সর্বশেষ সংবাদ-
আশাশুনিতে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ইজিবাইকের ওপর: অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন পথচারীসাতক্ষীরায় উপজেলা পর্যায়ে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি সমাবেশশ্যামনগরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি সেবা প্রাপ্তির মানোন্নয়নে পাবলিক হেয়ারিংগভীর রাতে গাবুরায় গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ‌দাফন সম্পন্নগাজী নজরুলের ফাঁ*সির দাবিতে উত্তাল শ্যামনগরসাতক্ষীরায় যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা, আনন্দ মিছিলগণপিটুনিতে মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনসাতক্ষীরা জেলা যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা: সভাপতি মুকুল, সম্পাদক বাবুবিজনেস অ্যান্ড লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন সাতক্ষীরার সুদীপ্তকেঁড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. আনিছুর রহমানের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মেহজাবিনের ‘অজানা আহ্বান’

বিনোদনের খবর: ২০১৪ সালে তাহসান ও মেহজাবিন একসঙ্গে প্রথম ‘রিটার্ন’ শিরোনামের একটি নাটকে অভিনয় করেন। পরে অনেকগুলো নাটকে এই দু’জনকে দেখা গেছে। সেগুলো বেশ দর্শকপ্রিয়তাও পায়। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার তারা দুজন অংশ নিয়েছেন ‘অজানা আহ্বান’ শিরোনামের একটি নাটকের শুটিংয়ে। এটি নির্মাণ করেছেন মাহমুদুর রহমান হিমি। এটিতে মেহজাবিন অভিনয় করেছেন লাবণ্য চরিত্রে। একটি লাভ স্টোরি নিয়ে নাটকটি নির্মিত হয়েছে বলে জানান মেহজাবিন। তিনি বলেন, তাহসান ভাইয়ের সঙ্গে বরাবরই কাজের অভিজ্ঞতা ভালো।
আগেও একসঙ্গে কাজ করেছি। তার সঙ্গে কাজ করতে বরাবরই আমার ভালো লাগে। আমাদের এই নাটকে দর্শক দারুণ একটি লাভ স্টোরি দেখতে পাবেন। তবে এটি নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। পরিচালকের নিষেধ আছে। নাটকের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও সরব এই গ্ল্যামারকন্যা। সম্প্রতি তার অভিনীত নতুন একটি বিজ্ঞাপন প্রচারে এসেছে। এটি চায়ের বিজ্ঞাপন। মজার ব্যাপার হলো এই বিজ্ঞাপনটির নেপথ্য নায়ক চিত্রনায়ক রিয়াজ। তার ক্রিয়েটিভ এজেন্সি পিঙ্ক ক্রিয়েটিভ লিমিটেড থেকে নির্মাণ করা হয়েছে বিজ্ঞাপনটি। এটি নির্মাণ করেছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এর আগে নাটকে জুটি হয়েছেন রিয়াজ-মেহজাবিন। এবার একটু অন্যরকমভাবেই একসঙ্গে পাওয়া গেল তাদের।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বোল্ড করে চারিকে ফেরালেন মিরাজ

খেলার খবর: সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে জিম্বাবুয়ে।

চারিকে জীবন দিলেন অপু

দ্রুত জিম্বাবুয়েকে গুটিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশ হারিয়েছে শুরুর জুটি ভাঙার সুযোগ। আবু জায়েদ চৌধুরীর বলে ব্রায়ান চারির ক্যাচ ছেড়েছেন নাজমুল ইসলাম অপু।

দিনের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে আসে সুযোগ। চারির কাটে ক্যাচ যায় পয়েন্টে। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে বলের নাগাল পান অপু কিন্তু মুঠোয় জমাতে পারেননি ক্যাচ। সে সময় ১ রানে ব্যাট করছিলে চারি।

আগের রাতে বৃষ্টি হয়েছে। সিলেটের আকাশ মেঘে ঢাকা। এই কন্ডিশনে নতুন বলে কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন পেসাররা। সেটা খুব একটা নিতে পারছে না বাংলাদেশ, দলে বিশেষজ্ঞ পেসার যে মাত্র একজন। আবু জায়েদ দারুণ চেষ্টা করছেন, সুযোগও তৈরি করেছেন কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি অপু।

জিম্বাবুয়েকে দেড়শ রানে থামানোর লক্ষ্য বাংলাদেশের

উইকেট নিষ্প্রাণ। স্পিনারদের জন্য নেই তেমন কোনো টার্ন। বাউন্স স্বাভাবিক, উইকেটে থামছে না বল। টিকে থাকতে চাইলে আউট করা কঠিন সিলেটের অভিষেক টেস্টের উইকেটে। তবে তাইজুল ইসলাম মনে করছেন, জিম্বাবুয়েকে দেড়শ রানের ভেতরে থামানো সম্ভব।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার সকাল দশটায় শুরু হবে তৃতীয় দিনের খেলা।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ১৪০ রানে এগিয়ে জিম্বাবুয়ে। তবে তাইজুল মনে করেন, এখনও খুব একটা পিছিয়ে পড়েননি তারা। বাঁহাতি এই স্পিনারের মতে, মন্থর উইকেটে প্রয়োজন ডিসিপ্লিনড বোলিং। সবাই সেটা করতে পারলে জিম্বাবুয়েকে কম রানে থামানো সম্ভব।

জিম্বাবুয়ের বোলিং কোচ ডগলাস হোন্ডো জানান, পুরো তৃতীয় দিন ব্যাটিং করতে চান তারা। বাংলাদেশকে দিতে চান যতটা সম্ভব বড় লক্ষ্য।

দ্বিতীয় দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ২৮২

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৫১ ওভারে ১৪৩ (লিটন ৯, ইমরুল ৫, মুমিনুল ১১, শান্ত ৫, মাহমুদউল্লাহ ০, মুশফিকুর ৩১, আরিফুল ৪১*, মিরাজ ২১, তাইজুল ৮, অপু ৪, আবু জায়েদ ০; জার্ভিস ১১-২-২৮-২, চাটারা ১০-৪-১৯-৩, মাভুটা ৬-০-২৭-০, রাজা ১২-২-৩৫-৩, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ৮-২-২১-০, উইলিয়ামস ৪-০-৫-১)

জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস: ২ ওভারে ১/০ (হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ১*, চারি ০*; তাইজুল ১-০-১-০, অপু ১-১-০-০)

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আরবি ইউনিভার্সিটির ভিসির বাসা অবরোধ

অনলাইন ডেস্ক: এক ছেলেশিশুকে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করার অভিযোগে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ ওরফে আহসান সাইয়েদকে তাঁর বাসায় অবরোধ করেছিল এলাকাবাসী। বিষয়টি পুলিশ পর্যন্ত গড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত সপরিবারে এলাকা ছাড়ার শর্তে উদ্ধার পান ভিসি। গত শনিবার রাতে নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ‘এ’ ব্লকের ২ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। একই সড়কের একটি ছয়তলা ভবনের তিনতলায় ভিসির পারিবারিক বাসা। তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ঢাকায়। তবে ভিসি সাপ্তাহিক ছুটির সুযোগে চট্টগ্রামের বাসায় যেতেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভিসির বিরুদ্ধে আগেও মহল্লার কিছু শিশু নিপীড়নের অভিযোগ তোলে। কিন্তু বিষয়টি স্পর্শকাতর বলে হাতেনাতে ধরার অপেক্ষায় ছিল অভিভাবকরা। গত শনিবার সন্ধ্যায় এক শিশুকে গলি থেকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে বলাৎকারের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় কয়েকজন গিয়ে ভিসিকে ঘেরাও করে ফেলে। এলাকাবাসী খবর পেয়ে বাসভবনই ঘেরাও করে ফেলে। ভিসি শিশু বলাৎকারের কথা স্বীকার করেন এবং সপরিবারে এলাকা ছেড়ে দিতে রাজি হন। এরপর রাত ২টার দিকে লোকজন অবরোধ তুলে নিলে ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ বাসা ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, পুলিশ তাদের ভ্যানে করে ভিসিকে নিয়ে যায়।

গতকাল সন্ধ্যায় ভিসি ফোন ধরে অভিযোগ শুনে বলেন, ‘আমি এলাকাবাসীর চাপের মুখে বলাৎকারের কথা স্বীকার করেছি। আমি কখনো এ ধরনের অপকর্ম করিনি।’ তাঁকে এলাকা ছাড়া করতে মহল্লার লোকজন মিথ্যা অভিযোগ এনেছে বলেও ভিসি দাবি করেন। তবে কেন এলাকাবাসী ষড়যন্ত্র করবে—ভিসি এর যুক্তিসংগত কারণ দেখাননি।

এলাকাবাসী বলছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার রাত ২টার দিকে পুলিশের গাড়িতে করে আহসান সাইয়েদকে তাঁর বাসভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এসআই সঞ্জয়ের নেতৃত্বে ছয়-সাতজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। অবরোধকারীদের মুখে বিবরণ শুনে তা লিপিবদ্ধ করেন কনস্টেবল আব্দুল কুদ্দুস।

বাড়ির মালিক আবুল হোসেন বলেছেন, ‘রাত ১০টার দিকে পাড়ার লোকজন জড়ো হয়ে বিষয়টি আমাকে জানায়। পরে আমরা সবাই তাঁর বাসায় গিয়ে তা জানতে চাই। একপর্যায়ে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চান। তখন আমরা চান্দগাঁও থানার পুলিশকে খবর দিই।’ বাড়িওয়ালা আরো বলেন, ড. আহসান সাইয়েদ আর এখানে না থাকার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন। তাঁর পরিবারও এক দিনের মধ্যে অন্য জায়গায় চলে যেতে রাজি হয়েছে।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ ওরফে আহসান সাইয়েদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ২০১৬ সালে দেশের প্রথম সরকারি ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তিনি এর উপাচার্য নিযুক্ত হন। চার বছর ধরে তাঁর পরিবার চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ওই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে আছে। তিনি ঢাকার কাজের ফাঁকে এখানেই নিয়মিত বসবাস করেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রামপুর।

স্থানীয় বাসিন্দা সাফায়েত উল হক জাবেদ অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ কাজ চললেও লোকলজ্জার ভয়ে অভিভাবকরা তা প্রকাশ করেনি। আবার বিষয়টি প্রমাণও করা যাচ্ছিল না। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি এক শিশুকে পাশের একটি ভবনের গ্যারেজে যৌন নির্যাতন চালানোর সময় বিষয়টি জানাজানি হয়। তখন এলাকার লোকজন জমায়েত হয়ে তাঁর বাসা ঘেরাও করে। বাড়ির মালিককেও বিষয়টি জানানো হয়। এলাকাবাসীর চাপের মুখে ভিসি বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানান জাবেদ।

পুলিশের গাড়িতে করে আহসান সাইয়েদকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা এলাকাবাসী বললেও চান্দগাঁও থানার ওসি মো. আবুল বাশার একটু ভিন্ন ভাষ্য দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি শোনার পর আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। পুলিশ এলাকাবাসীর অভিযোগ শুনেছে এবং তাদের শান্ত করতে সক্ষম হয়। তবে অভিযুক্ত ভিসি সাহেবকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের নাশকতার ছক

অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোপনে নাশকতার ছক কষছে জামায়াত-শিবির। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত অক্টোবর থেকে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। এরই মধ্যে গোপনে বৈঠক ও নাশকতার প্রস্তুতির অভিযোগে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াত-শিবিরের কয়েকশ’ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকও। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর একমাত্র জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি মো. সোহেল রানা বলেন, ‘আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যারাই শৃঙ্খলাপরিপন্থী কাজে লিপ্ত হবে তাদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে বিশেষ টার্গেট করে অভিযান পরিচালনা করছি না। আমাদের কাছে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করেছি। সে অনুযায়ী যারা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে নাশকতার পরিকল্পনা করছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনছি।’
পুলিশ সদর দফতর ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রগুলো বলছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে জামায়াত-শিবির ছিল সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা অগ্রভাগে থেকে দেশজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে। এছাড়া এর আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময়েও নাশকতা করেছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় একাদশ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে না জামায়াত। এজন্য তারা আগের চেয়ে আরও বেশি নাশকতার মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা করতে পারে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এখন জঙ্গি স্টাইলে বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে। এজন্য সহজেই তাদের গোপন পরিকল্পনা জানা যায় না। নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হলে কোনও একটি ইস্যুকে সামনে দাঁড় করিয়ে তারা মাঠে নেমে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ওয়ারী এলাকা থেকে শিবিরের ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের পর তাদের কাছ থেকে দেড়শ’ কেজি বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া তথ্যের বরাতে মামলার এজাহারে বলা হয়, জামায়াত-শিবির বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি নেওয়ার জন্য গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিল। গ্রেফতারকৃতরা সেসময় জানায়, তারা নাশকতার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নেতাকর্মীর বাসায় বিস্ফোরকদ্রব্য মজুদ করেছে।
ওই ঘটনা তদন্তে যুক্ত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা নাশকতার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআই এলাকাকে টার্গেট, বিভিন্ন সরকারি দফতরে নাশকতার পরিকল্পনা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ নির্বাচনকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে লক্ষ্য স্থির করে হত্যার (টার্গেট কিলিং) পর তার দায় জঙ্গিদের ওপর চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা জঙ্গিদের মতো টেলিগ্রাম অ্যাপস, প্রোটেক্টেড টেক্সটসহ বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপস ব্যবহার করে আসছিল।
ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টারসে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের একাধিক বৈঠকে জামায়াত-শিবির সদস্যদের নাশকতার আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা হয়। এর জেরে গত কয়েক বছরে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো পর্যালোচনা করা হয়। এসব মামলায় যারা পলাতক রয়েছে তাদের গ্রেফতারে অভিযান জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ কারণে ঢাকা মহানগর এলাকায় গত একমাসে জামায়াত-শিবিরের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ডিএমওপির একটি সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে দায়ের হওয়া কমবেশি ৮০০ নাশকতার মামলার মধ্যে অন্তত ৫০০টিতে শিবিরের নেতাকর্মীরা আসামি হিসেবে আছে। এসব পেন্ডিং মামলার আসামিদের ধরতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র বলছে, সারাদেশেই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে গত একমাসে ঠিক কতজন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান জানাতে পারেননি পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে প্রায় প্রতিদিনই ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা পুলিশের বরাতে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
গত শনিবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের চন্দনপুরায় ছাত্রশিবিরের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ছয়টি ককটেল, দুই বোতল পেট্রোল ও অকটেন, বোমা তৈরির উপকরণসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করেছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের সময় জামায়াত-শিবির নাশকতা করতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। এজন্য আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। এই অভিযান চলতে থাকবে।’
তবে গত অক্টোবর মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো জামায়াতের বিবৃতিগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ওই মাসে তাদের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনটাই দাবি করেছে তারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জেতার মতো প্রার্থী দেন, মনোনয়ন দেব

দেশের খবর: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ দলীয় জোট নেতাদের বলেছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মতো প্রার্থী থাকলে তালিকা দেন, মনোনয়ন দেব। রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নেতারা জানান, আগামী নির্বাচন জোটগতভাবে হবে কী-না জানতে চান জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জোটগতভাবেই নির্বাচন করবো। ১৪ দলীয় জোট আদর্শিক, এ জোট থাকবে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিজয় অর্জন করতে হবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য। এ সময় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
জোট নেতারা জানান, নির্বাচনে মহাজোট গঠন করা হলে সেই জোটে কারা থাকবেন তা নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও মহাজোট করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন জোট নেতা।
সভায় উপস্থিত জোট নেতাদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মতো আপনাদের কোনো প্রার্থী থাকলে সেই তালিকা দেন। আমরা মনোনয়ন দেব। কিন্তু সিট ভাগাভাগির জন্য প্রার্থী তালিকা দিলে হবে না।
১৯৯১ সালের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই নির্বাচনে জোটকে আসন দেয়া হয়েছিল, কিন্তু কিছু কিছু আসনে জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়েছিল।
এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে জোটের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার দাবি জানান জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কোন উত্তর দেননি বলে জানা গেছ।

সভায় উপস্থিত এক নেতা জানান, জোটের শরিক দলগুলোকে কোন কোন আসন দেয়া হবে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে চলমান সংলাপ প্রক্রিয়া শেষে এ সংক্রান্ত আলোচনা হতে পারে।
জোট নেতারা সভায় ঐক্যফ্রন্ট প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। সংলাপে সাড়া দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে জোট নেতারা বলেন, এ জোটের নেপথ্যে বিএনপি। তারা কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রবদের সামনে রেখে দেশে ষড়যন্ত্র করছে। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করে অসাংবিধানিক পরিবেশ তৈরি করতে চায়।

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনায় সংবিধানের ভেতরে থেকেই সমাধান দেয়ার পরামর্শ দেন জোট নেতারা। নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্র থেমে নেই, এটা চলবে। সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আমরা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করবো।

১৪ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, কার্যকরী সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদল, ন্যাপের আমিনা আহমেদ, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, তরকিত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চতুর ও উচ্চাভিলাষী দুই যুবরাজের গল্প

অনলাইন ডেস্ক: সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনা ৩৩ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) ক্যারিয়ারে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে; তা নিয়ে যখন বিশেষজ্ঞ এবং পর্যবেক্ষকরা ভিন্ন ভিন্ন ভাবনা তুলে ধরছেন; ঠিক সেই সময় তার চেয়ে ২৫ বছরের বড় আরেক যুবরাজ একটু দূরে থেকে সব দেখছেন এবং নিশ্চয়ই একটু অস্বস্তি বোধ করছেন।
এমবিএসের সঙ্গে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ইস্যুতে জড়িয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড)। এর মধ্যে অন্যতম দুটি হচ্ছে, ইয়েমেন যুদ্ধ এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য রাষ্ট্র কাতারের বিরুদ্ধে আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপ।

এই দুটি বিষয়ের ফল বেশি সুখকর ছিল না। ইয়েমেন যুদ্ধ বর্তমানে চতুর্থ বছরে পদার্পণ করেছে। দেশটির মানুষের জন্য ভয়াবহ এক পরিণতি ডেকে আনার পাশাপাশি অচলাবস্থা তৈরি করেছে এই যুদ্ধ। গত বছরের জুনে কাতারকে পায়ের তলায় টেনে নিয়ে আসার যে পরিকল্পনা নিয়ে দেশটির ওপর সৌদি নেতৃত্বাধীন কয়েকটি দেশ অবরোধ আরোপ করেছিল, তাও ধোপে টেকেনি।

আমিরাতের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদের কর্মকাণ্ডকে হালকা সফল হিসেবে দেখা যেতে পারে। ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে দেশটির বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে আরব আমিরাত। যা দক্ষিণ ইয়েমেনের রাজধানী খ্যাত বাণিজ্যিক বন্দর এডেনের মূল অংশের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। এডেন ইয়েমেনের স্বাধীন ভূখণ্ড হলেও এটি এখন আমিরাতের নিজস্ব বন্দরে পরিণত হয়েছে।

কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের বিরোধিতা করে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর চাপ প্রয়োগ করলেও তা সামলাতে সক্ষম হয় সৌদি ও আমিরাত।

গত বছরের ডিসেম্বরে সৌদি আরবের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্যে নেয়া পদক্ষেপের সঙ্গে তাল মেলানোর চেষ্টা চালায় আমিরাতের যুবরাজও। কিন্তু এমবিজেডের এই পদক্ষেপ বেশি মনযোগ কাড়তে পারেনি। সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের স্বাক্ষরিত ‘সমাধান কৌশল’ নামে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তিকে যুবরাজ এমবিজেড ‘এক ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

সেই সময় আমিরাতের এই যুবরাজ বলেন, ‘আমরা আরবের দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ সর্বাধুনিক সামরিক বাহিনী গঠন করছি।’ কুয়েতে অনুষ্ঠিত উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) বৈঠকে দেয়া ঘোষণার মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে সাহসী পদক্ষেপ। ১৯৮১ সালে গঠিত জিসিসির একমাত্র জীবিত প্রতিষ্ঠাতা কুয়েতের আমির কাতারের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর সম্পর্ক পুনরায় স্থাপনে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালান।

পরস্পর বিপরীতমুখী ও দাম্ভিকতাপূর্ণ অবস্থানে থাকা অন্য পাঁচ সদস্যের সেই বিরোধ মেটানোর কোনো পদক্ষেপ নেননি আমিরাতের যুবরাজ এমবিজেড। সদস্য দেশগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করার মতো ক্ষমতা আছে তার। গত বছরের জুনে সৌদি আরবের সঙ্গে সুর মিলিয়ে খুব দ্রুতই ৪৪টি প্রকল্পের ঘোষণা দেন তিনি। নিজ দেশের রাজধানী আবুধাবি এড়িয়ে যৌথ সমন্বয় পরিষদ নামের এক বৈঠকও করেন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে। বৈঠকে এমবিএস সভাপতি এবং এমবিজেড সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। আর এই বৈঠকে আমিরাতের যে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন; তারা সবাই ক্ষমতাসীন এমবিজেড পরিবারের সদস্য।

কিন্তু আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। ২০১৪ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট (এমবিজেডের বড় ভাই) হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই আমিরাতের ডি ফ্যাক্টো প্রেসিডেন্টে পরিণত হয়েছেন এমবিজেড।

বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সমন্বিত রূপকৌশল, মেডিক্যাল স্টকের জন্য যৌথ পরিকল্পনা, সাধারণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তেল, গ্যাস এবং পেট্রোকেমিক্যাল খাতে বিনিয়োগ ও যৌথ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সময় নির্ধারণ করা হয়। ব্যবসায়িক বিশ্বে এসব কৌশলকে বিপরীতমুখী ব্যবস্থা হিসেবে মনে করা হয়।

আবু ধাবির চতুর এবং অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি লাইন চুরি করে সৌদির সঙ্গে এই চুক্তিকে ‘শতাব্দির সেরা চুক্তি’ বলে অভিহিত করেন। যেখানে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সৌদি আরবের জিডিপির পরিমাণ ছিল ৬৭৮.৫ বিলিয়ন ডলার, এই সময়ে আমিরাতের জিডিপি সৌদির অর্ধেকের একটু বেশি; সৌদি আরবের বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণের রিজার্ভের পরিমাণ ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, অন্যদিকে আমিরাতের ৯০ বিলিয়ন ডলারেরও কম; সৌদি আরবের রাজস্ব ১৭১.৬ বিলিয়ন ডলার, আমিরাতের মাত্র ৮৩.৪ বিলিয়ন ডলার।

একই অর্থনৈতিক কৌশলের দিকে যৌথভাবে অগ্রসর হলেও বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা থেকে নিজেকে আমিরাতের যুবরাজ আড়াল করতে পারলেও রেহাই পাননি সৌদি যুবরাজ। ইয়েমেন যুদ্ধের কথা বলা যেতে পারে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আমিরাতের সেনাবাহিনী বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হলেও বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দায়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার মুখে পড়ে সৌদি আরব।

বিশ্বে সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে থাকা ইয়েমেনের জনগোষ্ঠীর কাছে ওষুধ এবং খাদ্যসামগ্রী সরবরাহে বাধা দেয়ার দায়েও অভিযুক্ত সৌদি। হুথি বিদ্রোহীদের দমনের নামে ইয়েমেনে প্রথম হামলাও চালায় এই সৌদি। যদিও হুথিদের দমনে সফলতার মুখ দেখতে পারেনি রিয়াদ।

বর্তমানে সাংবাদিক জামাল খাশোগি খুনের ঘটনা নিয়ে চলমান সঙ্কটের মাঝেও ইয়েমেনে বোমা হামলা বন্ধ করতে সৌদি আরবের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ৩১ অক্টোবর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িত সব পক্ষকে পরবর্তী এক মাসের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু এর মাত্র একমাস আগেও সৌদি আরবের প্রতি ওয়াশিংটনের পূর্ণ সমর্থন আছে বলে জানিয়েছিলেন এই পম্পেও।

সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি আরবকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ সহায়তা বন্ধ করতে প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছেন মার্কিন সিনেটর ও কংগ্রেসের সদস্যরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সহায়তা বন্ধের হুমকির পাশাপাশি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টাও করেছেন।

কিন্তু মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের কথা চিন্তা করেন, তখন মোহাম্মদ বিন জায়েদের কথা আসলেই মাথায় আনেন না। আর এই বিষয়টিই আবু ধাবির প্রিন্সকে রেখেছে সুন্দর। বিশ্ব পরিমণ্ডলে খ্যাতির প্রত্যাশী ও অহঙ্কারী হিসেবে পরিচিত সৌদি যুবরাজের সঙ্গে চলতে পেরেই তিনি খুশী।

এমবিএসের ছত্রচ্ছায়ায় থেকেই মোহাম্মদ বিন জায়েদ তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জায়েদের এই সহযোগী এখন বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছেন। হত্যার নৃশংসতা, আড়াল করার আনাড়ি অপচেষ্টায় বিশ্ব পরিমণ্ডলে অনেকেই মনে করেন, সৌদি যুবরাজের নির্দেশেই খাশোগি খুন হয়েছেন; যা যুবরাজের অবস্থানকে অত্যন্ত দুর্বল করে তুলেছে।

যুবরাজের চাচা ও সৌদি বাদশাহ সালমানের একমাত্র জীবিত ভাই আহমদ বিন আব্দুল আজিজ লন্ডন থেকে রিয়াদে ফিরেছেন। গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে যে, এমবিএসকে সরিয়ে নতুন যুবরাজ নিয়োগ দেয়া হতে পারে। যদিও এটি একটি অসম্ভব দৃশ্যকল্প। আহমদ বিন আব্দুল আজিজের বয়স ৭০ ছাড়িয়ে গেছে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতায় আসার পর বাদশাহর এই ভাই অধিকাংশ সময় লন্ডনে কাটিয়েছেন। বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে এখন তিনি রাজপরিবারে ভূমিকা রাখা ছাড়াও যুবরাজ এমবিএসের কর্মকাণ্ডেও লাগাম টানতে পারেন।
মোহাম্মদ বিন সালমান এবারে টিকে যাবেন কি-না সেটি প্রচুর বিতর্কের বিষয়। তবে বিবিসির সাবেক সাংবাদিক, আলজাজিরার কন্ট্রিবিউটর ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক বিল ল’র মতে, ‘আমি বাজি ধরে বলছি যে, যুবরাজ টিকে যাবেন। তবে তার যে আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও দেশের ভেতরে ক্ষমতা ছিল তাতে মারাত্মক ভাটা পড়বে। এটি এমবিজেডের জন্যও দুশ্চিন্তার। তিনি মোহাম্মাদ বিন সালমানের পেছনে অনেক বিনিয়োগ করেছেন। আর সৌদি এই যুবরাজ ইয়েমেন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে তার উচ্চাকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে সামনে থেকে খেলছেন।

এখন সামনে থেকে খেলে যাওয়া এই যুবরাজ দুর্বৃত্তপনা-মূলক কাজে জড়িয়েছেন; যা তাকে নিয়ে বৈশ্বিক ভাবনার পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু স্বল্প মেয়াদে আমিরাতের যুবরাজ কীভাবে তার কার্ড খেলেন; সেটিই দেখা বেশ মজার হবে। তিনি যদি এখন এমবিএসের সঙ্গে সম্পর্কের মাত্রা কমিয়ে আনেন, তবে এখান থেকে একটি বার্তা পাওয়া যাবে যে, সৌদি যুবরাজ সত্যিই ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।
সূত্র : আলজাজিরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করছে আসিয়ান

অনলাইন ডেস্ক: বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সরেজমিন দেখতে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালা কৃষ্ণণ তুমব্র“ সীমান্তের নোম্যান্স পরিদর্শন করেন এবং সেখানে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
রোববার দুপুর ২টার দিকে তুমব্র“ সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ড পরিদর্শনকালে তিনি রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন দাবির কথা শোনেন।
রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ সাংবাদিকদের জানান, তাদের কাছে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালা কৃষ্ণণ মিয়ানমারে চলে যাবে কিনা জানতে চাইলে তারা কয়েকটি দাবি-দাওয়া দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- রোহিঙ্গাদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে?

ফেলে আসা বসতভিটা ফেরত দিতে হবে, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং নাগরিক অধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করছে আসিয়ান। তাই রোহিঙ্গাদের এসব দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আসিয়ান মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করবে বলে আশ্বস্ত করে রোহিঙ্গাদের। সেখান থেকে ভিভিয়ান বালা কৃষ্ণণ উখিয়ার থাইংখালী হাকিমপাড়া, ময়নারঘোনা এবং লম্বাশিয়া ক্যাম্প ঘুরে বিকালে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালামসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। শনিবার রাতে ঢাকায় পৌঁছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মাহমুদ আলীর দেয়া নৈশভোজে অংশ নেন সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান কী ভূমিকা রাখতে পারে তা নির্ধারণ করতে সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পাশাপাশি মিয়ানমারও সফর করবেন। মিয়ানমার সফরে তার সঙ্গে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও থাকতে পারেন। দুই মন্ত্রী আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় আসিয়ান সম্মেলনে তাদের মতামত তুলে ধরবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মার্কিন নির্বাচন মঙ্গলবার

বিদেশের খবর: আর একদিন পরেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে। এটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নয়। তার পরেও ট্রাম্পের জন্য এ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংসদে অভিশংসনের তোপে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম ও নারী প্রার্থী থাকায় বিশ্ববাসীর আগ্রহ একটু বেশি।

আগামীকাল মঙ্গলবারের নির্বাচনে লড়ছেন প্রায় ১০০ মুসলিম প্রার্থী। ২০১৬ সালের চেয়ে এ সংখ্যা ছয় গুণ বেশি। ক্ষমতায় বসেই মুসলিমদের প্রতি রোষানল, টুইটারে বিষোদগার ও মুসলিম শরণার্থীদের প্রতি ট্রাম্পের উগ্র-বাক্যবিলাপের কারণেই মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিমদের অংশগ্রহণ বাড়ছে- পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর এমনটাই দাবি।

বিপুলসংখ্যক মুসলিমদের রাজনীতিতে পা রাখার পেছনে ট্রাম্পের মুসলিমবিরোধী উত্তপ্ত বক্তব্যকেই দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest