সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় নির্মাণাধীন ভবনের সাব-কন্টাক্টরের কাছে চাঁদা দাবি : থানায় অভিযোগতালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: সার সংকট, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে গুরুত্বারোপদেবহাটায় শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে খেলাভিত্তিক সেশন পরিদর্শনসাতক্ষীরায় আবাসিক হোটেল-রেস্তোরাঁ – বেকারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময়সাতক্ষীরায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী হ%ত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতারশ্যামনগরে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মানববন্ধনএবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধনএডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম এর সুস্থতা কামনায় সাতক্ষীরায় দোয়া

নিজস্ব প্রতিনিধি : স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জননেতা কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এর সুস্থতা কামনা করে মঙ্গলবার (২২ জুন ২০২১) বাদ আছর সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নলকুড়া কাসিমুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা ইলিয়াস খান। জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ও লাবসা নলকুড়া কাসিমুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার মোতায়ালি শেখ এজাজ আহম্মেদ স্বপন এর উদ্যেগে আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ মীর মুনারুল হক, হাফেজ খালিদ ইমাম, সাবেক সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা শেখ ইশতিয়াক আহম্মেদ, সাতক্ষীরা সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক খন্দকার আনিসুর রহমান তাজু, ছাত্রলীগ কর্মী তৌকির রহমান, এজাজ, আহছান প্রমুখ।

 

এসময় মাদ্রাসা ও এতিম খানার ছাত্ররা উপস্থিত ছিলেন। জননেতা কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝে এমপি জগলুল হায়দারের পক্ষ থেকে ত্রান বিতরণ

শ্যামনগর প্রতিনিধি :শ্যামনগরে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া উপহার হিসেবে সাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার এমপির সৌজন্যে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে গত ২২ জুন মঙ্গলবার সকাল দশটার সময় উপজেলা সদরে সংসদ সদস্যের বাসভবনে এস এম জগলুল হায়দার এমপি সাহেবের পক্ষ থেকে শ্যামনগর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক ও নকিপুর ক্রিকেট জায়ান্টের চেয়ারম্যান এমপি পুত্র এস এম সায়েদ বিন হায়দার রাজিব স্বাস্থ্য বিধি মেনে কর্মহীন অসহায় দুইশত পরিবারের মাঝে এই ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেন।ত্রান বিতরণের সময়

অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ন সম্পাদক এম আব্দুর রহমান বাবু উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ও সিডিওইউথ টিমের পরিচালক গাজী আল ইমরান,উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গাজী একরামুল হক লায়েস,নকিপুর ক্রিকেট জায়ান্টের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ফেরদাউস হায়দার, সমাজ সেবক সাংবাদিক মোহাম্মদ আলি, আব্দুল আলিম, মিলন, হাসান প্রমুখ এসময় নিম্ন আয়ের দুই শত পরিবারের মাঝে চাউল ডাউল আলু সহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গাছের চারা বিতরণ

সাতক্ষীরায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২৯২২টি গাছে চারা বিতরণ করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। জেলা কমান্ড্যান্ট এর কার্যালয়ের সবুজ চত্বরে মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম বিপি ওএসপি এনডিসি পিএসসি এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সাতক্ষীরার এর উদ্যোগে অত্র জেলাধীন সাতটি উপজেলা ১৪৬১টি গ্রাম ২টি করে মোট২৯২২ টি গাছ চারা উপজেলায় পর্যায়ের সদস্যদের হাতে ১৪৬১ফলজ ও ১৪৬১ভেষজ গাছের চারা তুলে দেন জেলা কমান্ড্যান্ট মোরশেদা খানম ।

এসময় আনসারের সরকার ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষে গ্রাম পর্যায়ে আনসার ও ভিডিপির কমান্ডার, দলনেতা ও অন্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরা জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মুর্শিদা খানম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী মুজিববর্ষ উপলক্ষে আনসার ভিডিপির মহাপরিচালকের নির্দেশক্রমে আমরা আমাদের সদস্যদের মাধ্যমে সাতটি উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করছি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঘটনার রাতে বোট ক্লাবে পরীমণির মদ খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল

বিনোদন ডেস্ক : বোট ক্লাবে পরীমণির সেই মধ্যরাতের ঘটনার আরেকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে পরীমণি ক্লাবে ঢুকেই বারের সামনে চেয়ারে বসে তার সঙ্গীদের নিয়ে মদ পান করছেন। এই সময় দূর থেকে বোট ক্লাবের পরিচালনা পরিষদের সদস্য নাসির ইউ মাহমুদ তাকে মদ পান করতে বারণ করেন। তখন পরীমণি একটি বোতল নিতে চাইলে নাসির ইউ মাহমুদ বলেন, আপনি কোনো বিদেশি মদ নিতে পারবেন না। এখানেও তাকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন পরিচালনা পরিষদের সদস্য।

এই ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। জানা গেছে, পরীমণি মদ পানে বাধা পেয়েই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এরপর ক্ষুব্ধ পরীমণি ক্লাবে ভাঙচুর চালান। গ্লাস, প্লেট ভাঙেন এবং নাসির ইউ মাহমুদের দিকে বোতল ছুড়ে মারেন। এক পর্যায়ে নাসির মাহমুদ ক্ষুব্ধ হয়ে পরীমণিকে চড় মেরে বসেন। পরবর্তীতে পরীমণিও সংবাদ সম্মেলনে চড় মারার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন।
চিত্রজগতের অনেকেই বলছেন, চড় মারার ক্ষোভ থেকেই বাকি সব কিছু করেছেন পরীমণি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেশের খবর : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ৭৬ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩ হাজার ৭০২ জনে।

এই সময়ে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও চার হাজার ৮৪৬ জন। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট লাখ ৬১ হাজার ১৫০ জনে।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৫ হাজার ২৮টি। শনাক্তের হার ১৯.৩৬ শতাংশ।

মঙ্গলবার (২২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

বিস্তারিত আসছে…

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তাহসান আজও বন্ধু, রোজ কথা হয় : মিথিলা

বিনোদন ডেস্ক : দুই বাংলায় ব্যাপক আলোচিত অভিনেত্রী মিথিলা বলেছেন, তাহসান আমার প্রাক্তন স্বামী। আমরা আজও বন্ধু। আমাদের রোজ কথা হয়। মানুষকে বুঝতে হবে আমরা দুজনে এক বাচ্চার বাবা-মা। আমাদের সম্পর্কটা এখন বন্ধুর মতো। আর এই সম্পর্ক আয়রার জন্য খুব জরুরি।

তিনি বলেন, আমার আর তাহসানের স্বাভাবিকতার জন্যই আয়রা আমায় আজ বলতে পারে, ‘মা আমি বাবার কাছে যাব’। আমার অন্যান্য বন্ধুদের তো দেখেছি বিবাহ বিচ্ছেদের পরে পারস্পরিক সম্পর্ককে তাঁরা এত তিক্ত করেছে যে তার প্রভাব বাচ্চার ওপর এসে পড়েছে। আয়রা সেখানে স্বাভাবিক পরিবেশে বড় হচ্ছে। তবে এখন আয়রার স্কুল আর নতুন বই নিয়ে চিন্তায় আছি। কলকাতার সংসারটাও গোছাতে হবে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন দুই বাংলায় ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত অভিনেত্রী মিথিলা।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন ঢাকার মডেল ও অভিনেত্রী মিথিলা। বিপরীতে তার প্রাক্তন স্বামী জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান এখনও সিঙ্গেলই আছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মিথিলা বলেন, হিসেব মতো বিয়ের পরে আমি আর সৃজিত ৭ থেকে ৮ মাস একসঙ্গে থেকেছি।এরকম হয়েছে, আমি আর আয়রা হয়তো কলকাতায় তখন সৃজিতকে শ্যুটিং-এ যেতে হয়েছে। আবার আমি কাজে ঢাকায় চলে এসছি। আমরা দুজনেই এত ব্যাস্ত! তারপরে এই অতিমারি। কিছু ভাবতেই দিচ্ছে না। এই তো এ বছর এপ্রিল থেকে আমরা ঢাকায়। কিন্তু এ বার কলকাতায় আয়রার স্কুল খুলে যাচ্ছে।অনলাইনে ক্লাস সম্ভব হলেও ওর নতুন বইপত্র সব কলকাতায় পড়ে আছে। কী যে করব! বর্ডার বন্ধ। আমি আর সৃজিত রোজই আমাদের যাওয়া নিয়ে আলোচনা করি।ও যে ঢাকায় আসবে, তাও তো হবে না। ঢাকায় এখন করোনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসছে। আমি বর্ডার (সীমান্ত) খুললে জুলাইতে যাওয়ার চেষ্টা করব। তখন শুনছি সৃজিত শ্যুটে মুম্বইতে থাকবে।যা অবস্থা, অনেক দূরের কথাও আগে থেকে ভাবছি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে মিথিলা বলেন, সৃজিত আর আমার মিলন বিচ্ছেদের কোনও প্রশ্ন নেই।এই অতিমারির নানা নিয়ম পেরিয়ে আমরা কী ভাবে একসঙ্গে থাকব সেটা নিয়েই রোজ ভাবি।আলোচনা করি। আমাকে সৃজিতকে নিয়ে বা আমার বিয়ে নিয়ে আজ নয়, ভারত আর বাংলাদেশ দু দিকেই নেটমাধ্যমে অজস্র কটাক্ষের শিকার হচ্ছি।তবে সাম্প্রতিক কালে অরুচিকর কথা বেড়েছে। আমাকে ‘অসভ্য’ বলে মানুষ নিজে যে অসভ্যতার পরিচয় দিচ্ছে সেটা আগামী পৃথিবীর জন্য একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়।

বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আক্ষেপ করে পশ্চিমবঙ্গের সংবাদপত্রকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী মিথিলা আরও বলেন, বাংলাদেশে তো মানুষের সবচেয়ে বেশি রাগ আমার ওপর।মানুষ প্রশ্ন করছেন মেয়ে হয়ে কেন আমি বিবাহ বিচ্ছেদ করলাম?মেয়েদের নাকি এ সব করতে নেই। তাহসানের ওপর কিন্তু মানুষের রাগ নেই।রাগ যত আমার ওপর। আমি কেন বিয়ে করলাম? আর সৃজিত তো ইসলাম ধর্মীও নয়। আমি বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে কলুষিত করেছি। আমি নাকি ‘চরিত্রহীন মা’। এই ‘অসভ্য’ মা ‘অসভ্য’ জাতির জন্ম দেবে। এবার কিন্তু সময় এসেছে আমরা সবাই একসাথে মিলে, অনলাইন তথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই হয়রানি বন্ধ করার উদ্যোগ নিই। হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হোক সমস্বরে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এরমধ্যে আটজন উপসর্গ ও একজন করোনায় আক্রান্ত ছিলেন।

মঙ্গলবার (২২ জুন) সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিস বিষয়টি নিশ্চিত করে।

তারা জানান, একই সময়ে জেলায় নতুন করে ৮৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার দুইজনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৮২ জন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছয়জন ও বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন একজনকে খুলনায় পাঠানোর পর সেখানে মৃত্যু হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সফলতার মুখ দেখেছেন দেবহাটার ৫ নারী

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা : জীবন সংগ্রামে সমাজ, পরিবারের নানা বাধা কাটিয়ে সফলতার মুখ দেখেছেন দেবহাটার ৫ নারী। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এসব নারীদের ৫টি ক্যাটাগরীতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’’ শীর্ষক কর্মসূচীর আওতায় খুঁজে বের করে সম্মাননা প্রদান করেছে। এসব নারীদের আত্মতৃপ্তি ও অনুস্মরণীয় করতে তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এদের জীবনে রয়েছে আলাদা আলাদা জীবন কাহিনী। তাদের সেই সংগ্রামের কাহিনী ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরা হলো:

সফল জননী ফরিদা হক। সফল জননী অভাব, অনটন ও বঞ্চনার করাল গ্রাস থেকে বেরিয়ে আসা জয়িতাদের সাফল্যের গল্পগুলো আসলেই ঈর্ষণীয়। দৃঢ় মনোবল, অদম্য সাহস, সততা আর আপন কর্মকে সঙ্গী করে জীবন যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তারা আজ উদ্ভাসিত পাশাপাশি অনুকরনীয় দৃষ্টান্তও বটে। তাদেরই একজন মিসেস ফরিদা হক। বয়স ৬৫’র কোঠায়। জীবনযুদ্ধে সংগ্রাম করে আজ তিনি গর্বিত। শুধু তাই নয়, সফল জননী হওয়ার গৌরবও অর্জন করেছেন তিনি। সফল এ জননী “জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ” শীর্ষক কর্মসুচির আওতায় সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলায় উপজেলা পর্যায়ে সফল জননী নারী ক্যাটাগরিতে নিবার্চিত হয়েছেন। শুধু তাই নয় , সাতক্ষীরা জেলায় জেলা পর্যায়ে সফল জননী হওয়ার গৌরবও অর্জন করেছেন তিনি। জয়িতা এ নারী ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা, মহকুমা বশিরহাটের সন্দেশখালির পায়রাটুনি গ্রামে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মৃত মুন্সি নুর উদ্দীন আহমেদ ও মা মৃত শরিফুন্নেসা’র কোল আলোকিত করে ১৯৫৫ সালের ১৫ই অক্টোবর মিসেস ফরিদা হক জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। আমতলী সরকারি প্রাইমারি স্কুলে প্রাথমিক স্তর শেষ করেন। এরপর আমতলী হাইস্কুলে ভর্তি হন। ১৯৬৯ সালে তিনি অষ্টম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। একই বছরে অর্থাৎ ১৯৬৯ সালে ফরিদা হকের বাবা তার জন্মস্থান অর্থাৎ ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা থেকে বিনিময় সূত্রে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বদরতলা গ্রামে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বদরতলা আসার পর ফরিদা হক’কে তার বাবা স্থানীয় হাইস্কুলে নবম শ্রেনিতে ভর্তি করে দেন। কিন্তু তিনি পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারেননি। প্রথমত এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তর, এরপর ৫ ভাই ও ৫ বোনের বড় সংসার, সবাইকে পড়ালেখা শেখানো, সংসারের খরচ যোগানো তার বাবার পক্ষে সম্ভব হয়নি। যে কারনে ফরিদা হকের লেখাপড়ার অদম্য ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তার ইচ্ছা পূরণ হয়নি। এরপর ১৯৭৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পারিবারিকভাবে দেবহাটা উপজেলার দেবহাটা ইউনিয়নে টাউনশ্রীপুর গ্রামের আব্দুল হকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তখনও তার স্বামী ছাত্র ছিলেন (মানিকগঞ্জ জেলার দেবেন্দ্র কলেজে বি.কম পড়তেন)। শ্বশুরবাড়ীতে যৌথ সংসার, শ্বশুর শ্বাশুড়ী, দেবর, ননদ তাদের সন্তানরা সব মিলিয়ে অনেক লোকজন। তাদের জন্য রান্না করা, খাওয়ানো, তাদের পরিচর্যা করা সব মিলিয়ে সারা দিনে অনেক পরিশ্রম হতো। এর মধ্যে ১৯৭৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তার প্রথম সন্তান ও ৯ বছরের মধ্যে আরও ২ সন্তান জন্মগ্রহণ করে। লেখাপড়ার অদম্য ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রথমত যৌথসংসার, দ্বিতীয়ত স্বামীর উপার্জন না থাকায় সংসার জীবনটা অনেক টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। তাই তিনি স্বপ্ন দেখেন সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মত মানুষ করার। এরপর তার স্বামী ১৯৭৮ সালের ১২ জুন উপজেলা কৃষি অফিসে প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক পদে চাকুরী লাভ করেন। সবশেষ তিনি দেবহাটা উপজেলার কৃষি অফিসে কর্মরত ছিলেন, বর্তমানে অবসরকালিন জীবন যাপন করছেন। স্বামীর চাকুরী লাভের পর একটু আশার আলো সামনে ভেসে ওঠে। এদিকে আস্তে আস্তে ছেলেমেয়েরাও বড় হতে থাকে, তারা স্কুলে যাওয়া শুরু করে। স্বামীর সামান্য উপার্জনে সংসার চালানো, ছেলে মেয়ের পড়া লেখার ব্যয় ভার চালানো খুবই কষ্টসাধ্য ছিল। তখন তিনি সংসার সামলানো, সন্তান লালন পালনের পাশাপাশি হাঁস মুরগী ও ছাগল পালন করা শুরু করেন। হাঁস মুরগী যে ডিম দিত সে ডিম সন্তানদের পুষ্টিকর খাবারের জন্য কিছু রেখে বাকীটা বিক্রি করতেন, মুরগী একটু বড় করে মাংসের জন্য বিক্রি করতেন, একই সাথে ছাগল বড় করে বিক্রি করতেন। এসব বিক্রয় লব্ধ অর্থ তিনি সন্তানদের পড়া লেখার পিছনে ব্যয় করেছেন। স্বামী চাকুরী করার কারণে বাহিরে বেশী সময় দিতেন। সংসার পরিচালনা ও সন্তানদের পড়ালেখার পেছনে সময় দিতে পারতেন না। এ কারণে তিনি নিজেই সন্তানদের লেখাপড়ার দেখভাল করা সহ সংসার পরিচালনার যাবতীয় দায়িত্ব বহন করতেন। দিনে সময় না পেলেও রাতে সন্তানরা যখন পড়ালেখা করতো তখন তিনি রাত জেগে সন্তানদের পাশে বসে থাকতেন, একই সাথে সব সময় সন্তানদের উৎসাহ দিতেন। যত কষ্টই হোক কঠোর পরিশ্রম এবং সংগ্রামের মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে হবে, একই সাথে জীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে হবে। এরপর তার বড় ছেলে আরিফ-উজ জামান স্থানীয় টাউনশ্রীপুর শরচ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এস.এস.সি, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে এইচ.এস.সি পাশ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায় এবং ছোট ছেলে আখতার উজ্জামান ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে পড়াশোনা করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (ইটঊঞ) এ চান্স পেয়ে যায়। তৃতীয় সন্তান অর্থাৎ তার একমাত্র কন্যা তামান্না নাসরিন উর্মি খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়। ফরিদা হক আরো জানান, বড় ছেলে মাস্টার্স পাশ করার পর পরই ২৪ তম বি.সি.এস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে যোগদান করেন, পরবতীর্তে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হন। এরপর ২৭ তম বি.সি.এস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে চাকুরী পান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হিসেবে ঝিনাইদহ জেলায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি যশোর জেলা পরিষদের প্রধান কার্যনির্বাহক (সিইও)পদে কর্মরত আছেন। বড় ছেলের স্ত্রীও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়াতে বাংলা বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত আছেন। ছোট ছেলে বুয়েট থেকে পাশ করার পর সফ্টওয়ার ইঞ্জিনিয়ার পদে, সেফালো বাংলাদেশ লিঃ, ঢাকাতে কর্মরত। ছোট ছেলের স্ত্রীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছে। তৃতীয় সন্তান অর্থাৎ তার একমাত্র কন্যাও ৩০ তম বি.সি.এস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে চাকুরী পান, ভূমি জরিপ চার্জ অফিসার হিসেবে (উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পদ মর্যাদা), রাজশাহী জোনে কর্মরত আছেন। তার স্বামী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হিসেবে নাটোর জেলায় কর্মরত আছেন। জীবনযুদ্ধে জয় করে সফল জননী ‘জয়িতা’ সম্মাননা অর্জন বিষয়ে ফরিদা হক আরো বলেন, আমার সন্তানদের জন্য আমি ও আমার পরিবার গর্বিত। আমার সন্তানরা স্ব স্ব অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত আজ। এর পেছনে আমার পাশাপাশি আমার স্বামীরও অনেক অবদান আছে। জীবনযুদ্ধের কঠিন সময়ে ফরিদা হকের দৃঢ় মনোবল, অদম্য সাহস, সততা আর কর্মের ফলে আজ তার সন্তানদের এ অবস্থান। ফরিদা হকের এ সম্মাননায় তার সন্তানরাও গর্বিত।

অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী সাজু পারভীন। সে সখিপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের কন্যা। দরিদ্র পরিবারে জন্ম হওয়ায় ৮ম শ্রেণির পর পিতামাতা তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। বিয়ে হলেও সে সুখে শান্তিতে শ্বশুরবাড়ি ঘর সংসার করতে পারিনি। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ীর লোকদের দ্বারা অনেক ভাবে নির্যাতিত হতে থাকে সে। পিতা দরিদ্র বলে সংসার করার জন্য কাউকে কিছু না বলে স্বামীর বাড়িতে আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করে সাজু। ততদিনে তার কোলে আসে ২ টি সন্তান। কিন্তু তার উপর নির্যাতনের মাত্রা দিনে দিনে বাড়তেই থাকে। পরে তার ভাই ও মা তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে আসে। এরপর সে হাসপাতালে ভর্তি হই এবং চিকিৎসা শেষে খানিকটা সুস্থ হই। তারপর থেকে সে তার বাপের বাড়িতে অবস্থান করে। সাজু পারভীন আরো জানান, আমাকে তালাক না দিয়ে স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় আমার ও আমার সন্তানদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সন্তানদের লেখাপড়া ও সংসার চালাতে অন্যের উপর নির্ভরশীল না হয়ে আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নেই আমাকে কোন কিছু করতে হবে। তাই আমি কাপড়ের ব্যবসা শুরু করি। প্রথমে পায়ে হেঁটে গ্রামে গ্রামে কাপড় বিক্রি করতাম। পরবতীর্তে আমি একটা ভ্যান ক্রয় করি এবং একজন লোক নিয়োগ করে ভ্যানে করে কাপড় বিক্রয় শুরু করি। তার কয়েক বছর পর আমি দেবহাটা উপজেলার সখিপুর মোড়ে প্রথমে একটা দোকান ভাড়া নিয়ে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করি। পরবতীর্তে আরও একটি দোকান নিয়ে জুতা, কসমেটিক্স এবং প্লাস্টিক সামগ্রী এর ব্যবসা শুরু করি। আমার দুটো দোকানের ব্যবসা খুবই ভালোভাবে চলছে। বর্তমানে আমি অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জন করেছি। আমার দেখাদেখি গ্রামের অনেকেই এ ব্যবসা শুরু করেছে। প্রথম সন্তান মেয়েটি বর্তমানে ৯ম শ্রেণির ছাত্রী এবং ছেলেটি ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। আমি নিজে পড়ালেখার সুযোগ না পেলেও আমার সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা লাভের পথের সব বাঁধা আমি দুর করতে চাই। আমার সংসারে উন্নয়নের জন্য সমাজে আমার গ্রহণ যোগ্যতা বেড়েছে। এছাড়াও বর্তমানে আমি আনসার ও ভি.ডি.পির উপজেলা মহিলা কোম্পানী কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন কারিমুন নেছা নামের আরও এক নারী। তিনি সখিপুর গ্রামের ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক মৃত লুৎফর রহমান সরদারের স্ত্রী। তিনি ১৯৫৯ সালে এস.এস.সি পাশ করেন এবং একই বছরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর ১৯৬০ সালে পরিবার পরিকল্পনার কাজ শুরু করেন, তখন থেকে শুরু হয় তার সমাজের মানুষকে নিয়ে কাজ করা। তার স্বামীর সাথে তখনকার বিভিন্ন নামকরা লোকেদের উঠা বসা ছিল, তারা বিভিন্ন সময় তাদের বাসায় আসত। তারমধ্যে কমরেড মনি সিং, জ্যোতি বসু (মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ) তাদের সান্নিধ্যে থেকে, তাদের খেদমতও করেছেন তিনি। কারিমুন নেছা আরো বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে খালিশপুর, খুলনা থেকে ৩ সন্তানকে নিয়ে পায়ে হেঁটে দেবহাটার সখিপুরে চলে আসি। এরপর ভারতের টাকিতে যখন মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প শুরু হয় তখন আমি বহু মুক্তিযোদ্ধাকে রান্না করে খাওয়ানো সহ সার্বিক সহযোগিতা করেছি। মুক্তিযুদ্ধ পরবতীর্কালে আমি অসহায় ও দরিদ্র ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগানো সহ সার্বিক সহযোগিতা করেছি। ৪০ জন গরীব মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার খরচ সহ সার্বিক সহযোগিতা করেছি। তারমধ্যে ৫ জন ডাক্তার, ৩ জন ইঞ্জিনিয়ার, কয়েক জন প্রফেসর এবং কয়েক জন বিভিন্ন জায়গায় সরকারি চাকুরি করছে। বর্তমানেও একজন মেধাবী ছাত্রকে পড়ালেখার খরচ সহ সার্বিক সহযোগিতা করছি। এছাড়া ১০ জন অসহায় গরীব ব্যক্তিকে বসতঘর বানিয়ে দিয়েছি। ৫০ টিরও বেশী ভ্যান গরীব অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে বিতরণ করেছি। আমার পরিবারও সমাজ উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডে নিয়োজিত আছে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সমাজ উন্নয়নে নিয়োজিত রাখবো নিজেকে ।

শিক্ষা ও চাকুরির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী রোজি সুলতানা। তিনি দেবহাটা সদরের সামসুজ্জামান খানের স্ত্রী। তিনি সাতক্ষীরা জেলার নেবাখালী গ্রামে ১৯৭৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী জন্মগ্রহন করেন। তার আমার পিতা মাতার অনুপ্রেরণা আর তাঁদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ছাত্রজীবনে কঠোর পরিশ্রম আর সাধনা করে যশোর বোর্ডের অধীন বাবুলিয়া জে.এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা হতে ১৯৮৯ সালে এস.এস.সি ২য় বিভাগে পাশ করি। ১৯৯১ সালে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ হতে এইচ.এস.সি ১ম বিভাগে পাশ করি। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে আমি বড় সন্তান। ১৯৯২ সালে পিতা সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয় এবং দীর্ঘ নয় মাস অসুস্থ অবস্থায় থাকার পর তিনি মারা যান। এরপর মাতাÍপিতার স্বপ্ন পূরণ আর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ও স্বাবলম্বী করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে সামনে এগিয়ে যায়। ১৯৯২ সালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে বি.এ ভর্তি হওয়ার পরে দেবহাটা উপজেলায় বিয়ে হয়। বিবাহিত জীবনে ১৯৯৩ সালে বি.এ পাশ করেন। ২০০৪ সালে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে দেবহাটা সরকারি বি.বি.এম.পি ইনষ্টিটিউশনে যোগদান করি। তারপর চাকুরিরত অবস্থায় ২০০৮ সালে যশোর সরকারি এম.এম কলেজ হতে উচ্চতর বিভাগে এম.এ পাশ করে পরবতীর্তে বি.এড ও এম.এড পাশ সম্পন্ন করি। বর্তমানে আমি সুনামের সহিত দেবহাটা সরকারি বি.বি.এম.পি ইনষ্টিটিউশনে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি। এছাড়া দুইটি কন্যা সন্তান আছে। বড় কন্যা বুশরা শিরিন দিশা সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে এম.এস.সি, প্রানিবিদ্যা বিভাগে পড়ছেন। আর ছোট কন্যা নাঈমা শিরিন দিপ্তী দেবহাটা সরকারি বি.বি.এম.পি ইনষ্টিটিউশন থেকে ২০২০ সালে গোল্ডেন এ+ পেয়েছে। বর্তমানে সে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়াশোনা করছে। সে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রশাসনের কাছ থেকে ৬০-৭০ টির বেশি পুরস্কার অর্জন করেছে। এ ছাড়াও শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে ২০১৮ সালে ঢাকা থেকে স্বর্ণকিশোরী উপাধী লাভ করেছে।

নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করেছেন নাছিমা বেগম। তিনি দেবহাটার কামরুল ইসলামের কন্যা। তার জীবনে রয়েছে এক দুঃখের সাগর। কেননা বিয়ের পর থেকে স্বামীর বাড়ীতে স্বামী ও শ্বশুড়ি নির্যাতন শুরু হয় তার। যতই দিন যেতে থাকে ততই নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে সে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০০৭ সালে স্বামীর সাথে তালাক হওয়ার পর মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসে। বাবার বাড়ী আসার পর থেকে মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে নাছিমা। কোন দিশা খুঁজে না পেয়ে বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে কাজ শুরু করে সে। যে আয় হয় তাতে তার সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখন বিভিন্ন স্থানে কাজের ফাঁকে যেয়ে কাজ খোঁজা শুরু করে নাছিমা। অনেক খোঁজা খুঁজির পর উপজেলায় যোগাযোগ করে সরকারি রাস্তার প্রকল্পের কাজ পায়। এরপর বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সে নিজেকে তৈরী করতে শুরু করে। কাজ করে যে টাকা আয় হয় সেই টাকা দিয়ে নিজের সংসার চালানো ও মেয়েকে লেখাপড়া চালাতে শুরু করে। মেয়েকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে যাতে ভালো চাকরি করতে পারে তার জন্য সে চেষ্টা করে যাচ্ছে। নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যেমে বাবার বাড়িতে সে বর্তমানে আর্থিক ও সামাজিক বিপন্নতা কাটিয়ে উঠেছে। বর্তমানে তার সুখে দিন কাটছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest