সর্বশেষ সংবাদ-
আশাশুনিতে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ইজিবাইকের ওপর: অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন পথচারীসাতক্ষীরায় উপজেলা পর্যায়ে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি সমাবেশশ্যামনগরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি সেবা প্রাপ্তির মানোন্নয়নে পাবলিক হেয়ারিংগভীর রাতে গাবুরায় গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ‌দাফন সম্পন্নগাজী নজরুলের ফাঁ*সির দাবিতে উত্তাল শ্যামনগরসাতক্ষীরায় যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা, আনন্দ মিছিলগণপিটুনিতে মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনসাতক্ষীরা জেলা যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা: সভাপতি মুকুল, সম্পাদক বাবুবিজনেস অ্যান্ড লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন সাতক্ষীরার সুদীপ্তকেঁড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. আনিছুর রহমানের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জিয়ার তুলনা করে গালি খেলেন কাদের সিদ্দিকী

দেশের খবর: সাধারণ মানুষের মুখে ‘গাদ্দার-বেইমান’ গালাগাল শুনলেন একাত্তরের রণাঙ্গনের যোদ্ধা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। মানুষ বলে ওঠে, ‘আপনারে সম্মান করতাম। এখন করিনা। বঙ্গবন্ধুকে জিয়ার সঙ্গে তুলনা করেন ক্যান? বঙ্গবন্ধু আর জিয়া এক না?

রাজশাহীতে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ শেষে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন তার গাড়ি বহর নিয়ে। তার গাড়ি বহরে ৫টি গাড়ি ছিল। তার গাড়ি ছিল সবার সামনে। সমাবেশ থেকে ফেরার পরে কুমারপাড়া রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে দিয়ে যাবার সময় ‘গাদ্দার-বেইমান’ শব্দ শুনতে পেয়ে গাড়ি থেকে নেমে আসেন তিনি। তার গাড়ি বহরের লোকজন তার পাশে অবস্থান নেন। তাদের মাথায় লাল গামছা বাঁধা ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়ি বহর থামিয়ে নেমে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে নেতা-কর্মীদের কাছে গিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘কে গালি দিয়েছে আমাকে। আমি বঙ্গবন্ধুর যোদ্ধা।’ এসময় উপস্থিত সাধারণ মানুষ কাদের সিদ্দিকীকে উদ্দেশ্য করে ফের বলেন, ‘আপনি একটা বেইমান, দালাল। আপনি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর তুলনা করেছেন। আপনাকে আমরা সম্মান করতাম এখন ঘৃণা করি।’

এসময় কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে থাকা লোকজনকে কোমরে হাত দিতে দেখা যায়। তবে সেখানে কর্মরত পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শী মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মহমুদ হাসান রাজিব বলেন, সমাবেশ থেকে ফেরার পথে কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে নেতাকর্মীদের দেখে গাড়ি থামিয়ে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলেন। এসময় সাধারণ মানুষ তার প্রতিবাদ করেন। তিনি উত্তেজিত হয়ে তার কমোরে থাকা পিস্তল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের কিছু ছেলে গালাগালি করছিল। লোক জড়ো হয়েছিল। পরে আমরা চলে এসেছি। আমি সারাজীবন দেশের জন্য কাজ করেছি। বঙ্গবন্ধুকেই বাংলাদেশ মনে করি, ভালোবাসি। আমাকে গালি দেয়া মানে বঙ্গবন্ধুকে গালি দেয়া। বঙ্গবন্ধুকে জিয়াউর রহমানের সাথে এক করিনি। বঙ্গবন্ধু দেশের নেতা, জাতির পিতা। আমরা তার সন্তান। দুই রহমানকে দ্বিখণ্ডিত করে যারা ফয়দা লুটে, আমি তাদের দুরত্বটা কমিয়ে দিতে চেয়েছি সমাবেশে আমার বক্তব্যে।’

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর জিয়াউর রহমানের যে দ্বন্দ্ব, এই দ্বন্দ্ব পুঁজি করে যারা দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে, আল্লাহ যদি আমাকে দুই বছর সময় দেয়-তাহলে শেখ মুজিব আর জিয়াউর রহমানের দ্বন্দ্ব আমি ঘুচিয়ে দেব ইনশাল্লাহ।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নির্বাচন নিয়ে ২০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত আজ

দেশের খবর: তফসিল ঘোষণার পর নড়েচড়ে বসেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট। ৭ দফা পূরণ ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, সেই প্রশ্নে উভয় জোটের নেতাদের মধ্যে চলছে নানা বিশ্লেষণ। তফসিল ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার রাতেই ২০ দলীয় জোটের বৈঠক হয়েছে। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকও হয়েছে। উভয় বৈঠক থেকে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে বিভক্ত মত উঠে আসে।
এখন পর্যন্ত নেয়া মতামতে ২০ দলের ১০টি শরিক দল নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মতামত দিয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যও একই মত ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচনে যাওয়ার বিপক্ষের অংশটি মনে করছে, আন্দোলনের বিকল্প নেই। আর পক্ষের অংশটি মনে করছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আন্দোলনের কৌশলও বাস্তবায়ন করা যাবে। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে আজ বিকাল ৫টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও সন্ধ্যায় ২০ দলীয় জোট গুলশানে পুনরায় বৈঠকে বসছে।

একই ইস্যুতে রাতে ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টেরও বৈঠক আছে। বিএনপি, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মতামত নিয়ে আগামীকাল রোববার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে পারেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া লন্ডনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গেও আরেক দফা কথা বলবেন বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সব আলোচনা শেষে দু-এক দিনের মধ্যেই আসবে নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়া সংক্রান্ত ঘোষণা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোট সূত্র জানিয়েছে, ঘোষিত তফসিলে নির্বাচনে অংশ নেয়া এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে কী কী প্রতিবন্ধকতা আছে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে বিএনপির থিংক ট্যাংক বা বিশেষজ্ঞ মহলে। উভয় জোটের পক্ষ থেকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম। তফসিল ঘোষণার পরও বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাজশাহীতে জনসভায় যোগ দিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো হয়েছে। ওই সমাবেশকে কেন্দ্র করে মহড়া দিয়েছেন সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। এছাড়া গত কয়েক দিনে ২২ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নেতাকর্মীরা বাসায় ঘুমানো দূরের কথা, এলাকায়ও থাকতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে গেলে প্রচার-প্রচারণা করাও সম্ভব হবে না। ফলে নির্বাচনে যাওয়াটা ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এমন পরিস্থিতিতে কী করণীয়, সেসব বিশ্লেষণ শেষেই আসবে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে উভয় জোটের ঘোষণা।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বৈঠকে ভালো-মন্দ বিশ্লেষণ হয়েছে। কী করা উচিত, কী করা উচিত না- এসব নিয়ে সবাই মতামত দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বৈঠকে কেউ কেউ বলেছেন, সরকার তো তার জায়গা থেকে একটুকুও সরছে না। কিন্তু নির্বাচন করতে গেলে এখন আমরা অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন পাব না। নেতাকর্মী গ্রেফতার এখনও অব্যাহত রেখেছে। নির্বাচনে গিয়ে সরকারকে বৈধতা দেয়া হবে। আবার কেউ বলেছেন, নির্বাচন না করলে দলের আরও ক্ষতি হতে পারে। তবে এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শুধু আলোচনা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনে অংশ নিতে হলে জোটগতভাবে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন আছে। কেননা, জোটগতভাবে প্রার্থী দিতে হলে তিন দিনের মধ্যে তা জানাতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তাই আজকের উভয় জোটের বৈঠকে এ বিষয়টিও আলোচনায় আসবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, জোটগতভাবে নির্বাচন করতে চাইলে তিন দিনের মধ্যে কমিশনকে জানাতে হবে। আজই দলগুলোকে এ বিষয়ে চিঠি দেয়া হবে।

তিনি বলেন, কোনো অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সদস্য যদি নিবন্ধিত কোনো দলের হয়ে বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চান, তাহলে সেটি সম্ভব। এ অবস্থায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ও ২০ দলীয় জোটের আজকের বৈঠকটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন উভয় জোটের নেতারা।

বৃহস্পতিবার গুলশান কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে ১১টি দলের মতামত নেয়া হয়। সূত্র জানায়, এর মধ্যে ১০টি শরিক দল নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে মত দেয়। যদিও তারা আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়া উচিত বলে মনে করছে। সেখানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বাকি ৯ দল তাদের মতামত জানানোর আগেই জোটের বৈঠক মুলতবি করা হয়। আজ সন্ধ্যা ৭টায় বৈঠকটি গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, আমাদের সাত দফা দাবি ছিল। এর কোনোটিই প্রধানমন্ত্রী মানেননি। সরকারের যদি সুষ্ঠু নির্বাচনের সদিচ্ছা থাকত, তাহলে তারা দাবিগুলো মেনে নিত। কিন্তু এখন পর্যন্ত একদফা দাবিও মানা হয়নি। শুধু তা-ই নয়, সংলাপের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। তা-ও তিনি দেননি।

তিনি যদি তার বক্তব্যে ৭ দফা দাবির মৌলিক কিছু বিষয় মেনে নেন, তাহলে নির্বাচনে যাওয়ার পথ সুগম হতো। ড. রেদোয়ান বলেন, তারা ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করবে, সেটা অপর পক্ষের জন্য সমান সুযোগ নয়। ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিপক্ষে নয়। কিন্তু নির্বাচনের তফসিল যদি পরিবর্তন করা হয়, খালেদা জিয়ার মুক্তি দেয়া হয়, ধরপাকড় বন্ধ ও ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়, তাহলে নির্বাচনের পথ সৃষ্টি হতে পারে।

জোটের শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, নির্বাচনে যাওয়া উচিত। নির্বাচন একটি আন্দোলনের অংশ। তাই অবশ্যই আমরা যাব। এ সরকার মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছে। তাকে জামিন দিচ্ছে না। আমরা আন্দোলন ও নির্বাচনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব।

নির্বাচনে না গেলে আমাদের কর্মী ধরে রাখা যাবে না। সরকার আরেকটি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো ভোট করবে। সরকার চাচ্ছে না ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসুক। এজন্য যা যা করা দরকার, তা তারা করছে। যদি নির্বাচনে না যাই, তাহলে সরকারের ফাঁদে পা দেয়া হবে।

আরেক শরিক দল বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, সরকার একটি পাতানো নির্বাচন করতে চায়। এজন্য একটি আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন দিয়ে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের গণতন্ত্রকামী কোনো রাজনৈতিক দল এ তফসিলকে স্বাগত জানায়নি। সুতরাং এ তফসিলে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। নতুন করে তফসিল দিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই নির্বাচনে যেতে চাই। তার আগে দাবিগুলো মানতে হবে।

সূত্র জানায়, জোটের বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও অধিকাংশ সদস্য আন্দোলনের কৌশল হিসেবে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে মত দেন।

তারা বলেন, আন্দোলন ও নির্বাচন একই সঙ্গে চালিয়ে যেতে হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আন্দোলনের কৌশলও বাস্তবায়ন করা যাবে। তবে কয়েকজন নীতি-নির্ধারক আন্দোলনের পক্ষে মত দেন। তারা বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে রাজপথের আন্দোলনে যাওয়া উচিত। বর্তমান অবস্থায় নির্বাচনে যাওয়া ঠিক হ?বে না জানি?য়ে তারা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা কয়েক মাস ধরে নির্বাচনী প্রচার চালালেও বিএনপির প্রার্থীরা এলাকায় যেতে পারছেন না। তারা নিজেদের কার্যালয়েও যেতে পারেন না। দলের তৃণমূল পর্যন্ত মামলার পাহাড়।

এ অবস্থায় তারা নির্বাচনের কার্যক্রম চালাতে পারবেন না। আবার খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া নির্বাচনে গেলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বাধার সম্মুখীনও হতে পারি। এ অবস্থায় শুধু নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার জন্য অংশগ্রহণ কোনোক্রমেই ঠিক হবে না। তবে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। নীতি-নির্ধারকদের মতামত নিয়ে একটি সারসংক্ষেপ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটির করা সারসংক্ষেপ লন্ডনে থাকা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে এরই মধ্যে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে তিনি দলের বেশ কয়েকজন নীতি-নির্ধারকের সঙ্গে কথা বলেছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নীতি-নির্ধারকদের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের মতামতকে প্রাধান্য দিতে বলেছেন। তাদের মতামত পেলে তিনি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে। সূত্র: যুগান্তর

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যুবকের পুরুষাঙ্গ কেটে নিলেন গৃহবধূ!

ভিন্ন রকমের খবর: ঘটনাটি ভারতের ওড়িশার হরিচন্দনপুরের। আক্রান্ত যুবকের নাম রাজেন্দ্র নায়েক। বুধবার রাতে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনায় অভিযোগের তীর এক গৃহবধূর দিকে।

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বুধবার রাতে অফিস থেকে ফিরে ওই মহিলার বাড়ি যান রাজেন্দ্র। সেখানে রাজেন্দ্র অন্য এক মহিলার সঙ্গে ফোনে কথা বলতে থাকেন, যা দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে যান ওই গৃহবধূ। অভিযোগ, এর পরেই রাজেন্দ্রকে জোর করে মদ্যপান করান ওই মহিলা। তার পরেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গোপনাঙ্গ কেটে দেন ওই বধূ।

এর পরেই আর্তনাদ শুরু করেন রাজেন্দ্র। চিৎকার শুনে এলাকাবাসীরা এসে তাকে উদ্ধার করেন। হাসপাতালে আপাতত স্থিতিশীল রয়েছেন রাজেন্দ্র। পুলিশের কাছে রাজেন্দ্র ওই মহিলাকে নিজের বন্ধু বলেই পরিচয় দিয়েছেন। ওই মহিলাকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। ঠিক কী কারণে ওই মহিলা এমন নৃশংস আচরণ করলেন, তা-ও জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ শহীদ নূর হোসেন দিবস

অনলাইন ডেস্ক: আজ শনিবার ‘শহীদ নূর হোসেন দিবস’। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তৎকালীন স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকার রাজপথে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ নূর হোসেন আত্মহুতি দেন।

নূর হোসেনের এই আত্মত্যাগ তত্কালীন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনকে বেগবান করে। এ দিনে হাজারো প্রতিবাদী যুবকের সঙ্গে জীবন্ত পোস্টার হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল যুবলীগ কর্মী নূর হোসেন। তাঁর বুকে-পিঠে উত্কীর্ণ ছিল ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ এই জ্বলন্ত স্লোগান। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অকুতোভয় সেই যুবকের অগ্নিঝরা স্লোগান সহ্য হয়নি তত্কালীন স্বৈরশাসকের। স্বৈরাচারের লেলিয়ে দেয়া বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে তাঁর বুক ঝাঁঝরা করে দেয়। গুলিতে আরও শহীদ হন যুবলীগ নেতা নুরুল হুদা বাবুল ও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের ক্ষেতমজুর নেতা আমিনুল হুদা টিটোও।

এই আন্দোলনের জোয়ারে নব্বইয়ের শেষ দিকে ভেসে যায় স্বৈরাচারের তক্তপোশ। শহীদ নূর হোসেনের রক্তদানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তীব্রতর হয় এবং অব্যাহত লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে।

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল বাণীতে হামিদ নূর হোসেনের মতো সকল সাহসী মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট থাকার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিনে শহীদ নূর হোসেনের রক্তে রঞ্জিত হয় ঢাকার রাজপথ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণিতে বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে ১০ নভেম্বর একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৮৭ সালের এই দিন যুবলীগ নেতা নূর হোসেনের রক্তে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল।

দিবসটি উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহীদের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহীদ নূর হোসেন স্কয়ারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, বিশেষ মোনাজাত, আলোচনা সভা, সেমিনার প্রভৃতি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নির্ভার আওয়ামী লীগ দিশাহীন বিএনপি

দেশের খবর: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাচনী কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্ব এখনো তৃণমূলকে কোনো নির্দেশনা দিতে পারেনি। নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়া নিয়েও মতবিরোধ আছে দলে; যদিও বলা হচ্ছে এ সপ্তাহেই ধোঁয়াশা কেটে যাবে।

নির্বাচনের আমেজ ক্ষমতাসীন দলে
সংলাপ সফল না হওয়া সত্ত্বেও বিরোধী পক্ষের কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় অনেকটাই নির্ভার আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির মনোযোগ এখন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে। এ মাসের মধ্যেই দলীয় মনোনয়নপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে ভোটের মাঠে নেমে পড়ার অপেক্ষায় রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোকে ১৩-১৫টি আসন ছেড়ে দিতে পারে আওয়ামী লীগ। আর অন্য মিত্রদের জন্য ৬০-৬৫টি আসন রাখার পরিকল্পনা আছে দলটির। অর্থাৎ ১৪ দলের শরিক ও অন্য মিত্রদের ৭০-৮০টি আসন ছেড়ে দিয়ে বাকি ২২০-২৩০টি আসনে দলীয় প্রার্থী দিতে পারে আওয়ামী লীগ। তবে সব কিছু নির্ভর করছে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি কী হয় তার ওপর। বিএনপি ভোটে না এলে ১৪ দলের শরিকদের আসন আরো বাড়তেও পারে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ও সদস্য সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের কয়েকজন সদস্য এবং ১৪ দলের শরিক কয়েকটি দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ওই নেতারা বলেন, বিএনপি এখন আর নির্বাচনে না এসে পারবে না বলেই তাঁরা মনে করছেন। আর বিরোধী পক্ষ শেষ পর্যন্ত আন্দোলনে গেলে আলোচনার পাশাপাশি প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হবে। তবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত আলোচনার দরজা খোলা রাখতে চায় ক্ষমতাসীনরা। এরপর প্রয়োজন হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানান, সুষ্ঠুভাবে সংলাপ করতে পারায় তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব উচ্ছ্বসিত। দলটির নীতিনির্ধারকরা এই ভেবে বেশ স্বস্তিতে আছেন যে সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের আন্তরিকতা প্রকাশ করার কিছু বাকি নেই। যা যা করা দরকার ছিল সব করা হয়েছে। সংলাপে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মত নেওয়া হয়েছে। প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রাধান্য থাকা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দুই দফা সংলাপে সামগ্রিক বিষয়ে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেছেন, সংলাপ শেষ হলেও আলোচনার দরজা এখনো খোলা রয়েছে। তাই বিরোধী দল বিএনপি চাইলে এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের এ চেষ্টা আন্তর্জাতিক মহল ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসে কথা বলে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এখন বিএনপি নেতাদের কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে তাঁরা নির্বাচনে আসবে। আমাদের পুরো মনোযোগ এখন নির্বাচন ঘিরে। নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েক দিন আমরা নির্বাচনে জোটের শরিকদের মনোনয়ন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করব।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পূর্ণ আন্তরিকভাবেই সংলাপে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বারবার বলেছেন, যা কিছু করা দরকার তা সংবিধানের মধ্যে থেকেই করতে হবে। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যদি আরো কিছু করার প্রয়োজন হয়, নির্বাচন কমিশন তা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে করবে।’

জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কী করতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। গত মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবং গতকাল রাজশাহীতে তাদের জনসভা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে ক্ষমতাসীন দল। রাজশাহীর জনসভায় যাননি ফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন। তাই আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে বলে বিশ্বাস আওয়ামী লীগ নেতাদের। আন্দোলনের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আবার আলোচনায় এলে ক্ষমতাসীনরা নিরুৎসাহিত করবে না। তবে সংবিধানের মধ্যে থেকেই করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। প্রয়োজনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁইও হতে পারে বিরোধী পক্ষের দু-চারজনের। সেই প্রস্তুতিও সরকারের আছে। পাশাপাশি বিএনপি যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পায় সে লক্ষ্যে চাপ অব্যাহত রাখতে নাশকতার বিভিন্ন মামলায় আসামি গ্রেপ্তার অভিযান চালাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে তাদের পক্ষ থেকে আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হবে না। ঐক্যফ্রন্ট আলোচনা করতে চাইলে কেন্দ্রীয় নেতা পর্যায়ে তা হতে পারে। আলোচনা চলতে থাকলে এর অগ্রগতি জেনে সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নির্বাচনী কাজে পুরো মনোযোগ: বর্তমানে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী কাজে পুরোপুরি মনোযোগী। দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে গতকাল থেকে দলীয় ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়া শুরু হয়েছে। আগামীকাল রবিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকের মাধ্যমে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগেই তা শেষ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে হাতে আছে মাত্র ১৯ দিন। এই ১৯ দিনের মধ্যে মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়া, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, একসময়ের মহাজোটের অংশীদার জাতীয় পার্টি, নতুন মিত্র এ কিউ এম বদরুদ্দৌজা চৌধুরীর বিকল্পধারা, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বাংলাদেশ জাতীয় জোট ও তৃণমূল বিএনপি এবং ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে আসন বণ্টনের বিষয় রয়েছে।

মিত্রদের দেওয়া হতে পারে ৭০-৮০টি আসন: আওয়ামী লীগের সদস্য সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্য এবং ১৪ দলের শরিক কয়েকটি দলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা জানান, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোকে ১৩-১৫টি আসন ছেড়ে দিতে পারে। আর অন্য মিত্রদের জন্য ৬০-৬৫টি আসন ছেড়ে দিয়ে ২২০-২৩০টি আসনে দলীয় প্রার্থী দিতে পারে আওয়ামী লীগ। তবে বিএনপি ভোটে না এলে ১৪ দলের শরিকদের আসন আরো বাড়বে।

ওই নেতারা জানান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) চার থেকে ছয়টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি চার থেকে ছয়টি, বাংলাদেশ জাসদ দুটি, জাতীয় পার্টি (জেপি) এক-দুটি, তরীকত ফেডারেশন একটি আসনে ১৪ দলের মনোনয়ন পেতে যাচ্ছে।

১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘জোটের শরিকরা যার যার মতো দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করতে শুরু করেছে। আমরাও আমাদের মনোনয়নপত্র বিতরণ করছি। এরপর একটা তালিকা নিয়ে আমরা শরিকদের সঙ্গে বসব। দেখব কোথায় কার যোগ্য প্রার্থী আছে।’ গতবারের চেয়ে এবার শরিকদের বেশি আসন ছেড়ে দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আমার মনে হয় না তাদের আসন আর বাড়বে। গতবার যা ছিল তার কাছাকাছিই থাকবে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘১৪ দলের শীর্ষ নেতারা মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। আমরা ৭০-৮০টি আসন মিত্রদের ছেড়ে দেব। এই আসনগুলো ১৪ দলের শরিক, জাতীয় পার্টি এবং অন্যদের কারো সঙ্গে সমঝোতা হলে তাদের মধ্যে ভাগ হবে।’

আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলেন, ‘১৪ দলের শরিকদের অনেকেই অনেক বেশি আসন দাবি করছেন। বাস্তবতা হলো দু-তিনটি দল ছাড়া অন্যদের শক্ত কোনো প্রার্থী নেই। কিন্তু প্রায় সব দলই ১৫-২০টি করে আসন দাবি করেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটুকু বলতে পারি, বিএনপি নির্বাচনে এলে গতবারের চেয়ে এবার শরিকদের বেশি আসন ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা কম।’

১৪ দলের একাধিক সূত্র মতে, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ জাসদ, জেপি, তরীকত ফেডারেশন—এ পাঁচটি দলের প্রার্থীরা ১৪ দলের মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন। সাম্যবাদী দল, ন্যাপ, গণতন্ত্রী পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, গণ-আজাদী লীগ, বাসদ—এ দলগুলো কোনো আসন পাচ্ছে না। তবে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া চট্টগ্রাম থেকে একটি আসনে মনোনয়ন পেতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গণতন্ত্রী পার্টি এবং ন্যাপও অন্তত একটি করে আসন পেতে আগ্রহী।

বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত আসন ছাড়া জাসদের তিনজন সদস্য আছেন। তাঁরা হলেন জাসদ সভাপতি হাসানুল ইক ইনু, দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য রেজাউল করিম তানসেন। আরো অন্তত ১৫ নেতার মনোনয়নের জন্য জোর দাবি জানাবে দলটি। তাঁদের মধ্যে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য শাহ জিকরুল আহমেদ, জায়েদুল কবির, কুমারেশ রায়, শফিকুল ইসলাম মিন্টু ও শহীদুল ইসলাম। তবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একাধিক সদস্য জানান, জাসদের বর্তমান তিন সংসদ সদস্যের বাইরে আর এক-দুজনকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা আছে।

বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত আসন ছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টির ছয়জন সদস্য আছেন। তাঁরা হলেন দলটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, পলিটব্যুরোর সদস্য মোস্তফা লুৎফুল্লাহ, ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি ইয়াসিন আলী, নড়াইল জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান ও বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান। এ ছাড়া দলের পলিট ব্যুরোর সদস্য নূর আহমেদ বকুল ও ইব্রাহিম খলিলের মনোনয়নের জন্য জোর দাবি জানিয়েছে দলটি। তবে ওয়ার্কার্স পার্টিকে চার-ছয়টি আসন ছেড়ে দিতে পারে আওয়ামী লীগ।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে জাসদ ভেঙে একটি অংশ বাংলাদেশ জাসদ গঠন করে। বর্তমান সংসদে দলটির দুজন সদস্য রয়েছেন। তাঁরা হলেন দলটির কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান। এবার দলটির পক্ষ থেকে আরো তিন-চারটি আসনে মনোনয়ন চাওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরিফ নুরুল আম্বিয়া নড়াইল-১, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আনিচুজ্জামান আনিচ বরিশাল-২ আসনে নির্বাচন করতে চান। তবে আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার বাংলাদেশ জাসদকে দুটির বেশি আসন ছাড়া হবে না।

বর্তমান সংসদে জেপির দুজন সদস্য আছেন। আসন্ন নির্বাচনে দলটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মনোনয়ন নিশ্চিত হলেও আর কোনো আসন ছেড়ে দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ।

বর্তমান সংসদে তরীকত ফেডারেশনের দুজন সদস্য রয়েছেন। তাঁরা হলেন দলের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী আর সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়াল। আউয়াল কিছুদিন আগে নতুন দল গঠন করেন। আগামী নির্বাচনে তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যানকে একটি আসন ছেড়ে দেবে আওয়ামী লীগ। যদিও দলটির পক্ষ থেকে অন্তত দুটি আসনের জন্য দর-কষাকষি চলছে।

জোটের মনোনয়ন নিয়ে সম্প্রতি গণভবনে ১৪ দলের সঙ্গে এক বৈঠকে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সিট চান অসুবিধা নাই। কিন্তু চিন্তা করে দেখেন কোথায় জিততে পারবেন। যেখানে জিততে পারবেন—এমন আসন চান। আমরা মনোনয়ন দেব। হারলে কিন্তু আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে।’

নির্দেশনা নেই বিএনপির, তৃণমূলে হতাশা
এ মুহূর্তে অনেকটাই দিশাহারা বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বর্তমানে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করছেন। ফলে বিএনপি চলছে দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে। আর সিদ্ধান্তগুলো আলোচনা হচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে। কিন্তু যাদের দিয়ে আন্দোলন বা নির্বাচনের সুফল ঘরে তুলতে হবে, বিএনপির সেই তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই বুঝতে পারছে না কী করতে হবে। আবার নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে কেন্দ্রে মতবিরোধও রয়েছে। এর ফলে কর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, সুনসান নীরবতার মধ্য দিয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর মতো এবার আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ, নাকি ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হবে—এ নিয়ে কেন্দ্র থেকে পরিষ্কার কোনো বার্তা পৌঁছেনি বিএনপির তৃণমূলে। এ অবস্থায় দ্রুত সিদ্ধান্ত চায় বিএনপির তৃণমূল।

জানা গেছে, বিএনপির প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনী ইশতেহার প্রায় চূড়ান্ত আছে। তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম মূলত শেষ হয়েছে।

বিএনপি নেতারা বলেছেন, চলতি সপ্তাহেই এই ধোঁয়াশা কেটে যাবে। কারণ আজ শনিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দলীয় জোট ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব বৈঠকে নির্বাচনে তফসিল পেছানো ও খালেদা জিয়ার মুক্তির পন্থা বের করতেই বেশি মনোযোগী হবেন নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘আমরা নির্বাচনে থাকছি, নাকি আন্দোলনের কর্মসূচি কঠোর করছি, তা চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পরিষ্কার হবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয়ক মোহাম্মদ শাহজাহান ও যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, তফসিল পেছানো ও চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়ে আমরা বেশি মনোযোগ দেব।’
কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, খালেদা জিয়ার সঙ্গে আজকালের মধ্যে দেখা করার চেষ্টা করবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা। এর পরই দলের সিদ্ধান্ত আসবে। অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বেশির ভাগ সদস্য নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

অন্যদিকে শীর্ষ দুই নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্বাচনে যাওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন দলকে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। বিষয়টি নিয়ে আজ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দলীয় জোট ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হবে। শেষ দুটি বৈঠক হবে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আর প্রথম বৈঠকটি হবে মতিঝিলে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের চেম্বারে।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তফসিল পেছানোর দাবিতে আরো কয়েক দিন আন্দোলনের মাঠে থাকবে বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের দলগুলো। সাত দফার মূল দাবিগুলো থেকে সরে এ দুই দফায় তাদের আন্দোলন চলবে কয়েক দিন।

দলের নেতারা বলছেন, সাত দফার মূল দাবি যেহেতু মানা হয়নি, তাই খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তফসিল পেছালে তাদের নির্বাচনের পথ খুলবে। গতকাল রাজশাহীর সমাবেশেও এই সুরে কথা বলেছেন নেতারা।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ শুক্রবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। বিএনপিকে বাইরে রেখে আবারও নির্বাচন করার সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার জন্যই বিএনপি আন্দোলনে যাবে। নির্বাচন আন্দোলনেরই একটি অংশ। সরকারের লক্ষ্যই হলো বিএনপি যেন নির্বাচনে না যায়। সুতরাং তাদের এই লক্ষ্য সিদ্ধ হতে দেব না। আমরা এবার নির্বাচনে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি তৈরি হয়ে আছি।’

তবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকারের কাছে যদি আমরা এভাবে আত্মসমর্পণ করি তাহলে তো হলো না। কারণ সরকার সাত দফার কোনোটাই তোয়াক্কা করে না।’

বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও বাগেরহাট-৩ আসনের মনোনয়ন প্রার্থী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলন ও নির্বাচন দুই ধরনের বার্তা দিয়ে আমাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তবে আন্দোলন নাকি নির্বাচন, বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়নি। এর পরও আমরা তৃণমূল অতীতের মতো প্রস্তুত আছি।’

কক্সবাজার জেলা বিএনপির সদস্য ও সদর আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী লুৎফর রহমান কাজল বলেন, ‘কেন্দ্র আমাদের মতামত নিচ্ছে আন্দোলন করব, নাকি নির্বাচন করব। বেশির ভাগ বলছেন, খালেদার মুক্তি ছাড়া যাওয়া সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।’

বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল-১ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মতামতের ভিত্তিতে খুব দ্রুত কেন্দ্রীয় নেতারা সিদ্ধান্ত দেবেন বলে আমাদের জানানো হয়েছে।’

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নীরবতা: এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রির প্রথম দিন যেমন জমজমাট ছিল, ঠিক তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। নয়াপল্টনের এই কার্যালয়ের সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। সেখানে দলের কয়েকজন নেতাকর্মী ছিল। বিএনপির কার্যালয়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

সকাল ও দুপুরে কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের কয়েকটি গাড়ি বিএনপির কার্যালয়ের সামনে রাখা। অল্প দূরে দাঁড়িয়ে আছে দাঙ্গা পুলিশের একটি দল। আর সাদা পোশাকে থাকা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করছিলেন।

দুপুরে সংবাদ সম্মেলন শেষে গণমাধ্যমকর্মীরা কার্যালয় ত্যাগ করলে সেখানে নেমে আসে সুনসান নীরবতা। শুক্রবার সরকারি বন্ধের দিন হওয়াতে আশপাশের অফিসগামী মানুষও ছিল না। কয়েক নেতাকর্মী ও অফিসের স্টাফরা দপ্তরে বসে বিকেলে পর্যন্ত কাজ করেন। পরে দপ্তরের দায়িত্বে থাকা রিজভী ও দু-একজন নেতা ছাড়া বাকিরা কার্যালয় ত্যাগ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অ্যাপেনডিক্সে বাড়ে ব্যাকটেরিয়া!

স্বাস্থ্য কণিকা: বৃহদান্ত্র এবং ক্ষুদ্রান্ত্রের সংযোগস্থলে বৃহদান্ত্রের সঙ্গে যুক্ত একটি ছোট থলের মতো অঙ্গ অ্যাপেন্ডিক্স। এই অঙ্গটি অতিরিক্ত একটি অঙ্গ। অতীতে মনে করা হতো, আমাদের পেটের ভেতরে থাকা এই অঙ্গের কোনো কাজ নেই। তাই এখানে সংক্রমণ হলে চিকিৎসকরা প্রায়ই প্রত্যঙ্গটিকে ছুরি চালিয়ে ফেলে দিয়েছেন। কিন্তু, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যাপেনডিক্স অন্ত্রের ভেতর উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এতে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

গবেষকরা দেখেছেন, মানবদেহের পরিপাকতন্ত্রে থাকা বিপুল পরিমাণ ব্যাকটেরিয়াকে বেঁচে থাকতে সহায়তা করে অ্যাপেনডিক্স। গবেষকরা বলছেন, অস্ত্রোপচার করে এটি ফেলে দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সমস্যা না হলেও দীর্ঘমেয়াদে দেহের ক্ষতি হয়।

তাদের মতে, পেটে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, যার বেশির ভাগই উপকারী। খাদ্য হজমে সাহায্য করে এসব ব্যাকটেরিয়া। কিন্তু, প্রায়ই কোনো সমস্যায় ব্যাকটেরিয়া মরে যায়। কলেরা বা অ্যামিবিক আমাশয় হলে তা অন্ত্র বা নাড়িভুঁড়ি থেকে সব ব্যাকটেরিয়া বের করে ফেলে।

অ্যাপেনডিক্সের কাজ হচ্ছে, এ রকম ক্ষেত্রে সেখানে লুকানো ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে তা দিয়ে আবার পরিপাকতন্ত্রকে চাঙ্গা করা। অর্থাৎ অ্যাপেনডিক্স ব্যাকটেরিয়ার জন্য একটি নিরাপদ আবাস হিসেবে কাজ করে।

গবেষকরা বলছেন, যাদের অ্যাপেনডিক্স অপসারণ করা হয়, তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এমনকি তাদের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি চার গুণ বেড়ে যায়।

অ্যাপেনডিক্সের দেয়ালে রয়েছে উচ্চমাত্রায় রোগপ্রতিরোধী সেল, যা দেহের রোগপ্রতিরোধে কার্যকরভাবে সহায়তা করে থাকে।

অ্যাপেনডিক্সের ওপর এ গবেষণাটি চালিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডিউক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল স্কুলের সার্জন আর ইমিউনোলজিস্টরা, যা বিজ্ঞান সাময়িকী জার্নাল অব থিওরিটিক্যাল বায়োলজিতে প্রকাশিত হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নারীকে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে- ঢাকায় মণীষা

বিনোদন সংবাদ: আমি একজন যোদ্ধা। আমি নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। তবে ক্ষমতা অর্জন করতে গেলে নারীকে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। লক্ষ্য স্থির রেখে কাজ করতে হবে। তাহলে সফলতা আসবেই।
কথাগুলো বলছিলেন বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। অনিন্দ্যসুন্দর মুখখানিতে ফুটে উঠেছে জীবন যুদ্ধের ছাপ! মারণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ে বিজয়ীর বেশে ফিরে এসেছেন জীবনের আনন্দযজ্ঞে। তাই মুখের বলি রেখাগুলোর চাইতে শান্ত নির্মল চাহনির মাঝে এক যোদ্ধার মুখ যেন বেশি করে উঁকি দিচ্ছিল। বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিনে এসেছিলেন বলিউডের এই নায়িকা। আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে অংশ নিয়েছিলেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ শীর্ষক আলোচনায়। সে আলোচনায় উঠে আসে তার আত্মজীবনীমূলক ‘দ্য হিলড’ বইটির কথাও। সেশনের পরেও সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথোপকথনে অংশ নেন তিনি।
নেপালের নাগরিক আর বলিউডে এক সময়ে সাড়া জাগানো নায়িকা মনীষা বলেন, আমি নারীদের নিজের ওপরে বিশ্বাস রাখতে বলবো। প্রতিষ্ঠিত হতে হলে নারীকে আশেপাশের সমাজের সঙ্গে লড়াই না করলেও চলবে। তাকে নিজের লক্ষ্যের দিকে একমুখী একাগ্রতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিন ঢাকায় আসেন মনীষা। এই তারকা তার ক্যান্সারের অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘হিলড’ নামে একটি বই লিখছেন। বইটি জানুয়ারিতে প্রকাশ হতে পারে। এই বইতে কি থাকছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতে মূলত আমি কিভাবে এই মারণব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ করেছি সেটা উঠে এসেছে। কিভাবে এই পুরো সময়টা কেটেছে সেটা তুলে ধরতে চেয়েছি। জীবনটাকে নানাভাবে নতুন করে বুঝে নিতে চেয়েছি।
ভারতজুড়ে তোলপাড় চলছে ‘হ্যাশট্যাগ মিটু’ আন্দোলন নিয়ে। বলিউডের নায়িকা আর তার কাছে ‘হ্যাশট্যাগ মিটু’ নিয়ে প্রশ্ন আসবে না তা কি হয়! এক দর্শক জানতে চাইলেন, নানা পাটেকারের যৌন হয়রানি নিয়ে মিটু আন্দোলন নিয়ে মনীষা কৈরালার ভাবনার কথা। মনীষা বলেন, হ্যাশট্যাগ মিটু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া যে ট্রায়াল করছে আমার তার প্রতি সমর্থন নেই। যারা দোষী তাদের বিচার করতে হবে। আমি সেটার পক্ষে। কিন্তু এভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো প্রমাণ ছাড়া সবাইকে অভিযুক্ত করার পক্ষে আমি নেই। দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসায় বিশ্বাসী। অবিচার আমার কাছে অগ্রহণযোগ্য। সেটা যেখানেই হোক। কোনো সম্মানিত ব্যক্তি বিনা কারণে যেন প্রমাণ ছাড়া সামাজিক হেয় না হয়, সেটির দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
চলচ্চিত্রে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মনীষা বলেন, ৯০-এর দশকে দেখতাম একই ধরনের ছবি নির্মাণের প্রবণতা বেশি। আমি এর বাইরে কিছু করতে চাইতাম। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নিয়ম হচ্ছে তুমি যতক্ষণ তাদের ছাঁচে নিজেকে না ফেলবে ততক্ষণ সবাই তোমার দিকে আঙুল তুলবে। ফলে পথে, ট্রেনে সবাই বলবে এ কে? কোথা থেকে এসেছে। আমি এই প্রথাগত ফর্মুলার বাইরে যেতে চেয়েছি। শিল্পীকেও এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমাকেও মানুষের কাছ থেকে একটা সময় বিরূপ মন্তব্য শুনতে হতো। কে এই মেয়ে, কোত্থেকে আসছে এরকম। আমাকে সব সময় বলা হতো আমি কোনদিন স্টার হতে পারবো না। কিন্তু আমি জীবনে বেশকিছু ভালো বন্ধু পেয়েছি। যারা আমাকে আমার মতো কাজ করতে উত্সাহিত করেছে।
দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে মনীষা ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বাক্যটি উচ্চারণ করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করে। এত বছর পরও তারা আমাকে নিয়ে যে আবেগ দেখিয়েছে তা যে কাউকে আবেগপ্রবণ করে তুলবে। আমাকেও তুলেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কোলন ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা

স্বাস্থ্য কণিকা: খাদ্য নালীর নিচের অংশ যেখানে মল বায়ু ও মলমিশ্রিত পানি থাকে। সেই অংশ-গুলোর যেমন বিশেষ করে সিকাম, কোলন, রেকটাম ও পায়ু পথের ক্যান্সারকে বুঝায়। কলোরেকটাল ক্যান্সার এর চিকিত্সা এখন আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাময় করা সম্ভব।

বাংলাদেশে এই রোগে আক্রান্তের সঠিক পরিসংখ্যান এখনো জানা নেই। তবে উন্নত বিশ্বে ক্যান্সারের মাধ্যমে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক এবং ক্যান্সার রোগীর মধ্যে এর অবস্থান তৃতীয় স্থানে। আমাদের দেশেও এই রোগের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে।

এই রোগের কারণগুলো কি কি?
১. খাদ্যভাস পরিবর্তন
২. জেনিটিক বা পারিবারিক কারণ
৩. ব্যাকটেরিয়া বা জীবানু
৪. এডিনোমা বা পলিপ
৫. ইনফ্লেমটরী বাওয়াল ডিজিজ
৬. বাই এসিড রস ইত্যাদি

খাদ্যাভ্যাস রোগের জন্য দায়ীঃ
পরীক্ষা নিরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, শাক সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার যেমন লাল আটা, ফল ফলাদি খাবারগুলো খেলে ক্যান্সার কম হয়। আবার মাংস, চর্বি জাতীয় খাবার, ফাস্ট ফুড, কম পানি খাওয়া ইত্যাদিতে অভ্যস্তদের ক্যান্সার রোগ বেশি হয়। অন্যান্য কারণগুলো যেমন- জেনিটিক বা পারিবারিকভাবে ও এই রোগে বংশধরার ভুগতে দেখা যায়। অর্থাত্ কোন কোন পরিবারে এই রোগে একাধিক ব্যক্তির মাঝে দেখা যায়।

কলোরেকটাল ক্যান্সারের উপস্বর্গঃ
১. মলদ্ব্বারে রক্ত ক্ষরণ অর্থাত্ পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়া রেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাইলস বলে সন্দেহ করে চিকিত্সা করা হয়।

২. মলত্যাগের অভ্যাস পরিবর্তন।
যে রোগী পূর্বে স্বাভাবিক দৈনিক মলত্যাগ করত। এ রোগ হলে তার কনসটিপেশন বা পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়া, অল্প পায়খানা হওয়া। আবার কখনো কখনো মিউকাস ডায়রিয়া দেখা যায়। বিশেষ করে সকাল বেল।

৩. পেটে ব্যাথা, বমি (ইনটেসটিনাল অবস্ট্রাকশন) ইত্যাদি ইর্মারজেন্সী উপস্বর্গ নিয়ে আসতে পারে।

৪. পেটে চাকা বা টিউমার নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসতে পারে।

৫. দূর্বলতা, রক্তশূণ্যতা ও খাবারের অরুচি ইত্যাদি নিয়েও ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়।

৬. খাদ্য নালীর বাহিরে এই রোগে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেমন- লিভার, ফুসফুস ও মস্তিষ্কে।

রোগ নিরূপণ ও চিকিৎসাঃ
কলোনোসকোপিও বেরিয়াম এনেমা পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই এই রোগ নিরুপন করা সম্ভব।

এই রোগের সার্জারীই একমাত্র চিকিত্সা। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় হলে চিকিত্সার সফলতা অনেক বেশি। বর্তমানে মর্ডান সার্জারী চিকিত্সার মাধ্যমে কলোস্টমীবেগ (পেটের মধ্যে কৃত্রিম পায়খানা দরজা করে দেওয়া)। না লাগিয়ে স্বাভাবিকভাবে মলদ্বার দিয়ে মলত্যাগ করা সম্ভব।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest