সর্বশেষ সংবাদ-
তালায় উপজেলার শ্রেষ্ঠ সংগঠক নির্বাচিত তরুণ সমাজকর্মী এস. এম. নাহিদকলারোয়ায় প্রবাসীর অর্ধকোটি টাকার ইটভাটা জবরদখলের অভিযোগ- বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলননক্ষত্রের অভিবাদন: শ্যামনগরে ১০ গুণী ব্যক্তিকে সংবর্ধনাসাংবাদিক পুত্র কাজী ফাহিমের অতুলনীয় সাফল্য : প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের অভিনন্দনসাতক্ষীরায় জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষের আবাসন, খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার নিশ্চিতে ১১ দফা দাবিসাতক্ষীরার সাংবাদিকপুত্র কাজী ফাইম আব্দুল্লাহর এইচএসসিতে গোল্ডেন এ-প্লাস অর্জনসাতক্ষীরায় নির্মাণাধীন ভবনের সাব-কন্টাক্টরের কাছে চাঁদা দাবি : থানায় অভিযোগতালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: সার সংকট, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে গুরুত্বারোপদেবহাটায় শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে খেলাভিত্তিক সেশন পরিদর্শনসাতক্ষীরায় আবাসিক হোটেল-রেস্তোরাঁ – বেকারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময়

দুই বছরের বেশি সাজা হলে নির্বাচনে প্রার্থী নয়: হাইকোর্টৎ

দেশের খবর: বিচারিক আদালতে দুই বছরের বেশি সাজা হলে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
তবে দণ্ড স্থগিত বা জামিন হলে নির্বাচন করা যাবে। মঙ্গলবার দুপুরে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
দুর্নীতির দায়ে বিচারকি আদালতের দেয়া দণ্ড ও সাজা (কনভিকশন অ্যান্ড সেন্টেন্স) স্থগিত চেয়ে আমান উল্লাহ আমানসহ বিএনপির পাঁচ নেতার করা আবেদন খারিজের রায়ে এ আদেশ দেয়া হয়।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল বা স্থগিত করে তাকে জামিন দেয়।

বিএনপি নেতা আমান উলাহ আমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমান ও মো. আব্দুল ওহাবের পক্ষে দণ্ড ও সাজা বাতিলের ওই আবেদন করা হয়েছিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা–২ সহ  ৯ আসন পেল মান্নার নাগরিক ঐক্য

দেশের খবর: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচেন ঐক্যফ্রন্টের শরিক নাগরিক ঐক্যের নয়জন প্রার্থী বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন। সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিএনপির চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র তুলে দেয়া হয় নাগরিক ঐক্যের এক প্রতিনিধির হাতে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে এসব চিঠি প্রার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছে নাগরিক ঐক্য।

নাগরিক ঐক্য থেকে মনোনয়ন প্রাপ্তরা হলেন, মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-২), এস এম আকরাম (নারায়ণগঞ্জ-৫), ফজলুল হক সরকার (চাঁদপুর–৩), এড নজরুল ইসলাম (ময়মনসিংহ–২), মোবারক হোসেন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২), রবিউল ইসলাম (সাতক্ষীরা–২), শাহ মো. রহমতউল্লাহ ( রংপুর–১), মোফাখখারুল ইসলাম নবাব ( রংপুর–৫), কে এম নুরুর রহমান (বরিশাল–৪)।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না গণমাধ্যমকে জানান, নাগরিক ঐক্যের ৯ প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইস্কোর জন্য সোলারিকে চাপ

খেলার খবর: গত শনিবারের আগে এএস রোমার বিপক্ষে ম্যাচ হলে হয়তো ছবিটা অন্যরকম হতো। কিন্তু সেই দিন লা লিগায় এইবারের কাছে লজ্জাজনক হারের পর এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদের উপর চাপটা অনেক বেশি।
সান্টিয়াগো সোলারি স্থায়ীভাবে কোচের দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম ম্যাচেই এইবারের কাছে ৩-০ গোলে হারে রিয়াল। তারপরই আর্জেন্টাইন এই কোচের জন্য ক্লাব কর্মকর্তাদের পরামর্শ চলে এসেছে।
সোলারি অস্থায়ী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর রিয়ালের প্রথম পাঁচটি ম্যাচের একটিতেও ইস্কোকে প্রথম একাদশে খেলাননি। বদলি হিসেবে নামলেও এই পাঁচ ম্যাচে সবমিলিয়ে ৭৮ মিনিটের বেশি খেলতে পারেননি। তবে রিয়াল কর্মকর্তারা ইস্কোকে দলের প্রথম একাদশে খেলানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তাই রোমে মঙ্গলবার রাতের ম্যাচে প্রথম একাদশে দেখা যেতে পারে ইস্কোকে।

বসনিয়ার বিরুদ্ধে কয়েকদিন আগেই আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্পেনের হয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন ইস্কো। খেলেছেনও দুর্দান্ত। জাতীয় দলে যখন দারুণ পারফর্ম করছেন, তখন ক্লাব দলে সুযোগ না পাওয়ায় বিস্তর সমালোচনা হয়েছে।

এই মুহূর্তে গ্রুপের যা অবস্থা তাতে দ্বিতীয় রাউন্ডে রিয়াল-রোমা উভয়েরই যাওয়ার সম্ভাবনা। চার ম্যাচে দু’দলেরই পয়েন্ট ৯। তবে গোল ব্যবধানে শীর্ষে রোমা। মঙ্গলবার সিএসকে মস্কো যদি ভিক্টোরিয়া প্লাজেনকে হারাতে না পারে, তাহলে রোমার কাছে হারলেও দ্বিতীয় রাউন্ডে চলে যাবে রিয়াল। সেক্ষেত্রে রোমার আবার ড্র করলেই চলবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘ওরা দেবতাদের বিক্রি করে খায়’

বিদেশের খবর: ভারতীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নাম উল্লেখ না করে তাদের কড়া সমালোচনা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ওদের বিশ্বাস করবেন না ওরা দেবতাকে বিক্রি করে খায়।
সোমবার পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহল অঞ্চলে এক সরকারী সভায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিজেপির কাজ হল ধর্মকে ব্যবহার করা। ধর্মের নাম করে তারা ভোট পেতে চায়। মমতা অভিযোগ করেন, ভোটের আগে বিজেপি টাকা ছড়াবে। তবে তিনি বলেন, টাকা নিন তবে ভোট তাদের দিবেন না। এবং বিজেপির রাম থাকলে আমাদের দুর্গা আছে।
এছাড়া তিনি বলেন, আপানাদের সেবা করার জন্য আমরা খাদ্য, চিকিৎসা সব দিয়েছি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দুই শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণ করলেন ছাত্রলীগ নেতা

অনলাইন ডেস্ক: আর্থিক অনটনের কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও স্বপ্ন পূরণ করতে পারছিলেন না দুই মেধাবী শিক্ষার্থী মজমুল ইসলাম আপন ও হাফেজ সওদাগর। উচ্চশিক্ষা তাদের কাছে প্রায় অধরাই থেকে যাচ্ছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি এহসান মাহফুজ। তার সহায়তায় আপন আইন বিভাগে ও হফেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।

জানা গেছে, মজমুল ইসলাম আপন রংপুর জেলার কোতায়ালি থানার মটুকপুর গ্র্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। অভাবের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করতে পারেননি। এমনকি ভর্তি পরীক্ষার ফরম তোলার টাকাও ছিলো না।
তার মা বাড়ির একটি ভেড়া বিক্রি করে ফরম তুলে দেন। পরিবারের শেষ সম্বল বলতে, ভিটেমাটি আর কয়েককটি ভেড়া। বাবা বর্গাচাষি ছিলেন। কিন্তু বার্ধ্যক্যের কারণে বর্তমানে কাজ করতে পারেন না। নিজের প্রচেষ্টায় আপন এ বছর রাবির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘এ’ ইউনিটে মেধাতালিকায় ২৩০ তম, ‘বি’ ইউনিটে ১৮২তম এবং ‘ই’ ইউনিটে ৩২তম হয়েছে।

অার হাফেজ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া গ্রামের হরমুজ সওদাগরের দুই ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে হাফেজ তৃতীয়। সে স্থানীয় কালিয়া কান্দাপাড়া উচ্চ-বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং এইচএসসি পরীক্ষাতেও সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জন করে। এ বছর রাবির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘এ’ ইউনিটে মেধাতালিকায় ২৩৭তম ও ‘ই’ ইউনিটে ৩০২তম স্থান অর্জন করেছে সে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করেও স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল আর্থিক অনটন। তবে হাফেজের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে এবং আপনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে তা এহসান মাহফুজের নজরে আসে। পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ভর্তি সকল ব্যবস্থা করে দেন তিনি।

এহসান মাহফুজ বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর তাদরে সঙ্গে যোগাযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার জন্য বলি। আপন ও হাফেজ ক্যাম্পাসে আসলে আজ (সোমবার) তাদের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে দিয়েছি। এ ছাড়াও তাদের ক্যাম্পাসে স্থায়ীভাবে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থাও করে দেবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপন ও হাফেজের মত অদম্য মেধাবীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। একটু সহযোগিতা পেলেই তারা অনেক দূর এগিয়ে যাবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ এসব অদম্য মেধাবীদের সহযোগিতায় সবার এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরে তার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে দাবি করে আপন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে যে টাকা লাগবে তা আমার পরিবারের পক্ষে যোগাড় করা সম্ভব ছিল না। এহসান ভাই আমার ভর্তি সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে হাফেজ বলেন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা নেই। তিনি অনেক ভালো মানুষ। ভাই আমার পাঁশে না দাঁড়ালে হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হতো না। শুধুমাত্র ভর্তি হওয়ার ব্যবস্থায় করেননি একই সাথে তিনি আমার পড়ালেখাসহ যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নিয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মঙ্গলে সফল অবতরণ, তথ্য পাঠাচ্ছে ল্যান্ডার ‘ইনসাইট’

অনলাইন ডেস্ক: মঙ্গলগ্রহে সফলভাবে অবতরণ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ল্যান্ডার (ধীরগতির অবতরণ ক্ষমতাসম্পন্ন) রোবটযান ‘ইনসাইট’। বাংলাদেশ সময় সোমবার দিবাগত রাত ১টা ৫৩ মিনিটে মঙ্গলের বুকে অবতরণ করে যানটি।

অক্ষত অবস্থায় মঙ্গলের ভূমি স্পর্শ করে সেখান থেকে পাঠানো প্রথম ছবি পৃথিবীতে পৌঁছানোর সাথে সাথেই করতালি আর উল্লাসে ফেটে পড়ে নাসার জেট প্রোপালশান ল্যাবরেটরি। কেননা যানের নকশা থেকে শুরু করে মঙ্গলে টাচডাউন পর্যন্ত দীর্ঘ সাত বছরের কষ্ট আপাতদৃষ্টিতে সফল।

এবার আরেকটি জটিল অংশ বাকি। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ইনসাইটের সোলার অ্যারেগুলো (বিস্তৃত সোলার প্যানেল) সৌরশক্তিতে চার্জ হওয়ার জন্য ঢাকনা খুলে বেরিয়ে আসার কথা। এই জটিল কাজটি ঠিকঠাক সম্পন্ন হলো কিনা, তা জানার জন্য দুপুর পর্যন্ত নাসার বিজ্ঞানীদের রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করতে হবে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, মঙ্গলের ভূমিকম্পের তথ্য থেকে গ্রহটির অভ্যন্তরীণ কাঠামো সম্পর্কে ধারণা পেতেই নাসার এবারের মিশন। অবতরণের পর সেখানকার মাটিতে সিসমোমিটার (কম্পন মাপক যন্ত্র) স্থাপনের পর থেকেই তথ্য পাঠাতে শুরু করেছে ইনসাইট ল্যান্ডার। সিসমোমিটারে যুক্তরাজ্যের তৈরি একটি সেন্সরও রয়েছে। এটিই বিজ্ঞানীদের মঙ্গলের ভূমিকম্প ‘মার্সকোয়াক’ সম্বন্ধে তথ্য দেবে।
মঙ্গলপৃষ্ঠ থেকে ১৬ ফুট গভীর পর্যন্ত খুঁড়তে সক্ষম ইনসাইট ল্যান্ডার। পৃথিবীর সঙ্গে তুলনার পর মিলবে মঙ্গলের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে থাকা পাথরের স্তর সংক্রান্ত তথ্যও।
৯৯ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত মনুষ্যবিহীন ল্যান্ডার ইনসাইট নাসার ইতিহাসে মঙ্গলে অষ্টম সফল অবতরণের ঘটনা। মঙ্গলের পৃষ্ঠ থেকে পাঠানো তথ্য অনুসারে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ল্যান্ডারটি পুরোপুরি ভালো অবস্থায়ই অবতরণ করেছে এবং ঠিকঠাক কাজ করছে।নাসা-মঙ্গলগ্রহে ইনসাইট ল্যান্ডার

এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন মহাকাশ সংস্থা অন্তত ৪৩ বার মঙ্গলগ্রহে রোভার, অরবিটার ও প্রোব পাঠানোর চেষ্টা চালিয়েছে, যার মধ্যে ব্যর্থ হয়েছে অর্ধেকেরও বেশি।
শুধু নাসাই লালগ্রহ জয় করা একমাত্র মহাকাশ সংস্থা। ২০১২ সালে সেখানে কিউরিসিটি রোভার পৌছানোর মধ্য দিয়ে এ যাত্রার শুরু। মঙ্গলগ্রহে যাত্রার এই মিশনকে নাসা বলছে ২০৩০’র দশকে মনুষ্যবাহী এক্সপ্লোরার যান পাঠানোর প্রস্তুতি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নৌকার মাঝিদের হাতে ধানের শীষ

দেশের খবর: আওয়ামী লীগ এক সময়ের ডাকসাইটের নেতারা এবার বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে অনেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়নের চিঠি নিয়েছেন। ড. কামাল হোসেন বাংলাদেশের সংবিধানের প্রণেতা হিসেবেই অধিক পরিচিত। ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে আইনমন্ত্রী এবং ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে গণফোরাম নামে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এবার তার নেতৃত্বে ধানের শীষে নির্বাচন করবে গণফোরাম।

আওয়ামী লীগ আমলের সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী এবং দলের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মাহমুদুর রহমান মান্না, মোস্তফা মহসীন মন্টু, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া।

আ.স.ম. আবদুর রব বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক। ১৯৭১ সালে অন্যদের সঙ্গে ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহাসিক বটতলায় শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে দেন। স্বাধীনতার পর আ. স. ম. রব নতুন দল জাসদ গঠন করেছিলেন। এবার তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন।

গণফোরামের পক্ষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে হবিগঞ্জ-১ আসনে লড়বেন রেজা কিবরিয়া। ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এক সময়ের মাঠ কাঁপানো ছাত্র নেতা নৌকার হাল ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়তে বগুড়া-২ আসনে ধানের শীষে মনোনয়ন পাচ্ছেন তিনি। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এক সময়ের প্রতাপশালী এই ছাত্রনেতা দায়িত্ব পালন করেছেন ডাকসুর ভিপি হিসেবে। ধানের শীষ প্রতীকে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচন করবেন তিনি। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে এমপি নির্বাচিত হন মোস্তফা মহসীন মন্টু। এ ছাড়া পালন করেছেন যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। এরপর তিনি যোগদেন ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম। ধানের শীষ প্রতীকে এবার ঢাকার যে কোনো একটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন তিনি।

বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক পেলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি। গতকাল সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ফুল দিয়ে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।

আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা ছিলেন এস এম আকরাম। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর আগে এস এম আকরাম ১৯৯৪ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন।

এবার ঐক্যফ্রন্টে যাচ্ছেন আজিজুস সামাদ ডন। এমন খবর শোনা যাচ্ছে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদের ছেলে। বাবার পথ ধরেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে আছেন তিনি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ডন এবার দলীয় মনোনয়নে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আওয়ামী লীগ কি পারিবারিক দল হয়ে উঠছে?

বিভুরঞ্জন সরকার: জেলা শহরগুলো এখন নেতাশূন্য। কথা বলার জন্য তেমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। সারা দেশের মূল মূল রাজনৈতিক নেতারা ঢাকায়। সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য লবিং-তদ্বির করতে বিভিন্ন দলের নেতারা সঙ্গী-সাথি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ২৩০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর ২৫ নভেম্বর বিকেলে খুলনায় দলের নেতাদের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করে পেলাম না।

তবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কিছু প্রতিক্রিয়া জানা গেলো। খুলনা জেলায় মোট ছয়টি আসন। তার মধ্যে সদরে দুটি আসন। মুসলিম লীগের জাঁদরেল নেতা সবুর খানের বাড়ি হওয়ায় এখানে স্বাভাবিকভাবেই তার সমর্থকগোষ্ঠী ছিলো। সাবেক মুসলিম লীগাররা পরে বিএনপি হওয়ায় খুলনা শহরে বিএনপির প্রভাব বেশি। খুলনা সদরে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ খুব একটা সুবিধা করতে পারে না। এবার কি হবে নির্বাচনের ফলাফল? নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে কি মুসলিম লীগের লিগেসি আছে?

এসব প্রশ্নের সরাসরি জবাব পাওয়া যায় না। কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে চান না।

গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়রপদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক। তিনি আগেও মেয়র ছিলেন। জনপ্রিয় নেতা। ভালো নির্বাচন হলেও তিনি জিততেন বলে অনেকেই বললেন। তবে ব্যবধান হয়তো কম হতো। কিছুটা অনিয়ম করে তার ভোটের ব্যবধান বাড়ানোর কোনো দরকার ছিলো না। শহরে বিএনপির যে একক আধিপত্য বা প্রাধান্য ছিলো, সেটা এখন কিছুটা কমেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের জেতার অবস্থা তৈরি হয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত নয়।

এবার খুলনা শহরের দুটি আসনের একটিতে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে শেখ জুয়েলকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ছোট ভাই শেখ নাসেরের পুত্র শেখ জুয়েল একজন ব্যবসায়ী। তিনি সক্রিয় রাজনীতি না করলেও তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তার যেমন কোনো নেতিবাচক ইমেজ নেই, তেমনি নেই কোনো রাজনৈতিক ভূমিকা। বিএনপি প্রার্থীর শক্ত প্রতিপক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শেখ জুয়েলের। আওয়ামী লীগ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে জুয়েলের পেছনে কাজ করে তাহলে নির্বাচনের ফলাফল তার অনুকূলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাগেরহাটের দুটি আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ পরিবারের দুই সদস্য। একজন শেখ হেলাল, শেখ নাসেরের বড় পুত্র, অন্যজন শেখ হেলালের পুত্র শেখ তন্ময়। খুলনা এবং বাগেরহাটে ‘তিন শেখের’ মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে ঠাট্টা-তামাশাও হচ্ছে। অনেকেই বিষয়টিকে বাঁকা চোখে দেখছেন। প্রশ্ন উঠছে , আওয়ামী লীগ কি পারিবারিক সংগঠনে পরিণত হচ্ছে? যোগ্যতা থাকলেও এক পরিবারের এতোজন সদস্যকে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দিলে দলের ভেতরেও কথা উঠবে ।

আওয়ামী লীগ যে সেভাবে প্রার্থী বদল করলো না, তা নিয়েও জল্পনা-কল্পনা হচ্ছে। বিতর্কিত মন্ত্রী-এমপিদের আবার মনোনয়ন দেওয়ার পেছনে ‘অন্য’ কারণ আছে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন। শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচনে ঝুঁকি দেখা দিতে পারে ধরে নিয়েই এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে যারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সক্ষম। মানুষ মনে করছে, আওয়ামী লীগ জেতার জন্য নির্বাচন করছে। জেতার জন্য যা যা করা দরকার তারা তাই তাই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ মাঠ ছেড়ে দেওয়ার পার্টি নয়। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা যাদের আছে তাদের ছাড়া আর কাউকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে না।

আগামী নির্বাচন হবে আওয়ামী লীগের জন্য এক মারাত্মক শক্তিপরীক্ষা। এই পরীক্ষায় হারজিতের ওপর দেশের রাজনীতির অনেক কিছু নির্ভর করছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে না এলে দেশের উন্নতির চাকা পেছনের দিকে ঘুরবে এমন আশংকা অনেকের মধ্যেই আছে। শেখ হাসিনা টানা দশ বছর দেশ শাসন করছেন। অনেক ভালো কাজ করেছেন। কিন্তু তার দলের একাংশ নানা রকম অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে আওয়ামী লীগকেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

দুই জন রানিং সংসদ সদস্যকে মনোনয়ন না দিয়ে একজনের স্ত্রীকে এবং একজনের বাবাকে মনোনয়ন দেওয়াকেও আওয়ামী লীগে পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ধারাকে জোরদার করার নজির হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নেত্রকোনায় একজন এমপিকে মনোনয়ন না দিয়ে কোন যোগ্যতায় এবং কোন বিবেচনায় তার ভগ্নিপতিকে মনোনয়ন দেয়া হলো, সে প্রশ্নও উঠছে। মনোনয়নবঞ্চিত এমপি ছবি বিশ্বাসকে নিয়ে তেমন বিতর্ক শোনা যায় না। তারপরও তাকে বাদ দিয়ে তার বোনের বর মানু মজুমদারকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। মানু মজুমদারের বাড়ি নেত্রকোনায় নয় এবং তিনি রাজনীতিতেও ছবি বিশ্বাসের সঙ্গে তুলনীয় নন। নির্বাচনে জিতে আসতে পারলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ফলাফল খারাপ হলে বিতর্কিত মনোনয়নের বিষয়গুলোই বড় হয়ে সামনে আসবে। বিষয়গুলো তৃণমূলের মানুষেরও নজর এড়াচ্ছে না।

লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest