সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরা মেডিকেলের শিশু ওয়ার্ডে টাকা ছাড়া মেলে না ছাড়পত্রতালায় জুয়েলারি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি : ২৩ লাখ টাকার মালামাল লুটের দাবিশ্যামনগরে ১৫ পরিবার পেল ছাগল, ১৫ পরিবার পেল সেলাই মেশিনটেকসই বেড়িবাঁধ ও চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর২৪ ঘণ্টা পার হলেও উদ্ধার হয়নি সাতক্ষীরার নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র ইব্রাহিমআশাশুনিতে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙেছে ৫টি ঘর, চরম দুর্ভোগে ক্ষতিগ্রস্তরামুন্সিগঞ্জ আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে অসহায় মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ায় মানববন্ধনসাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনাসাতক্ষীরায় কৃষকের ছেলে সহকারী সিভিল জজ, আনন্দে ভাসছে পরিবার ও গ্রামঝাউডাঙ্গা কলেজে একাদশ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ

খুলনা ব্যুরো :
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (খুকৃবি) শিক্ষক সমিতির আয়োজনে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে সামগ্রিক কৃষি জ্ঞান’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. শামসুল আলম ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান রক্ষার ওপর আরো জোর দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার সিলেবাস যেন সমসাময়িক বিশ্বের চাহিদাভিত্তিক হয় সে বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পেশাগত ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে দেশে কৃষি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এখন শিক্ষার মান অর্জনের চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে নতুন ধারণার জন্ম হয়। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বৈজ্ঞানিক সম্মেলন তরুণ গবেষক সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ভিশন-২০২১ অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ দৃশ্যমান । দেশের প্রায় শতভাগ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া৭৭ শতাংশের বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ২৫ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধি এখন ৭ শতাংশের কাছাকাছি। দেশের মানুষের দারিদ্র্য নিরসন, ক্ষুধামুক্তি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বর্তমান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা খুবই জরুরি।

খুকৃবির ট্রেজারার প্রফেসর সারোয়ার আকরাম আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ড. মুহাম্মদ আলমগীর। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল কাসেম চৌধুরী। কনফারেন্সে স্বাগত জানান খুকৃবির শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. তাসলিম হোসেন এবং ধন্যবাদ জানান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. এম এ হান্নান।

কনফারেন্সের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিয়ারিং ইনিস্টিউটের অধ্যাপক ড. মোঃ তোফাজ্জল ইসলাম। প্ল্যানারি সেশনে লেকচার উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহফুজুল হক। সম্মেলনে তিনটি আলাদা টেকনিক্যাল সেশন ও একটি পোস্টার সেশনে মোট ৪২টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

কনফারেন্সে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীসহ ৩০০ জন অংশ গ্রহণ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মৎস্যঘের অবৈধভাবে দখলের উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন, উপজেলা ভাড়াশিমলা গ্রামের শেখ আব্দুল কারিমের পুত্র ভুক্তভোগী শেখ মুনজুরুল ইসলাম।

তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, কালিগঞ্জের কামদেবপুর মৌজায় এস এ খতিয়ান ৩৪৫, এসএ দাগ নং ৬৩০, ৬৩১, ৬৩২, ৬৩৩,৬৩৪, ৬৩৫ সহ অন্যান্য দাগে ১৮ বিঘা খরিদা সম্পত্তিতে শান্তিপূর্ণভাবে মৎস্যঘের পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। কিন্তু সম্প্রতি একই এলাকার মৃত মোতালেব আলীর পুত্র রমজান আলীসহ তার সহযোগিরা উক্ত মৎস্য থেকে আমাকে উচ্ছেদের চক্রান্ত শুরু করে। এরই জের ধরে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানিসহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। গত ইং ১ ডিসেম্বর ২২ তারিখে সাতক্ষীরা সাব জজ ২য় আদালতে দেওয়ানি ৩০/২০২২ মামলায় বিজ্ঞ আদালত বিবাদীদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর আদেশ দেন।

আমি বিজ্ঞ আদালতের আদেশের বিষয়টি কালিগঞ্জের প্রশাসনকে অবগত করানোসহ আদালতের কপি জমা দেই। কিন্তু তারপরও আদালতের আদেশ অমান্য করে বিবাদীদের দ্বারা আদৃষ্ট হয়ে আমার কামদেবপুর মৌজায় মৎস্য ঘেরে অভিযান চালিয়ে আমার ঘেরের লোকজনদের তাড়িয়ে দিয়ে আমাদের মৎস্যঘেরের বাসা ভাংচুর এবং মৎস্য লুটপাটে সহযোগিতা করে প্রশাসন। সে সময় আমি শারিরীকভাবে অসুস্থ্য থাকার কারনে কালিগঞ্জ থানায় চিকিৎসার জন্য ভর্তি থাকি। পরবর্তীতে সুস্থ্য হয়ে কালিগঞ্জ থানায় এজাহার জমা দিলেও উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা আমাদের এজাহারটি এখনও পর্যন্ত গ্রহণ করেনি। তাছাড়া কালিগঞ্জের প্রশাসন আমাদের ঘেরের লোকজনদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এরপর রমজান আলীসহ তার সহযোগিরা মৎস্যঘেরে থাকা প্রায় ১০লক্ষাধিক টাকার মাছ জাল টেনে ধরে নিয়ে গেছে। আমরা বার বার আদালতের বিষয়টি অবগত করিয়ে ব্যর্থ হয়েছি।

কালিগঞ্জ প্রশাসন আদালতের নির্দেশ অমান্য করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমরা গোপনে জানতে পেরেছি উল্লেখিত অবৈধ দখলদার রমজান আলীসহ তার সহযোগিরা বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করতে পারে। অথচ রমজান আলীসহ তার সহযোগিরা আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমার মৎস্যঘের থেকে বিতাড়িত করেছে। সংবাদ সম্মেলন তিনি এ সময় আদালতের নির্দেশ অমান্যকারী রমজান আলীসহ তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরা জেলার মানবাধিকার পরিস্থিতি-২০২২ প্রতিবেদন মূল্যায়ন শীর্ষক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিএসও এইচআরডি কোয়ালিয়শনের উদ্যোগে ইউএনডিপি-এইচআরপির সহযোগিতায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এইচআরপি কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সকাল ১০টায় শহরের কাটিয়া খামারবাড়ি মিলনায়তনে উক্ত ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তারা বলেন, দেশের রাজনীতিবিদদের নির্ল্পিপ্ততা, অসচেনতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সময়ে মানবাধিকার লংঘন, যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া না মেনে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় আটক রাখা এবং সমাজে ভয়ের সংস্কৃতির প্রভাবে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি ব্যাহত হচ্ছে। সরকার ও বেসরকারি পর্যায় থেকে মানুষের অধিকার রক্ষা, মানবাধিকার সুরক্ষা ও মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ে যথেষ্ট কাজ হচ্ছে। তারপরও মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতিতে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। অতিসম্প্রতি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি আদিবাসী মুন্ডা সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখল করতে যেয়ে সেখানে নরেন্দ্রনাথ মুন্ডা নামের এক প্রবীণ আদিবাসীকে হত্যা এবং ওই জনপদের বেশ কয়েকজন নারীকে মারপিট করে মারাত্মক জখম করেছে এলাকার প্রভাবশালীরা। এই হত্যাকান্ডের মামলা এখন বিচারাধীন। তবে, এরই মধ্যে প্রভাবশালীদের চাপে এলাকায় তারা ভয়ে দিন কাটাচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নরেন্দ্রনাথ মুন্ডা হত্যাকান্ডের মেডিকেল রিপোর্টে হার্ট অ্যাটার্কের কথা বলা হয়েছে।

যা তাদের মনে সংশয় সৃষ্টি করেছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হঠাৎ সাধারণ মানুষকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে এসব মানুষকে তারা কয়েক দিন আটক রেখে আর্থিক সুবিধা দিতে চাপ দিচ্ছে। অর্থ দিতে না পারলে অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন মামলা দিয়ে আদালতে পাঠাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ও দেশিয় আইন অনুযায়ী কাউকে ২৪ ঘন্টার বেশি আটক রাখা যাবে না। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আদালতে সোপর্দ করতে হবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই আইনের চরম লংঘনের ঘটনা ঘটছে। বক্তারা আরো বলেন, সাতক্ষীরা জেলা উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় এখানে নিয়মিত প্রাকৃতিক দূর্যোগের সাথে মোকাবেলা করে মানুষকে টিকে থাকতে হয়। বিভিন্ন সুযোগে এ জেলার প্রভাবশালীরা উপকূল রক্ষা বাঁধ কেটে লোনা পানি ফসলের জমিতে ঢুকিয়ে চিংড়ি চাষ করছে। এতে ধারাবাহিকভাবে মানুষের মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষের মৌলিক অধিকার, বঞ্চিত হচ্ছে দরিদ্র মানুষ তাদের জীবন-জীবিকা থেকে। কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করে প্রভাবশালীরা পরিবেশ দূষণ ও মানবাধিকার লংঘন করছে। এসব প্রতিরোধে প্রথমে রাজনীতিবিদদের এগিয়ে আসতে হবে, তাদেরকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কৃষি জমিতে কৃষকের অধিকার, জলাশয়ে মৎস্যজীবি ও জেলেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা বিষয়ক কথাও বলেন তারা। ওয়ার্কশপে মানবাধিকার সুরক্ষায় বিচারের দীর্ঘসূতির অবসান, বিচার প্রার্থীর সহযোগিতা, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া, জলবায়ু পরিবর্তজনিত সংকট, নারীর অধিকার উন্নয়ন ও নশ্চিত করা, শিশু অধিকার, লিঙ্গ বৈষম্য দূরিকরণ, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠির অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, প্রশানিকভাবে দূর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাক্ষেত্রে সকল পর্যায়ের মানুষের অভিগম্যতা নিশ্চিত, জলবায়ু উদ্বাস্তু মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়, আদিবাসী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, যৌন সংখ্যালঘু মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সিএসও কোয়ালিশন সাতক্ষীরার সদস্য সচিব মাধব চন্দ্র দত্তের সভাপতিত্বে ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি), সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. জামাল উদ্দীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আবদুল হামিদ, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, আশাশুনি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অসীম কুমার চক্রবর্তী প্রমুখ।

পাওয়ার পয়েন্টে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন উন্নয়নকর্মী ফারুক রহমান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিনিধি :
আজ ৭ ডিসেম্বর, সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালিত হলেও জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বীব মুক্তিযোদ্ধারা। এমনকি জেলা প্রশাসকের পাঠানো প্রতিনিধিকেও সভাপতিত্ব করতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া সাতক্ষীরা মুক্ত দিবসে কর্মসূচি পালনে জেলা প্রশাসনের উদাসিনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
দিবসটি উপলক্ষে র‌্যালী, আলোচনা সভা ও বঙ্গবন্ধুর মুরালে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে এ উপলক্ষে একটি বিজয় র‌্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (পদাধিকার বলে) ফতেমা তুজ-জোহরার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন মশু, সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মাহমুদ হাসান লাকী, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী আরিফুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমন্ডের সাধারণ সম্পাদক লাইলা পারভীন সেজুতি প্রমুখ। এসময় সেখানে সাতক্ষীরার বীর মুক্তিযোদ্ধাগন ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে আলোচনা সভা শেষে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও জেলা মুক্তিযোদ্ধ সংসদের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে ও শহরের খুলনা রোড মোড়ের অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর মুরালে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
বক্তারা বলেন, ১৯৭১সালের এই দিনে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্থানি বাহিনীকে হটিয়ে অবরুদ্ধ সাতক্ষীরাকে হানাদার মুক্ত করে স্বাধীন দেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন সাতক্ষীরার বীর সেনারা। বক্তারা এ সময় একজন মুক্তিযোদ্ধা যেই হোক না কেন তাকে যথাযথ সম্মান দেয়ার আহবান জানান।
তবে জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির আলোচনা সভায় না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
এবিষয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মাহমুদ হাসান লাকী বলেন, নির্বাচন না হওয়ায় পদাধিকারবলে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হিসেবে তার উপস্থিত থাকা ও সভাপতিত্ব করার কথা। জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন মশুকে বেলা সাড়ে এগারটার সময় জানিয়েছিলেন,তিনি আসবেন। অথচ তিনি আসলেননা। বিষয়টি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মনে কষ্ট দিয়েছে।
সভার প্রধান অতিথি সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি বলেন,অন্যান্য বার সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস যেভাবে জেলা প্রশাসন সাড়ম্বরে উদযাপনের উদ্যোগ নেয়,এবার তার ঘাটতি দেখেছি। আজকে জেলা প্রশাসক ছুটি না নিলেও পারতেন।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী আরিফুর রহমান বলেন,স্যার ছুটিতে আছেন বলে আমাকে যেতে বলেছিলেন। আমি সেই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :

তালার কুমিরায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসতবাড়ি এবং বাসন্তি মন্দির ভাংচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন, পাটকেলঘাটা থানার কুমিরাপূর্বপাড়া গ্রামের মৃত সুনিল কুমার দে’র পুত্র গৌতম কুমার দে।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, কুমিরা মৌজায় ১০২২ খতিয়ানে ৪১১৭, ৪১২১, ৪১১৯, ৪১৩৭, দাগে ৫.৭০ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলাম। উক্ত সম্পত্তিতে একটি পুরাতন বাসন্তি মন্দির রয়েছে। সম্প্রতি একই এলাকার মৃত জামাল উদ্দিন সরদারের পুত্র রেজাউল সরদার ও নজরুল সরদার গং উক্ত সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের ষড়যন্ত্র শুরু করে।

উক্ত সম্পত্তিতে বসত ভিটা এবং মন্দির থাকায় কালিগঞ্জ সহকারী জজ আদালতের অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পন ট্রাই: ৮১৬/২০১২ নং মামলায় গত ইং ০২ অক্টোবর ২২ তারিখের ডিক্রির কার্যকারিতা স্থগিত করে গত ২৩ নভেম্বর ২২ তারিখে আদেশ দেন অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পন আপীল ট্রাইব্যুনালের বিচারক। সে আদেশ উপেক্ষা করে গত ০২ ডিসেম্বর ২২ তারিখে বেলা ১১টার দিকে রেজাউল সরদারের নেতৃত্বে তার ভাই নজরুল সরদার, আনিছুর সরদার, হাফিজুর সরদার, নজরুল সরদারের পুত্র সুমন সরদার, মৃত সৈয়দ মোড়লের পুত্র জামাল মোড়ল, মৃত জামালের দুই স্ত্রী মোমেনা এবং রাশিদা বেগমসহ কতিপয় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের উক্ত সম্পত্তিতে প্রবেশ করে। বসতবাড়ি ভাংচুর করতে থাকে এক পর্যায়ে সেখানে থাকা বাসন্তি মন্দির ভাংচুর করে।

এতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা আমার কাকাতো ভাই কার্ত্তিক দে এবং মাতা কল্পনা দে কে মারপিট করতে থাকে। তাদের উদ্ধার করতে গেলে আমার স্ত্রী রিতা দে এবং বৌদি সুনিতা দে কেও মারপিট করে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এঘটনায় আমি বাদী হয়ে পাটকেলঘাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করি। মামলায় পুলিশ দুই আসামীকে গ্রেফতার করে। দুই আসামী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে মামলা তুলে নিতে অন্যান্য আসামীরা আমাদের খুন জখমসহ বিভিন্ন হুমকি ধামকি প্রদর্শণ করে যাচ্ছেন।

এমনকি সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে পত্রপত্রিকায় একটি ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। সেখানে পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে আসামীরা। অথচ পুলিশ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। উক্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আদালতের নির্দেশ অমান্যকারী আসামীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিনিধি :
শ্যামনগরের মুন্ডার সম্প্রদায়ের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের উদ্দেশ্যে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার ৭ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম) সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সভাপতি দিলিপ দাশ।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিভূতোষ রায়।

বক্তব্য রাখেন, দৈনিক প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যান ব্যানার্জি, দক্ষিন দক্ষিণে মশাল এর সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম. কামরুজ্জামান, গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক আলীনুর খান বাবুল, মানবাধিকার সাংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের সাতক্ষীরা জেলা নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব এড মুনির উদ্দীন, নাগরিক উদ্যোগ এর প্রকল্প সমন্বয়কারী মো: আব্দুল্লাহ আল ইশতিয়াক মাহমুদ প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম) সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক দুলাল চন্দ্র দাশ।

বক্তারা বলেন, শ্যামগনগরের মুন্সিগঞ্জের উত্তরকদমতালি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন অসিম মুন্ডার পরিবার। কিন্তু ৩ ডিসেম্বর সকালে অসিত মুন্ডা নিজ জমির ক্ষেতে কাজ করার সময় রশিদ গাজী অসিত মুন্ডাকে মারপিট করে। পরে দুপুরে পুনরায় রশিদ গাজীর নেতৃত্বে ছোটপুত্র আল হোসাইন খলিফা, স্ত্রী বেবী পারভীন তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে অসিতের বৃদ্ধা মাতা এবং তার স্ত্রী আরতী মুন্ডাকে মারপিট করে। একই দিন রাতে রশিদের পুত্র রাজা হোসাইনের নেতৃত্বে রশিদ গাজী, ছোটপুত্র আল হোসাইন, রাজা হোসাইনের স্ত্রী শারমিন দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে ঘরের মধ্যে থেকে বৃদ্ধা মাতা ও স্ত্রীকে টেনে বের করে বেধড়ক মারপিট করে। এতে অসীতসহ তার মাতা এবং স্ত্রী মারাত্মক জখম প্রাপ্ত হয়। এঘটনায় অসিত মুন্ডা একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় একজন আসামী গ্রেফতার হলেও বাকী আসামীরা পলাতক অবস্থায় বিভিন্ন হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে যাচ্ছেন।

বক্তারা আরো বলেন, বার বার কেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর এভাবে নগ্ন হামলা করা হয়। হামলার মামলা হলেও কিছুদিন পর তা নিরব হয়ে যায়। এসব ঘটনার সাথে স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের সক্ষতা রয়েছে। বক্তারা অবিলম্বে মুন্ডা সম্প্রদায়ের উপর হামলা মামলার সকল আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরায় পরিবহনের ধাক্কায় পলাশ বিশ্বাস (২৫) নামের এক ঔষধ কোম্পানীর পরিবেশক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরো একজন ব্যবসায়ি। মঙ্গলবার রাতে শহরের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘাতক পরিবহনসহ এর চালককে আটক করেছে।
নিহত পলাশ বিশ্বাস শ্যামনগর উপজেলার ধুমঘাট গ্রামের কৃষ্ণপদ শীলের ছেলে। আহতের নাম এজাজ আহম্মেদ খাঁন। তার বাড়ি সাতক্ষীরা শহরতলীর লাবসা গ্রামে।
নিহতের স্ত্রী মিতালী বিশ্বাস জানান, তার স্বামী পলাশ বিশ্বাস রেডিসন কোমম্পানীর সাতক্ষীরা শাখার ঔষধ পরিবেশক। বর্তমানে তারা শহরের কাটিয়া ধোপাপুকুরের একটি বাড়ির ভাড়াটিয়া। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার স্বামী এজাজ আহম্মেদ খান নামের এক ব্যবায়িকে নিয়ে বাসা থেকে নারিকেলতলা মেইন সড়কে উঠলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা শ্যামনগর গামী ডলফিন পরিবহন (বরিশাল মেট্রো-ব-১১০১৪৮) তাদের মোটর সাইকেলে (সাতক্ষীরা-হ- ১৬৫৭৪২) সজোরে ধাক্কা মারে।

এ সময় এজাজ আহম্মেদ খান ও তার স্বামী পলাশ মটর সাইকেল থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়ে যান। বাসের পিছনের চাকায় তার স্বামীকে টানতে টানতে ৪০০ ফুট দূরে ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালের সামনে নিয়ে যায়। দ্রুতবেগে চলে যাওয়ার সময় একটি মোটরচালিত ভ্যানে ধাক্কা দিলে ভ্য্নাটিও দুমড়ে মুচড়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন ওই পরিবহন ও চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। গুরুতর আহ অবস্থায় পলাশ ও এজাজকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত দেড়টার দিকে পলাশকে মৃত বলে ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এদিকে, মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত এজাজ আহম্মেদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বুধবার ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার উপ-পপরিদর্শক ইমামুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ময়না তদন্ত ছাড়াই মরদেহ সৎকারের অনুমতি চেয়ে নিহতের ভগ্নিপতি ভবতোষ মন্ডল বুধবার দুপুরে সদর থানায় একটি আবেদন করেছেন। তিনি আরো জানান, ঘাতক পরিবহন ও তার চালক পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নিজস্ব প্রতিনিধি :সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়ন পরিষদ বিনানোটিশে বন্ধ থাকার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কোন নোটিশ ছাড়াই পরিষদটি বন্ধ থাকে। এতেকরে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই ইউনিয়নের সেবা প্রত্যাশী মানুষেরা।
স্থানীয়সহ ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, বিগত কয়েকদিন ধরে ঠিকমত পরিষদে আসেননা পরিষদটির সচিব, গ্রাম পুলিসসহ উদ্যোক্তা। মূলত ভোমরা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান ইসরাইল গাজী গুরুত্বর অসুস্থ হওয়াতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পরিষদে আসতে অনীহা তাদের। নামমাত্র তারা প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব বুঝে দিলেও কোন কাজকর্মে সহযোগীতা করছেন না বলে জানান ওই পরিষদের  ইউপি সদস্যরা। এতেকরে একদিকে যেমন সেবা প্রত্যাশী সাধারণ জনগণ হয়রানী ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অপরদিকে বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোন সুরহা না মেলায় বিপাকে পড়েছেন জনগণের ভোটে নির্বাচিত ওইসমস্ত ইউপি সদস্যরা।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদটির সচিবের রুমসহ অন্যান্য রুমে তালা ঝুলানো। বেলা গড়িয়ে বিকাল হলেও পরিষদটির সচিব মহসিন কবির, উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলামসহ গ্রাম পুলিশের সদস্যরা পরিষদে আসেননি। এসময় সেবা প্রত্যাশীরা মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও সচিব, উদ্যোক্তার নাম্বারটি বন্ধ পান। এতেকরে, চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী। প্রতিদিন অফিস টাইমে দূর-দূরান্ত থেকে এসে নির্ধারিত স্থানে সচিব, উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্টদের না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলতে থাকায় বর্তমানে এলাকাবাসীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ভূক্তভোগি সেবা প্রত্যাশীরা জানান, পরিষদের সকল ভবন বন্ধ থাকলেও উদ্যোক্তার রুমটি খোলা ছিল। দুইজন উদ্যোক্তার ভিতরে শহিদুল পরিষদে না থাকলেও মহিলা উদ্যোক্তা ইয়াসমিন ইউনিয়ন পরিষদে ছিলেন। তবে, তিনি সেবাপ্রত্যাশীদের কোন কাজ না করেই তাদেরকে ফিরিয়ে দেন। আর ৪-৫ দিন পর পরিষদে আসার কথা বলেন।  এসময় আমরা তাকে প্রশ্ন করলে তিনি জানান উপর মহলের চাপ আছে।

খোজঁ নিয়ে জানা যায়, ভোমরা ইউনিয়নের পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান ইসরাইল গাজী গুরুত্বর অসুস্থ হওয়াতে গত ৩০ নভেম্বর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় স্থানীয় সরকার শাখার ৮৭০০.০২৭.২৩.০০৩.২১-১১৮৭ নং স্মারকের সূত্রে ১ ডিসেম্বর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফতেমা-তুহ-জোহরা স্বাক্ষরিত ০৫.৪৪.৮৭৮২,০০০.১০.০০৫.২১-১৪১৬ নং স্মারকে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ৩৩(৫) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত একটি পত্রে জানান, ভোমরা ইউপি চেয়ারম্যানের অসুস্থ্যতাজনিত ছুটিকালীন সময়ে দায়িত্ব পালনের জন্য প্যানেল চেয়ারম্যান গঠনের লক্ষ্যে নির্দেশনা পাওয়া গেছে। উক্ত ইউনিয়নের সদস্যদের মধ্যে ১০ জন প্যানেল চেয়ারম্যান হতে ইচ্ছুক নয় মর্মে লিখিত বক্তব্য পেশ করেছেন। একারনে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ৩৩(৫) ধারা অনুযায়ী সকল ইউপি সদস্যের মতামত ও সংখ্যা গরিষ্ঠতার
ভিত্তিতে ইউপি সদস্য জি.এম. আব্দুর রহিম ও কবির হোসেনকে প্যানেল চেয়ারম্যান করা হলো। এবং এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিষদটির সচিব মহসিন কবিরকে নির্দেশনা দেন।

এব্যাপারে ভোমরা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্যরা বলেন, নির্দেশনা মোতাবেক পরিষদটির সচিব মহসিন কবির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রহিমকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পর থেকে নিয়মিত পরিষদে আসেননা সচিব মহসিন কবির। এবং তার কথাতেই পরিষদটির উদ্যোক্তা ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা পরিষদে আসেননা। এতেকরে সেবা প্রত্যাশী সাধারণ জনগণ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে জানান তারা।

এপ্রসঙ্গে ভোমরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বলেন, এভাবে একটা পরিষদ চলতে পারেনা। একটা মহলের কথামত পরিষদটির সচিব, গ্রাম পুলিশসহ উদ্যোক্তা পরিষদে আসতেছেন না। এতেকরে জনগণ চরমভাবে হয়রানী ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে জানান তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মানুষ মাত্র সমস্যাই থাকতে পারে। তবে ইউনিয়ন পরিষদের অভিভাবক হিসেবে সেটা জানা আমার অধিকার। অথচ কোন প্রকার সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও মুঠোফোন বন্ধ করে রেখেছেন পরিষদটির সচিব- উদ্যোক্তাসহ গ্রাম পুলিশরা। এসময় দ্রুত এ সমস্যা সমাধান ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এব্যাপারে ভোমরা ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা উদ্যোক্তা ইয়াসমিন বলেন, সচিব-গ্রামপুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা কেন পরিষদে আসেননি সেটা আমি জানিনা। সেবাপ্রত্যাশীদের কাজ না করে ফিরিয়ে দেওয়ার কারন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা যে কাজে আসছে সেটা আমি করিনা। উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলাম করেন। এজন্য তাদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছি বলে জানান তিনি।

এব্যাপারে পরিষদটির সচিব মহসিন কবির ও উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলামের সাথে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest