
মীর কাসেম আলী
স্বদেশ: মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি মীর কাসেম আলীর রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) রায় ঘোষণা করা হবে আজ মঙ্গলবার। রায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকবে কি না তা জানার অপেক্ষায় এখন সারা দেশের মানুষ।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। বেঞ্চের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে থাকবেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান।
গত রোববার এ বিষয়ে শুনানি শেষে রায়ের জন্য এই দিন নির্ধারণ করা হয়।
শুনানি চলার সময় খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতে জানান, যে অভিযোগে মীর কাসেম আলীর ফাঁসি বহাল রাখা হয়েছে সে অভিযোগটি প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছিল প্রসিকিউশন। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি প্রসিকিউশন।
মীর কাসেম আলী একজন সমাজসেবক এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন জানিয়ে আদালতের কাছে তাঁর দণ্ড কমিয়ে দেওয়ার আবেদন করেন খন্দকার মাহবুব।
অন্যদিকে শুনানি চলাকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান, মীর কাসেম আলী চট্টগ্রামের ডালিম হোটেলে যে নির্যাতনে অংশ নিয়েছেন তা দিবালোকের মতো সত্য এবং প্রসিকিউশন তা আদালতে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো রায় দেওয়া হলে নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর অবিচার করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত ২৪ আগস্ট মামলাটির শুনানি শুরু হয়। ওই দিন মীর কাসেমের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের করা সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি ঘোষণা করেন আদালত। এর আগে গত ২৫ জুলাই রিভিউ শুনানির জন্য এক মাস সময় দেওয়া হয় মীর কাসেম আলীকে। তাঁর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন রিভিউ শুনানির জন্য দুই মাসের সময় আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এক মাসের সময় মঞ্জুর করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সময় আবেদনের বিরোধিতা করেন। গত ১৯ জুন আপিল বিভাগের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন মীর কাসেম আলী। এতে ১৪টি আইনি যুক্তি তুলে ধরে তাঁকে বেকসুর খালাস দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ৬ জুন প্রকাশ করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোর জসিমসহ ছয়জনকে হত্যার দায়ে গত ৮ মার্চ মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় বহাল রেখে আদেশ দেন আদালত। পরে ৭ জুন তাঁকে মৃত্যুর পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়।
মামলার সারসংক্ষেপ: ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের রায়ে মীর কাসেমের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ১৪টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে দুটিতে (১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগ) মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া চারটি অভিযোগে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়।
১১ নম্বর অভিযোগে রয়েছে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমসহ ছয়জনকে আটক, নির্যাতন ও হত্যার বিষয়টি। এ অভিযোগে বিচারকরা সর্বসম্মতিক্রমে মীর কাসেমকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। ১২ নম্বর অভিযোগে রয়েছে রঞ্জিত দাস ও টুন্টু সেনকে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ। এ অভিযোগে বিচারকদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দেওয়া হয়। ১১ ও ১২ নম্বর ছাড়া বাকি ১২টিই অপহরণের পর আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ মীর কাসেমের বিরুদ্ধে।
প্রমাণিত অভিযোগগুলোর মধ্যে ২ নম্বরটিতে মীর কাসেমকে ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ৩, ৪, ৬, ৭, ৯ ও ১০ নম্বর অভিযোগে তাঁকে সাত বছর করে মোট ৪২ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ১৪ নম্বর অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। এই আটটি অভিযোগে তাঁকে ৭২ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। তবে ১, ৫, ৮ ও ১৩ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে এসব থেকে খালাস (অব্যাহতি) দেওয়া হয়।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় মীর কাসেম আলীর পক্ষে আপিল করেন জয়নুল আবেদীন তুহিন। মীর কাসেমের পক্ষে ১৮১টি যুক্তি দেখিয়ে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে এ আপিল করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতায় ছাত্রসংঘের বাছাই করা সদস্যদের নিয়ে গঠিত সশস্ত্র আলবদর বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার হিসেবে মীর কাসেম আলী মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান, তা ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রমাণিত হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে ২০১২ সালের ১৭ জুন মীর কাসেম আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। এ মামলা এখন পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি আপিলের ষষ্ঠ রায়।
এ ছাড়া আপিলে চূড়ান্ত পাঁচটি রায়ের পর চারটিতে জামায়াতের দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।
আপিলের আরেক রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গত ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়। রায় রিভিউ চেয়ে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ এরই মধ্যে আবেদন দাখিল করেছে।

অপ্রত্রিম: না, কোনও রূপকথা নয়। কোনও মেগা সিরিয়াল-সোপ অপেরা অথবা প্যাকেজ নাটক কিংবা পরাবাস্তব সিনেমার কল্পিত দৃশ্যকাব্য অথবা জাদুবাস্তবতার নিরিখে লেখা উপন্যাসও নয়। এটি একটি বাস্তব ঘটনা, ৪ বছর বয়সী ছোট বোনকে বাঁচাতে গিয়ে ৮ বছর বয়সী বোন একরকম আত্মাহুতিই দিয়েছে।
অপ্রতিম: অলিম্পিকে মোট নয়টি সোনা জয় করেছেন জ্যামাইকান স্প্রিন্টার উসাইন বোল্ট।
স্বদেশ: চাঁদপুরে স্কুলের বেতন ও পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠবোস করার অপমান সইতে না পেরে সাথী আক্তার (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মাহফিজুল ইসলাম আককাজ: সাতক্ষীরায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও উৎসব মুখর পরিবেশ ৪৫তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা গ্রীস্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকালে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে সাতক্ষীরা পি.এন স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর -২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আলতাফ হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার কিশোরী মোহন সরকার প্রমুখ। সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা পিএন স্কুল এন্ড কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ মোঃ হাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা খাতুন, নবারুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আমিনুর রহমান (উল্লাস), ফিফা রেফারি তৈয়েব হাসান বাবু, ক্রীড়া শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, মোঃ জাহিদ হাসান, মনোরঞ্জন মন্ডল, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ মোমেনুর রহমান, মোঃ আনিছুর রহমান, লাবনী দত্ত, মোঃ রবিউল ইসলাম, ইকবাল আলম বাবলু, মোঃ আবু সাঈদ, মোঃ আব্দুর রউফ, মোঃ রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ গ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সেলিম হায়দার, তালা: তালা উপজেলার জাতপুর সমকাল মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ এর শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল পোষাক (ইউনিফর্ম) বিতরণ করা হয়। সোমবার সকালে সমকাল মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফরিদ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমকাল মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসেন। শিক্ষক স্বদেশ কুমার মল্লিকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতপুর-আলাদীপুর বাজার কমিটির সভাপতি এসএম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাসান সরদার, বিদ্যাপীঠ উন্নয়ন কমিটির আব্দুল হাই, সমাজ সেবক ইয়াকুব আলী বিশ্বাস, প্রাক্তন শিক্ষক আবাদুস সবুর, আবুল হাসান সরদারসহ বিদ্যাপীঠের ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দ, অভিভাবক, শিক্ষক, সাংবাদিক, ছাত্র-ছাত্রীসহ স্থানীয় সুধী মহল। এ সময় স্কুলের শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে উক্ত স্কুল পোষাক (ইউনিফর্ম) বিতরণ করা হয়।
মাহফিজুল ইসলাম আককাজ: সাতক্ষীরায় জঙ্গি ও সন্ত্রাস বিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকালে সাতক্ষীরা নিউ মার্কেট মোড়ে (শহিদ আলাউদ্দিন চত্বরে) সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামীলীগের আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে সাবেক পৌর মেয়র শেখ আশরাফুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাদাৎ হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা মীর মোশারফ হোসেন মন্টু, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক মুনসুর আহম্মেদ, এপিপি এড. আব্দুল লতিফ, এড. নওশের আলী, জয়নাল আবেদীন জোসি, পৌর আ’লীগ নেতা শেখ শফি উদ্দিন সফি, জেলা যুব মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদক সাবিহা হোসেন, পৌর আওয়ামীলীগ নেতা কামরুল ইসলাম, জিমি প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নারান চন্দ্র মন্ডল, লিটন মীর্জা, আনোয়ার হোসেন মিলন, আসাদুজ্জামান, হযরত আলী বাবু, মতিয়ার রহমান, হকার্সলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল গফ্ফার, মো. সাইফুল ইসলামসহ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।