সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী হ%ত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতারশ্যামনগরে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মানববন্ধনএবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধনএডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসাতক্ষীরায় যৌতুকের বলি মা-মেয়ে : হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ডসাতক্ষীরায় নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আওতায় আনার দাবিসাতক্ষীরায় হেভী ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের মতবিনিময় সভাস্বাস্থ্যকর্মকর্তা  ও আব্বাসী কর্তৃক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য : নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানবন্ধন

জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম আর নেই

দেশের খবর : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর (আইসিটি) বীর মুক্তিযোদ্ধা জেয়াদ আল মালুম মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

শনিবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার জুনিয়র প্রসিকিউটর অ্যাড. চমন আরা ।

এর আগে গত ২৫ মে রাতে স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়ায় জেয়াদ আল মালুমকে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাকে সিএমএইচে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের জন্য সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। ট্রাইব্যুনাল গঠনের শুরু থেকেই জেয়াদ আল মালুম প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অফিস-আদালত বন্ধের নতুন সিদ্ধান্ত

অনলাইন ডেস্ক : আগামী বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু কমাতে জরুরি পরিষেবা বাদে সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে। রোববার (২৭ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা করা হবে।

শনিবার (২৬ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু কমাতে ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এখন আরও কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হবে, এটি দেশব্যাপী হবে।

এর আগে শুক্রবার সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধকলপে আগামী সোমবার (২৮ জুন) থেকে ৭ দিন সারাদেশে কঠোর লকডাউন পালন করা হবে। এসময় জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।
শনিবার প্রজ্ঞাপন জারির কথা থাকলেও রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেশের খবর : করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় আগামী সোমবার (২৮ জুন) থেকে সারাদেশে সীমিত পরিসরে লকডাউন দিয়েছে সরকার। তবে বুধবার পর্যন্ত সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) থেকে সাত দিনের জন্য সারাদেশে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হবে।

শনিবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার শনিবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘সোমবার (২৮ জুন) থেকে সীমিত পরিসরে লকডাউন হবে। তখন আন্তঃজেলা পরিবহন বন্ধ থাকবে। জুন ক্লোজিংয়ের (আর্থিক বছরের সমাপ্তির হিসাব-নিকাশ) জন্য ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) থেকে সর্বাত্মক লকডাউন হবে। তখন সবকিছু বন্ধ থাকবে। আগামীকাল রোববার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সেখানে বিস্তারিত বলা থাকবে।’

এর আগে শুক্রবার (২৫ জুন) রাতে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, সোমবার (২৮ জুন) থেকে পরবর্তীতে সাত দিন কঠোর লকডাউন পালন করা হবে। এ সময় জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি, বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। জরুরি পণ্যবাহী যান ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত যানবাহন চলাচল করতে পারবে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘জরুরি কারণ ছাড়া বাড়ির বাইরে কেউ বের হতে পারবেন না। গণমাধ্যম লকডাউনের আওতা বহির্ভূত থাকবে। শনিবার (২৬ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আদেশ জারি করা হবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনির ফটিকখালি গ্রামে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ফটিকখালি দেয়াবকসিয়া গ্রামে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টায় ফটিকখালি জগদ্ধাত্রী মন্দির প্রাঙ্গনে এলাকাবাসী এ কর্মসুচি পালন করে।
মানববন্ধন চলাকালে ডাঃ নৃপেন্দ্র নাথ মণ্ডলের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন খাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন রায়, ইউপি সদস্য রামপদ সানা, ইউপি সদস্য অনুপ সানা, আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম, শিক্ষক অরুন মণ্ডল, শিক্ষক পশুপতি রায় প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, তাদের গ্রামের প্রদীপ মণ্ডল বর্তমানে শ্যামনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসের করণিক হওয়ার সুবাদে শিক্ষক ও গ্রামবাসিদের কাছ থেকে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আত্মসাত করে বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
টাকা ফেরৎ না দেওয়ার জন্য তিনি গদাইপুরের অহিদুল মোল্লা ও রুহুল কুদ্দুসের সন্ত্রাসী বাহিনীকে ব্যবহার করে থাকেন। তাদের গ্রামে চাচা ভাতিজার মধ্যে অসম বিয়ের ঘটনায় স্থানীয়রা ওই পরিবারকে বয়কট করে। প্রদীপ মণ্ডল এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে অহিদুল ও কুদ্দুস বাহিনীর ২৫/৩০ জন সন্ত্রাসী ভাড়া করে নিয়ে গ্রামবাসি বিধান মণ্ডলকে পিটিয়ে জখম করে। গ্রামবাসি ওইসব সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে রবিউল মোল্লা নামের এক সন্ত্রাসীকে মোটর সাইকেলসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে মন্দির চত্বরে এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রদীপ মণ্ডলের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

এ ব্যাপারে প্রদীপ মণ্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার প্রতিপক্ষরা এ ধরণের অপবাদ দিচ্ছে।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম কবীর জানান, হামলার ঘটনায় বিধান চন্দ্র মণ্ডল বাদি হয়ে শুক্রবার রাতে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রবিউল নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালায় খাসজমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

তালা প্রতিনিধি ॥ শনিবার (২৬ জুন) সকালে তালা শিশুতীর্থ স্কুলে ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিনিধি বর্গের সাথে খাসজমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উত্তরণ এর ‘আমার’ আয়োজনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠিত উক্ত কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উত্তরণ কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান জমাদ্দার।

আমার প্রকল্পের এমএন্ডই অফিসার মোঃ মুস্তাফিজুর রহমানের পরিচালনায় কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন। উত্তরণ আমার প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও মোঃ মেসবাউর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় তালা ও তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য-সদস্যাবৃন্দরা অংশগ্রহণ করেন। উক্ত কর্মশালায় ‘আমার’ প্রকল্পের পরিচিতিসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে খাসজমি/জলমহল ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, ভূমিহীন চিহ্নিতকরণ ও সনদপত্র প্রদান, উপজেলা কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত কমিটির কার্যপরিধি এবং ভূমিহীনদের খাসজমি প্রাপ্তিতে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালায় তারাপদ দাসের বাড়িতে খাদ্য নিয়ে হাজির হলেন তালার ইউএনও

তালা প্রতিনিধি : তালা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ তারিফ-উল-হাসান অফিসের সাবেক মালি অসুস্থ তারাপদ দাসে (৮৫) এর বাড়িতে ফল ও ত্রাণ নিয়ে হাজির হন। শনিবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মহান্দী গ্রামে গিয়ে তার শারিরীক খোঁজখবর নেন এবং তাকে নগদ দুই হাজার টাকা, ফল ও ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় তাৎক্ষনিকভাবে তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তালা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ ওবায়দুল হক ও অফিস সকহারী মোঃ মনিরুজ্জামান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তারাপদ দাসের ছেলে সাগর দাস বলেন, ‘আমার বাবা অনেক দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসের মালি হিসাবে কাজ করেছে। তিনি দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ। আজ আমার বাবাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার দেখতে এসেছেন এবং তার হাতে লাগানো গাছের ফলসহ আর্থিক সহায়তা করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তারিফ-উল-হাসান বলেন,আমি জানতাম না যে এই তারাপদ ছিলেন উপজেলা পরিষদের মালী। তিনি ৩০ বছর সেখানে চাকুরি করেছেন। নিজে হাতে উপজেলা পরিষদের শতাধিক ফলজ ও বনজ গাছ লাগিয়েছেন। পুকুরে মাছ ছেড়েছেন। ঘটনাটি জানার পরই সহমর্মিতা নিয়ে তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। তিনি বলেন, ফল, ত্রাণ ও নগদ কিছু টাকা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরায় চলমান লকডাউনের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটির উপসর্গ নিয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মৃত্যুবরণ করেন।

এনিয়ে, জেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরো মোট ৩১৩ জন। আর ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরো ৬৬ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষা শেষে ৪৩ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। যা শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ০৪ শতাংশ।

এ নিয়ে জেলায় আজ পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ২২৫ জন। বর্তমানে জেলায় ৮৬৪ জন করোনা আক্রান্ত রুগী রয়েছেন। এর মধ্যে ৪১ জন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি ৮২৩ জন বাড়িতে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এদিকে, চতুর্থ দফা চলমান লকডাউনের দ্বিতীয় দিনও (২৩তম দিন) চলছে হেলাফেলাভাবে। লকডাউনের নামে সড়কে যেনো তামাশা চলছে। ভারি যানবাহন ছাড়া সবই চলছে স্বাভাবিকভাবে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই মানুষ চলাফেরা করছেন। হাট বাজার গুলোতেও ভিড় লক্ষনীয়। তবে বেলা ১১ টার পর সব দোকানপাট বন্ধ থাকার কথা থাকলেও চুরি করেই চলছে কেনাবেচা। পুলিশের বাধা ও ব্যারিকেড মানছে না কেউ।

লকডাউনের মধ্যে মানুষ নানা অজুহাতে বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রশাসন। পুলিশ মোড়ে মোড়ে চেকপোষ্ট বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছেন। বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। তবে, শহরের ইজিবাইক, রিকসা, ভ্যান ও মোটর সাইকেলে লোক চলাচল করছেন চোখে পড়ার মত। লকডাউনে জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, জনসচেতনতা কম থাকায় মানুষ লকডাউন লঙ্ঘন করছে। তবে আইনশৃংখলা বাহিনী জেলার ৭ টি উপজেলায় জনসমাগম ও যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এজন্য পুলিশ বিভিন্ন সড়কে বসিয়েছে ব্যারিকেড।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঘরবন্দি থাকতে হবে সবাইকে, কঠোর লকডাউনই ‘শাটডাউন’

দেশের খবর : টিকা, স্বাস্থ্যবিধি মানা আর নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন—এই তিন উপায়কেই এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই তিন কৌশল একই সঙ্গে প্রয়োগের কথাই জোর দিয়ে বলেন দেশি-বিদেশি সব বিশেষজ্ঞ। কিন্তু বাংলাদেশে সব কটিই চলছে ছন্নছাড়া অবস্থায়। না মিলছে প্রত্যাশিত পরিমাণে টিকা, মানুষ না মানছে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি আর না কার্যকর করা যাচ্ছে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা। এর পরিণতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখন দেশে বেপরোয়া। এ অবস্থায় করোনা মোকাবেলায় সরকার গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির পরামর্শ মেনে আগামী সোমবার থেকে সাত দিন সারা দেশে কঠোর লকডাউন কার্যকর করা হবে। আজ শনিবার এ বিষয়ে বিস্তারিত আদেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের খবর দেয় সরকার। এরপর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। এরপর সরকার ২৬ মার্চ থেকে টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে আবার করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করলে সরকার এপ্রিল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বিধি-নিষেধ জারি করে। সম্প্রতি সীমান্তে করোনার তীব্র সংক্রমণ শুরু হলে বিভিন্ন জেলায় লকডাউন জারি করা হয়। ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন রাখতে কয়েক দিন আগে আশপাশের সাত জেলায় কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়।

এমন অবস্থায় করোনা সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরতে বুধবার সরকার গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি বৈঠক করে কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে সব মানুষকে অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য ঘরবন্দি রাখার কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। আর সেই কৌশলকেই পরামর্শ হিসেবে গ্রহণের জন্য জানিয়ে দিয়েছে সরকারকে। কমিটির সভায় এমন কঠোর পদক্ষেপকেই ‘শাটডাউন’ শব্দে প্রকাশ করা হয়েছে। এখন ওই ‘শাটডাউন’ কেমন হবে, তা নিয়েই চলছে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা ও কৌতূহল। এরই মধ্যে গতকাল শুক্রবার প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার গণমাধ্যমকে সারা দেশে কঠোর লকডাউন আরোপের তথ্য জানান। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে সাত দিনের জন্য কঠোর লকডাউন কার্যকরের জন্য পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবেন।

সোমবার থেকে সারা দেশে কঠোর লকডাউন : আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া কঠোর লকডাউনে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। জরুরি পণ্যবাহী ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। শুধু অ্যাম্বুল্যান্স ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। জরুরি কারণ ছাড়া বাড়ির বাইরে কেউ বের হতে পারবে না। গণমাধ্যম এর আওতাবহির্ভূত থাকবে।

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত আদেশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা হবে।

জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির প্রস্তাব :

কমিটির সভায় প্রস্তাবিত ‘শাটডাউনের’ রূপরেখা কেমন হবে তা জানতে চাইলে সভায় উপস্থিত সূত্রগুলো জানায়, যাঁরা ওই প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা ‘কারফিউ’ অবস্থার কথা বলেছেন। এ ক্ষেত্রে জরুরি সেবায় নিয়োজিত ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকান, রেস্তোরাঁসহ সব ধরনের বিপণিবিতান বন্ধ থাকবে। জরুরি কাজ ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবে না। খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য দোকান-বাজার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খুলে আবার বন্ধ করে দেওয়া হবে। আর যৌক্তিক জরুরি কাজ ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হলেই শাস্তির মুখে পড়তে হবে। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নে আগে যেহেতু সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কাজ করেও সুবিধা করতে পারেনি, তাই এবার প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরামর্শক কমিটিতে জোর দিয়েই বলা হয়েছে, মাত্র ১৪ দিন যদি কার্যকরভাবে সব কিছু বন্ধ রাখা যায় তবেই সুফল মিলবে। এমনকি আসন্ন ঈদুল আজহা ভালোভাবে কাটানো যাবে। তা না হলে সংক্রমণ দীর্ঘমেয়াদি হবে এবং মৃত্যু বাড়বে। একই সঙ্গে ভোগান্তি বাড়বে এবং কোরবানির ঈদ বিপর্যস্ত অবস্থায় কাটাতে হবে।

সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র বলেন, যেহেতু কোনোভাবেই সংক্রমণ মোকাবেলায় নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না, কঠোর বিধি-নিষেধ কিংবা লকডাউনও মানুষ মানছে না, জীবন-জীবিকার অজুহাত তুলে সরকারকে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ দিয়ে সব কিছু খুলে দিতে বাধ্য করছে, এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত টিকারও ব্যবস্থা সরকার করতে পারছে না তাই শেষ ভরসা হিসেবে সংক্রমণ ছড়ানোর প্রধান ক্ষেত্র মানুষ থেকে মানুষকে বিচ্ছিন্ন করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।

সূত্রগুলো বলছে, আগে লকডাউন দেওয়া হলেও বিভিন্ন মহল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অঙ্গীকার করে সরকারের কাছ থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাত নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার আগেই খোলার অনুমতি আদায় করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সদস্য বলেন, এর আগে গত বছর প্রথম দফা লকডাউনেই ভালো সাফল্য মিলেছিল, কিন্তু পরের কোনো লকডাউনই পুরো মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। নানা কারণে মাঝপথে গিয়ে হাল ছেড়ে দিতে হয়েছে। আবার স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে যেভাবে প্রস্তাব দেওয়া হয়, সেটাও অন্যরা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না। ফলে প্রতিবারই কঠোর পদক্ষেপের কথা বলা হলেও বাস্তবে দু-এক দিন পরে তা ঢিলে হয়ে যায়।

পরামর্শক কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, “সভায় মূলত ‘কারফিউ’ নিয়েই আলোচনা হয়েছে, কিন্তু ওই শব্দটির সঙ্গে যেহেতু অনেক স্পর্শকাতর বিষয় জড়িত থাকে তাই ‘কারফিউয়ের’ সিভিল রূপ হিসেবে ‘শাটডাউন’ শব্দ বলা হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বিষয়টিকে যেভাবেই দেখি না কেন, বাস্তব অবস্থা এখন খুবই খারাপ। যার পরিবারে কেউ মারা যাচ্ছে তারা ঠিকই বুঝতে পারছে, অন্যরা হয়তো বুঝতে পারছে না।’

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু : ‘শাটডাউন’ নিয়ে কৌতূহলের মধ্যেই গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া গেছে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হিসাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু ১০৮ জনের তথ্য। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার হিসাবে এই ১০০-এর বেশি লোকের মৃত্যু ছাড়াও নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ৮৬৯ জন। সেই সঙ্গে দৈনিক শনাক্তের হার বেড়ে হয়ে গেছে ২১.২২ শতাংশ। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে আট লাখ ৭৮ হাজার ৮০৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ১৩ হাজার ৯৭৬ জন এবং সুস্থ হয়েছে সাত লাখ ৯৭ হাজার ৫৫৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মারা গেছে খুলনায়। ১০৮ জনের মধ্যে ওই বিভাগেরই ২৭ জন। আগের দুই দিনও খুলনায় বেশি মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ২৫ জন, চট্টগ্রামে ২৩ জন, রাজশাহীতে ১৬ জন, সিলেটে তিনজন, রংপুরে ১০ জন এবং ময়মনসিংহে চারজন মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ৭৫ জন পুরুষ এবং ৩৩ জন নারী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest