকারি স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা কবে নেয়া যাবে তার তারিখ চূড়ান্ত করতে ইসিকে আজ মঙ্গলবার চিঠি দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা যাবে না-ইসির এমন নিষেধাজ্ঞা থাকায় মন্ত্রণালয় ডিসেম্বরের মধ্যেই এ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে চাইছে।
এ বিষয়ে মাউশি পরিচালক অধ্যাপক আবদুল মান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী-বার্ষিক পরীক্ষা এগিয়ে আনা হয়েছে। ১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ করা হবে।
তিনি বলেন, নতুন তফসিলের ফলে আমরা চেষ্টা করব ডিসেম্বরের ভেতরেই ভর্তি পরীক্ষা নেয়া যায় কিনা। এভাবেই ইসিকে চিঠি দেয়া হবে।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, মাউশি ইতিমধ্যে ঢাকার ৮১ হাইস্কুলে ভর্তির বিস্তারিত রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে। এবারও ভর্তির আবেদন ফি ১৭০ টাকা। টেলিটকের মাধ্যমে অনলাইন আবেদন নেয়া হবে। এবারও স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ৫৯ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে-‘এলাকা’, ‘সরকারি প্রাইমারি স্কুল’, ‘মুক্তিযোদ্ধা’, ‘প্রতিবন্ধী’ ও ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারী’ কোটা।
ঢাকা মহানগর ও ঢাকার বাইরের প্রায় ৩৫০ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম আলাদাভাবে সম্পন্ন হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভারতে বিজেপি’র বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে বিরোধী দল

বিদেশের খবর: ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে বিরোধীরা। এই জোট বিজেপির মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কর্নাটকে বিজেপি বিরোধী জোটের জয় এই জোটকে আরো উত্সাহিত করছে।
দক্ষিণের এই রাজ্যে ৪-১ এ জয় পায় বিরোধীরা। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র এবং যে কোনো স্থানে বিরোধীদের মোকাবেলা করতে হবে বিজেপিকে।

বিরোধী জোটে আছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, রাষ্ট্রীয় লোকদল, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা। এসব দল একসঙ্গে জোট করতে সফল হলে আগামী নির্বাচনগুলোতে বিজেপির জন্য জয় কষ্টকর হয়ে যাবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘বাংলাদেশের নির্বাচনকে কঠিনভাবে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র’

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের একাদশ সংসদ নির্বাচন কঠিনভাবে নিয়েছে এবং নির্বাচন প্রশ্নে অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও ওয়াশিংটনের উড্রোউইলসন সেন্টারের সিনিয়র স্কলার উইলিয়াম বি মাইলাম।

স্থানীয় সময় গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে সেমিনারে মাইলাম বক্তৃতা করছিলেন। হার্ভার্ড ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন কাউন্সিলের (আইআরসি) সহায়তায় ‘ইমপ্লিকেশন্স অব টার্গেটিং মিডিয়া এন্ড জার্নালিস্টস অন হিউম্যান রাইটস এন্ড ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক ওই সেমিনারের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স অব নর্থ আমেরিকা (বিডিপিএএনএ)।

সেমিনারে উইলিয়াম বি মাইলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে বেশ কঠিনভাবে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন চায় নির্বাচনটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং সবার অংশগ্রহণে হোক। এতে জনগণের ইচ্ছার সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটুক।’

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি- বৈশ্বিক কর্তৃত্ববাদের যে ছায়া বাংলাদেশের ওপর পড়েছে সেটি পরাজিত হবে, বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ এবং সামগ্রিকভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পুনঃপ্রবর্তন হবে।’

ঢাকায় দায়িত্বপালনকারী এই সাবেক রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি এখানে আসার আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়ার চেষ্টা করেছি। তারা আমাকে যেটা বলেছেন তা হল- এ নির্বাচন প্রশ্নে অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র।’

দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে বর্তমানে গবেষণাকারী মাইলাম বলেন, ‘আশা করি নির্বাচনটি একতরফা হবে না, যদি হয় তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বেই কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের গত ১০ বছর ধরে এমন শাসন ব্যবস্থা প্রসারিত হতে চলেছে। বিশ্বব্যাপী এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো জরুরি।’

এ দেশের অনেকের সঙ্গে তার ঘণিষ্ঠ যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনি অনেককে চিনেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি ভয়ের সংস্কৃতি চালু হয়েছে। এখানে অনেকে সরকারের দমন নীতির কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছেন অথবা আপস করে চলছেন। অনেকে জেল থেকে বেরিয়েছেন রাজনীতি না করার মুচলেকা দিয়ে। তারা রাজনীতি থেকে দূরে থাকছেন। আর মিডিয়া, পরিস্থিতি এমন যে তারা নিজেরাই সেন্সরশিপ করে ফেলে (সেল্ফ সেন্সরশিপ)। এভাবেই চলছে।’

বাংলাদেশের রাজনীতি এবং শাসন পরিচালনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অনেক ভুল ছিল মন্তব্য করে মার্কিন ওই কূটনীতিক বলেন, ‘তারা তাদের শাসনামলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালীকরণে ব্যর্থ হয়েছে। আমি মনে করি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ার জন্য তারাও দায়ী। তবে এখন যেটি হচ্ছে তার অবস্থা আরও খারাপ, এটি দিনে দিনে খারাপের দিকে যাচ্ছে।’

মার্কিন ওই কূটনীতিক ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অংশ না নেয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। বলেন, ‘এটিও বিএনপি জোটের বড় ভুল ছিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যতই প্রভাব বিস্তারিত করুক না কেন, তারপরও বিএনপি এটি বর্জন না করে অংশ নিলে অন্তত ১০০ আসনে জয়ী হতো। সরকারি দল একতরফাভাবে কিছুই করতে পারতো না। অন্তত একচ্ছত্র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথে যেতে পারতো না। বিশেষ করে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে সরকার যে ডিজিটাল আইন করেছে এমন জনবিরোধী আইনগুলো প্রণয়নে বিরোধীরা সংসদে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারতো।’

মাইলাম বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখেছি, কিভাবে এনজিও, গণমাধ্যম ভয়ের মধ্যে রয়েছে। কিভাবে শেখ হাসিনার সরকার বিরোধীদের পুরোপুরিভাবে দমনের চেষ্টা করছেন। তার সমালোচনাকারী যে বা যারাই হোক তাকে দমিয়ে দেয়া হচ্ছে নানা কায়দায়। এ অবস্থার অবসানের জন্য বিশেষ করে সরকারের বিরুদ্ধে এক সুরে প্রতিবাদের জন্য মধ্যম ডান ও মধ্যম বাম দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির ঐক্য হয়েছে। জোটের মধ্যে ভিন্নমত ও ভিন্ন ধারা রয়েছে কিন্তু তারপরও তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।’

মাইলাম কারও নাম না নিয়ে বলেন, ‘এটা ভাল খবর ওই জোটে আমি অনেককে দেখছি যারা একাত্তরে বাংলাদেশের জন্মের সময় এগিয়ে এসেছিলেন। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আমি দেখেছি। সেখানে অনেকে আমার বয়সী, অনেকে আমারে চেয়েও বয়োজ্যেষ্ঠ। শুধু তাই নয় ’৯০-এ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাদের ভূমিকা ছিল। এবারও তারা এগিয়ে এসেছেন। মাঠে নেমেছেন। আমি তাদের দেখেছি- তারা জোটবদ্ধ হয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শাওন ভাইকে ভোট দিন

শাওন ভাইকে ভোট দিন

কর্তৃক daily satkhira

অনলাইন ডেস্ক: গত কয়েকদিন ধরে শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। গতকাল সকালে রক্ত পরীক্ষা করতে হাসপাতালে যাব ভেবে বের হলাম। দখিণ হাওয়ার দারোয়ান কিছুতেই আমাকে বের হতে দিতে চাইছিল না!

ওহ আচ্ছা- বলে রাখা ভালো আমি ধানমন্ডি ৩/এ তে থাকি। গত শুক্রবার থেকে আওয়ামী লীগ এর নমিনেশন ফর্ম সংগ্রহ করার যে উৎসব- আমি তার প্যাঁচে পড়ে গেছি। আমার বাসস্থান আওয়ামী লীগ অফিসের উল্টোদিকে হওয়ায় নমিনেশন উৎসবের আঁচ খুব প্রবলভাবেই টের পাচ্ছি। পরশু যেমন একটা অনুষ্ঠানে যাবার জন্য শাড়ি পরে তৈরী হয়েছি। আমাদের গলিতে গাড়ি নিয়ে তো আর চলা যাচ্ছিল না! তাই মেইন রোড পর্যন্ত হেঁটে রওনা দিতেই আশেপাশে গুঞ্জন শুনতে পেলাম- “ঐ দেখ দেখ! হুমায়ূন আহমেদ এর বউ নমিনেশন পেপার নিতে আসছে!”
ভাগ্যিস ধারে কাছে কোনো ‘ডট কম’ জাতীয় অনলাইন সংবাদপত্র ছিল না! তাহলে চিপায় একখান সংবাদের শিরোনাম হয়ে যেতাম!
‘আওয়ামী লীগ অফিসে গিয়ে এ কি করলেন শাওন! (দেখুন ভিডিও সহ)’
যাই হোক বকর বকর না করে মূল গল্পে ফিরে যাই।
আজ দখিণ হাওয়ার দারোয়ান চাচা আমাকে হেঁটে বের হতে দিবেনই না পণ করেছেন! নানা ফাঁক ফোকর গলে একখানা রিক্সা যোগাড় করে আনলেন। গলা নামিয়ে রিকশাচালককে বললেন- “কোনো চ্যাংড়া পুলা রাস্তা আটকাইলে বলবা ম্যাডাম আম্মা নৌকার লোক।”
তরতরিয়ে রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। কেউ আটকালো না। সকাল ৮ টা বেজে ৪৫ মিনিট। পার্টি অফিসের সামনে ছোট ছোট জটলা। ভিড় এখনো বাড়েনি। একজন চা বিক্রেতাকে দেখে চেনা চেনা লাগল! পাশ দিয়ে আমার রিকশা যেতেই লম্বা এক সালাম ঠুকে বসল। ‘স্লামালিকুম শাওন ম্যাডাম।’ অবাক বিস্ময়ে আমি চাওয়ালাকে চিনে ফেললাম! অন্যপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী, আমার প্রতিবেশী মাজহার ভাইয়ের ড্রাইভার! গতকালই স্বর্ণা ভাবীর কাছে শুনেছিলাম ২ দিনের ছুটি নিয়েছে তাদের ড্রাইভার। ‘শইল্যে বেদনা’ এই কারণ দেখিয়ে! এখন দেখি সে চা এর ব্যবসা ধরে ফেলেছে!
আমি চলন্ত রিকশা থেকে তাকে জিজ্ঞেস করলাম- “আপনার না শইল্যে বেদনা! এখানে কি করেন!”
সে মুচকি হেসে জবাব দিল- “চা বানাইয়া বেচতে তো ম্যাডাম সারা শইল লাগে না, ডাইন হাতই যথেস্ট। একটু সিজনাল ব্যবসার টেরাই নিয়া দেখলাম।”
তার এই উদ্যমে তাকে ‘ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা’ বলা যায় কিনা ভাবতে ভাবতে স্কয়ার হাসপাতাল পৌঁছে গেলাম।
অনেক হুলুস্থুল করে, খালিপেটে একবার রক্ত নিলেন তারা। তারপর গ্লুকোজ গুলানো পানি গিলিয়ে দিলেন জোর করে! ২ ঘণ্টা পর ঝিমঝিম করা মাথা আর পেট ভরা ক্ষুধা নিয়ে নানান সাইজের ১০/১২ টিউব রক্ত দিয়ে রিকশা করে বাসায় ফিরছি। ৩/এ রোড়ের মুখে এসে আটকে পড়লাম! কিছুতেই ভেতরে যাওয়ার উপায় নেই। রিকশা, গাড়ি তো নয়ই- হেঁটে যাওয়াও অসম্ভব! কিন্তু আমারে তো চেন না চান্দু!!! আমি রিকশা থেকে নেমে হাঁটা শুরু করলাম। কি কপাল আমার ২০/২৫ জনের একটা দলের ভিতরে পড়ে গেলাম। তারা আমাকে ঘিরে সজোরে বাদ্য বাজনা বাজাচ্ছে আর এফ শার্পে গলা চড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছে-
“শাওন ভাইয়ের সালাম নিন
নৌকা মার্কায় ভোট দিন।”
“মোদের আসনে কাকে চাই?
শাওন ভাই শাওন ভাই…”
আমি বাকরুদ্ধ!!! চুলগুলো না হয় একটু ছোট করেই কেটে ফেলেছি! তাই বলে একেবারে ভাই!!! শাওন ভাই!!! এর মধ্যে ২ জন এসে আমার গায়ে একটি ব্যাজ পরিয়ে দিল! একজন গলায় একটা লাল-সবুজ উত্তরীয়র মতো কিছু একটা ঝুলিয়ে দিল! কোথা থেকে যেন আমার হাতে একটা প্ল্যাকার্ডও চলে আসলো! আমি নিজেও দলের সবার সাথে তাল মিলিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করলাম…
“শাওন ভাইয়ের সালাম নিন
নৌকা মার্কায় ভোট দিন।”
প্রবল উত্তেজনায় ১০/১২ বার স্লোগান দেয়ার পর হাতের প্ল্যাকার্ডে চোখ পড়ল। দেখি সৌম্য চেহারার কাঁচুমাচু এক ভদ্রলোক- ‘সোহান ভাই’! আর আমি কিনা ক্ষুধা পেটে, চোখ-কানের মাথা খেয়ে বানিয়ে ফেললাম ‘শাওন ভাই’! দলের সাথে আরো কিছুক্ষণ সোহান ভাইয়ের জন্য স্লোগান দিতে দিতে জনস্রোতের ধাক্কায় এগোতে থাকলাম। মনের মধ্যে ক্ষীণ আশা এই ধাক্কায় আমি হয়তো বাসায় পৌঁছে যাব। কিন্তু হায়! জনস্রোত আমাকে দখিণ হাওয়ার পাশের বিল্ডিংএ ঢুকিয়ে দিলো।
এরপর কি হলো তা নিয়ে আরেকদিন বলবো। কারণ উপরের গল্পটার ৯৯ ভাগই বানানো ঘটনা… আমার কল্পনাপ্রসূত!

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আওয়ামী লী‌গের ম‌নোনয়নের সিদ্ধান্ত যারা নে‌বেন

দেশের খবর: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগে থেকে থাকা ১০ জনের সঙ্গে নতুন দুই জনকে যুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং ফারুক খান।
সোমবার আওয়ামী লীগের একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আগে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের মোট সদস্য ছিল ১১ জন। তাদের মধ্যে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মারা যাওয়ায় একটি পদ খালি ছিল।
আজকে দু’জন যোগ হওয়ায় সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের মোট সদস্য সংখ্যা হলো ১২ জন। এই বোর্ডই নির্ধারণ করবে, নির্বাচনে কারা পাবেন নৌকা মার্কার টিকিট।

আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড
১. শেখ হাসিনা
২. ওবায়দুল কাদের
৩. সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী
৪. আমির হোসেন আমু
৫. তোফায়েল আহমেদ
৬. সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
৭. শেখ ফজলুল করিম সেলিম
৮. কাজী জাফরউল্লাহ
৯. অধ্যাপক ড. আলাউদ্দীন
১০. রশিদুল আলম
১১. ড. আব্দুর রাজ্জাক
১২. ফারুক খান

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কচু শাকের স্বাস্থ্যগুণ

স্বাস্থ্য কণিকা: যদিও একটা সময় ছিল যখন কচু শাককে জংলা হিসেবেই ধরা হত। ছাড়াও প্রাচীনকাল থেকে কচুকে বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে শাক হিসেবে কচু শাক বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কচুশাক অনেক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে, তারা প্রচুর কচু শাক খেতে পারেন। কারণ কচুতে আছে অনেক আঁশ। যা খাবার সহজে হজম করতে সাহায্য করে। এছাড়াও কঁচু শাক রয়েছে অনেক মূল্যবান উপাদান। আসুন জেনে নেই কচু শাকে কি কি স্বাস্থ্যকর উপাদান রয়েছে।

ভিটামিন -এ
ভিটামিন -সি
লৌহ
ক্যালসিয়াম

চোখের জ্যোতির জন্য কচু শাকের উপকারিতা অনন্য।

কচু একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর সবজি। এ দেশে কচু তেমন সমাদৃত নয় এবং অনেকটা অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা হয়। অথচ কচু শাকে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে।

কচু শাক দুই ধরণের হয়ে থাকে: সবুজ কচু শাক ও কালো কচু শাক।

খাদ্য উপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম সবুজ ও কালো কচু শাকে যথাক্রমে ১০২৭৮ ও ১২০০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন রয়েছে। এ ক্যারোটিন থেকেই আমরা ভিটামিন ‘এ’ পেয়ে থাকি। এ ছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম সবুজ কচু শাক থেকে ৩.৯ গ্রাম প্রোটিন, ৬.৮ গ্রাম শর্করা, ১.৫ গ্রাম স্নেহ বা চর্বি, ২২৭ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১০ মিলিগ্রাম লৌহ, ০.২২ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন), ০.২৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-২ (রাইবোফেবিন), ১২ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ ও ৫৬ কিলো ক্যালোরি খাদ্যশক্তি পাওয়া যায়।

সবুজ কচু শাকের চেয়ে কালো কচু শাক অনেক বেশি পুষ্টিকর। প্রতি ১০০ গ্রাম কালো কচু শাকে ৬.৮ গ্রাম প্রোটিন, ৮.১ গ্রাম শর্করা, ২.০ গ্রাম চর্বি, ৪৬০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৩৮.৭ মিলিগ্রাম লৌহ, ০.০৬ মিলিগ্রাম ভিটামিনি বি-১ (থায়ামিন), ০.৪৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-২ (রাইবোফেবিন), ৬৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ ও ৭৭ কিলোক্যালোরি খাদ্যশক্তি রয়েছে। দেহের পুষ্টি সাধনে এসব পুষ্টি উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

কচু শাকে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ থাকায় এ শাকের লৌহ দেহ কর্তৃক সহজে আত্তীকরণ হয়। প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দেয়া ছাড়াও প্রাচীনকাল থেকে কচুকে বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। মুখী ও পানিকচুর ডগা দেহের ত রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া জ্বরের রোগীকে শরীরের তাপমাত্রা কমানোর জন্য দুধকচু খাওয়ানো হয়। ওলকচুর রস, উচ্চরক্তচাপের রোগীকে প্রতিষেধক হিসেবে খাওয়ানো হয়। আবার মান কচুর ডগা ও পাতা বাতের রোগীকে খাওয়ানোর প্রথা এ দেশের ঘরে ঘরে প্রচলিত রয়েছে। কচু শাকে পর্যাপ্ত আঁশ থাকায় এটি দেহের হজমের কাজে সহায়তা করে।

আয়রন সমৃদ্ধ বলে এর সমাদরও বেশি। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে সব ডাক্তাররাই কচু শাক খাওয়ার পরামর্শ দেন।

কচু শাকে আছে প্রোটিন, চর্বি, ক্যালসিয়াম, শর্করা, আয়রন, খাদ্যশক্তি, ভিটামিন এ, বি৬ ও সি। সাধারণ কচুর ডগা এবং কালো রঙয়ের কচু শাকে আয়রন থাকে প্রচুর পরিমাণে। রক্তশূন্যতায় ভোগা রোগীদের জন্য কচু শাক খাওয়া একরকম আবশ্যক।

যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে, তাঁরা প্রচুর কচু শাক খেতে পারেন। কারণ কচুতে আছে অনেক আঁশ। যা খাবার সহজে হজম করতে সাহায্য করে।

কচু শাক সারা দেহে অক্সিজেনের সরবরাহ বজায় রাখতে জুড়ি নেই। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে এমনিতেই শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়। সেই সরবরাহ সচল রাখতে কচু শাক অনেক বেশি কার্যকর।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কচু শাক দারূণ ভূমিকা রাখে। এককভাবে কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গপ্রত্যঙ্গের রোগের জন্য এই শাক কাজ না করলেও অন্যভাবে পুরো শরীরেরই উপকার করে।

মাঝে মাঝে সামান্য গলা চুলকানো ছাড়া কচু শাকের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে। শাকে যতোটুকু ক্ষতিকর অক্সালিক অ্যাসিড থাকে তা এক রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখলেই চলে যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা আদালতের ওপর

দেশের খবর: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনী লড়াইয়ে নামলেন। তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে তাঁর জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র কেনা হয়েছে। ১০ বছরের সাজা থাকায় নির্বাচনে তিনি শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হতে পারবেন কি না সে প্রশ্ন আবারও সামনে এলো। তাঁর প্রার্থিতা বৈধ কি না এ সিদ্ধান্ত প্রথমত দেবেন রিটার্নিং অফিসার। যদিও রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের পর আপিল করা এবং আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিএনপি মনে করছে, আইনি লড়াইয়ে জয়লাভ করে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন খালেদা জিয়া। কিন্তু এ বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা আশা করছি আইনি লড়াই চালিয়ে জয়লাভ করব এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়া নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।’ খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা আশাবাদী যে আইনি লড়াইয়ে সফল হব এবং বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইনে ব্যাখ্যা আছে। তবে যথাসময়ে তা আদালতেই দেওয়া হবে।

পৃথক দুটি মামলায় ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর কারাবন্দি আছেন খালেদা জিয়া। এ অবস্থার মধ্যেই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে ফেনী-১ এবং বগুড়া-৬ ও ৭ আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম তোলা হয়েছে। কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করতে পারবেন কি না তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

খালেদা জিয়ার প্রার্থিতার বিষয়টিতে সরকারের মনোভাবও বুঝে নিতে চায় বিএনপি। দলটির নেতাদের মতে, সরকারপক্ষ থেকে ‘শক্তভাবে’ আইনি লড়াইয়ের নির্দেশনা না থাকলে তাঁর প্রার্থিতা টিকে থাকবে। আর সরকার কঠোর হলে খালেদার নির্বাচন করা কঠিন। তবে শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়া নির্বাচন না করতে পারলে ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির কেউ নির্বাচন করবেন এমন আলোচনা আছে বিএনপির মধ্যে।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, হাইকোর্টে ১০ বছরের কারাদণ্ড হওয়ায় খালেদা জিয়া নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সাজার বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করা হবে। এ আপিল গৃহীত হলেই তাঁর আর প্রার্থী হতে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না। তিনি বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ, বর্তমান মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক মন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সাজা হলেও তাঁরা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। এসব উদাহরণ আমাদের সামনে রয়েছে। তাই খালেদা জিয়াও নির্বাচন করতে পারবেন বলে আশা করি।’

নির্বাচনী আইন বিশেষজ্ঞ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদেরও একই মত। তবে তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে যদি বিএনপির সমঝোতা হয় সে ক্ষেত্রে সিআরপিসির ৪০১(১) ধারায় (সরকারের দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা) খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে পারে সরকার। এটা দিলে সংবিধানসম্মতভাবেই মুক্তি দেওয়া হবে। কারণ দেশের প্রচলিত এ আইন এখন পর্যন্ত সংবিধানসম্মত বলেই স্বীকৃত।

আরেক নির্বাচন আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদে যে দণ্ডের কথা বলা হয়েছে সেটা কোন আদালতের দণ্ড তা স্পষ্ট নয়। এটা কি নিম্ন আদালতের, নাকি হাইকোর্টের আপলি বিভাগের তা স্পষ্ট হয়নি আজও। তিনি বলেন, ‘আমার মতে, দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগে যদি সাজা বহাল থাকে তবেই কেবল একজন ব্যক্তি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার মামলা এখনো সে পর্যন্ত যায়নি। হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এর বিরুদ্ধে আপিল করা ও রিভিউ আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তাই তিনি নির্বাচন করতে পারবেন কি না, সেটা নির্ভর করছে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ৩০ অক্টোবর এ রায় দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালত পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিলেও হাইকোর্ট তা বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন। এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি এখনো প্রকাশিত হয়নি। চলতি মাসে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। রায়ের কপি না পেলে আপিল বিভাগে আপিলও করতে পারছেন না খালেদা জিয়া। এ ছাড়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালত খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে এখনো হাইকোর্টে আপিল করেননি তিনি। এ প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে খালেদা জিয়া নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না।

তবে বেশির ভাগ আইন বিশেষজ্ঞ বলছেন, এরই মধ্যে একটি মামলায় হাইকোর্টে সাজা হয়ে যাওয়ায় তাঁর পক্ষে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। তবে কেউ কেউ বলছেন, আপিল বিভাগ যদি খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করেন কিংবা রাষ্ট্রপতি যদি তাঁকে ক্ষমা করে মুক্তি দেন তবেই শুধু খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার অনুকূলে আপিল বিভাগ থেকে যদি কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়, তবেই তিনি প্রার্থী হতে পারবেন। অন্যথায় প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

নির্বাচনে অযোগ্যতা প্রসঙ্গে সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;’ দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানের এই বিধান অনুযায়ী আপাতত দৃষ্টিতে খালেদা জিয়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হয়েছেন। তবে এ রায়ই চূড়ান্ত নয়। আইন অনুযায়ী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় এখন হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলায় বর্তমান ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ১৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। এই সাজার বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন। তাঁর আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় তিনি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একইভাবে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীরকেও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই এক রায়ে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। এরপর তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন। হাইকোর্টে আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন ও এমপি নির্বাচিত হন। সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের জনতা টাওয়ার মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হলেও তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন এবং এ আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় পাঁচটি আসনে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। এই তিন রাজনীতিকের ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় তাঁরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। কারণ হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার মামলায় রায় হয়ে গেছে। তাঁর সাজা বেড়েছে। তাই আওয়ামী লীগের দুই নেতা বা জাপা চেয়ারম্যানের উদাহরণ এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এর পরও খালেদা জিয়ার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাঁর সে সুযোগ একমাত্র আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আপিল বিভাগ যদি খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করেন তবেই শুধু তিনি প্রার্থী হতে পারবেন। আইনজীবীরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে হাইকোর্টের রায় প্রকাশ না হওয়ায় এ মুহূর্তে খালেদা জিয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করতে পারছেন না। আর আপিল করতে না পারলে নির্বাচনেও প্রার্থী হতে পারবেন না।

এ ছাড়া নির্বাচনে প্রার্থী হলে সাজা থাকার কারণে রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র বাতিল করতে পারবেন। রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশনের অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। ইসি যদি তাঁর আবেদন খারিজ করে দেন সে ক্ষেত্রে রিট আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন আইনজীবীরা। এ ছাড়া আইনগতভাবে আর কোনো পথ খোলা নেই। সে ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা।

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মনোনয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের। তবে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করতে পারবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গুণে ভরপুর সজনে পাতা

স্বাস্থ্য কণিকা: সজনে বাংলাদেশে বহুল পরিচিত পুষ্টিকর খাবার। পুষ্টিবিজ্ঞানে সজনেকে বলা হয় নিউট্রিশাস সুপার ফুড। গাছকে বলা হয় মিরাকল গাছ।

সজনের পাতা, ডাটা, ছাল সবকিছুই মানুষের জন্য উপকারী। সজনে পাতায় রয়েছে কমলা লেবু কিংবা লেবু থেকে ৭গুণ বেশি ভিটামিন সি, দুধের থেকে ৪গুণ বেশি ক্যালশিয়াম এবং ডিম থেকে ২গুন বেশি প্রোটিন।

অন্ধত্ব দূরীকরণে ব্যাপক কার্যকরী সজনে পাতা। কারণ এতে গাজর থেকে ৪গুণ বেশি ‘ভিটামিন এ’ রয়েছে। সজনে পাতা অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে কারণ অন্যান্য শাকের তুলনায় ২৫গুণ বেশি আয়রণ রয়েছে। এই পাতায় কলা থেকে ৩গুন বেশি পটাশিয়াম রয়েছে।

এটি অ্যান্টিঅ্যাজিং হিসেবে কাজ করে, হার্ট ভালো রাখে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করে। কোলেস্টরেল লেভেল কমায়, হজম শক্তি বাড়ায়। কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করে। অ্যাজমা রোগীদের জন্য বিশেষ উপকার করে এই পাতা। এক গবেষণায় দেখা যায়, তিন গ্রাম সজনে পাতা দুবেলা করে তিন সপ্তাহ খেলে অ্যাজমা রোগীরা সুস্থ থাকে।

এছাড়া শত বছর ধরে ৩০০ রোগের ওষুধ হিসেবে সজনে পাতা ব্যবহার করা হয়। সজনের বিচি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান হিসেবে কাজ করে। যা পানি বিশুদ্ধকরণে বিশেষভাবে ব্যবহার করা হয়। ময়লা পানি পরিষ্কারের ক্ষেত্রে সজনে বিচি শুকিয়ে গুড়া করেও ব্যবহার করা হয়। এটি ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। এবং যেসব মায়েরা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান তাদের জন্য সজনে পাতা অত্যন্ত উপকারী।

এছাড়া এই পাতায় রয়েছে ৯২ ধরণের পুষ্টি উপাদান, ৪৬ ধরণের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ১৮ ধরণের অ্যামাইনো অ্যাসিড, ৮ ধরণের ইসেনশিয়াল অ্যামাইনো অ্যাসিড। এজন্য একে বলা হয় সুপার ফুড, ন্যাচারাল মাল্টিভিটামিন এবং মিরাকল ভেজিটেবল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest