সর্বশেষ সংবাদ-
সব ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরসাতক্ষীরায় কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যায় গ্রেপ্তারকৃত নাহিদ ও শিপন ৫ দিনের রিমাণ্ডেএবিপার্টি সাতক্ষীরা জেলা শাখার মাসিক মতবিনিময় সভাআশাশুনিতে সুদ কারবারির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনআশাশুনিতে পুলিশের বিশেষ অভিযান ৭ আসামি গ্রেপ্তারদেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী-স্বজনদের ডেঙ্গু বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষাসাতক্ষীরায় ডিবি পুলিশের অভিযানে অনলাইন জুয়াচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার : ৬টি মোবাইল জব্দদেবহাটায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভাসাতক্ষীরা সরকারি কলেজে শিক্ষার্থী জাকারিয়া হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধনবিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীর জন্য নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল আবাসন নিশ্চিতের দাবি 

তালায় মোস্তাকের কাছ থেকে ঘেরের জমি ফিরিয়ে নিলেন ৯০ জন মালিক

নিজস্ব প্রতিনিধি : অবশেষে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খরাইল গ্রামের খালের মুখের পাটা অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে মাস্তাক আহম্মেদ এর কবল থেকে ১৪০ বিঘা জমি দখলে নিয়েছেন ৯০জন জমির মালিক।

বৃহষ্পতিবার সকাল ৮ট থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পানি নিষ্কাশন হয়।
ভবানীপুর গ্রামের ওয়ার্কার্স পার্টির সক্রিয় কর্মী দেব কুমার মণ্ডল জানান, খরাইল বিলে তাদের গ্রামসহ খরাইল, বারাত, মীর্জাপুর , বারাত ও দেওয়ানীপাড়ার কৃষকদের ২৫০ বিঘা জমি লীজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন যশোরের কেশবপুর উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক চুয়াডাঙা গ্রামের মোস্তাক আহম্মেদ। ১৫ চৈত্র তিনিসহ ৯০ জন জমির মালিক জানিয়ে দেন যে ৩০ চৈত্র মেয়াদ শেষ হলে তারা ওই জমি আর নতুন করে লীজ দেবেন না।

এতে বেপরোয়া হয়ে মোস্তাক আহম্মেদ তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জমির মালিকদের উপর হুমকি ধামকি দেওয়া শুরু করেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জমি না ছাড়ায় তারা বিষয়টি তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার বিশ্বাসের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নোটিশ পেয়েও নির্ধারিত সময়ে ঘের ছেড়ে চলে যাননি মোস্তাক আহম্মেদ। উপরন্তু রবিবার পুলিশের একটি বিশাল টিম জবরদখলকারি মোস্তাক আহম্মেদ এর পক্ষ নিয়ে তালা উপজেলা খরাইল, বারাত, মীর্জাপুর, ভবানীপুর এলাকায় টহল দিয়েছে। মোস্তাক আহম্মেদ এর সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা জমির মালিকদের হুমকি দিয়ে বলে“ এক সপ্তাহ আর কখনো পুরবে না। জমি ফিরিয়ে নিতে এলে রক্তের হোলি খেলা হবে ।

এর পরপরই মোস্তাক আহম্মেদ ছোবহান মাষ্টার ও মুক্তিযোদ্ধা গুরুপদ মণ্ডলের মাধ্যমে জমির মালিক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সস্মেলন করেন। বারাত এর ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম, অ্যাড. কেসমত আলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে খারাপ মন্তব্য করেন ।

এর প্রেক্ষিতে স্থানীয় সাংসদ বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য অ্যাড. মুস্তাফা লুৎফুল্লাহতেতুলিয়া, কুমিরা ও ইসলামকাটির তিন চেয়ারম্যান ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে জরুরী সিদ্ধান্ত দেন। সে অনুযায়ি গত বুধবারের মধ্যে মোস্তাক আহম্মেদ জমি ছেড়ে না দিলে বৃহষ্পতিবার গ্রামবাসিকে সাথে নিয়ে জমির মালিকরা খালের মুখ কেটে পানি সরিয়ে দিয়ে জমি দখলে নেবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির তালা উপজেলা শাখার সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, বুধবারের মধ্যে মোস্তাক আহম্মেদ জমি ছেড়ে না দেওয়ায় বৃহষ্পতিবার সকাল ৮টার দিকে খরাইল, ভবানীপুর, বারাত, দেওয়ানীপাড়া, মীর্জাপরিসহ বিভিন্ন গ্রামের চার শতাধিক নারী পুরুষকে নিয়ে খরাইল গ্রামের খালের মুখের পাটা অপসারন করে পানি সরানোর কাজ শুরু করা হয়। এ সময় গ্রামবাসির হুঙ্কারে ঘেরের বাসা থেকে পালিয়ে যায় মোস্তাক আহম্মেদ এর তিন কর্মচারি। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। গভীর রাতে ২৫০ বিঘা জমির পানি অপসারিত হয়। ৯০ জন কৃষক তাদের ১৪০ বিঘা জমি বুঝে নেন। গ্রামবাসির সঙ্গে অংশ নেন, কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম, তেঁতুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা হিরন্ময় মণ্ডল, মোঃ নজরুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলতাফ হোসেন।
ভবানীপুর গ্রামের ভবতোষ মণ্ডল জানান, তারা পাঁচ ভাই ১৮ বিঘা, গোব্দি মণ্ডল সাত বিঘা, দেবু মণ্ডল ১৫ শতক, নবীন ঘোষ সাড়ে চার বিঘাসহ প্রায় ৯০ জন কৃষক মোস্তাক আগম্মেদ এর দখলে থাকা ১৪০ বিঘা জমি ফিরে পেয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কাশেমপুর বাইপাস সড়ক সংলগ্ন বায়তুন নুর  জামে মসজিদ জুম-আ উদ্বোধন 

প্রেসবিজ্ঞপ্তিঃ সাতক্ষীরা বাইপাস সড়ক সংলগ্ন এলাকা কাশেমপুর বাইপাস বায়তুন নুর জামে মসজিদ জুম-আ উদ্বোধন হয়েছে। ২৯ এপ্রিল শুক্রবার কাশেমপুর বাইপাস বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল করিম এর সভাপতিত্বে ও যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সেলিম হোসেনের পরিচালনায় জুম-আ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিততে বক্তব্যে রাখেন, কাশেমপুর বাইপাস বায়তুন নুর জামে মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা ও ১০নং আগরদাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান মোঃ কবির হোসেন মিলন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিততে বক্তব্যে রাখেন,  কাশেমপুরের বিশিষ্ট সমাজসেবক শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, কাশেমপুর বাইপাস বায়তুন নুর জামে মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা আলহাজ্ব শেখ নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ ইদ্রিস।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কাশেমপুর বাইপাস বায়তুন নুর জামে মসজিদ কমিটির কাশেমপুর বাইপাস বায়তুন নুর জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ ইদ্রিস

সহ-সভাপতি আব্দুস সামাদ, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক রিয়াসাত আলী, মোঃ মাহবুবুর সরদার, ক্যাশিয়ার মোঃ তরিকুল ইসলাম, সহকারী ক্যাশিয়ার সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ গাজী সহ এলাকার মুসল্লি প্রমূখ। উক্ত মসজিদ জুম-আ অনুষ্ঠানে কুরআন হাদিসে পেশ করেন কাশেমপুর মদিনাতুল উলুম কমপ্লেক্স ও এতিমখানার শিক্ষক   মুফতি মোঃ হাফিজুর রহমান, কাশেমপুর বাইপাস বায়তুন নুর জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাসুদুর রহমান।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি-খাদ্য-সারে সর্বোচ্চ ধাক্কা

অর্থনীতির খবর: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল, সার ও খাদ্যের দামে সর্বোচ্চ ধাক্কা লেগেছে। কারণ সংকটময় এ অঞ্চলে খাদ্য বিশেষ করে গম উৎপাদনে পৃথিবীর মধ্যে বিশেষ একটা জায়গা দখল করে আছে। অন্যদিকে জ্বালানি উত্তোলনেও পৃথিবীতে প্রভাব বিস্তারকারী দেশ রাশিয়া। এ অঞ্চলে প্রচুর গ্যাস উৎপাদন হয় ফলে বিশ্বব্যাপী ইউরিয়ার চাহিদাও পূরণ হয়। ফলে চলমান সংকটের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ধাক্কা বিশ্ববাসীকে আগামী তিন বছর বয়ে বেড়াতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) মধ্যরাতে ওয়াশিংটন থেকে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বৈশ্বিক অর্থনীতি ১৯৭০-এর দশকের মতো উচ্চমুদ্রাস্ফীতি ও দুর্বল প্রবৃদ্ধির দিকে ধাবিত হওয়ার ভীতি জোরালো হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাজারগুলোতে পণ্য পৌঁছাতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কার সম্মুখীন হচ্ছে দাবি করে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের পরিচালক আয়হান কোস বলেন, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে একটি উল্লেখযোগ্য মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। এটি সম্ভবত দারিদ্র্য কমানোর অগ্রগতিকে স্থবির করবে। উচ্চদ্রব্যমূল্য ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অধিক দামের প্রবণতা ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ চলতে পারে। আর এর সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রভাবে মুদ্রাস্ফীতিও অব্যাহত থাকতে পারে। ব্যাংকটির সবশেষ পণ্যবাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিগত দুই বছর ধরে ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের পর জ্বালানির মূল্য সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। আর একই সময়ে খাবার ও সারের দাম বেড়েছে ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে বেশি। খাবার ও জ্বালানির দাম বর্তমান পর্যায় থেকে কমতে শুরু করলেও বিশ্বব্যাংকের ধারণা, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ এগুলোর গড়মূল্য বিগত পাঁচ বছরের তুলনায় বেশি থাকবে।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের জেরে বাণিজ্য ও উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায় এ বছর জ্বালানির দাম ৫০ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করছে বিশ্বব্যাংক। তারা বলছে, অপরিশোধিত জ্বালানির গড়দাম ২০২২ সালে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে দাঁড়াবে। ২০১৩ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ এবং ২০২১ সালের তুলনায় এই দাম ৪০ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালে এই দাম ৯২ ডলারে নামতে পারে। কিন্তু বিগত পাঁচ বছরের এর গড়দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলার। অর্থাৎ ২০২৩ সালে দাম কমলেও তা হবে গত পাঁচ বছরের দামের চেয়ে ঢের বেশি।

ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম ২০২২ সালের দ্বিগুণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর কয়লার দাম বাড়বে ৮০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের ধারণা, এ বছর গমের দাম বাড়বে ৪০ শতাংশের বেশি। এতে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম আমদানির ওপর নির্ভরশীল উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে।

বিশ্বব্যাংকের প্রসপেক্টস গ্রুপের সিনিয়র ইকোনমিস্ট জন ব্যাফেস বলেছেন, পণ্যের বাজার প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে, কিছু পণ্যের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে জ্বালানি ও সারের মূল্য তীব্র বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে খাদ্য উৎপাদন হ্রাস করতে পারে। কমমূল্যের সার ব্যবহার খাদ্য উৎপাদন ও গুণমানকে প্রভাবিত করবে, যা খাদ্যের প্রাপ্যতা, গ্রামীণ আয় ও দরিদ্রদের জীবিকাকে প্রভাবিত করবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মেট্রোরেলের প্রস্তাবিত ভাড়া সর্বনিম্ন ২০ সর্বোচ্চ ৯০ টাকা

অনলাইন ডেস্ক: আগামী ১৬ ডিসেম্বর চালু হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম মেট্রোরেল। সম্পূর্ণ বিদ্যুচ্চালিত মেট্রোরেলের প্রতিটি কোচই হবে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। মেট্রোরেল চালুর মাধ্যমে আধুনিক গণপরিবহনব্যবস্থার যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ। মেট্রোরেলের যাতায়াত ভাড়া নিয়ে তাই ঢাকাবাসীর কৌতূহলের শেষ নেই।

ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় মেট্রোরেলে চলাচলের ভাড়াও প্রাথমিকভাবে ঠিক করেছে। প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলে চলাচল করলে ভাড়া বাবদ একজন যাত্রীকে গুণতে হবে ৯০ টাকা। মেট্রোরেলের সর্বনিম্ন ভাড়া হবে ২০ টাকা অর্থাৎ এক স্টেশন পর নেমে গেলেও ২০ টাকা ভাড়া দিতে হবে। তবে ২০ টাকা ভাড়া দিয়ে সর্বোচ্চ দুই স্টেশন পর্যন্ত যাতায়াত করা যাবে। এরপর প্রতি স্টেশনে যেতে ১০ টাকা যোগ হবে।

জানা গেছে, ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি প্রাথমিক এ ভাড়ার হার ঠিক করেছে। সর্বশেষ গত ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রস্তাবিত ভাড়ার হার চূড়ান্ত হয়।

যদিও ভাড়ার এ হার এখনও চূড়ান্ত না। সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বাধীন কমিটির ভাড়ার প্রস্তাব সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে। এরপর এ ভাড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাড়া ঠিক হবে।

মেট্রোরেল চালুর অন্তত তিন–চার মাস আগে সরকার ভাড়ার হার অনুমোদন করতে চাইছে। কারণ, ভাড়ার হার অনুযায়ী সফটওয়্যারে ইনপুট দিয়ে টিকিট চূড়ান্ত করতে হবে। মেট্রোরেলের যাত্রীদের জন্য আধুনিক এবং অনলাইনভিত্তিক ভাড়া পরিশোধের ব্যবস্থা থাকবে।

ভাড়া নির্ধারণে যুক্ত ছিল জাপানের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিপ্পন কোই (এনকেডিএম)। ভাড়া নির্ধারণে মেট্রোরেল নির্মাণ ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। শুধু দৈনন্দিন পরিচালনার ব্যয় ধরে সম্ভাব্য ভাড়ার হার নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) নীলিমা আখতার জানান, ডিটিসিএ প্রস্তাবিত ভাড়ার হার তৈরি করার চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। মেট্রোরেলের পরিচালন ব্যয় ও জনগণের সামর্থ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাড়ার হার প্রস্তাব করা হচ্ছে। ঢাকার বিদ্যমান গণপরিবহনের খরচ ও বিভিন্ন দেশের মেট্রোরেলের ভাড়ার হারও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের সামর্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ভাড়ার হার প্রস্তাব করা হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খরচ, জনবলের বেতন-ভাতা এবং কোচ ও অন্যান্য স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ খরচের কথা বিবেচনা করেই এটা প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া মানুষের ক্রয়-ক্ষমতাসহ সার্বিক বিষয় চিন্তা করে এটা করা হচ্ছে। সামগ্রিক বিষয় মিলিয়ে এটা করা হয়েছে। একটা সাধারণ বাসে অনেক টাকা ভাড়া লাগে। মানুষের সামর্থ্য, পরিচালন ব্যয় ও আর্থিক সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করেই এ ভাড়া ঠিক করা হয়েছে।

দেশে মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে হাকা সরকারি মালিকানাধীন ঢাকা ম্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম এ এন সিদ্দিক বলেন, ভাড়া হার প্রস্তাব করবে সাত সদস্যের কমিটি। ডিএমটিসিএল কমিটিকে নানা তথ্য–উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের শীর্ষ মহলের যে লক্ষ্য, তাতে বিদ্যমান অন্যান্য গণপরিবহনের চেয়ে মেট্রোরেলের ভাড়া বেশি হবে না। যাত্রীদের সামর্থ্যের মধ্যেই ভাড়া রাখা হবে।

ডিএমটিসিএলের অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় পাঁচটি মেট্রোরেল লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা আছে সরকারের। এর মধ্যে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রথম মেট্রোরেলের নাম দেওয়া হয়েছে লাইন-৬। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের দূরত্ব ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার। এ পথে ১৬টি স্টেশন রয়েছে। উত্তরার তিনটি স্টেশন বাদ দিলে অন্য সব স্টেশনের প্রতিটির মধ্যে দূরত্ব এক কিলোমিটার বা তার কম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে মেট্রোরেলের জন্য প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৪ টাকা ভাড়ার প্রস্তাব এসেছিল। পরে কিলোমিটার এবং স্টেশনভিত্তিক ভাড়ার হার ঠিক করা হয়। এ ক্ষেত্রে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ভাড়ার হার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা যায়, ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে মোটাদাগে তিনটি বড় ব্যয়ের খাত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ খরচ, জনবলের বেতন-ভাতা এবং কোচ ও অন্যান্য স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ খরচ।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুসারে, মেট্রোরেলে দুই ধরনের টিকিটের ব্যবস্থা থাকবে। একটা স্থায়ী কার্ড আর অন্যটি সাময়িক। স্থায়ী কার্ড রিচার্জ করে পুরো বছর বা মাসে যাতায়াত করা যাবে। এ কার্ড কিনতে ২০০ টাকা দিতে হবে। এরপর ২০০ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত রিচার্জ করা যাবে। অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমে কার্ড রিচার্জ করা যাবে।

অন্যদিকে, স্মার্ট কার্ডের অনুরূপ সাময়িক কার্ড দেওয়া হবে প্রতি যাত্রায়ই । স্টেশন থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যের ভাড়া দিয়ে এ কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। ভাড়ার অতিরিক্ত যাতায়াত করলে ওই কার্ড দিয়ে দরজা খুলতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাছে বাড়তি ভাড়া পরিশোধ করেই বের হতে হবে।

মেট্রোরেলের প্রতিটি স্টেশনে থাকা মেশিনেও কার্ড রিচার্জ করা যাবে। প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের সময় যাত্রীদের কার্ড পাঞ্চ করতে হবে। নতুবা দরজা খুলবে না। এরপর নেমে যাওয়ার সময় আবার কার্ড পাঞ্চ করতে হবে। নতুবা যাত্রী বের হতে পারবেন না।

লিফট, এস্কেলেটর ও সিঁড়ি দিয়ে মেট্রোরেলের স্টেশনে ওঠা যাবে। তিনতলা স্টেশন ভবনের দ্বিতীয় তলায় কনকোর্স হল। এখানে টিকিট কাটার ব্যবস্থা, অফিস ও নানা যন্ত্রপাতি থাকবে। তিনতলায় রেললাইন ও প্ল্যাটফর্ম। একমাত্র টিকিটধারীরাই ওই তলায় যেতে পারবেন। দুর্ঘটনা এড়াতে রেললাইনের পাশে বেড়া থাকবে। স্টেশনে ট্রেন থামার পর বেড়া ও ট্রেনের দরজা একসঙ্গে খুলে যাবে। আবার নির্দিষ্ট সময় পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হবে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যাত্রীসহ চলাচল শুরু হলে মেট্রোরেল ভোর থেকে দুদিক থেকে যাত্রা করবে। প্রাথমিকভাবে রাত সাড়ে ১১টায় সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে। শুরুতে দৈনিক ৪ লাখ ৮৩ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।

একটি ট্রেনের কোচ থাকবে ৬টি। সাড়ে ৯ ফুট চওড়া প্রতিটি কোচের মধ্যে দুই প্রান্তের দুটি কোচ অর্থাৎ ট্রেইলর কারে চালক থাকবেন। এসব কোচে ৪৮ জনের জনের বসার ব্যবস্থা আছে। মাঝখানের চারটি কোচে (মোটরকার) ৫৪ জন যাত্রী বসতে পারবেন। সব মিলিয়ে একটি ট্রেনে ৩০৬ জন বসে যেতে পারবেন। মাঝখানের প্রশস্ত জায়গায় যাত্রীরা দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করবেন।

মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণ, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি, বাড়তি জমি অধিগ্রহণসহ কিছু নতুন বিষয় যোগ হওয়ায় আরও প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে।

মেট্রোরেলের উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১.৭৩ কিলোমিটার অংশের কাজ প্রায় শেষ। এ বছরের ডিসেম্বরে এ অংশে মেট্রোরেল চলাচল উদ্বোধন করা হবে। কাজ চলছে প্রকল্পের বাকি অংশেও। মার্চ পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৭৭.৮২%। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশে ভৌত কাজের অগ্রগতি ৯১.৪১%। আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অগ্রগতি ৭৭%।

২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদ থাকলেও ২০২৩ সালের মধ্যেই কর্তৃপক্ষ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকা এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। ইতোমধ্যে মেট্রোরেলের ১২ সেট ট্রেন বাংলাদেশে এসেছে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার অংশে বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে মেট্রোরেল চলাচল করছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আইসিসির সর্বকালের সেরাদের তালিকায় ৩য় সাকিব

খেলার খবর: আইসিসির ঘোষিত সর্বকালের সেরা টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পেয়েছেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৯৬ ম্যাচে ১১৯ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। আর ব্যাট হাতে করেছেন ১৯০৮ রান।

আইসিসি ডটকমের খবর জানা গেছে, সম্প্রতি সর্বকালের সেরা টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডারদের তালিকা প্রকাশ করে আইসিসি। যেখানে ৪০৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের সাকিব আছেন তৃতীয় স্থানে।

৫৫৭ রেটিং নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়াটসন সবার ওপরে আছেন। ৪১২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। চতুর্থ স্থানে আছেন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তাঁর রেটিং পয়েন্ট ৩৯৭। ভারতের যুবরাজ সিয় ৩৬৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছেন।

শ্রীলঙ্কারর সনাথ জয়সুরিয়া ৩৬২ রেটিং নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে। আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী ৩৫৫ রেটিং নিয়ে সপ্তম স্থানে। অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড হাসি (৩৫০), ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারলন স্যামুয়েলস (৩২১) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল (৩০০) যথাক্রমে অষ্টম, নবম ও দশম স্থান রেয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ পাওয়ায় নজরুল ইসলামকে ভূমিহীন সমিতির শুভেচ্ছা

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো: নজরুল ইসলাম নিয়োগ পাওয়ায় শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা জেলা ভূমিহীন সমিতির পক্ষ থেকে মো: নজরুল ইসলাম এর নিজস্ব বাসভবনে উপস্থিত হয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ভূমিহীণ নেতৃবৃন্দ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা ভূমিহীন সমিতির সভাপতি মো: কওছার আলী, সহ-সভাপতি গোলাম রসুল, মফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ, যুগ্ম সম্পাদক আদিত্য মল্লিক, অর্থ সম্পাদক কাজী আব্দুল আলিম, সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মীর আশিক ইকবাল বাপ্পি, মহিলা নেত্রী সুফিয়া খাতুন, সালমা, মকবুল হোসেন, লাবসা ইউনিয়ন ভূমিহীন সমিতির সভাপতি শেখ রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় সাতক্ষীরার গণমানুষের নেতা আলহাজ্ব নজরুল ইসলামের কাছে ভূমিহীনদের বিভিন্ন সুবিধা অসুবিধার কথা তুলে ধরেন ভূমিহীন নেতৃবৃন্দ। সে সময় নজরুল ইসলাম ভূমিহীনদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তেঁতুলতলার সেই মাঠে পুলিশের থানা হচ্ছে না

দেশের খবর: রাজধানীর কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠের মালিকানা পুলিশের থাকলেও সেখানে থানা ভবনের নির্মাণকাজ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে আমরা ওই জায়গাটির জন্য এপ্লাই (আবেদন) করেছিলাম। তবে খোঁজ নিয়ে দেখলাম ওই এলাকায় খেলার জায়গা নেই। প্রধানমন্ত্রীও পরামর্শ দিয়েছেন, যেহেতু খালি জায়গা নেই, বিনোদনের কিছু নেই সেজন্য তিনি বলেছেন পুলিশের জমি সেভাবে থাকুক। কোনো কনস্ট্রাকশন যেন না হয়। যেভাবে চলছে চলতে থাকুক। এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জায়গাটি তো পুলিশেরই। প্রাচীর যতটুকু হয়েছে সেভাবেই। আগে যেভাবে ব্যবহার হতো সেভাবেই এলাকাবাসী ব্যবহার করবেন। প্রাচীর খুব বেশি হয়নি। যদি কোনো অসুবিধা হয় আমরা দেখবো। কিন্তু জায়গাটি পুলিশের, পুলিশেরই থাকবে। রক্ষণাবেক্ষণ পুলিশ করবে।

কলাবাগান থানা কোথায় হবে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান বলেন, সেটা আমরা দেখবো। ভবিষ্যতের কথা ভবিষ্যতে। এখন আপাতত কিছু হচ্ছে না। নির্মাণ কাজ তো অবশ্যই বন্ধ থাকবে। খেলার মাঠের জন্য উপযোগী জায়গা সেটি নয়। যেভাবে ইউজ করা হচ্ছিলো, সেই এলাকার লোক যেভাবে ইউজ করছে সেভাবেই থাকবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালায় কলেজ ছাত্রকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন: গ্রেপ্তারের ২০ ঘন্টা পর ছাত্রলীগ নেতা আকিবের জামিন

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ তালার মেধাবী কলেজ ছাত্রকে অপহরনের পর বিবস্ত্র করে তার চুল কেটে ন্যাড়া করে দিয়ে শারীরিক নির্যাতনের ভিডিও চিত্র ধারণের রোমহর্ষক ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামী তালা উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ আকিব গ্রেপ্তারের ২০ ঘণ্টা পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় সৈয়দ আকিবকে তালা থানা পুলিশ খুলনার ডুমুরিয়া বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

তাকে বৃহষ্পতিবার দুপুর দু’টোর দিকে সাতকক্ষীরার বিচারিক হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক মহিদুল ইসলাম তাকে দু’ হাজার টাকা বণ্ডে জামিনে মুক্তির আদেশ দেন। সৈয়দ আকিব তালা উপজেলার মাঝিয়াড়া গ্রামের সৈয়দ ইদ্রিসের ছেলে।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল ইসলাম খান বলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রেমিকাকে ভাগিয়ে নিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে মেধাবী ছাত্র শোয়েব আজিজ তন্ময়কে অমানুষিক নির্যাতন করার ঘটনায় প্রধান আসামী সৈয়দ আকিবকে ডুমুরিয়া থেকে বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করা হয়। সে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও তালা সদর ইউনিয়নের সাবেক আহবায়ক। এ ঘটনায় জড়িত অপর ৪ আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম তৃতীয় আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোর্ট উপপরিদর্শক (সিএসআই) হাবিবুর রহমান জানান, সৈয়দ আকিবের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি তার জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানী শেষে বিচারক মহিদুল ইসলাম তাকে দু’ হাজার টাকার বণ্ডে জামিন মঞ্জুর করেন। জাামিন নামার কাগজ জমা দিয়েই কোর্ট গারদ থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আসামীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন রাজীব রায় চৌধুরী সঞ্জয়।
উল্লেখ্য, জাতপুর টেকনিক্যাল কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে সদ্য এইচএসসি পাশ করা জাতপুর গ্রামের শোয়েব আজিজ তন্ময়কে তার এক বন্ধু রোববার দুপুরে মোবাইল ফোনে তালা বাজারে ডেকে নেয়। পরে তাকে তালা সরকারি কলেজ হোস্টেলের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ আকিব, শ্রমিকলীগ নেতা সৌমিত্র চক্রবর্তী এবং ছাত্রলীগের নাহিদ হাসান উৎস্য, সজীব ও জয় তার ওপর নির্যাতন শুরু করে।

সৈয়দ আকিব ও তার সহযোগীরা তাকে বিবস্ত্র করে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয় এবং দৈহিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে জখম করে। এ অবস্থায় ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়। তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তন্ময়ের বাড়িতে ফোন করে তার মা নার্গিস সুলতানার কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। মোবাইল ফোনে তন্ময়ের মারপিটের শব্দ ও আহাজারি শোনানো হয়। খবর পেয়ে তন্ময়ের দু’ চাচাত ভাই কলেজ হোস্টেলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় তালা হাসপাতালে। সেখানেও আকিব ও তার সহযোগীরা আবারও তাকে মারপিট করার হুমকি দেয়।

এ ঘটনায় তন্ময়ের বাবা তালা থানায় সৈয়দ আকিব সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বহুল আলোচিত এই ঘটনা টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়। জেলা ছাত্রলীগ সৈয়দ আকিবকে তাদের সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে। পুলিশ সৈয়দ আকিবকে খুঁজতে থাকে। অবশেষে বুধবার বিকালে সে পুলিশের খাচায় বন্দী হয়। বৃহষ্পতিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে তাকে থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয়

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest