সর্বশেষ সংবাদ-
তালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: সার সংকট, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে গুরুত্বারোপদেবহাটায় শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে খেলাভিত্তিক সেশন পরিদর্শনসাতক্ষীরায় আবাসিক হোটেল-রেস্তোরাঁ – বেকারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময়সাতক্ষীরায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী হ%ত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতারশ্যামনগরে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মানববন্ধনএবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধনএডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসাতক্ষীরায় যৌতুকের বলি মা-মেয়ে : হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড

তালায় তারাপদ দাসের বাড়িতে খাদ্য নিয়ে হাজির হলেন তালার ইউএনও

তালা প্রতিনিধি : তালা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ তারিফ-উল-হাসান অফিসের সাবেক মালি অসুস্থ তারাপদ দাসে (৮৫) এর বাড়িতে ফল ও ত্রাণ নিয়ে হাজির হন। শনিবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মহান্দী গ্রামে গিয়ে তার শারিরীক খোঁজখবর নেন এবং তাকে নগদ দুই হাজার টাকা, ফল ও ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় তাৎক্ষনিকভাবে তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তালা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ ওবায়দুল হক ও অফিস সকহারী মোঃ মনিরুজ্জামান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তারাপদ দাসের ছেলে সাগর দাস বলেন, ‘আমার বাবা অনেক দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসের মালি হিসাবে কাজ করেছে। তিনি দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ। আজ আমার বাবাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার দেখতে এসেছেন এবং তার হাতে লাগানো গাছের ফলসহ আর্থিক সহায়তা করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তারিফ-উল-হাসান বলেন,আমি জানতাম না যে এই তারাপদ ছিলেন উপজেলা পরিষদের মালী। তিনি ৩০ বছর সেখানে চাকুরি করেছেন। নিজে হাতে উপজেলা পরিষদের শতাধিক ফলজ ও বনজ গাছ লাগিয়েছেন। পুকুরে মাছ ছেড়েছেন। ঘটনাটি জানার পরই সহমর্মিতা নিয়ে তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। তিনি বলেন, ফল, ত্রাণ ও নগদ কিছু টাকা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরায় চলমান লকডাউনের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটির উপসর্গ নিয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মৃত্যুবরণ করেন।

এনিয়ে, জেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরো মোট ৩১৩ জন। আর ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরো ৬৬ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষা শেষে ৪৩ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। যা শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ০৪ শতাংশ।

এ নিয়ে জেলায় আজ পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ২২৫ জন। বর্তমানে জেলায় ৮৬৪ জন করোনা আক্রান্ত রুগী রয়েছেন। এর মধ্যে ৪১ জন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি ৮২৩ জন বাড়িতে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এদিকে, চতুর্থ দফা চলমান লকডাউনের দ্বিতীয় দিনও (২৩তম দিন) চলছে হেলাফেলাভাবে। লকডাউনের নামে সড়কে যেনো তামাশা চলছে। ভারি যানবাহন ছাড়া সবই চলছে স্বাভাবিকভাবে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই মানুষ চলাফেরা করছেন। হাট বাজার গুলোতেও ভিড় লক্ষনীয়। তবে বেলা ১১ টার পর সব দোকানপাট বন্ধ থাকার কথা থাকলেও চুরি করেই চলছে কেনাবেচা। পুলিশের বাধা ও ব্যারিকেড মানছে না কেউ।

লকডাউনের মধ্যে মানুষ নানা অজুহাতে বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রশাসন। পুলিশ মোড়ে মোড়ে চেকপোষ্ট বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছেন। বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। তবে, শহরের ইজিবাইক, রিকসা, ভ্যান ও মোটর সাইকেলে লোক চলাচল করছেন চোখে পড়ার মত। লকডাউনে জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, জনসচেতনতা কম থাকায় মানুষ লকডাউন লঙ্ঘন করছে। তবে আইনশৃংখলা বাহিনী জেলার ৭ টি উপজেলায় জনসমাগম ও যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এজন্য পুলিশ বিভিন্ন সড়কে বসিয়েছে ব্যারিকেড।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঘরবন্দি থাকতে হবে সবাইকে, কঠোর লকডাউনই ‘শাটডাউন’

দেশের খবর : টিকা, স্বাস্থ্যবিধি মানা আর নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন—এই তিন উপায়কেই এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই তিন কৌশল একই সঙ্গে প্রয়োগের কথাই জোর দিয়ে বলেন দেশি-বিদেশি সব বিশেষজ্ঞ। কিন্তু বাংলাদেশে সব কটিই চলছে ছন্নছাড়া অবস্থায়। না মিলছে প্রত্যাশিত পরিমাণে টিকা, মানুষ না মানছে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি আর না কার্যকর করা যাচ্ছে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা। এর পরিণতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখন দেশে বেপরোয়া। এ অবস্থায় করোনা মোকাবেলায় সরকার গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির পরামর্শ মেনে আগামী সোমবার থেকে সাত দিন সারা দেশে কঠোর লকডাউন কার্যকর করা হবে। আজ শনিবার এ বিষয়ে বিস্তারিত আদেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের খবর দেয় সরকার। এরপর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। এরপর সরকার ২৬ মার্চ থেকে টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে আবার করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করলে সরকার এপ্রিল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বিধি-নিষেধ জারি করে। সম্প্রতি সীমান্তে করোনার তীব্র সংক্রমণ শুরু হলে বিভিন্ন জেলায় লকডাউন জারি করা হয়। ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন রাখতে কয়েক দিন আগে আশপাশের সাত জেলায় কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়।

এমন অবস্থায় করোনা সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরতে বুধবার সরকার গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি বৈঠক করে কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে সব মানুষকে অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য ঘরবন্দি রাখার কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। আর সেই কৌশলকেই পরামর্শ হিসেবে গ্রহণের জন্য জানিয়ে দিয়েছে সরকারকে। কমিটির সভায় এমন কঠোর পদক্ষেপকেই ‘শাটডাউন’ শব্দে প্রকাশ করা হয়েছে। এখন ওই ‘শাটডাউন’ কেমন হবে, তা নিয়েই চলছে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা ও কৌতূহল। এরই মধ্যে গতকাল শুক্রবার প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার গণমাধ্যমকে সারা দেশে কঠোর লকডাউন আরোপের তথ্য জানান। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে সাত দিনের জন্য কঠোর লকডাউন কার্যকরের জন্য পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবেন।

সোমবার থেকে সারা দেশে কঠোর লকডাউন : আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া কঠোর লকডাউনে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। জরুরি পণ্যবাহী ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। শুধু অ্যাম্বুল্যান্স ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। জরুরি কারণ ছাড়া বাড়ির বাইরে কেউ বের হতে পারবে না। গণমাধ্যম এর আওতাবহির্ভূত থাকবে।

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত আদেশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা হবে।

জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির প্রস্তাব :

কমিটির সভায় প্রস্তাবিত ‘শাটডাউনের’ রূপরেখা কেমন হবে তা জানতে চাইলে সভায় উপস্থিত সূত্রগুলো জানায়, যাঁরা ওই প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা ‘কারফিউ’ অবস্থার কথা বলেছেন। এ ক্ষেত্রে জরুরি সেবায় নিয়োজিত ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকান, রেস্তোরাঁসহ সব ধরনের বিপণিবিতান বন্ধ থাকবে। জরুরি কাজ ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবে না। খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য দোকান-বাজার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খুলে আবার বন্ধ করে দেওয়া হবে। আর যৌক্তিক জরুরি কাজ ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হলেই শাস্তির মুখে পড়তে হবে। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নে আগে যেহেতু সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কাজ করেও সুবিধা করতে পারেনি, তাই এবার প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরামর্শক কমিটিতে জোর দিয়েই বলা হয়েছে, মাত্র ১৪ দিন যদি কার্যকরভাবে সব কিছু বন্ধ রাখা যায় তবেই সুফল মিলবে। এমনকি আসন্ন ঈদুল আজহা ভালোভাবে কাটানো যাবে। তা না হলে সংক্রমণ দীর্ঘমেয়াদি হবে এবং মৃত্যু বাড়বে। একই সঙ্গে ভোগান্তি বাড়বে এবং কোরবানির ঈদ বিপর্যস্ত অবস্থায় কাটাতে হবে।

সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র বলেন, যেহেতু কোনোভাবেই সংক্রমণ মোকাবেলায় নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না, কঠোর বিধি-নিষেধ কিংবা লকডাউনও মানুষ মানছে না, জীবন-জীবিকার অজুহাত তুলে সরকারকে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ দিয়ে সব কিছু খুলে দিতে বাধ্য করছে, এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত টিকারও ব্যবস্থা সরকার করতে পারছে না তাই শেষ ভরসা হিসেবে সংক্রমণ ছড়ানোর প্রধান ক্ষেত্র মানুষ থেকে মানুষকে বিচ্ছিন্ন করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।

সূত্রগুলো বলছে, আগে লকডাউন দেওয়া হলেও বিভিন্ন মহল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অঙ্গীকার করে সরকারের কাছ থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাত নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার আগেই খোলার অনুমতি আদায় করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সদস্য বলেন, এর আগে গত বছর প্রথম দফা লকডাউনেই ভালো সাফল্য মিলেছিল, কিন্তু পরের কোনো লকডাউনই পুরো মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। নানা কারণে মাঝপথে গিয়ে হাল ছেড়ে দিতে হয়েছে। আবার স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে যেভাবে প্রস্তাব দেওয়া হয়, সেটাও অন্যরা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না। ফলে প্রতিবারই কঠোর পদক্ষেপের কথা বলা হলেও বাস্তবে দু-এক দিন পরে তা ঢিলে হয়ে যায়।

পরামর্শক কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, “সভায় মূলত ‘কারফিউ’ নিয়েই আলোচনা হয়েছে, কিন্তু ওই শব্দটির সঙ্গে যেহেতু অনেক স্পর্শকাতর বিষয় জড়িত থাকে তাই ‘কারফিউয়ের’ সিভিল রূপ হিসেবে ‘শাটডাউন’ শব্দ বলা হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বিষয়টিকে যেভাবেই দেখি না কেন, বাস্তব অবস্থা এখন খুবই খারাপ। যার পরিবারে কেউ মারা যাচ্ছে তারা ঠিকই বুঝতে পারছে, অন্যরা হয়তো বুঝতে পারছে না।’

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু : ‘শাটডাউন’ নিয়ে কৌতূহলের মধ্যেই গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া গেছে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হিসাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু ১০৮ জনের তথ্য। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার হিসাবে এই ১০০-এর বেশি লোকের মৃত্যু ছাড়াও নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ৮৬৯ জন। সেই সঙ্গে দৈনিক শনাক্তের হার বেড়ে হয়ে গেছে ২১.২২ শতাংশ। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে আট লাখ ৭৮ হাজার ৮০৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ১৩ হাজার ৯৭৬ জন এবং সুস্থ হয়েছে সাত লাখ ৯৭ হাজার ৫৫৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মারা গেছে খুলনায়। ১০৮ জনের মধ্যে ওই বিভাগেরই ২৭ জন। আগের দুই দিনও খুলনায় বেশি মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ২৫ জন, চট্টগ্রামে ২৩ জন, রাজশাহীতে ১৬ জন, সিলেটে তিনজন, রংপুরে ১০ জন এবং ময়মনসিংহে চারজন মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ৭৫ জন পুরুষ এবং ৩৩ জন নারী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েড হত্যায় পুলিশ কর্মকর্তার সাড়ে ২২ বছর জেল

বিদেশের খবর : যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি জর্জ ফ্লয়েডকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শাউভিনকে সাড়ে ২২ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে এ কথা জানানো হয়েছে।

বিচারক কাঠগড়ায় বসে থাকা শাউভিনের উদ্দেশে বলেন, ‘কর্তৃত্ব ও আস্থার অবস্থানে থেকে এর অপব্যবহার করেছেন’ এবং যে ‘সুনির্দিষ্ট নিষ্ঠুরতা’ আপনি দেখিয়েছেন তার ভিত্তিতে আপনার শাস্তি নির্ধারিত হলো।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের আইনি ভিন্নতার পরিপ্রেক্ষিতে সাড়ে ২২ বছরের মধ্যে ১৫ বছর সরাসরি কারাবরণের পর বাকি সাড়ে সাত বছর পর্যবেক্ষণে থেকে কারামুক্ত থাকবেন তিনি। এ ছাড়া শাস্তির অংশ হিসেবে তাঁকে আজীবন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

দ্বিতীয়-মাত্রার হত্যার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ফ্লয়েডকে হাঁটুর নিচে চেপে ধরে রাখা পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শাউভিন। মিনিয়াপোলিসের শিকাগো স্ট্রিটে টানা ৯ মিনিট ফ্লয়েডের ঘাড়ের ওপর হাঁটু রেখে মাটিতে চেপে ধরে রাখলে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়। এ সময় ফ্লয়েড চিৎকার করে বলেছিলেন, তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না।

এক তরুণীর করা এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ৪৮ বছর বয়সী ফ্লয়েড হত্যার বিচার দাবিতে কৃষ্ণাঙ্গ অধিকার আন্দোলন শুরু হয়।

ফ্লয়েডের নাগরিক অধিকার হরণের দায়ে ডেরেক শাউভিন ও অপর তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আলাদাভাবে বিচার কাজ শুরু হয়। চাকরিচ্যুত হন ৪৫ বছর বয়সী পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শাউভিন।

২২ পৃষ্ঠার রায় ঘোষণার সময় বিচারক পিটার কাহিল উল্লেখ করেছেন, আবেগ কিংবা জনমতের ভিত্তিতে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তি নির্ধারিত হয়নি।

ডেরেক শাউভিনের আইনজীবী বলেন, ‘দায়িত্ব পালনকালে ভালো উদ্দেশে কাজ করতে গিয়ে ভুল হয়েছে।’

জর্জ ফ্লয়েডের পরিবারও এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাঁরা একে স্বাগত জানিয়েছেন। ফ্লয়েডের আইনজীবী বেন ক্রাম্প টুইট করে বলেছেন, ‘ঐতিহাসিক এই রায় ফ্লয়েড পরিবার ও গোটা জাতিকে জবাবদিহিতার স্বস্তির বার্তা দিয়েছে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রতি ঘণ্টায় ছাপা হয় কোটি টাকার জাল স্ট্যাম্প

দেশের খবর : দুই বছর আগে রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় উন্নতমানের ছাপাখানা বসিয়ে গোপনে জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প তৈরি শুরু করে একটি চক্র। প্রতি ঘণ্টায় তারা প্রায় কোটি টাকার জাল স্ট্যাম্প ছাপতো। পরে এগুলো নিজস্ব এজেন্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হতো সারাদেশে। যথাযথ নজরদারির অভাবে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও বিক্রি হত এসব জাল স্ট্যাম্প। দেখতে হুবহু আসলের মতো হওয়ায় বোঝারও কোনো উপায় ছিল না। ফলে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়ে আসছিল সরকার।

জাল স্ট্যাম্প তৈরিতে জড়িত একটি বড় চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি)পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন, আবু ইউসুফ ওরফে পারভেজ ওরফে রানা, আতিয়ার রহমান সবুজ, নাসির উদ্দিন ও নুরুল ইসলাম ওরফে সোহেল। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০ কোটি দুই লাখ ২৪ হাজার টাকা মূল্যমানের (১৩ লাখ ৪০ হাজার পিস) জাল স্ট্যাম্প এবং এক লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকার (১৯ হাজার ৪৮০টি) কোর্ট ফি জব্দ করা হয়। সেইসঙ্গে পাওয়া গেছে শতাধিক কোটি টাকার জাল স্ট্যাম্প তৈরির কাগজও।

রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, চক্রটি ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কম্পিউটার ও রঙিন প্রিন্টার ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে জাল স্ট্যাম্প ছাপিয়ে আসছিল। এরপর দ্রুত বড়লোক হওয়ার আশায় তারা মাতুয়াইলে জার্মানির ছাপাখানা বসিয়ে বড় পরিসরে জালিয়াতি শুরু করে। নজরদারির দুর্বলতার কারণেই তারা এ ধরনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। প্রথম পর্যায়ে তারা কোনো ছাপাখানায় বিভিন্ন মূল্যমানের জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প ছাপায়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ছাপানো স্ট্যাম্পগুলো চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে পাইকারি বিক্রেতা ভেন্ডারদের কাছে পৌঁছানো হয়। তৃতীয় পর্যায়ে তা যায় সারাদেশের খুচরা বিক্রেতাদের কাছে। চক্রটি বিভিন্ন গার্মেন্টস, ফ্যাক্টরি, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ডাকঘর, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে এসব জাল স্ট্যাম্প ও কোর্ট ফি বিক্রি করে আসছিল। এসব স্ট্যাম্প অফিস টু অফিস নগদ টাকায় বিক্রি ও সরবরাহ করা হত। সাধারণত কেউ স্ট্যাম্পের দিকে বিশেষ খেয়াল করেন না। কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানেরও বিশেষ নজরদারি নেই।

ডিবির এ শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, জাল স্ট্যাম্প তৈরির ধাপগুলো এতটাই নিখুঁত ছিল, খালি চোখে তা ধরার কোনো সুযোগই ছিল না। কাগজগুলো হুবহু একই রকম। আসল স্ট্যাম্প আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির মেশিনের নিচে ধরলে কালো রেখা দৃশ্যমান হয়। জাল স্ট্যাম্পের ক্ষেত্রে তা হয় না। এছাড়া আসল স্ট্যাম্পের ‘জিওবি’ লেখাটি চকচক করে, জাল স্ট্যাম্পের করে না। নকল এড়াতে স্ট্যাম্প ও কোর্ট ফি ডাকঘর, ব্যাংক ও রেজিস্টার্ড কোনো স্থান থেকে কেনার পরামর্শ দেন তিনি।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় এখনও জিপিও বা পোস্ট অফিসের কারও সম্পৃক্ততার বিষয়টি পাওয়া যায়নি। তবে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এ চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তারা জাল স্ট্যাম্প- কোর্ট ফি বানানোর কাগজ কোথায় থেকে সংগ্রহ করত, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।

না জেনে জাল স্ট্যাম্প ব্যবহারকারীরা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কি-না? জানতে চাইলে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, এখনই এ ব্যাপারে বলা যাচ্ছে না।

ডিবি জানায়, রাজধানীর মাতুয়াইল দক্ষিণপাড়ার ৬৮/৩ নম্বর ‘জননী হাউজে’ জনৈক শাহ আলমের বাসার নিচতলায় জাল স্ট্যাম্প ও কোর্ট ফি তৈরির ছাপাখানা বসিয়েছিল জালিয়াতি চক্র। সেই ছাপাখানাটি সিলগালা করা হয়েছে। চক্রের মূল হোতা আবু ইউসুফসহ গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা হয়েছে।

তাদের কাছ থেকে স্ট্যাম্প ও কোর্ট ফি ছাড়াও আরও পাওয়া গেছে, জাল স্ট্যাম্প বিক্রির নগদ তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা, ১১৪ গ্রাম ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, আটটি মোবাইল ফোন, একটি পেনড্রাইভ, ডাক বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১১টি নকল সিল, দু’টি স্ট্যাম্প পরীক্ষার ইলেকট্রিক মেশিন, ডাক বিভাগের রশিদের কপি ৩০০ পাতা, দুইটি কাটিং মেশিন, একটি ডাই কাটিং মেশিন, একটি পোলার পেপার কাটিং মেশিন, তিনটি মাল্টি ফাংশন ম্যাগনিফায়িং মানি ডিটেক্টর, এক কোটি পাঁচ লাখ ৪০ হাজার টাকার ১৮টি চেকের পাতা ও আসামি আবু ইউসুফ রানার নামের তিনটি ব্যাংকের চেকবই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘ভোট না দেওয়ায়’ অণ্ডকোষ চেপে নির্যাতনের অভিযোগ

রাজনীতির খবর : সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার অভিযোগে পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী ও তার সমর্থকরা এক দিনমজুরকে পিটিয়ে ও অণ্ডকোষ চেপে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভীমেরপার পশ্চিম বেজহার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন নির্যাতিত দিনমজুরের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন।

নির্যাতিত দিনমজুরের বরাত দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি নিজ ওয়ার্ডের বিজয়ী প্রার্থী হাবিবুর রহমানের সমর্থক। গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ভীমেরপার পশ্চিম বেজহার গ্রামের ইউপি সদস্য পদের নির্বাচনে পরাজিত মেম্বার প্রার্থী কামাল সরদার ও তার সহযোগীরা ভোট না দেওয়ার অভিযোগ এনে ওই ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও তার অণ্ডকোষ চেপে নির্যাতন করে। মুমূর্ষ অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ইউএনও আরো বলেন, ‘আহতের কাছ থেকে নির্যাতনের বিবরণ শুনে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

ভুক্তভোগী দিনমজুর ছাড়াও পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী ও তার সহযোগীরা একই গ্রামের জয় দাস, তাপস মন্ডল ও সাত্তার সরদার নামে তিনজনকে পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ করেছে সদ্য নির্বাচিত ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান।

গৌরনদী থানার পরিদর্শক মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়ে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেশের খবর : আগামী সোমবার (২৮ জুন) থেকে সারাদেশে সাত দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ প্রতিপালনে নামতে পারে সেনাবাহিনী। এ ছাড়া বিজিবি-পুলিশও এ সময় কাজ করবে।

শুক্রবার (২৫ জুন) রাতে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে এ তথ্য জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ২৮ তারিখ থেকে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউনের আওতায় থাকবে সারাদেশে। এরপরও আমরা প্রয়োজন হলে বাড়াবো। এটা যাতে সবাই কঠোরভাবে প্রতিপালন করে সে জন্য বেশ কড়াকড়ি থাকবে। সেজন্য পুলিশ, বিজিবি থাকবে, পাশাপাশি সেনাবাহিনীও থাকতে পারে। এ সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে আসতে পারবে না। বিস্তারিত শনিবার প্রজ্ঞাপনে জানানো হবে।

লকডাউনে যেসব জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে :

কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, কোডিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের (নদীবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এবং পণ্যবাহী ট্রাক বা লরিকে বোঝানো হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অনলাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাস সংক্রমণ (কোভিড-১৯) রোধে আগামী সোমবার (২৮ জুন) থেকে সাতদিন অর্থাৎ ৪ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে কঠোর লকডাউন পালন করা হবে।

শুক্রবার (২৫ জুন) রাতে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘এ সময় জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি, বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। জরুরি পণ্যবাহী যান ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত যানবাহন চলাচল করতে পারবে।’

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা বলেন, ‘জরুরি কারণ ছাড়া বাড়ির বাইরে কেউ বের হতে পারবেন না। গণমাধ্যম লকডাউনের আওতা বহির্ভূত থাকবে।’

শনিবার (২৬ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আদেশ জারি করা হবে বলেও জানান সুরথ কুমার সরকার।

দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও সংক্রমণ হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে গতকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশে ১৪ দিনের পূর্ণ শাটডাউন দেয়ার সুপারিশ করে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিল সরকার। যদিও এর আগে থেকে বিধিনিষেধ জারি ছিল, যেটির মেয়াদ রয়েছে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত।

এর মধ্যে অবনতিশীল করোনা পরিস্থিতিতে সীমান্তের জেলাগুলোতে লকডাউন দেয়া হচ্ছিল। সর্বশেষ ২২ জুন থেকে ঢাকার আশপাশের মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ-এই সাত জেলায় কঠোর লকডাউন (বিধিনিষেধ) দেয়া হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় ঢাকার সঙ্গে বাস, লঞ্চ ও রেল যোগাযোগ।

শুক্রবার (২৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ১০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর আগে ১৯ এপ্রিল দেশে একদিনে সর্বোচ্চ ১১২ জনের মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছিল।

একই সময়ে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও ৫ হাজার ৮৬৯ জন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest