সর্বশেষ সংবাদ-
৬ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরাসাতক্ষীরায় এবি পার্টির আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহ্বায়ক শাকিল, সদস্য সচিব শাহীনসাতক্ষীরায় রিইবের সিএসও’র ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিতসাতক্ষীরায় চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাংচুর ও মারপিট: গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনআশাশুনিতে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ইজিবাইকের ওপর: অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন পথচারীসাতক্ষীরায় উপজেলা পর্যায়ে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি সমাবেশশ্যামনগরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি সেবা প্রাপ্তির মানোন্নয়নে পাবলিক হেয়ারিংগভীর রাতে গাবুরায় গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ‌দাফন সম্পন্নগাজী নজরুলের ফাঁ*সির দাবিতে উত্তাল শ্যামনগরসাতক্ষীরায় যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা, আনন্দ মিছিল

বলিউডে এবার অ্যাসাইনমেন্টের নামে দেহ ব্যবসায় নামানোর অভিযোগ

বিনোদনের খবর: যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে আন্দোলন #মি টু এর ধাক্কায় যখন কাঁপছে বলিউড, এর মধ্যেই নারী ডান্সারদের জোর করে দেহব্যবসায় নামানো ও পাচারের অভিযোগ উঠল ইন্ডাস্ট্রির এক কোরিওগ্রাফারের বিরুদ্ধে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি কানাডা সরকার এক নারী ডান্সারকে সেখান থেকে ফেরত পাঠায়। অভিযোগ, ওই নারীকে জোর করে কানাডায় দেহ ব্যবসায় নামানো হয়েছিল। সেদেশের পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ভারতে পাঠিয়ে দেয়। এর পরই প্রকাশ্যে আসে এ ঘটনা।

পরে মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেখানেই উঠে আসে বলিউডের কোরিওগ্রাফার অ্যাগনেস হ্যামিলটনের নাম। অভিযোগ, নারী ডান্সারদের বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্টে পাঠাতেন অ্যাগনেস। সেখানেই জোর করে দেহব্যবসায় নামানো হতো ওই নারীদের। কেনিয়া, বাহরিন ও দুবাইতেও অনেক নারীকে এভাবে পাঠিয়েছে অ্যাগনেস। বাইরে মুখ খুললে মহিলাদের ফাসিয়ে দেওয়া হবে বলেও ভয় দেখাতেন তিনি। নারী প্রতি ৪০ হাজার টাকা নিতেন অ্যাগনেস।

অভিযোগ সামনে আসার পর অ্যাগনেসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাইরের দেশে কত জন নারীকে তিনি পাচার করেছেন, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ক্যালিফোর্নিয়ার ভয়াবহ দাবানলে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ৬০০

বিদেশের খবর: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানলে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০ এবং এর মধ্যে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ইতিমধ্যে ভয়াবহ এই দাবানলে ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়। পুরোপুরি পুড়ে ধ্বংস হয়েছে কমপক্ষে ১২ হাজার বাড়ি ঘর। বৃহস্পতিবার নিখোঁজের সংখ্যা ছিলো তিন শতাধিক। এর একদিন পর জানানো হল নিখোঁজের সংখ্যা ৬৩১ জন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় দশ হাজারের মত দমকল বাহিনী কাজ করছে বলে জানা গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দীপিকা ও রণবীরের বিয়ের প্রথম ছবি প্রকাশ্যে

বিনোদন সংবাদ: অপেক্ষার অবসান। অবশেষে প্রকাশ্যে আসলো দীপিকা ও রণবীরের বিয়ের প্রথম অফিসিয়াল ছবি। নব-দম্পতির ছবি প্রকাশ্যে আসতেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। সন্ধ্যা ৬ থেকে ৭টার মধ্যে অফিসিয়ালি ‘দীপবীর’ এর পক্ষ থেকে এই ছবি প্রকাশ করার কথা থাকলেও ভারতীয় সময় রাত ৮.১০ এ প্রকাশ্যে আনা হয় এই ছবি। দীপিকা ও রণবীর দুজনের সোশ্যাল সাইট থেকেই ছবিটি পোস্ট করা হয়।

রণবীর ও দীপিকা দুজনের সোশ্যাল সাইট থেকেই একই রকম দুটি ছবি পোস্ট করা হয়। ছবি দুটি দেখে বেশ বোঝা যাচ্ছে এই দুটির প্রথমটি কঙ্কনি ও দ্বিতীয়টি সিন্ধি রীতিতে বিবাহের ছবি। কঙ্কনি রীতিতে বিয়ের অনুষ্ঠানে রণবীরের পরনে ছিল সাদা পাঞ্জাবি ও ধুতি ও দীপিকার পরনে সোনালি রঙের একটি শাড়িতে দেখা যাচ্ছে। দ্বিতীয় ছবিতে রণবীর সিংকে দেখা যাচ্ছে লাল শেরওয়ানি ও মাথা লাল পাগড়ি পরে থাকতে ও দীপিকাকে দেখা যাচ্ছে লাল লেহেঙ্গা পরে থাকতে।

এদিকে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতিবারই সমস্ত শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধন্যবাদ জানান দীপিকা। ১৪ নভেম্বর বুধবার ইতালির লেক কোমোতে কঙ্কনি রীতিতে সম্পন্ন হয় ‘দীপবীর’-এর বিয়ের অনুষ্ঠান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাকিবকে রাখল হায়দরাবাদ, মোস্তাফিজকে ছেড়েছে মুম্বাই

খেলার খবর: সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জার্সিতে প্রথম মৌসুম ভালোই কেটেছে সাকিব আল হাসানের। টাইগারদের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে আসছে মৌসুমের জন্য ধরে রেখে সেটির পুরস্কারই দিল আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

আগামী মৌসুমের জন্য সাকিবকে সানরাইজার্সরা ধরে রাখলেও বাংলাদেশের আরেক তারকা ক্রিকেটার পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। কাটার মাস্টারকে ২ কোটি ২০ লাখে দলে টেনেছিল মুম্বাই।

টানা সাত মৌসুম কলকাতা নাইট রাইডার্সের জার্সিতে ধারাবাহিক পারফর্মার ছিলেন সাকিব। শাহরুখ খানের দল তাকে ছেড়ে দিলে গত মৌসুমে ২ কোটিতে সাকিবকে দলে টানে হায়দরাবাদ। টুর্নামেন্টে ব্যাটে ২৩৯ রান তোলার পাশাপাশি বল ঘুরিয়ে ১৪ উইকেট নিয়ে দলের রানার্সআপ হওয়ার পথে আস্থার প্রতিদান দিয়েছিলেন সাকিব।

সানরাইজার্সরা তাদের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারকেও ধরে রেখেছে। বল টেম্পারিংয়ে নিষিদ্ধ হয়ে যদিও গত মৌসুমে খেলা হয়নি অজি ওপেনারের। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে খেলার প্রত্যয় এ বাঁহাতির। তার আগে আইপিএল হবে ওয়ার্নারের জন্য নিজেকে শান দেয়ার উত্তম মঞ্চ।

নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন, আফগানিস্তানের রশিদ খান, মোহাম্মদ নবিকেও ধরে রেখেছে দলটি। তবে ইংল্যান্ডের অ্যালেক্স হেলস, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকে ছেড়ে দিয়েছে সানরাইজার্সরা।
মোস্তাফিজের সঙ্গে শ্রীলঙ্কান স্পিনার আকিলা ধনঞ্জয়া, সাউথ আফ্রিকার জেপি ডুমিনি, অষ্ট্রেলিয়ান পেসার প্যাট কামিন্সকেও ছেড়ে দিয়েছে ইন্ডিয়ান্সরা। তবে এভিন লুইস, কাইরন পোলার্ড, বেন কাটিং, মিচেল ম্যাকক্লেনেঘান, অ্যাডাম মিলনের মতো বিদেশিদের ধরে রেখেছে দলটি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আইপিএলে অজি তারকারা অনিশ্চিত! ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তিন শর্ত

অনলাইন ডেস্ক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) অজি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে তিন শর্ত দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হয়েছে একমাত্র ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার লিখিত শর্ত মেনেই আইপিএলে খেলতে পারবেন অজি ক্রিকেটাররা। আর তা না মানলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যার ফলে ২০১৯ আইপিএলে অজি ক্রিকেটারদের খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে আশঙ্কা!

অজি ক্রিকেটারদের যেসব শর্ত দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া-

এক- অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের ছাড়পত্র ছাড়া কোন অজি ক্রিকেটারই আইপিএল খেলতে পারবে না। যে ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবে না, তাদের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতেই হবে। শেফিল্ড শিল্ড খেলার পর যদি ক্রিকেটাররা আইপিএল খেলার জন্য প্রস্তুত থাকে তাহলে তা বোর্ডকে জানাতে হবে। শেফিল্ড শিল্ডের ফাইনাল শেষ হবে এপ্রিল মাসে, সেক্ষেত্রে অনেক অজি ক্রিকেটারই আইপিএলের প্রথম দিকের ম্যাচে অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলেই মনে করছেন অনেকে।

দুই- পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ শেষ হওয়ার পরই আইপিএল খেলতে পারবেন অজি ক্রিকেটাররা। এখন পর্যন্ত সেই সিরিজের ক্রীড়সূচি তৈরি না হলেও মনে করা হচ্ছে মার্চের শেষ পর্যন্ত ওই সিরিজ চলবে। সেক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক সিরিজে থাকা অজি ক্রিকেটাররা আইপিএলের শুরুর দিকের ম্যাচগুলো খেলতে পারবেন না বলেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিন- এই দুই শর্ত ছাড়াও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এও জানিয়েছে, বিশ্বকাপের জন্য অস্ট্রেলিয়া যে ক্যাম্পের আয়োজন করবে তাতে অংশগ্রহণ করতে হবে ক্রিকেটারদের।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা সাবেক এমপি হাবিব জামিনে মুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপির কেন্দ্রিয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব ১০ মামলায় কারাভোগের পর শুক্রবার সাকালে তিনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন।
সকাল ৮ টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি লাভ করেছেন বলে জানিয়েছে জেল সুপার মো. আবু জাহেদ।
হাবিবুল ইসলাম হাবিব সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তিনি ১৯৯৬ এর ষষ্ঠ এবং ২০০১ এর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা ১ (তালা কলারোয়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রিয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক।
জানা গেছে তার বিরুদ্ধে ১০ টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আছে বিএনপি নেতা আলতাফ হত্যার ২টি মামলা, মৎস্যজীবী দল নেতা আমান হত্যা মামলা, শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ৩টি মামলা, চাঁদাবাজির ২টি , নাশকতার ২টি ও ঢাকার একটি মামলা। গত ৬ অক্টোবর তিনি আদালতে আত্মসমর্পন করেন। আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠায়। এসব মামলায় তিনি পর্যায়ক্রমে জামিন লাভ করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’; সবার দৃষ্টি সরকার ও নির্বাচন কমিশনে

দেশের খবর: নানা জল্পনা-কল্পনার পর আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। এখন অপেক্ষা- অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের।

যা পুরোপুরি নির্ভর করছে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বৈষম্যহীন আচরণের ওপর- এমনটি মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই। তাদের মতে, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেগুলো এখনই কার্যকর করে দৃশ্যমান হওয়া খুবই জরুরি। এতেই নিশ্চিত হবে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ)’।
আর এ ধরনের একটি অনুকূল পরিবেশে ভোটের আয়োজন করে নতুন ইতিহাস গড়ার ব্যাপারে ইতিমধ্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সিইসি। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতি মাঠপর্যায়ে কতটুকু বাস্তবায়ন হবে- তা নিয়ে এখনও আছে যথেষ্ট সংশয়।

আর যদি কোনো কারণে প্রধানমন্ত্রী ও সিইসির দেয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হয়, তাহলে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোটের মাঠে ধরে রাখা কঠিন হবে বলে শঙ্কা বিশ্লেষকদের। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে আভাস দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার ইসির সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, বিরোধী দলের নির্বাচনে টিকে থাকাটা ইসি ও সরকারের আচরণের ওপর নির্ভর করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সবার অংশগ্রহণে এমন একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে- যেখানে সংসদ রেখে এবং বর্তমান মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা (এমপি) স্বপদে থেকে নির্বাচন করবেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাঠপর্যায়ে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেন এমপিরা। তারা গত দশ বছরে তৃণমূলে সংশ্লিষ্ট সবার ওপর এক ধরনের প্রভাব বলয় সৃষ্টি করেছেন। আর এ বলয় ভেঙে প্রভাবমুক্ত হয়ে ইসির সংশ্লিষ্টরা কতটুকু নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারবেন, তা নিয়ে আছে শঙ্কা। যদিও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পূর্ণরূপে মেনে চলতে মন্ত্রী-এমপিদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

যে কোনো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রথম ধাপ হচ্ছে-‘সবার অংশগ্রহণ’ নিশ্চিত করা। যা ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সরকারবিরোধীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু তাদেরকে ভোটের মাঠে ধরে রাখতে বাকি ধাপগুলোও বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। ধাপগুলো হচ্ছে- ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ)’, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসনের নিরপেক্ষ আচরণ, ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেয়ার সুযোগ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ভোট গ্রহণ ও গণনার মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন কিনা, সে বিষয় এখনও নিশ্চিত করা হয়নি বলে অভিযোগ সরকারবিরোধীদের।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে বুধবার বেশ কয়েকটি বিষয় ইসির নজরে এনেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এগুলো হচ্ছে- ভোটের তারিখ তিন সপ্তাহ পেছানো, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) একেবারেই ব্যবহার না করা, প্রতি কেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েন, গায়েবি মামলা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও কারাবন্দি নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া, জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে রদবদল। প্রত্যেকটি বিষয়ে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে ইসি। তবে ইসির কাছে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরার পর বিএনপির মহাসচিব সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছি, তারা বলেছে দেখবেন। আলোচনা করে জানাবেন। তারা তো সব সময়ই এ কথা বলেন। কতটুকু দেখবেন এখন সেটাই দেখার বিষয়।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার নিজ দলের এক সভায় তিনি বলেছেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে তিনি সবকিছুই করবেন। জনগণ যাকে চায় তাকে ভোট দেবে। এর আগে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দু’দফা সংলাপে ফ্রন্টের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আমার প্রতি আস্থা রাখুন। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়, আমরা থাকব। আপনাদের ভোট দিলে আপনারা জিতবেন। নির্বাচনে কোনো প্রকার কারচুপি-জালিয়াতি, কোনো কিছু হবে না। ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার (অবাধ ও সুষ্ঠু), ক্রেডিবল (বিশ্বাসযোগ্য) এবং অ্যাকসেপ্টেবল (গ্রহণযোগ্য) ইলেকশন হবে।

প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে এবং এ ব্যাপারে তার (প্রধানমন্ত্রী) কোনো আন্তরিকতার অভাব নেই বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, যুক্তফ্রন্ট, ১৪ দলীয় জোটসহ ৭০টি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংলাপ করে সবার বাহবা কুড়িয়েছেন। কারণ এ সংলাপের মধ্য দিয়ে দশম সংসদ নির্বাচনের পর থেকে সৃষ্ট প্রায় পাঁচ বছরের দমবন্ধ পরিবেশে অন্তত নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা তৈরি হয়েছে। যদিও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তাদের মূল দাবির একটিও মানা হয়নি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সরকারবিরোধীদের নির্বাচনে আসার ঘোষণায় সংলাপ পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আর নির্বাচনের আগে পর্যায়ক্রমে তাদের দাবিগুলো পূর্ণাঙ্গ বা আংশিকভাবে বাস্তবায়ন হতে পারে বলেও ধারণা সংশ্লিষ্টদের। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মামলা ও গ্রেফতার বন্ধে সরকারের হাইকমান্ড থেকে পুলিশকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

কিন্তু গত রোববার ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সময় ড. কামাল হোসেন অভিযোগ করেছেন, ‘উভয় পক্ষের মধ্যকার দু’দফা সংলাপে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আশ্বাস দিয়েছিলেন বিরোধীদের সভা-সমাবেশ করার ওপর কোনো রকম বিধিনিষেধ থাকবে না এবং গায়েবি মামলাসহ নানা রকম রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদেরকে মুক্তি দেয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হয়রানিমূলক মামলা আর দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আশ্বাসের পরেই ঢাকায় ও রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দুটি জনসভা হয়েছে। দুটি জনসভারই লিখিত অনুমতি দিতে দেরি করে এবং সরকারি মদদপুষ্ট পরিবহন সংকট তৈরি করে মানুষের জনসভায় অংশগ্রহণের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। রাজশাহীতে জনসভা হওয়ার দু’দিন আগে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এমনকি রাজশাহীর সঙ্গে আশপাশের অনেক জেলার বাস যোগাযোগ বন্ধ ছিল।’ তিনি বলেন, ‘দুই দিনের জনসভাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শত শত নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হয়রানিমূলক গ্রেফতার বন্ধের আশ্বাস দেয়ার পর একদিনে ১২শ’রও বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. সা’দত হুসাইন বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবার আগে প্রয়োজন ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’। এ ক্ষেত্রে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) বৈষম্যহীন আচরণের প্রতি নিবেদিত হতে হবে। নির্বাচনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যেসব ওয়াদা করেছেন, সেগুলো রক্ষা করা খুবই জরুরি। পাশাপাশি ইসিকে সব ধরনের প্রভাবমুক্ত থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী আইন মোতাবেক নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। বিশেষ করে প্রশাসন অথবা পুলিশের যেসব সদস্য আগের থেকেই দলীয়ভাবে চিহ্নিত তাদেরকে দ্রুত বদলে ফেলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘যারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের গ্রেফতার করা থেকে বিরত থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রশ্ন উঠতে পারে যদি তারা অপরাধ করে তাহলে কি পুলিশ বসে থাকবে। আমার উত্তর হল, বসে থাকবে। কারণ যখন গ্রেফতার করা হয় তখন তো রাজনৈতিক কারণ দেখায় না। তখন দেখানো হয় ফৌজদারি অপরাধ বা গরু চুরি ইত্যাদি। তবে কেউ যদি জঘন্য অপরাধ (খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, ঘুষ ইত্যাদি) করে, তাদেরকে গ্রেফতার করবে। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কারণসহ ইসির অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক হতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দু-তিন জায়গায় দেখেছি, গ্রেফতার না করার বিষয়ে হাইকোর্ট থেকে নির্দেশনা আনতে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। হাইকোর্টের নির্দেশনার মতো ইসিরও উচিত হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সেই রকম কঠোর নির্দেশনা দেয়া।’ তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যারা মন্ত্রী বা এমপি আছেন, তাদের সরকারি সুবিধাগুলো সীমিত করতে হবে। আমি মনে করি সবকিছু একেবারেই বন্ধ করা যাবে না, কারণ তারা তো মন্ত্রী বা এমপি। তাই সরকারের পক্ষ থেকেই প্রটোকল নেয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করতে হবে। এসব বাস্তবায়ন করলেই সরকার ও ইসির ওপর রাজনৈতিক দলসহ সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

এদিকে গত মঙ্গলবার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি নুরুল হুদা বলেছেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে নতুন একটা ইতিহাস তৈরি হবে। কেননা এ নির্বাচন যদি সফল হয়, তাহলে এরপর থেকে হয়তো সরকার ও সংসদ থেকেই নির্বাচন পরিচালিত হবে। স্থিতিশীল অবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।’ ইতিহাস তৈরির বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আসলেই এ বছরের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। কখনও রাষ্ট্রপতি শাসিত, কখনও সেনাবাহিনীর অধীনে, কখনও কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু এবারই সরকারের অধীনে নির্বাচন। আপনারা বলতে পারেন, ২০১৪ সালে সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু তখন সব দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি।’

এর আগের দিন বুধবার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, যে যেই অবস্থানে থাকুক না কেন, অত্যন্ত নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রার্থীকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে হবে। সব প্রার্থীকে সমান সুযোগ দিতে হবে। আইনগতভাবে কেউ যেন বঞ্চিত না হন, আবার কেউ যেন বাড়তি সুবিধা না পান সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বিরোধীদের নির্বাচনে আসার ঘোষণায় মানুষের মধ্যে প্রাথমিক স্বস্তি এসেছে। কিন্তু সরকার নিয়ন্ত্রণমূলক নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে এসেছে, তার পুরোপুরি নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। প্রচার-প্রচারণার দিক থেকে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই। এ ক্ষেত্রে গায়েবি মামলা দিয়ে বিরোধীদের হয়রানির একটি চিত্র আমরা লক্ষ করছি। এসব মামলায় নিরীহ মানুষকেও হয়রানি করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের দোহাই দেয়ার অবকাশ নেই। কারণ সংবিধান গায়েবি মামলার অনুমতি দেয়নি।

তার মতে, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অপরিসীম। বিশ্বাসযোগ্যতার জায়গাগুলো তারা নিশ্চিত করতে পারবে কিনা, সেটি দেখার বিষয়। এর আগে তাদের ব্যর্থতার অন্যতম উদাহরণ হল, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের অভিযোগগুলোর এখনও সুরাহা হয়নি। এতে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এরপর প্রশাসনের নিরপেক্ষতা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচন কমিশনের লোকজনের থাকা উচিত ছিল। কিন্তু সেখানে প্রশাসন থেকে বানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রভাবিত করার একটি সুযোগ থাকে। ড. হোসেন জিল্লুর বলেন, ভোটাররা ভোট দিতে যেতে পারবেন কিনা সেটি বড় প্রশ্ন। কারণ কিছু কিছু প্রার্থীর আচরণে দেখা গেছে ভোটের দরকার নেই, দলের মনোনয়ন পেলেই মনে করেন, তারা এমপি হয়ে গেছেন। এটি একটি ভয়ের কারণ।

ইসির যত পদক্ষেপ : মন্ত্রী-এমপিরা নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো সরকারি সুবিধা পাবেন না বলে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে নির্বাচনের ২ থেকে ১০ দিন আগে সেনা মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। এ ছাড়া ইসির অনুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি না করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠিকে দিয়েছে ইসি। দলীয় কার্যালয় বা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা নিয়ে যে কোনো মিছিল-শোডাউন বন্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন পর্যন্ত সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া এবং অনুদান বন্ধে সরকারকে চিঠি দিয়েছে ইসি।
সূত্র: যুগান্তরডটকম।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যেতে চায় না রোহিঙ্গারা, ঝুলে গেল প্রত্যাবাসন

ন্যাশনাল ডেস্ক: দিনক্ষণ, প্রস্তুতি সব ঠিক থাকলেও শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গারা নিজেদের দেশ মিয়ানমারে যেতে রাজি না হওয়ায় ঝুলে গেল প্রত্যাবাসন। বরং মিয়ানমারে নিরাপত্তাসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে তারা।
জানা গেছে, প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ায় উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার মদদে ও কিছু উচ্ছৃঙ্খল রোহিঙ্গাদের পরিকল্পিত হুমকি-ধামকির কারণে প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
উখিয়া সংবাদদাতা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম দিন উখিয়ার থাইংখালীর জামতলী জি-৮ ব্লক ও টেকনাফের উনচিপ্রাং ক্যাম্পের ১৬টি রোহিঙ্গা পরিবারের প্রত্যাবাসন করার কথা ছিল। তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গাদের উখিয়ার পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের ট্রানজিট পয়েন্ট দিয়ে ফেরত পাঠানোর সকল প্রস্তুতি ছিল। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে সেখানে উপস্থিত রোহিঙ্গাদের জানানো হয়, তাদের জন্য অন্তত তিনদিনের খাবার-দাবার ও জরুরি প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিসহ বাসে করে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। এরপর তাদের বাসে ওঠার আহবান জানালে ‘যাব না’ বলে স্লোগান দেওয়া শুরু করে তারা। ইত্তেফাকের টেকনাফ সংবাদদাতা জানান, উনচিপ্রাং ক্যাম্পে বিক্ষোভ করে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গারা বলতে থাকে, ‘এখন আমরা ফিরব না’, ‘গণহত্যার বিচার চাই’, ‘নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাই’, ‘স্বদেশের বসত ভিটা ফেরত চাই’। বিক্ষোভে ক্যাম্পের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠে। উখিয়ার থাইংখালী জামতলী জি-৮ ব্লকে অবস্থানরত প্রত্যাবাসন তালিকায় নাম থাকা রোহিঙ্গা নারী হামিদা খাতুন (৫৫) বলেন, ‘আমরা নির্যাতিত হয়ে এদেশে আশ্রয় নিয়েছি। সে দেশে ফিরে আবারো নির্যাতিত হতে চাই না।’ প্রত্যাবাসন তালিকায় থাকা আবুল কালাম (৩৫) বলেন, কিছু দিন আগে সরকারের পক্ষ থেকে ক্যাম্পে এসে আমাদের নাম-ঠিকানা নিয়ে যায়। ক’দিন পর এসে বলে আমাদেরকে মিয়ানমার ফেরত যেতে হবে। এতে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ি। রাতে দেখি আমার বউ ও মেয়ে কোথায় যেন পালিয়ে গেছে। জোরপূর্বক প্রত্যাবাসিত হওয়ার আশঙ্কায় তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গাদের অনেকে ঘর ত্যাগ করেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের আপত্তি ও প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, প্রত্যাবাসনের দিনক্ষণ ১৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) ঠিক ছিল। তবে রোহিঙ্গারা সাড়া না দেওয়ায় প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের দাবি স্বদেশে ফিরে যাওয়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। এ কারণে মিয়ানমারে ফিরে যেতে ইচ্ছুক নয় রোহিঙ্গারা। তিনি আরো বলেন, আমরা তো আর জোর করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারব না। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জানা গেছে, গতকাল কক্সবাজারে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর কর্মকর্তারা বৈঠক করেন প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য। তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান জানান, প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসনে সাড়া না দিয়ে উল্টো প্রত্যাবাসন বিরোধী সমাবেশ ও মিছিল করে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে। রোহিঙ্গারা যেতে রাজি না হওয়ায় ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী লম্বাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম বলেন, কতিপয় এনজিও সংস্থা ও উচ্ছৃঙ্খল রোহিঙ্গাদের হুমকি-ধামকির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। এদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পরিকল্পিত সহিংসতা ও নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। সে সময়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে মিয়ানমার। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে। এই গ্রুপের তৃতীয় বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে বাংলাদেশ মিয়ানমারের কাছে আট হাজার রোহিঙ্গার তালিকা পাঠায়। যাচাই-বাছাই শেষে মিয়ানমার ওই তালিকা থেকে ৫ হাজার ৫শ’ জনকে প্রত্যাবাসনের ছাড়পত্র দেয়। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম ধাপে ২ হাজার ২৫১ জন রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। প্রতিদিন ১৫০ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়া হবে বলে জানায় মিয়ানমার। এদিকে দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার পর জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে অপরিণত ও বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছে। তারা প্রত্যাবাসনকে স্বেচ্ছায় ও নিরাপদ করার আহবান জানিয়েছে। প্রত্যাবাসন স্থগিত রাখার আহবান এইচআরডব্লিউর:রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা স্থগিত রাখার আহবান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকর্তাদের সুপারিশ অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। সংগঠনটির শরণার্থী অধিকার বিষয়ক পরিচালক বিল ফ্রেলিক বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো শুরু করলে বাংলাদেশ খুবই দ্রুত আন্তর্জাতিক সমর্থন হারাবে। শরণার্থী শিবিরে সেনা মোতায়েন করার ঘটনা থেকেই বোঝা যায় যে, ভীত রোহিঙ্গা সম্প্রদায় প্রত্যাবাসনে আগ্রহী নয়। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রত্যাবাসন রোহিঙ্গাদের নিজেদের ইচ্ছায় হবে বলে বলা হলেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার জন্য উত্সাহ দেওয়া হচ্ছে। ক্যাম্পের একজন শরণার্থী হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বলেন, এই প্রত্যাবাসন জোরপূর্বক এবং আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে। ক্যাম্পের একটি মানুষও ফিরে যেতে চায় না। কানাডার উদ্বেগ:নিজ দেশে ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের প্রতি আহবান জানিয়েছে কানাডা। দেশটি আরো বলেছে, তড়িঘড়ি করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা উচিত হবে না। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ক্লদিয়ে বিবুই এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহবান জানান। তারা এই প্রত্যাবাসন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest