সর্বশেষ সংবাদ-
শ্যামনগরে অনলাইন জুয়া চক্রের মূল হোতা আটক: ‌দুটি মোবাইল জব্দসাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের ২০২৭ সালের ইংরেজি নববর্ষ প্রকাশনার উদ্বোধন১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে এবার দাম বাড়ল ২২৩ টাকাসাতক্ষীরায় নির্মানাধীন ভবনের কাজ নিয়ে দুপক্ষের বিরোধের মীমাংসাবীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা: সাতক্ষীরায় মানববন্ধনশ্যামনগরে বাস-ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে ইজিবাইক চালক নিহততালায় উপজেলার শ্রেষ্ঠ সংগঠক নির্বাচিত তরুণ সমাজকর্মী এস. এম. নাহিদকলারোয়ায় প্রবাসীর অর্ধকোটি টাকার ইটভাটা জবরদখলের অভিযোগ- বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলননক্ষত্রের অভিবাদন: শ্যামনগরে ১০ গুণী ব্যক্তিকে সংবর্ধনাসাংবাদিক পুত্র কাজী ফাহিমের অতুলনীয় সাফল্য : প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের অভিনন্দন

অনলাইন ডেস্ক  : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে পালাতক সেই ১০ করোনারোগীকে ধরে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (২৬ এপ্রিল) তাদের সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা পুলিশের সহযোগিতায় ধরে আনে যশোর পুলিশ।

যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, দশজন করোনা রোগী কর্তৃপক্ষের ‌‘অনুমতি’ ছাড়াই চলে যায়। রোববার তাদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়। ফলে, করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট উদ্বেগ তৈরি করে। পালিয়ে যাওয়া রোগীরা যদি ভারতীয় ভেরিয়েন্টের বাহক হন তাহলে তা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা করেন চিকিৎসকেরা।

যশোর জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের ১০জন রোগী ছাড়পত্র না নিয়ে চলে গেছে। তাদের মধ্যে সাতজন ভারতফেরত। ওই সাতজনের মধ্যে খুলনার তিনজন, সাতক্ষীরার দুইজন ও যশোর ও রাজবাড়ি জেলার একজন করে রয়েছেন।

হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে ওই দশজনের নাম-ঠিকানা রয়েছে। তাদের চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনকে অবহিত করে ফের তাদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত কয়েকদিনে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তৃতীয় তলায় করোনা ওয়ার্ডে যেসব পজিটিভ রোগী ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে দশজন ভারতফেরত ছিলেন। বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে চিকিৎসার জন্য তাদের এ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তারা সবাই পালিয়ে গেছেন।

পালিয়ে যাওয়া রোগীরা হলেন- যশোর সদর উপজেলার পাঁচপাবাড়িয়া গ্রামের রবিউলের স্ত্রী ফাতেমা (১৯), একই গ্রামের একরামুল কবীরের স্ত্রী রুমা (৩০), যশোর শহরের বারান্দীপাড়া এলাকার বিশ্বনাথের স্ত্রী মনিমালা দত্ত (৪৯), যশোর শহরের ওয়াপদা গ্যারেজ পাড়ার ভদ্র বিশ্বাসের ছেলে প্রদীপ বিশ্বাস (৩৭), সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলার প্রতাপপাড়া গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে মিলন হোসেন (৩২), সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ উপজেলার সোনতলা গ্রামের মনতোষ সর্দারের স্ত্রী শেফালী রাণী (৪০), খুলনার পাইকগাছার ভামরাইল গ্রামের আহমদ সানার ছেলে আমিরুল সানা (৫২), খুলনার রূপসা চল এলাকার শের আলীর ছেলে সোহেল সরদার (১৭), খুলনা মহানগরের পূর্বলেন এলাকার পুলিন কৃষ্ণ সরকারের ছেলে বিবেকান্দ সরকার ও রাজবাড়ি সদর উপজেলার রামকান্তপুর গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের মেয়ে নাসিমা আক্তার।

তাদের মধ্যে মনিমালা, মিলন হোসেন, শেফালি রানী, আমিরুল সানা, সোহেল সরদার, বিবেকানন্দ সরকার ও নাসিমা আক্তার ভারতফেরত।

যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, করোনা ওয়ার্ডে নার্স ও চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে নিরাপত্তা কর্মী ছিল না। গেট তালাবদ্ধ করা হয়নি। এজন্য রোগীরা চলে যেতে পেরেছেন। এখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা নেই। তবে তালাবদ্ধ রাখলে এভাবে চলে যেতে পারতো না। তবে যারা আক্রান্ত তাদেরও সচেতন হওয়া উচিত ছিলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
২৬ বছরের মধ্যে ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড

দেশের খবর : ২৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে এখন ৬১ বছর আগের রেকর্ড ভাঙতে চলেছে ঢাকার তাপমাত্রা। ১৯৬০ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সোমবার (২৬ এপ্রিল) ঢাকায় তাপমাত্রা উঠেছে ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দেশজুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপাদায়ের এই অবস্থা থাকবে অব্যাহত থাকবে আেো ৩-৪ দিন। ফলে এ যাত্রায় ৬১ বছর আগের রেকর্ড ভেঙে ফেলা তেমন অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

সোমবার দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে ৫টি বিভাগেই ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের উপরে অবস্থান করে তাপমাত্রা। আগের দিন যশোরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডটি ভঙেে ফেলে রাজশাহী। এদিন রাজশাহী বিভাগের বাদলগাছিতে সর্বোচ্চ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠে ৪১ দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এদিন খুলনা বিভাগের তাপমাত্রাও ৪১ ডিগ্রী সেলসিয়াসে উঠে যায়। তবে এই তিন বিভাগের পেছনেই অবস্থান করে ময়মনসিংহ এবং বরিশাল। সোমবার ময়মনসিংহে বিভাগে তাপমাত্রা উঠে ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং বরিশাল বিভাগে উঠে ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এছাড়া সিলেট এবং রংপুর বিভাগের তাপমাত্রাও ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসে অবস্থান করে।

অর্থাৎ এই তাপমাত্রা থেকেও অনুভব করা যায়, তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে সারাদেশ। এতে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। এমনিতেই লকডাউন। তার ওপর যারা বাধ্য হয়ে কাজে বের হচ্ছেন, দুপুরের গরমে তাদের অবস্থা কাহিল। বিশেষ করে রাস্তায় খেটে খাওয়া মানুষগুলোর নাভিশ্বাস উঠছে। করোনায় মুখে মাস্ক পরার কথা থাকলেও রিকশাওয়ালা বা শ্রমজীবীদের গরমে-ঘামে মুখে মাস্ক রাখতে কষ্ট হচ্ছে। ভ্যান নিয়ে সবজি, ফল যারা বিক্রি করছেন তারাও চেষ্টা করছেন একটু ছায়ায় দাঁড়াতে। রোদ সরাসরি না লাগলেও তাপদাহে পুড়ছেন তারাও।

বর্তমানে দেশের পাঁচ অঞ্চলে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। তাছাড়া ৮ বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ। রোজার সঙ্গে তীব্র গরম যুক্ত হয়ে জনজীবনের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। গত ২৫ এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছে ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে, যা রেকর্ড হয়েছে যশোরে। এটি গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অন্তত পাঁচ জায়গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিপ্রির ওপরে উঠেছে। একই অবস্থা রাজধানীরও। গত ২৬ বছরের মধ্যে রবিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তীব্র গরমে ওইসব এলাকার জনজীবন হাঁসফাঁস করছে। আবহাওয়াবিদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুষ্ক আবহাওয়ায় অস্বস্তি বাড়াচ্ছে আপেক্ষিক আর্দ্রতা।

মাত্রাতিরিক্ত এই গরম পোহাতে হবে আরও তিন দিন। এসময় তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। তবে তিন দিন পর অর্থাৎ শুক্রবার থেকে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে গরম থেকে। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, আগামী ৩ দিন পর দেশে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সারাদেশের দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস কমে যেতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া এবং খুলনা অঞ্চলের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রংপুর, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও বলা হয়েছে, এই সময়ের শুরুতে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে আেো বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশের দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, চলমান তাপপ্রবাহ আগামী তিন-চার দিন অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ৩০ এপ্রিল বা তার পরদিন থেকে প্রায় সারাদেশেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তখন প্রায় সপ্তাহজুড়েই বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির হলে তাপমাত্রা অনেকটাই কমে আসবে। এ ছাড়া গত তিন-চার দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে রাজশাহী ও খুলনা অঞ্চলে কিছুটা বাড়তে পারে। সেটা সর্বোচ্চ এক ডিগ্রি পর্যন্ত।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৫ এপ্রিলের (রবিবার) আগে সর্বশেষ ২০১৪ সালের ঠিক এই দিনে অর্থাৎ ২৫ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গায় এরচেয়ে বেশি ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। তারপর থেকে গত রবিবারেরটাই সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। এ ছাড়া দেশের ইতিহাসে এযাবৎ সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছে ৪৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯৭২ সালের ১৮ মে তারিখে রাজশাহীতে রেকর্ড করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৫ এপ্রিল রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ঢাকায় গত ২৬ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। এর আগে ঢাকায় ১৯৯৫ সালে সর্বশেষ ৩৯ ডিগ্রিতে উঠেছিল তাপমাত্রা, ২৬ বছর পর গত ২৫ এপ্রিল তা ছাড়িয়েছে। তবে ঢাকায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯৬০ সালের ৩০ এপ্রিল রেকর্ড হয়।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, ২৫ এপ্রিলের আগে চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ২০ এপ্রিল ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাছাড়া ১৯ ও ২৪ এপ্রিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল। এছাড়া দেশের একাধিক জায়গায় ৩৯ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রার পারদ উঠেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত দুই দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা বেড়েছে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই সময়ে গরম পড়ার কথা। এই সময়টাতে সূর্য একদম মাথার উপরে অবস্থান করে ও লম্বাভাবে কিরণ দেয়। এখন দিন আগের তুলনায় বড় হয়ে গেছে। তাই গরম পড়াটা স্বাভাবিক। তবে অন্যান্য বার এই সময়ে বৃষ্টি হয়ে থাকে। সাধারণত এমন গরম অব্যাহত থাকলে বৃষ্টি হবেই। আমরা আশা করছি আগামী দুই-তিন দিন পরে বৃষ্টি হয়ে এই গরম ভাব দূর হবে। আমাদের আশা শুক্রবারের পর থেকে এই দাবদাহ কমতে থাকবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেশের খবর : করোনাভাইরাস সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় চলমান লকডাউনের (বিধিনিষেধ) মেয়াদ আরও সাতদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৫ মে পর্যন্ত এই ‘বিধিনিষেধ’ বহাল থাকবে।

সোমবার (২৬ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সার্বিক করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী আমাদের এই অবস্থাটা কন্টিনিউ করতে হবে। সরকার সেই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। আগামিকাল (মঙ্গলবার) সেই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। যে অবস্থাটা আছে সেটাই আরও এক সপ্তাহ অব্যাহত থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘তবে দোকানপাট, শপিংমল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। বিভিন্ন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কেটটা খোলা রাখতে হচ্ছে, তাদের এখানে বড় ধরনের বিনিয়োগের বিষয় রয়েছে। এখন মার্কেট ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকছে, সেটা এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত হবে। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট ও দোকান পরিচালিত হবে।’

ফরহাদ হোসেন আরও বলেন, ‘ভারতের অবস্থা তো খুবই খারাপ হয়ে গেছে। ভারতেরটা (করোনাভাইরাস সংক্রমণ) যদি এখানে ঢুকে পড়ে, এর মধ্যে যদি আবার আমাদের এখানে সবকিছু খুলে দেয়া হয়, তবে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। তাই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

প্রসঙ্গত, কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে গত ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে আটদিনের কঠোর লকডাউন শুরু হয়। লকডাউনের মধ্যে পালনের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। সেই মেয়াদ শেষ হয় গত বুধবার (২১ এপ্রিল) মধ্যরাতে। তবে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় লকডাউনের মেয়াদ আগামী ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সেটিই আবার আরও একদফা বাড়াতে যাচ্ছে সরকার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরার সাংস্কৃতিককর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি : কোভিড-১৯ কালে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে সাতক্ষীরার শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, কলাকুশলীতথা সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য আর্থিক (সহযোগিতা) অনুদান প্রদান করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও যথাযথ সম্মান বজায় রেখে এ কর্মসূচি সম্পন্ন করা হয়।
দ্বিতীয় দিনের চেক বিতরণ অনুষ্ঠান সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়। সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শিল্পকলা একাডেমি’র সাধারণ সম্পাদক শেখ মোসফিকুর রহমান মিল্টনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনানুষ্ঠানিক চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: নজরুল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নাসেরুল হক, জেলা শিল্পকলা একাডেমি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ফারহা দিবা খান সাথী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের জেলা কমিটির সভাপতি আবু আফফান রোজ বাবু, সাধারণ সম্পাদক শামিমা পারভিন রতœা প্রমুখ।
এ চেক বিতরণের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে রবিবার সকাল থেকে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: নজরুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় সাহিত্য-সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল। তিনি করোনাকাল থেকে মানুষের সকল সংকটে পাশে দাঁড়িয়েছেন। একই সাথে সাহিত্য সংস্কৃতিকর্মীদের কর্মহীনতায় তিনি দয়া নয় সরাসরি পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমাদের উচিত সরকারের ইতিবাচক সকল কর্মকান্ডে সহায়তা করা। একই সাথে শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, কলাকুশলীতথা সাংস্কৃতিকর্মীদের সম্মান বজায় রাখা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালার এ.জে.ডি.পি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালার এ.জে.ডি.পি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় পুন:বোর্ড গঠন এবং অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত শাস্তির দাবিতে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এস এম মোমিনুল ইসলাম।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তালার এ.জে.ডি.পি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে জন্য গত ৮ নভেম্বর ২০২০ তারিখে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সে মোতাবেক ৫ জন শিক্ষক যথাক্রমে মুকুন্দ কুমার রায়, বিশ^জিৎ রায়, মতিয়ার রহমান, অম্বর কুমার দাস ও কুমারেশ চন্দ্র বসু উক্ত পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেন। বাছাই কমিটি ৫ জনের আবেদনপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। কিন্তু এর মধ্যে মুকুন্দ কুমার রায় সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ তড়িঘড়ি করে নিয়োগ বোর্ডের আয়োজন করেন। ৫জন প্রার্থীর জন্য তিনি কম্পিউটার করে ৫টি খালি ঘর বিশিষ্ট তালিকা তৈরি করেন চিঠি বিতরণের জন্য। কিন্তু চিঠিগুলো সরকারি রাজস্ব ফাঁকি নিয়ে কোন পিওনের মাধ্যমে বিতরণ না করে নিজেই বিতরণ করেন এবং চিঠিতে ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখ থাকলেও পৌছে দিয়েছেন ১ মার্চ ২০২১ তারিখে। সে অনুযায়ী ৩মার্চ ২০২১ তারিখ বুধবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ওই দিন সকালে মৌখিকভাবে জানানো হয় নিয়োগ বোর্ড হবে না। পরবর্তীতে জানা যায় ওই ৪ জন প্রার্থীদের বাদ নিয়ে যারা আদৌ আবেদন করেনি এবং চাকুরি ১০ বছর পূর্ন হয়নি এমন তিন জন শিক্ষক যথাক্রমে সাধন কুমার দাস ওরফে বিশ^জিৎ দাস, তপন কুমার পাল ও ঘোষ অজয় কুমারকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ দেখান।
এদিকে শিক্ষা অফিস থেকে ডিজি’র প্রতিনিধি হিসাবে তালা বিদে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোজিনা ম্যাডানকে। কিন্তু তিনি ২৪ ফেব্রুয়ারি মারা যান। অথচ যে নিয়োগ বোর্ড বাসিয়েছেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ। সেখানে তালা বিদে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গৌর পদ নন্দিকে দিয়ে নিয়োগ বোর্ড পরিচালনা করিয়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সাধন কুমার দাস ওরফে বিশ^জিৎ দাস কে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দান করেন। যা সম্পূর্ণ নিয়ম বর্হিভূত। ফলে উক্ত নিয়োগটি সম্পূর্ণ অবৈধ।
নিয়োগ বোর্ড সম্পন্নের পরে এলাকায় চৌর হয়ে গেছে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ ৭/৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দক্ষ,মেধাবী ও যোগ্য শিক্ষকদের বাদ নিয়ে শুধুমাত্র অর্থের লোভে একজন অযৌগ্য অদক্ষ ব্যক্তিকে অবৈধভাবে উক্ত পদে নিয়োগ দান করেছে। এঘটনা ছড়িয়ে পড়ায় এলাকার অভিভাবকরা স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নিয়ে।
এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এস এম মোমিনুল ইসলাম এই নীতি বিবর্জিত সাধন কুমার দাস ওরফে বিশ^জিৎ দাসসহ তার সহযোগীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি এবং বৈধ প্রার্থীদের দ্বারা পুন:বোর্ড গঠনের দাবিতে জেলা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় একই পরিবারের ৩জন কে পিটিয়ে জখমের ঘটনায় মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই পরিবারের ৩জন কে পিটিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। যার নং- ৪৭, তাং- ২৫/০৪/২০২১।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সদর উপজেলার শীবনগর এলাকার মৃত শহর আলীর পুত্র আলমগীর হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, মৃত মান্দার সরদারের পুত্র রবিউল ইসলাম, রবিউল ইসলামের পুত্র জনি, রনি, সনি ও রাজনগর গ্রামের নূরু সরদারের পুত্র তরিকুল ইসলামসহ ৮/৯ জনের একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী দেশীয় অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাজনগর পূর্বপার সরদারপাড়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের পুত্র কামরুল ইসলামের ভাইপো মিন্টু পথরোধ করে। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধারের জন্য মনিরুল ইসলাম ও কামরুল ইসলামের পুত্র আজহারুল সেখানে গেলে উল্লেখিত বাহিনীর সদস্যরা মিন্টু, মনিরুল ও আজহারুলকে বাঁশের লাঠি, জিআই পাইপ, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয় হাসান সরদার, আফছার আলী ও শাহিনুর তাদের হামলাকারীদের কবল থেকে তাদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এঘটনায় কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার খবরে আসামী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং মামলা তুলে নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে খুন জখমসহ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করে যাচ্ছেন। এছাড়া কামরুল ইসলাম জানান, উল্লেখিত ব্যক্তিরা এলাকায় সন্ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করতে চায়। যে কারণে এলাকার নিরিহ মানুষদের উপর বিভিন্ন সময়ে মারপিট ও হামলা মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি উল্লেখিত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় পিপির নেতৃত্বে আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতির উপর হামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি : ভার্চুয়াল আদালতে ধর্ষণ মামলার এক আসামীর জামিন শুনানীকালে রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি দেওয়ায় আসামীপক্ষের আইনজীবীর আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. এম শাহ আলমকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এ সময় জজ কোর্টের তিন তলায় তার ল. চেম্বারের আসবাবপত্র ও জানালার কাঁচ ভাঙচুর করা হয়।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাড. গোলাম মোস্তফা জানান, প্রাইভেট পড়ানোর সময় আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা গ্রামের ১০ম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে একই গ্রামের আসাদুল ইসলাম (২৫)। ওই ছাত্রী চার মাসের অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়ার পর জানাজানি হলে গত বছরের ৮মে ধর্ষিতার বাবা আসাদুলের নাম উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। ওই ছাত্রী সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। চলতি বছরের ২ এপ্রিল আসামী আসাদুলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায়। আসাদুল বিচারিক হাকিম রেজোয়ানুজ্জামানের খাস কামরায় ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। সেখান থেকে ওই আসামী জেল হাজতে রয়েছেন।
অ্যাড, রফিকুল ইসলাম ও অ্যাড. গোলাম মোস্তফা জানান, ধর্ষণ মামলার আসামী আসাদুলের জামিন শুনানীর জন্য সোমবার সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দিন ধার্য ছিল। আসামীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. গোলাম মোস্তফা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. শাহ আলম। দুপুর একটার দিকে যার যার চেম্বারে বসে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে জামিন শুনানীকালে আসামী ও ভিকটিম বিবাহ করেছেন ও তাদের মীমাংসা হয়ে গেছে মর্মে আদালতকে অবহিত করেন অ্যাড. এম শাহ আলম। এ সময় ভিকটিম ও তার বাবা মামলার বাদি অ্যাড. এম শাহ আলমের চেম্বারে বসে আছেন জানালে রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাড আব্দুল লতিফ আপত্তি জানান। জামিনের আপত্তি জানিয়ে তিনি ভিকটিম ও বাদিকে স্বশরীরে দেখতে চান। বাদি ও ভিকটিম প্রকৃত কিনা তা নিশ্চিত হতে তাদেরকে তার চেম্বারে আনতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এম শাহ আলম পিপি অ্যাড. আব্দুল লতিফকে উদ্দেশ্য করে দালাল, খাটাল লতিফ, জাল সার্টিফিকেট নিয়ে ওকালতি করিস এমনসব মন্তব্য করেন। বিষয়টি সাতক্ষীরা সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমানসহ বেশ কিছু জেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ আইনজীবীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আদালত ওই আসামীকে দু’ হাজার টাকার বণ্ডে চার সপ্তাহের জন্য জামিন দেন। দুপুর সোয়া একটার দিকে অ্যাড. আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা অ্যাড একলেছার আলী বাচ্চু, অ্যাড. এবিএম সেলিম, অ্যাড. নুরুল আমিন, অ্যাড খায়রুল বদিউজ্জামান বাচ্চুসহ কয়েকজন অ্যাড. শাহ আলমের চেম্বারে ঢুকে তার উপর হামলা চালায়। হামলা চলাকালে সেখানে উপস্থিত হন সাবেক সাংসদ অ্যাড. সালাহউদ্দিন, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. আব্দুল মজিদ(২), অ্যাড. এসএম হায়দার আলী, অ্যাড. সাইদুর রহমান জিকোসহ ১২/১৪ জন আইনজীবী। হামলায় আহত হন অ্যাড. শাহ আলম। ভাঙচুর করা হয় তার চেম্বারের আসবাবপত্র, জানালার কাঁচের গ্লাস ও এসি মেশিন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আইনজীবী জানান, গত বছরে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ কয়েকজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত পাড়ায় আপত্তিকর হ্যাণ্ডবিল বিতরনকে কেন্দ্র করে অ্যাড. এম শাহ আলম ও তার কয়েকজন সহযোগী আইনজীবী বিএনপি নেতা অ্যাড, নুরুল আমিনসহ কয়েকজনকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করেন। এ ছাড়াও বার কাউন্সিল পাশ করার পরও তাদেরকে বিভিন্ন অজুহাতে আদালতে প্রাকটিস করতে না দেওয়া, বার কাউন্সিলে পাশ না করেও যারা আদালত পাড়ায় দালালির মাধ্যমে বিচার প্রার্থীদের হয়রানি করতো তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া, বিগত নির্বাচনে ঠুনকো অজুহাতে ভোটার না করা, কল্যাণ ফাণ্ডে টাকা জমা না নেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে বেশ কয়েকজন আইনজীবী ক্ষুব্ধ ছিলেন এম শাহ আলমের উপর। এ ছাড়া সহকারি পিপি ও অতিরিক্ত পিপি বানানোর নাম কের পিপি অ্যাড. আব্দুল লতিফ কয়েকজন আইনজীবীর কাছ থেকে মোট অংকের টাকা ঘুষ নিয়েও পদ বঞ্চিত হওয়ায় তারা লতিফকে বরখাস্তের দাবিতে একের পর এক যে আন্দোলন করে তাতে অ্যাড. এম. শাহ আলমের সমর্থন ছিল বলে মনে করেন পিপি অ্যাড. আব্দুল লতিফ। সোমবার অ্যাড. এম শাহ আলমের উপর হামলা ওই সব পুঞ্জিভূুত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন ওইসব আইনজীবীরা।
এদিকে অ্যাড. শাহ আলম জানান, তিনি সভাপতি থাকাকালিন গত বছরের আগষ্ট মাসে জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আইন সনদ জাল মর্মে কয়েকজন আইনজীবী তার কাছে অভিযোগ করেন। আব্দুল লতিফকে নোটিশ করে তার সার্টিফিকেট দেখতে চাইলে তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেন। বাধ্য হয়ে তিনি তাকে সাময়িকের জন্য ডিসবার করেন। এর ঘটনায় আব্দুল লতিফ তার বিরুদ্ধে দেওয়ানী মামলা করেন। সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির ডিসবারের আদেশটি গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকা বার কাউন্সিলে স্থগিত করা হয়। এসব কারণে আব্দুল লতিফ তার উপর ক্ষুব্ধ ছিল। আইনজীবী সমিতির সাম্প্রতিক নির্বাচনে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তাকে দেখে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিলেন আব্দুল লতিফ ও তার সহযোগিরা। সেকারণে সোমবার একটি মামলার জামিন শুনানীতে আপত্তিকর মন্তব্য করার ঠুনকো অভিযোগে পরিকল্পিতভাবে তার চেম্বারে ঢুকে অ্যাড. আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা অ্যাড একলেছার আলী বাচ্চু, অ্যাড. এবিএম সেলিম, অ্যাড. নুরুল আমিন, অ্যাড খায়রুল বদিউজ্জামান বাচ্চু, সাবেক সাংসদ অ্যাড. সালাহউদ্দিন, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. আব্দুল মজিদ(২), অ্যাড. এসএম হায়দার আলী, অ্যাড. সাইদুর রহমান জিকোসহ ১২/১৪ জন আইনজীবী হামলা চালান। হামলায় তাকে লাঞ্ছিত করা হয়। ভাঙচুর করা হয় চেম্বারের আসবাবপত্র ও জানালার কাঁচের গ্লাস।
এ ব্যাপারে জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. আব্দুল লতিফ সাংবাদিকদের বলেন, একটি ধর্ষণ মামলায় জামিন আপত্তি করায় তার বিরুদ্ধে আপওিকর মন্তব্য করার প্রতিবাদ করতে গেলে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাড. এসএম হায়দাল আলী, অ্যাড. আব্দুল মজিদ(২), অ্যাড. সালাউদ্দিন, অ্যাড. এখলেচার আলী বাচ্চু, অ্যাড, এবিএম সেলিম, এ্যাড, খায়রুল বদিউজ্জামান বাচ্চুসহ কয়েকজনের সঙ্গে শাহ আলমের বচসা হয়। এতে কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি।
সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রেজোয়ান উদ দৌলা সবুজ তার উপস্থিতিতে সাবেক সভাপতি ও তার চেম্বারে হামলার ঘটনা ঘটার কথা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনা আইনজীবীদের জন্য লজ্জাজনক।
সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. আবুল হোসেন জানান, তিণি ঘটনার সময় ছিলেন না। মঙ্গলবার আদালতে যেয়ে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক বুরহানউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে আদালতে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সোমবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত এ নিয়ে থানায় কোন লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভোমরা স্থলবন্দরে করোনা সংক্রমনের চরম ঝুঁকিতে বন্দর সংশ্লিষ্টরা

আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরে আমাদানী-রপ্তানী কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও স্বাস্থ্য বিধি না মানায় করোনা সংক্রমন ঝুকির মধ্যে রয়েছে বন্দর সংশ্লিষ্টরা। প্রতিদিন ভারত থেকে আসা শত শত ট্রাক চালক ও হেলপার বন্দরের অভ্যন্তরে ঢুকে যথেচ্ছা ঘুরাঘুরি করায় আতংকিত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। স্বাস্থবিধি না মানায় বন্দকর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকসহ বন্দরে নিয়োজিতরা।
তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা গেছে, দেশের অন্যান্য বন্দরের ন্যায় আজ সোমবার থেকে ১৪ দিনের জন্য ভোমরা স্থল বন্দরে যাত্রী চলাচল বন্ধ ঘোষনা করা হলেও চরম উদাসীনতায় চলছে আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম। ভারত থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন পণ্যনিয়ে তিন শতাধিক ট্রাক ঢুকছে বাংলাদেশে। ভারত থেকে আসা এসব ট্রাকের কোনো সেনিটাইজ করা হচ্ছেনা। এমনকি ট্রাকের চালক ও হেলপারের জন্যও কোনো ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। এ সমস্ত ট্রাক চালকরা বন্দরের মধ্যে ট্রাক রেখে অবাধে ঘুরছে যত্রতত্র। খাওয়া দাওয়া করছে স্থানীয় হোটেল গুলোতে। আর এসব ট্রাক থেকে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন না করেই মালামাল নামাচ্ছে স্থানীয় শ্রমিকরা। ফলে করোনা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে শ্রমিকসহ ব্যবসায়িরা। তবে এসবের দায় নিতে রাজি হচ্ছেনা কোনো বিভাগই। কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করেই কার্যক্রম পরিচালনা করায় চরম ঝুকির মধ্যে পড়েছে বন্দর ব্যবহারকারী ও স্থানীয়রা। শ্রীঘ্রই দেশের সর্বদক্ষিনের জনপদ ভোমরা স্থল বন্দরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভারতের সাথে আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম পরিচালনা না করলে করোনা সংক্রমন দেশ ব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করছে সাতক্ষীরা বাসী।
ভোমরা স্থল বন্দরের মেডিকেল ইনচার্জ আব্দুস শহিদ জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ভোমরা স্থল বন্দরে একটি মেডিকেল টিম নিয়োজিত রাখলেও তাদের পক্ষ থেকে পন্যবাহি ভারত থেকে আসা ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপারদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যাপারে তারা সেখানকার ব্যবস্থাপনা ঘাটতি থাকার কারন উল্লেখ করেন।
ভোমরা স্থল বন্দর ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ বিশ্বজিত সরকার জানান, ইমিগ্রেশনের মধ্যে একটি থার্মাল স্ক্যনার রয়েছে। যার মধ্যে দিয়ে কেউ গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার শরীরের তাপমাত্রা দেখা যায়। সেটি মুলত: পাসপোর্ট যাত্রীদের জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে পাসপোর্ট যাত্রী আসা যাওয়া বন্ধ থাকায় থার্মাল স্ক্যনারটি এখন ব্যবহার হচ্ছেনা।
ভোমরা স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম জানান, অচিরেই স্বাস্থ্য বিধি মেনে আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম পরিচালনা করা ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে বলে।
কাস্টমস এর সুপার আকবর আলী জানান, রোববারও ভারত থেকে বিভিন্ন পন্য নিয়ে ৩৪১ টি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এসব ট্রাকের মালামাল নামিয়ে দিয়ে তাদের অধিকাংশ আবার ফিরেও যাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বিষয়টি আমাদের দেখভাল করার দায়িত্ব নয় বলে জানান তিনি।
ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি আরাফাত হোসেন জানান, জিরো পয়েন্টে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে আমাদের কর্মীদেরকে হাত ধোয়া এবং মাস্ক পরার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ভারতীয় চালক ও হেলপারের বিষয়টি সবসময় দেখা সম্ভব হয়না।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়েত জানান, ভারতীয় চালক বা হেলপারদের এখন থেকে একটি নিদিষ্ট স্থানে রেখে সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের খাওয়ার জন্য নিদিষ্ট একটি হোটেল বা স্থান ঠিক করা উচিত। একই সাথে তারা যেন বাইরে যেতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারী করা প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, বিষয়টি নিয়ে সোমবার জরুরিভাবে সংশ্লিস্টদের নিয়ে একটি জুম মিটিংএর আয়োজন করা হয়। সেখানে ভারত থেকে আসা ট্রাক চালক ও হেলপারদের স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন করার বিষয়টি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest