সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় দুর্গাপূজার নবমীতে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আশরাফুল আলমআশাশুনিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজসাতক্ষীরায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সাবেক মেয়র চিশতিউপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ: চারা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের অঙ্গীকারপ্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না শ্যামনগরের বিএনপি নেতা আদম আলীএখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরের

শ্যামনগরে শিশু সুরক্ষা, যৌন হয়রানী, শোষন ও নিপীড়ন প্রতিরোধ বিষয়ক রিফ্রেসার্স সেশন

শ্যামনগর প্রতিনিধি:
অক্সফামের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগীতায় ও সুশীলন রিকল-২০২১ প্রকল্পের বাস্তবায়নে শ্যামনগরের আটুলিয়া ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের সিবিও লিডার
ও ইয়ুথ লিডারদের উপস্থিতিতে “শিশু সুরক্ষা, যৌন হয়রানী, শোষন ও নিপীড়ন প্রতিরোধ বিষয়ক রিফ্রেসার্স সেশন” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আড়পাংগাশিয়া পিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শনিবার ও রোববার (২৩ ও ২৪ অক্টোবর) দুটি পৃথক ব্যাচে এ রিফ্রেসার্স সেশন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সেশন পরিচালনা করেন সুশীলন রিকল-২০২১ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী এসএম জাকির হোসেন। এসময় তিনি শিশু সুরক্ষা,ছশিশু নির্যাতন, শিশু অধিকার, শিশু সুরক্ষা আইন, শিশু স্বাস্থ্য, বিভিন্ন হেল্প লাইন, শিশু শ্রম, শিশু পাচার, পথ শিশু, বাল্য বিবাহ রোধ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এছাড়া তিনি প্রতিবন্ধী ধরন, প্রতিবন্ধী দের সেবা, সহায়তা, ভাতা, কার্ড, সার্টিফিকেট বিষয়ে সকলকে অবহিত করেন। সবশেষে তিনি সকলকে শিশু নির্যাতন বন্ধ, বাল্যবিবাহ রোধ, প্রতিবন্ধীদের সর্বক্ষেত্রে অন্তর্ভূক্তিকরন বিষয়ে আলোচনা করেন। উক্ত সেশনে সিবিও ও ইয়ুথ লিডারদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সকলকে অবহিত করেন। সেশন পরিচালনায় সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন রিকল-২০২১ প্রকল্পের এফ এফ দিবাকর ঘোষ, মীর হাছিবউল্যাহ ও শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ সাতক্ষীরা জেলা প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ এর প্রথম সেমিফাইনাল খেলা

নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ সাতক্ষীরা জেলা প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ এর প্রথম সেমিফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনাল খেলায় ভালুকা চাঁদপুর সবুজ সংঘ টাইব্রেকারে ১(৫)-১(৪) গোলে গণমুখী সংঘ কে পরাজিত করে।

এই খেলায় গণমুখী সংঘের শামীম জার্সি নম্বর ১৫ প্রথমার্ধে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ১০ মিনিট পর ভালুকা চাঁদপুর সবুজ সংঘের সুমন জার্সি নম্বর ৯ গোল করে দলকে সমতায় আনেন। প্রথমার্ধে উভয় দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ করে সহজ সহজ সুযোগ পেলে ও গোল করতে ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয় আর্ধে উভয় দলই যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করে ও গোল করতে ব্যর্থ হয়েছে।

পরে টাইব্রেকারে উভয় দলই ৮ টি করে সুট আউট করার সুযোগ পেলে ভালুকা চাঁদপুর সবুজ সংঘ ৫টি এবং গণমুখী সংঘ ৪ টি গোল করতে সক্ষম হয় উক্ত খেলায় ভালুকা চাঁদপুর সবুজ সংঘ ৫-৪ গোলে জয়লাভ করেছে।

আজকের এই খেলাটি উপভোগ করেন সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি আব্দুল মোমেন খান চৌধুরী সান্টু, সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ নাসেরুল হক, মাহমুদ হাসান মুক্তি,ইমাদুল হক খান, শেখ মাসুদ আলী, আতিকুর রহমান ছট্টু,বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন, আব্দুল কাশেম বাবর আলী, হারুন খান, আব্দুল গাফফার, আসাদুর রহমান, ফারুক হোসেন স্বপন, আব্দুস সামাদ, ওয়াসিউদ্দীন খান পিপুল, খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স,সহ গ্যালারীতে অগনিত দর্শক এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

আগামী ২৬ তারিখ ২য় সেমি ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। খেলায় টাউন স্পোর্টিং ক্লাব বনাম লাবসা পল্লী মঙ্গল সমিতির মধ্যকার খেলাটি উপভোগ করার জন্য সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অগ্রিম আমন্ত্রন জানানো হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ায় প্রবাসী বোনের সম্পত্তি দখল করতে তার সন্তানকে মারপিট ও হয়রানির অভিযোগ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ছোট বোন পারুল ও তার স্বামী আব্দুল আজিজ কর্তৃক প্রবাসী বড় বোন আনজুয়ারার সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করতে তার একমাত্র পুত্র সন্তানকে মারপিঠ, জখম ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির ষড়যন্ত্র প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে

উক্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন, উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের শুভংকরকাটি গ্রামের খন্দকার ইসরাইল হোসেন ও প্রবাসী আনজুয়ারার একমাত্র ছেলে খন্দকার রাকিবুল ইসলাম ইমন।

তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার মা আনজুয়ারা খাতুন কলারোয়া উপজেলার ৯নং হেলাতলা ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক মহিলা মেম্বর। বর্তমানে তিনি বিদেশে রয়েছেন।

আমি আমার মায়ের একমাত্র সন্তান। মা প্রবাসে থাকায় একমাত্র সন্তান হিসেবে তার নামীয় (ক্রয়কৃত) শুভংকরকাঠী মৌজার বাড়িসহ ১৩ শতাংশ সম্পত্তিতে আমি একাই বসবাস করি। আমার জন্মও ওইখানে। আমি বিগত ৬ বছর যাবৎ পড়াশুনার কারণে ঢাকায় অবস্থান করছি। তিনি বলেন, আমার মায়ের নামের উক্ত সম্পত্তির সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাল নাগাদ রয়েছে। মা প্রবাসে যাওয়ার কয়েক বছর পর আমার বৃদ্ধ নানা নানীকে দেখভালের জন্য উক্ত সম্পত্তির উপর আমার খালা সাবিনা খাতুনকে আশ্রয় দেন। সাবিনা খাতুন কিছুদিন থাকার পর একপর্যায়ে আমাদেরকে না জানিয়ে আমার অন্য খালা পারুল খাতুন ও তার স্বামী আব্দুল আজিজকে আমাদের বাড়িতে রেখে তিনি চলে যান। পরবর্তীতে আমরা জানতে পারি আমার খালা পারুল এবং তার স্বামী আব্দুল আজিজ আদম ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করেন।

এছাড়া আমার মেজো মামা আবুল হাসানও তাদের যোগসাজসে একই ব্যবসা পরিচালনা করেন। এছাড়া তাদের নামে থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি আমরা জানতে পেরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে সাথে নিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে আমার খালা পারুল ও তার স্বামী আজিজকে নামিয়ে দেই। তাদের নিজস্ব কোন সম্পত্তি না থাকায় তারা আমাদের সম্পত্তির পাশে আমার নানীর সম্পত্তিতে তৈরি একটি গোয়াল ঘরে আশ্রয় নেন। সেখানে আশ্রয় নেয়ার পর থেকে আমার ওই খালা,

খালু ও মামা হাসান আমার মায়ের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে তারা সেখানে ইমারত নির্মাণেরও চেষ্টা করেন। বিষয়টি নিয়ে গত ২২/০৫/২০২১ তারিখে একটি লিখিত অভিযোগ কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে দিলে তিনি সেটা আমলে নিয়ে উভয় পক্ষকে মিমাংসার উদ্দেশ্যে থানায় ডেকে একটি নির্দেশনা প্রদান করেন। তারা সেটি না মেনে বিভিন্ন ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকান্ড ও প্রকাশ্যে অধমাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে যাচ্ছেন। যার খন্ডিত ভিডিও ও অডিও আমার মোবাইলে ধারণ করা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমার মায়ের একমাত্র ওয়ারেশ আমি। সে কারনেই তারা আমাকে হত্যা করে উক্ত সম্পত্তি পুরোটাই দখল করার পায়তারা চালাচ্ছে। এরই জের ধরে গত ১৬/১০/২০২১ তারিখে আমার খালা পারুল, খালু আব্দুল আজিজ এবং মামা হাসান আমার মায়ের সম্পত্তিতে ধানের গাদা দেন। আমি এতে বাঁধা দিতে গেলে তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও আমাকে প্রকাশ্যে খুন করবে বলে হুমকি প্রদান করেন। আমি বিষয়টি মোবাইলে ভিডিও ধারন করলে তারা সেটি বুঝতে পেরে আমাকে

আক্রমণ করে আমার মুখে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। আমার ডাক চিৎকারে এ সময় স্থানীয় লোকজন হাজির হয়ে আমাকে উদ্ধার করেন এবং তারা আমাকে স্থানীয় কলারোয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত হরতে আমার খালা পারুল তার নিজের পরনের কাপড় ছিড়ে এবং তাদের বসতবাড়ির একাংশ টালি ভেঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হন।

একপর্যায়ে তারা আমিসহ আমার পরিবারের ৪ জনের নামে শ্লীলতাহানী, নারী নির্যাতন, ছিনতাই ও ভাংচুরের একটি অভিযোগ থানায় দায়ের করেন। পরে এ নিয়ে একটি অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। যা সম্পূর্ন মিথ্য ও থিত্তিহীন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সাথে সাংবাদিকদের সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে সত্য সংবাদ পরিবেশনের জন্য অনুরোধ জানাই।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এ সময় তার খালা পারুল, খালু আব্দুল আজিজ ও মেজো মামা আবুল হাসানসহ এই কুচক্রি ও সন্ত্রাসী বাহিনীদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা পেতে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ার কুশোডাঙ্গায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গায় একটি কুচক্রী মহল কর্তৃক বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন, কলারোয়া উপজেলার শাকদহা গ্রামের মৃত আতর আলী খানের পুত্র ও বর্তমান চেয়ারম্যান ভুক্তভোগী আসলামুল আলম খান।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, আমি ১০নং কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমার প্রতিপক্ষরা আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন এবং হয়রানির ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। এর জের ধরে গত ২৩/১০/২০২১ তারিখে কলাটুপি গ্রামের মৃত. ছমেদ সরদারের পুত্র বাবর আলী আমার প্রতিপক্ষের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ
সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে বাবর আলী তার পুত্রের চাকুরি দেওয়ার নামে আমার কাছে ১লক্ষ ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার যে অভিযোগ দিয়েছেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি বাবর আলীর কাছ থেকে কোন টাকা গ্রহণ করিনি। যে স্কুলের চাকুরি দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে আমি সে স্কুলের সভাপতি ছিলাম না। তাহলে আমার কাছে কেন টাকা দেবেন ? গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ
আওয়ামীলীগ কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নে আমাকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেন।
এতে কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কতিপয় নেতাকর্মীরা অধমার উপর ক্ষিপ্ত
হয়ে নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
কিন্তু নির্বাচনে নৌকার জনপ্রিয়তার কাছে অনেক ভোটে তারা পরাজিত হন। আমার জনপ্রিয়তায় ঈষান্বিত হয়ে নৌকার সকল বিদ্রোহী প্রার্থীরা যৌথভাবে চক্রান্ত

চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই সময় থেকে বাবর আলীকে ওই সকল প্রার্থীরা তুরুপের তাস
হিসেবে ব্যবহার করেন আমার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দেওয়াসহ নানাভাবে
হয়রানি করে যাচ্ছেন। অথচ বাবর আলীর সাথে আমার কোন ব্যক্তিগত বিরোধ নেই।

ওই বাবর আলী আমার বিরুদ্ধে পুলিশ হেড কোয়াটারে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
হেড কোয়ার্টারের নির্দেশে তৎকালিন সহকারী পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার তদন্ত করেন। কিন্তু তদন্তের বাবর আলীর অভিযোগের কোন সত্যতা মেলেনি।
শুধুমাত্র আমার বিরুদ্ধে নয় এলাকার বহু মানুষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে সম্মান হানি করেন বাবর আলী। পানিকাউরিয়া হাইস্কুলের শিক্ষক আলমগীরের বেতনের টাকা অন্য শিক্ষকরা উত্তোলন করেন। পরে অভিযোগ দেওয়ার পূর্বেই উত্তোলনকৃত সমূদয় টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়
শিক্ষকরা। এতে আমার কোন ভূমিকা বা সম্পৃক্ততা ছিলো না। তারপরও আমাকে হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ভুক্তভোগী আলমগীর জবাব দিয়েছেন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বিধবা, মাতৃভাতা, ভিজিডি এবং প্রতিবন্ধীভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এর কোন প্রমান বাবর আলী কেন কারো কাছে নেই। কারন গরিবের অর্থ মেরে খাওয়ার চেয়ারম্যান আমি নই। আমি স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান। আমার পিতার রেখে যাওয়া সম্পদ আমি ভোগ করি। এছাড়া নিজের একাধিক ব্যবসা রয়েছে। ব্যবসার টাকা দিয়েই
আমি সমাজে সম্মানের সাথে চলাফেরা করি। ফলে কোন অনিয়ম দুর্নীতি আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এ সময় নৌকার ওই সব বিদ্রোহী প্রার্থীসহ মামলাবাজ বাবর আলীর ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
 কেরালকাতা ইউপিতে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে রয়েছেন সরদার আমজাদ  
নিজস্ব প্রতিনিধি :
আধুনিক মডেল কেরালকাতা ইউনিয়ন বিনির্মানের লক্ষে, ইউনিয়নের মানুষের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সরদার আমজাদ হোসেন।
কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবিরাম ছুটে চলেছেন তিনি। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় ইউনিয়নের প্রবীন মানুষের দোয়া নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
লক্ষ্য একটাই দীর্ঘদিন অবহেলিত উন্নয়ন বঞ্চিত কেরালকাতা ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়নের রূপান্তর করা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের সকল সেবা মানুষের দোড় গোড়ায় পৌছে দেওয়া।
এছাড়া ইউনিয়নের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, অসহায় দুস্থ মানুষকে সহযোগিতা করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। করোনা পরিস্থিতিতেও ইউনিয়নের মানুষের জন্য তার ভূমিকা ছিলো গুরুত্বপূর্ণ।
সরদার আমজাদ হোসেন কেরালকাতা ইউনিয়নের মৃত. দাউদ আলী সরদারের পুত্র। তিনি কলারোয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে পদার্পণ করেন। পরে তিনি ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ নেতা, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক এবং বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির শিক্ষা মানব সম্পদ বিষয়ক সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কেরালকাতা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী আলতাফ হোসেন বলেন, সরদার আমজাদ একজন নির্লোভ, স্বচ্ছ, সৎ এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। তিনি কিছুদিন ঢাকায় অবস্থান করলেও ইউনিয়নের মানুষের যে কোন বিপদে আপদে পাশে থেকেছেন। বিশেষ করে ঢাকায় চিকিৎসা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ামানুষের পাশে দাড়িয়ে সুনাম কুড়িয়েছেন।
তার মত একজন শিক্ষিত মার্জিত ব্যক্তি দলীয় মনোনয়ন পেলে অবশ্যই ইউনিয়নের চিত্র বদলে যাবে।
৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জিয়াউর রহমান বলেন, একজন স্বচ্ছ নির্লোভ মানুষকে এখানেই খুবই দরকার। সরদার আমজাদ একজন স্বচ্ছ এবং ত্যাগী, কর্মীবান্ধব আওয়ামী নেতা। তাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এবিষয়ে সরদার আমজাদ হোসেন বলেন, টুঙ্গিপাড়া খ্যাত কেরালকাতা ইউনিয়নটি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত। জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যান্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য সেবার দ্বার উন্মুক্ত করলেও এখানকার মানুষ সঠিকভাবে সেবা পায় না। জননেত্রীর সর্বোচ্চ সেবা ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌছে দিতেই আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। আমি জন্মগতভাবে আওয়ামী পরিবারের সন্তান।
ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করি এবং আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। কখনো দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যায়নি। সে কারনে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়ে ইউনিয়নবাসীর সেবা করার সুযোগ দেবেন বলে আশা করি। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত মেনে নেবো এবং তার মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নৌকার বিজয়ে সচেষ্টা থাকবো।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় বিএমএ’র মানববন্ধন

আসাদুজ্জামান : সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপসানলয় ও বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) সাতক্ষীরা জেলা শাখার আয়োজনে রবিবার সকালে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, বিএমএ জেলা সভাপতি ডাঃ আজিজুর রহমান, সাধারন সম্পাদক ডাঃ মনোয়ার হোসেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্বাবধাক ডাঃ কুদরাত-ই-খুদা, মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডাঃ রুহুল কুদ্দুস, মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডাঃ কাজী আরিফ আহমেদ, ডাঃ শংকর প্রসাদ, ডাঃ হরষিত চক্রবর্তী, ডাঃ সামছুর রহমান, ইন্টার্ণ চিকিৎসক ডাঃ রাশিদুজ্জামান প্রমুখ ।

বক্তারা এ সময়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপসানলয় ও বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একইসাথে তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী জানান।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘স্যার’ না ডাকা নিয়ে ‘আপত্তি’, ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে মুক্তি কোথায়

দেশের খবর : ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ না ডাকলে প্রশাসনের, বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারা মনোক্ষুণ্ন হন। সেবাগ্রহীতাদের কেউ ‘স্যার’ সম্বোধন না করায় কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়ায় প্রায়ই প্রশাসনে বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। আবার কর্মকর্তাদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে কোনো নির্দেশনা দেওয়ার পক্ষেও নয় সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাধারণ মানুষের সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলার কোনো বিধান নেই। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণের সেবক।

তবে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আমলারা বলছেন, ‘স্যার’ বলার সংস্কৃতিটি ঔপনিবেশিক। প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা এখনো সেই সংস্কৃতি থেকে বের হতে পারেননি। মানসিকতার পরিবর্তন না হলে এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। কর্মকর্তাদের সেই চিন্তাধারা থেকে বের করতে সরকারের পদক্ষেপও নেই।

মানুষকে তো একটা সম্বোধন করতে হবে। স্যারও বলা যেতে পারে, তাই বলে প্রভু হয়ে যাননি উনি। তিনি জনগণের সেবক। কাউকে ভদ্রোচিতভাবে সম্বোধন করার ক্ষেত্রে ‘স্যার’ বলা যেতে পারে। বাংলায় তো নানা ধরনের ভাষার শব্দের সংমিশ্রণ রয়েছে

সরকারি কর্মচারীরা জনগণের সেবক, প্রভু নয়—চাকরিতে প্রবেশের সময় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে তা কর্মকর্তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়ে এবং প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনলে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আমলারা। দুপক্ষের জন্য সম্মানজনক একটি সম্বোধন নির্ধারণ কিংবা আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের নাম ধরে ডাকার সংস্কৃতি চালু করা যায় বলেও জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘মানুষকে তো একটা সম্বোধন করতে হবে। স্যারও বলা যেতে পারে, তাই বলে প্রভু হয়ে যাননি উনি। তিনি জনগণের সেবক। কাউকে ভদ্রোচিতভাবে সম্বোধন করার ক্ষেত্রে ‘স্যার’ বলা যেতে পারে। বাংলায় তো নানা ধরনের ভাষার শব্দের সংমিশ্রণ রয়েছে।’

আমাদের তো একটা ক্লিয়ার মেসেজ গেছে। আমি বলে দিয়েছি স্যার বা ম্যাডাম বলার কোনো বিধান নেই। কোনো আইনে নেই যে তাকে এটা বলতে হবে। আমাদের জনগণের সঙ্গে মিশে যেতে হবে। জনগণের সঙ্গে মিশে যেতে হলে কেউ যদি বলে, রাগ করার তো কিছু নেই। আমার কাজটা হচ্ছে আপনাকে সার্ভিস দেওয়া

সম্বোধন নিয়ে তো মাঝে মাঝেই বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তো একটা ক্লিয়ার মেসেজ গেছে। আমি বলে দিয়েছি স্যার বা ম্যাডাম বলার কোনো বিধান নেই। কোনো আইনে নেই যে তাকে এটা বলতে হবে। আমাদের জনগণের সঙ্গে মিশে যেতে হবে। জনগণের সঙ্গে মিশে যেতে হলে কেউ যদি বলে, রাগ করার তো কিছু নেই। আমার কাজটা হচ্ছে আপনাকে সার্ভিস দেওয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন অনেক কিছু পরিবর্তন হচ্ছে। এগুলোর ক্ষেত্রেও কিন্তু চিন্তা-ভাবনায় আমরা পরিবর্তন করতে পারছি। এখন প্রশাসনে অনেক ভালো ভালো শিক্ষার্থী আসছেন। অনেক সময় সরকারকে বিব্রত করার জন্যও কিছু কিছু ঘটনা ঘটে।’

এ বিষয়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘বিদেশে সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের নাম ধরে ডাকে (নাগরিকরা)। আমাদের এখানেও এই কালচার শুরু করে সবাইকে নাম ধরে ডাকা উচিত। এটাই ইন্টারন্যাশনাল প্র্যাকটিস। এটা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। তবেই এ সমস্যার সমাধান হবে।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান বলেন, “স্যার বলার কালচার (সংস্কৃতি) শত শত বছর ধরে চলে আসছে। এটা আমাদের ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য। এটার লালন শুধু প্রশাসনেই নয়, সমাজের সবখানে। মেডিকেল কলেজের অধ্যাপককে ‘ভাই’ বলেন, দেখেন তার কী চেহারা হয়।”

বিদেশে সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের নাম ধরে ডাকে (নাগরিকরা)। আমাদের এখানেও এই কালচার শুরু করে সবাইকে নাম ধরে ডাকা উচিত। এটাই ইন্টারন্যাশনাল প্র্যাকটিস। এটা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। তবেই এ সমস্যার সমাধান হবে

তিনি বলেন, ১৮ লাখ সরকারি কর্মচারী, তাদের যদি আমাদের কৃষক ভাই স্যার না ডাকেন তারা রাগান্বিত হন। কখনো কখনো ডিসি-ইউএনওকে স্যার না বলায় তারা এমন একটা আচরণ করেন যেটায় খবর (সংবাদ) হয়। আমাদের আসলে যেতে হবে এ বিষয়টার গভীরে, যেটা ঔপনিবেশিক কালচার থেকে এসেছে, যা আমরা খুব চমৎকারভাবে লালন করছি।

‘উল্টো করে বলা যায়, জনগণের পয়সায় যাদের বেতন-ভাতা হয়, সেই বেতন নিয়ে পরিবারের ভরণ-পোষণ, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া হয়—সেই জনগণকে স্যার বলা দরকার। এ বিষয়টি আমাদের কালচারের মধ্যে প্রোথিত করতে হবে’—যোগ করেন সাবেক এই সিনিয়র সচিব।

তাদের (সরকারি কর্মকর্তা) যখন নতুন নিয়োগ হবে, ট্রেনিং হবে—তখন তাদের মধ্যে এ বিষয়ে চিন্তাটা ঢুকিয়ে দেওয়া। এছাড়া উপরের পর্যায়ের যে কর্মকর্তারা রয়েছেন তাদের নিয়ে যেন কথা বলতে পারি এবং তাদের মধ্যে এটা প্রোথিত করতে পারি যে, ভাই এই দেশের মালিক তো জনগণ, স্যার বলার যে নিয়ম সেটা ছেড়ে দিতে হবে। জনগণের সেবা করার মনোবৃত্তি নিয়ে বরং তাদের স্যার বলা শুরু করো। তখন হয়তো এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো। অন্যথায় এটা ঠিক হওয়ার কোনো উপায় নেই

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরেও আমাদের সংস্কৃতিতে এমন কিছু করিনি বা আমরা এমন কিছু ট্রেনিংয়ে আনিনি যার মাধ্যমে তারা (কর্মকর্তারা) ঔপনিবেশিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। এই সংস্কৃতি থেকে বের করে আনতে হলে সার্কুলার দিয়ে কোনো লাভ হবে না।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সচিবের দায়িত্বে থাকা শহীদ খান বলেন, ‘তাদের (সরকারি কর্মকর্তা) যখন নতুন নিয়োগ হবে, ট্রেনিং হবে—তখন তাদের মধ্যে এ বিষয়ে চিন্তাটা ঢুকিয়ে দেওয়া। এছাড়া উপরের পর্যায়ের যে কর্মকর্তারা রয়েছেন তাদের নিয়ে যেন কথা বলতে পারি এবং তাদের মধ্যে এটা প্রোথিত করতে পারি যে, ভাই এই দেশের মালিক তো জনগণ, স্যার বলার যে নিয়ম সেটা ছেড়ে দিতে হবে। জনগণের সেবা করার মনোবৃত্তি নিয়ে বরং তাদের স্যার বলা শুরু করো। তখন হয়তো এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো। অন্যথায় এটা ঠিক হওয়ার কোনো উপায় নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, স্যার বলার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এই বলা দিয়ে কিছু হবে না। আমি যদি কোনো অফিসে যাই, আমাকে যদি তারা না চেনে, আমি যদি স্যার না বলি তারা আমাকে বের করে দেবে। আমি কিন্তু সরকারের একজন সচিব ছিলাম। যেখানে আমরা জনসেবার দায়িত্বে আছি, সেখানে আমরা প্রভুর মতো আচরণ করি। স্যার তো একটা অনুষঙ্গ মাত্র।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন বলেন, ‘পদবি ধরে কর্মকর্তাদের সম্বোধন করা যায়। পদের আগে মাননীয় বা সম্মানিত বলা যেতে পারে। এতে সম্মানজনকভাবে এর সমাধান হতে পারে। এমন একটা পথ বের করতে হবে, যেন জনগণের সম্মান রক্ষা হয় এবং কর্মকর্তারাও যেন সন্তুষ্ট থাকেন। এমন একটা সম্বোধন আমাদের বের করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা ঔপনিবেশিক আমলে তৈরি হয়েছে। তাই এ মাইন্ডসেট থেকে আমাদের সরকারি কর্মকর্তারা বের হয়ে আসতে পারেননি।’

‘যখন কেউ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন, তখন তাদের যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, সেখানে আসলে এই জিনিসটি অ্যাড্রেস করা উচিত। স্বাধীন দেশে তাদের অবস্থানটা কী তা পরিষ্কারভাবে বোঝানো উচিত। তারা জনগণের সেবক, ঔপনিবেশিক আমলের মানসিকতা এখনকার জন্য উপযোগী নয়। এটা ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিতে হবে। ফাউন্ডেশন ট্রেনিংসহ অন্যান্য ট্রেনিংয়ে এ জিনিসটা জোর দিতে হবে’—বলেন ড. আখতার।

তিনি আরও বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক দেশে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও মানুষের ওপরে হতে পারেন না। এই বোধটা আমরা তাদের (সরকারি কর্মকর্তা) মধ্যে তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের আরেক অধ্যাপক ড. মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ইউএন চার্টারে হিউম্যান রাইটস হিসেবে যা আছে আমরা সেটাকেই সংবিধানে নাম দিয়েছি মৌলিক অধিকার। সংবিধানে ২৬ অনুচ্ছেদ থেকে ৪৮ (এ) পর্যন্ত আছে মৌলিক অধিকার। সেখানে মাস্টার (প্রভু) বলে কিছু নেই। সেখানে সবাই সমান। সেখানে একপক্ষ সেবা দেবে; আরেক পক্ষ নাগরিক, যারা সেবা নেবে।’

তিনি বলেন, ‘সম্বোধনের বিষয়ে রাষ্ট্র থেকে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, স্যার সম্বোধনের বাধ্যবাধকতা নেই। কর্মকর্তাদের বুঝতে হবে, আমি জনগণকে সার্ভিস ডেলিভারি দিচ্ছি। কাজ করতে গিয়ে আমি প্রভু হয়ে যাবো, সেটা নয়। আমাকে স্যার ডাকতে হবে, এমন কোনো কনসেপ্ট নেই।’

মোসলেহ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘মাইন্ডসেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা চাকরিতে প্রবেশের সময় ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ে নিয়ে আসতে হবে। সেখানে আইটেমটা ঢুকিয়ে দেওয়া যায় এবং এ বিষয়ে জোর দেওয়া যায়, সেটা কাজের হবে। তাদের (কর্মকর্তা) বুঝিয়ে দিতে হবে তারা সেবা প্রদানকারী। সেবা প্রদানের মধ্যে প্রভু ও চাকরের সম্পর্ক থাকে না। আপনি সার্ভিস প্রোভাইডার আর জনগণ সার্ভিস হোল্ডার।’

‘স্যার’ না ডাকায় যত বিপত্তি :

গত ৪ অক্টোবর কুমিল্লার বুড়িচংয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাম্মৎ সাবিনা ইয়াছমিনকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন জামাল উদ্দিন (৪৫) নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। এতে রেগে গিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে ‘মা’ ডাকতে বলেন সেই ইউএনও। ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিন বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করলে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।

গত ৩০ মে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাশও একই আচরণ করেন। এক সাংবাদিক ‘স্যার’ না ডেকে ভাই বলে সম্বোধন করায় আপত্তি তোলেন তিনি। ওই সময় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ বলেন, ‘আপনাদের ভাই ডাকার রেওয়াজ আর গেলো না। আপনি জানেন এই চেয়ারে বসতে আমাদের কত কষ্ট করতে হয়েছে?’

গত ৮ জুলাই মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনা লায়লাকে ‘স্যার’ না বলে ‘আপা’ বলায় এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ ওঠে। দাবি করা হয়, ইউএনও’র নির্দেশে সিংগাইর থানা পুলিশ ওই ব্যক্তিকে পেটিয়ে জখম করে।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত চিকিৎসককে ‘স্যার’ না ডেকে ‘দাদা’ বলে ডাকায় ব্রেন স্ট্রোকের রোগীকে চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। চিকিৎসার অভাবে রোগী মারা গেছেন বলেও দাবি করেন তার স্বজনরা।

২০২০ সালের ৭ অক্টোবর একটি সংবাদের তথ্য নেওয়ার সময় ‘স্যার’ না ডেকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করায় এক সাংবাদিকের ওপর ক্ষেপে যান সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের ইউএনও শফি উল্লাহ।

২০১৯ সালের ১৫ মে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ‘ম্যাডাম’ না ডাকায় এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার-ভূমি) সঞ্চিতা কর্মকারের বিরুদ্ধে এক মাছ ব্যবসায়ীকে লাথি মারার অভিযোগ ওঠে। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মাছ ড্রেনে ফেলে দেন এ সরকারি কর্মকর্তা।

২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর যশোরের অভয়নগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুস সোবহানকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি অফিস থেকে চার সাংবাদিককে বের করে দেন।

২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি ‘ম্যাডাম’ না বলায় স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর ওপর চটে যান পাবনার বেড়া ইউএনও ফারজানা খানম। উত্তেজিত হয়ে এ সময় ইউএনও সাংবাদিককে বলেন, ‘আপনি কতদিন ধরে সাংবাদিকতা করেন। আপনি জানেন না একজন ইউএনওকে স্যার বা ম্যাডাম বলতে হয়?’

২০১৮ সালের ৮ মার্চ ‘স্যার’সম্বোধন না করায় চট্টগ্রামের সংগঠক সাজ্জাত হোসেনের সঙ্গে তখনকার পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেলুল কাদের দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সাজ্জাত হোসেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ চট্টগ্রাম নগর কমিটির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী। সাজ্জাত পরে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগও দেন। সূত্র: জাগোনিউজ

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রসহ ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতকে ‌‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণার নির্দেশ

বিদেশের খবর : যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্সসহ ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা নির্দেশ দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

তুর্কি সমাজকর্মী ওসমান কাভালার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দেওয়ায় শনিবার (২০ অক্টোবর) ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতকে ‘ব্যক্তিত্বহীন’ ঘোষণার নির্দেশ দেন এরদোয়ান।

তাইয়েপ এরদোয়ান বলেন, ‘তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে এসব দেশের রাষ্ট্রদূতরা আদেশ দেওয়ার সাহস করতে পারেন না। তাদের অবশ্যই অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা উচিত। আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় আদেশ দিয়েছি এবং বলেছি কী করতে হবে। শিগগিরই তা সমাধান করা হবে।’

এরআগে মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কঠোর ভাষায় তিরস্কার করেছে তুরস্ক। সমাজকর্মী ওসমান কাভালার মুক্তি দাবি করে যৌথ বিবৃতি দেওয়ায় তাদের ডেকে পাঠিয়েছিল আঙ্কারা।

২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে বন্দি রয়েছেন ওসমান কাভালা। অভিযোগ, তিনি ২০১৩ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জড়িত ছিলেন। ২০১৬ সালে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানেও তার সমর্থন ছিল বলে দাবি করা হয়। এক মার্কিন ধনকুবেরের যোগসাজশে কাভালা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ এরদোয়ান সরকারের। তবে সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন ৬৪ বছর বয়সী এ ব্যবসায়ী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest