সর্বশেষ সংবাদ-
নক্ষত্রের অভিবাদন: শ্যামনগরে ১০ গুণী ব্যক্তিকে সংবর্ধনাসাংবাদিক পুত্র কাজী ফাহিমের অতুলনীয় সাফল্য : প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের অভিনন্দনসাতক্ষীরায় জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষের আবাসন, খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার নিশ্চিতে ১১ দফা দাবিসাতক্ষীরার সাংবাদিকপুত্র কাজী ফাইম আব্দুল্লাহর এইচএসসিতে গোল্ডেন এ-প্লাস অর্জনসাতক্ষীরায় নির্মাণাধীন ভবনের সাব-কন্টাক্টরের কাছে চাঁদা দাবি : থানায় অভিযোগতালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: সার সংকট, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে গুরুত্বারোপদেবহাটায় শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে খেলাভিত্তিক সেশন পরিদর্শনসাতক্ষীরায় আবাসিক হোটেল-রেস্তোরাঁ – বেকারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময়সাতক্ষীরায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী হ%ত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতারশ্যামনগরে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মানববন্ধন

শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের দোয়া

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস ১১ জুন। দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে এবং প্রধানমন্ত্রীর শারিরীক সুস্থতা কামনা করে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে শুক্রবার (১১ জুন ২০২১) বাদ জুম্মা দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি এস.এম আশিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. সুমন হোসেন এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সাতক্ষীরা শহরস্থ শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক জামে মসজিদে বাজ জুম্মা সকল মুসল্লী, সাতক্ষীরা জেলা, সদর উপজেলা, পৌরসভা ও সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেশের খবর : করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ হাজার ০৩২ জনে। এ সময় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪৫৪ জন।এ নিয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আট লাখ ২২ হাজার ৮৪৯ জন।এর আগে বৃহস্পতিবার করোনাভাইরাসে ৪০ জনের মৃত্যু ও শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫৭৬ জন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একই সময়ে সরকারি ও বেসরকারি ৫১০টি ল্যাবরেটরিতে ১৮ হাজার ৭৭৭টি নমুনা সংগ্রহ ও ১৮ হাজার ৫৩৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়ালো ৬১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৭৩টি।

আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনামুক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৮৬ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯১৬ জন।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভারত থেকে অবৈধভাবে প্রবেশ : সাতক্ষীরা সীমান্তে আটক ৩

আসাদুজ্জামান : করোনার উর্দ্ধগতি ঠেকাতে সাতক্ষীরায় বিশেষ লকডাউন চলাকালে ভারত থেকে অবৈধপথে দেশে প্রবেশের সময় সাতক্ষীরা ভোমরা সীমান্ত থেকে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করেছে বিজিবি।

বৃহষ্পতিবার রাতে সদর উপজেলার ভোমরা সীমান্ত থেকে তাদের আটক করা হয়। এনিয়ে, জেলার বিভিন্ন সীমান্ত থেকে এ পর্যন্ত তিন মানবপাচারকারীসহ ৫১ জনকে আটক করেছে বিজিবি। এদিকে, বিজিবির কঠোর নজরদারীর মধ্যেও ভারত থেকে অবৈধ পথে মানুষ দেশে প্রবেশ করায় ভারতীয় ভেরিয়েন্ট সংক্রমনের আতংক বাড়ছে জেলা বাসীর মাঝে।

আটককৃতরা হলেন, খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার পাটনাখালি গ্রামের মহাদেব মন্ডলের ছেলে ক্ষীতিশ মন্ডল (৩৫), তার স্ত্রী মুক্তা মন্ডল (২৬) ও শিশু কন্যা প্রেমা মন্ডল (১০)।

বিজিবি সাতক্ষীরাস্থ ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ আল মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের জেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে সদর উপজেলার পদ্মশঁখরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সেখানে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন শেষে তাদের সদর থানায় সোপর্দ করা হবে। তিনি আরো জানান, করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমন ঠেকাতে সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারী জারী করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় কমছেনা সংক্রমণ, চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ব্যাপকহারে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের দাবি

আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরায় কিছুতেই কমছেনা করোনা সংক্রমণ। এরই মধ্যে চিকিৎসক ও নার্স সংকটে আরো প্রকট হয়ে উঠেছে হাসপাতালগুলো। ভাইরাসটির পরীক্ষার জন্য বেশী বেশী র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের দাবি তুলেছেন সচেতন মহল।

অন্যদিকে, সাতক্ষীরায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই করোনা চিকিৎসায় সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত প্রটোকল মানা হচ্ছে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণের অপ্রতুলতার পাশাপশি এসব ব্যবহারে চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের অনীহা দেখা যাচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে পিপিইর ব্যবহার নেই বললেই চলে। সংক্রমণ বৃদ্ধিতে এসবরে ভূমিকাও কম নয় বলে মনে করছে সচেতন মহল। আক্রান্ত রোগীর বাড়ি লকডউন ও আইসোলেশনের উদ্যোগও খুবই কম।

গত এক সপ্তাহ যাবত সাতক্ষীরায় করোনা সংক্রমনের হার ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৫৯ শতাংশ উঠানামা করছে। গত ২৪ ঘন্টায় ২১১ জনের নমুনা পরীক্ষা শেষে ১১১ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। যা সংক্রমনের হার ৫২.৬০ শতাংশ। এনিয়ে, জেলায় আজ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২ হাজার ২৫৬ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় দুই জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে ও ৫ জন উপসর্গে মারা গেছেন। করোনায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন মোট ৫০ জন। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরো অন্ততঃ ২৪৪ জন। জেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত রুগী রয়েছেন ৬৪৭ জন। এর মধ্যে ৫৭ জন দুটি সরকারি হাসপাতালে ও ৫৯০ জন বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

করোনা সংক্রমনের বৃদ্ধির মধ্যেও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালে জনবল সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে। সীমিত সংখ্যক জনবলে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও সেবিকারা।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার অপর্ণা রাণী পাল জানান, জেলায় অস্বাভাবিকহারে করোনা রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সীমিত জনবলে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি জানান, তাদের ওখানে ১৬৫ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ১৫০ জন। বর্তমানে ডিউটি করছেন ৯৫ জন। এর মধ্যে ৯ জন আবার করোনা পজিটিভ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অচিরেই নার্স নিয়োগ না দিলে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

নাগরিক আনোদলন মঞ্চ সাতক্ষীরার সাধারন সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম জানান, জেলায় যেভাবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ছড়িয়ে পড়েছে এতে করে ভাইরাসটির পরীক্ষার জন্য জেলায় ব্যাপক হারে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের প্রয়োজন। তিনি আরো জানান, একই চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচরী একদিকে যেমন করোনা রুগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। অপরদিকে তারাই আবার সাধারণ রুগীদেরও চিকিৎসা দিচ্ছেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারী হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে। এর ফলে একদিনে যেমন করোনা মোকাবেলায় এসব সম্মুখযোদ্ধা চিকিৎসক ও নার্স-কর্মচারীরা নিজেরা ঝুঁকিতে পড়ছেন আবার অন্যান্য সাধারণ রোগী ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের সংক্রমণের ঝুঁকি আরোও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. কুদরত-ই-খুদা জানান, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৮ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র ৩১ জন। এ মধ্যে অনেকেই আছেন অসুস্থ্য। অচিরেই চিকিৎসক নিয়োগ না দিলে স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খেতে হবে বলে তিনি আরো জানান। এদিকে, করোনা রুগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালটিতে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত রুগীদের জন্য বেডের সংখ্যা ৮৭ থেকে বাড়াতে বাড়াতে ১৩৫ টি করলেও এতে সংকুলান হচ্ছেনা। ফলে আগামিকাল শনিবার আরো ১৫টি বেড বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের এই তত্ত্বাবধায়ক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় করোনায় ২ জন ও উপসর্গে আরো ৫ জনের মৃত্যু

আসাদুজ্জামান : সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় প্রতিদিনই করোনা শনাক্তের হার বাড়ছে, একই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। লকডাউনের সপ্তম দিনে জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে দুইজন ও করোনা উপসর্গ নিয়ে আরো ৫ জন মারা গেছেন। তারা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল ও সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেছেন। এনিয়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে জেলায় মারা গেছেন অন্ততঃ ২৪৪ জন। আর ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ৫০ জন। যদিও করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে ডাকা বিশেষ লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে, করোনার উর্দ্ধমুখী ঠেকাতে আজ শুক্রবার সকাল থেকে পুলিশ সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যারিকেড দিয়ে চেকপোস্ট বসিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে মাঠে কাজ করছেন জনপ্রতিনিধিরা। তার পরও নানা অজুহাতে লোকজন বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন। তবে, তাদের বাড়িতে রাখতে প্রশাসন আরো কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। চলছে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান। প্রশাসনের কঠোর নজরদারীর মধ্যেও হাসপাতাল গুলোতে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আজকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪০ জন নতুন রোগীসহ ১৩৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেডের সংখ্যা ৮৭ থেকে বাড়াতে বাড়াতে ১৩৫ টি করলেও তাতে সংকুলান হচ্ছেনা। ফলে আগামিকাল আরো ১৫টি বেড বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ কুদরত-ই-খোদা।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. জয়ন্ত সরকার জানান, বৃহস্পতিবার ২১১ জনের নমুনা পরিক্ষা শেষে ১১১ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। যা সংক্রমনের হার ৫২.৬০ শতাংশ। তিনি আরো জানান, জেলায় আজ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২ হাজার ২৫৬ জন।

অপরদিকে, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩৬ জন রুগীর মধ্যে ৯৯ জন করোনা উপসর্গ ও ৩৭ জন করোনা পজেটিভ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ২৮ জন রুগীর মধ্যে ২২ জন করোনা পজেটিভ ও বাকী ৬ জন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন। সব মিলিয়ে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারি হাসপাতালে জেলায় মোট ৬৪৭ জন করোনা রুগী ভর্তি রয়েছে। এরমধ্যে ৫৭ জন দুটি সরকারী হাসপাতালে ও ৫৯০ জন বেসরকারি হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৬৫ বছর বয়সে আবার বিয়ের পিঁড়িতে রেলমন্ত্রী

ভিন্ন স্বাদের খবর : বর্তমান রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন ৬৫ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন। এক আইনজীবীর সঙ্গে রেলমন্ত্রীর বিয়ে ঠিক হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (১০ জুন) মন্ত্রীর একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

রেলমন্ত্রী ইত্তেফাককে বলেন, বিয়ের জন্য চিন্তা ভাবনা করছি। বন্ধু-বান্ধবরা উপযুক্ত পাত্রী খুঁজছেন। আমার বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাত্রী খোঁজা হচ্ছে।

এর আগে সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ৬৭ বছর বয়সে এক আইনজীবীকে বিয়ে করেন। রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের স্ত্রী নিলুফার ইসলাম অসুস্থতায় ৫৮ বছর বয়সে ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

নূরুল ইসলাম সুজন পেশায় সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলারও একজন আইনজীবী ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মোদিকে দাড়ি কামাতে ১০০ রুপি পাঠালেন চা বিক্রেতা!

বিদেশের খবর : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে মানি অর্ডার করে ১০০ রুপি পাঠিয়ে তাঁর দাড়ি কাটতে বলেছেন দেশটির এক চা বিক্রেতা। মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার বারামতী শহরের বাসিন্দা ওই চা বিক্রেতার নাম অনীল মোরে।

দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে জানায়, চা বিক্রেতা অনীল মোরে মোদিকে মানি অর্ডার করে ১০০ রুপি পাঠিয়েছেন। সেইসঙ্গে এক বার্তায় লিখেন, অবশ্যই যেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর দাড়ি কাটেন।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পুনের আরেক শহর ইন্দাপুরে বেসরকারি একটি হাসপাতালের উল্টাদিকে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান চালান অনীল। করোনার জেরে লকডাউনে সেই ব্যবসাতেও ভাটা পড়েছে। কোনোমতে এখন জীবন-যাপন করেন অনীল ও তাঁর পরিবার।

লকডাউনের ফলে ভারতের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। তাই একপ্রকার রাগ করেই তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ১০০ রুপি পাঠান।

চা বিক্রেতা অনীল মোরে লিখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর দাড়ি বড় করেছেন। যদি তাঁর কিছু বাড়ানো উচিত হয় তবে তা অবশ্যই এদেশের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ। জনগণের জন্য টিকাদান কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করতে হবে এবং বিদ্যমান চিকিৎসা সুবিধাগুলো বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, মানুষ তাদের দুর্দশা থেকে মুক্তি পেয়েছে যা শেষ দুটি লকডাউনের কারণে ঘটেছে।’

ওই চা বিক্রেতার মতে, প্রধানমন্ত্রী নিজের দাড়ি না বাড়িয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পারেন। গত দুটি লকডাউনে প্রচুর মানুষ সমস্যায় পড়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আগে তা দূর করা উচিত। দাড়ি বাড়ানোর বদলে তাঁর উচিত ভারতের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো মজবুত করা।

১০০ রুপি মানি অর্ডার করা প্রসঙ্গে অনীল জানান, নিজের জমানো টাকা থেকে তিনি ১০০ রুপি পাঠিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা ওই চিঠিতে অনীল মোরে করোনায় মৃত্যু হয়েছে এমন পরিবারগুলোতে পাঁচ লাখ রুপি ও লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ৩০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তারও আহ্বান জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরার গ্রামে গ্রামে করোনার উপসর্গ তবুও পরীক্ষায় অনীহা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়ীয়া ইউনিয়নের নাদিম মাহমুদ (৪৫)। তিনি করোনার উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে আছেন। কিন্তু নমুনা পরীক্ষা করাবেন না। তাঁর স্ত্রী, ছোটভাই, বৃদ্ধ চাচার জ্বর এবং কাশি রয়েছে। কিন্তু তারা কেউই করোনার নমুনা পরীক্ষা করাতে রাজি নন।

কেন নমুনা পরীক্ষা করাবে না, তার কারণ খুঁজতে জানা গেল ‘সামাজিকতার ভয়’। নাদিমের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম। তিনি জানালেন, যদি করোনার নমুনা পরীক্ষা করানো হয় এবং রিপোর্ট পজিটিভ আসে; তাহলে মানুষ উল্টা-পাল্টা ভাববে। তাদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করবে। আর রিপোর্ট পজিটিভ এলেই হাসপাতালে নিয়ে যাবে বলে তাদের ধারণা। সেজন্য তারা কেউ নমুনা পরীক্ষা করাবে না।

নাদিমের কথার সত্যতা পাওয়া গেল আরেকটি ঘটনায়। একই ইউনিয়নের বেলী গ্রামের আল নজিব মাহফুজ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর মাহফুজের বাড়ি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু লকডাউন করার পর স্থানীয় মানুষজন মাহফুজদের বাড়ির প্রতি বিরূপ মনোভাব দেখাচ্ছে। বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মানুষজন নাক টিপে ধরে চলাচল করছে। একজন মন্তব্য করে বসলেন, ‘মাহফুজকে হয় হাসপাতালে রেখে আসুক, না হলে বাড়ি থেকে বের করে দিক!’

সোনাবাড়ীয়া ইউনিয়নের আক্কাস আলী (৬২) গত কয়েকদিন শ্বাসকষ্টে ভুগে বৃহস্পতিবার সকালে মারা যান। কিন্তু করোনার নমুনা পরীক্ষা করেননি তিনি। তাঁর বাড়ির আরও চার সদস্যের শরীরে করোনার নানা উপসর্গ বিদ্যমান। অথচ, তারাও কেউ নমুনা পরীক্ষা করাতে রাজি নয়।

আক্কাস আলীর চাচাত ভাই বলেন, তিনি করোনায় মারা যাননি। তাঁর জ্বর ছিল, কিন্তু করোনা হয়নি। হার্টের সমস্যা ছিল ভাইয়ের।

মানুষের মনোভাব এমন যেন করোনায় আক্রান্ত হওয়া এক ধরনের অপরাধ। আর এই মনোভাব বাড়িয়ে দিচ্ছে করোনার বিস্তার। পরীক্ষা না করার ফলে একজন থেকে আরেকজন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে এখন জ্বর, কাশি আর সর্দিসহ নানা উপসর্গ। অথচ দু-একজন ছাড়া কেউ নমুনা পরীক্ষা করাতে চাচ্ছেন না। যে দু-একজন পরীক্ষা করছেন, তারা সচেতন মানুষ। কিন্তু এই সংখ্যা খুবই নগণ্য।

কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী চন্দনপুর ইউনিয়নের হোসেন আলীর পরিবারের সবাই জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত। হোসেন আলীর ছেলে মো. ইব্রাহিম করোনার নমুনা পরীক্ষা করাতে চাইলেও বাবা-মা কেউ পরীক্ষা করাতে দিতে যাননি। অথচ হোসেন আলীর বাড়ির পাশে আরও অনেক পরিবারেই করোনার উপসর্গ রয়েছে।

ইব্রাহিম বলেন, ‘আমাকে সবাই নিষেধ করেছে পরীক্ষা করাতে। পুলিশ এসে নাকি তুলে নিয়ে হাসপাতালে ফেলে রাখবে! সেজন্য আমার আব্বা-আম্মা যেতে দেয়নি।’

এদিকে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সাতক্ষীরাতে লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। যদিও লকডাউনের মধ্যে গ্রামের ভেতর কিংবা শহরে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। বাজার-ঘাটে কিংবা গ্রামের ভেতর খুব বেশি মানুষকে মাস্ক পরতে দেখা যাচ্ছে না। পুলিশের উপস্থিতি দেখলে সবাই মাস্ক ব্যবহার করছেন, অন্য সময় খুলে রাখছেন।

মহিদুল ইসলাম নামের একজন বলেন, ‘এত সময় মাস্ক পরে থাকা যায় না, কষ্ট হয়। মনে হয় মুখে ঠুসি (গরুর মুখের ঠুসি) দিয়েছি। আর চারিদিকে যে জ্বর, এটা সিজনাল। ঠিক হয়ে যাবে। এত ভাবার কিছু নেই। তারপরও করোনা হলে মরব আর কী হবে?’

করোনার উপসর্গ ও পরীক্ষা না করার বিষয়ে আরও কয়েকজনের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। পরীক্ষা করলে সামাজিক সমস্যাসহ আরও নানা সমস্যা হবে বলে তাদের দাবি।

এদের মধ্যে সজীব নামের একজন বলেন, করোনা পজিটিভ হওয়ার পর বাড়ি লকডাউন করে দিলে বিপদ। এ ছাড়া হাসপাতালে না কোথায় নিয়ে রাখবে তাও জানি না। দেখা গেল মরার সময়ও পরিবারের কেউ দেখতে পেল না। তাহলে ওই মরা মরে লাভ কী? আর বাইরে বের হতে না দিলে খাব কী? সমিতির টাকা দিব কীভাবে? মাঠে জন (কামলা) না দিলে সমিতির টাকা দেবে কে? আল্লাহ যদি চান, তাহলে আমি এমনিতেই মরব। এত ভেবে লাভ নেই।’ একই ধরনের মনোভাব আছে আরও অনেকের।

এসব বিষয়ে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন সাফায়েত বলেন, ‘এখানকার মানুষ ভীষণ অসচেতন। এদেরকে বোঝালেও বোঝে না। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ বেশি অসচেতন। কেউ নমুনা পরীক্ষা করাতে চায় না। সেজন্য এখন গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে করোনা ছড়িয়ে গেছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ খুব কঠিন হবে আমাদের জন্য।’

মানুষ নমুনা পরীক্ষা করাতে চাচ্ছে না, তাহলে উপায় কী- এমন প্রশ্নে হুসাইন সাফায়েত বলেন, ‘আমরা ধরেই নিয়েছি সবাই করোনায় আক্রান্ত। এখন সবাইকে টেস্ট করে সরকারি রিসোর্স নষ্ট করে লাভ নেই। বরং কীভাবে পিউর লকডাউন করে মানুষকে ঘরবন্দি করা যায়, সেদিকে আমাদের লক্ষ্য দিতে হবে। সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মানুষ চলাচল করছে, দোকানপাট খোলা থাকছে; এই সময়টা কমিয়ে আনতে হবে। আমরা সেসব ব্যাপারে মিটিং করে প্রাথমিকভাবে কথাবার্তা পাকা করেছি। তবে এটাও ঠিক এই পরিস্থিতিতে পুরোপুরি লকডাউন করার পর সরকারের এত জনবল নেই সবকিছু সুন্দরভাবে মনিটরিং করার। কিছু সমস্যা তো হবেই। এর ভেতর দিয়েও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লালটু ইসলাম বলেন, ‘প্রায় বাড়িতে সবার জ্বর। প্রতিদিন পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটে চলছে আক্রান্তের হার। আমার ধারণা, সাধারণ মানুষ লজ্জা, ভয় ও লকডাউনের যাতাকলে কেউ পরতে চায় না। যে কারণে কেউ করোনা টেস্ট করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। আর লকডাউন করেই আমাদের (উপজেলা প্রশসন) দায়িত্ব শেষ। তার চিকিৎসা, খাওয়া-দাওয়া ও পরিবারের অন্য সদস্যদের শারীরিক অবস্থা দেখার কেউ নেই। লকডাউন মানে সমাজে বা পাড়ায় একঘরে হয়ে থাকা। কেউই তার সাহায্য তো দূরের কথা নাক টিপে তার বাড়ি পার হচ্ছে। এ কথা লজ্জায় অন্যকে বলতে পারে না। কী পরিস্থিতি সামনে আসছে, আল্লাহ জানে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest