সর্বশেষ সংবাদ-
সব ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরসাতক্ষীরায় কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যায় গ্রেপ্তারকৃত নাহিদ ও শিপন ৫ দিনের রিমাণ্ডেএবিপার্টি সাতক্ষীরা জেলা শাখার মাসিক মতবিনিময় সভাআশাশুনিতে সুদ কারবারির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনআশাশুনিতে পুলিশের বিশেষ অভিযান ৭ আসামি গ্রেপ্তারদেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী-স্বজনদের ডেঙ্গু বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষাসাতক্ষীরায় ডিবি পুলিশের অভিযানে অনলাইন জুয়াচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার : ৬টি মোবাইল জব্দদেবহাটায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভাসাতক্ষীরা সরকারি কলেজে শিক্ষার্থী জাকারিয়া হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধনবিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীর জন্য নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল আবাসন নিশ্চিতের দাবি 

দেবহাটায় উন্নয়নশীল দেশে উত্তরনের সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরনী 

দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটায় স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরনের সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেবহাটা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২৪ মার্চ,

২২ ইং বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টায় উপজেলা মুক্ত মঞ্চে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ উৎসব উদযাপনের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী।

প্রধান অতিথি ছিলেন দেবহাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মুজিবর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইয়াছিন আলী।

এসময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অধীর কুমার গাইন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী জুয়েল হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিউল বশার,

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে দেবহাটা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস প্রথম নির্বাচিত হয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস ২য় স্থান অধিকার করে। শেষে পুরষ্কার প্রদান করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বুশরা হাসপাতালের পরিচালক কর্তৃক গ্রাম ডাক্তার নেতাকে হত্যার হুমকিতে নিন্দা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

বুশরা হাসপাতালের পরিচালক কর্তৃক গ্রাম ডাক্তার নেতা আল-আমিনকে হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে আর এম পি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এবং বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার রাতে সাতক্ষীরা শহরের একটি রেস্তোরাঁয় এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন আরএমপি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি গ্রাঃ ডাঃ মিজানুর রহমান ডাবলু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আব্দুল বারী খান, আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম,

মাহবুবুর রহমান, হাসান সিদ্দিকি, আলহাজ্ব আশরাফ হোসেন বাবু, আক্তারুল ইসলাম, আমিনুর রহমান, আব্দুল মমিন, এবাদুল ইসলাম, মাসুম বিল্লাহ, জামিলুল বাসার, এম এ হাসান, রুহুল আমিন, অনির্বাণ সরকার, আব্দুল্লাহ আল মামুন,

অপূর্ব মজুমদার, রেজাউল ইসলাম সহ গ্রাম ডাক্তার নেতৃবৃন্দ। এসময় সবার সম্মতিতে উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বয়কট ঘোষণা করা হয় এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। সাধারণ ডায়েরি নং ১৫৫৭ তারিখ ২৩/০৩/২০২২.

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় প্রতিপক্ষের মারপিটে গৃহবধু আহত

দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটায় একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের এক মুক্তিযোদ্ধার পুত্রবধু আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনায় আহত ঐ গৃহবধুর স্বামী বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ মতে জানা গেছে, উপজেলার ঘলঘলিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ সরদারের পুত্র রুহুল আমিনের স্ত্রী আছমা খাতুনকে একই গ্রামের ওয়াজ কুরানীর স্ত্রী জাহানারা খাতুন,

মৃত বদর উদ্দীন সরদারের ছেলে মোনারুল ইসলাম ও ওয়াজ কুরানীর মেয়ে মোমেনা খাতুন একটি হাসের পা লাঠি দিয়ে মেরে খোড়া করে দিয়েছে এই মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে গত বুধবার ২৩ মার্চ, ২২ ইং সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে আছমা খাতুনকে মারপিট করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বাদী রুহুল আমিন তার জখমী স্ত্রীকে উদ্ধার করে সখিপুরস্থ দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পরে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

ওসি শেখ ওবায়দুল্লাহ জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তপূর্বক যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে চুরি হওয়া মোটর সাইকেল কয়েক ঘন্টার মধ্যে উদ্ধার

দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটায় চুরি হওয়া একটি মোটর সাইকেল কয়েক ঘন্টার মধ্যে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে। এসময় পুলিশ মোটর সাইকেল ছিনতাইকারীকেও আটক করতে সক্ষম হয়েছে। আটককৃত মোটর সাইকেল চোর এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দেবহাটা থানায় আটক ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,

দেবহাটা উপজেলার সখিপুর গ্রামের সাবুর আলীর ছেলে মোশাররফ হোসেনের সখিপুর মহিলা কলেজের সামনে একটি দোকান আছে। তিনি দোকানের পাশে প্রতিদিনের মতো তার এ্যাপাচি (আরটিআর) ১৬০ সিসির মোটর সাইকেলটি রেখে দোকানদারী করছিলেন।

বৃহষ্পতিবার ২৪ মার্চ, ২২ ইং তারিখ সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে তার মোটর সাইকেলটি চুরি হলে তিনি দেবহাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ০৯, তাং- ২৪-০৩-২২ ইং। মামলা পরবর্তী দেবহাটা থানার ওসি শেখ ওবায়দুল্লাহর নির্দেশনার থানার ওসি (তদন্ত) তুহিনুজ্জামানের নেতৃত্বে এসআই শফিকুল রহমান দ্রæত অভিযান পরিচালনাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহষ্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার পারুলিয়া হাইস্কুলের সামনে থেকে চুরি যাওয়া মোটর সাইকেল ও চোর সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার চিংড়ীখালী খালপাড়া এলাকার আরশাদ গাজীর ছেলে আবু বক্কর গাজীকে আটক করেন।

দেবহাটা থানার ওসি শেখ ওবায়দুল্লাহ জানান, মোটর সাইকেল চোরের একটি সংঘবদ্ধ দল আছে। আটককৃতের সাথে আর কারা কারা জড়িত সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। ওসি আরো জানান, আটককৃতের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও অনেক চুরির অভিযোগ আছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই জামায়াত নেতার ফাঁসির রায়ে সাতক্ষীরায় মিষ্টি বিতরণ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য মাও. আব্দুল খালেক মণ্ডলসহ দুই জামায়াত নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে সাতক্ষীরায় আনন্দ মিছিলও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে রায় শুনে সাতক্ষীরা শহরের আব্দুর রাজ্জাক পার্ক থেকে আনন্দ মিছিল বের করে সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। আনন্দ মিছিল পরবর্তী বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা আ’লীগের যুগ্ন-সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আসাদুজ্জামান বাবু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন মশু ও সদর সভাপতি শফিক আহম্মেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর করিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ জামায়াতের দুই নেতার এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত দুই জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে খুন, ধর্ষণ, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী ছয়টি অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সব্বোর্চ এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় এজলাস কক্ষে আসামির কাঠগড়ায় ছিলেন আব্দুল খালেক মন্ডল। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রোকনুজ্জামান পলাতক রয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন সাতক্ষীরা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সদর উপজেলার বৈকারী ইউনিয়নের খলিলনগর গ্রামের বাসিন্দা জামায়াত নেতা আব্দুল খালেক মণ্ডল। অন্যজন শহরের পলাশপোল এলাকার বাসিন্দা জামায়াত নেতা খান রোকনুজ্জামান।

মামলার রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাতক্ষীরা জেলা আ’লীগের যুগ্ন-সম্পাদক আলহাজ্ব আসাদুজ্জামান বাবু জানান, ‘১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতক্ষীরার দুই জামায়াত নেতার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমরা এই রায়ে আনন্দ প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে সরকারের কাছে দ্রুত এই রায় কার্যকর করার দাবি করছি।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যুদ্ধাপরাধ মামলায় খালেক রোকনের ফাঁসির আদেশ: সাতক্ষীরায় মুক্তিযোদ্ধা জনতার আনন্দ মিছিল

নিজস্ব প্রতিনিধি :
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতক্ষীরা জামায়াতের আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক ম-লসহ দুই জামায়াত নেতার মৃত্যুদ-ের রায় ঘোষনা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) বেলা ১০টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াত নেতা আব্দুল খালেক ম-ল সাতক্ষীরা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সদর উপজেলার বৈকারী ইউনিয়নের খলিলনগর গ্রামের বাসিন্দা। অপর আসামী জামায়াত নেতা খান রোকনুজ্জামান শহরের পলাশপোল এলাকার বাসিন্দা। তিনি সাতক্ষীরা নবজীবন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা।
এদিকে, যুদ্ধাপরাধ মামলায় দুই জামায়াত নেতার মৃত্যুদ-ের রায় ঘোষনার পর বেলা ১২টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের আব্দুর রাজ্জাক পার্ক থেকে আনন্দ মিছিল বের করে মুক্তিযোদ্ধা জনতা। আনন্দ মিছিলে অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ সরকার , দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি, যুদ্ধাপরাধ মামলার স্বাক্ষী হাফিজুর রহমান মাছুম, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি শওকত হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আক্তার হোসেন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শামীমা পারভীন রতœা, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আশিকুর রহমান আশিক,সাধারণ সম্পাদক সুমন হোসেনসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।
সাতক্ষীরা মুক্তিযোদ্ধা জনতার আয়োজনে মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ সরকারের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রিয়াজ,জেলা জাসদের সভাপতি শেখ ওবায়েদুস সুলতান বাবলু, রওনক বাসার প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই জামায়াত নেতারা যুদ্ধের সময় ও যুদ্ধ পরবর্তী হত্যা, ধর্ষন, অগ্নি সংযোগ, লুটপাট করেছে। ট্রাইব্যুনালে স্বাক্ষীরা এসব অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছে। ফলে আজকের এই প্রত্যাশিত রায়। এই রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার মানুষ কলঙ্কমুক্ত হবে।
এদিকে, জামায়াত নেতার রায়কে ঘিরে সাতক্ষীরা শহরসহ বৈকারী এলাকায় বিভিন্নস্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেন কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দ-প্রাপ্ত দুই জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে খুন, ধর্ষণ, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী ছয়টি অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ এ দ- দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় এজলাস কক্ষে আসামির কাঠগড়ায় ছিলেন আব্দুল খালেক মন্ডল। অপর দ-প্রাপ্ত আসামী খান রোকনুজ্জামান পলাতক রয়েছেন।
২০১৫ সালের ১৬ জুন ভোরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারী ইউনিয়নের খলিলনগর মহিলা মাদরাসায় নাশকতার উদ্দেশ্যে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে গোপন বৈঠকের অভিযোগে আব্দুল খালেক ম-লকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৭ আগস্ট তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে জব্দ তালিকার সাক্ষীসহ মোট ৬০ জনকে সাক্ষী করা হয়। ওই বছরের ২৫ আগস্ট খালেক ম-লের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি মামলার মধ্যে শহীদ মোস্তফা গাজী হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।
সাতক্ষীরা সদরের ফিংড়ি ইউনিয়নের শিমুলবাড়িয়া গ্রামের রুস্তম আলীসহ পাঁচ জনকে হত্যার অভিযোগে ২০০৯ সালের ২ জুলাই খালেক ম-লের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিলেন শহীদ রুস্তম আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম গাজী। এই মামলায় তাদের মৃত্যুদ-ের আদেশ হলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মানবতাবিরোধী অপরাধ: সাবেক সংসদ সদস্য খালেকসহ ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি :
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক মন্ডল ওরফে জল্লাদ খালেকসহ দুই রাজাকারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি হলেন খান রোকনুজ্জামান। তিনি পলাতক রয়েছেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

এর আগে ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য রেখে আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

গত ২২ মার্চ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে আদেশ দেন।

মামলায় আসামি খালেক মন্ডলের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আব্দুস সোবহান তরফদার ও মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। অপর আসামি পলাতক খান রোকনুজ্জামানের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন গাজী এম এইচ তামিম।

এ মামলায় মোট আসামি ছিলেন চারজন। অপর দুই আসামি আব্দুল্লাহ হেল বাকী ও জহিরুল ইসলাম টেক্কা খান বিচার চলাকালে মারা যান।

২০১৮ সালের ৫ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। আনুষ্ঠানিক অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ছয়জনকে হত্যা, দুজনকে ধর্ষণ, ১৪ জনকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ।

২০১৫ সালের ১৬ জুন ভোরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খলিলনগর মহিলা মাদ্রাসায় নাশকতার উদ্দেশ্যে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে গোপন বৈঠকের অভিযোগে আব্দুল খালেক মন্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই বছরের ২৫ আগস্ট তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরায় দায়ের করা তিনটি মামলার মধ্যে শহীদ মোস্তফা গাজী হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখান ট্রাইব্যুনাল।

শিমুলবাড়িয়া গ্রামের রুস্তম আলীসহ পাঁচজনকে হত্যার অভিযোগে ২০০৯ সালের ২ জুলাই খালেক মন্ডলের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন শহীদ রুস্তম আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম গাজী।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চার আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট থেকে তদন্ত শুরু হয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়।

২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চার জনের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী সংস্থা। পরে ৮ মার্চ অন্য তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

একই বছরের ১৭ মার্চ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের বুলারাটী গ্রামের বাড়ি থেকে আব্দুল্লাহ-হেল বাকীকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯ মার্চ হাজির করা হলে ঢাকায় থাকা ও ধার্য দিনে হাজিরের শর্তে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আব্দুর রউফের হেফাজতে ১০৩ বছর বয়স্ক বাকীকে জামিন দেয়া হয়। পরো তিনি মারা যান।

আসামিদের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ আনা হলেও ট্রাইব্যুনালে ছয়টি অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়।

প্রথম অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ১৮ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে বেতনা নদীর পাড়ে বুধহাটা খেয়াঘাটে আফতাবউদ্দিন ও সিরাজুল ইসলামকে রাজাকার কমান্ডার ইছাহাক (মৃত) ও তার সহযোগীরা গুলি করে হত্যা করেন। পরে স্থানীয় খলিলুর রহমান, মো. ইমাম বারী, মো. মুজিবর রহমান ও ইমদাদুল হককে রাজাকার বাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্র ডায়মন্ড হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ১ ভাদ্র ধুলিহর বাজার থেকে ধরে কমরউদ্দিন ঢালীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যান ১০/১২ জন রাজাকার। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন সাতক্ষীরা মহকুমার রাজাকার কমান্ডার এম আব্দুল্লাহ আল বাকী ও খান রোকনুজ্জামান। পরে ঢালীর মরদেহ পাওয়া যায় বেতনা নদীর পাড়ে। তৃতীয় অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ১ ভাদ্র বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে রাজাকার কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল বাকী, রোকনুজ্জামান খানসহ চার থেকে পাঁচজন মিলে সবদার আলী সরদারকে চোখ বেঁধে পিকআপ ভ্যানে তুলে নিয়ে যান। পরে আর তার সন্ধান মেলেনি।

চতুর্থ অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ৭ আষাঢ় সকাল ৭টার দিকে আবুল হোসেন ও তার ভাই গোলাম হোসেন নিজেদের বাড়ির পাশে হালচাষ করছিলেন। সকাল ৯টার দিকে গোলাম হোসেন বাড়িতে নাস্তা করতে এলে আসামি আব্দুল খালেক মন্ডল ও জহিরুল ইসলাম টেক্কা খানসহ ১০/১২ জন রাজাকার তাকে ধরে নিয়ে পাশের পাটক্ষেতে গুলি করে হত্যা করেন।

পঞ্চম অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ২ ভাদ্র সকালে বাশদহ বাজারের ওয়াপদা মোড় থেকে মো. বছির আহমেদকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের পর তার বুড়ো আঙুলের রগ কেটে দেন রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা।

ষষ্ঠ অভিযোগ: ১৯৭১ সালের জ্যেষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে আসামি আব্দুল খালেক মন্ডল ও রাজাকার কমান্ডার জহিরুল ইসলাম টেক্কা খান একদল পাকিস্তানি সৈন্যকে সঙ্গে নিয়ে কাথান্ডা প্রাইমারি স্কুলে স্থানীয় গ্রামবাসীদের ডেকে মিটিং করেন। সেই মিটিংয়ে বলা হয়, যারা আওয়ামী লীগ করেন এবং যারা মুক্তিযুদ্ধে গেছেন তারা ‘কাফের’। এরপর তারা কাথান্ডা ও বৈকারি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের বাড়িঘর লুট করে জ্বালিয়ে দেন। সে সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দুই সদস্য মৃত গোলাম রহমানের স্ত্রী আমিরুনকে তার বাড়ির রান্নাঘরের পেছনে আটকে ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া বৈকারি গ্রামের ছফুরা খাতুনকে মৃত শরীয়তউল্লাহর ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে চার পাকিস্তানি সৈন্য।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

অনলাইন ডেস্ক : তাসকিনের আগুনঝরা বোলিংয়ের পর জয়টা প্রায় বাংলাদেশের হাতের মুঠোয়ই চলে এসেছিল। বাকি ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা। সেই আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার দায়িত্ব ব্যাটারদের ঘাড়ে। দেখার ছিল, তারা কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে সেই দায়িত্ব পালন করেন।

বোলাররা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৫৪ রানে অলআউট করে দিয়ে ম্যাচ যতটা সহজে পরিণত করেছিলেন, ব্যাটাররা সেই সহজ কাজটাতে আরও সহজ করে নিলেন। বিশেষ করে অধিনায়ক তামিম ইকবাল। অন্য ওপেনার লিটন দাসকে নিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ১২৭ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের জয়কে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত লিটন আউট হলেও সাকিব আল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে সেঞ্চুরিয়নের সুপার স্পোর্টস পার্কে মাত্র ২৬.৩ ওভারে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়ে মাঠ ছাড়লেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পরাশক্তিধর দেশের মাটিতে গিয়ে তাদেরই বিপক্ষে এই প্রথম সিরিজ জয়ের ইতিহাস রচনা করলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

যে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এর আগে কোনো ফরম্যাটে একটিও জয় ছিল না বাংলাদেশের, সেখানে শুধু ম্যাচ জয়ই নয়, সিরিজ জয় রীতিমতো অবিশ্বাস্য একটি ব্যাপার। বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নতির দুর্দান্ত একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে এই সিরিজ জয়।

জয়ের জন্য ১৫৫ রানের সহজ লক্ষ্য। এই লক্ষ্য পাড়ি দিতে গিয়ে তাকে মোটেও কঠিন করে তুললেন না দুই ওপেনার। বরং তামিম ইকবাল বিধ্বংসী ব্যাটিং করে বাংলাদেশের জয়কে আরও সহজ করে দেন। লিটনকে অন্যপ্রান্তে দর্শক বানিয়ে একের পর এক শর্ট খেলতে থাকেন তিনি। যে কারণে দেখা গেছে, ১০ম ওভারে কাগিসো রাবাদার মতো বোলারকে চারবার বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের ভক্ত সমর্থকরা ধারণা করেছিল, ১০ উইকেটের ব্যবধানেই বুঝি জয়টা আসতে যাচ্ছে। কিন্তু ১২৭ রানের জুটি গড়ার পর ২১তম ওভারের ৫ম বলে কভারে দাঁড়িয়ে থাকা টেম্বা বাভুমার হাতে ক্যাচ তুলে দেন। বোলার ছিলেন কেশভ মাহারাজ। ৪৮ রানের মাথায় আউট হলেন লিটন। বল খেললেন ৫৭টি।

 

লিটন আউট হওয়ার পর জয়ের জন্য ফিনিশিং টাচ দিতে মাঠে নামেন সাকিব আল হাসান। তামিম-সাকিব মিলে বাকি কাজ শেষ করেন আর মাত্র ৫ ওভারেই। ২৬.৩ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। হাতে বাকি ছিল তখনও ১৪১ বল (২৩.৫ ওভার)।

তামিম ইকবাল অপরাজিত থাকলেন ৮৭ রানে। ৮২ বলে খেলা ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ১৪টি বাউন্ডারির সাহায্যে। ওয়ানডেতে নিজের ক্যারিয়ারে এটা তামিমের ৫২তম হাফ সেঞ্চুরি। ২০ বল খেলে ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন সাকিব আল হাসান। দেশে নিজের তিন সন্তান, মা, শাশুড়ি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে। তবুও, দেশের জন্য সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকার সিদ্ধান্ত নেন সাকিব। শেষ পর্যন্ত তিনি লক্ষ্যে সফল হলেন, ইতিহাস গড়তে পারলো বাংলাদেশ।

 

আজ ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বলে দিচ্ছিল, ভালো কিছু হতে যাচ্ছে। টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাট করতে নামার পর প্রথম ওভারেই শরিফুল যেভাবে বল হাতে আগুন ঝরাচ্ছিলেন, তা ছিল অবিশ্বাস্য। তার দ্বিতীয় বলেই পরাস্ত হন ওপেনার জানেমান মালান।

আউটের আবেদন করেছিলেন তিনি। আম্পায়ার আউট না দেয়ায় খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই শরিফুল রিভিউ নিতে বলেন তামিমকে। রিভিউ নেন অধিনায়ক। যদিও আউট হয়নি। কিন্তু শরিফুলের সেই আত্মবিশ্বাস যেন ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো দলের মধ্যেই।

শেষ পর্যন্ত সেই আত্মবিশ্বাসের বলেই মাত্র ১৫৪ রানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। তাসকিন নিয়েছেন ৫ উইকেট।

প্রোটিয়া ব্যাটাররা যখন ব্যাট করছিল, তখন মনে হয়েছিল সেঞ্চুরিয়নের এই উইকেট বুঝি বোলারদের স্বর্গরাজ্য। কিন্তু বাংলাদেশের দুই ওপেনার যখন ব্যাট করতে নামলেন, তখন মনে হচ্ছে এটা বুঝি ব্যাটারদের স্বর্গরাজ্য।

 

জয়ের জন্য ১৫৫ রানের সহজ লক্ষ্য। এই রান করতে নেমে শুরুতেই বিপদ ঘটিয়ে বসতে পারতেন ওপেনার লিটন দাস। একেবারে প্রথম ওভারেই কাগিসো রাবাদার বলে থার্ড স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন লিটন। কিন্তু সেখানে প্রোটিয়া ফিল্ডার কেশভ মাহারাজ বলটি তালুবন্দি করতে পারেননি। বেঁচে যান লিটন, বেঁচে যায় বাংলাদেশের ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন।

এরপর বিপদে পড়তে পারতেন তামিম ইকবালও। লুঙ্গি এনগিদির একটি বল ঠিকমতো খেলতে পারেননি। ব্যাটে লেগে বলটা পিচ করে স্ট্যাম্পের একেবারে কাছেই। কান ঘেঁষে বুলেট যাওয়ার মতো অবস্থা। সমূহ বিপদ থেকে বেঁচে যান তামিম। বেঁচে যায় বাংলাদেশও।

ব্যাট করতে নেমে প্রথম ৫ ওভারের মধ্যে এই দুটি বিপদ থেকে রেহাই পাওয়ার পর বলা যায় শুভ সূচনাই হয়েছে বাংলাদেশের। দুই ওপেনারের উইকেট ধরে রেখে প্রথম ৫ ওভারে এসেছে ১৯ রান।

 

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে তাসকিন আহমেদের বোলিং তোপে মাত্র ৩৭ ওভারে ১৫৪ রানে অলআউট হয় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। শুরুটা ভালো করেছিল তারা। ৬ ওভারের মধ্যে ৪৫ রান পার হয়ে যায়। ৬.৫ ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে প্রথম উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। আউট হন কুইন্টন ডি কক, ১২ রানে।

জানেমান মালান করেন সর্বোচ্চ ৩৯ রান। এছাড়া কেশভ মাহারাজ ২৮, ডোয়াইনে প্রিটোরিয়াস ২০ রান করেন। ডেভিড মিলার করেন ১৬ রান। বাকি ব্যাটারদের কেউই আর দুই অংকের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি।

তাসকিন আহমেদ ৯ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। ওয়ানডেতে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ফাইফারের দেখা পেলেন তাসকিন। সাকিব আল হাসান নেন ২ উইকেট। শরিফুল এবং মেহেদী হাসান মিরাজ নেন একটি করে উইকেট। ২৮ রান করা কেশভ মাহারাজ হন রানআউট।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest