কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটায় কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা হল রুমে বুধবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় উপজেলাধীন হাইস্কুল, মাদ্্রাসা ও কলেজের প্রধানদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজ-আল আসাদের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হাই এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন হাজী কেয়ামউদ্দীন মেমোরিয়াল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো.আবুল কালাম, সহকারী অধ্যাপক মো.আকবর আলী, একাডেমিক সুপার ভাইজার মো. মিজানুর রহমান, অধ্যক্ষ মাওলানা মো.আব্দুস সালাম, প্রধান শিক্ষক মো. ইমাদুল হক, প্রধান শিক্ষক মো.আব্দুল জব্বার, প্রধান শিক্ষক মো.এনামুল হক বাবলু,প্রধান শিক্ষক মদন মোহন পাল, সুপার মো. আব্দুল খালেক প্রমূখ।
সমন্বয় সভায় জঙ্গীবাদ, বাল্য বিবাহ, ইফটিজিং প্রতিরোধে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন, ক্লাস রুটিংয়ে এম.এম.সি. ক্লাস মার্কিং করে রুটিনের কপি ইউএনও মহোদয়কে প্রেরণ, এ.টু.আই. এর অধীনে সরকারের ফেসবুক পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন গ্রুপ পেজে লাইক দিয়ে এড হওয়া, উপজেলা ফেসবুক আইডির সাথে সকল প্রতিষ্ঠানের যুক্ত হওয়া, অভ্যন্তরীণ সকল পরীক্ষায় স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানকর্তৃক সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা, প্রথম ধাপে ৪ থেকে ৯ নভেম্বর প্রাথামিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের এবং দ্বিতীয় ধাপে ১৬ থেকে ২৩ নভেম্বর মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষার্থীদের কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ানো,আসন্ন জে.এস.সি/জে.ডি.সি/পি.এস.সি. বা সামনের সকল পাবলিক পরীক্ষা নকলমুক্ত ও সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়াসহ নানা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এদিকে একই স্থানে বিকাল সোয়া ৫ টায় দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কোচিং বাণিজ্য বন্ধ উপজেলা কমিটির সভাপতি হাফিজ-আল আসাদ এর সভাপতিত্বে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেবহাটা উপজেলাকে কোচিং বাণিজ্য মুক্ত রাখার লক্ষে গঠিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো.আব্দুল হাই এর পরিচালনায় ঐতিহাসিক অত্র সভায় কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে প্রথম সভায় উপস্তিত ছিলেন হাজী কেয়ামউদ্দীন মেমোরিয়াল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো.আবুল কালাম, খানবাহাদুর আহছানউল্লা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো.মনিরুজ্জামান (মহসিন), কোমরপুর মাদ্্রাসার সুপার মো.আব্দুল খালেক, দেবহাটা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মদন মোহন পাল, বহেরা এ.টি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.ইমাদুল হক, বহেরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বিভূতি ভূষণ দত্ত প্রমূখ। সভায় অতিদ্রুত উপজেলার মধ্যে সকল ধরণের কোচিং বাণিজ্য বন্ধের লক্ষে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষকের তালিকা প্রণয়নের সিন্ধান্ত গৃহীত হয়।

কিন্তু একের পর এক এধরনের নগ্নতা ও জুয়ার আসর বসাচ্ছে একই চক্র। মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের কারণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তারা চুপ থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের পিরুজপুর নতুন চর আর্দশ গ্রামের মাঠে চলছে চরম অশ্লীল নগ্ন নৃত্য ও প্রকাশ্য রমরমা জুয়ার আসর। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক বশির আহমেদ সরেজমিন গিয়ে দেখতে পেয়েছেন অর্ধনগ্ন বিকৃত নৃত্য ও প্রকাশ্য জুয়ার বোর্ড বসেছে সেখানে। আর্দশ গ্রামের মাঠ দখল করে চলছে এসব অপকর্ম। আর দেখেও না দেখার ভান করছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই। গত তিন দিন ধরে চলছে এসব রমরমা অবৈধ বেলেল্লাপনা। আশাশুনি উপজেলায় অশ্লীল নৃত্য ও জুয়া এখন সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাদের দায়িত্ব এগুলোর আয়োজনকারীদের আইনের আওতায় আনা তাদের অনেককেই গভীর রাতে এসব নগ্নতা উপভোগ করতেও দেখা যায়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের পিরুজপুর আর্দশ গ্রামের মাঠে যাত্রা শো এর নাম করে ১০০ থেকে ৫০০টাকা টিকিটের বিনিময়ে দর্শকদেরকে ভিতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। কিন্তু ভিতরে প্রবেশ করে দেখা গেছে স্টেজে চলছে কয়েকজন স্থুলকায় তরুণীর অশ্লীল পোশাকে নগ্ন নৃত্য। এভাবে প্রতিদিন চলছে সারা রাতব্যাপী একটি শো। আর স্টেজের পাশেই সাজানো হয়েছে রমরমা জুয়ার আসর। নগ্ন নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে পাতানো জুয়ার আসরের ফাঁদে পকেট কেটে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এদিকে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, শুধু উৎসবের আড়ালে নয় উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে প্রতিদিনই গোপনে বসছে জুয়ার আসর। এসকল আসরে সবকিছু হারিয়ে নিঃশ্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ আর লাভবান হচ্ছে বোর্ড মালিক ও আয়োজকরা। স্টেজে চলছে নগ্ন নৃত্য আর স্টেজের পিছনে দেহব্যবসার মত জঘন্য কারবার চলছে এমনটি অবশ্য দাবি মেলা মাঠের অনেকেরই।