নিজস্ব প্রতিবেদক: মিলন পাল। বহুল আলোচিত নাম। মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে কোটিপতি বনে যাওয়া মিলন পাল। কিছুদিন আগেও যাকে দেখা গেছে শহরের খান মার্কেটের উপরতলায় জুয়েলারি দোকানে কর্মকারের কাজ করতে। সেই মিলন, এখন পুলিশের খাঁচায়।
পুলিশ বলছে তাকে সোনা চোরাচালানের মামলায় তুলে আনা হয়েছে। এখন জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ খবর শনিবার রাত সাড়ে ৮ টার।
মিলন মাগুরার কুখ্যাত চোরাচালানি জাহাঙ্গীরের বাড়ি প্রাপ্য টাকা মুলে কিনে নিয়েছে দেড় কোটি টাকায়। সেই বাগান বাড়ির ওপর তলায় এক মহিলা সাংসদপুত্রসহ কয়েক মদ্যপ সাঙ্গপাঙ্গর সাথে শনিবার সন্ধ্যায় আড্ডা মারছিল। এ সময় পুলিশ বাগানবাড়ির নিচতলায় যেয়ে তাকে ডাক দেয় দেয়। মিলন নিচে নেমে আসে। এরপর তাকে তুলে আনা হয় থানায়। এ অবস্থা দেখে তার সাঙ্গপাঙ্গরা পালিয়ে গেছে বাগানবাড়ি থেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান, তার বাগানবাড়িতে সব সময় বিভিন্ন স্থান থেকে কলগার্ল এনে ফুর্তি করা হয়। হাইফাই লাক্সারি গাড়ি যোগে কলগার্লসহ প্রাায় সময় তাকে ওই বাগান বাড়িতে ঢুকতে দেখা যায়। সব সময় ওর মধ্যে লিলা খেলা চলছেই। খুব অল্প সময়ে কোটিপতি হওয়ায় মাগুরা এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি পরিচিতি লাভ করেছেন। প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না। তারা আরো জানান, তার সাথে জেলার আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদ্য বদলি হওয়া একজন উচ্চপদস্থ কর্মতাসহ কিছু অসাধু লোকজনের সখ্যতা থাকার কারণে তিনি কাউকে পরোয়া করেন না। তার কাছ থেকে তারা অবৈধ সুযোগ সুবিধাও নিয়ে থাকেন।
পুলিশ বলছে শুক্রবার সাতক্ষীরার তলুইগাছা সীমান্তে ১৬ কেজিরও বেশি সোনা ভারতে পাচারকালে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি। এই সোনার সাথে জড়িত ধুরন্ধর স্মাগলার মিলন পাল নিজেও, এমন অভিযোগ পুলিশের কাছে। সেই সাথে আরও জানা গেছে জব্দ হওয়া সোনার সাথে জুড়ে রয়েছে বাঁশদহার চোরাঘাট মালিক সোনা চোরাচালানি নাজমুল হোসেন, তলুইগাছার গোল্ড হাসান, বাঁশদহার এক জাতীয় পার্টি নেতা এবং একজন এপিপি। এদের নেপথ্য নায়ক মিলন পাল বলেও খবর পাওয়া গেছে। এর আগে শুক্রবার সোনাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার হওয়া কেড়াগাছি চারাবটতলার আলিউজ্জামান বিজিবিকে জানিয়েছিল এই সোনার নেপথ্যে আরও তিনজন মহিদুল মেম্বর, রুস্তম ও ফিরোজের নাম। তদন্ত করলে এ বিষয়ে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে।
মিলন পালের বাবার নাম দেবদাস পাল। যশোরের কেশবপুরে তার আদি বাড়ি। কয়েকবছর আগে সে সাধারণ জুয়েলারি কর্মচারী হিসাবে কর্মকারের কাজ করতো। এর মধ্য থেকেই সে হয়ে ওঠে একজন হুন্ডি ব্যবসায়ী। ভারতীয় গরুর খাটাল বাণিজ্যেও নেমে পড়ে মিলন। সাম্প্রতিককালে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে যে গরু বাংলাদেশে আসতো তার মূল্য মেটাতো মিলন পাল। গরু ব্যবসায়ীরা তার কাছে টাকা দিতো। আর মিলন সেই টাকায় সোনা কিনে তা পাঠাতো ভারতে গরু বিক্রেতাদের কাছে। এভাবেই সে বড় ধরনের সোনা চোরাচালানি হিসাবে পরিচিতি লাভ করে।
বছর খানেক আগে মাগুরা জেলা পুলিশ সাতক্ষীরামুখী একটি নৈশ কোচ থেকে আট কেজি সোনাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে। তারা জানিয়েছিল এই সোনার মালিক সাতক্ষীরার দাদু। সেই দাদুকে খুঁজতে মাগুরা পুলিশ সাতক্ষীরায় এসেছিল। কিন্তু দাদুকে আর ধরতে পারেনি। সে সময় প্রচার লাভ করেছিল এই দাদু আর কেউ নয় মিলনের টেক নাম দাদু। মিলন ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। জেলাব্যাপী ব্যাপক প্রচার রয়েছে তৎকালীন জেলার আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা শীর্ষ কর্মকর্তা যিনি সদ্য বদলি হয়ে গেছেন, তার প্রভাবে মিলন ধরাকে সরা জ্ঞান করে এতদিন চুটিয়ে সকল প্রকার চোরাকারবারী কাজ চালিয়ে এসেছে।
সাতক্ষীরার পদ্মশাকরা গ্রামের গরু ব্যবসায়ী সাহেব আলিকে গত রোজার মাসে বাড়ি থেকে তুলে আনে মিলন বাহিনী। তারপর এক এমপিপুত্র তাকে লোহার রড দিয়ে পেটায়। পরে তার কাছ থেকে মিলন পাঁচ লাখ টাকার একটি চেক স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। মিলন সে সময় জানিয়েছিল সে সাহেব আলির কাছে ব্যবসায়ীক টাকা পাবে। আর সাহেব আলি বলেন তার কাছে ৩৯ হাজার টাকা পেতো মিলন। সে টাকা দিতে বিলম্ব হচ্ছিল গরুর ব্যবসা না থাকায়। তাই তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। পাঁচ লাখ টাকার চেকে জোর করে সই করিয়ে নেয়। সাহেব আলি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। থানায় মামলাও জমা দেন। কিন্তু ধুরন্ধর স্মাগলার মিলন ও মহিলা এমপি পুত্রের প্রভাব এতো বেশি ছিল পুলিশের ওপর, যে সে মামলাটি আর রেকর্ড পর্যন্ত হয়নি।
মিলন এখন ইটভাটা মালিক। বেনেরপোতায় তৈরি করেছে একটি ইটভাটা। শহরের সুলতানপুর সাহাপাড়ায় বহুতল আলিশান বাড়ি তৈরি করেছে মিলন। মিশন প্রাইমারি স্কুলের পশ্চিম পার্শ্বে জমিও কিনেছে সে। এক নারীর সাথে অনৈতিক মেলামেশার কারণে ক্ষুব্ধ মিলনের স্ত্রী কুমিরার শম্পা পাল কিছুদিন আগে কীটনাশক খেয়েছিলেন। তিনি প্রাণে বেঁেচে গেলেও স্বামীর ঘরে এখনও ফিরে আসেননি। শারীরিকভাবে অসুস্থও তিনি। মিলন পালের একটি মাইক্রো ও একটি প্রাইভেট কার রয়েছে। তা ব্যবহৃত হয় স্মাগলিংয়ের কাজে। আর তার বাহিনীর মাস্তানি সার্ভিসে।

জি.এম আবুল হোসাইন : সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সদর উপজেলা রেডকার্ড টিমের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’র কারিগরি সহায়তায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সাতক্ষীরা সদর উপজেলাকে বাল্য বিবাহমুক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। শিক্ষায় প্রথম- বাল্যবিবাহকে লালকার্ড, ‘নিশ্চিত করবো সকল শিশুর শিক্ষার সুযোগ, সকলে মিলে গড়বো মোরা বাল্য বিবাহমুক্ত সাতক্ষীরা সদর এই স্লোগানে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ আব্দুল সাদী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুস সামাদ। প্রধান অতিথি বলেন, বাল্য বিবাহ সমাজের এক ব্যাধী। সকলে মিলে এই ব্যাধী দূর করতে হবে। সমাজকে বাল্যবিবাহ মুক্ত করে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি এবিষয়ে সকলকে সচেতন হওয়ার আহব্বান জানান। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম আরিফুল হক, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আসাদুজ্জামান বাবু, পৌর মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. আব্দুল মুজিদ প্রমুখ। এছাড়া সদরের ১৪টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, সচিব, বিবাহ রেজিস্টার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অবিভাবক ও সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে রক্ষা পাওয়া ১২ জন শিশু শিক্ষার্থীকে প্রত্যকের ৫ হাজার টাকা ও ১ শত ৫ জনকে ৩ হাজার
টাকা হারে এককালীন উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহের উপর একটি নাটিকা মঞ্চস্থ করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা বাপসা’র সাধারণ সম্পাদক ও ভোমরা ইউপি সচিব কাঞ্চন কুমার দে। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুস সামাদ সহ অতিথিবৃন্দ বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে “বাল্যবিবাহমুক্ত সাতক্ষীরা সদর উপজেলা”র আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা জেলা ক্রাইম রিপোটার্স ক্লাবের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে শহরের পলাশপোল এলাকায় ক্লাবটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহবায়ক কমিটির আহবায়ক সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াজেদ কচি সভায় সভাপত্বি করেন। উপস্থিত সকলের সর্ব সম্মতিক্রমে পরে আহবায়ক কমিটির আহবায়ক আগামী দুই বছরের জন্য গঠিত কমিটির নাম ঘোষণা করেন। কমিটিতে, বাংলাভিশন টিভি চ্যানেল ও দৈনিক বাংলাদেশ সময়ের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান আসাদকে সভাপতি ও দৈনিক ভোরের পাতা পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এস এম মহিদার রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন যথাক্রমে, সহ-সভাপতি দৈনিক ইনকিলাবের জেলা প্রতিনিধি আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, দি বাংলাদেশ টু ডে ও দৈনিক ঢাকার ডাক পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এম আর মধু, সহ-সাধারণ সম্পাদক দৈনিক প্রবর্তনের জেলা প্রতিনিধি স. ম. মশিউর রহমান ফিরোজ, দৈনিক নওয়াপাড়ার জেলা প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক দৈনিক অনির্বানের জেলা প্রতিনিধি জি. এম সোহরাব হোসেন, অর্থ সম্পাদক দৈনিক সাতক্ষীরা সংবাদ ডট কম’র সম্পাদক আবিদুল হক মুন্না, দপ্তর সম্পাদক দৈনিক জন্মভূমির জেলা প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম, শিক্ষা ও জনকল্যাণ সম্পাদক দ্য ডেইলী পিপলস টাইম পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি খন্দকার আনিসুর রহমান, কার্যকরী সদস্যরা হলেন যথাক্রমে, দৈনিক করাতোয়া ও বাংলার খবরের জেলা প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক সেলিম রেজা মুকুল, দৈনিক কাফেলার চিফ রিপোর্টার এম ঈদুজ্জামান ইদ্রিস, দৈনিক যুগের বার্তার সহ-সম্পাদক প্রভাষক রজব আলী, দৈনিক তথ্য ও বিডি খবরের জেলা প্রতিনিধি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম শাওন।
অপ্রতিম: কামড়ে প্রাণ হারালেন এক কিশোর। মাত্র ১৭ বছরের ছেলেটি সহ্য করতে পারলেন না ২৪ বছরের বান্ধবীর আদুরে-কামড়।


