সর্বশেষ সংবাদ-
আশাশুনিতে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ইজিবাইকের ওপর: অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন পথচারীসাতক্ষীরায় উপজেলা পর্যায়ে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি সমাবেশশ্যামনগরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি সেবা প্রাপ্তির মানোন্নয়নে পাবলিক হেয়ারিংগভীর রাতে গাবুরায় গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ‌দাফন সম্পন্নগাজী নজরুলের ফাঁ*সির দাবিতে উত্তাল শ্যামনগরসাতক্ষীরায় যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা, আনন্দ মিছিলগণপিটুনিতে মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনসাতক্ষীরা জেলা যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা: সভাপতি মুকুল, সম্পাদক বাবুবিজনেস অ্যান্ড লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন সাতক্ষীরার সুদীপ্তকেঁড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. আনিছুর রহমানের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সারাদেশ তাকিয়ে আছে গণভবনের দিকে

*প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ফের সংলাপ আজ *৭ দফা দাবি পুনরুল্লেখ করবে ঐক্যফ্রন্ট; সংবিধানসম্মত বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ারও প্রস্তুতি, তবে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের বাদ দেওয়ায় নতুন মাত্রা যুক্ত হলো *ফলাফল যাই হোক সংলাপের পর্দাও নেমে যেতে পারে আজ

দেশের খবর: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আজ বুধবার ফের সংলাপে বসছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। বেলা ১১টায় গণভবনে এই সংলাপ শুরু হওয়ার কথা।
গত ১ নভেম্বর দু’পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা সংলাপে কার্যকর কিংবা ‘বিশেষ কোনো সমাধান’ না আসায় ঐক্যফ্রন্টের আগ্রহেই আজ আবারও সংলাপ হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গণসহ দেশের প্রায় প্রতিটি মহলেই বলাবলি হচ্ছে, নির্বাচনকালীন সংকট নিয়ে নিকট-অতীতের কোনো রাজনৈতিক সংলাপই ফলপ্রসূ হয়নি। দৃশ্যমান তৃতীয় কোনো পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই দেশে প্রথমবারের মতো সরকার প্রধানের সঙ্গে মূল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সরাসরি এই সংলাপের ভাগ্যও আজই জানা যেতে পারে। আজ সকাল সবার চোখ নিবদ্ধ থাকবে গণভবনের দিকে। সংলাপ শেষ হওয়ার পর বোঝা যেতে পারে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক গতিপ্রবাহ কোনদিকে মোড় নিতে যাচ্ছে।

‘সীমিত পরিসরে’ আবারও সংলাপ চেয়ে রবিবার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। এতে সাড়া দেন প্রধানমন্ত্রী।
আজকের সংলাপেও সরকারি দলের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতারা ছাড়াও ১৪-দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু থাকবেন। অপরপক্ষে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের ১১ নেতা অংশ নেবেন। অন্যদের মধ্যে থাকছেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ; জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও কেন্দ্রীয় নেতা এস এম আকরাম, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।

আজকের সংলাপ সামনে রেখে গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে দীর্ঘ বৈঠক করেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। এর আগে বিএনপি নেতারা নিজেদের মধ্যে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেন। সেখান থেকে মির্জা ফখরুল, ড. মোশাররফ ও মওদুদ আহমদ যান ড. কামালের চেম্বারে। বৈঠকে আজকের সংলাপে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলে জানা গেছে, আজকের সংলাপেও ঐক্যফ্রন্ট প্রথমে তাদের সাত দফা দাবি পুনরুল্লেখ করবে। যার মধ্যে রয়েছে- খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা, নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন, ‘গায়েবী মামলা’সহ হয়রানিমূলক সকল রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দেয়া, বিরোধী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন করে আর কোনো মামলা না দেয়া এবং কাউকে গ্রেপ্তার না করা।

১ নভেম্বর প্রথম দফা সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নতুন করে কাউকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়টি দেখা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে সংলাপ শেষে দাবি করেছিলেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। জানা গেছে, আজকের সংলাপে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হবে- প্রথমদিনের সংলাপের পরেও সারাদেশে বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে; গত কয়েকদিনেই শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দাবি করবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। বিএনপি মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায়ও এখনও বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। জনসভায় ফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘এবার মুখের কথায় চলবে না, লিখিত অঙ্গীকার করতে হবে, গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে।’

প্রথমবারের সংলাপে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেছিলেন, গত এক মাসেই ৬ হাজারের বেশি গায়েবী মামলা হয়েছে, যাতে লক্ষাধিক নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন- এরকম কিছু ঘটে থাকলে তালিকা দিন, আমরা দেখবো। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সেই আশ্বাস অনুযায়ী আজকের সংলাপে মামলা ও আসামির বিষয়ে লিখিত তথ্য দেবেন মির্জা ফখরুল।

ঐক্যফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, আজকের সংলাপে সরকারপক্ষ কোনো অবস্থাতেই সংবিধানের বাইরে যেতে রাজি না হলে সেক্ষেত্রে সংবিধানসম্মত বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে গণভবনে যাচ্ছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। সরকারপক্ষ থেকে যদি বলা হয়, আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী অনির্বাচিত নিরপেক্ষ সরকার গঠন ও সংসদ বাতিলের সুযোগ নেই। তখন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলবেন, আপিল বিভাগের ওই একই রায়েই নির্বাচন অনুষ্ঠানের ৪২দিন আগে সংসদ ভেঙে দেওয়ার কথা রয়েছে। একই রায়ে সংসদ চাইলে বিচারপতিদের বাদ দিয়ে আরও দুটি সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করতে পারারও সুযোগ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে জরুরিভিত্তিতে সংসদের অধিবেশন ডেকে এই দুটি সংশোধনী আনার দাবি তুলবে ঐক্যফ্রন্ট।

সংবিধানসম্মত বিকল্প প্রস্তাবনা তৈরীর জন্য ইতোমধ্যে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ও শেখ বোরহান উদ্দীনের সঙ্গে পরামর্শসভা করেছে ঐক্যফ্রন্ট। এই তিন সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাবনা তৈরী করে ড. কামাল হোসেনকে দিয়েছেন। এই প্রস্তাবে তারা বলেছেন, প্রয়োজনে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখেই সংবিধানসম্মতভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব। সেক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন সময়ে ছোট একটি মন্ত্রিসভা থাকবে। আর সংবিধান অনুযায়ীই নির্দিষ্ট হারে ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাব থেকে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হবে। যারা টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হবেন তাদেরকে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে।

ঐক্যফ্রন্ট নেতারা জানান, এই বিকল্প প্রস্তাবটি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকারকে তিনটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে। এগুলো হচ্ছে- সংসদ ভেঙে দেওয়া, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সিইসি নিয়োগ, নতুন করে বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার না করা এবং গ্রেপ্তারকৃতদের জামিনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতা না করা।

এদিকে, নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে চারজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীকে গতকাল বাদ দেয়া হয়েছে। যা আজকের সংলাপের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যুক্ত করছে। কারণ ঐক্যফ্রন্টের সাংবিধানিক বিকল্প প্রস্তাবে ফ্রন্ট প্রস্তাবিত নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করার কথা বলার প্রস্তুতি রয়েছে। জানা গেছে, আজকের সংলাপে এবিষয়ে যদি সরকারপক্ষ বলে-আদালতের রায় অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সময়ে মন্ত্রিসভায় কোনো অনির্বাচিত ব্যক্তির থাকার সুযোগ নেই। তাহলে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হবে, টেকনোক্র্যাট আর অনির্বাচিত এক জিনিস নয়। সরকার থাকবে নির্বাচিত, সেখানে সংবিধান অনুযায়ীই নির্দিষ্ট হারে কয়েকজন টেকনোক্রাট মন্ত্রী থাকতে পারেন; সংবিধান এটা অনুমোদন করে।

জানা গেছে, সংবিধানসম্মত এই বিকল্প প্রস্তাবের কথা আজকের সংলাপে ড. কামালের লিখিত বক্তব্যে থাকতে পারে। তবে এই বিকল্প প্রস্তাবে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে বিএনপি।

প্রসঙ্গত, ১ নভেম্বরের সংলাপে লিখিত বক্তব্যেও ড. কামাল প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আপনি সংবিধানসম্মত সমাধানে আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু এটাও আপনার অজানা নয় যে, কোনো বিষয়ে সংবিধান সংশোধনের দরকার পড়লে তা নিয়ে আলোচনা করাও সংবিধানসম্মত। কারণ সংবিধান সংশোধনের বিধান সংবিধানেরই অংশ। তবে বিরাজমান পরিস্থিতিতে সংকট থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধানসম্মত একাধিক পথ খোলা আছে বলে আমরা মনে করি। আমরা আমাদের সাত দফার পাশাপাশি ১৩তম সংশোধনী মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায়ের আলোকে, বিশেষ করে দশম ও একাদশ নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে করা, নির্বাচনের ৪২ দিন আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে একটি ছোট মন্ত্রিসভা গঠনসহ বিভিন্ন নির্দেশনা, ২০১৩ সালে বিরোধী দলকে নির্বাচনী মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদানে আপনার প্রস্তাবের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।’

ওই বক্তব্যে ড. কামাল আরও বলেছিলেন, ‘সংবিধানের ১২৩ (৩) অনুচ্ছেদের খ উপদফায় সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। সুতরাং সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করা সংবিধানসম্মত এবং তা ওয়েস্টমিনস্টার মডেলের সংসদীয় রীতি মেনে চলা বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের অনুশীলনের সঙ্গেও সংগতিপূর্ণ। বাংলাদেশেও ২০১৪ সালের নির্বাচনটি ব্যতিরেকে এর আগের নয়টি সংসদ নির্বাচন সংসদ ভেঙে দেওয়া অবস্থায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৩ সালে গণপরিষদ ভেঙে দিয়েই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়।’

ঐক্যফ্রন্টের একাধিক নেতা গতকাল রাতে জানান, আজকের সংলাপে তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার অ্যাক্ট স্থগিত রাখার দাবি জানাবেন। একইসঙ্গে টেলিফোনে আড়িপাতা বন্ধের কথাও বলবেন। প্যারোলে নয়-জামিনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করবেন। এছাড়া বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার বন্ধ করার ওপর জোর গুরুত্ব দেবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে তফসিলের তারিখ পেছানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে সিইসি নুরুল হুদার বক্তব্য, সংলাপ নিয়ে আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন এবং শুক্রবার থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিতরণের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় অনেকেই মনে করছেন, তফসিল পেছানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যার কারণে ফলাফল যাই হোক, আজই পর্দা নামতে পারে সংলাপের।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে আসছে ব্যাপক রদবদল

দেশের খবর: আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক রদবদল ও পদোন্নতি হচ্ছে। গত দুই দিনে ২২ জনের বদলি ও পদায়নের বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তাদের মধ্যে পদোন্নতি পেয়ে ডিআইজি থেকে অতিরিক্ত আইজিপি হয়েছেন ৫ জন এবং অতিরিক্ত ডিআইজি থেকে পদোন্নতি পেয়ে ডিআইজি হয়েছেন ১৭ জন।

আগামী দুই-একদিনের মধ্যে বড় ধরনের পদোন্নতি ও রদবদলের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় আছে এ সংক্রান্ত ফাইল।

এছাড়া, বুধবার (৭ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে পদোন্নতি সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠকের আলোচ্য সূচি হচ্ছে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি, পুলিশ পরিদর্শক থেকে সহকারী পুলিশ পরিদর্শক পদে পদোন্নতি, রাসায়নিক পরিদর্শক পদে পদোন্নতি এবং বিবিধ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২৩০ পুলিশ কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারারির পদোন্নতি দিয়ে যে কোন দিন প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

গত দুই দিনে ডিআইজি থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্তরা হলেন, রৌশন আরা বেগম, মেজবাহ উদ্দিন, মো. ইকবাল বাহার, মোশারফ হোসেন ও মো. শাহাব উদ্দিন কোরেশী।

এছাড়া, অতিরিক্ত ডিআইজি থেকে ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্তরা হলেন, ময়নুল ইসলাম, এসএম রোকন উদ্দিন, মাসুদুর রহমান ভূঞা, তওফিক মাহবুব চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, কৃষ্ণ পদ রায়, কুসুম দেওয়ান, বশির আহম্মদ, হাবিবুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, একেএম হাফিজ আক্তার, মহিদ উদ্দিন, মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, আবদুল বাতেন, ইমতিয়াজ আহমেদ, মাইনুল হাসান ও আবু কালাম সিদ্দিক।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই পুলিশ সদর দফতর থেকে পুলিশের ৪৯৫ কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারারি পদোন্নতি দেয়ার প্রস্তাব করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

প্রস্তাবিত ওই ৪৯৫ জনের বিপরীতে ২৩০টি পদ অস্থায়ীভাবে সৃষ্টির জন্য ৩১ অক্টোবর (২০১৮) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগ সম্মতি দেয়। বিষয়টি প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ন সচিব কমিটিতে সুপারিশের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

এরপর সচিব কমিটির অনুমোদনের পর প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। অতিসম্প্রতি ওই ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে অনুমোদন লাভ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে।

সূত্র আরও জানা যায়, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পুলিশে ব্যাপক রদবদল হবে। সেটা পুলিশ সুপার এবং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পর্যায়ে। নির্বাচনকে ঘিরে প্রায় ৩০ ওসি বদলের গুঞ্জন রয়েছে।

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাকে বদলি বা পদায়ন করা হয়েছে। তারা হলেন, নাটোর জেলার পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার ও নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুনকে নাটোর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এছাড়া, গত ২ সপ্তাহ আগে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি মহসিন হোসেনকে রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি পদে ও এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত আইজিপি শফিকুল ইসলামকে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি পদে বদলি করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান বলেন, বদলি ও পদোন্নতি একটি চলমান প্রক্রিয়া। পুলিশ প্রশাসনের কাজে গতি বাড়াতেই এ ধরণের বদলি বা পদোন্নতি হয়। যারা ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়েছেন, তাদের বেশির ভাগই ডিআইজি হিসেবে চলতি দায়িত্বে ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এবার ফয়জাবাদের নাম অযোধ্যা করলেন যোগি আদিত্যনাথ

বিদেশের খবর: উত্তরপ্রদেশের ফয়জাবাদ জেলার নতুন নামকরণ হল অযোধ্যা। মঙ্গলবার এই ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আদিত্যনাথের নামকরণের খেলায় এলাহাবাদের পর বাদ পড়লো ফয়জাবাদের নামও।

মঙ্গলবারের ভাষণে তিনি ফয়জাবাদ জেলার নতুন নামকরণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিরোধীদের একহাত নেন। বলেন, ‘আজ থেকে ফয়জাবাদের নাম হল অযোধ্যা। যাঁরা এর বিরোধিতা করছেন, তাঁদের নাম রাবণ বা দুর্যোধন হল না কেন? কী কারণে তাঁদের বাবা-মা সন্তানদের রাবণ অথবা দুর্যোধন নাম দিলেন না? এই দেশে নাম মাহাত্ম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

স্বাভাবিক ভাবেই যোগী আদিত্যনাথের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে কট্টর হিন্দুবাদীরা। উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের ফয়জাবাদ জেলার দুই যমজ শহর অযোধ্যা ও ফয়জাবাদ। রামচন্দ্রের জন্মস্থান হিসেবে হিন্দুদের কাছে অযোধ্যা অতি পবিত্র শহর হিসেবে গণ্য হয়।

প্রসঙ্গত, মাত্র কিছু দিন আগে সাবেক এলাহাবাদ শহরের নাম পালটে প্রয়াগরাজ করেছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার।

আদিত্যনাথ আরও জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশে কিছু দিনের মধ্যেই রাজা দশরথের নামে একটি মাল্টি স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল তৈরি করবে সরকার। এছাড়া রামচন্দ্রের নামে নতুন বিমানবন্দরও পেতে চলেছে এই রাজ্য।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চালু হলো সাগরের নিচে বিশ্বের প্রথম আবাসিক হোটেল!

ভিন্ন স্বাদের খবর: সাগরের নিচে চালু হয়েছে বিশ্বের প্রথম আবাসিক হোটেল। মালদ্বীপের রাঙ্গালি দ্বীপে এই হোটেল চালু করা হয়েছে। দোতলা এই হোটেলটির অবস্থান ভারত মহাসাগরের ১৬ ফুট পানির নিচে। খবর সিএনএন’র।

হোটেলটির নাম দেয়া হয়েছে মুরাকা। মালদ্বীপের ভাষায় যার অর্থ কোরাল। হোটেলটিতে বিছানার পাশাপাশি অন্যান্য হোটেল রুমের মতো বাকি সব সুবিধা রয়েছে।

এছাড়া এর দ্বিতীয় তলায় রয়েছে প্রাইভেট জিম, একটি বার, ইনফিনিটি পুলসহ আকর্ষণীয় সব সুবিধা। এই হোটেলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি হলো- এখানে শুয়ে সাগরের নিচের অতুলনীয় দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।

হোটেলটির একটি অংশ পানির নিচে রাখা হলেও অপর অংশটি পানির ওপরে রাখা হয়েছে। রোমাঞ্চকর এই হোটেলে থাকতে খরচ কেমন পড়বে? প্রতিবেদন বলা হয়েছে, মুরাকায় প্রতি রাত কাটাতে খরচ হবে ৫০ হাজার ডলার যার মান বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২ লাখ টাকা।

কিন্তু সমস্যা হলো এখানে একদিন থাকার কোনও সুযোগ নেই। এই হোটেলে থাকতে হলে চার রাতের একটি প্যাকেজ নিতে হবে যাতে খরচ হবে ২ লাখ ডলার বা ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা!

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রাখি একজন রূপান্তরকামী- দাবি তনুশ্রী দত্তের

বিনোদন ডেস্ক: কয়েক দিন আগে তনুশ্রী দত্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন রাখি সাওয়ান্ত। অভিযোগ করেছিলেন, এক সময়ে তনুশ্রী নাকি একাধিকবার ধর্ষণ করেছিলেন তাকে। এবার সেই অভিযোগেরই জবাব দিলেন তনুশ্রী দত্ত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তনুশ্রী দাবি করেন, ‘‘রাখি সাওয়ান্ত একজন রূপান্তরকামী, ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই বিষয়টি জানেন।’’

সেই সঙ্গে তনুশ্রী জানান, ‘‘রাখি আমি তোমার সঙ্গে কোনও ঝগড়া চাইছি না। তুমি যা খুশি তা বলতে পারো, আমি এক কান দিয়ে শুনছি, অন্য কান দিয়ে বার করে দিচ্ছি তোমার কথা। তোমার সঙ্গে ঝগড়া করা মানে নর্দমার শুয়োরের সঙ্গে ঝগড়া করা। বাস্তবে একজন শুয়োর এসব করতেই মজা পায়।’’

প্রসঙ্গত, রাখি আগে অভিযোগ করেছিলেন, ‘‘তনুশ্রীকে বাইরে থেকে মহিলা মনে হলেও তিনি ভিতর থেকে একজন পুরুষ। এই জন্য নাকি তনুশ্রী দত্ত ছেলেদের মতো নিজের চুল ছোট করেছেন। একাধিকবার তাকে ধর্ষণও করেছেন।’’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঘন কুয়াশায় রাত ২টা থেকে ফেরি পারাপার বন্ধ

দেশের খবর: পদ্মা নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া রুটের ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কাঁঠালবাড়ী ঘাট সূত্র জানিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কুয়াশার কারণে পদ্মা নদীতে দৃষ্টিসীমা কমে গেলে ফেরিচলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিআইডব্লিউটিসি’র কাঁঠালবাড়ী ফেরি ঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম মিয়া বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাত ১২টা থেকে পদ্মা নদীর অববাহিকায় কুয়াশা পড়তে শুরু করে। ধীরে ধীরে কুয়াশার মাত্রা বেড়ে গেলে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই সময় চলাচলরত কয়েকটি ফেরি দিক নির্ণয় করতে না পেরে মাঝ পদ্মায় নোঙর করে থাকে।

কুয়াশা কেটে গেলে তারপর ফেরি চলাচল শুরু হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বৃদ্ধ আফছারের কাণ্ড; ৪ কেজি ওজনের কাচা লাউ ভক্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৭৮ বছরের এক বৃদ্ধ ৪ কেজি ওজনের একটি কাচা লাউ খেয়ে উপস্থিত সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে। কিন্তু কথা মত বাজীর টাকা তাকে পরিশোধ না করায় হতাশ হয়েছে ঐ বৃদ্ধ। ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের পার কুখরালী গ্রামে।
প্রত্যাক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পার কুখরালী ঈদগাহ মোড়ের একটি চায়ের দোকানে গত ৫ নভেম্বর সোমবার সকাল ৭টার দিকে একই গ্রামের মৃত বাবুরালী সরদারের ছেলে জামাল সরদার তার মৎস্য ঘেরে লাগানো গাছ থেকে কয়েকটি লাউ তুলে বিক্রীর জন্য ঐ দোকানে রাখে। বিভিন্ন কথাবার্তার এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত একই গ্রামের মৃত মোকছেদ সরদারের বৃদ্ধা পুত্র আফছার সরদার ৪ কেজি ওজনের একটি লাই কাচা খেতে পারে বলে জানায়। উপস্থিত লোকজন তার কথা শুনে রিতীমত হতবাক বনে যায়। তখন লাউ এর মালিক বলে ঐ লাউ খেতে পারলে তার কাছে থাকা আরো ৪টি লাউ দিয়ে দেব। এসময় তিনি ঐ কাচা লাউটি লবন মাখিয়ে খাওয়া শুরু করে। মাত্র ২৮ মিনি এর মধ্যে তিনি খাওয়া শেষে করেন। কিন্তু বৃদ্ধা আফছার তার প্রতিশ্রুতির পুরস্কার পেলেন না। এ নিয়ে এলাতাবসীর মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে লোকজন বলাবাল করতে থাকে প্রতিশুতিকারীদের কাছে টাকাটাই বড় হলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেশের খবর: একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন সরকারের টেকনোক্র্যাট চারজন মন্ত্রী।

তারা হলেন ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈ‌দে‌শিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএস‌সি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযু‌ক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে চার মন্ত্রীর দপ্তরই নিশ্চিত করেছে।

জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম রাতে বলেন, “এখনও পদত্যাগপত্রগুলো হাতে পাইনি, তবে প্রক্রিয়াধীন আছে।”

নিয়ম অনুযায়ী, চার মন্ত্রীর পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর তা যাবে রাষ্ট্রপতির কাছে।

রাষ্ট্রপতি তাদের পদত্যাগের ফাইলে স্বাক্ষর করলে এদের অব্যাহতি দিয়ে আদেশ জারি করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এর আগে সকালে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছিলেন, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আজকে মন্ত্রিসভার বৈঠকের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি শেষে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সভার টেকনোক্র্যাট মিনিস্টারদের পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন, অন্যরা স্ব-পদে বহাল থাকবেন।”

শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় এই চারজনই টেকনোক্র্যাট ছিলেন; অর্থাৎ তারা নির্বাচিত সংসদ সদস্য নন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে, মন্ত্রিসভার মোট সদস্যের এক-দশমাংশ অনির্বাচিত হতে পারেন।

চলতি বছর জানুয়ারিতে মন্ত্রিসভায় সর্বশেষ রদবদলের পর ৩০ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুজন উপমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের মধ্যে কেবল পদত্যাগী চারজনই ছিলেন টেকনোক্র্যাট।

এদের মধ্যে চট্টগ্রামের নুরুল ইসলাম বিএসসি ও ময়মনসিংহের মতিউর রহমান আগে সংসদ সদস্য ছিলেন। জোটের স্বার্থে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে দুজনকেই নিজ নিজ আসন ছেড়ে দিতে হয়েছিল।

প্রকৌশলী ইয়াফেস ওসমান শুরু থেকে মন্ত্রিসভায় থাকলেও তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বার চলতি বছরের জানুয়ারিতে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন।

মন্ত্রিসভার সদস্যরা ছাড়াও মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্বে আছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে আছেন আরও পাঁচজন।

আগামী বৃহস্পতিবার একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার পর বর্তমান সরকার শুধু ‘রুটিন’ কাজগুলো করবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করবেন।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে মতবিভেদের মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে চূড়ান্ত সংলাপে বসার আগের দিনই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে বললেন শেখ হাসিনা। সেই নির্দেশ অনুসারে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন চারজন।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর মঙ্গলবার রাতে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রী মহোদয় (নুরুল ইসলাম বিএসসি) পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।”

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিবেকান্দ রায়ও তার মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেন।

টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযু‌ক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শেফায়েত হোসেন বলেন, “সন্ধ্যায় পরে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে স্যার (মোস্তফা জব্বার) পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।”

ধর্মমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) মো. আনোয়ার হোসাইন জানান, মতিউর রহমান সন্ধ্যায় পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা এখন সংবিধানে নেই। বর্তমান ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন হয়। ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না, তবে তিন মাসের ক্ষণ গণনা শুরু হলে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অধীনে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেন; যার নাম দেওয়া হয় ‘সর্বদলীয় সরকার’।

এবার নির্বাচনের সময় মন্ত্রিসভার আকারে বড় কোনো পরিবর্তন না আনার ইঙ্গিত গত মাসে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু তফসিলের আগে হঠাৎ করেই তিনি বিরোধী দল ও জোটগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসতে সম্মত হন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফায় সরকারকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের দাবি রয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলছে, সংবিধানের বাইরে গিয়ে তারা কিছু করতে পারবে না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest