সর্বশেষ সংবাদ-
তালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: সার সংকট, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে গুরুত্বারোপদেবহাটায় শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে খেলাভিত্তিক সেশন পরিদর্শনসাতক্ষীরায় আবাসিক হোটেল-রেস্তোরাঁ – বেকারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময়সাতক্ষীরায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী হ%ত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতারশ্যামনগরে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মানববন্ধনএবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধনএডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসাতক্ষীরায় যৌতুকের বলি মা-মেয়ে : হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড

৬৪ আসনে মনোনয়ন তুলেছে জামায়াত

দেশের খবর: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এখন পর্যন্ত ৬৪টি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে জামায়াত।
মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) জামায়াতে ইসলামীর ঢাকার একটি ইউনিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত ও ছাত্র শিবিবের সাবেক এক সভাপতি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এ তথ্য জানিয়েছেন। জামায়াতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলেও একই তথ্য জানা গেছে।

জামায়াতের মনোনয়ন ফরম তুলেছেন যারা
ঠাকুরগাঁও-২ মাওলানা আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ মাওলানা মোহাম্মদ হানিফ, দিনাজপুর-৪ মাওলানা আফতাব উদ্দিন মোল্লা, দিনাজপুর-৬ মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-১ মাওলানা আবদুস সাত্তার, নীলফামারী-২ মুক্তিযুদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু, নীলফামারী-৩ মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ আবু হেনা মো. এরশাদ হোসেন সাজু, রংপুর-৫ অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, কুড়িগ্রাম-৪ আলহাজ মোস্তাফিজুর রহমান, গাইবান্ধা-১ মাজেদুর রহমান সরকার, গাইবান্ধা -২ মাওলানা মো. আবদুল করিম, গাইবান্ধা-৩ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু, গাইবান্ধা-৪ ডাক্তার আবদুর রহিম সরকার।

জয়পুরহাট-১ ডা. ফজলুর রহমান সাঈদ, বগুড়া-২ অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৪ মাওলানা তায়েব আলী, বগুড়া-৫ আলহাজ দবিবুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ ড. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ অধ্যাপক ইয়াহিয়া খালেদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ নুরুল ইসলাম বুলবুল, নওগাঁ- ২ মঈন উদ্দীন, নওগাঁ-৪ খ ম আব্দুর রাকিব, রাজশাহী-১ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রাজশাহী-৩ অধ্যাপক মাজিদুর রহমান, নাটোর-১ অধ্যাপক তাসনিম আলম, নাটোর-৪ অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন খান, সিরাজগঞ্জ-৪ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ-৫ অধ্যক্ষ আলী আলম, পাবনা-১ ডা. আবদুল বাসেত, পাবনা-৪ অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল, পাবনা-৫ মাওলানা ইকবাল হুসাইন।

মেহেরপুর-১ মাওলানা তাজ উদ্দীন আহমদ, কুষ্টিয়া-২ আলহাজ আব্দুল গফুর, চুয়াডাঙ্গা-২ মাওলানা রুহুল আমিন, ঝিনাইদহ-৩ অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, যশোর-১ মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আবু সাইদ মুহাম্মদ সাদাত হোসাইন, যশোর-৫ অ্যাড. গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ অধ্যাপক মুক্তার আলী, বাগেরহাট-৩ অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ অধ্যাপক আবদুল আলীম, খুলনা-৫ অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-৬ মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, সাতক্ষীরা-১ অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ মুফতি রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ গাজী নজরুল ইসলাম, পটুয়াখালী-২ ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, পিরোজপুর-১ – আলহাজ শামীম সাঈদী, ময়মনসিংহ-৬ অধ্যাপক জসিম উদ্দিন সরকার, ঢাকা-১৫ ডা. শফিকুর রহমান, মৌলভীবাজার – ১ মাওলানা আমিনুল ইসলাম, সিলেট-৫ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট-৬ মাওলানা হাবিবুর রহমান, কুমিল্লা-৯ এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী, কুমিল্লা-১১ ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, ফেনী-৩ ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, লক্ষ্মীপুর-২ মাস্টার রুহুল আমিন, লক্ষ্মীপুর-৩ ডা. আনোয়ারুল আজীম, চট্টগ্রাম-১০ আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম ১৫ আনম শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১৬ মাওলানা জহিরুল ইসলাম, কক্সবাজার-২ হামিদুর রহমান আযাদ।

জামায়াতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, দল ও জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জোটবদ্ধ থেকেই নির্বাচনে অংশ নেবেন তারা। শুধু প্রতীকের বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেয়া হচ্ছে। শিগগিরই দলীয় সর্বোচ্চ ফোরামের বৈঠক হবে। সেখানেই এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ২২২ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। জয়ী হয়েছিল ১৮ প্রার্থী। তবে জামায়াতের জনপ্রিয়তা আগের তুলনায় বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রেক্ষাপট বদলেছে। সারাদেশে ৩০০ আসনেই নির্বাচন করার মতো যোগ্য প্রার্থী আমাদের রয়েছে। তবে জাতীয় স্বার্থে এবার আমরা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারকে হটাতে জোটগতভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকে নির্বাচনের অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জোটগতভাবে নির্বাচন করার কারণে আমরা ছাড়ও দিচ্ছি অধিকাংশ আসনেই। ৬০ আসনে জেতার সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা বিএনপিকে দেয়া হয়েছে। এবার এ নিয়ে আলোচনা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মহাজোটের প্রার্থী ঘোষণা রবিবারের মধ্যে

দেশের খবর: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে মহাজোটের একক প্রার্থীর নাম আগামী রবিবার বা ২৫ নভেম্বরের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে। ইতোমধ্যে ২৩০ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন জোটের শরীক দলগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়ে আলোচনা এবং শেষ মুহূর্তের দর কষাকষি চলছে। জানা গেছে, এবার জোট শরিকদের আসন বণ্টন করতে গিয়ে অনেকটা হিমশিম খেতে হচ্ছে আওয়ামী লীগের। ২১টি আসনে আওয়ামী লীগের ও জোট শরিকদের প্রার্থী রয়েছেন। কার প্রার্থী থাকবে, কার প্রার্থী বাদ যাবে— তা নিয়ে এখন শেষ সময়ের হিসাব-নিকাশ চলছে।
২০০৮ সালের মতোই মহাজোট করে এবার নির্বাচনে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তবে ওই বছরের তুলনায় এবার জোটের আকার অনেক বড়। ১৪ দলীয় জোটের পাশাপাশি জাতীয় পার্টি (জাপা) আছে জোটে। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট, বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপি, বিএনপির সাবেক শরিক ইসলামী ঐক্যজোটসহ আরও কিছু ধর্মভিত্তিক দলও যুক্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগ জোটে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও এখনো দেওয়া হয়নি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। ৬৫ থেকে ৭০টি আসন জোট শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে। নতুন দল-জোট শরিকে যুক্ত হওয়ায় আসনের দাবিদার যেমন বেড়েছে, তেমনি দলের নেতারাও যারা নির্দিষ্ট কিছু আসনে কয়েক বছর ধরে তত্পর, সেগুলো ছেড়ে দিতে রাজি হচ্ছেন না। ফলে এসব আসন নিয়ে বারবার আলোচনায় বসতে হচ্ছে। তবে সবাই তাকিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর।

সিলেট-৬ আসন থেকে মহাজোটের মনোনয়ন চান বিকল্পধারার নেতা শমসের মবিন চৌধুরী। এ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হলেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। ময়মনসিংহ-৪ আসনে বর্তমান ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান নাকি বিরোধী দলীয় নেতা জাতীয় পার্টির (জাপা) রওশন এরশাদকে প্রার্থী করবে মহাজোট— এই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে উঠেছে। ২০০৮ সালে বিজয়ী আওয়ামী লীগ আর রওশনকে ছাড় দিতে চাইছে না। আবার রওশনও এই আসন থেকে নিজের শক্তিতে জিতেছেন ১৯৯৬ সালে। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া চট্টগ্রাম-১ আসনের মনোনয়ন চাইছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোশাররফ হোসেন বর্তমান সংসদ সদস্য। চট্টগ্রাম-৯ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির (জাপা) জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করতে চান চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ঢাকা-১৮ আসনে গত দুইবারের সংসদ সদস্য সাহারা খাতুন এবারও ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে জাতীয় পার্টি (জাপা) আসনটি দলের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের জন্য চায়।

মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ ঢাকা-১৭ আসন চান। তিনি নিজেই এ আসন থেকে নির্বাচনে লড়তে চান। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মহাজোটের আরেক শরিক বিএনএফের আবুল কালাম আজাদ। এছাড়া এখান থেকেই আবার প্রার্থী হতে চান চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়েখ্যাত সারাহ বেগম কবরী। লক্ষ্মীপুর-২ আসনে গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে বিজয়ী হন মোহাম্মদ নোমান। তিনি এবার মহাজোটের প্রার্থী হতে চান। তবে সেখানে আছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ। তিনি ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্যও। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে গত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) লিয়াকত হোসেন খোকার বিপরীতে প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ। তবে এবার আসনটি চাইছেন দলের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য এ এইচ এম মাসুদ দুলাল। সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাতও সেখানে মনোনয়ন চান।

ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) বর্তমান এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। ২০০৮ সালে জয়ী সানজিদা খানম এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সহকারী সচিব আওলাদ হোসেন এ আসনে অওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) এমপি সালমা ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মান্নান খানও এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। গত নির্বাচনে আব্দুল মান্নান খানকে হারিয়ে নির্বাচিত হন সালমা ইসলাম। এবারও তিনি জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী হতে চান। তার ছেলে শামীম ইসলাম নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন ঢাকা-১১ আসন থেকে। ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল-পল্টন) আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে ২০০৮ সাল থেকেই ছাড় দিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ। এবার এ আসনে মনোনয়ন চান আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাউছার। নোয়াখালী-৪ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী। তিনি সংগঠন ও জনগণের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এ আসন থেকে মহাজোটের মনোনয়ন পেতে চান বিকল্পধারার মহাসচিব আব্দুল মান্নান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মান্নান নোয়াখালীর ওই আসন ছাড়াও ঢাকা-১২ ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকেও ভোট করেন। তবে বিজয়ী হতে পারেননি একটিতেও।

বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচন করতে চান। এখানে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আছেন আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। নড়াইল-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া নৌকা প্রতীক চাচ্ছেন। এখানে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি। নড়াইল-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। এই আসনটি গতবার ছাড় দেওয়া হয়েছিল ওয়ার্কার্স পার্টিকে। এবার মাশরাফিকে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী সেক্রিফাইস করেছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কথাবার্তা বলেই আমরা দিয়েছি। নেত্রকোনা-৫ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হতে চাইছেন জাসদের সহ-সভাপতি লুত্ফা তাহের। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য ওয়ারেস হোসেন বেলাল। তিনি লুত্ফা তাহেরের দেবর। গত নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৮ আসনে ছাড় দেওয়া হয় জাতীয় পার্টির (জাপা) ফখরুল ইমামকে। তাই তার দল আসনটি আবার চাইছে। তবে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সাত্তার এবার এ আসনে মনোনয়ন চান। গাজীপুর-৪ আসনে মনোনয়ন চান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি ও গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ডা. শহিদুল্লাহ শিকদার। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম তাজউদ্দীন আহমদ কন্যা সিমিন হোসেন রিমি এ আসনের আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য। তিনি এবারও মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। সাতক্ষীরা-১ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ওয়ার্কার্স পার্টির মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান। এছাড়া জাতীয় পার্টির (জাপা) শক্তিশালী অবস্থান থাকা রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামেও আওয়ামী লীগের একাধিক সংসদ সদস্য জিতে এসেছেন লড়াই করে। কিন্তু সেগুলো জাপা এবার চায়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মহাজোট মনোনীত প্রার্থীর নাম ২৪ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে। দলীয়ভাবে কিছু ঘোষণা হবে না। আগে দলীয়ভাবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত ছিল। পরে ১৪ দল, যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় পার্টি (জাপা)সহ আমাদের জোট শরিকদের অনুরোধে আমরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি। জোটগতভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।’ তিনি বলেন, জোটের শরীকদের ৬৫ থেকে ৭০ টি আসন ছেড়ে দেয়া হবে। এর বাইরে আমরা যাব না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দিবালা-ইকার্দির ‘প্রথম’ গোলে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত জয়

খেলার খবর: দু’জনের প্রতিভা কিংবা সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ নেই কারো। আর্জেন্টিনার ফুটবলের ভবিষ্যৎও ভাবা হয় তাদের। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে ক্লাবের হয়ে ভুরিভুরি গোল করলেও জাতীয় দলের হয়ে কোনোভাবেই পাচ্ছিলেন না জালের দেখা। যা নিয়ে চিন্তার অন্ত ছিলো না আলবিসেলেস্তে শিবিরে।

অবশেষে গোল পেয়েছেন দু’জন, তাও একই ম্যাচে! বলা হচ্ছে আর্জেন্টিনার দুই তারকা খেলোয়াড় মাউরো ইকার্দি ও পাওলো দিবালার কথা। প্রথম গোলের জন্য ইকার্দির অপেক্ষা করতে হয়েছে ৮ ম্যাচ, দিবালার অপেক্ষাটা আরও বেশি। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে নিজের ১৮তম ম্যাচে এসে প্রথম গোল পেয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এ তারকা।

আর এ দুই তারকার ‘প্রথম’ গোলে নিজেদের ঘরের মাঠে মেক্সিকোর বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। মেন্ডোজার এস্তাদিও মালভিনাসে ২-০ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই ম্যাচের ও নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি করেন ইকার্দি। এরিক লামেলার কাছ থেকে পাস পেয়ে ডি-বক্সের মধ্যে কয়েকজনকে কাটিয়ে বাম প্রান্ত দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে সফরকারীরা।

অন্যদিকে শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে আরও উজ্জীবিত হয়ে যায় আর্জেন্টিনা। দমে যায়নি মেক্সিকানরাও। হেনরি মার্টিনের আত্মবিশ্বাসী ওভারহেড কিক লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে গোলবঞ্চিত হয় তারা। লামেলার বাঁকানো শটও জালের বাইরে চলে গেলে এগিয়ে যাওয়া হয়নি আর্জেন্টিনারও।

দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে কেটে যায় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও দৃশ্যপটে হাজির লামেলা। অসাধারণ এক ফ্রি-কিকে মেক্সিকান গোলরক্ষককে ধাঁধায় ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সে যাত্রায় কোনো ক্ষতি হয়নি মেক্সিকোর।

ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল অতিথিরা। তবে হেসুস গ্যালার্ডোর হেড জালে প্রবেশের ঠিক আগমুহূর্তে ফিরিয়ে দেন আর্জেন্টিনার অভিষিক্ত গোলরক্ষক পাওলো গ্যাজানিগা। ৮৫তম মিনিটে তার কঠিন পরীক্ষা নেন ভিক্টর গুজম্যান। সেটিও ক্ষিপ্রতার সাথে ফেরান গ্যাজানিগা।

এই আক্রমণের পাল্টা আক্রমণেই কপাল খুলে যায় দিবালার। জিওভান্নি সিমিওনে বল পেয়ে দ্রুতগতির ড্রিবলিংয়ে চলে যান মেক্সিকোর রক্ষণে। বামপ্রান্ত থেকে বল বাড়ান ডি-বক্সে থাকা দিবালার উদ্দেশ্যে। স্রেফ পা ছুঁইয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের প্রথম গোলটি পেয়ে যান দিবালা। জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সংঘাতের শঙ্কায় নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে অনীহা

দেশের খবর: ভোটের মাঠে সম্ভাব্য সংঘাত-সহিংসতার শঙ্কায় আছেন নির্বাচনি কর্মকর্তারা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন এবং এরপর স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক গোলযোগের প্রেক্ষাপটে একাদশ সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছে। এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে দলীয় পরিচয়সহ ঠিকুজির সন্ধান করায় নতুন করে উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েছেন সরকারি ও সরকারি সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে অনীহা কাজ করছে তাদের অনেকের মধ্যে। নানা অজুহাত দেখিয়ে তারা নির্বাচন থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি অফিসসহ রিটার্নিং অফিসে আবেদন করছেন। অবশ্য এবারের নির্বাচনে দেশের প্রায় সব দলের অংশগ্রহণের ঘোষণায় কিছুটা হলেও স্বস্তিবোধ করছেন তারা।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট নেওয়া হবে। দেশের ৩০০টি আসনে ৪০ হাজার ১৯৯টি কেন্দ্রে দুই লাখের বেশি ভোটকক্ষ থাকবে। একজন প্রিজাইডিং অফিসার, দুই বা ততোধিক সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং প্রতিটি ভোটকক্ষে অন্তত দুইজন পোলিং অফিসার মিলিয়ে কেন্দ্রপ্রতি ভোটার সংখ্যার বিবেচনায় ১০ থেকে ২০ জন নির্বাচনি কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া ৫ থেকে ১০ শতাংশ কর্মকর্তা থাকবেন রিজার্ভ হিসেবে। সব মিলিয়ে সাত লাখের বেশি নির্বাচনি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন আগামী জাতীয় নির্বাচনে।
একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এরই মধ্যে নির্বাচনি কর্মকর্তার তালিকা তৈরির জন্য ইসি থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনও প্রার্থীর অধীনে কোনও সময় চাকরি করেছেন, এমন ব্যক্তিদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া যেসব কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আছে তাদেরও নিয়োগ দেওয়া যাবে না।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিএনপি ও তাদের মিত্রদের বর্জনের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশব্যাপী ব্যাপক সহিংসতা হয়। ওই নির্বাচনের ভোটের দিনই ১৯ জন নিহত হন। ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল থেকে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত নিহত হন ১২৩ জন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, নির্বাচনের সময় সহিংস ঘটনায় তিনজন নির্বাচন কর্মকর্তা নিহত এবং ৩৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হন। আহতদের তালিকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও আছেন।
নির্বাচনি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত এমন দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুড়িয়ে দেওয়াসহ ব্যাপক ভাঙচুর হয়। বর্তমান সরকারের দাবি, গত সংসদি নির্বাচনে পাঁচ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেকগুলো পর্যবেক্ষক সংস্থা তাদের পর্যবেক্ষন বন্ধ রাখে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে গত পাঁচ বছরে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ব্যাপক সহিংসতা হয়। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হতাহতের ঘটনা অতীতের সব কেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। এসব নির্বাচনে ভোটার, সাধারণ মানুষ ছাড়াও নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারাও আহত হন। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্র থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে নির্বাচনি কর্মকর্তারা বের হতে না পারলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পালিয়ে প্রাণ বাঁচানোর ঘটনাও ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ছিলেন নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
চট্টগ্রাম, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহীসহ বেশ কিছু অঞ্চল থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, নির্বাচনি তালিকা তৈরির সময় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের নাম তালিকাভুক্ত না করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এক্ষেত্রে কেউ কেউ অসুস্থতাসহ নানা কারণ দেখানোর চেষ্টা করছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদবির করানোর ঘটনাও ঘটছে। নির্বাচনি দায়িত্বের তালিকা থেকে নাম কাটানোর তদবিরে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বলে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
দায়িত্ব পালনে অনীহা আছে এমন কয়েকজনের কারণ তারা জানালেও নিজেদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করতে চাননি। নির্বাচনি দায়িত্ব পালন না করার কারণ হিসেবে লিখিত বা মৌখিক আবেদনে পারিবারিক সমস্যার কথা জানালেও মূলত সংহিসতার আশঙ্কার কারণেই তারা দায়িত্ব থেকে দূরে থাকতে চাইছেন বলে স্বীকার করেন। অবশ্য দু’-একজনের আবেদনের পেছনে যৌক্তিক কারণও রয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন এবং পরবর্তী নির্বাচনের সময়ের ঘটনা তুলে ধরে তারা বলেছেন, আগে নির্বাচনকে তারা উৎসব হিসেবে মনে করতেন। প্রতি পাঁচ বছরে ২/৩ বার নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে তাদের মধ্যে নতুন অনুভূতি কাজ করতো। কিন্তু এখন এটা আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চট্টগ্রামের মহানগরীরকে কর্মরত সরকারের একটি দফতরের কর্মচারী আহসান হাবীব জানান, নির্বাচনি দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে তিনি স্থানীয় নির্বাচন অফিসে যোগোযোগ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘তারা বিষয়টি দেখবেন বলেছেন। তবে আশ্বস্ত হতে পারিনি।’ কেন দায়িত্ব পালন করতে চান না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার শারীরিক কিছুটা অসুস্থতা রয়েছে, টানা অনেকক্ষণ কাজ করতে পারি না। এরপর নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে কী হয় না হয়, সেটা তো বলা যায় না!’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দিনাজপুর জেলার একটি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বলেন, ‘দশম সংসদ নির্বাচনের সময় সংসদ নির্বাচনে তিনি যে কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন তাতে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। অন্যান্য নির্বাচনি কর্মকর্তাদের নিয়ে কোনোমতে নিজেদের রক্ষা করতে পারলেও নির্বাচনি সামগ্রী তারা রক্ষা করতে পারেননি। সেই ঘটনার পর নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করতে মন সাড়া দেয় না। কিন্তু কী-ই বা করার আছে? সরকারি দায়িত্ব পালন তো করতেই হবে।’
ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘আগে-পরে অনেকবারই নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু এবার যেটা শুরু হয়েছে তাতে আতঙ্ক কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাড়িতে এসে আমাদের খোঁজ নিচ্ছে। সব ঠিকানা জানার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাচ্ছেন। এটা সত্যি বিব্রতকর। দায়িত্ব দেওয়ার আগে যেভাবে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে, পরে কী হবে— সেটা নিয়েই টেনশনে আছি!’
খুলনা সদর থানা এলাকায় কর্মরত একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন আমাদের করতে হয়। কিন্তু পরিবারের কেউ চান না, আমি নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করি। নির্বাচনি দায়িত্বে গেলে আমাদের আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। কখন কী হয়, এটা নিয়ে উদ্বেগে থাকতে হয়। আগে এই পরিস্থিতি না হলেও কয়েক বছর ধরে এই আশঙ্কা কাজ করছে।’
সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিস ও উপজেলা নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করেন তারা। তালিকা তৈরি করার সময় সরকারি-বেসরকারি কর্মকার্তাদের মধ্যে মিশ্র অবস্থান পাওয়া যায়। অনেক সময় দেখা যায় আগ্রহ প্রকাশ করে কেউ কেউ দায়িত্ব নেন। আবার অনেকে নাম কাটানোর জন্য তদবির করেন। আর নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিলেই তারা ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে চান না। এবার দায়িত্ব পালনের আগ্রহ প্রকাশ করে কোনও তদবির চোখে পড়েনি। বরং অন্যবারের তুলনায় নাম কাটানোর তদবির কিছুটা বেশি দেখা গেছে।
রংপুর বিভাগের একজন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, অতীতে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করতে খুব একটা বেগ পেতে হতো না। কিন্তু দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচনের সময় থেকে অনেকের মধ্যে দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে। সহিংসতার আশঙ্কায় অনেকে দায়িত্ব যাতে না দেওয়া হয় সে জন্য তদবির করতে আসেন। তাদের মধ্যে একটি ভয় কাজ করে। তবে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কারো তদবির রাখা সম্ভব হয় না। এবারের সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনি কর্মকর্তার প্যানেল তৈরির সময় অনেকের মধ্যে দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।
চট্টগ্রাম জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান বলেন, ‘কর্মকর্তা চেয়ে পাঠানো চিঠির জবাবে কিছু কর্মকর্তা দায়িত্বে না থাকার কথা জানিয়েছেন। এখানে অসুস্থতা, আবার অনেকেই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছেন। যারা নানা সমস্যা-অজুহাত দেখিয়েছেন তাদের যাবতীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করবে নির্বাচন কমিশন।’ যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনও কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন না করে পার পাবেন না বলেও তিনি জানান।
ঢাকা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (উপসচিব) ফয়সল কাদের বলেন, ‘অনেকেই দায়িত্ব পালনে অনীহা জানিয়ে তাদের কাছে আবেদন করেছেন। অবশ্য বেশির ভাগ আবেদনের কারণ পারিবারিক। এর মধ্যে যাচাই করে যৌক্তির কারণ থাকলে সেগুলো বাদ দিয়ে রিজার্ভ থেকে সেখানে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে কারণ যৌক্তিক না কলে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন না করার সুযোগ কারো নেই।’
নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। যৌক্তিক কারণ থাকলে কেউ দায়িত্ব পালন না করতেই পারেন। তবে কোনও অজুহাত দেখিয়ে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কোনও শৈথিল্য বা অবহেলা দেখানোর সুযোগ নেই। এরকম হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিরাপত্তা বিষয়ে এই কমিশনার বলেন, ‘ভোটার, ভোটের সামগ্রী ও নির্বাচনি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সেই অনুযায়ী অবশ্যই আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেবো। আর ২০১৪ সালের নির্বাচনের যে কথা বলছেন, আমার মনে হয় না এবার সেই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। কারণ, ২০১৪ সালে একটি পক্ষ নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু এবার আমরা দেখছি সকলেই নির্বাচনে আসছেন। আর নির্বাচন অংশগ্রহনমূলক হলে স্বাভাবিকভাবেই তা শান্তিপূর্ণ হয়।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সশস্ত্র বাহিনী দিবস আজ

অনলাইন ডেস্ক: সশস্ত্র বাহিনী দিবস আজ ২১ নভেম্বর বুধবার। যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হবে।
এদিন দেশের সব সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটির মসজিদে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তরের ( আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বুধবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। তিন বাহিনী প্রধানগণ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৮’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসস্থ আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্বাচিতসংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা জানাবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নয়জন সেনা, একজন নৌ এবং তিনজন বিমান বাহিনী সদস্যকে ২০১৭-২০১৮ সালের শান্তিকালীন পদকে ভূষিত করবেন।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমানবাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বিশেষ সহকারী, সামরিক সচিব, প্রেস সচিব ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে এক বৈকালীন সংবর্ধনার আয়োজন করেছেন। এতে উল্লেখযোগ্য আমন্ত্রিত ব্যক্তিত্বগণের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিগণ, সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টাগণ, মন্ত্রী ও মন্ত্রীর পদমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, প্রতিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি, ডেপুটি স্পিকার, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানগণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারগণ, বিচারপতিগণ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, মুখ্য সচিব, সংসদ সদস্য (ঢাকা এলাকার এবং প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তাগণ)।

এছাড়াও বাহিনীত্রয়ের প্রাক্তন প্রধানরা, ২০১৭ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, স্বাধীনতা যুদ্ধের সব বীরশ্রেষ্ঠের উত্তরাধিকারীগণ, স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ঢাকা এলাকায় বসবাসরত খেতাবপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/তাঁদের উত্তরাধিকারী, উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তাগণ এবং তিন বাহিনীর চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দও আমন্ত্রিত। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে তিন বাহিনী প্রধান নিজ নিজ বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা/তাঁদের উত্তরাধিকারীদের অনুরূপ সংবর্ধনা প্রদান করবেন। ঢাকা ছাড়াও বগুড়া, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, সিলেট, যশোর, রংপুর, খুলনা ও রাজেন্দ্রপুর (গাজীপুরসহ) সেনানিবাসগুলোতেও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে, দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য ঢাকার বাইরে, দেশের অন্যান্য সেনা গ্যারিসন, নৌ জাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটিতেও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ঢাকা, খুলনা, চাঁদপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রামে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনী জাহাজগুলো আজ দুপুর ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এ উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর সশস্ত্র বাহিনীর পরিবেশনায় ‘বিশেষ অনির্বাণ’ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়। বাংলাদেশ বেতার আজ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ‘বিশেষ দুর্বার’ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

এছাড়াও ‘বিশেষ অনির্বাণ’ অনুষ্ঠানটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোতে পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সম্প্রচারিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে আজ বাংলা ও ইংরেজি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে। এছাড়াও সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রচনা ও চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

ঢাকা সেনানিবাসে যান চলাচল সীমিত থাকবে
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ফলে যানবাহন চলাচল সীমিত থাকবে। মঙ্গলবার আইএসপিআরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা সেনানিবাসের রাস্তাসমূহ (শহীদ জাহাঙ্গীর গেট থেকে স্টাফ রোড পর্যন্ত প্রধান সড়ক) যানজট মুক্ত রাখার লক্ষ্যে সেনানিবাসে অবস্থানকারী ব্যক্তিবর্গ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের বহনকারী যানবাহন ব্যতীত সব ধরনের যানবাহন চালকদের সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ১০টা ও দুপুর ১২টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সেনানিবাস এলাকায় চলাচল পরিহারের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

সেনানিবাসের মধ্য দিয়ে যান চলাচলে সাময়িক অসুবিধার জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পক্ষ থেকে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত বৈকালিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত কর্মকর্তাদের বিকেল ৩টা ও অন্য অতিথিদের বিকেল সোয়া ৩টার মধ্যে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গরু মারুফকে গুলি করে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক: খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার আসামি মিরাজুল ইসলাম ওরফে মারুফ হোসেন ওরফে গরু মারুফকে (৪৩) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দৌলতপুরস্থ কার্তিককূল বালুর মাঠ এলাকায় এ ঘটনার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, ১টি পাইপগান, ১ রাউন্ড গুলি ও ৫৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত মারুফ দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের আবদুল গফফার শেখের ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দৌলতপুর থানার ওসি কাজী মোস্তাক আহমেদ বলেন, কে বা কারা গরু মারুফকে গুলি করে হত্যা করেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পড়ে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে লাশ সনাক্ত করা হয়।
গরু মারুফের বিরুদ্ধে দৌলতপুর ও দিঘলিয়া থানায় সেনহাটির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আবদুল হালিম ও হুজি শহীদসহ একাধিক হত্যা ও চাঁদাবাজির অসংখ্য মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কাবুলে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৫০

বিদেশের খবর: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর একটি অনুষ্ঠানে শক্তিশালী আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো শতাধিক। গতকাল মঙ্গলবার শহরের একটি মিলনায়তনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রখ্যাত আলেমদের অংশগ্রহণে ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠান এই ভয়াবহ হামলার শিকার হয়। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াহিদ মজরো ওই হামলায় ৫০ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিপুল সংখ্যক লোক আহত হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাজিব ড্যানিশ বলেন, আত্মঘাতী বোমা বহনকারী একজন মিলনায়তনের ভেতরে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়। সেখানে ইসলামের শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর জন্মদিন পালনের জন্য শত শত আলেম অংশ নেন। অনুষ্ঠানে এক হাজারের বেশি লোক উপস্থিত ছিলেন। বিস্ফোরণের পর বহু মানুষ ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ে। রক্তে ভেসে যায় মেঝে। বাঁচার জন্য শুরু হয় হুঁড়োহুড়ি। এসময় অনেকে পদদলিত হয়ে আহত হন অনেকে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার তত্পরতা শুরু করে। এ সময় কয়েক ডজন অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, ধর্মীয় আলোচনার বিরতিতে যখন খাবারের আয়োজন চলছি তখনই এই হামলা হয়। গত ৬ মাসের মধ্যে আফগানিস্তানে এটাই সবচে বড় হামলা। ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও তালেবান শক্তিতে দুর্বল হয়ে পড়ার পর আফগানিস্তানে জঙ্গি হামলার ঘটনা বহুলাংশে কমে এসেছে। এসব সংগঠন আগে এধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অসংখ্যবার হামলা চালিয়ে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে। ইরাক, আফগানিস্তানের কট্টোরপন্থি সুন্নি মুসলিমরা মিলাদুন্নবী পালনের বিরুদ্ধে। ২০১৪ সালে ইরাকের মসুল শহর দখল করার পর মিলাদুন্নবী পালন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল আইএস । এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠান করতে গিয়ে হামলায় তখন বহু লোক হতাহত হয়েছে। খবর বিবিসি ও ডেইলি মেইলের।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফাইনালের মঞ্চে বসুন্ধরা কিংস

খেলার খবর: শেখ রাসেলের না খাওয়ার দম্ভ চূর্ণ করে তৌহিদুল আলম সবুজে রঙিন হয়ে গেল বসুন্ধরা কিংস। ১১৮ মিনিটে সৌভাগ্য নিয়ে ফেরা এই বদলি ইনজ্যুরড দেশি স্ট্রাইকারের গোলে প্রিমিয়ারে অভিষেক টুর্নামেন্টে তারা ফাইনালে পৌঁছে গেছে। ফেডারেশন কাপের ফাইনালে তারা আগামী শুক্রবার মুখোমুখি হবে ঢাকা আবাহনীর।

শেখ রাসেলের গর্ব কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত গোলহীন থাকা। সুবাদে তাদের রক্ষণের খ্যাতিও ছড়িয়েছিল চারদিকে; আর সেটাই সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষের ভয়ের কারণ। ১১৮ মিনিটে সেই ভয় জয় করা এক মহামূল্য গোলের পর সবুজ আনন্দে আত্মাহারা, ‘আমার আসলে খেলার কথা ছিল না। ডান পায়ের ইনজুরিতে দুই দিন প্র্যাকটিস করতে পারিনি। কোচকে বলেছিলাম, ম্যাচ হারতে থাকলে আমি নামব। আমি নেমেছি এবং গোল করে দলকে ফাইনালে তুলতে পেরেছি, এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ ম্যাচের ৭০ মিনিটে তিনি নামেন ইমন বাবুর জায়গায়, একদম ‘নাম্বার নাইন’-এর ভূমিকায়। কিন্তু শেখ রাসেলের রক্ষণ যে প্রাচীরসম, তাকে টলানো বড় কঠিন। সারা মাঠ দাপিয়েও ওই এক জায়গায় গিয়ে ঠেকে যাচ্ছে কিংস। এভাবে ঠেকিয়েই রাসেল ম্যাচ নিয়ে গেছে অতিরিক্ত সময়ে। আর দুই মিনিট পার করতে পারলেই টাইব্রেকার, তা-ই চেয়েছিল তারা। কিংসের ভাগ্য সেই ‘জুয়া’য় যেতে দেননি ‘লাকি’ সবুজ।

খেলার ধারা দেখলে ম্যাচটা অত কঠিন হওয়ার কথা ছিল না। সেই প্রথম মিনিট থেকেই বসুন্ধরা কিংসের দাপটে রাসেল একরকম দাঁড়িয়ে গেছে রক্ষণে। ৯ মিনিটে এক মুভে সুযোগ নষ্ট হয়েছে দু-দুবার। ছয় গজি বক্স থেকে মাহবুবুর রহমান সুফিল বল তুলে দিতে গিয়েছিলেন গোলে। সেটা গোলরক্ষক আশরাফুল রানা অবিশ্বাস্যভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার পর মাশুকের পরের শটটিও গোললাইন সেভ করেন নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার আলিসন উদোকা। বাঁ দিক ধরে ইব্রাহিমের এক দৌড়ে ২৩ মিনিটে জাগে আরেক সম্ভাবনা, সেটিও ফিরিয়ে দেন রাসেল গোলরক্ষক। প্রথমার্ধে একদম নিষ্প্রভ শেখ রাসেল, সবাই রক্ষণে নেমে ফরোয়ার্ড রাফায়েলকে ওপরে রাখে কাউন্টারের সুযোগ নিতে। কিংসের হাই ‘ব্যাক-লাইনের’ কারণে একবার সে রকম বিপদে পড়লেও গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো রক্ষা করেন বক্স থেকে বেরিয়ে এসে। বিরতির পর রাসেল একটু ওপরে উঠে খেললেও আক্রমণে নেই সেই গতি। ৮৪ মিনিটে ড্যানিয়েল কলিনড্রেসের এক কাউন্টারে এলোমেলো হয়ে যায় রাসেল রক্ষণ। এর পরও দুর্ভাগ্য, স্প্যানিশ ডিফেন্ডার হোর্হে গোতরের শট ফেরে গোলপোস্টে লেগে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পরও খেলার ধারা বদলায়নি। গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে কিংস। অথচ এই ম্যাচে রাসেলের ছিল দারুণ সুযোগ। দুই বিদেশি কিরগিজস্তান জাতীয় দলের মিডফিল্ডার বখতিয়ার ও ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ভিনিসিয়াসকে ছাড়াই সেমিফাইনালে নেমেছে কিংস। রাসেল কোচ সাইফুল বারীও বলেছেন সেই সুযোগের কথা, ‘দুই বিদেশি নেই, এটা ছিল আমাদের জন্য ইতিবাচক। কিন্তু আমাদের খেলায় সেই ইতিবাচক মুভমেন্ট ছিল না। খেলোয়াড়দের মধ্যে তেড়েফুঁড়ে খেলার স্বাভাবটা দেখিনি।’

বিস্ময়করভাবে সেটা দেখা গেছে নিয়মিত দুই বিদেশিহীন বসুন্ধরা কিংসের খেলায়। এক মিনিটের জন্যও তারা মনঃসংযোগ হারায়নি। ‘দুই বিদেশিকে ছাড়াও কিংস যে শক্তিশালী এবং ভালো ম্যাচ খেলতে পারে, সেটা দেখিয়েছে এই ম্যাচে। শুরু থেকে আমরা অ্যাটাকিং ফুটবল খেলেছি। আমরা বরাবরের মতোই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেই জিততে চাই। রাসেলের রক্ষণভাগ খুব ভালো, এর পরও দুটো দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি করেও নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ বের করতে পারিনি। শেষে সবুজই গোলভাগ্য নিয়ে ফিরেছে মাঠে।’ ১২০ মিনিট শেষ হওয়ার দুই মনিট আগে ‘সুপার-সাবে’র এ গোলেও পরোক্ষ অবদান আছে ড্যানিয়েল কলিনড্রেসের। প্রায় ২২ গজ দূর থেকে এই কোস্টারিকান বিশ্বকাপারের ডান পায়ের মাটি কামড়ানো শটটি পোস্টে লেগে ফিরলে সবুজের মহামূল্য টোকায় বসুন্ধরা কিংসের ফাইনালে আরোহণ সম্পন্ন হয়।

রাসেলের বিপক্ষে এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের পরও কোচ অস্কার ব্রুজন বলছেন সেরাটা দেখানো এখনো বাকিই তাদের, ‘দুজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিল না আজ। কয়েকজনের চোটও আছে। এর মধ্যেই খেলতে হচ্ছে আমাদের। আজকের ম্যাচটাকে আমাদের খেলা সেরা ম্যাচ বলা যাবে না তাই কিছুতেই। সামনে আরো ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারব বলে আমরা আশা করি।’ ফাইনালের প্রতিপক্ষ আবাহনীর জন্য এটা সতর্কবার্তাই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest