সর্বশেষ সংবাদ-
এবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধনএডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসাতক্ষীরায় যৌতুকের বলি মা-মেয়ে : হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ডসাতক্ষীরায় নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আওতায় আনার দাবিসাতক্ষীরায় হেভী ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের মতবিনিময় সভাস্বাস্থ্যকর্মকর্তা  ও আব্বাসী কর্তৃক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য : নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানবন্ধনপ্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক রহমাতুল্লাহর মৃত্যুসাতক্ষীরায় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সভা: সভাপতি মুনির- সম্পাদক সামাদ

মাস্ক ও শারীরিক দূরত্বের কড়াকাড়ি থাকবে না ব্রিটেনে

বিদেশের খবর : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, তার দেশ লকডাউন পুরোপুরি তুলে নেয়ার যে পরিকল্পনা করছে তাতে আগামী ১৯ জুলাইয়ের পর সেখানে কাউকে বাধ্যতামূলকভাবে মুখে মাস্ক পরতে হবে না এবং শারীরিক দূরত্বের বিধিও মানতে হবে না।

বাড়ি থেকে কাজের যে নিয়ম গত ১৬ মাস ধরে চালু ছিল, সে সময় তাও বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

বিবিসি’র খবরে বলা হয়, আগামী ১২ জুলাই সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনা করে এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

১০ ডাউনিং স্ট্রিটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বরিস জনসন বলেন, ‘আগামীতেও স্কুলগুলোকে নিরাপদ বলয়ে রাখা, ভ্রমণ এবং সেল্ফ আইসোলেশনের নিয়ম বলবৎ থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘টিকাদানে সাফল্যের কারণে সংক্রমণ এবং মৃত্যু কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এ কারণেই স্বাস্থ্যবিধির আইনি বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়া সম্ভব হচ্ছে।’

বরিস বলেন, ‘যখন আমরা টিকাদানে বড় সাফল্য পেয়েছি তখনই যদি আমরা না সামনে এগিয়ে যাই, তাহলে আর কখন?’

দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪৯ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মাঝে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজারের বেশি মানুষের।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃত্যু ৪০ লাখ ছাড়ালো

অনলাইন ডেস্ক : প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনায় এখনো বিপর্যস্ত বিশ্ব। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছেন অনেক মানুষ। সংক্রমিতের তালিকাতেও উঠছে লাখ লাখ মানুষের নাম।

চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ছয় হাজারের বেশি মানুষ। তাদের নিয়ে করোনা মহামারিতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪০ লাখ। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে ভাইরাসটি নতুন করে শনাক্ত হয়েছে আরও ৩ লাখ ৩৫ হাজার মানুষের দেহে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ভারতে। মৃত্যুতে শীর্ষে আছে ব্রাজিল। এর ফলে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৮ কোটি ৪৯ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪০ লাখের ঘর।

মঙ্গলবার সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬ হাজার ২১০ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যু বেড়েছে ২০৩ জন। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪০ লাখ ৪৮০ জনে।

এছাড়া একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ। আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৯ হাজারের বেশি। এতে মহামারির শুরু থেকে ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৪৯ লাখ ২২ হাজার ৪১৫ জনে।

করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৯৮ হাজার ৩৬১ জন করোনায় আক্রান্ত এবং ৬ লাখ ২১ হাজার ৩৩৫ জন মারা গেছেন। লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৫৪ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৭০৩ জন। অপরদিকে মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক কোটি ৮৭ লাখ ৯২ হাজার ৫১১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ২৫ হাজার ২২৯ জনের।

করোনায় আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। তবে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যার তালিকায় দেশটির অবস্থান তৃতীয়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৫২ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৭ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৩ কোটি ৬ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৯ জন এবং মারা গেছেন ৪ লাখ ৩ হাজার ৩১০ জন।

এছাড়া এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে এক লাখ ১১ হাজার ১৯৭ জন, রাশিয়ায় এক লাখ ৩৮ হাজার ৫৭৯ জন, যুক্তরাজ্যে এক লাখ ২৮ হাজার ২৩১ জন, ইতালিতে এক লাখ ২৭ হাজার ৬৮০ জন, তুরস্কে ৪৯ হাজার ৯৫৯ জন, স্পেনে ৮০ হাজার ৯৩৪ জন এবং জার্মানিতে ৯১ হাজার ৫৯৫ জন মারা গেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালেবান আক্রমণের মুখে তাজিকিস্তানে পালিয়েছে বহু আফগান সেনা

বিদেশের খবর : আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে তালেবানের সাথে লড়াইয়ে টিকতে না পেরে এক হাজারেরও বেশি আফগান সেনা সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী তাজিকিস্তানে পালিয়ে গেছে বলে দেশটির সরকার নিশ্চিত করেছে।

অপরদিকে তাজিকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের বাদাখশান প্রদেশের কয়েকটি জেলায় যুদ্ধের পর জীবন বাঁচানোর তাগিদেই এসব আফগান সৈন্য তাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। খবর বিবিসির।

আফগানিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা এখন তালেবানের দখলে এবং প্রতিদিনই তারা নতুন নতুন জেলা সরকারি বাহিনীর হাত থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া বাদাখশানে তালেবান যোদ্ধারা দ্রুত ওই এলাকার প্রধান শহর ফায়েজাবাদের দিকে এগিয়ে আসছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সীমান্তবর্তী কয়েকটি ঘাঁটি থেকে আফগান সেনাদের পালানোর ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেশী অপর দেশ উজবেকিস্তানেও কিছু আফগান সৈন্য আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। সর্বশেষ এই ঘটনায় এক হাজারেরও বেশি আফগান সৈন্যকে তাজিকিস্তানে ঢুকতে দেয়া হয়েছে। এদিকে, সেপ্টেম্বরের সময়সীমাকে সামনে রেখে আফগানিস্তানে মোতায়েন আন্তর্জাতিক বাহিনীর বেশিরভাগ সেনাকেই সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

কিন্তু তালেবানের সাথে সরকারি বাহিনীর লড়াই যদি আরও তীব্র হয় তাহলে শরণার্থীর ঢল সীমান্ত অতিক্রম করে আশেপাশের দেশে চলে যেতে পারে। আর মধ্য এশিয়ার দেশগুলো এখন থেকেই সেই পরিস্থিতির জন্য তৈরি হচ্ছে।

আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ন্যাটো বাহিনীর সব সদস্যের আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে যদি সব বিদেশি সেনা আফগানিস্তান ছেড়ে না যায় তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালেবান।

আফগানস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে আশরাফ ঘানি সরকারের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। কারণ একের পর এক জেলা দখল করে নিচ্ছে তালেবান। তবে তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহিন বলেন, কাবুলকে সামরিকভাবে দখল করা ‘তালেবানের নীতি নয়’। অপরদিকে কাতার থেকে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার পর কোনও বিদেশি সেনা এমনকি সামরিক বাহিনীর ঠিকাদাররাও কাবুলে অবস্থান করতে পারবেন না।

এদিকে, তালেবানের বিরুদ্ধে ফের অস্ত্র তুলে নিয়েছেন কয়েক ডজন আফগান নারী। কেউ হাতে নিয়েছেন মরণঘাতী ভারী অস্ত্র। অনেক নারী আবার মিছিল করেছেন দেশটির ঘোর প্রদেশের প্রাদেশিক রাজধানী ফিরোজকোহে। এরই মধ্যে তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামা নারীদের অনেকেই হাত মিলেয়েছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি সরকারের সাথে।

এসব নারীদের দাবি তালেবানের শাসনামল অর্থাৎ ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল ছিল আফগান নারীদের জন্য অন্ধকার সময়। তালেবানের আমলে নারীদের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবাঞ্চিত ছিল আফগান নারীরা। ধর্মীয় আইনের নামে নারীদের অধিকার ও ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে বলে অভিযোগ অস্ত্র হাতে তুলে নেয়া নারীদের।

তলেবানের সঙ্গে লাড়াইয়ে প্রস্তুত এমন নারীর সংখ্যা কত তা নিশ্চিত করতে পারেনি আশরাফ ঘানি প্রশাসন। তবে তাদের দাবি ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে ভারী অস্ত্র হাতে তুলে নেয়া নারীদের সংখ্যা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পেরুকে ১ গোলে হারিয়ে কোপার ফাইনালে ব্রাজিল

খেলার খবর : দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলকে ঠিক ‘ব্রাজিলের’ মত মনে হলো না। একক আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে পেরু। বরং পুরো দ্বিতীয়ার্ধে পেরুর আক্রমণ ঠেকাতেই ব্যস্ত ছিলো ব্রাজিলের রক্ষণভাগ। গোলরক্ষক এডারসন দৃঢ়তা দেখাতে না পারলে হয়তো বিদায়ই নিতে হতো ব্রাজিলকে।

আসলে দুর্ভাগ্য পেরুরই। একের পর এক আক্রমণ আর গোলে শট নিয়েও বল জড়াতে পারলো না ব্রাজিলের জালে। উল্টো প্রথমার্ধে করা একমাত্র গোল দিয়েই পেরুকে বিদায় করে টানা দ্বিতীয়বারের মত কোপা আমেরিকার ফাইনালে পৌঁছে গেলো স্বাগতিক ব্রাজিল।

সেই লুকাস পাকুয়েতার গোলেই জয় নিশ্চিত হলো সেলেসাওদের। কোয়ার্টার ফাইনালে চিলির বিপক্ষে যখন গোল পাচ্ছিল না ব্রাজিল, তখন এই লুকাস পাকুয়েতাই মাঠে নেমে গোল করে জেতালেন দলকে।

এবার গ্যাব্রিয়েল হেসুসের লাল কার্ড থাকার কারণে তিনি খেলতে পারছেন না সেমিফাইনালে। এ কারণে পাকুয়েতাকে দিয়েই সেমিফাইনালের একাদশ সাজান ব্রাজিলে কোচ তিতে।

সেই পাকুয়েতাই খুললেন পেরুর গোলের তালা খুললেন। ৩৪ মিনিটে নেইমারের অসাধারণ একটি পাস থেকে বাম পায়ের দুর্দান্ত শটে পেরুর জালে বল জড়িয়ে দেন লুকাস পাকুয়েতা। পেরুর বিপক্ষে এই এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে গেলো ব্রাজিল।

তবে প্রথমার্ধের স্কোরশিট দেখলে কোনোভাবেই ব্রাজিল কতটা প্রভাব বিস্তার করে খেলেছে তা বোঝা যাবে না। পেরুর গোলরক্ষক গ্যালাসে বারবার কঠিন দেয়ালের মত দাঁড়িয়ে না গেলে গোল হতে পারতো আরো কয়েকটি।

খেলার ৬ষ্ঠ মিনিটের মাথায় রেনান লোদির ক্রস বিপদ ডেকে আনার আগেই মাঠের বাইরে বের করে দেন কোরজো। কর্ণার পেয়ে যায় ব্রাজিল। ৮ম মিনিটেই গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এ সময় লুকাস পাকুয়েতা বল বাড়িয়ে দেন রিচার্লিসনের দিকে। তিনি দুর্দান্ত এক ক্রস করেন নেইমারের দিকে। কিন্তু দারুণ সুযোগ পেয়েও নেইমার সেই বলটি পাঠিয়ে দেন মাঠের বাইরে।

১৩ মিনিটের মাথায় ফ্রি-কিক থেকে ক্যাসেমিরোর জোরালো শট সোজা চলে যায় পেরুর গোলরক্ষক গ্যালাসের কাছে। তিনি প্রতিহত করলে গোল বঞ্চিত হয় ব্রাজিল। ১৫ মিনিটের মাথায় রিচার্লিসনের কাছ থেকে বল পেয়ে গোলমুখে শট নেন এভার্টন। কিন্তু তার শট প্রতিহত করে দেন গালেসে।

১৯ মিনিটের মাথায় আরও একটি দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু পাকুয়েতা-নেইমার জুটির বার কয়েক চেষ্টার পরও পেরুর গোলরক্ষককে পরাস্ত করা সম্ভব হয়ি তাদের পক্ষে।

৩৪তম মিনিটে এসে অবশেষে পেরুর গোলের তালা খুললেন নেইমার এবং পাকুয়েতা। বক্সের মধ্যে অন্তত দু’জনকে কাটালেন নেইমার। এরপর বল বাড়িয়ে দিলেন পাকুয়েতার দিকে। বাম পায়ের দারুন শটে সেটি তিনি জড়িয়ে দেন পেরুরর জালে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ দুটি পরিবর্তন আনেন পেরুর কোচ রিকার্ডো গ্যারেকা। ট্রাউকোক তুলে নিয়ে লোপেজকে মাঠে নামান তিনি। একই সময়ে রামোসের বদলে মাঠে নামেন গার্সিয়া। এই গার্সিয়া মাঠে নেমেই খেলার ধারা পরিবর্তন করে দেন। পুরো ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন যেন পেরুকে।

লোপেজ আর গার্সিয়া নতুন উদ্যমে আক্রমণ শুরু করে। যার ফলে ৪৯ মিনিটে অসাধারণ এক আক্রমণ সাজায় পেরু। ইয়োতুনের থ্রো বল ধরে বক্সের মধ্যে বল নিয়ে যান লাপাডুলা। তার দুর্দান্ত শট অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় রক্ষা করেন ব্রাজিল গোলরক্ষক এডারসন।

এরপরই যেন নতুন শক্তি পেয়ে যায় পেরু এবং নতুন উদ্যমে আক্রমণ শুরু করে। ৫২ মিনিটে ব্রাজিলের গোল লক্ষ্যে শট নেন গার্সিয়া। কিন্তু তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৫৩ মিনিটে গার্সিয়া এবং লাপাডুলার সম্মিলিত আক্রমণ ছিল ব্রাজিলের পোস্ট লক্ষ্যে। কিন্তু গার্সিয়ার শট চলে যায় ব্রাজিলের পোস্টের ওপর দিয়ে।

এ সময় ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয়হীনতাও চোখে পড়ে। বল ধরে রাখতে না পারা, উল্টা-পাল্টা পাস দেয়া, সঠিক পাস না দেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এরই মধ্যে একের পর এক ব্রাজিলের গোলমুখে প্রেসার তৈরি করতে থাকে পেরু।

৬১ মিনিটে ব্রাজিলকে আরও একটি গোল থেকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক এডারসন। গার্সিয়ার শট অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন এডারসন। ফিরতি বলে যদিও লাপাডুলার চেষ্টা ছিল, কিন্তু সেটি ছিল অফসাইড।

৬৫ মিনিটে নেইমার দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সেই সুযোগটিকে হেলায় হারান পোস্টের ওপর দিয়ে বল পাঠিয়ে দিয়ে। ৭১ মিনিটে পেনাল্টির আবেদন করেন নেইমার এবং রিচার্লিসন। নেইমার বল পেয়ে ফাঁকায় বাড়িয়ে দেন। দৌড়ে গিয়ে বলের নিয়ন্ত্রন নেন রিচার্লিসন। কিন্তু বক্সের মধ্যে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন পেরুর এক ডিফেন্ডার। এরপর পেনাল্টির আবেদন করলে রেফারি তাতে কোনো সাড়া দেননি।

৮১ মিনিটে আরো একটি দারুণ সুযোগ পায় পেরু। কিন্তু ইয়োতুনের ক্রসে বল পেয়ে ক্যালেন্স যে শট নেন, সেটি চলে যায় ব্রাজিলের পোস্টের ওপর দিয়ে। একের পর এক পরিবর্তন করেও এ সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারছিল না ব্রাজিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘অক্সিজেনের অভাবে রোগীর মৃত্যু হত্যার সমতুল্য’

অনলাইন ডেস্ক : অক্সিজেনের অভাবে রোগীর মৃত্যু গাফিলতি নয়, মানুষ হত্যার অপরাধের সমতুল্য বলে মনে করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)।

সোমবার এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার।

বিবৃতিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, সকল জেলা হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপনের জন্য বিগত অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থবরাদ্দ থাকার পরও সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় অক্সিজেনের অভাবে রোগীর মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা। কেবল দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ও গাফিলতিই নয়, বরং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের এই ব্যর্থতা ও গাফিলতি মানুষ হত্যার অপরাধের সমতুল্য।

অক্সিজেনের অভাবে রোগীদের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের অবিলম্বে বিচারের সম্মুখীন করার দাবি জানিয়ে জাসদ নেতৃদ্বয় বলেন, সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ আছে। দেশে প্রয়োজনীয় মেডিকেল অক্সিজেন উৎপাদন ও আমদানি হচ্ছে। বাজারে আমদানিকৃত পোর্টেবল অক্সিজেন প্ল্যান্ট অক্সিজেনারেটর, হাই ফ্লো অক্সিজেন ক্যানুলা প্রাপ্যতাও আছে ।তারপরও অক্সিজেনের অভাবে রোগী মারা যাচ্ছে।

জাসদ নেতৃদ্বয় অক্সিজেনের অভাবে যেন একজন রোগীর মৃত্য না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোর জন্য থোক বরাদ্দ ও স্থানীয়ভাবে ক্রয়ের আর্থিক স্বাধীনতা প্রদান করে অবিলম্বে রোগীদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার, অক্সিজেনারেটর, পোর্টেবল অক্সিজেন প্ল্যান্ট, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা সংগ্রহের নির্দেশ প্রদানের দাবি জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রিমা‌ন্ডে নারী‌কে যৌন নির্যাতন : এএসপি-ওসির বিরু‌দ্ধে মামলা

দেশের খবর : ব‌রিশা‌লের উজিরপুরে হত‌্যা মামলার এক নারী আসামিকে ‌রিমান্ডে যৌন ও শারীরিক নির্যাত‌নের অভি‌যো‌গে সহকারী পু‌লিশ সুপার ও উজিরপুর থানার ওসিসহ ছয়জ‌নের বিরু‌দ্ধে মামলা করা হ‌য়েছে।

সোমবার রা‌তে ‌বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন উজিরপুর থানার প‌রিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মমিন উদ্দিন।

মামলায় আসামিরা হলেন সদ‌্য প্রত‌্যাহার হওয়া উজিরপুর থানার ওসি জিয়াউল আহসান ও প‌রিদর্শক (তদন্ত) মাইনুল ইসলাম। এছাড়া উজিরপুর সার্কেলের সহকারী পু‌লিশ সুপার এবং অজ্ঞাত তিনজন‌কে আসামি করা হয়েছে।

পরিদর্শক ম‌মিন উদ্দিন জানান, আদাল‌তের নি‌র্দেশে ‌নির্যাতন ও হেফাজ‌তে মৃত‌্যু (নিবারণ) আইনে যৌন নির্যাত‌নের শিকার ওই নারী আসামি মামলা‌টি ক‌রে‌ছেন।

এদিকে, সোমবার সকা‌লে ব‌রিশাল রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এসএম আক্তারুজ্জামান ব‌লেন, ‘নারী আসামিকে রিমা‌ন্ডে নি‌য়ে যৌন নির্যাত‌নের অভি‌যোগ ওঠায় উজিরপুর থানার প‌রিদর্শক (তদন্ত) মাইনুল ইসলাম ও দা‌য়ি‌ত্ব অব‌হেলার কার‌ণে ওসি জিয়াউল আহসান‌কে প্রত‌্যাহার করা হ‌য়ে‌ছে। তা‌দের বিরু‌দ্ধে বিভাগীয় মামলা হ‌বে।’

আদালত সূত্র জানায়, গত ২৬ জুন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জামবাড়ী এলাকা থেকে বাসুদেব চক্রবর্তী নামের এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর ভাই বরুণ চক্রবর্তী ওই দিনই থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় আসামি করা হয় এক নারীকে। যার সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে দাবি করেন বরুণ। এই মামলার আসামি হিসেবে ওইদিন সেই নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

থানা পুলিশের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ জুন বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উজিরপুর আমলি আদালত নারী আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গত ২ জুলাই ওই নারীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তাঁকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখে এর কারণ জানতে চান আদালত। ওই নারী আদালতের কাছে তাঁকে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন পুলিশের বিরুদ্ধে। আদালত একজন নারী কনস্টেবল দিয়ে তাঁর দেহ পরীক্ষা করে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা পান। এরপর আদালত তাঁর যথাযথ চিকিৎসা এবং তাঁকে নির্যাতনের বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে। জমা দেওয়া তদন্ত প্রতি‌বেদনে ওই নারীকে নির্যাতনে আঘা‌তের চিহ্নর কথা উল্লেখ র‌য়ে‌ছে‌।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রণব মুখার্জির ছেলে অভিজিৎ মুখার্জি তৃণমূলে যোগ দিলেন

বিদেশের খবর : ভারতের কংগ্রেস নেতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির ছেলে অভিজিৎ মুখার্জি সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। এতে শুধু রাজ্য নয়, জাতীয় পর্যায়েও জোর ধাক্কা খেল কংগ্রেস।

দ্য হিন্দু পত্রিকা জানায়, সোমবার বিকালে তৃণমূল ভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে জোড়াফুল শিবিরে যোগ দেন অভিজিৎ। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্য়ায় এবং লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

কংগ্রেসে যোগদান অনুষ্ঠানে অভিজিৎ মুখার্জি বলেন, তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগদান করলাম৷।এক কংগ্রেস থেকে আরেক কংগ্রেসে এলাম৷ ২০১১ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে যখন কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলাম, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই বামবিরোধী হাওয়া উঠেছিল। সেই হাওয়াতে ভর করেই আমি নলহাটি থেকে জয়ী হয়েছিলাম। তাতে আমার কোনো কৃতিত্ব ছিল না।

তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে রুখে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে তার নেতৃত্বে আমরা পুরো ভারতবর্ষ থেকে বিজেপিকে মোকাবিলা করব।

অনুষ্ঠানে নিজের পুরনো দল নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি অভিজিৎ। তবে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুর ছিল তার কথায়। তিনি বলেন, আমি এখন প্রাক্তন। কংগ্রেসের কোনও পদেই রাখা হয়নি আমাকে ৷ শুধুই প্রাথমিক সদস্য ছিলাম৷ তাই ক্ষোভ থেকে তৃণমূলে এসেছি। এখানে দল যা বলবে, তাই করব। আমি কোনো পদের লোভ করি না। আমি কাজ করতে পারবো। দল যে কাজের জন্য বলবে, তাই করবো।

তৃণমূলে কেন যোগ দিয়েছেন তা জানিয়ে অভিজিৎ বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে মমতা প্রমাণ করেছেন তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-কে রুখতে পারেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তা ব্যাপকভাবে প্রসংশিত হয়েছে। অনেক প্রবীণ কংগ্রেস নেতাও এর প্রশংসা করেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, পশ্চিমবঙ্গে যেহেতু মমতা বিজেপি’কে হারাতে পেরেছেন, তাই জাতীয়ভাবে লোকসভা ভোটেও তিনি বিজেপি’কে হারাতে পারবেন।

কংগ্রেসের টিকিটে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে দু’বার সাংসদ হয়েছিলেন অভিজিৎ। তার আগে বীরভূমের নলহাটির বিধায়ক হিসাবে ২০১১ সালে তিনি রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন।

গত লোকসভা নির্বাচনে হেরেছেন অভিজিৎ। আর বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের ভরাডুবির পর একাধিক বার অভিজিতের দলবদল নিয়ে জল্পনা হয়।

এর আগে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কয়েকবার খারিজ করলেও গত কয়েক সপ্তাহে তৃণমূলে যোগ দেওয়া নিয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তিনি। এরপরই অভিজিৎ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

অভিজিতের বাবা প্রণব মুখার্জি এক সময় কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হয়ে আলাদা দল গঠন করেছিলেন। পরে আবার দলটিতে ফিরে যান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মেডিকেল কলেজের অনাকাঙ্খিত ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিকের জবানবন্দী- রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী

পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। সাথে ছিল আমার ক্যামেরা পার্সন মামুন রেজা। মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে আর টিভির দুপুরের সংবাদে লাইভ দিলাম। বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু বৃষ্টি থামে না। মেডিকেল কলেজ চত্ত¡রে পানি জমে গেছে। এমনই সময় এক কিশোরী শ্বাসকষ্ট নিয়ে ইজিবাইক থেকে নামলো। সাথে ছিলো তার মা ও বাবা। কিশোরীর দুই হাত ধরে তার মা-বাবা এগিয়ে যাচ্ছিল জরুরি বিভাগের দিকে। মামুন ভিডিও চিত্র ধারণ করতে থাকলো। আমিও এগিয়ে গেলাম জরুরি বিভাগের সামনে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই কিশোরীর কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে আসলো।

আমার সম্পাদনায় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংকল্প ডটকম পরিচালিত হয়। মামুন সংকল্প ডটকমে লাইভ সম্প্রচার শুরু করলো। আমাকে লাইভে সংযুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিলে, আমি মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সম্প্রচার শুরু করলাম। উদ্দেশ্য ছিল মানুষ যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে করোনাই সংক্রমিত হলে ওই কিশোরীর মত শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কিন্তু বিধিবাম। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত দুই চিকিৎসক ও এক ইন্টার্নি চিকিৎসক আমার পেশাগত দায়িত্ব পালনে কিছুটা ব্যাঘাত সৃষ্টি করলেন। লাইভ সম্প্রচারে তাদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়লাম। হাজার হাজার দর্শক দেখল। কিছুটা ভগ্ন মনে হাসপাতাল ত্যাগ করলাম। প্রেসক্লাবের সভাপতি আমার সহকর্মী মমতাজ আহমেদ বাপি, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সহ কয়েকজন সহকর্মী কে বিষয়টি জানালাম। ওই দিন প্রেসক্লাবে বসে মধ্যাহ্নভোজন সারলাম। সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রেস ক্লাবের সদস্য হাফিজুর রহমান মাসুমকে ঘটনাটি জানালাম। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডাক্তার কুদরত-ই-খুদা কে ফোন করে নালিশ জানালাম। তিনি অবশ্য এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন ও পরদিন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করলেন। প্রেসক্লাবের হলরুমে মধ্যাহ্নভোজন শেষে সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি বললেন, এ ঘটনায় প্রেসক্লাবের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া উচিত।

যাই হোক যাদেরকে ঘটনাটি জানিয়েছিলাম, তাদের মধ্যে প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সাতনদী পত্রিকার সম্পাদক আমার বন্ধু হাবিবুর রহমান, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, বাংলাভিশন টিভির প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান সহ অনেকেই তাদের ফেসবুক আইডিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পোস্ট দিয়েছে। সাতক্ষীরা টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (একাংশ) পক্ষ থেকে তিন চিকিৎসকের অশোভন আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। ওইদিন রাতে দেখলাম প্রেসক্লাবের সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপি তার ফেসবুক আইডি থেকে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অর্থাৎ বিষয়টি আর চাপা থাকলো না।

শনিবার সকাল ১১ টায় টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক আবুল কাশেম জরুরী সভা আহ্বান করলেন। ওইদিন দুপুর বারোটার দিকে টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভা শুরু হলো। প্রেসক্লাবের সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপ্পি এক দু’জনের নাম উল্লেখ করে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আমাকে মেডিকেল কলেজে যেতে বললেন। কিন্তু আমি কাউকে রাজি করাতে পারলাম না। উভয় সংকটে পড়ে গেলাম। যাদেরকে মেডিকেলে নিয়ে যেতে বলেছে, তাদের যুক্তি মেডিকেল কলেজে যাব কেন? বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রেসক্লাব অথবা অন্য কোথাও বসতে পারি। সভা চলমান অবস্থায় মেডিকেল কলেজের প্রফেসর ডক্টর কাজী আরিফ আহমেদ ফোন করলেন। তার সাথে মিটিং এর পরে কথা বলব বলেছিলাম। টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের মিটিং শেষ হলো। সভাশেষে ডক্টর কাজী আরিফ আহমেদ সাহেবের সাথে কথা বললাম। তিনি বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিলেন। কারো কাছে না শুনেই তার প্রস্তাবে রাজি হলাম। কারণ এই মহামারীর মধ্যে আমাদের চিকিৎসক সমাজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে। আমার সাথে অশোভন আচরণের ইস্যু নিয়ে সহকর্মী সাংবাদিক বন্ধুরা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়লে এই মহামারীর মধ্যে সাতক্ষীরার মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। অসুস্থ মানুষের প্রতি চিকিৎসকদের সেবা কার্য ব্যাহত হবে। ডাক্তার কাজী আরিফকে টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিলাম। একই সাথে টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন যে কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা স্থগিত করার জন্য জোর অনুরোধ করলাম। ডাক্তার কাজী আরিফের প্রস্তাবে টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন বিষয়টি নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নিল। ওই দিন রাত ৯ টায় সার্কিট হাউসে বসে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে ঘটনাটির নিষ্পত্তি হল।

পরিশেষে বলতে চাই, সৃষ্ট ঘটনাকে ঘিরে সাংবাদিকদের বিভাজন আবারো লক্ষ্য করলাম। আমি ও আমরা সংকীর্ণ গ্রæপিং থেকে আজও মুক্ত হতে পারিনি। আমি ব্যক্তিগতভাবে চেয়েছিলাম, সাতক্ষীরার সব পক্ষের সাংবাদিকদের নিয়ে বিষয়টির সমাধান হোক। কিন্তু তা হলো না। আমরা লক্ষ্য করছি, প্রেসক্লাবের নির্বাচনের শেষে বিজয়ী গ্রæপের সাথে পরাজিত গ্রæপের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। বিজয়ী গ্রæপ প্রেসক্লাব পরিচালনা করে। আর পরাজিত গ্রæপ প্রেসক্লাবের কার্যক্রম থেকে নিজেদের গুটিয়ে রাখেন। দীর্ঘদিনধরে আমরা এমনটাই লক্ষ্য করছি। প্রেসক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে একগ্রæপ উপস্থিত থাকে, আরেক গ্রæপ থাকে অনুপস্থিত। কিন্তু আমি ব্যক্তিগত ভাবে এটা পছন্দ করি না।

আসুন আমরা অতীতের ভেদাভেদ ভুলে পেশাদারিত্বের স্বার্থে সাংবাদিকরা এক প্লাটফর্মে অবস্থান করি। সাধারণ মানুষ সাংবাদিক সমাজের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। কিন্তু আমরা আমরা কি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি? সমাজের কাছে ও আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষ আমাদের দিকে চেয়ে থাকে। কিন্তু আমরা সেই মানুষগুলোর চাওয়া-পাওয়া কতটুকু পূরণ করতে পারি?

লেখক: সম্পাদক, সংকল্প নিউজ ও নিজস্ব প্রতিনিধি, আরটিভি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest