সর্বশেষ সংবাদ-
এডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসাতক্ষীরায় যৌতুকের বলি মা-মেয়ে : হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ডসাতক্ষীরায় নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আওতায় আনার দাবিসাতক্ষীরায় হেভী ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের মতবিনিময় সভাস্বাস্থ্যকর্মকর্তা  ও আব্বাসী কর্তৃক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য : নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানবন্ধনপ্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক রহমাতুল্লাহর মৃত্যুসাতক্ষীরায় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সভা: সভাপতি মুনির- সম্পাদক সামাদসাতক্ষীরায় ঘোড়ার মাংস গরু বলে বিক্রির অভিযোগে এক ব্যক্তি আটকসরকার গণতন্ত্রের পরিবর্তে জবরদখল ও দলীয়করণ শুরু করেছে: এমপি ইজ্জত উল্লাহ

সাতক্ষীরায় বিগত কয়েক বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড: ক্ষতির পরিমাণ শতাধিক কোটি

নিজস্ব প্রতিনিধি  সাতক্ষীরায় অতিবৃষ্টির কারণে ভেসে গেছে রোপা আমন,বীজতলা,পুকুর ও মাছের ঘের। পানিতে থৈ থৈ করছে সাত উপজেলার ৭৮টি ইউনিয়ন আর দুটি পৌরসভার নি¤œাঞ্চল। বৃহস্পতিবার দিনভরসহ তিনদিনের বৃষ্টিতে ভেসে গেছে ২০ হাজারের মত ঘের। এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন চিংড়ি চাষিরা। ইয়াসের ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ১৬ কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার পরে অতিবৃষ্টিতে শুধুমাত্র মাছের ক্ষতি হয়েছে ৫৩ কোটি টাকার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরা পৌরসভার অধিকাংশ নিচু এলাকা এখনও পানির নিচে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছেন সাতক্ষীরাবাসি।

সাতক্ষীরা পৌরসভার ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা ময়না বলেন,সামান্য বৃষ্টিতে আমাদের এলাকা তলিয়ে যায়। আর বৃহস্পতিবারের যে ব্যাপক বর্ষা,তাতে চারিদিকে পানি থৈ থৈ করছে। চারিদিকে আটকানো। পানি বের হওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের এই ডুবন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধারের কোন ব্যবস্থা নেই।

গত দুই দিনের টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরা শহরের কমপক্ষে ২০টি বিল ডুবে গেছে। এসব বিলের মাছের ঘের ভেসে পানিতে একার হয়ে গেছে। বেতনা নদী তীরবর্তী এই বিলগুলির পানি নদীতে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। এই পানি পৌরসভার ভিতরে ঢুকছে। অতিবৃষ্টিতে গ্রামাঞ্চলের সব পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। বেরিয়ে গেছে শত কোটি টাকার মাছ। সবজি ক্ষেতগুলি ভাসছে পানিতে। মানুষের যাতায়াতও ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে, বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগর, কালিগঞ্জ ও আশাশুনিসহ জেলার সাতটি উপজেলা। সেখানে প্রধান রাস্তার ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এসব এলাকার মাছের ঘের তলিয়ে গেছে।
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা, বড়দল, শ্রীউলা, আশাশুনি সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে থৈ থৈ করছে।
তালা উপজেলার ইসলামকাটি, মাগুরা, কুমিরা, খেশরা, তেঁতুলিয়া, ধানদিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে পুকুর ও মাছের ঘের।
কালীগঞ্জের রতনপুর, কালিকাপুর, বিষ্ণুপুর, মথুরেশপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মাছের ঘের, পুকুর ও সবজি ক্ষেত ডুবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দেবহাটার কোমরপুর, পারুলিয়া, সখীপুর ও নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় পানিতে তলিয়ে গেছে পুকুর ও ঘের। অনেক ঘরের মধ্যে পানি ঢুকেছে।
কলারোয়ার জয়নগর, ধানদিয়া, যুগিখালি, সোনাবাড়িয়া, শ্রীপতিপুর, ব্রজবকসসহ বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। হাঁস মুরগি ও গবাদি পশু নিয়ে মানুষ চরম বিপদে পড়েছে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১শ’৪৩ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে,গত ৫ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে এটাই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরেরর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নূরুল ইসলাম, ভারি বর্ষণে জেলার নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে ১ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমির রোপা আমন বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। ৮শ’ ৬০ হেক্টর রোপা আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ৫০০ হেক্টর জমির সবজির ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি আর না হলে ক্ষতির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমবে বলে জানান কৃষিবিদ নূরুল ইসলাম।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় আমপানে সাতক্ষীরায় মাছের ক্ষতি হয় ১শ’৭৬ কোটি টাকা। ইয়াসের ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে মাছের ক্ষতি হয় ১৬ কোটি টাকা। সবশেষ বৃহস্পতিবার ব্যাপক বর্ষণে ৫৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এবিষয়ে আশাশুনির শ্রীউলা এলাকার ঘের ব্যবসায়ী আলাউল ইসলাম জানান,বছরে তিন থেকে চারবার আমাদের মাছের ঘের ভেসে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা নেই। ৫০ বিঘার একটি ঘেরে আমপানে আমার ক্ষতি হয়েছিল ২০ লাখ টাকা। ইয়াসে ক্ষতি ছিল ৫ লাখ টাকা। আর বৃহস্পতিবার অতি বর্ষণে আমার ঘের ভেসে ক্ষতির পরিমাণ দাড়িয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। ঘের ব্যবসা আগামীতে বাদ দেবেন বলে জানিয়েছেন আলাউল ইসলাম।
শ্যামনগরের পদ্মপুকুর এলাকার ঘের ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান জানান,তার ১শ’ বিঘার একটি ঘের রয়েছে। গতকালকে সেই ঘের ভেসে গেছে। ক্ষতি হয়েছে কমপক্ষে ১৫ লাখ টাকা। ব্যাংক সুদতো মাপ হয়না। বছরের কয়েকবার এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান,জেলার আশাশুনি,শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলার ১৯ হাজার ৪শ’ ৫৯ টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ঘেরের আয়তন ১২ হাজার ৬৫ হেক্টর। মাছের ক্ষতির পরিমাণ ৫৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
এদিকে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ ন ম আবু জর গিফারী বলেন, আমার উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষই পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ২০ টন চাল দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, ঘর-বাড়িসহ অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের মাধ্যমে প্রাপ্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আজকের মধ্যে পেয়ে যাব। তখন কোথায় কেমন বরাদ্দ করতে হবে,নিরুপণ করব।
তিনি আরও জানান, চলমান অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলা ব্যাপী ঘেরের সকল অবৈধ নেট-পাটা স্থাপনকারীকে স্ব-উদ্যোগে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে নেট-পাটা অপসারণ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় নেট-পাটা স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
হেফাজতে থাকা বাংলাদেশি নারীকে ক্যাম্পে ধর্ষণ, বিএসএফ সদস্য গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক : ভারত থেকে স্থলপথে দেশের ফেরার সময় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) হেফাজতে থাকা এক বাংলাদেশিকে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে এই অভিযোগে বিএসএফ- এর এক এসআই-কে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ওই কর্মকর্তার নাম রামেশ্বর কয়াল। তাকে দুই দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় আদালত।

জানা গেছে, ওই নারী বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের বাসিন্দা। গত তিন বছর ধরে গুজরাটের একটি শাড়ির শোরুমে কাজ করছেন তিনি। বুধবার বৈধ পাসপোর্ট বা কোনওরকম কাগজপত্র ছাড়াই দালাল মারফত ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরছিলেন। এ জন্য দালালকে তিনি ও তার বান্ধবী মিলে মোট ৩০ হাজার রুপি দেন। কিন্তু গৈহাটা এলাকার ঝাউডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফ-এর ১৫৮ ব্যাটালিয়ন সদস্যদের হাতে আটক হন তারা। এরপর রাতে ক্যাম্পে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।

ওই নারীর অভিযোগ, “আমি এবং আমার এক বান্ধবী ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে বিএসএফ-এর হাতে ধরা পড়ি। কিন্তু দালালকে ধরা যায়নি। এরপর ক্যাম্পে আমাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রামেশ্বর নামে এক বিএসএফ কর্মকর্তা একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে।”

তিনি আরও বলেন, তাদের কোনও বৈধ পাসপোর্ট ছিল না। তাই চোরাই পথে তারা বাংলাদেশে ফিরছিলেন। তিনি ও তার বান্ধবী মিলে দালালকে ৩০ হাজার রুপি দেন। তার অভিযোগ, বুধবার রাত এগারোটা নাগাদ তাদের বিএসএফ আটক করে এবং বারোটার সময় ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর সেখানেই ঘটে ধর্ষণের ঘটনা।
এদিকে, ওই নারী অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বিএসএফ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় গাইঘাটা থানার পুলিশ। এরপর তাকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হলে দুই দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই বিএসএফ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, “আমি কোন অন্যায় কাজ করিনি। ওদেরকে কেবলমাত্র আটক করে নিয়ে এসেছি। ওই নারী অভিযোগ করতেই পারেন, কিন্তু আমি কিছু করিনি। তারা কেন অভিযোগ করেছে তা তারাই বলতে পারবেন।”

এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই ওই নারীর বয়ান রেকর্ড ও তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বনগাঁ আদালতের মুখ্য সরকারি আইনজীবী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
টিকা নিলেই মিলবে ১০০ ডলার, বাইডেনের নির্দেশ

বিদেশের খবর : করোনাভাইরাস মহামারিতে সারাবিশ্ব কার্যত বিপর্যস্ত। আর তাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই চলছে জোরগতিতে টিকাদান কর্মসূচি। তবে অনেকেই এর কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে সন্দেহের কারণে টিকা নিতে ইচ্ছুক নন।

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের ১০০ মার্কিন ডলার করে প্রদান করতে দেশের অঙ্গরাজ্যগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো । বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় সাড়ে ৮ হাজার টাকা।

ভারতে প্রথম শনাক্ত করোনার ডেল্টা ধরনের কারণে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে দেশটিতে কমছে টিকাদানের গতিও। এই পরিস্থিতিতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করতে এবং টিকা নিতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে এমন নির্দেশ দিলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সেবাখাত ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনা টিকা নেওয়ার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন জো বাইডেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস থেকে এ সম্পর্কিত একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। দেশটির সরকারি সেবাখাত ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনে প্রায় ২০ লাখ মানুষ যুক্ত আছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এ সম্পর্কে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও সরকারি বিভিন্ন সেবাখাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনা টিকার ডোজ সম্পূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তিনি আরও বলেছেন, যারা টিকার ডোজ নিতে ইচ্ছুক নন, তারা যেন নিয়মিত করোনা টেস্ট করানো, সামাজিক দূরত্ববিধি, নিয়মিত মাস্ক পরা ও ভ্রমণ বিষয়ক সীমাবদ্ধতা মেনে চলেন।’

দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও কমসংখ্যক মানুষ এখন পর্যন্ত পুরোপুরি টিকার আওতায় এসেছেন।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, করোনার অতিসংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার কারণে নতুন এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, এতে করে ‘টিকা না নেওয়াদের মহামারি’ খারাপ পরিস্থিতিতে চলে গেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘যেসব মানুষের মারা যাওয়ার কথা না তারাও মৃত্যুবরণ করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।’

করোনা টিকা নেওয়ার বিনিময়ে মানুষকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, এখন নতুন করে টিকা নেওয়া মানুষকে টিকা দেওয়া হলে যেসব আমেরিকান ইতোমধ্যেই টিকা নিয়ে নিয়েছেন তাদের প্রতি অন্যায় করা হবে। কিন্তু (টাকা দিয়ে হলেও) আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে টিকার আওতায় আনতে সক্ষম হলে আমরাই লাভবান হবো।’

নতুন করে টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের এই টাকা কোথা থেকে দেওয়া হবে সেই নির্দেশনাও দিয়েছেন জো বাইডেন। তার মতে, ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রণোদনা ফান্ড থেকে অঙ্গরাজ্যগুলো এই টাকা খরচ করতে পারবে। ‘ম্যাসিভ ইকোনমিক এইড প্ল্যান ২২০-২১১’ নামের বিলটি গত মার্চ মাসে কংগ্রেসে পাস হয়।

চলতি বছর জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর গণটিকাদান কর্মসূচির ওপর জোর দেন এবং ঘোষণা করেন, ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ৭০ শতাংশকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সে লক্ষ্য অবশ্য পূরণ হয়নি, তবে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশকে টিকার আওতায় আনা গেছে।

বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রাণঘাতী এই রোগ আক্রান্ত ও মৃতের হিসেবে বিশ্বের দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে।

এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮ হাজার ৫২ জন। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৩৯ জন করোনায় আক্রান্ত এবং ৬ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৮ জন মারা গেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আরও ৩০ লাখ সিনোফার্মের টিকা চীন থেকে এলো

দেশের খবর : চীন থেকে সিনোফার্মের ৩০ লাখ কোভিড-১৯ টিকা দেশে এনেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বেইজিং ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ১০ লাখ ডোজ টিকা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে বিমানের একটি ফ্লাইট (বিজি-৫০৬৫) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এরপর শুক্রবার রাত ১টা ও ৩টায় বিমানের আরও দুটি ফ্লাইটে (বিজি-৫০৬৭ এবং বিজি-৫০৬৯) চীন থেকে বাকি ২০ লাখ ডোজ টিকা ঢাকায় পৌঁছে। অবতরণের পর বিমানের পক্ষ থেকে সব ধরনের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সুবিধা দেওয়া হয়।

মোট ৩০ লাখ ডোজ কোভিড টিকা দেশে আনতে বৃহস্পতিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অত্যাধুনিক তিনটি ড্রিমলাইনার (একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ও দুইটি বোয়িং ৭৮৭-৮) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চীনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব টিকা দেশে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক এভিয়েশন নীতিমালা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুরক্ষানীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করে করোনা মহামারিকালীন সময়ে সাশ্রয়ী খরচে টিকা, ভেন্টিলেটর ও অন্যান্য সুরক্ষাসামগ্রী পরিবহন করছে বিমান।

সিনোফার্মের মোট ৪০ লাখ ডোজ কোভিড টিকা গত ২, ৩, ১৭ ও ১৮ জুলাই মোট চারটি ফ্লাইটের মাধ্যমে দেশে এনেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

প্রসঙ্গত, গত ১২ মে চীন সরকারের উপহার হিসেবে সিনোফার্মের ৫ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশে আসে। সেটাই ছিল চীন থেকে আসা টিকার প্রথম চালান। উপহারের টিকার দ্বিতীয় চালানে ৬ লাখ ডোজ টিকা আসে গত ১৩ জুন। এছাড়া ৩ জুলাই এবং ৪ জুলাই দুটি ফ্লাইটে ১০ লাখ করে ২০ লাখ ডোজ, ১৭ জুলাই ১০ লাখ ডোজ এবং ১৮ জুলাই ১০ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশে আসে।

বাংলাদেশ ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার পর সিনোফার্মের টিকা কিনেছে। এছাড়া কোভ্যাক্স থেকে মডার্না, ফাইজারের টিকা এসেছে দেশে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাসায় মদ-হরিণের চামড়া-বৈদেশিক মুদ্রা, যা বললেন হেলেনার মেয়ে

দেশের খবর : হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া মদ তার নয় বরং তার ছেলের-এমন দাবি করেছেন বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ উপকমিটির সদস্যের কন্যা জেসি আলম।

তার দাবি অহেতুক তার মাকে হয়রানি করা হচ্ছে। তার বাসা থেকে জব্দ হওয়া হরিণের চামড়াটি উপহার হিসেবে পাওয়া। বিদেশি মুদ্রাগুলোও অবৈধ নয়।

বৃহস্পতিবার রাতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের গুলশানের বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব। চার ঘণ্টা অভিযান শেষে তাকে আটক করা হয়েছে। তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, হরিণের চামড়া, বেশ কিছু ছুরি, বিদেশি মুদ্রা, ক্যাসিনো খেলার সরঞ্জাম ইত্যাদি জব্দ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিদেশি মদ প্রসঙ্গে হেলেনা জাহাঙ্গীরের মেয়ে জেসি আলম বলেন, ‘উই আর অ্যালকোহল-ফ্রি ফ্যামেলি। করোনাকালীন আমরা কোনো অ্যালকোহল খাইনি। এই মদগুলোর কালেকশন আমার ভাইয়ার। তার এগুলোর লাইসেন্সও আছে। সেই লাইসেন্সও নিয়ে গেছে তারা।’

হরিণের চামড়া প্রসঙ্গে জেসি আলম বলেন, ‘এটা মায়ের লীগের বন্ধুরা উপহার দিয়েছে। আমার ভাইয়ার বিয়ে ছিল, সেখানে এই উপহার দিয়েছে তারা।’

জব্দকৃত বিদেশি মুদ্রা সম্পর্কে জেসি আলমের কথা, ‘আমরা ফ্রিকোয়েন্টলি দেশের বাইরে যাই। একটা দেশে না, আমরা অনেকগুলো দেশে যাই। আমাদের সবার পাসপোর্টও আছে। তো ফেরত আসার পার টাকা বেঁচে গেলে সেগুলো কী আমরা ফেলে দেবো নাকি?’

তিনি আরও বলেন, ‘একটা ক্যাসিনো করতে অনেক সরঞ্জাম লাগে যা আমাদের এখানে ছিল না। আমাদের এখানে তাস ছিল যা আমরা ফ্রেন্ডদের সাথে খেলতাম।’

জেসি জানান, কয়েক মাস আগে আমার মায়ের অপারেশন হয়েছে। ঘুমানোর জন্য তাকে নিয়মিত ঔষধ নিতে হয়। এমন অবস্থায় যদি এসব কাহিনী করা হয় তাহলে একজন মানুষের মন-মানসিকতা ঠিক থাকবে না।

তিনি আরও জানান, র‍্যাবের অভিযান পরিচালনার জন্য কোনো ওয়ারেন্ট ছিল না। তারা আমাদের সাথে সহযোগিতা করতে পারতো। তা না করে তারা উল্টো আমাদেরকে দমিয়ে রেখেছে।

এছাড়াও অভিযান চলাকালে র‍্যাবের এক কর্মকর্তা তাদের সাথে বাজে আচরণ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে সেই র‍্যাব কর্মকর্তার পরিচয় সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

মাঝরাতে অভিযান শেষে এখন হেলেনা জাহাঙ্গীরকে র‍্যাবের জিম্মায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাকে আটকের পর র‍্যাবের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তেমন কিছুই জানানো হয়নি। পরবর্তীতে এ বিষয়ে ব্রিফ করা হবে বলে জানান উপস্থিত কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি দলের গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ গঠনের ঘোষণাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বিব্রত হন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও। পরবর্তীতে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে কান্নাকাটি করতে দেখা যায় তাকে। আওয়ামী লীগের নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তিনি।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার পর হেলেনা জাহাঙ্গীরের গুলশান-২ এর ৩৬ নম্বরের রোডের ৫ নম্বর বাসায় অভিযান শুরু করে র‍্যাব-১ এর একটি দল। তাদের সঙ্গে ছিল গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সারা দেশে আজও প্রবল বৃষ্টি, কাল থেকে কমবে

দেশের খবর : আজও (৩০ জুলাই) দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টি হবে এবং আগামীকাল শনিবার থেকে বৃষ্টিপাত কমতে থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে, ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের কিছু এলাকায় নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। দু-এক জায়গায় পানি কমেছে। বন্যার কারণে সড়ক যোগাযোগ ভেঙে পড়েছে কক্সবাজারের চকরিয়ায়। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। বাগেরহাটে টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে সাড়ে ১৬ হাজার চিংড়িঘের ও পুকুর। টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে।

পানি বাড়ায় এবং তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় বৃষ্টির কারণে ১২টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। এছাড়াও জেলা কালিগঞ্জ, আশাশুনি, দেবহাটাসহ বিভিন্ন এলাকার মৎস্য ও কৃষি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

সাগরের লঘুচাপ ও জোয়ারের পানিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দুমকী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। বৃষ্টির কারণে পানি বাড়তে থাকায় ভাঙনের মুখে পড়েছে মনপুরার বেড়িবাঁধ। তবে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির কিছু উন্নতি ঘটেছে।

টানা বর্ষণ ও পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী নদীর পানিতে ভয়াবহ বন্যার মুখে পড়েছে চকরিয়ার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকাই এখন পানির নিচে। কোথাও কোথাও পানির উচ্চতা ১০ ফুট। এরই মধ্যে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছে। তলিয়ে গেছে প্রায় ২০ হাজার একর চিংড়িঘের ও পাঁচ শতাধিক পুকুর। যোগাযোগব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ।

চকরিয়া পৌরসভা ছাড়া কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, বমুবিলছড়ি, লক্ষ্যার চর, ফাঁসিয়াখালী, কৈয়ারবিল, হারবাং, বরইতলী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, চিরিঙ্গা, সাহারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, বিএম চর, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড় ভেওলা, বদরখালী, পেকুয়া সদর, বারবাকিয়া, শীলখালী, রাজাখালী ও টৈটং ইউনিয়নের অনেক গ্রাম বন্যার কবলে পড়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ‘উপজেলার ৮০ শতাংশ এলাকা বানের পানিতে ভাসছে। এরই মধ্যে আমরা ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছি।’

বাগেরহাটে কয়েক হাজার চিংড়িঘের ও পুকুর ডুবে গেছে। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন চিংড়িচাষিরা। জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, আটটি উপজেলায় ৯ হাজার চিংড়িঘের, সাড়ে সাত হাজার পুকুর ও ২৭০টি কাঁকড়ার ঘের ডুবে গেছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ এস এম রাসেল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ঘেরের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

পটুয়াখালীতে চার দিনের টানা বর্ষণে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের উত্তর চরমোন্তাজ, মধ্য চরমোন্তাজ, চরমল, চরলক্ষ্মী ও পূর্ব চরমোন্তাজ গ্রামে আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, প্রভাবশালীদের মাছের ঘেরের কারণে পানি বের হতে পারছে না। এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ চাষিদের।

মাদারীপুরে অস্বাভাবিক পানি বাড়ার ফলে পদ্মা উত্তাল হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।

রাজবাড়ীতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে গতকাল ভোর থেকে পদ্মা নদীর পানি উত্তাল হয়ে ওঠে। প্রবল বাতাসে নদীতে বড় বড় ঢেউ সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় বিভিন্ন নৌযান চলাচল বন্ধ থাকলেও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

শ্যামনগরে ভারি বর্ষণে ১২টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। এতে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে চাষিদের। উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা তুষার মজুমদার জানান, এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আছে।

দুমকীতে জানান, টানা বৃষ্টিতে দুমকী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অনেক গাছ উপড়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে। বীজতলাসহ নষ্ট হয়েছে বহু ফসলি জমি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নদীর পানি তিন ফুট পর্যন্ত বেড়েছে।

বান্দরবানে উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। নতুন করে আর বৃষ্টি না হলে বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই সড়ক ও বিভিন্ন বসতি থেকে পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। থানচিতে গতকাল দুপুরের পর থেকেই বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শঙ্খ নদীর পানি কমতে শুরু করে। রুমা উপজেলার বন্যা পরিস্থিতিও উন্নতির দিকে। তবে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় বিকেলে বৃষ্টি হওয়ায় অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

চরফ্যাশনে মেঘনার অব্যাহত ভাঙন ও প্রবল জোয়ারের প্রভাবে বেড়িবাঁধগুলো ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় জোয়ারের পানি ঢুকে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের পশ্চিম কুলাগাজির তালুক রামনেওয়াজ মৎস্য ঘাট সংলগ্ন বেড়িবাঁধটি জোয়ারের তোড়ে প্রায় পুরোপুরি ভেঙে গেছে। মনপুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠও পানিতে ডুবে রয়েছে। জোয়ারের পানিতে হাজির হাট ইউনিয়নের অনেক বাঁধও হুমকিতে পড়েছে। উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের মাস্টারহাটের পশ্চিম পাশের বেড়িবাঁধ ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের সূর্যমুখী বেড়িবাঁধ, বাতির খাল ও ঢালি মার্কেট সংলগ্ন এলাকার বাঁধের অবস্থাও নাজুক।

বেতাগীকে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিষখালী নদীর পানি ব্যাপক মাত্রায় বেড়ে গেছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়িসহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া বুধবার রাতের দমকা বাতাসে বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক ঘরবাড়ি। গত সোমবার মধ্যরাত থেকেই উপকূলে টানা বৃষ্টি শুরু হয়।

চট্টগ্রামে ভারি বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে নগরের নিম্নাঞ্চল। চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, রাউজানসহ বিভিন্ন উপজেলায়ও পাহাড়ি ঢলের পানি নামছে। কোথাও ডুবে গেছে সড়ক। নিচতলার বাসা-বাড়ি, দোকানপাটে ঢুকেছে পানি। ঢলের পানির সঙ্গে নেমে এসেছে পাহাড়ি মাটিও। সব মিলে দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। নগরের খুলশী থানাধীন ডেবারপাড় এলাকায় গতকাল সকালে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ঢাকায় কয়েক দিন ধরেই লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে স্থল নিম্নচাপ আকারে বাংলাদেশের খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চল এবং তত্সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। একই সঙ্গে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। ফলে আজ শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর পর থেকে কমবে বৃষ্টিপাত।

কক্সবাজারে কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণে ৯টি উপজেলার ৫১ ইউনিয়নের ৫১৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অতি বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানিতে এসব গ্রামের চার লক্ষাধিক মানুষ হয়ে পড়েছে পানিবন্দি। এ পর্যন্ত জেলায় পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় রোহিঙ্গাসহ ২০ জনে। এর মধ্যে ১৩ জন পাহাড়ধসে ও সাতজন পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে।

পাহাড়ি ঢলের পানিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ বেড়েছে রামু, কক্সবাজার সদর ও চকরিয়া উপজেলার অন্তত সাত-আটটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মাণাধীন রেলপথের রাস্তা ভরাটের সময় পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রাখায় এ দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
র‍্যাবের অভিযানে বাসায় মিলল বিপুল পরিমাণ মাদক, আটক হচ্ছেন হেলেনা জাহাঙ্গীর

অনলাইন ডেস্ক : আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্য পদ হারানো এফবিসিসিআইর পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীরের রাজধানীর গুলশানের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব)। অভিযান শেষে তাকে আটক করা হবে। আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হবে র‍্যাব সদরদফতরে।

অভিযানে থাকা র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাতে গুলশানের ৫ নম্বর সড়কের ৩৬ নম্বর বাসায় অভিযান শুরু করে র‍্যাব। এই নিউজ লেখা পর্যন্ত তার বাসায় অভিযান চলছিল।

বাসাটি ঘিরে র‍্যাবের বিপুল সংখ্যক সদস্য অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া বাড়িটির ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি করছে র‍্যাব সদস্যরা। এর আগে রাত ১০টার দিকে র‍্যাবের নারী সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করেন।

র‍্যাব সূত্র জানায়, অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ অবৈধ জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে। কোথা থেকে এই মাদক আসলো সেসব বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এজন্য তাকে র‍্যাব সদরদফতরে নেয়া হবে।

সম্প্রতি ফেসবুকে বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামের একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নাম আসায় তাকে উপকমিটির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি।

চুমকি বলেন, ‘তিনি (হেলেনা) এগুলো আমাদের না জানিয়ে করেছেন। আমি এরইমধ্যে আমাদের দফতরে জানিয়েছি তাকে অব্যাহতির চিঠি দিয়ে দেয়ার জন্য। আমাদের উপকমিটিতে যেহেতু তিনি নিয়মনীতি ভঙ্গ করেছেন, তাই তার সদস্যপদ আমরা বাতিল করে দিয়েছি।’

হেলেনা জাহাঙ্গীর কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। সেখান থেকেও তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় র‌্যাবের অভিযান

অনলাইন ডেস্ক : সম্প্রতি আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া আলোচিত হেলেনা জাহাঙ্গীরের গুলশানের বাসায় অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যার পর এ অভিযান শুরু হয় বলে র‌্যাবের গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করে।

র‌্যাবের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সংগঠনের নীতিবহির্ভূত হওয়ায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যপদ থেকে তাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

নামের সঙ্গে লীগ যুক্ত করে গড়ে ওঠা আওয়ামী লীগের অননুমোদিত একটি সংগঠনের সভাপতি পদে নাম আসার পর তার বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নিয়েছে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটি।

এই উপ-কমিটিতেই সদস্য ছিলেন দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালক পদে থাকা হেলেনা জাহাঙ্গীর। জয়যাত্রা গ্রুপের কর্ণধার হেলেনা জাহাঙ্গীর নিজেকে আইপি টিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দেন।

সম্প্রতি ফেসবুকে বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামের একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নাম আসে। সব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা তিনি অস্বীকার করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest