সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় দুর্গাপূজার নবমীতে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আশরাফুল আলমআশাশুনিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজসাতক্ষীরায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সাবেক মেয়র চিশতিউপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ: চারা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের অঙ্গীকারপ্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না শ্যামনগরের বিএনপি নেতা আদম আলীএখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরের

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য : মেয়র জাহাঙ্গীরকে শোকজ

রাজনীতির খবর : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে শোকজ করেছে আওয়ামী লীগ।

সোমবার (৩ অক্টোবর) দলটির দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত এ শোকজের চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কিত বিতর্কিত মন্তব্য করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম।

ছড়িয়ে পড়া চার মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, হেফাজতের প্রয়াত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে তার সখ্য ও রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর। একটি ঘরোয়া আয়োজনে তিনি এ কটূক্তি করেন বলে জানা যায়।

ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, মেয়র মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

পরে একটি ভিডিওবার্তায় মেয়র দাবি করেন, ফেসবুকে ভিডিও সুপার এডিট করে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করা হচ্ছে। তিনি ইতোমধ্যে তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি ওই ভিডিওটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

ফেসবুকে জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর তার শাস্তি দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে ২৩ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। একই দিন টঙ্গী স্টেশন এলাকায় রেললাইনে আগুন দেন বিক্ষুব্ধরা। আগুনের কারণে সারাদেশের সঙ্গে দেড় ঘণ্টা রেল চলাচল বন্ধ থাকে।

বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে পড়ে গাজীপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একদিকে জাহাঙ্গীর আলমের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ২৪ সেপ্টেম্বর, ওই একই দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘এসডিজি অগ্রগতিতে জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্ক’ (এসডিএসএন) পুরস্কার পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বোর্ড বাজার ইউটিসি চত্বর এলাকায় আনন্দ মিছিলের ঘোষণা দেন সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর।

আনন্দ মিছিলের নামে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্ল্যাহ্ খান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বক্তব্য মেয়রের বলে ভাইরাল হয়েছে, সেখানে সুস্পষ্টভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে, যেটা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। এ বক্তব্য তারই কণ্ঠে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে গাজীপুরের আওয়ামী পরিবার এবং স্বাধীনতার স্বপক্ষের প্রত্যেকটি মানুষ প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে।

অন্যদিকে মেয়র সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটা নাকি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তার বক্তব্য এডিট করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একের অধিক জায়গার বক্তব্য একত্র করেছে। এডিট করার অর্থ হলো কথাটা তার নিজের। সুতরাং তাকেই প্রমাণ করতে হবে এবং তিনি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। দলটা ঐ্যক্যবদ্ধ রাখতে আমরা তার বক্তব্যের অপেক্ষা করছিলাম। তার বক্তব্যের বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে।

পাল্টাপাল্টি এ সমাবেশ নিয়ে উভয়পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। ২৪ সেপ্টম্বর বিক্ষোভ সমাবেশের সামনে দিয়ে মেয়রপন্থিদের আনন্দ মিছিল যাওয়ার সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে দুইপক্ষের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মামুন মণ্ডলকে সমাবেশস্থল থেকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয় পুলিশ। পরে বিক্ষোভকারীরা দৌড়ে আশপাশের সড়কগুলোতে চলে গেলে মেয়রবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়।

এরপর বিক্ষোভকারীরা আর সমাবেশস্থলে ফিরতে পারেননি। এরপর সমাবেশস্থল মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। সন্ধ্যা ৬টায় মোনাজাতের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম তার সমাবেশ শেষ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যারা বাইরে বেগমপাড়া করেছে, তাদের ধরেন : দুদককে হাইকোর্ট

দেশের খবর : দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) উদ্দেশ করে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যদি আপনারা এভাবে ছুটেন তাহলে দেশের উন্নয়ন হবে কীভাবে। যারা দেশের বাইরে বেগমপাড়া করছেন, যারা মালয়েশিয়া, আমেরিকায় টাকা পাঠাচ্ছেন; এগুলো বড় বড় মানি লন্ডারিং। তাদের ধরেন।’

অর্থপাচার মামলায় দিনাজপুরের এক ব্যবসায়ীর আগাম জামিনের শুনানিকালে রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান।

পরে ৪০ কোটি টাকা অর্থপাচার মামলায় দিনাজপুরের ব্যবসায়ী ও জেলা যুবলীগ নেতা খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টনকে আট সপ্তাহের জামিন দেন আদালত। তবে জামিনের শর্ত হিসেবে আসামিকে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে এবং তিনি দেশত্যাগ করতে পারবেন না বলে আদেশে বলা হয়।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর দিনাজপুরে জেলা যুবলীগের সাবেক নেতা খলিলুল্লাহ আজাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপ-পুলিশ পরিদর্শক রোকনুজ্জামান বাদী হয়ে দিনাজপুরের কোতোয়ালি থানায় এ মামলা করেন।

আসামি খলিলুল্লাহ আজাদ জেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক। তিনি খানসামা উপজেলার পূর্ববাসুলী গ্রামের হাবিবুল্লাহ আজাদের ছেলে। এ মামলায় খলিলুল্লাহ আজাদের মা রহিমা খানমসহ অজ্ঞাতনামা দু–তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

খলিলুল্লার বিরুদ্ধে গত বছরের ২০ অক্টোবর খানসামা থানায় প্রতারণা, টেন্ডারবাজি, বালুমহাল ও জলমহাল দখলের অভিযোগে তিনটি মামলা হয়। পরে ১৯ নভেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রায় চার মাস জেলহাজতে থেকে জামিন পান তিনি। খানসামা থানার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই মামলার তদন্ত শুরু করেন সিআইডি। তদন্ত শেষে আসামি খলিলুল্লাহ আজাদের অবৈধ সম্পদের সন্ধান পায় সিআইডি। এর ভিত্তিতেই মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের (৪)২ ধারায় ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৮৫ টাকা অবৈধ আয়ের কথা উল্লেখ করে মামলা করা হয়। এ টাকার বেশির ভাগ এখন তাঁর হিসাব নম্বরে পাওয়া যাচ্ছে না।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন–২০১২ ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা–২০১৯ অনুযায়ী অনুসন্ধান করে প্রাপ্ত তথ্য–উপাত্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের দেওয়া ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্তের নামে মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক দিনাজপুর শাখায় ১২টি হিসাব নম্বর, মেসার্স সর্দার হাসকিং মিলের নামে তিনটি, মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড রংপুর শাখায় মারিয়া ডেইরি অ্যান্ড ফেটানিং সেন্টারের নামে একটি, সর্দার হাসকিং মিলের নামে রুপালী ব্যাংক চেহেলগাজী শাখায় একটি, সোনালী ব্যাংকের দুটি শাখায় তিনটি হিসাব নম্বরে জমা ও উত্তোলন করেছেন। এসব ব্যাংক হিসাব নম্বরগুলোতে ২০১৩ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত ৩৪ কোটি ৮৩ লাখ ২৯ হাজার ৮১১ টাকা জমা হয়। অভিযুক্ত খলিলুল্লাহ আজাদের মায়ের নামে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক দিনাজপুর শাখায় ২০২০ সালে খোলা হিসাব নম্বরে ৫৯ লাখ সাত হাজার ৭৭৪ টাকা জমা হয়। বর্তমানে এ টাকার বেশির ভাগের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাংক হিসাবগুলোতে যে টাকা আছে, তা খুবই সামান্য।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সখ্য ও যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডারবাজি, সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ অর্থ আয় করেছেন খলিলুল্লাহ আজাদ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালীগঞ্জে পেট্রোল ঢেলে আগুন: ঝলসে গেল নানী-নাতী : প্রধান আসামী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিনিধি : নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তালাক দেওয়ায় প্রতিশোধ নিতে দরজায় ছিটকানি লাগিয়ে ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে শ্বাশুড়ি ও স্ত্রীর আগের পক্ষের সন্তানকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে দু’টোর দিকে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মুমুর্ষ অবস্থায় নানী ফতেমা খাতুন (৪৫) ও নাতি ইছাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র নাজমুলকে(৮) ঢাকা মেডিকেলের শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামী সবুজ গাতিদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলার কাজলা গ্রামের আব্দুস সাত্তার সরদার জানান, তার মেয়ে নাজমা খাতুনের সঙ্গে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে ভোমরা বন্দরের শ্রমিক আল আমিনের বিয়ে হয়। নাজমুল নামে তাদের আট বছরের এক ছেলে আছে। শ্বশুর বাড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নাজমা গত বছরের এপ্রিল মাসে তার ভাই শরিফুলের সঙ্গে ভারতের তামিলনাড়–তে কাজ করতে যায়। তিন মাস পর ফিরে এলে আল আমিন তাকে তালাক দিয়ে ছেলে নাজমুলসহ বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। গত বছরের আগষ্ট মাসে নাজমা তার ভাই শরিফুলের সঙ্গে আবারো ভারতের তামিলনাড়–তে কাজ করতে যায়। মোবাইল ফোনে খালাত ভাই দেবহাটার পারুলিয়ার নাজিরের ঘেরের বর্তমানে কালীগঞ্জের ভাঙানমারির ৮০ বিঘার বাসিন্দা সবুজ গাতিদার তাকে বিয়ের জন্য বিরক্ত করতো। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে নাজমা বাড়ি ফিরে আসে।
আব্দুস সাত্তার আরো জানান, চলতি বছরের মে মাসের শেষের দিকে সবুজের বাবা নবাব আলী গাতিদার ও মা মর্জিনা খাতুন তাদের বাড়িতে এসে নতুন করে ২০ হাজার টাকা কাবিনে বিয়ের ব্যবস্থা করে নাজমাকে তাদের পুত্রবধু করে নিয়ে যায়। এর এক সপ্তাহ পর নাজমাকে নিয়ে রাজবাড়িতে একটি কারখানায় কাজে লাগিয়ে দেয় সবুজ। সেখানে নাজমাকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বাড়ি আসে নাজমা।
আব্দুস সাত্তার সরদার আরো বলেন, তিনি কাজলা গ্রামের আরিফ আহম্মেদ এর মাছের ঘেরে নৈশপ্রহরী হিসেবে কাজ করেন। প্রতিদিন ডিউটির ফাঁকে বাড়ি থেকে একবার করে ঘুরে যান তিনি। তালাক দেওয়ার পর দেবহাটা থানার অস্ত্র ও ডাকাতিসহ ছয়টি মামলার আসামী সবুজ আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এরই অংশ হিসেবে সবুজ ও তার পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে দ’ুটোর দিকে তাদের বাড়ির দরজায় ছিকল তুলে দিয়ে জানালা দিয়ে পেট্রোল ছিটিয়ে একটি লাঠির মাথায় কাপড় জড়িয়ে তাতে আগুণ লাগিয়ে ঘরের মধ্যে ছুঁড়ে দেয়। ঘরের মধ্যে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলার একপর্যায়ে তার স্ত্রী ফাতেমা ও নাতি নাজমুল ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে। বাইরের দিক থেকে দরজায় ছিকল লাগিয়ে দেওয়ায় তারা আর বের হতে পারেনি।
কাজলা গ্রামের আব্দুল খালেক সরদার, সোহেল সরদার, আবু মুছা, রুবেল বিশ্বাস, আরিজুল সরদার, সাইফুল সরদার জানান,আগুন জ্বলা অবস্থায় চিৎকার শুনে তারা এসে ফাতেমা ও নাজমুলকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও পরে খুলনা ৫০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদেরকে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটের ৮ ও ১১ নং শয্যায় ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটের কর্তর‌্যরত চিকিৎসক ডাঃ তৌফিক আহম্মেদ বলেন, নাজমুলের শরীরের ৯৫ শতাংশ ও ফাতেমার ৭৫ শতাংশ পুড়ে গেছে পেট্রোলের আগুণে। তাদেরকে বাঁচানো কঠিণ হলেও তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, এ ঘটনায় আব্দুস সাত্তার সরদার বাদি হয়ে সবুজ গাতিদার, তার ভাই সুমন গাতিদার, তাদের বাবা নবাব আলী গাতিদার, মা মর্জিনা খাতুনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা তিনজনের বিরুদ্ধে শনিবার থানায় একটি মামলা(৫নং) দায়ের করেছেন। মামলার প্রধান আসামী সবুজ গাতিদারকে সাতক্ষীরা জজ কোর্ট এলাকার আব্দুল মান্নানের হোটেল থেকে রবিবার দুপুর সোয়া একটার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ব্রাজিলে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ চেয়ে ১৬০ শহরে বিক্ষোভ

বিদেশের খবর : প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে অপসারণের দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন ব্রাজিলের হাজার হাজার মানুষ। শনিবার দেশটির ১৬০টির বেশি শহরে এই বিক্ষোভ হয়েছে।বিবিসি জানিয়েছে, ব্রাজিলের পরবর্তী নির্বাচনের ঠিক এক বছর আগে বিভিন্ন বিরোধী দল এবং ট্রেড ইউনিয়ন এই বিক্ষোভ পরিচালনা করেছে।

সাম্প্রতিক পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো জনসমর্থনে পিছিয়ে পড়েছেন। অ্যাটলাস ইন্সটিটিউটের ওই জরিপে দেখানো হয়েছে, দেশ পরিচালনায় জাইর বলসোনারোর সরকারের সক্ষমতা খারাপ কিংবা খুব খারাপ মনে করেন ৬১ শতাংশ নাগরিক।

করোনা মহামারিতে দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ছয় লাখের বেশি মানুষ। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, করোনা ঠেকাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন বলসোনারো। প্রেসিডেন্টের কারণে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, দুর্নীতির মতো পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। আমরা গণতন্ত্র রক্ষার জন্য মাঠে নেমেছি।

করোনাভাইরাসসহ বিভিন্ন ইস্যুতে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচিত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো।

২০১৯ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্কিত হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি করা বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে ব্রাজিলে তার গ্রহণযোগ্যতা ২৫ শতাংশের কম। বিশেষ করে আমাজন বনে আগুন লাগা নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শেখ সেলিমকে এক হাত নিলেন কাদের মির্জা

রাজনীতির খবর : বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা নোয়াখালীর এসপিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে নোয়াখালী ছেড়ে যাওয়ার জন্য বললেন। এসময় তিনি গোপালগঞ্জের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা পরিবারের কলঙ্ক। আপনি এখন অপরাজনীতির হোতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। গোপালগঞ্জে শতকরা ৯৫ জন আওয়ামী লীগ করে। তাই সেখান থেকে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হন। গোপালগঞ্জ বাদ দিয়ে নোয়াখালীর মতো জায়গা থেকে ভোট করলে আপনি শেখ সেলিম জামানতও পাবেননা।

শনিরার রাত আটটায় বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ফেসবুক লাইভে এসে এসব কথা বলেন। লাইভ চলে ৩১ মিনিট ৩২ সেকেন্ড। কাদের মির্জা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই।

লাইভে কাদের মির্জা বলেন, ‘ডিআইজি (চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি), এসপি (নোয়াখালীর পুলিশ সুপার), ওসি (কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) সাহেবরা আমার বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে নেমেছে। এসপির লেলিয়ে দেওয়া গুন্ডারা (ডিবি পুলিশ, পুলিশ) আজ (শনিবার) আমার ২০ জন নেতা-কর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছে। এসপি দুর্নীতিবাজ, পুলিশ লাইনে ছিল। কীভাবে নোয়াখালী এসেছেন? গতরাতে আমেরিকা প্রবাসী এখানকার হানিফ আমেরিকানের বাড়িতে দাওয়াত খেয়েছেন। হানিফ আমেরিকানের টাকার গন্ধ (সন্ধান) আপনিও পেয়ে গেছেন।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সেখানে (হানিফ আমেরিকানের বাড়িতে) আমাকে কোণঠাসা এবং এমনকি দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা হয়েছে। আমার চোখ নিয়ে বাই চালি করবেন না! আমাকে কিছুই করতে পারবেন না। অবৈধ মোটরসাইকেল, সিএনজি, অন্যান্য গাড়ি, স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায়কৃত চাঁদার অর্ধেক টাকা আপনি পান। এসব অবৈধ টাকার ভাগ ইউএনও, এসিল্যান্ড, ওসিরাও পায়।’

এসময় সাবেক এসপি আলমগীর হোসেনকে উদ্দেশ্য করে কাদের মির্জা বলেন, ‘এসপি আলমগীর দরজা টোকাই পাইছে। আপনি দরজাও খুঁজে পাবেন না। দুয়ার টোয়াই পাইতেন নয়।’

নোয়াখালীর এসপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘অবৈধ জায়গা উচ্ছেদ করতে দেননি এসপি সাহেব। আপনি ১০ লাখ টাকা, ওসি ৫ লাখ টাকা খেয়ে পাহারা দিচ্ছেন। কতক্ষণ পাহারা আর বাধা দিবেন। এসব ভয় আমাকে নয়, ওবায়দুল কাদেরকে দেখান। বোমার আওয়াজ হলেও ওবায়দুল কাদের পালিয়ে যান। এখনো সময় আছে, সোজা হয়ে যান। নোয়াখালী থেকে চলে যান। না হয় নোয়াখালীর মানুষের জনরোষে পড়ে পালিয়ে যাওয়ার পথ পাবেন না।’ এসপিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তিনি বলেন, ‘কাকে ভয় দেখাস? আমি এসবে ভয় পাইনা।’

কাদের মির্জা শেখ সেলিমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নেতৃত্বে আছেন নেতৃত্ব সুলভ কর্মকাণ্ড করবেন। না হলে জনগণ ঘৃণা ভরে আপনাদের প্রত্যাখ্যান করবে। কোন সত্য গোপন থাকেনা। কি করেন সব মানুষ জানে। আপনারা বঙ্গবন্ধু পরিবারের কলঙ্ক। আপনারা শেখ হাসিনার আত্মীয় হয়ে শেখ হাসিনাকে কলঙ্কিত করছেন।

কাদের মির্জা শেখ সেলিমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘উনি গোপালগঞ্জ থেকে ভোট করে। সেখানে ৯৫ ভাগ মানুষ আওয়ামী লীগ করে। সেখান থেকে নির্বাচিত হন। বিশেষ করে নোয়াখালী এসে ভোটে দাঁড়ায় জামানত পাওয়ারও কোন পরিস্থিতি আমি দেখছিনা। সারা বাংলাদেশে প্রচার আছে উনি ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আজকে ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়ে অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছে। অথচ তাঁদের হাত কত লম্বা, শেখ সেলিমদের। উনারা আজকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেই শেখ সেলিমের সঙ্গে নাকি দেখা করেছে নোয়াখালীর অপরাজনীতির হোতা। পঙ্গুত্বের অভিনয় করে শেখ সেলিমের কাছে গিয়েছেন। শেখ সেলিম নাকি ডিআইজি সাহেবকে বলে দিয়েছে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। কিন্তু আপনি কোন কিছু যাচাই না করে কেন আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন। এ ছেলেকে সেখানে আশ্রয় দিয়েছেন, তাঁর জন্য ওকালতি করছেন? ‘

কাদের মির্জা বলেন, ‘আপনাদের ওবায়দুল কাদের ভয় পেতে পারেন, কারণ তিনি তো মানুষের হৃদয়ে নাই। গ্যাস দিবে বলে দেননি। দক্ষিণ এলাকার মানুষ বাড়িঘর হারিয়ে রাস্তার ওপর বসবাস করছে। গত দুই বছরে কোম্পানীগঞ্জে তিনি কোনো উন্নয়ন করেননি। কবিরহাটে করেননি। ওনার লোকজন সারা দিন ব্যস্ত নারী নিয়ে। চাকরি দিবে বলে নারীদের এনে তাদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে আর খবর নাই। ওনার লোকজন টাকা ও নারী নিয়ে ব্যস্ত। ওবায়দুল কাদের সাহেব ওনার স্ত্রীর কথায় ঘুমিয়ে আছেন।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রমোদতরীর মাদকের পার্টি থেকে শাহরুখপুত্র আটক

বিনোদন সংবাদ : মুম্বাইয়ের উপকূলে একটি প্রমোদতরীতে চলমান মাদক পার্টি থেকে গতকাল রাতে বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানকে আটক করেছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবর, এনসিবির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ খবর গণমাধ্যমটিকে নিশ্চিত করেছে। তিনি জানিয়েছেন, ওই পার্টি থেকে শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ানকে আটক করেছে এনসিবি।

পত্রপত্রিকার খবর, শনিবার রাতে মুম্বাই থেকে গোয়াগামী একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করেন এনসিবির কর্মকর্তারা। অভিযোগ, সেখানে মাদক পার্টি চলছিল। আটক হওয়া সেই ১০ জনের মধ্যে রয়েছেন শাহরুখপুত্র।

শুধু বলিউড নয়, ফ্যাশন জগতের অনেকে উপস্থিত ছিলেন সেখানে। সেই প্রমোদতরীর পার্টিতে নিষিদ্ধ মাদক ব্যবহারের খবর পেয়েই সেখানে হানা দেয় এনসিবি। জ্যেষ্ঠ ওই কর্মকর্তা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ‘তদন্ত চলছে (আরিয়ানের বিষয়ে)।’

বার্তা সংস্থা এএনআই টুইটারে একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানিয়েছে, ওই পার্টি থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার রাতে যাত্রীর ছদ্মবেশে কর্ডেলিয়া নামে বিলাসবহুল ওই প্রমোদতরীতে চেপে বসেছিলেন এনসিবির গোয়েন্দারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জমি রেজিস্ট্রেশনে টিআইএন যাচাই করবেন সাবরেজিস্ট্রার

দেশের খবর : জমি রেজিস্ট্রেশনে টিআইএন (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক। আইনি এ বাধ্যবাধকতার কারণে অনেকে জমি রেজিস্ট্রেশনের সময় জাল টিআইএন ব্যবহার করছে। সাবরেজিস্ট্রার অফিস টিআইএনের সঠিকতা যাচাই না করায় অসাধু উপায় অবলম্বনকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। এজন্য জমি রেজিস্ট্রেশনকালে এ ধরনের জালিয়াতি প্রতিরোধে টিআইএন যাচাই করতে নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চিঠিতে টিআইএন যাচাই ছাড়া জমি রেজিস্ট্রেশন না করতে অনুরোধ জানানো হয়।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়, আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মধ্যে জমি কেনাবেচার সময় দলিলমূল্য এক লাখ টাকার বেশি হলে এবং বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট রেজিস্ট্রিকালে ই-টিআইএন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আইনগত এ বিষয়টি মেনে চলা হলেও প্রায় দেখা যায়, জমির ক্রেতা ও বিক্রেতা ভুয়া ই-টিআইএন দাখিল করেন। এর ফলে করদাতা চিহ্নিতকরণ এবং রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। জমি রেজিস্ট্রেশনকালে দাখিলকৃত ই-টিআইএনের সঠিকতা যাচাই করা হলে জাতীয় রাজস্ব আদায়ে আরও অগ্রগতি হবে।

টিআইএনের সঠিকতা যাচাই করার জন্য চিঠিতে বলা হয়, কর বিভাগ থেকে ইস্যুকৃত প্রতিটি টিআইএন সনদে কম্পিউটার জেনারেটেড কিউআর কোড থাকে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করলে টিআইএনধারীর যাবতীয় তথ্য সহজে বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে এনবিআরের সদস্য (কর জরিপ ও পরিদর্শন) প্রদ্যুৎ কুমার সরকার শনিবার বলেন, জাল টিআইএনের ব্যবহার রোধে এনবিআর ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সই করছে। বিশেষ করে যেসব সেবা নিতে জনগণকে টিআইএন নম্বর জমা দিতে হয়, সরকারের এমন প্রতিটি সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সই সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, জমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি এখনো ম্যানুয়ালি সম্পন্ন হয়। এ কারণে জমি রেজিস্ট্রেশনের সময় সংশ্লিষ্ট সাবরেজিস্ট্রার টিআইএন সনদের কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে নিতে পারেন। এ বিষয়ে নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, জমি-ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি, গাড়ির নিবন্ধন, ব্যাংকের এফডিআর, বিমা পলিসি কেনা, ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণসহ ৩৮টি কাজে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু এসব কাজে অনেকে নিয়মমাফিক টিআইএন না নিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়। জাল টিআইএন ব্যবহার করে নানা সেবাও নিয়ে থাকেন। জমি রেজিস্ট্রেশনে হরহামেশা জাল টিআইএন ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে এতে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।

আয়কর অধ্যাদেশে জাল টিআইএন ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীর ওপর আর্থিক জরিমানাসহ কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ১২৪এ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের টিআইএন অথবা জাল টিআইএন ব্যবহার করেন বা আয়কর আইন অনুযায়ী যেসব ক্ষেত্রে টিআইএন ব্যবহার বাধ্যতামূলক, সেসব ক্ষেত্রে জাল টিআইএন ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে। অন্যদিকে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সেবা দেওয়ার সময় টিআইএন ভেরিফিকেশন না করলেও ওই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশের ১২৪এএ ধারা অনুযায়ী সেবা প্রদানকালে টিআইএন সনদ যাচাই না করলে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে আয়কর বিভাগ। ১৬৫এ ধারা অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে যদি কোনো ব্যক্তি জাল টিআইএন ব্যবহার করেন বা অন্যের টিআইএন ব্যবহার করেন, সেক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

প্রসঙ্গত, জাল টিআইএন ব্যবহার করে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া বন্ধ করতে গত মার্চে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিয়ে করপোরেশনের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করে এনবিআর। এছাড়া গত ২০ সেপ্টেম্বর জাল টিআইএনে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বন্ধে বিআরটিএর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সই করেছে এনবিআর। এ চুক্তির ফলে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়ার আগে বিআরটিএ এনবিআরের ই-টিআইএন সার্ভার থেকে টিআইএনের সঠিকতা যাচাই করতে পারবে। পক্ষান্তরে এনবিআর গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) নম্বর দিয়ে বিআরটিএর সিস্টেমে সার্চ দিলে বিস্তারিত তথ্য পাবে।

এদিকে সূত্র জানায়, শুধু টিআইএন নম্বর জমা দিয়ে পার আর পাওয়া যাবে না। রিটার্ন জমার প্রাপ্তিস্বীকার পত্র দাখিল করা বাধ্যতামূলক হবে। এজন্য সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে তাদের এ সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান সংশোধন করতে শিগগির তাগিদ দেবে এনবিআর।

এনবিআরের তথ্য মতে, বর্তমানে দেশের টিআইএনধারী রয়েছে ৬১ লাখের বেশি। অথচ ২০২১-২২ করবর্ষে রিটার্ন জমা দিয়েছে ২৪ লাখ করদাতা। অর্থাৎ টিআইএনধারীর ৬১ শতাংশ রিটার্ন জমা দেয়নি। অথচ মোটা দাগে করযোগ্য আয় রয়েছে-এমন সব টিআইএনধারীর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় পাউবো’র বেড়িবাঁধ সংষ্কারের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট!

নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার উপকুলীয় শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংষ্কারে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সাব কনট্র্যাকট নিয়ে শ্যামনগর পওর উপ-বিভাগে কর্মরত একজন অফিস সহায়ক ও বিভিন্ন লেবার সর্দ্দাররা এই বাঁধ সংষ্কারের কাজ করছেন। যেকারণে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের টুঙ্গীপাড়া-পশ্চিম দূর্গাবাটি এলাকায় বেড়িবাঁধ সংষ্কারে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। ফলে উপকুলীয় দুর্যোগ কবলিত এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষার জন্য সরকারের বরাদ্দ দেয়া কোটি কোটি টাকা পানিতে যেতে বসেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপকুলীয় এলাকার দুর্যোগের ঝুকি ব্যবস্থাপনা বর্ধিতকরণ প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ এর আওতাধীন ৫ নং পোল্ডারে শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে ৪ দশমিক ৯০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ জিও ব্যাগ দিয়ে সংষ্কারের জন্য ৪ কোটি ১২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কুষ্টিয়ার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি এ্যাসোসিয়েট মোট ৩ কোটি ৪৯ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকার চুক্তি মূল্যে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ভামিয়া স্লুইচ গেট হতে পশ্চিম দূর্গাবাটি পর্যন্ত কিলোমিটার ১০৫.৭০০ হতে ১১০.৫৭০ পর্যন্ত তিনটি চেইনেজে ভাগ করে উক্ত বাঁধ সংষ্কার কাজ দরপত্রের মাধ্যমে গ্রহণ করেন। কাজের মধ্যে মাটি দিয়ে বেড়িবাঁধ সংষ্কার ও জিও ব্যাগ প্লেসিং ও ডাম্পিং রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি এ্যাসোসিয়েট নিজেরা কাজ না করে কয়েকজন লেবার সর্দ্দার ও শ্যামনগর পওর উপ-বিভাগে কর্মরত অফিস সহায়ক মোঃ খোরশেদ আলমকে সাব কনট্র্যাকট দিয়েছেন। খোরশেদ আলম আবার লেবার সর্দ্দারকে দিয়ে এই কাজ করাচ্ছেন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১ এর ৫ পোল্ডারের চেইনেজ ১০৭.৭৮০ কিলোমিটার হতে ১১০.১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত মোট ২.৩২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৯৩০ মিটার বাঁধের সংষ্কার কাজের সাব কনট্র্যাকট নিয়েছেন শ্যামনগর পওর উপ- বিভাগে কর্মরত অফিস সহায়ক মোঃ খোরশেদ আলম। তার এই অংশের সংষ্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। দরপত্র অনুযায়ি বেড়িবাঁধের নদীর পার্শ্বে স্লোভ ২৪ ফুট, ভূমির পাশে স্লোভ ১৪ ফুট, বাধের উপরে (মাথা) প্রশস্ত ১৪ ফুট এবং উচ্চতা পুরাতন বাঁধ থেকে ৩ ফুট হওয়ার কথা। কিন্তু দরপত্র অনুযায়ি খোরশেদ আলম কাজ করছেন না। অধিকাংশ স্থানে বাঁেধর উচ্চতা এক থেকে দেড় ফুটের বেশি হচ্ছে না। বাঁেধর মাথা ও দুই পাশের স্লোভও অনেক কম হচ্ছে। এছাড়া স্কেবেটর মেশিন দিয়ে বাঁধের স্লোভের কাছ থেকে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। যে কারনে তার সংষ্কার করা বাঁধ ইতিমধ্যে অনেক স্থানে ধ্বসে পড়েছে। এছাড়া প্লেসিং ও ডাম্পিংয়ের জন্য প্রস্তুত করা জিও ব্যাগে বালুর পরিমান কম দেয়া হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ি ডাম্পিংয়ের ব্যাগে ২২০ কেজি ও প্লেসিংয়ের ব্যাগে ১৭৫ থেকে ১৮০ কেজি বালু ভারার কথা থাকলে অধিকাংশ জিও ব্যাগে বালুর পরিমান কম দেয়া হচ্ছে। ফলে নতুন সংষ্কার করা বেড়িবাঁধ থেকে যাচ্ছে ঝুকির মধ্যে। পাউবো অফিসের স্টাফ হওয়ায় খোরশেদ আলম অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে তিনি বাঁধ সংষ্কারের কাজে এই অনিয়ম করে চলেছেন।

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পূর্ব দূর্গাবাটি গ্রামের বাপি মন্ডল বলেন, প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে মোকাবেলা করে টিকে আছি আমরা। ঘূর্নিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস হলেই দূর্বল বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। সরকার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণে বাঁধ সঠিক ভাবে মেরামত করা হয়না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সাব কনট্র্যাকট নিয়ে শ্যামনগর পওর উপ- বিভাগে কর্মরত অফিস সহায়ক মোঃ খোরশেদ আলম এই এলাকার প্রায় সব বেড়িবাঁধ সংষ্কার কাজ করেন। বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের টুঙ্গীপাড়া থেকে পশ্চিম দূর্গাবাটি পর্যন্ত বাঁধের কাজ তিনিই করছেন। অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে তিনি যেনতেন ভাবে বাঁধ সংষ্কারের কাজ করে সরকারি অর্থ লোপাট করে কোটিপতি বনে গেছেন। যে কারনে প্রতিবছর বাঁধ ভেঙ্গে যায়। রক্ষক যদি ভক্ষক হয় তাহলে কোন উন্নয়ন কাজ সঠিকভাবে হওয়ার কথা নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পাউবো’র বেড়ি বাঁধ সংষ্কারে অনিয়মের একই ধরনের অভিযোগ করেন ওই এলাকার আহছানুর রহমান, লুৎফর রহমান মোল্যা, বিকাশ মন্ডল, খালেক সরদার ও কালিপদ মন্ডল প্রমুখ।
তবে শ্যামনগর পওর উপ-বিভাগে কর্মরত অফিস সহায়ক মোঃ খোরশেদ আলম সাব কনট্র্যাকট নিয়ে বেড়িবাঁধ সংষ্কারের কাজ করার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল বলেন, আমার ইউনিয়নে অধিকাংশ বেড়িবাঁধ জরাজীর্ণ। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড যেনতেন ভাবে এসব বাঁধ সংষ্কারের কাজ করে থাকে বলে প্রায় প্রতিবছর বাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হয়। আমার ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ সংষ্কার কাজে কিছু স্থানে অনিয়ম হচ্ছে বলে আমি জানতে পেরেছি। কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই। বেড়িবাঁধ সংষ্কার কাজের সাথে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় এঅবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল খায়ের বলেন, সাব কনট্র্যাকট দিয়ে বেড়িবাঁধের কাজ করানো যাবে না। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি এ্যাসোসিয়েট কাজ এখনো বুঝে দেয়নি। কাজ চলমান রয়েছে। বর্ষার কারনে কাজে একটু সমস্যা হচ্ছে। আমরা সরেজমিনে কাজ দেখে নিব।
তিনি আরো বলেন, শ্যামনগর পওর উপ-বিভাগে কর্মরত অফিস সহায়ক মোঃ খোরশেদ আলম ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানোর কাছ থেকে সাব কনট্র্যাকট নিয়ে বেড়িবাঁধের কাজ করার বিষয়টি আমরাও জানতে পেরেছি। যে কারনে ইতিমধ্যে তাকে শ্যামনগর থেকে বদলি করে পাউবো’র সাতক্ষীরা বিভাগীয় দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest