সর্বশেষ সংবাদ-
শ্যামনগরে অনলাইন জুয়া চক্রের মূল হোতা আটক: ‌দুটি মোবাইল জব্দসাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের ২০২৭ সালের ইংরেজি নববর্ষ প্রকাশনার উদ্বোধন১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে এবার দাম বাড়ল ২২৩ টাকাসাতক্ষীরায় নির্মানাধীন ভবনের কাজ নিয়ে দুপক্ষের বিরোধের মীমাংসাবীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা: সাতক্ষীরায় মানববন্ধনশ্যামনগরে বাস-ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে ইজিবাইক চালক নিহততালায় উপজেলার শ্রেষ্ঠ সংগঠক নির্বাচিত তরুণ সমাজকর্মী এস. এম. নাহিদকলারোয়ায় প্রবাসীর অর্ধকোটি টাকার ইটভাটা জবরদখলের অভিযোগ- বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলননক্ষত্রের অভিবাদন: শ্যামনগরে ১০ গুণী ব্যক্তিকে সংবর্ধনাসাংবাদিক পুত্র কাজী ফাহিমের অতুলনীয় সাফল্য : প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের অভিনন্দন

নেইমার-এমবাপ্পেদের হারিয়ে ফাইনালের পথে ম্যানসিটি

খেলার খবর : ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় পিএসজি। কিন্তু, এগিয়ে যাওয়ার স্বস্তি শেষ পর্যন্ত টিকল না ফরাসি শিবিরে। বিরতির পর সাত মিনিটের মধ্যে পরপর দুই গোল করে প্যারিসে নিজেদের রাঙালো ম্যানচেস্টার সিটি। পিএসজিকে হারিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি।

গতকাল বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে পিএসজিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ম্যানসিটি। স্বাগতিকদের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মার্কিনিয়োস। আর অতিথিদের হয়ে গোল করেন কেভিন ডে ব্রুইনে ও রিয়াদ মাহরেজ।

এই ম্যাচে জ্বলে উঠতে পারেননি কোয়ার্টার ফাইনাল ও শেষ ষোলোতে অবদান রাখা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ব্রাজিল তারকা নেইমারও দুবার সুযোগ তৈরি করে পাননি জালের দেখা।

যদিও ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে ছিল পিএসজিই। ১৫ মিনিটে ডান দিক থেকে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার দারুণ কর্নারে লাফিয়ে কোনাকুনি হেডে দলকে এগিয়ে নেন মার্কিনিয়োস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি ফরাসি চ্যাম্পিয়নেরা।

বিরতির পর পিএসজিকে চমকে দেয় সিটি। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে সিটিকে সমতায় ফেরান ডি ব্রুইনে। এরপর ৭১ মিনিটে স্কোর লাইন ২-১ করেন মাহরেজ। ফ্রি কিক থেকে বল লাফিয়ে উঠলে রক্ষণ ভাগে থাকা খেলোয়াড়দের ফাঁকি দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।

পিছিয়ে পড়ার পর ১০ জনের দলে রূপ নেয় পিএসজি। ইলকাই গিনদোয়ানকে পেছন থেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন সেনেগালের মিডফিল্ডার ইদ্রিসা গেয়ি। এরপর আর গোল পায়নি ফরাসিরা। ফলে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের।

ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে আগামী মঙ্গলবার ফের মুখোমুখি হবে দুদল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভারতে শ্মশানে লাশের সারি, একদিনে মৃত্যু ৩৬৪৭

বিদেশের খবর : করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত ভারত। চারিদিকে মানুষের আহাজারি। বাতাসে লাশের গন্ধ। দেশটিতে গত একদিনে সব রেকর্ড পেছনে ফেলে তিন হাজার ৬০০ এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি মানুষ। মোট মৃত্যু দুই লাখ পার করেছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৬৪৭ জনের। মোট মৃত ২ লাখ ৪ হাজার ৮১২ জন। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৪৫৯ জন। মোট আক্রান্ত হয়েছেন এক কোটি ৮৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯৬ জন।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়ায় ঘরের মধ্যেও নাগরিকদের মাস্ক পরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে ভারত সরকার। সেই সঙ্গে এখন বাড়িতে বাইরের কাউকে না ডাকা এবং অযথা বাইরে না বেরনোর পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

ভারতে প্রতিদিনই সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড অক্সিজেন সংকটে মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। মর্গ ও শ্মশানে ভিড় পড়ে গেছে। শ্মশানে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় দিল্লিসহ কয়েক রাজ্যে গণচিতা তৈরি করা হয়েছে। তাতেও কুলিয়ে উঠতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। খোঁড়া হচ্ছে গণকবর এবং মরদেহ পোড়াতে বানানো হয়েছে অস্থায়ী শ্মশান। জাত-ধর্ম ভুলে মৃতদেহ সৎকারে সহযোগিতা করছে মুসলিমরাও।

কয়েকটি রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্মীরা বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন। তারা জানিয়েছেন, এর আগে এমন অবস্থা কখনো দেখেননি তারা। ভারতে এখন যে হারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তার গতি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশি। ভারতে এমন পরিস্থিতি চলমান থাকলে যুক্তরাষ্ট্রও পেছনে পড়ে যাবে। করোনার প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় ভারতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মে মাসে ভারতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর রূপ নেবে। এসময়ে একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সংক্রমণও হবে রেকর্ড পরিমাণ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজিকালে দুই প্রতারককে গণধোলাই  

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজিকালে ব্যবসায়ীদের হাতে ধরা পরবর্তী গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে নাজমুল হোসেন (৩০) ও রুবেল হোসেন (২৮) নামের দুই প্রতারক। বুধবার দুপুর ২টার দেবহাটার উপজেলার কুলিয়া মৎস্য ও রেণু সেডে মৎস্য ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজিকালে প্রতারক নাজমুল ও রুবেলকে গণধোলাই দেয় ব্যবসায়ীরা। গণধোলাইয়ের শিকার নাজমুল নিজেকে সাতক্ষীরার বাসিন্দা এবং রুবেল আশাশুনির কুল্যা ইউনিয়নের বাসিন্দা উল্লেখ করে একাধিক ভুঁইফোড় ও নামসর্বস্ব পত্রিকার জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি দাবী করেন। তবে তাদের মধ্য থেকে রুবেলকে বড় ধরনের  প্রতারক আখ্যায়িত করে আশাশুনির কুল্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল বাছেত আল হারুন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, একসময়ে রুবেল ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে কাজ করতো। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভিজিডি সুবিধাভোগীদের অর্থ আত্মসাত, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ বহু অভিযোগ থাকায় ইতোপূর্বেই তাকে পরিষদ থেকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরার নাজমুল নামের এক প্রতারকের সাথে মিশে চাকুরিচ্যুত রুবেল নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আশাশুনি, দেবহাটা, সাতক্ষীরা সদর সহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি করছে এমন একাধিক অভিযোগ পেয়েছেন বলেও জানান চেয়ারম্যান হারুন চৌধুরী। এদিকে কুলিয়া মৎস্য ও রেণু সেডের স্থাণীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বুধবার দুপুরে নাজমুল, রুবেল ও তাদের আরেক সহযোগী মৎস্য সেডে ঢুকে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা টাকা চাঁদা দাবী করে। ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ব্যবসায়ীদের সাথে দূর্ব্যবহার ও নিজেদের সাংবাদিক আখ্যা দিয়ে আষ্ফালন করতে থাকে। বাকবিতন্ডতার একপর্যায়ে সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাদের দুজনকে গণধোলাই দিয়ে আটকে রেখে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটিকে খবর দেয়। পরে উত্তেজিত ব্যবসায়ীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর সেডটির ইজারা গ্রহীতা ও দেবহাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান শাওন ঘটনাস্থলে পৌছে ব্যবসায়ীদের শান্ত করেন এবং অবরুদ্ধ প্রতারকদের ঘটনাস্থল বের করে দেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেছেন বসুন্ধরার এমডি আনভীর

অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে কলেজ শিক্ষার্থী মোসারাত জাহান মুনিয়ার (২১) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর।

বুধবার (২৮ এপ্রিল) মামলাটি হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ১৪ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে। এর ফলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) জামিন আবেদনটির ওপর বিচারপতি মামুনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া বাদি হয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সায়েম সোবহানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল মুনিয়ার। প্রতিমাসে এক লাখ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে সায়েম সোবহান মুনিয়াকে ওই ফ্ল্যাটে রেখেছিল। আনভীর নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতো। তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো করে থাকতো। মুনিয়ার বোন অভিযোগ করেছেন, তার বোনকে বিয়ের কথা বলে ওই ফ্ল্যাটে রেখেছিল। একটি ছবি ফেসবুকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সায়েম সোবহান তার বোনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তাদের মনে হচ্ছে, মুনিয়া আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বসুন্ধরার এমডির বিরুদ্ধে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ মামলার সর্বশেষ

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে ঢাকার গুলশানে একজন তরুণীকে ”আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার” জন্য যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই অভিযোগের ব্যাপারে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুলিশ কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকার গুলশান অঞ্চলের উপ-পুলিশ কমিশনার।

বসুন্ধরার এই কর্মকর্তা দেশের বাইরে চলে গেছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়লেও, পুলিশ বলছে, তাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, তিনি দেশের ভেতরেই রয়েছেন।

আর মৃত তরুণীর পরিবার জানিয়েছে, মামলা করার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

মৃত তরুণীর বোন ”আত্মহত্যার প্ররোচনা”র অভিযোগ তুলে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে অভিযুক্ত করে মঙ্গলবার ভোররাতে একটি মামলা করেন।

সেই মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে ঢাকার গুলশান অঞ্চলের উপ-পুলিশ কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ”আমাদের এখন যে কাজটি করতে হচ্ছে, এই যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক সাক্ষ্য, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা বস্তুগত সাক্ষ্য- সকল বিষয়কে আমাদের গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।”

তিনি জানান, এই মামলার অভিযোগ হচ্ছে, “আত্মহত্যায় প্ররোচনার” অভিযোগ। তিনি বলেন এক্ষেত্রে দুইটি জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটি হচ্ছে, অভিপ্রায়, আরেকটি হচ্ছে প্ররোচনা।

”এই জন্য মামলার যে অভিযোগ এসেছে, অভিযুক্ত এবং ভিকটিমের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে,” সেগুলো যাচাই বাছাই করা হবে বলে বিবিসিকে জানান তিনি। তিনি বলেন, মোবাইলসহ বিভিন্ন ধরনের ডিভাইসগুলো বিশ্লেষণ করে এবং মৃতদেহের পোস্টমর্টেম ও ফরেনসিক রিপোর্টের মাধ্যমে ওই তরুণীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে চান।

”ভিকটিমের মোবাইল ফোন, সেখান থেকে তথ্য উদ্ধারের চেষ্টার পাশাপাশি অন্যান্যভাবেও তাদের মধ্যে বিভিন্ন ভাবে সম্পর্কের যে অভিযোগ এসেছে, এজাহারে যে পয়েন্টগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, তার যৌক্তিকতা, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে, সেই ম্যানেজিং ডিরেক্টরের সংশ্লিষ্টতা, সেগুলো আমাদের বেশ গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হচ্ছে,” বলছেন সুদীপ চক্রবর্তী।

মামলায় যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে পুলিশ কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ”এই মামলার অভিযোগ হচ্ছে, আত্মহত্যায় প্ররোচনা। এই জন্য আমাদের যে কাজটি করতে হচ্ছে, (সেটা হল) প্ররোচনার বিষয়টি যথাযথভাবে সংজ্ঞায়িত করা।

”না হলে মামলার সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। এই জন্য আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি প্ররোচনার বিষয়টিকে যৌক্তিকভাবে প্রমাণ করার জন্য পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণদি সংগ্রহ করা, বিশ্লেষণ করা- সেই সঙ্গে অভিযোগের মানানসই একটি বিষয় খুঁজে বের করার ওপর।”

তিনি বলেন অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের বিষয়টি তারা পরে ভাববেন।

“যখন পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ আমাদের কাছে আসবে, তখন দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা অবশ্যই নেবো।”

মামলাটি হওয়ার পর আনভীরের বিদেশযাত্রার উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে একটি আবেদন করেছিল পুলিশ। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।

কিন্তু বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমে একটি তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে যে, বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোপনে দেশের বাইরে চলে গেছেন।

এই প্রসঙ্গে পুলিশের কাছে কী তথ্য আছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ”বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনা একেবারেই ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা। এখানে কোন্ যাত্রী কোন্ পাসপোর্ট ব্যবহার করে, শনাক্তকরণ পদ্ধতি কী, সেটা ডিজিটালি অন্তর্ভুক্ত থাকে। একজন যাত্রী যদি দেশের বাইরে যান বা বাইরে থেকে দেশে আসেন, সেটা ডিজিটালি নিবন্ধিত থাকে।

”ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের যে ডাটাবেজ, সেই ডাটাবেজ অনুযায়ী, অভিযুক্ত যিনি, তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে যাননি, তিনি বাংলাদেশেই আছেন,” জানান মি. চক্রবর্তী।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপের গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা মোঃ আবু তৈয়ব বলেছেন, যেহেতু এই বিষয়ে মামলা হয়েছে, তারা আইনগতভাবেই এগোবেন।

তিনি আরও বলেন, এই মামলা করা এবং পুরো ঘটনাকে তারা বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসাবে দেখছেন।

এদিকে তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা প্রসঙ্গে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ”আইন অনুযায়ী আইন চলবে। যেই অপরাধী হোক, তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। এটা তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের পরেই আমরা বলতে পারবো।”

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবার :

বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে অভিযুক্ত করে ”আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার” মামলা করার পর হুমকিধামকি দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী নুসরাত জাহান।
তিনি মৃত তরুণীর বড় বোন।

তিনি বলছেন, ”কালকে রাত ১২টার, সাড়ে ১২টা থেকে আমি খুব ডিপ্রেসড। আমাকে বিভিন্নভাবে ফোন দিয়ে অনেক আজেবাজে কথা বলা হচ্ছে। অনেক হুমকির মুখে আছি। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি।”

তিনি দাবি করেন, অনেক কিছুই তো প্রুফ হয়ে গেছে। যদি প্ররোচিত মৃত্যু হয়ে থাকে,তাহলে কে প্ররোচিত করেছে? এখন শুধু বিচারের অপেক্ষা।

”আসামীর গ্রেপ্তার..এটা মনে হয় আমার আশা করাটা দুষ্কর” মন্তব্য করে তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মৃত তরুণীটি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের একজন ছাত্রী ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে কয়েকমাস ধরে তিনি একাই থাকছিলেন।

গুলশান অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নাজমুল হাসান ফিরোজ বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় ওই তরুণীর বোন কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসেন। সন্ধ্যায় গুলশানের অ্যাপার্টমেন্টটিতে ঢুকে তিনি বোনের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

পরে পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে দেখতে পায় যে, মৃতদেহটি সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে।

রাতেই মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাতে মেয়েটির বড়বোন গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, তাতে ”আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার” অভিযোগ আনা হয়।

পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হাসান বলছেন, মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে ওই তরুণীর সাথে আনভীরের দুই বছর যাবৎ সম্পর্ক ছিল।

বিষয়টি নিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। আনভীরের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও সকাল থেকে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা গোলাম মোহাম্মদ তিনি জানান যে তার বিষয়ে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে মন্তব্য করতে আনভীরকে পাওয়া যাবে না।
মোহাম্মদ বলেন, “হি ইজ আনঅ্যাভেইলেবল।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
করোনায় কর্মহীনতা : শহরের দরিদ্রের কথা ভাবছে না সরকার

অনলাইন ডেস্ক : কয়েক সপ্তাহের ‘লকডাউনে’ উপার্জন প্রায় শূন্যের কোটায় পৌঁছেছে রাজধানীর দিনমজুর আবদুস সোবহানের।

৪০ বছর বয়সী সোবহান ইট ভাঙার পাশাপাশি বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পে মাটি বহনের কাজ করতেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ১৪ এপ্রিল থেকে বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এই সময়ে তিনি জীবিকা অর্জনের জন্য তেমন কোনো কাজই যোগাড় করতে পারেননি।

সরকার নতুন করে এই বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়িয়েছে আগামী ৫ মে পর্যন্ত। এ অবস্থায় কারও কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা ছাড়া, সামান্য আয় দিয়ে কীভাবে আগামী দিনগুলো পার করবেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সোবহান।

প্রায় সাত বছর ধরে মিরপুরের একটা বস্তিতে বসবাস করেন সোবহান। গতকাল তিনি বলেন, ‘গ্রামের বাড়িতে থাকা বুড়ো মা-বাবাকে দেখতে হয় আমাকে। এখন কোনো আয়ই যদি না থাকে, তাহলে পরিবারকে খাওয়াব কীভাবে?’

অসহায় সোবহান আরও বলেন, ‘লকডাউনের আগে আমি প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতাম। কিন্তু গত চার দিনে আয় হয়েছে মাত্র ৩০০ টাকা। শুনেছি সরকার খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে কিন্তু আমি এখনো সেই সাহায্য পাইনি। এ অবস্থায় কোনো কাজ ছাড়া, সরকারি সাহায্য ছাড়া আমাদের মতো মানুষ এই শহরে কীভাবে বাঁচবে?’

সোবহানের মতোই এই শহরে থাকা হাজারো দরিদ্র মানুষ চলমান লকডাউনের মধ্যে কোনো কাজ কিংবা আয়ের পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। এমনকি সরকারের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় থাকা বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

লকডাউনের মধ্যে আর্থিক সংকটে থাকা এই মানুষগুলোর অনেকে কোনো উপায় না পেয়ে সামান্য সঞ্চয় নিয়ে অথবা কোনো সঞ্চয় ছাড়াই গ্রামে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

বরাবরই গ্রাম এলাকাগুলোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সুরক্ষা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। বিগত কয়েক বছরে এমন সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। তবে নগরের দরিদ্ররা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক সরকারি জরিপে দেখা গেছে, খাদ্যঝুঁকিতে থাকা লাখ লাখ নগর দরিদ্র এসব সুরক্ষা প্রকল্পের আওতার বাইরে রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত এক জরিপের তথ্য অনুসারে, ন্যায্যমূল্যে খোলা বাজারে (ওএমএস) খাদ্যপণ্য বিক্রির যে কার্যক্রম চালু আছে, তাতে নগরের দরিদ্র পরিবারগুলোর মাত্র এক শতাংশ এই সুবিধা পায়। বিপরীতে বয়স্কভাতার সুবিধা পায় মাত্র দুই শতাংশ নগর দরিদ্র।

‘আরবান স্যোসিও-ইকোনোমিক অ্যাসেসমেন্ট সার্ভে (ইউএসএএস) ২০১৯’ শীর্ষক ওই জরিপে বলা হয়, ‘দারিদ্র বিমোচনে সরকারের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও নগর দরিদ্রদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ঘাটতি রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, নগরে খাদ্যঝুঁকিতে থাকা এমন লাখ লাখ দরিদ্র মানুষ এখন পর্যন্ত আড়ালেই থেকে গেছে।’

গত বছরের আট থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে বসবাসরত দুই হাজার ১৫০টি পরিবারের ওপর বিবিএসের এই জরিপটি পরিচালিত হয়। তবে এই জরিপে করোনা মহামারির প্রভাবের বিষয়টি আসেনি।

দেশে সুরক্ষা প্রকল্পগুলোর সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৮১ লাখ। যার মধ্যে আছে ওএমএস, বয়স্ক-বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জন্য পেনশন সুবিধা।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) ধারণা, দেশব্যাপী লকডাউনের কারণে নগরের শ্রমজীবী মানুষের আয় কমেছে ৮০ শতাংশ। অন্যদিকে, গ্রামের শ্রমজীবী শ্রেণির আয় কমেছে ১০ শতাংশ।

করোনার কারণে আরোপিত লকডাউনের ফলাফল জানতে বিআইডিএস গত বছরের জুন মাসে ‘পোভার্টি ইন দ্য টাইম অব করোনা: ট্রেন্ডস, ড্রাইভারস, ভালনারেবিলিটি অ্যান্ড পলিসি রেসপন্সেস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি তৈরি করে।

নগর দরিদ্রদের জন্য নেই কোনো সুখবর :

আগামী ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো বিধিনিষেধের মধ্যে নগর দরিদ্রদের জন্য কোনো সুখবর নেই। কারণ এ সময়ে সরকার ওএমএস আউটলেগুলোতে ১০ টাকা কেজির কম মূল্যের চাল বিক্রি না করার ‍সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, খাদ্যশস্যের মজুদ কমে আসার কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তবে মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম জানান, দেশব্যাপী ৮৭৪টি ট্রাকে করে খোলাবাজারে ৩০ টাকা কেজি দরের মোটা চাল বিক্রি অব্যাহত রেখেছে সরকার।

খাদ্যসচিব বলেন, ‘মজুত কমে আসার কারণে আমরা ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রি করতে পারব না। চালের বদলে নগদ প্রণোদনা দেওয়া হবে। বিষয়টা আমরা অর্থমন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি।’

চলতি বছরের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারের খাদ্যশস্যের মজুদ নেমে এসেছে চার লাখ ৬২ হাজার টনে। অথচ গত বছরের জুলাইয়ে কেবল চালের মজুদই ছিল ১১ লাখ ২০ হাজার টন। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে পয়লা জুলাই এর পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৯৯ হাজার টন।

খাদ্যসচিব আরও বলেন, গত বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সরকার সারাদেশের সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে ওএমএসের মাধ্যমে ১০ টাকা কেজির ৮৬ হাজার টন চাল বিক্রি করেছে।

গত বছর বিবিএসের এক নিরীক্ষায় দেখা যায়, চলমান সুরক্ষা প্রকল্পগুলো চলছে অপরিকল্পিত উপায়ে। যেখানে সুবিধাভোগী বাছাইয়ের একই ভুল করা হয়েছে। আছে ফাঁক ও সমন্বয়ের অভাব।

ওই নিরীক্ষায় বলা হয়, ‘নগর এলাকাগুলোতে অনেকগুলো সুরক্ষা কার্যক্রম চালু থাকলেও এর আওতায় আসা মানুষের সংখ্যা নগণ্য।’

প্রয়োজন যথাযথ তালিকা, সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় :

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকা গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের সংখ্যা নগর দরিদ্রদের চাইতে অনেক বেশি। চলমান মহামারি ও লকডাউন আগে থেকেই চলা এই বৈষম্যকে আরও বেশি প্রকট করে তুলেছে।

তারা বলেন, গ্রামের মানুষের জন্য কৃষিকাজসহ উৎপাদিত পণ্য বিক্রির কিছু সুযোগ আছে। কিন্তু আয় কমে যাওয়া সত্ত্বেও শহরের দরিদ্র মানুষেরা দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে উচ্চমূল্যে সবকিছু কিনতে বাধ্য হন।

এ অবস্থায় দ্রুত নগরায়ণ ও অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকা বস্তিবাসীদের বিষয়টি মাথায় রেখে বিশেষজ্ঞরা নগর দরিদ্রদের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর জন্য স্থানীয় সরকার ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার ভূমিকাও জরুরি বলে মত দেন তারা।

প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ বিনায়ক সেন মনে করেন, সমন্বিত হাউজহোল্ড ডাটাবেজের অভাবে নগর দরিদ্ররা সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর সুফল পায় না। তার মতে, এমন একটা ডাটাবেজ থাকলে সরকার এই মহামারির মধ্যে তাদের কাছে পৌঁছাতে পারতো।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক বিনায়ক সেন বলেন, ‘বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ভিত্তিতেই সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো পরিচালিত হওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর যূথবদ্ধতাই আমাদের শক্তি। বিশেষ করে মহামারির এই ক্রান্তিকালীন সময়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নগর এলাকাগুলোতে অনেক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কাজ করছে মন্তব্য করে বিনায়ক সেন আরও বলেন, ‘যদি সরকারের সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে এই সংস্থাগুলো যোগ দেয়, তাহলে প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।’

এদিকে, নগর দরিদ্ররা সুরক্ষা কর্মসূচির সুফল যে খুব একটা পাচ্ছে না, তা স্বীকার করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন।

তিনি বলেন, ‘সরকার মহামারি ও লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত সবার জন্যই বরাদ্দ রেখেছে। এর অংশ হিসেবে নির্ধারিত নগর দরিদ্ররাও তা পাবেন। এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ নামমাত্র হলেও তা বিবেচ্য না।’

একইসঙ্গে মহামারির এই সময়ে নগর দরিদ্ররা যাতে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান ত্রাণসচিব।

তিনি বলেন, ‘বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য আমরা এখন সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের যুক্ত করছি। যাতে কাঙ্ক্ষিত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে তারা আমাদের সাহায্য করতে পারে।’

সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে যুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মোহসীন বলেন, ‘এ বিষয়ে এই মুহূর্তে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গুলশানে তরুণীর লাশ উদ্ধার, বসুন্ধরার এমডির পাশাপাশি আলোচনায় সেই পিয়াসা

অনলাইন ডেস্ক : ২০১৭ সালের মে মাসে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে নাম ছিল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসার। প্রথমে মামলা করতে ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা করেছিলেন পিয়াসা। কিন্তু সেই পিয়াসার বিরুদ্ধেই আবার মামলা তুলে নেওয়ার হুমকির অভিযোগে জিডি করেছিলেন ভুক্তভোগী। চার বছর পর আবারও আলোচানায় সেই পিয়াসা।

গুলশানের অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামের এক তরুণীর লাশ উদ্ধারের পর বসুন্ধরা গ্রুপের এমডির বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের হয়েছে, তাতেও পিয়াসার নাম রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে তারা পিয়াসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, আমরা সব তদন্ত করে দেখছি। ঘটনায় সম্পৃক্ত সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

গুলশান থানায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘গত ২৩ এপ্রিল সায়েম সোবহান আনভীর মুনিয়াকে হঠাৎ বকাঝকা করেন। মুনিয়া কেন ফ্ল্যাট মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করেছে এবং ছবি তুলেছে। ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রী সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছে। এটা আবার পিয়াসা দেখেছে। পিয়াসা মালিকের স্ত্রীর ফেসবুক ফ্রেন্ড ও পরিচিত। পিয়াসা আনভীরের মাকে সব বলে দেবে। আর আনভীরে মা বিষয়টি জানতে পারলে মুনিয়াকে মেরে ফেলবে বলেও মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।’

এজাহারে পিয়াসার নাম উল্লেখ করায় প্রশ্ন উঠেছে কে এই পিয়াসা? পরে অনুসন্ধানে জানা যায় এই পিয়াসা হলেন ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা, যিনি চার বছর আগেও রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় আলোচনায় এসেছিলেন। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ জুয়েলারি শপ আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ছিলেন ওই ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি। পিয়াসা ছিলেন সাফাত আহমেদের সাবেক স্ত্রী। রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের ওই ঘটনার কিছুদিন আগেই সাফাতের সঙ্গে পিয়াসার ডিভোর্স হয়েছিল।

সেসময় আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার তার ছেলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার নেপথ্য কারিগর হিসেবে পিয়াসাকে অভিযুক্ত করেছিলেন। পরে অবশ্য তাদের মধ্যে সমঝোতা হয় বলে খবর প্রকাশ পায়। ধর্ষণের শিকার দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে সহায়তার কথা স্বীকার করলেও কয়েকদিনের মাথায় পিয়াসা তাদের মীমাংসা করার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এজন্য পিয়াসার বিরুদ্ধে দুটি সাধারণ ডায়েরিও করেন তিনি।

ওই ঘটনার পর দিলদার আহমেদ তার সাবেক পুত্রবধূ পিয়াসার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। পিয়াসাও সাবেক শ্বশুর দিলদার আহমেদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেছিলেন।

কী বললেন পিয়াসা?

এনটিভির সুপার হিরো, সুপার হিরোইন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শোবিজ জগতে আসা ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা নতুন করে আলোচনায় আসার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এই প্রতিবেদক। বসুন্ধরার এমডির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় যে পিয়াসার কথা বলা হয়েছে সেই ব্যক্তি আপনি কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি। আমিই বিষয়টি আনভীর ভাইয়ের মাকে বলেছি। আনভীর ভাইয়ের আগের সংসার রয়েছে। সেটি বাঁচানোর জন্য আমি উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এতে কি আমার অপরাধ হয়েছে?’

ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা আরও বলেন, ‘এই ঘটনার নেপথ্যে আরও অনেক কাহিনি আছে। এই মেয়ে (মুনিয়া) তো একটা সাইকো ছিল। আনভীর ভাই বিবাহিত জানা সত্ত্বেও কেন তার দেওয়া ফ্ল্যাটে থাকা শুরু করেছিল? তাকে তো আগে আমরা কুমিল্লায় পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। সে লোভী। সে একটা… (প্রকাশযোগ্য নয়)।’

এই ঘটনায় চট্টগ্রামের হুইপপুত্র শারুণের যোগসাজস রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সংক্রান্ত কথপোকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশটও পাঠান এই প্রতিবেদকের কাছে। সেখানে মুনিয়া শারুণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমার কিছু হয়ে গেলে আপনি আমার পরিবারকে একটু দেইখেন।’ শারুণকে কিছু কল রেকর্ড ও স্ক্রিনশট দিয়ে মৃত্যুর পর এসব সবাইকে দেওয়ার জন্য বলেন মুনিয়া।

এই কথপোকথনের সত্যতা জানতে যোগাযোগ করা হলে শারুণ চৌধুরী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, ‘এগুলো বোগাস। মূল ঘটনাকে অন্যদিকে মোড় নেওয়ানোর জন্য এসব করা হচ্ছে। মুনিয়ার মোবাইল তো এখন পুলিশের কাছে। যা করার ফরেনসিক করুক। আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম যদি এসব কেউ প্রমাণ করতে পারে।’ মুনিয়াকে চিনতেন না বলেও দাবি করেন শারুণ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
১২ কেজি গাঁজাসহ থানা কম্পাউন্ড থেকে পুলিশ কর্মকর্তা আটক

ভিন্ন স্বাদের সংবাদ : পাবনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওছিম উদ্দিনকে ১২ কেজি গাঁজাসহ আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে পাবনার পুলিশ সুপার তাকে হাতেনাতে গাঁজাসহ থানা কম্পাউন্ড থেকে আটক করেন। বুধবার (২৮ এপ্রিল) বিষয়টি জানাজানি হয়।

আটক এসআই ওছিম উদ্দিনকে নিয়মিত মামলা দিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।

পুলিশ সূত্র জানায়, সদর থানার এসআই ওছিমের কাছে গাঁজা ছিলো। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান সোমবার বিকেলে সদর থানায় গিয়ে এসআই ওছিমের ব্যক্তিগত ক্যাবিনেটে তল্লাশি চালান। এসময় সেখান থেকে ১২ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। পরে এসআইকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, এ ঘটনায় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই জিন্নাত আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া অভিযুক্ত এসআই ওছিমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান জানান, অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পুলিশ প্রধানের কঠোর নির্দেশনায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছি। অপরাধী সাধারণ মানুষ বা পুলিশ যেই হোক, বিচারের মুখোমুখি তাকে হতে হবে। তার এ মাদকের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং বিষয়টি বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিভাগীয় ও আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা করতে হয়, সেটাই করা হবে।

0 মন্তব্য
1 FacebookTwitterGoogle +Pinterest