সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী হ%ত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতারশ্যামনগরে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মানববন্ধনএবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধনএডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসাতক্ষীরায় যৌতুকের বলি মা-মেয়ে : হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ডসাতক্ষীরায় নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আওতায় আনার দাবিসাতক্ষীরায় হেভী ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের মতবিনিময় সভাস্বাস্থ্যকর্মকর্তা  ও আব্বাসী কর্তৃক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য : নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানবন্ধন

জিহাদি হামলায় বন্ধ শত শত স্কুল

অনলাইন ডেস্ক: বুরকিনা ফাসোতে জিহাদি তৎপরতা ও সহিংসতা চলছে। দেশটির শিক্ষাখাত এই জঙ্গিবাদের অন্যতম শিকার। জিহাদি তৎপরতার কারণে বুরকিনা ফাসোর শতশত স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে এবং ছাত্র ও শিক্ষক হামলার ভয়ে বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। গোলযোগপূর্ণ উত্তরাঞ্চলে তিন বছরের বেশি সময় ধরে ইসলামী চরমপন্থীদের হামলা ও হুমকি চলে আসছে। এই কারণে ৩শ’র বেশি স্কুল বন্ধ রয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মালি সীমান্তবর্তী শহর নেনেবোউরোতে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক কাসোউম ওউয়েদ্রাওগো বলেন, ‘জিহাদিরা ধীরে ধীরে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে।’

২০১৬ সালে তার এক সহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। গত বছর নিরাপত্তাজনিত কারণে শিক্ষকরা স্কুল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। স্কুল পরিচালনা করা ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। ওউয়েদ্রাওগো উত্তরঞ্চলীয় রাজধানী ওউয়াহিগোউইয়ায় চলে গিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, সেখানে তিনি অন্ন সংস্থানের চিন্তায় আছেন। এই শিক্ষক আরো বলেন, ‘তারা ‘ফ্রেঞ্চ’ স্কুল চায় না। ‘আরবি’ স্কুল চায়। তিনি কিভাবে ‘পশ্চিমা’ শিক্ষার ওপর ক্ষুব্ধ ইসলামী চরমপন্থীরা শিক্ষকদের হুমকি দিয়েছে তা বর্ণনা করেন।
ওউয়েদ্রাওগো বলেন, ‘তারা যেন আমাকে সহজে খুঁজে না পায়, সেজন্য আমি গ্রামবাসীদের মধ্যে মিশে থাকতাম।’
তিনি জানান, স্কুলে থাকা শিক্ষকদের জন্য বিপজ্জনক। বুরকিনা ফাসো বিস্তীর্ণ সহিল অঞ্চলের একটি অংশ। ২০১১ সালে লিবিয়ায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়ার পর থেকে এটি এখন সহিংস চরমপন্থী ও আইন বহিভর্’তদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

২০১২ সালে ইসলামপন্থীরা মালির উত্তরাঞ্চল দখল করে এবং এরপর নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে বোকো হারামের উত্থান ঘটে। জিহাদি বিরোধী জি৫ সাহেল ফোর্স বাহিনীর আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযান সত্ত্বেও পরিস্থিতির উত্তরণ হয়নি। বরং আরো খারাপ হয়েছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বুরকিনা ফাসো, মালি ও নাইজারের মধ্যবর্তী এলাকায় গত ছয় মাসে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়েছে।

সেপ্টেম্বর মাসে এক আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সাল থেকে বুরকিনা ফাসোতে ইসলামী চরমপন্থীদের হামলায় ২২৯ জন নিহত হয়েছে। এ সময় রাজধানী ওউয়াগাদোউগোউয়ে তিনটি বড় ধরনের হামলা চালানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর শিক্ষক বলেন, জিহাদিরা তার স্কুলে হামলা চালিয়ে তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘একদিন সশস্ত্র জিহাদিরা গ্রামে এলো। তাদের দেখতে পেয়ে কয়েকজন স্কুল শিক্ষার্থী আমাকে সতর্ক করার জন্য দৌড়ে আমার কাছে এলো। আমরা ঝোঁপের আড়ালে লুকিয়ে পড়লাম।

ওই শিক্ষক বলেন, ‘একজন লোক স্কুলের দরজায় গুলি করল। এরপর ভেতরে ঢুকে সবকিছু জ্বালিয়ে দিল।’ কোন অঞ্চলে হামলা চালানো হয়েছে তিনি তাও জানাতে অস্বীকার করেন।
শিক্ষক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বলেন, অক্টোবর মাসের শেষ দিকে সহিংসতার আশঙ্কায় পূর্বাঞ্চলীয়শহর মাতিয়াকোয়ালিতে বেশ কয়েকটি স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এক শিক্ষক জানান, জিহাদিরা আশপাশের গ্রামগুলোর মসজিদে গিয়ে এর স্টাফদের চলে যেতে বলে। শিক্ষক ও ইউনিয়নগুলো সতর্ক করে বলেছে, সরকার ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে হাজার হাজার শিশুকে স্কুলের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাপের বিষ শরীরে নিয়ে ডায়েরি লিখলেন যিনি

অনলাইন ডেস্ক: সাপের বিষ শরীরে নিয়ে ডায়েরি লিখতে লিখতে মারা গিয়েছিলেন কার্ল প্যাটারসন স্মিথ নামে একজন সাপ গবেষক। এ ঘটনাটি ১৯৫৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঘটলেও পরে তা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়।

জানা গেছে, গবেষণার জন্য শিকাগোর লিঙ্কন পার্ক চিড়িয়াখানার পরিচালক একটি সাপ শহরের ফিল্ড মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে পাঠান। ৭৬ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের সরীসৃপটি পরীক্ষা করার দায়িত্ব পান কার্ল প্যাটারসন স্মিথ। কারণ ওই মিউজিয়ামে সাপ গবেষক হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি।

স্মিথ তার ডায়েরিতে লিখেছিলেন, সাপটির মাথা উজ্জ্বল রঙের নকশায় ঢাকা ছিল এবং এর মাথার আকৃতি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার গেছো সাপের মতো, যেগুলো বুমস্ল্যাং নামেও পরিচিত।

স্মিথের ডায়েরির মাধ্যমে আরো জানা গেছে, আরও নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করার জন্য সাপটিকে নিজের কাছাকাছি আনলে সাথে সাথে তাকে আক্রমণ করে এবং তার বাঁ হাতের বুড়ো আঙ্গুলে কামড়ে দেয়। এ সময় তার শরীরে বিষের কি প্রভাব হচ্ছে তা ডায়েরিতে রেকর্ড করতে থাকেন তিনি।

তবে ২৪ ঘণ্টার কম সময় পর মারা যাবেন স্মিথ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৪

বিদেশের খবর: যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো হাসপাতালে বন্দুকধারীর গুলিতে পুলিশ সদস্যসহ ৪ জন নিহত হয়েছে। বাকি দু’জনের একজন ডাক্তার এবং অপরজন মেডিকেল কর্মী এবং একজন পুলিশ অফিসারসহ বন্দুকধারী।
জানা গেছে মেডিকেল কর্মী দুইজনই নারী। গোলাগুলির ঘটনায় হামলাকারীরও মৃত্যু হয়। তবে বন্দুকধারী আত্মহত্যা করেছে কি না সে বিষয়ে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় শিকাগো মার্সি হাসপাতালে ঢুকে এক বন্দুকধারী তার সাবেক প্রেমিকাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। তবে এটিই হামলার উদ্দেশ্য ছিলো কি না তা স্পষ্ট নয়।
ওই ঘটনার পরই হাসপাতালটি খালি করে দেয়া হয়েছে। আর ঘটনাস্থল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ট্রাম্পের সমালোচনার কড়া জবাব ইমরানের

বিদেশের খবর: গত রবিবার পাকিস্তানের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের অভিযোগ বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার বিনিময়ে পাকিস্তান আমেরিকার জন্য কিছুই করেনি।
সংবাদ মাধ্যম ফক্সনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ করেন ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, প্রতিবছর আমরা পাকিস্তানকে বিলিয়ন ডলার সামরিক অর্থ সাহায্য দিয়ে আসছি। বিনিময়ে তারা তাদের দেশে আল-কায়েদার নেতা লাদেনকে আশ্রয় দিয়েছিল।

ট্রাম্প্রের এমন অভিযোগের পর এর কড়া জবাব দিয়েছেন পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
তিনি বলেন, ট্রাম্পের ভেবেচিন্তে কথা বলা উচিৎ। নাইন এলিভেনে যে হামলা হয়েছিল তাতে পাকিস্তানের কোন নাগরিক জড়িত ছিল না। এরপরেও আমেরিকার সঙ্গে সন্ত্রাসীবিরোধী যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল পাকিস্তান।
তিনি আরো বলেন, আফগানিস্তানে আমেরিকার কার্যকারিতার ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তানকে তারা দায়ী করছে। তাদের ব্যর্থতার জন্য আমাদের বলির পাঁঠা বানানোর চেষ্টা করছে।

ট্রাম্প বলেন, আফগানিস্তানে এত পরিমাণ ডলার খরচ করার পরও আমেরিকা দেশটির তালেবানের কিছুই তেমন করতে পারেনি। উল্টো তালেবান আরো শক্তিশালী হয়েছে। তথ্যসূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস/রয়টার্স।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইভিএম নিয়ে সক্রিয় হচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

দেশের খবর: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার বন্ধে আরও কিছু কর্মসূচি নিতে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এর পেছনে শরিক দল বিএনপি রয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরবে ঐক্যফ্রন্ট। এক্ষেত্রে সেমিনার ও লিফলেট বিতরণ এবং নির্বাচন কমিশনে একটি চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘দেশের সবাই ইভিএমের বিরুদ্ধে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ইভিএম ব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান ব্যক্ত করেছে। ইতোমধ্যে জনগণের মধ্যে তা গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এটিকে নিয়ে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেবে ঐক্যফ্রন্ট। সভা-সেমিনার এবং নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হতে পারে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দায়িত্বশীল দু’টি সূত্র বলছে, ইভিএম ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ফ্রন্টের। বিশেষ করে সভা-সেমিনার, নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়ার পরও কোনও সমাধান না হলে আইনি পথ খুঁজে দেখবে ঐক্যফ্রন্ট।

বিএনপি ও ফ্রন্টের নেতারা জানিয়েছেন, ইভিএমে ফাঁকি আছে। ইভিএম চাই না। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টও নির্বাচনে ইভিএম চায় না। বি. চৌধুরী তার প্রত্যেকটি বক্তব্যে ইভিএমের বিরোধিতা করে আসছেন।
গত ১৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনে যায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। ইসিতে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ প্রত্যেক কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেও ইসিকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। সেখানে জোরালোভাবে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ চেয়েছে ফ্রন্টের নেতারা। লিখিত চিঠিতে ইভিএম ব্যবহারে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানোর বিষয়টিও প্রত্যাখ্যান করেছে সরকারবিরোধী এই জোট।

ড. কামাল হোসেনের সই করা চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচনে কোনও কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না। ভোটগ্রহণে যেসব দেশে ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে তার প্রায় সবগুলোতেই ভোট জালিয়াতি ও কারচুপির প্রমাণ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সংলাপে-অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ না করার দাবি করেছেন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার জন্য তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি তুলে ধরে কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ‘নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত সীমিত সংখ্যক ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। হ্যাক এবং ম্যানিপুলেট করা যায়, এই যুক্তিতে সারা পৃথিবীর সবচাইতে উন্নত প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন দেশগুলোতেও ইভিএম বাতিল করা হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জোর দাবি জানায়, বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে একাদশ সংসদ নির্বাচনে একটি কেন্দ্রেও ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশন ইভিএম ব্যবহারে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করার ঘোষণা করেছে। আমরা ইভিএম এর বিরুদ্ধে, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নই। তাই এটিএম ব্যবহারে সেনাবাহিনী ব্যবহার করে তাদের বিতর্কিত করার এবং জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চক্রান্ত জাতি মেনে নেবে না।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা আবদুল মালেক রতন বলেন, ‘নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের মধ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। আমাদের দেশের জনগণ এখনই এভাবে ভোট দিতে প্রস্তুত নয়। এটা সম্পর্কে সবাই বুঝবে, জানবে, এরপর ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ইভিএম কেনাতেও দুর্নীতি আছে। দেশের জনগণের সামনে আমরা তা সবিস্তারে তুলে ধরবো।’
ইভিএম বন্ধের বিষয়টি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল। বিএনপির পক্ষ থেকে ইভিএম প্রসঙ্গটি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

সাংবাদিক আমীন আল রশীদ তার ইভিএম-এর আদ্যোপান্ত শীর্ষক নিবন্ধে লিখেছেন, ‘ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের সম্ভাব্যতা এবং এর কারিগরি বিষয় নিয়ে প্রথমে ধারণা পাই নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ড. এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন থেকে। ২০০৯ সালের ৬ অক্টোবর ইভিএম নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণাপত্র পেশ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগ। যারা এর দুই বছর আগে, অর্থাৎ ২০০৭ সালে মেশিনটি বাংলাদেশে উদ্ভাবন করে।’

দেশ-বিদেশে ইভিএম ব্যবহার
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, কানাডা, এস্তোনিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, আয়ারল্যান্ড, ইটালি, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, পেরু, রোমানিয়া, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভেনেজুয়েলা ও ফিলিপাইনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়।
সনাতানী পদ্ধতির পরিবর্তে ই-ভোটিং প্রচলনের মাধ্যমে ভোট গ্রহণে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকার বেশ এগিয়ে রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঢাবির ঘ ইউনিটে ১ম, ২য়, ৩য়, ৫ম মাদ্রাসা ছাত্র

অনলাইন ডেস্ক: প্রশ্নফাঁসের পর সমালোচনার মুখে পুন:ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের। সোমবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে ইউনিটের পুনঃভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে।
ফলাফলে দেখা গেছে, এই ইউনিটের মেধা তালিকার ১ম, ২য়, ৩য়, ৫ম হয়েছেন মাদ্রাসার ছাত্র। এরা সবাই টঙ্গীর তা’মিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। প্রথম হয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং দ্বিতীয় হয়েছেন মুজাহিদ আব্দুল্লাহ মারুফ।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবহেলার শিকার হয়ে আসছেন। প্রাচ্যের অক্সফাের্ড খ্যাত দেশ সেরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগই ছিল না মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের। ভর্তির বিভিন্ন শর্ত আরোপের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য বন্ধ হয়ে যায় অধ্যায়নের দুয়ার।
কিন্তু ২০১৫ সাল হতে মাদ্রাসা বোর্ড শিক্ষার্থীদের জন্য দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের ইংরেজি ও বাংলা সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে ঢাবির সব বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে আর কোনো বাধা থাকে না। এরপর থেকেই প্রায় প্রতি বছরই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা চমক দেখিয়ে আসছেন।
২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ (GHA) ইউনিটের পুনঃভর্তি পরীক্ষায় ৬১.১ শতাংশ পাস করেছে। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় ১৬ হাজার হাজার ১৮১ জন ভর্তিচ্ছু অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেন ৯ হাজার ৮৮৬ জন। ঘ ইউনিটের অধীনে আসন রয়েছে ১ হাজার ৬১৫টি।

এই পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের admission.eis.du.ac.bd ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে। এছাড়া DU GHA লিখে তারপর পরীক্ষার রোল নম্বর লিখে যেকোনে নম্বর থেকে ১৬৩২১ এ এসএমএস করলে ফল জানা যাবে।

পরীক্ষায় পাসকৃতরা আগামী ২০ নভেম্বর হতে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত— নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পছন্দের তালিকা পূরণ করতে পারবে। আগামী ৩ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় ওয়েবসাইটে ভর্তির মনোনয়ন দেয়া হবে এবং সাক্ষাৎকারের তারিখও দেওয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
হোটেলের পথে ১১০০ কেজি কুকুরের মাংস উদ্ধার!

বিদেশের খবর: পলিথিনের প্যাকেটে করে নেয়া হচ্ছে জবাইকৃত প্রাণী। বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছে ছাগল বা ভেড়া। কিন্তু সেটি আসলে কী, তা নিয়ে সন্দেহ হয় পুলিশের।
মোটি ১১টি প্যাকেটে ছিল প্রায় ১১০০ কেজি মাংস। পুলিশ ওই মাংসের প্যাকেট খুলতে বললে এর বাহকরা দ্রুত সটকে পড়ে। পুলিশের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। পরে ওই মাংস পরীক্ষা করে দেখা যায় সেগুলো আসলে কুকুরের মাংস।
শনিবার ভারতের চেন্নাইয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির গণমাধ্যমে খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের (আরপিএফ) কর্মকর্তারা গিয়ে তাদের প্যাকেটগুলোতে তল্লাশি চালায়। আরপিএফের উপপরিদর্শক এস কৃষ্ণন এবং এ ভাস্করণ সেগুলো জব্দ করেন।

ফুড সেফটি কর্মকর্তারা পরে সেগুলো পরীক্ষা করেন। ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জবাই করা কুকুরগুলো হোটেলে সরবরাহের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এভাবে কুকুরের মাংসকে ‘রাজস্থান মিট’ বলে চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
১ম বিশ্বযুদ্ধের পেছনের কথা

অনলাইন ডেস্ক: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ধ্বংসযজ্ঞ, মানবচর্মের গহীনে নিহিত এক হিংস্র দানবসত্ত্বার উপস্থিতির নিদর্শন। ১৯১৪ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়ে এই ধ্বংসলীলা চলে ১৯১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে, আন্দাজ করা হয় ১,৫০০ দিন ধরে প্রতিদিন ৬,০০০ মানুষ নিহত হয়। কমপক্ষে ৭৪ মিলিয়ন সৈন্য এই যুদ্ধে অংশ নেয়। মিত্রশক্তির ১৮ মিলিয়ন সৈন্য এই যুদ্ধে প্রাণ হারায়। কেন্দ্রীয় শক্তির মারা যায় প্রায় ১২ মিলিয়ন সৈন্য। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়ে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন বিশাল সংখ্যক মানুষ। এই মহাযুদ্ধের করালগ্রাসে বদলে যায় ইউরোপের নকশা, বদলে যায় পৃথিবীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস। কীভাবে এই তাণ্ডবলীলা শুরু হয়েছিল, তা একবার পেছন ফিরে দেখা যাক।

বসনিয়া সঙ্কট
১৮৭৮ সালে বার্লিন সম্মেলন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরিকে (অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্য) বসনিয়া ও হার্জগোভিনা ভোগ দখলের অধিকার দিয়েছিল। তারপরেও অঞ্চল দুটি তুরস্ক সাম্রাজ্যের আংশিক নিয়ন্ত্রণে ছিল। বিশ শতকের গোড়ার দিকে নব্য তুর্কি আন্দোলনের সূচনা হলে তুরস্ক সাম্রাজ্যের সংকট তীব্র হয়। এই আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে ১৯০৮ সালে অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যারেন্থাল উক্ত প্রদেশ দুটিকে সরাসরি দখল করে নেওয়ার ঘোষণা দেন। রাশিয়া এর তীব্র বিরোধিতা করে। কারণ বসফরাস ও দার্দানালিস প্রণালীর কারণে রাশিয়া এই এলাকার উপর নির্ভরশীল ছিল। একইসাথে সার্বিয়াও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে, কারণ বিপুল সংখ্যক স্লাভ জাতিভুক্ত মানুষ বসনিয়া ও হার্জগোভিনাতে বসবাস করতো। অস্ট্রিয়া কর্তৃক অধিকৃত হলে এই বিপুল সংখ্যক মানুষ হ্যাবসবার্গ সাম্রাজ্যের প্রজায় পরিণত হতো।

রাশিয়ার সমর্থন পেয়ে সার্বিয়া সামরিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। ত্রিশক্তি মৈত্রী চুক্তির অন্যতম মিত্রদেশ ইতালিও অস্ট্রিয়ার পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়। কারণ অ্যাড্রিয়াটিক উপকূলে ইতালির স্বার্থ জড়িত ছিল। তবে জার্মানির কাছ থেকে অস্ট্রো-হাঙ্গেরি পূর্ণ সমর্থন পায়। এই সংকটের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ছিল অনেক গভীর। রাশিয়া বুঝেছিল, জার্মানি তার শক্তিশালী শত্রুতে পরিণত হয়েছে। তাই সে ব্রিটেনের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়। জার্মানির শক্তিশালী নৌবহর ব্রিটেনের জন্যেও আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই ব্রিটেন ফ্রান্সের সাথে মিত্রতার বন্ধন সুদৃঢ় করতে প্রয়াসী হয়। এদিকে অস্ট্রিয়া ও সার্বিয়ার মধ্যেও তিক্ত সম্পর্ক তৈরি হয়।

মরক্কো সংকট
১৯০৫ সালের পর থেকে মরক্কোতে ফরাসি প্রভাব বৃদ্ধি পায়। ১৯১১ সালে একটি বিদ্রোহ দমনের অজুহাতে ফ্রান্স মরক্কোর রাজধানী ফেজ দখল করতে সেনা পাঠায়। জার্মানি এতে বাধা দেয়। তারা প্যান্থার নামে একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠায় ও দাবি করে যে নিরাপত্তার অজুহাতে ফ্রান্স মরক্কো দখল করলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে সমগ্র ফরাসি কঙ্গো জার্মানির হাতে তুলে দিতে হবে। ব্রিটেনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান দাপট আর নিজ দেশের আগ্রাসী জাতীয়তাবাদের ঢেউ ফ্রান্সকে সাহসী করে তুলেছিল। তারা জার্মানির দাবি প্রত্যাখ্যান করে। উত্তর আফ্রিকার উপকূলে একটি জার্মান বন্দরের অবস্থান ব্রিটেন মেনে নিতে চায়নি, তাই তারাও সরাসরি জার্মানির বিরোধিতা শুরু করে। সংঘাতপ্রবণ ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে অবশ্য ১৯১১ সালের ৪ নভেম্বর সমঝোতা হয়, কিন্তু এই মরক্কো সংকট ইউরোপের পরাশক্তিগুলোর মধ্যে বৈরিতাকে তীব্রতর করে।

বলকান যুদ্ধ
সেই দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে উঠেছিল অটোমান তুরস্ক সাম্রাজ্য। দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার নিয়ন্ত্রক ছিল এই এই বিশাল অটোমান সাম্রাজ্য। ১৯১১ সালের শেষের দিকে লিবিয়াকে উপনিবেশে পরিণত করার লক্ষ্যে ইতালি লিবিয়া আক্রমণ করে, বেঁধে যায় ত্রিপোলির যুদ্ধ। অটোমান সাম্রাজ্য ইতালিকে বাধা দিলেও শেষমেষ ইতালি জয়লাভ করে লিবিয়া দখল করে নেয়। এরই মধ্যে সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো, বুলগেরিয়া ও গ্রিস বলকান লিগ গঠন করে। অটোমান শাসন থেকে মুক্ত হওয়াই তাদের লক্ষ্য ছিল। ১৯১০ সালে আলবেনিয়ার বিদ্রোহ দমনে তুর্কি শাসকের অসাফল্য ও ১৯১১ সালে ত্রিপোলির যুদ্ধে ইতালির বিরুদ্ধে তুরস্কের চরম ব্যর্থতা বলকান লিগকে সাহস যুগিয়েছিল।

১৯১২ সালের ৮ অক্টোবর মন্টিনিগ্রো তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সার্বিয়া, বুলগেরিয়া ও গ্রিসও অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়। এভাবে শুরু হয় প্রথম বলকান যুদ্ধ। এই বলকান লিগ একমাসের মধ্যেই অটোমান সাম্রাজ্যকে পরাস্ত করে। জয়ী বলকান রাজ্যগুলো তুরস্ক সাম্রাজ্যের বেশ কিছু অংশ নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। আয়তনে ছোট হয়ে যায় অটোমান সাম্রাজ্য। ইতোমধ্যে আলবেনিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ইউরোপের বৃহৎ শক্তিবর্গ স্বাধীন আলবেনিয়াকে স্বীকৃতি দেয়।

প্রথম বলকান যুদ্ধের ফলে বুলগেরিয়া বিশেষ লাভবান হতে পারেনি। মেসিডোনিয়ার বিশাল অঞ্চল লাভ করেছিল সার্বিয়া আর গ্রিস। হতাশ বুলগেরিয়া তাই সার্বিয়া ও গ্রিসে আক্রমণ করে বসে। শুরু হয় দ্বিতীয় বলকান যুদ্ধ। তুরস্ক ও রোমানিয়ার সাহায্যপুষ্ট গ্রিস ও সার্বিয়া ১৯১৩ সালে বুলগেরিয়াকে পরাজিত করে। বুখারেস্ট শান্তিচুক্তির শর্তানুযায়ী পরাজিত বুলগেরিয়া রোমানিয়াকে দোব্রুজা ও তুরস্ককে আড্রিয়ানোপোল ছেড়ে দেয়। ‘Europe Since 1870’ গ্রন্থে ঐতিহাসিক জেমস জল বলেন, “বলকান রাজ্যগুলোর সাফল্য এবং এমনকি তাদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রমাণ করেছিল যে বহুজাতিক সাম্রাজ্যগুলোর দিন শেষ হতে চলেছে।”

১ম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা
১৯১৪ সালে অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দের হত্যাকাণ্ড ইউরোপের রাজনীতিতে চূড়ান্ত সংকটের জন্ম দেয়। ফার্দিনান্দ ছিলেন হ্যাবসবার্গ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। ১৯১৪ সালের ২৮ জুন ফার্দিনান্দ সামরিক বাহিনী পরিদর্শনের জন্য সস্ত্রীক বসনিয়ার রাজধানী সেরাজেভোতে আসেন। এই সময়ই সার্বিয়ান উগ্র জাতীয়তাবাদী সংগঠন ‘দ্যা ব্ল্যাক হ্যান্ড’ এর সদস্য গ্যাভ্রিলো প্রিন্সিপ যুবরাজকে হত্যা করে। অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি তৎক্ষণাৎ অভিযোগ তোলে যে সার্বিয়া সরকারই এই হত্যাকাণ্ডের মদদদাতা। যদিও এর পেছনে সার্বিয়ান সরকারের মদদের কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি চাইলো এই সুযোগে সার্বিয়াকে শিক্ষা দিতে। ওদিকে জার্মানি অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরিকে নিশ্চিত করে যে ফ্রান্স ও রাশিয়া সার্বিয়ার সমর্থনে এগোলে জার্মানি তাদের ব্যবস্থা করবে।

১৯১৪ সালের ২৩ জুলাই অস্ট্রিয়ান রাষ্ট্রদূত সার্বিয়ান সরকারের কাছে এক দীর্ঘ চরমপত্র পাঠান। এতে দাবি করা হয়, সকল হ্যাবসবার্গবিরোধী প্রকাশনা সার্বিয়া সরকারকে নিষিদ্ধ করতে হবে, সকল সার্ব জাতীয়তাবাদী সংগঠনকে দমন করতে হবে, যে সকল সার্বিয়ান প্রশাসনিক ও সামরিক আধিকারিক সার্ব জাতীয়তাবাদীদের প্রতি সহানুভূতিশীল, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে ও তাদের নামের তালিকা অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সরকারকে পাঠাতে হবে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই চরমপত্রের উত্তর দেবার জন্যেও সার্বিয়াকে তাগাদা দেওয়া হয়। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব এডওয়ার্ড গ্রে মন্তব্য করেন, এই চরমপত্র ছিল একটি স্বাধীন দেশ কর্তৃক অন্য একটি স্বাধীন দেশকে পাঠানো সবচেয়ে ভয়ংকর একটি দলিল।

সার্বিয়ার সামনে দুটি পথ খোলা ছিল, হয় অস্ট্রিয়ার চরমপত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করে কূটনৈতিক পরাজয় স্বীকার করা, নয়তো সার্বিক ঝুঁকি নিয়ে অস্ট্রিয়াকে প্রতিরোধ করা। চরমপত্র পাঠানোর দু’দিন পরে ২৫ জুলাই রাশিয়ার সরকার তার সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়। ২৮ জুলাই অস্ট্রো-হাঙ্গেরি সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এদিকে জার্মানদের বারবার সতর্কীকরণের পরেও রাশিয়া যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকে। প্রতিরক্ষার নিমিত্তে ১ আগস্ট জার্মানি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। জার্মানি ফ্রান্সকেও সতর্ক করতে থাকে, কিন্তু ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ভিভিয়ানি জার্মানিকে জানিয়ে দেন, ফ্রান্স তার নিজের স্বার্থানুযায়ী পদক্ষেপ নেবে। কাজেই, ৩ আগস্ট জার্মানি ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

এদিকে ব্রিটেন তখনও কোনো পক্ষ অবলম্বন করেনি। তারা শুধু জার্মানিকে সাবধান করে দেয় যে তারা যেন ইংলিশ চ্যানেলে ফ্রান্সের উপর নৌ-আক্রমণ না চালায় আর ফ্রান্সকে আক্রমণ করার জন্যে তারা যেন বেলজিয়ামের ভূখণ্ড ব্যবহার না করে। কিন্তু জার্মানি এই সতর্কীকরণ উপেক্ষা করলে ৪ আগস্ট ব্রিটেন জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। পুরোদমে শুরু হয়ে যায় ১ম বিশ্বযুদ্ধ। রাজনৈতিক নেতারা তো বটেই, সাধারণ মানুষও যেন একে অপরকে ধ্বংসের এক উন্মত্ত আকাঙ্ক্ষায় মেতে ওঠে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্রসীমা লঙ্ঘন না করার সতর্কবাণী উপেক্ষা করে জার্মানি যুক্তরাষ্ট্রকেও শত্রুতে পরিণত করে। ১৯১৭ সালে আমেরিকা ১ম বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে নতুন মাত্রা পায় এই মহাযুদ্ধ। বর্ধিঞ্চু শক্তির সম্যক প্রদর্শন মানুষ মাত্রেরই স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। সেটিই বৃহৎ পরিসরে দেখিয়ে দেয় ১ম বিশ্বযুদ্ধ।

সুদূরপ্রসারী ফলাফল
১ম বিশ্বযুদ্ধের ফলে ইউরোপের প্রায় সমস্ত দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুরোপুরি বিনষ্ট হয়ে যায়। বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইউরোপ জুড়ে গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের প্রসার ঘটে। মহা শক্তিশালী অটোমান সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে। আরব রাষ্ট্রগুলো তুরস্কের অধীনতা ছেড়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। খোদ তুরস্কে কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে বিপ্লবী অভ্যুত্থান ঘটে এবং তুরস্কে একটি প্রজাতন্ত্র গঠিত হয়।

নিজের শক্তির বড়াই করে বিশ্বযুদ্ধ বাঁধানো জার্মানিকে জবরদস্তি চাপিয়ে দেয়া হয় ভার্সাই চুক্তি। জার্মানি ইউরোপে ২৫,০০০ বর্গমাইল এলাকা হারায়, তার বাণিজ্য বন্দরগুলো বিজয়ী মিত্রশক্তিদের জন্য খুলে দেয়া হয়। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও বেলজিয়ামকে বিশাল পরিমাণ কয়লা, রেল ইঞ্জিন ও মোটর গাড়ি দিতে হয় জার্মানিকে। সেই সাথে যুদ্ধাপরাধের দায় হিসেবে তার উপর চাপে ক্ষতিপূরণের বিশাল বোঝা। জার্মানিকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেয়ার সকল ব্যবস্থা গৃহীত হয়। কিন্তু এই প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা জার্মানিকে চিরতরে পঙ্গু করতে পারেনি, বরং এনেছিল আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ। সে নিয়ে কথা হবে অন্য এক লেখায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest