নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘কঠোর লকডাউনের’ মধ্যেও সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। হতাহতরা সবাই ইটভাটার শ্রমিক। উপজেলার সুভাষিনী এলাকায় সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার জাফরপুর গ্রামের মুন্না ও একই গ্রামের শফিকুল ইসলাম। খুলনার চুকনগর হাইওয়ে পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি রাসেল জানান, গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে পিকআপে করে শরীয়তপুর থেকে সাতক্ষীরায় ফিরছিলেন একদল ইটভাটা শ্রমিক। পিকআপটি তালা উপজেলার সুভাষিনী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মুন্না ও শফিকুল নিহত হন।
লাশ দুটি হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া আহতদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। দুর্ঘটনার পরই চালক ট্রাক নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন ওসি।

আলিপুর ইউনিয়নের তালবাড়িয়া এলাকার কৃষক মো: রুহুল কুদ্দুস জানান, এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন করার জন্য দশ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। জমি তৈরি, বপন, রোপন, ধান কাটা, মাড়াই করা ইত্যাদি কাজের জন্য মোট বাইশ জন শ্রমিকের প্রয়োজন পড়ে প্রতি এক বিঘা জমিতে।
ধানী জমিতে তিন চালান সার প্রয়োগ করতে হয়। এক বিঘা ধানী জমিতে কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগের সম্মুখিন না হলে প্রায় ১৫ মণের মতো ধান উৎপাদিত হয়। আমন, আউশ ও বোরো মৌসুমে উৎপাদিত হয়। তার মধ্যে বোরো মৌসুমে ব্রি ধান, ১৩০-১৩৫ দিনের মধ্যে পাকতে শুরু করে। ফলনের দিক থেকে আমনের থেকে আউশ মৌসুমে বেশি ধান উৎপাদিত হয়। আবার আউশের থেকে বোরো মৌসুমে বেশি ধান উৎপাদিত হয়। কিন্তু বর্তমানে শ্রমিক ও সারের মূল্য বেশি হওয়ায় কৃষক ধানের ন্যায্য মূল্য পায় না এবং একই কারণে কৃষকের খুব স্বল্প পরিমানে লাভ হচ্ছে।
এছাড়া মাছ চাষের সাথে সবজিও চাষ করে সফল হচ্ছেন। আলিপুর গ্রামের মো: আছাদুল হক একজন সফল মাছ চাষী। তিনি তাঁর হিরার চকে নলবোন নামের ৬০ বিঘা জমিতে একজন কর্মচারী দিয়ে সমন্বয় পদ্ধতিতে মাছ চাষ করেন। তিনি ঘেরে মাছ ছাড়ার আগের ঘেরের পানি শুকিয়ে নেন। তারপর মাটিতে ১০ বস্তা চুন প্রয়োগ করেন। এরপরে এক সপ্তাহ পর ১০ বস্তা ড্যাপ সার প্রয়োগ করেন। এভাবে ঘেরে মাছ ছাড়ার জন্য মাটিকে প্রস্তুত করে নেন। তিনি আরও জানান, খালে যখন জোয়ারের পানি ওঠে তখন তিনি খাল থেকে পানি নিয়ে ঘেরে দেন। লোনা পানি নেওয়ার ৩-৪ দিন পর বাগদার পোনা ছাড়েন। দুই-তিন মাস পর বাগদার পোনা বড় হয়ে যাওয়ার পর সেগুলো বাজারজাত করা হয়। সাতক্ষীরা জেলাতে চিংড়ির উৎপাদন ভালো হয়। এসব চিংড়ি দেশ বিদেশে রপ্তানি করা হয়। চিংড়িকে সাদা সোনা বলা হয়ে থাকে। এসব চিংড়ি বড় হয়ে যাওয়ার পর ঘেরে বৃষ্টির পানি দিয়ে লোনা পানিকে মিঠা পানিতে রুপান্তরিত করে মাছ চাষীরা রূই, কাতলা, মৃগেল, ট্যাবলেট, তেলাপিয়া প্রভৃতি সাদা মাছ ছাড়েন। মাছ চাষ করার পাশাপাশি ঘেরের ভেড়িতে কুমড়া, টমেটো, ঢেড়শ, পুঁইশাক ইত্যাদি।
