সর্বশেষ সংবাদ-
প্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক রহমাতুল্লাহর মৃত্যুসাতক্ষীরায় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সভা: সভাপতি মুনির- সম্পাদক সামাদসাতক্ষীরায় ঘোড়ার মাংস গরু বলে বিক্রির অভিযোগে এক ব্যক্তি আটকসরকার গণতন্ত্রের পরিবর্তে জবরদখল ও দলীয়করণ শুরু করেছে: এমপি ইজ্জত উল্লাহআ.লীগ ও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করে দেশ চালাচ্ছে সরকার: নাহিদএনসিপির কমিটি পুনর্গঠন: পাটওয়ারী-হাসনাত-সারজিস-আসিফের পদোন্নতি৮১ বছরে জাতিসংঘ: বিশ্ব চায় প্রতিশ্রুতির কার্যকর বাস্তবায়ন – নিকোলাস বিশ্বাসএরশাদের ৯ বছরের শাসন আমলে দেশের মানুষ সবচেয়ে ভালো ছিল: সাবেক এমপি আশুসাতক্ষীরায় জামায়াতে যোগ দিলেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা ফারুক হোসেনসাতক্ষীরায় পৌর ও সদর উপজেলা তাঁতীদল এর সাংগঠনিক আলোচনা সভা

আজ শহীদ নূর হোসেন দিবস

অনলাইন ডেস্ক: আজ শনিবার ‘শহীদ নূর হোসেন দিবস’। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তৎকালীন স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকার রাজপথে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ নূর হোসেন আত্মহুতি দেন।

নূর হোসেনের এই আত্মত্যাগ তত্কালীন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনকে বেগবান করে। এ দিনে হাজারো প্রতিবাদী যুবকের সঙ্গে জীবন্ত পোস্টার হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল যুবলীগ কর্মী নূর হোসেন। তাঁর বুকে-পিঠে উত্কীর্ণ ছিল ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ এই জ্বলন্ত স্লোগান। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অকুতোভয় সেই যুবকের অগ্নিঝরা স্লোগান সহ্য হয়নি তত্কালীন স্বৈরশাসকের। স্বৈরাচারের লেলিয়ে দেয়া বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে তাঁর বুক ঝাঁঝরা করে দেয়। গুলিতে আরও শহীদ হন যুবলীগ নেতা নুরুল হুদা বাবুল ও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের ক্ষেতমজুর নেতা আমিনুল হুদা টিটোও।

এই আন্দোলনের জোয়ারে নব্বইয়ের শেষ দিকে ভেসে যায় স্বৈরাচারের তক্তপোশ। শহীদ নূর হোসেনের রক্তদানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তীব্রতর হয় এবং অব্যাহত লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে।

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল বাণীতে হামিদ নূর হোসেনের মতো সকল সাহসী মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট থাকার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিনে শহীদ নূর হোসেনের রক্তে রঞ্জিত হয় ঢাকার রাজপথ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণিতে বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে ১০ নভেম্বর একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৮৭ সালের এই দিন যুবলীগ নেতা নূর হোসেনের রক্তে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল।

দিবসটি উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহীদের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহীদ নূর হোসেন স্কয়ারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, বিশেষ মোনাজাত, আলোচনা সভা, সেমিনার প্রভৃতি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নির্ভার আওয়ামী লীগ দিশাহীন বিএনপি

দেশের খবর: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাচনী কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্ব এখনো তৃণমূলকে কোনো নির্দেশনা দিতে পারেনি। নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়া নিয়েও মতবিরোধ আছে দলে; যদিও বলা হচ্ছে এ সপ্তাহেই ধোঁয়াশা কেটে যাবে।

নির্বাচনের আমেজ ক্ষমতাসীন দলে
সংলাপ সফল না হওয়া সত্ত্বেও বিরোধী পক্ষের কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় অনেকটাই নির্ভার আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির মনোযোগ এখন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে। এ মাসের মধ্যেই দলীয় মনোনয়নপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে ভোটের মাঠে নেমে পড়ার অপেক্ষায় রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোকে ১৩-১৫টি আসন ছেড়ে দিতে পারে আওয়ামী লীগ। আর অন্য মিত্রদের জন্য ৬০-৬৫টি আসন রাখার পরিকল্পনা আছে দলটির। অর্থাৎ ১৪ দলের শরিক ও অন্য মিত্রদের ৭০-৮০টি আসন ছেড়ে দিয়ে বাকি ২২০-২৩০টি আসনে দলীয় প্রার্থী দিতে পারে আওয়ামী লীগ। তবে সব কিছু নির্ভর করছে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি কী হয় তার ওপর। বিএনপি ভোটে না এলে ১৪ দলের শরিকদের আসন আরো বাড়তেও পারে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ও সদস্য সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের কয়েকজন সদস্য এবং ১৪ দলের শরিক কয়েকটি দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ওই নেতারা বলেন, বিএনপি এখন আর নির্বাচনে না এসে পারবে না বলেই তাঁরা মনে করছেন। আর বিরোধী পক্ষ শেষ পর্যন্ত আন্দোলনে গেলে আলোচনার পাশাপাশি প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হবে। তবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত আলোচনার দরজা খোলা রাখতে চায় ক্ষমতাসীনরা। এরপর প্রয়োজন হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানান, সুষ্ঠুভাবে সংলাপ করতে পারায় তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব উচ্ছ্বসিত। দলটির নীতিনির্ধারকরা এই ভেবে বেশ স্বস্তিতে আছেন যে সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের আন্তরিকতা প্রকাশ করার কিছু বাকি নেই। যা যা করা দরকার ছিল সব করা হয়েছে। সংলাপে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মত নেওয়া হয়েছে। প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রাধান্য থাকা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দুই দফা সংলাপে সামগ্রিক বিষয়ে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেছেন, সংলাপ শেষ হলেও আলোচনার দরজা এখনো খোলা রয়েছে। তাই বিরোধী দল বিএনপি চাইলে এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের এ চেষ্টা আন্তর্জাতিক মহল ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসে কথা বলে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এখন বিএনপি নেতাদের কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে তাঁরা নির্বাচনে আসবে। আমাদের পুরো মনোযোগ এখন নির্বাচন ঘিরে। নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েক দিন আমরা নির্বাচনে জোটের শরিকদের মনোনয়ন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করব।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পূর্ণ আন্তরিকভাবেই সংলাপে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বারবার বলেছেন, যা কিছু করা দরকার তা সংবিধানের মধ্যে থেকেই করতে হবে। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যদি আরো কিছু করার প্রয়োজন হয়, নির্বাচন কমিশন তা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে করবে।’

জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কী করতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। গত মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবং গতকাল রাজশাহীতে তাদের জনসভা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে ক্ষমতাসীন দল। রাজশাহীর জনসভায় যাননি ফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন। তাই আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে বলে বিশ্বাস আওয়ামী লীগ নেতাদের। আন্দোলনের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আবার আলোচনায় এলে ক্ষমতাসীনরা নিরুৎসাহিত করবে না। তবে সংবিধানের মধ্যে থেকেই করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। প্রয়োজনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁইও হতে পারে বিরোধী পক্ষের দু-চারজনের। সেই প্রস্তুতিও সরকারের আছে। পাশাপাশি বিএনপি যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পায় সে লক্ষ্যে চাপ অব্যাহত রাখতে নাশকতার বিভিন্ন মামলায় আসামি গ্রেপ্তার অভিযান চালাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে তাদের পক্ষ থেকে আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হবে না। ঐক্যফ্রন্ট আলোচনা করতে চাইলে কেন্দ্রীয় নেতা পর্যায়ে তা হতে পারে। আলোচনা চলতে থাকলে এর অগ্রগতি জেনে সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নির্বাচনী কাজে পুরো মনোযোগ: বর্তমানে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী কাজে পুরোপুরি মনোযোগী। দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে গতকাল থেকে দলীয় ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়া শুরু হয়েছে। আগামীকাল রবিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকের মাধ্যমে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগেই তা শেষ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে হাতে আছে মাত্র ১৯ দিন। এই ১৯ দিনের মধ্যে মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়া, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, একসময়ের মহাজোটের অংশীদার জাতীয় পার্টি, নতুন মিত্র এ কিউ এম বদরুদ্দৌজা চৌধুরীর বিকল্পধারা, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বাংলাদেশ জাতীয় জোট ও তৃণমূল বিএনপি এবং ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে আসন বণ্টনের বিষয় রয়েছে।

মিত্রদের দেওয়া হতে পারে ৭০-৮০টি আসন: আওয়ামী লীগের সদস্য সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্য এবং ১৪ দলের শরিক কয়েকটি দলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা জানান, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোকে ১৩-১৫টি আসন ছেড়ে দিতে পারে। আর অন্য মিত্রদের জন্য ৬০-৬৫টি আসন ছেড়ে দিয়ে ২২০-২৩০টি আসনে দলীয় প্রার্থী দিতে পারে আওয়ামী লীগ। তবে বিএনপি ভোটে না এলে ১৪ দলের শরিকদের আসন আরো বাড়বে।

ওই নেতারা জানান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) চার থেকে ছয়টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি চার থেকে ছয়টি, বাংলাদেশ জাসদ দুটি, জাতীয় পার্টি (জেপি) এক-দুটি, তরীকত ফেডারেশন একটি আসনে ১৪ দলের মনোনয়ন পেতে যাচ্ছে।

১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘জোটের শরিকরা যার যার মতো দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করতে শুরু করেছে। আমরাও আমাদের মনোনয়নপত্র বিতরণ করছি। এরপর একটা তালিকা নিয়ে আমরা শরিকদের সঙ্গে বসব। দেখব কোথায় কার যোগ্য প্রার্থী আছে।’ গতবারের চেয়ে এবার শরিকদের বেশি আসন ছেড়ে দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আমার মনে হয় না তাদের আসন আর বাড়বে। গতবার যা ছিল তার কাছাকাছিই থাকবে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘১৪ দলের শীর্ষ নেতারা মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। আমরা ৭০-৮০টি আসন মিত্রদের ছেড়ে দেব। এই আসনগুলো ১৪ দলের শরিক, জাতীয় পার্টি এবং অন্যদের কারো সঙ্গে সমঝোতা হলে তাদের মধ্যে ভাগ হবে।’

আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলেন, ‘১৪ দলের শরিকদের অনেকেই অনেক বেশি আসন দাবি করছেন। বাস্তবতা হলো দু-তিনটি দল ছাড়া অন্যদের শক্ত কোনো প্রার্থী নেই। কিন্তু প্রায় সব দলই ১৫-২০টি করে আসন দাবি করেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটুকু বলতে পারি, বিএনপি নির্বাচনে এলে গতবারের চেয়ে এবার শরিকদের বেশি আসন ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা কম।’

১৪ দলের একাধিক সূত্র মতে, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ জাসদ, জেপি, তরীকত ফেডারেশন—এ পাঁচটি দলের প্রার্থীরা ১৪ দলের মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন। সাম্যবাদী দল, ন্যাপ, গণতন্ত্রী পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, গণ-আজাদী লীগ, বাসদ—এ দলগুলো কোনো আসন পাচ্ছে না। তবে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া চট্টগ্রাম থেকে একটি আসনে মনোনয়ন পেতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গণতন্ত্রী পার্টি এবং ন্যাপও অন্তত একটি করে আসন পেতে আগ্রহী।

বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত আসন ছাড়া জাসদের তিনজন সদস্য আছেন। তাঁরা হলেন জাসদ সভাপতি হাসানুল ইক ইনু, দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য রেজাউল করিম তানসেন। আরো অন্তত ১৫ নেতার মনোনয়নের জন্য জোর দাবি জানাবে দলটি। তাঁদের মধ্যে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য শাহ জিকরুল আহমেদ, জায়েদুল কবির, কুমারেশ রায়, শফিকুল ইসলাম মিন্টু ও শহীদুল ইসলাম। তবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একাধিক সদস্য জানান, জাসদের বর্তমান তিন সংসদ সদস্যের বাইরে আর এক-দুজনকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা আছে।

বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত আসন ছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টির ছয়জন সদস্য আছেন। তাঁরা হলেন দলটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, পলিটব্যুরোর সদস্য মোস্তফা লুৎফুল্লাহ, ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি ইয়াসিন আলী, নড়াইল জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান ও বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান। এ ছাড়া দলের পলিট ব্যুরোর সদস্য নূর আহমেদ বকুল ও ইব্রাহিম খলিলের মনোনয়নের জন্য জোর দাবি জানিয়েছে দলটি। তবে ওয়ার্কার্স পার্টিকে চার-ছয়টি আসন ছেড়ে দিতে পারে আওয়ামী লীগ।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে জাসদ ভেঙে একটি অংশ বাংলাদেশ জাসদ গঠন করে। বর্তমান সংসদে দলটির দুজন সদস্য রয়েছেন। তাঁরা হলেন দলটির কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান। এবার দলটির পক্ষ থেকে আরো তিন-চারটি আসনে মনোনয়ন চাওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরিফ নুরুল আম্বিয়া নড়াইল-১, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আনিচুজ্জামান আনিচ বরিশাল-২ আসনে নির্বাচন করতে চান। তবে আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার বাংলাদেশ জাসদকে দুটির বেশি আসন ছাড়া হবে না।

বর্তমান সংসদে জেপির দুজন সদস্য আছেন। আসন্ন নির্বাচনে দলটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মনোনয়ন নিশ্চিত হলেও আর কোনো আসন ছেড়ে দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ।

বর্তমান সংসদে তরীকত ফেডারেশনের দুজন সদস্য রয়েছেন। তাঁরা হলেন দলের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী আর সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়াল। আউয়াল কিছুদিন আগে নতুন দল গঠন করেন। আগামী নির্বাচনে তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যানকে একটি আসন ছেড়ে দেবে আওয়ামী লীগ। যদিও দলটির পক্ষ থেকে অন্তত দুটি আসনের জন্য দর-কষাকষি চলছে।

জোটের মনোনয়ন নিয়ে সম্প্রতি গণভবনে ১৪ দলের সঙ্গে এক বৈঠকে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সিট চান অসুবিধা নাই। কিন্তু চিন্তা করে দেখেন কোথায় জিততে পারবেন। যেখানে জিততে পারবেন—এমন আসন চান। আমরা মনোনয়ন দেব। হারলে কিন্তু আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে।’

নির্দেশনা নেই বিএনপির, তৃণমূলে হতাশা
এ মুহূর্তে অনেকটাই দিশাহারা বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বর্তমানে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করছেন। ফলে বিএনপি চলছে দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে। আর সিদ্ধান্তগুলো আলোচনা হচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে। কিন্তু যাদের দিয়ে আন্দোলন বা নির্বাচনের সুফল ঘরে তুলতে হবে, বিএনপির সেই তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই বুঝতে পারছে না কী করতে হবে। আবার নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে কেন্দ্রে মতবিরোধও রয়েছে। এর ফলে কর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, সুনসান নীরবতার মধ্য দিয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর মতো এবার আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ, নাকি ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হবে—এ নিয়ে কেন্দ্র থেকে পরিষ্কার কোনো বার্তা পৌঁছেনি বিএনপির তৃণমূলে। এ অবস্থায় দ্রুত সিদ্ধান্ত চায় বিএনপির তৃণমূল।

জানা গেছে, বিএনপির প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনী ইশতেহার প্রায় চূড়ান্ত আছে। তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম মূলত শেষ হয়েছে।

বিএনপি নেতারা বলেছেন, চলতি সপ্তাহেই এই ধোঁয়াশা কেটে যাবে। কারণ আজ শনিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দলীয় জোট ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব বৈঠকে নির্বাচনে তফসিল পেছানো ও খালেদা জিয়ার মুক্তির পন্থা বের করতেই বেশি মনোযোগী হবেন নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘আমরা নির্বাচনে থাকছি, নাকি আন্দোলনের কর্মসূচি কঠোর করছি, তা চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পরিষ্কার হবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয়ক মোহাম্মদ শাহজাহান ও যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, তফসিল পেছানো ও চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়ে আমরা বেশি মনোযোগ দেব।’
কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, খালেদা জিয়ার সঙ্গে আজকালের মধ্যে দেখা করার চেষ্টা করবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা। এর পরই দলের সিদ্ধান্ত আসবে। অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বেশির ভাগ সদস্য নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

অন্যদিকে শীর্ষ দুই নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্বাচনে যাওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন দলকে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। বিষয়টি নিয়ে আজ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দলীয় জোট ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হবে। শেষ দুটি বৈঠক হবে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আর প্রথম বৈঠকটি হবে মতিঝিলে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের চেম্বারে।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তফসিল পেছানোর দাবিতে আরো কয়েক দিন আন্দোলনের মাঠে থাকবে বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের দলগুলো। সাত দফার মূল দাবিগুলো থেকে সরে এ দুই দফায় তাদের আন্দোলন চলবে কয়েক দিন।

দলের নেতারা বলছেন, সাত দফার মূল দাবি যেহেতু মানা হয়নি, তাই খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তফসিল পেছালে তাদের নির্বাচনের পথ খুলবে। গতকাল রাজশাহীর সমাবেশেও এই সুরে কথা বলেছেন নেতারা।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ শুক্রবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। বিএনপিকে বাইরে রেখে আবারও নির্বাচন করার সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার জন্যই বিএনপি আন্দোলনে যাবে। নির্বাচন আন্দোলনেরই একটি অংশ। সরকারের লক্ষ্যই হলো বিএনপি যেন নির্বাচনে না যায়। সুতরাং তাদের এই লক্ষ্য সিদ্ধ হতে দেব না। আমরা এবার নির্বাচনে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি তৈরি হয়ে আছি।’

তবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকারের কাছে যদি আমরা এভাবে আত্মসমর্পণ করি তাহলে তো হলো না। কারণ সরকার সাত দফার কোনোটাই তোয়াক্কা করে না।’

বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও বাগেরহাট-৩ আসনের মনোনয়ন প্রার্থী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলন ও নির্বাচন দুই ধরনের বার্তা দিয়ে আমাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তবে আন্দোলন নাকি নির্বাচন, বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়নি। এর পরও আমরা তৃণমূল অতীতের মতো প্রস্তুত আছি।’

কক্সবাজার জেলা বিএনপির সদস্য ও সদর আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী লুৎফর রহমান কাজল বলেন, ‘কেন্দ্র আমাদের মতামত নিচ্ছে আন্দোলন করব, নাকি নির্বাচন করব। বেশির ভাগ বলছেন, খালেদার মুক্তি ছাড়া যাওয়া সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।’

বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল-১ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মতামতের ভিত্তিতে খুব দ্রুত কেন্দ্রীয় নেতারা সিদ্ধান্ত দেবেন বলে আমাদের জানানো হয়েছে।’

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নীরবতা: এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রির প্রথম দিন যেমন জমজমাট ছিল, ঠিক তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। নয়াপল্টনের এই কার্যালয়ের সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। সেখানে দলের কয়েকজন নেতাকর্মী ছিল। বিএনপির কার্যালয়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

সকাল ও দুপুরে কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের কয়েকটি গাড়ি বিএনপির কার্যালয়ের সামনে রাখা। অল্প দূরে দাঁড়িয়ে আছে দাঙ্গা পুলিশের একটি দল। আর সাদা পোশাকে থাকা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করছিলেন।

দুপুরে সংবাদ সম্মেলন শেষে গণমাধ্যমকর্মীরা কার্যালয় ত্যাগ করলে সেখানে নেমে আসে সুনসান নীরবতা। শুক্রবার সরকারি বন্ধের দিন হওয়াতে আশপাশের অফিসগামী মানুষও ছিল না। কয়েক নেতাকর্মী ও অফিসের স্টাফরা দপ্তরে বসে বিকেলে পর্যন্ত কাজ করেন। পরে দপ্তরের দায়িত্বে থাকা রিজভী ও দু-একজন নেতা ছাড়া বাকিরা কার্যালয় ত্যাগ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অ্যাপেনডিক্সে বাড়ে ব্যাকটেরিয়া!

স্বাস্থ্য কণিকা: বৃহদান্ত্র এবং ক্ষুদ্রান্ত্রের সংযোগস্থলে বৃহদান্ত্রের সঙ্গে যুক্ত একটি ছোট থলের মতো অঙ্গ অ্যাপেন্ডিক্স। এই অঙ্গটি অতিরিক্ত একটি অঙ্গ। অতীতে মনে করা হতো, আমাদের পেটের ভেতরে থাকা এই অঙ্গের কোনো কাজ নেই। তাই এখানে সংক্রমণ হলে চিকিৎসকরা প্রায়ই প্রত্যঙ্গটিকে ছুরি চালিয়ে ফেলে দিয়েছেন। কিন্তু, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যাপেনডিক্স অন্ত্রের ভেতর উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এতে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

গবেষকরা দেখেছেন, মানবদেহের পরিপাকতন্ত্রে থাকা বিপুল পরিমাণ ব্যাকটেরিয়াকে বেঁচে থাকতে সহায়তা করে অ্যাপেনডিক্স। গবেষকরা বলছেন, অস্ত্রোপচার করে এটি ফেলে দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সমস্যা না হলেও দীর্ঘমেয়াদে দেহের ক্ষতি হয়।

তাদের মতে, পেটে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, যার বেশির ভাগই উপকারী। খাদ্য হজমে সাহায্য করে এসব ব্যাকটেরিয়া। কিন্তু, প্রায়ই কোনো সমস্যায় ব্যাকটেরিয়া মরে যায়। কলেরা বা অ্যামিবিক আমাশয় হলে তা অন্ত্র বা নাড়িভুঁড়ি থেকে সব ব্যাকটেরিয়া বের করে ফেলে।

অ্যাপেনডিক্সের কাজ হচ্ছে, এ রকম ক্ষেত্রে সেখানে লুকানো ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে তা দিয়ে আবার পরিপাকতন্ত্রকে চাঙ্গা করা। অর্থাৎ অ্যাপেনডিক্স ব্যাকটেরিয়ার জন্য একটি নিরাপদ আবাস হিসেবে কাজ করে।

গবেষকরা বলছেন, যাদের অ্যাপেনডিক্স অপসারণ করা হয়, তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এমনকি তাদের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি চার গুণ বেড়ে যায়।

অ্যাপেনডিক্সের দেয়ালে রয়েছে উচ্চমাত্রায় রোগপ্রতিরোধী সেল, যা দেহের রোগপ্রতিরোধে কার্যকরভাবে সহায়তা করে থাকে।

অ্যাপেনডিক্সের ওপর এ গবেষণাটি চালিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডিউক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল স্কুলের সার্জন আর ইমিউনোলজিস্টরা, যা বিজ্ঞান সাময়িকী জার্নাল অব থিওরিটিক্যাল বায়োলজিতে প্রকাশিত হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নারীকে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে- ঢাকায় মণীষা

বিনোদন সংবাদ: আমি একজন যোদ্ধা। আমি নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। তবে ক্ষমতা অর্জন করতে গেলে নারীকে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। লক্ষ্য স্থির রেখে কাজ করতে হবে। তাহলে সফলতা আসবেই।
কথাগুলো বলছিলেন বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। অনিন্দ্যসুন্দর মুখখানিতে ফুটে উঠেছে জীবন যুদ্ধের ছাপ! মারণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ে বিজয়ীর বেশে ফিরে এসেছেন জীবনের আনন্দযজ্ঞে। তাই মুখের বলি রেখাগুলোর চাইতে শান্ত নির্মল চাহনির মাঝে এক যোদ্ধার মুখ যেন বেশি করে উঁকি দিচ্ছিল। বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিনে এসেছিলেন বলিউডের এই নায়িকা। আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে অংশ নিয়েছিলেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ শীর্ষক আলোচনায়। সে আলোচনায় উঠে আসে তার আত্মজীবনীমূলক ‘দ্য হিলড’ বইটির কথাও। সেশনের পরেও সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথোপকথনে অংশ নেন তিনি।
নেপালের নাগরিক আর বলিউডে এক সময়ে সাড়া জাগানো নায়িকা মনীষা বলেন, আমি নারীদের নিজের ওপরে বিশ্বাস রাখতে বলবো। প্রতিষ্ঠিত হতে হলে নারীকে আশেপাশের সমাজের সঙ্গে লড়াই না করলেও চলবে। তাকে নিজের লক্ষ্যের দিকে একমুখী একাগ্রতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিন ঢাকায় আসেন মনীষা। এই তারকা তার ক্যান্সারের অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘হিলড’ নামে একটি বই লিখছেন। বইটি জানুয়ারিতে প্রকাশ হতে পারে। এই বইতে কি থাকছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতে মূলত আমি কিভাবে এই মারণব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ করেছি সেটা উঠে এসেছে। কিভাবে এই পুরো সময়টা কেটেছে সেটা তুলে ধরতে চেয়েছি। জীবনটাকে নানাভাবে নতুন করে বুঝে নিতে চেয়েছি।
ভারতজুড়ে তোলপাড় চলছে ‘হ্যাশট্যাগ মিটু’ আন্দোলন নিয়ে। বলিউডের নায়িকা আর তার কাছে ‘হ্যাশট্যাগ মিটু’ নিয়ে প্রশ্ন আসবে না তা কি হয়! এক দর্শক জানতে চাইলেন, নানা পাটেকারের যৌন হয়রানি নিয়ে মিটু আন্দোলন নিয়ে মনীষা কৈরালার ভাবনার কথা। মনীষা বলেন, হ্যাশট্যাগ মিটু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া যে ট্রায়াল করছে আমার তার প্রতি সমর্থন নেই। যারা দোষী তাদের বিচার করতে হবে। আমি সেটার পক্ষে। কিন্তু এভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো প্রমাণ ছাড়া সবাইকে অভিযুক্ত করার পক্ষে আমি নেই। দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসায় বিশ্বাসী। অবিচার আমার কাছে অগ্রহণযোগ্য। সেটা যেখানেই হোক। কোনো সম্মানিত ব্যক্তি বিনা কারণে যেন প্রমাণ ছাড়া সামাজিক হেয় না হয়, সেটির দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
চলচ্চিত্রে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মনীষা বলেন, ৯০-এর দশকে দেখতাম একই ধরনের ছবি নির্মাণের প্রবণতা বেশি। আমি এর বাইরে কিছু করতে চাইতাম। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নিয়ম হচ্ছে তুমি যতক্ষণ তাদের ছাঁচে নিজেকে না ফেলবে ততক্ষণ সবাই তোমার দিকে আঙুল তুলবে। ফলে পথে, ট্রেনে সবাই বলবে এ কে? কোথা থেকে এসেছে। আমি এই প্রথাগত ফর্মুলার বাইরে যেতে চেয়েছি। শিল্পীকেও এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমাকেও মানুষের কাছ থেকে একটা সময় বিরূপ মন্তব্য শুনতে হতো। কে এই মেয়ে, কোত্থেকে আসছে এরকম। আমাকে সব সময় বলা হতো আমি কোনদিন স্টার হতে পারবো না। কিন্তু আমি জীবনে বেশকিছু ভালো বন্ধু পেয়েছি। যারা আমাকে আমার মতো কাজ করতে উত্সাহিত করেছে।
দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে মনীষা ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বাক্যটি উচ্চারণ করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করে। এত বছর পরও তারা আমাকে নিয়ে যে আবেগ দেখিয়েছে তা যে কাউকে আবেগপ্রবণ করে তুলবে। আমাকেও তুলেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কোলন ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা

স্বাস্থ্য কণিকা: খাদ্য নালীর নিচের অংশ যেখানে মল বায়ু ও মলমিশ্রিত পানি থাকে। সেই অংশ-গুলোর যেমন বিশেষ করে সিকাম, কোলন, রেকটাম ও পায়ু পথের ক্যান্সারকে বুঝায়। কলোরেকটাল ক্যান্সার এর চিকিত্সা এখন আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাময় করা সম্ভব।

বাংলাদেশে এই রোগে আক্রান্তের সঠিক পরিসংখ্যান এখনো জানা নেই। তবে উন্নত বিশ্বে ক্যান্সারের মাধ্যমে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক এবং ক্যান্সার রোগীর মধ্যে এর অবস্থান তৃতীয় স্থানে। আমাদের দেশেও এই রোগের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে।

এই রোগের কারণগুলো কি কি?
১. খাদ্যভাস পরিবর্তন
২. জেনিটিক বা পারিবারিক কারণ
৩. ব্যাকটেরিয়া বা জীবানু
৪. এডিনোমা বা পলিপ
৫. ইনফ্লেমটরী বাওয়াল ডিজিজ
৬. বাই এসিড রস ইত্যাদি

খাদ্যাভ্যাস রোগের জন্য দায়ীঃ
পরীক্ষা নিরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, শাক সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার যেমন লাল আটা, ফল ফলাদি খাবারগুলো খেলে ক্যান্সার কম হয়। আবার মাংস, চর্বি জাতীয় খাবার, ফাস্ট ফুড, কম পানি খাওয়া ইত্যাদিতে অভ্যস্তদের ক্যান্সার রোগ বেশি হয়। অন্যান্য কারণগুলো যেমন- জেনিটিক বা পারিবারিকভাবে ও এই রোগে বংশধরার ভুগতে দেখা যায়। অর্থাত্ কোন কোন পরিবারে এই রোগে একাধিক ব্যক্তির মাঝে দেখা যায়।

কলোরেকটাল ক্যান্সারের উপস্বর্গঃ
১. মলদ্ব্বারে রক্ত ক্ষরণ অর্থাত্ পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়া রেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাইলস বলে সন্দেহ করে চিকিত্সা করা হয়।

২. মলত্যাগের অভ্যাস পরিবর্তন।
যে রোগী পূর্বে স্বাভাবিক দৈনিক মলত্যাগ করত। এ রোগ হলে তার কনসটিপেশন বা পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়া, অল্প পায়খানা হওয়া। আবার কখনো কখনো মিউকাস ডায়রিয়া দেখা যায়। বিশেষ করে সকাল বেল।

৩. পেটে ব্যাথা, বমি (ইনটেসটিনাল অবস্ট্রাকশন) ইত্যাদি ইর্মারজেন্সী উপস্বর্গ নিয়ে আসতে পারে।

৪. পেটে চাকা বা টিউমার নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসতে পারে।

৫. দূর্বলতা, রক্তশূণ্যতা ও খাবারের অরুচি ইত্যাদি নিয়েও ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়।

৬. খাদ্য নালীর বাহিরে এই রোগে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেমন- লিভার, ফুসফুস ও মস্তিষ্কে।

রোগ নিরূপণ ও চিকিৎসাঃ
কলোনোসকোপিও বেরিয়াম এনেমা পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই এই রোগ নিরুপন করা সম্ভব।

এই রোগের সার্জারীই একমাত্র চিকিত্সা। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় হলে চিকিত্সার সফলতা অনেক বেশি। বর্তমানে মর্ডান সার্জারী চিকিত্সার মাধ্যমে কলোস্টমীবেগ (পেটের মধ্যে কৃত্রিম পায়খানা দরজা করে দেওয়া)। না লাগিয়ে স্বাভাবিকভাবে মলদ্বার দিয়ে মলত্যাগ করা সম্ভব।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তীব্র শীতে হাইপোথার্মিয়া থেকে বাঁচার উপায়

স্বাস্থ্য কণিকা: বায়োলজিক হোমিওস্ট্যাসিস বা থার্মোরেগুলেশনের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় (৩৬.৫° থেকে ৩৭.৫°সেলসিয়াস বা ৯৮ থেকে ১০০° ফারেনহাইট) থাকে। হাইপোথার্মিয়া এমন একটি অবস্থা যখন ব্যক্তির কোর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের (৩৫° সেলসিয়াস বা ৯৫° ফারেনহাইট) তুলনায় কমে যায় এবং বিপাকীয় কার্যাবলী স্বাভাবিক ভাবে সম্পন্ন হয় না। এ অবস্থায় ব্যাক্তির শরীরে কাঁপুনি শুরু হয়ে যায় আর সেই সাথে অনেকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না। দিকভ্রান্ত হয়, হোঁচট খেতে থাকে এবং গতি ধীর হয়ে যায়।

আবার তীব্র শীতে অনেকের হাতের আঙুল নীল হয়ে যায়। শীত প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমে গিয়ে (হাইপোথার্মিয়া) মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। তাই এই সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা উচিৎ। আসুন আজ আমরা হাইপোথার্মিয়া সম্পর্কে জানুন। সচেতন হোন এবং এই শীতে সুস্থ থাকুন, নিরাপদ রাখুন আপনার সন্তানকেও।

সর্দি-জ্বরের সময় বিশ্রামে থাকতে পারলে ভালো। গরম চা বা কফি খাওয়া যেতে পারে। হালকা গরম পানিতে লবণ দিয়ে গার্গল করা যেতে পারে। মধু, আদা, তুলসী পাতার রস, লেবুর রস খাওয়া যায়।

এ ধরনের সমস্যায় সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন পড়ে না। জ্বর ও ব্যথানাশক এবং অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ কারো কারো লাগতে পারে। তবে অবশ্যই ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

হাঁপানি রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শমতো প্রতিরোধমূলক ইনহেলার বা অন্যান্য ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। রোগীর থালা, গ্লাস, রুমাল, তোয়ালে প্রভৃতি আলাদা রাখতে হবে। যেখানে-সেখানে থুথু, কফ বা শ্লেষ্মা ফেলা যাবে না।

ছোটখাটো সর্দি-জ্বর, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া থেকেই নিউমোনিয়া বা এ ধরনের বড় রোগ হতে পারে। তাই শিশু আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডায়রিয়া হলে স্যালাইন ও অন্য পুষ্টিকর স্বাভাবিক খাবার খাওয়ান। ছোট শিশুর ক্ষেত্রে মায়ের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করবেন না।

স্ক্যাবিস জাতীয় চর্মরোগ হলে পরিবারের সবার একসঙ্গে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়তে পারে।

শিশুদের ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তাই শিশুকে ঠাণ্ডা আবহাওয়া থেকে দূরে রাখুন। প্রয়োজনে মাথায় সব সময় সুতি কাপড়ের স্কার্ফ বা টুপি পরিয়ে রাখুন। শিশু যাতে নিজে নিজেই পরনের কাপড় খুলে ফেলতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখুন। বেশি সময় খালি গায়ে রাখা হলে ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে।

এ কারণে প্রস্রাব-পায়খানা বা গোসল করানোর পর শিশুদের দ্রুত গরম কাপড় পরিয়ে দিন। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে শিশুকে আসতে না দেয়াই ভালো। শিশু আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডায়রিয়া হলে স্যালাইন ও অন্যান্য পুষ্টিকর স্বাভাবিক খাবার খাওয়ান।

শীতকালে সচেতন থাকা আর কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে রোগবালাই থেকে অনেকাংশেই মুক্ত থাকা যায়। যতটা সম্ভব ঠাণ্ডা বাতাস এড়িয়ে চলুন। ঠাণ্ডার সময় গরম কাপড় পরুন, এমনকি ঘরের ভেতরেও। পাকা মেঝের ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা পেতে ঘরে চটি বা স্পঞ্জ পায়ে দিন।

বাইরে গেলে অবশ্যই কানটুপি, মাফলার এবং জুতা-মোজা, হাত-মোজা ব্যবহার করুন। ঠাণ্ডা বাতাস সরাসরি যাতে শ্বাসনালীতে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।

শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে। শুষ্ক বাতাস ত্বক থেকে পানি শুষে নেয়। ফলে ত্বক শুষ্ক ও দুর্বল হয়ে ফেটে যায়। পরে খোশপাঁচড়াসহ নানা চর্মরোগ দেখা দেয়। প্রতিদিন সাবান মেখে গোসল করুন। গোসলের জন্য হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন। সারা শরীরে ভালো কোনো তেল বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন গোসলের পর।

মুখে হালকা করে লাগাতে পারেন ভালো কোনো কোল্ড ক্রিম। ঠোঁট শুকিয়ে গেলে ভ্যাসলিন, লিপজেল প্রভৃতি ব্যবহার করুন। জিভ দিয়ে বারবার ঠোঁট ভেজাবেন না। ঠোঁট শুকিয়ে গেলে শুষ্ক আবরণ টেনে তুলবেন না।

সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে হাত ধুতে হবে বারবার। বিশেষ করে কাজ শেষে ঘরে ফেরার পর অবশ্যই ব্যাকটেরিয়ানাশক সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুতে হবে।

অনেককেই খাবার পর যতটা যত্ন নিয়ে হাত ধুতে দেখা যায়, খাবার আগে তারা ততটা সময় নিয়ে হাত পরিষ্কার করেন না। অথচ খাবার আগে ভালোভাবে হাত ধোয়াটা খুবই জরুরি।

ঘর পরিষ্কার রাখুন, যাতে ধুলোবালি না জমে। চাদর, বালিশের কভার নিয়মিত পরিষ্কার করে দীর্ঘক্ষণ রোদে শুকাতে দিন। কার্পেট ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষত শোবার ঘরে। কারণ কার্পেটের ফাঁকে জমে থাকা ধুলো শ্বাসনালীর রোগ বাড়ায়। একই কারণে রোমযুক্ত বালিশ, চাদর, লেপ-কাঁথা ব্যবহার করা উচিত নয়।

দরজার বা ফ্রিজের হাতল, ফ্যান-লাইটের সুইচ, টেলিফোন, টিভির রিমোট কন্ট্রোল সংক্রমণ ছড়ানোর অন্যতম জায়গা। জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত এসব স্থান পরিষ্কার রাখুন। রান্না করার সময় ধোঁয়া যাতে ওখান থেকে বেডরুম বা ড্রইংরুমে আসতে না পারে সে জন্য রান্নাঘরের জানালা খোলা রাখুন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আগাম নির্বাচনী পোস্টার-ব্যানার সরানোর নির্দেশ

দেশের খবর: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানারসহ সব ধরনের প্রচারণা সামগ্রী সরানোর নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আগামী বুধবার রাত ১২টার মধ্যে এসব সরানোর নির্দেশে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার ইসির যুগ্ম-সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া ইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার জানানো হয়, আগামী ২৩ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে সম্ভাব্য কোনো প্রার্থীর পোস্টার, ব্যানার, দেয়াল লিখন, বিলবোর্ড, গেট, তোরণ বা গেট, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জা ইত্যাদি প্রচার সামগ্রী ও নির্বাচনী ক্যাম্প থাকলে তা আগামী ১৪ নভেম্বর রাত ১২টার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজ উদ্যোগে সরানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্যও নির্দেশনা দেয়া হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

আগামী ২৩ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর, সোমবার। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২২ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার।
বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে নির্বাচনের এদিন ঘোষণা করেন। সিইসির ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

প্রসঙ্গত, সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর থেকে নির্বাচনকালীন সময়ের ক্ষণ-গণনা শুরু হয়।
তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর ছিল নির্বাচন কমিশন। এজন্য ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি জানায় ইসি।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আ. লীগের মনোনয়ন ফরম নিলেন নাজমুল হুদা

অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ায় দলটির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সাবেক বিএনপি নেতা ও বিএনএফ জোটের প্রধান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।

বিএনপি-জামায়াত চার দলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী নাজমুল হুদা ঢাকা বিভাগ থেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোয়ন ফরম নিয়েছেন।

তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবারই ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার‌্যালয় থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ফরম দেওয়া হয়। এবার ফরমের মূল্য বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ৩০ হাজার টাকা।

প্রথম দিন শেষে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম জমা পড়েছে এক হাজার তিনশ ২৮টি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest