সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় দুর্গাপূজার নবমীতে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আশরাফুল আলমআশাশুনিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজসাতক্ষীরায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সাবেক মেয়র চিশতিউপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ: চারা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের অঙ্গীকারপ্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না শ্যামনগরের বিএনপি নেতা আদম আলীএখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরের

সাতক্ষীরায় ভাষা সৈনিক লুৎফর রহমানের সমাধি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন

দেবহাটা প্রতিনিধি : ভাষা সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম লুৎফর রহমান সরদারের সমাধী উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে ভাষা সৈনিকের কবরস্থান সংস্কার পরবর্তী উদ্বোধন ও তার সহধর্মীনির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাতক্ষীরা জেলা সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, অনলাইন ডেইলি সাতক্ষীরার সম্পাদক ও প্রকাশক হাফিজুর রহমান মাসুম, দেবহাটা থানার ওসি (তদন্ত) ফরিদ হোসেন,

জেলা পরিষদের সদস্য আল ফেরদাউস আলফা, ভাষা সৈনিকের পুত্র ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি আবু রায়হান তিতু সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তি।
এসময় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ভাষা সৈনিক লুৎফর রহমানের সহধর্মীনির শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘গণঅনশন ও অবস্থান’ কর্মসূচিতে ৮ দফা দাবি

দেশের খবর : কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিচার-বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন। শনিবার রাজধানীর শাহবাগে অবিস্থিত জাতীয় জাদুঘরের সামনে সকাল ছয়টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণঅনশন, অবস্থান ও বিক্ষোভ’ কর্মসূচি থেকে এসব দাবি জানান তারা।

তাদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো- সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সকল মন্দির, বাড়িঘর পুনঃনির্মাণ, গৃহহীনদের পুণর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করাসহ আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা ও নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে অন্যুন ২০ লক্ষ টাকা প্রদান বিকল্পে প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের একজনকে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করা; নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক হামলাকারী ও তাদের পেছনে থাকা চক্রান্তকারীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিশেষ ক্ষমতা আইন, সন্ত্রাস দমন আইনের আওতায় এনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুততম সময়ে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা; সাম্প্রদায়িক হামলাকারীদের রোধে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা সত্ত্বেও প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের মধ্যে যারা দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ও অবহেলা করেছেন তাদের চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা; সামাজিক গণমাধ্যম ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছাড়াও সাম্প্রদায়িক উস্কানিদাতাদের চিহ্নিত করে বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া; প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা সত্বেও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় যেসব প্রতিনিধি এগিয়ে আসেননি তাদেরকেও চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক রাজনৈতিক পদক্ষেপগ্রহণ করা; ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সংগঠিত সাম্প্রদায়িক ঘটনাবলি তদন্তে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনায় গঠিত সাহাবুদ্দিন কমিশনের সুপারিশ সম্বলিত রিপোর্ট অনতিবিলম্বে জনসমুক্ষে প্রকাশ ও এর সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে সরকারি দলের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পন আইনের দ্রুত বাস্তবায়নসহ ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে প্রদত্ত অঙ্গিকার দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
সম্পর্কিত খবর

সকাল ৬টা থেকে শাহবাগে এই কর্মসূচি শুরু করে। দুপুর সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে অনশন করার পর প্রায় ১ ঘণ্টা শাহবাগ মোড় আটকে রাখে বিক্ষোভকারীরা। এসময় শাহবাগ মোড়ের চারপাশে রাস্তায় তীব্র যানযট তৈরি হয়। সাড়ে ১২টার দিকে মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির এস অনশনকারীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করেন। এরপর বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে তাদের কর্মসূচি শেষ করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ করা হয়।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নিমচন্দ্র ভৌমিকের সভাপতিত্বে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী, মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, খুশী কবীর, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিনা আক্তার এমপি, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব পলাশ কান্তি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া, ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন কর্মকার, মহিলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য, শিক্ষক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক অরুণ কুমার বক্তব্য দেন।

কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘হামলার পর আমি রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি, সেখানে তারা বলেছে আমাদের মা আসবে কবে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারা আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। আপনি তাদের কাছে গিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে সংহতি জানান।’

তিনি বলেন, ‘মুসলমানদের মধ্যে যারা হামলা করেছে, তাদের উচিত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে গিয়ে ক্ষমা চওয়া। প্রত্যেক মসজিদের ইমামকে বলতে হবে এগুলো অনাসলামিক কাজ হয়েছে।’

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘এই হামলা শুধু হিন্দুদের ওপর হামলা নয়, গোটা বাঙালির ওপর হামলা। প্রশাসনের গাফিলতির কারণে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েছে। তাদের একটা অংশ এর জন্য দায়ী। প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা সাম্প্রদায়িক কর্মচারীদের নিষ্ক্রিয়তা চিহ্নিত করে, তদন্ত করে বিচার করতে হবে।’

সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক নিমচন্দ্র ভৌমিক বলেন, ‘আমরা এই সাম্প্রদায়িক হামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। আগে যে সকল হামলা হয়েছিল, সেগুলোরও বিচার করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ ট্র্যাইবুনাল গঠন করে এই হামলার বিচার করতে হবে। আমাদের আট দফা দাবি দ্রুত মেনে নিতে হবে।’

কর্মসূচিতে থেকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ঘোষিত আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ‘চল চল ঢাকায় চল’ শ্লোগানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানানো হয়। এছাড়া আগামী ৪ নভেম্বর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শ্যামাপূজায় দীপাবলী উৎসব বর্জন করে সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ৬ টা১৫ মিনিট পর্যন্ত কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে স্ব স্ব মন্দিরে নিরবতা পালন এবং মন্দির-মণ্ডপ ফটকে কালো কাপড়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বিরোধী শ্লোগান সম্বলিত ব্যানার টানানোর প্রতিবাদী কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানানো হয়।

কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ, বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ জোট, বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি),বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজসংস্কার সমিতি, জন্মাষ্টমী উদ্‌যাপন পরিষদ, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি, বাংলাদেশ মাইনরিটি সংগ্রাম পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু লীগ, মাইনরিটি রাইটস ফোরামের বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ফোরাম ও হিন্দু ছাত্র ফোরাম, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংরক্ষণ সমিতি, ইন্টারন্যাশনাল শ্রী শ্রী হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ অংশ নেয় ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় বিডিইআরএম এর মানববন্ধন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
পীরগঞ্জে জেলে পল্লীতে অগ্নিসংযোগ, দেশে দলিত ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন(বিডিইআরএম) সাতক্ষীরা জেলা শাখা ও উদ্দীপ্ত মহিলা উন্নয়ন সংস্থা, তালা-সাতক্ষীরার আয়োজনে শনিবার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন, বিডিইআরএম সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি দিলিপ কুমার দাস।
বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নারী বিষয়ক সম্পাদক জয়ন্তী রাণী দাস, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দুলাল চন্দ্র দাস, সদস্য মন্টু কুমার দাস, মতিন্দ্রনাথ দাস, শওকত আলী, বেদে সভাপতি আলী আকবর প্রমুখ।

সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, মৌমাছি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সুশান্ত মল্লিক।
বক্তারা বলেন, গত ১৭ অক্টোবর ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে রংপুরের পীরগরে মাঝিপাড়া জেলে পল্লীর ২৯টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা।

ধ্বংস্তপুরে পরিনত হয় ৬০টি পরিবার। পীরগঞ্জের আগে ফেনিতে সংঘর্ষ হয়। ১৬ অক্টোবর কুমিল্লায় পুজা ম-পে হামলার হয়। এরপর টানা তিনদিন নোয়াখালী, ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ২০১৩ সলে থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৭৯টি হামলা হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৯টি বাড়িঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে। ৪৪২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে আহত হয়েছে ৮৬২ এবং নিহত ১১ জন। বিডিইআরএম এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। অবিলম্বে এসব ঘটনার বিচার দাবি করেন এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় জনতা ব্যাংকের রোড শো

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় রোড শো করেছেন জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শনিবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ১ টায় এই রোড শো শহরের এরিয়া অফিসের সামনে থেকে বের হয়।

নেতৃত্ব দেন ব্যাংকের সাতক্ষীরা এরিয়ার ডিজিএম মোঃ হামিদুল হক। তাকে সহযোগিতা করেন এজিএম মোঃ রুকনুজ্জামান।
স্বয়ংক্রিয় চালান” পদ্ধতির মাধ্যমে সরকারি ট্রেজারি চালানের টাকা তাৎক্ষণিকভাবে জনতা ব্যাংক লিমিটেডের সকল শাখা হতে সেবা নিতে জনসাধারণকে অবহিত ও উদ্বুদ্ধ করতে এই রোড শো এর আয়োজন, বললেন জনতা ব্যাংকের সাতক্ষীরা এরিয়ার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার  (ডিজিএম) মোঃ হামিদুল হক। তিনি বলেন, পাসপোর্ট ফি, আয়কর, ভ্যাট, শুল্ক, সারচার্জসহ অন্যান্য সেবা ফিসহ সরকারি ট্রেজারি চালানের টাকা তাৎক্ষণিকভাবে জনতা ব্যংকের সকল শাখায় জমা দেওয়া যাচ্ছে।

বর্ণাঢ্য রোডশো’টি ব্যাংকের সাতক্ষীরা এরিয়া অফিসের সামনে থেকে শুরু হয়ে সাতক্ষীরা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। রোড শো’তে জনতা ব্যাংক সাতক্ষীরার সকল শাখার ব্যবস্থাপকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক চাকুরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ সাতক্ষীরার কলারোয়ার কুশোডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আসলামুল আলম আসলাম কর্তৃক ওয়ার্ড আ’লীগ নেতার সন্তানকে চাকুরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাত এবং বিভিন্ন ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে উপজেলার কলাটুপি গ্রামের মৃত ছমেদ আলীর ছেলে ভুক্তভোগী আওয়ামীলীগ নেতা বাবর আলী সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আমি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আমি কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। কুশোডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম কলাটুপি সরকারি প্রাথমিক

বিদ্যালয়ে আমার পুত্রকে দপ্তর কাম নৈশ প্রহরী পদে চাকুরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য ১লক্ষ ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি অতি কষ্টে ধার দেনা করে করে তার হাতে ১লক্ষ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করি। টাকা প্রদানের পর চেয়ারম্যান আসলাম আমার পুত্রকে চাকুরি দেননি।

টাকা ফেরত চাইলে তিনি আমাকে খুন জখমসহ বিভিন্ন হুমকি ধামকি প্রদর্শণ করেন। এছাড়া চেয়ারম্যান আসলাম পানিকাউরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হওয়ার সুযোগে মোটা অংকের নিয়োগ বাণিজ্যসহ শিক্ষক আলমগীর হোসেন চাকুরী থেকে পদত্যাগ করার পরও তার নামে ১৩ মাসের বেতন উত্তোলন করে তা আত্মসাত করেন।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্যা রুমি খাতুন আদালতে মামলাও দায়ের করেন।

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান আসলাম নিজেকে আওয়ামীলীগ দাবি করলেও তিনি একজন
স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সদস্য। তার ভাই ইমাম হোসেন খান নাশকতা মামলার আসামী হয়ে বিগত ১০/১২/২০১৫ তারিখে কলারোয়া থানার বিস্ফোরক আইনে আটক হয়ে
জেল খাটেন। ইমাম কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।

আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যানের একমাত্র ভাই হওয়ার সুবাদে ইমাম যুবদলের উচ্ছৃঙ্খল ক্যাডারের ভুমিকায় ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে কুখ্যাত রাজাকার কাদের মোল্যার ফাঁসিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শাকদাহ বাজারে আ’লীগ অফিস ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ করে পুড়িয়ে ভূস্মিভূত করেন এবং জাতির জনক
বঙ্গবন্ধু ও প্রধান মন্ত্রীর ছবি পদদলিত করেন।

এছাড়া ইমাম হোসেন প্রবীন আওয়ামীলীগ নেদুগাজী, ইশারত সরদারসহ অসংখ্যা আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মারপিট করে রক্তাক্ত করেন শুধু মাত্র ২০০১ সালের ১ অক্টোবর নৌকায় ভোট দেওয়ার কারনে। তিনি আরো বলেন, চেয়ারম্যান আসলাম বিরুদ্ধে পরিষদের বিধবা ভাতা, মাতৃভাতা, ভিজিডি এবং প্রতিবন্ধীভাতাসহ অনুদানের অর্থ আত্মসাতসহ সরকার প্রদত্ত ঘর দেওয়ার নাম করেও এলাকার অসহায় নিরিহ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া টাকার বিনিময়ে বিত্তশালীদের সরকারি ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন।

অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে তিনি শাকদাহ বাজারে বিলাশবহুল মাকেট, কলারোয়ার তুলশীডাঙ্গা সংলগ্ন খাদ্য গুদামের পাশে দুইতলা বাড়ি ক্রয় এবং নিজ বাড়িটিকেও আলীশান বাড়িতে রূপান্তর করেছেন। অথচ আমার মত দরিদ্র একজন
আওয়ামীলীগ কর্মীর সন্তানকে চাকুরি দেওয়ার নাম করে অর্থ হাতিয়ে তা আত্মসাত
করেছেন। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে ২০১৮-২০১৯ ও ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের ১৪টি
প্রকল্পের কাজ না করে অর্থ আত্মসাথের অভিযোগে স্থাণীয় সরকার, পল্লী  উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালায়ের সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা
হয়। যা টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়।  সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এ সময় একজন দরিদ্র আওয়ামীলীগ কর্মী হিসেবে ওই দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান আসলামের কবল থেকে তার টাকা উদ্ধার এব তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুজিদ, কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যান মহিউদ্দীন, কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন আলীগের যুগ্ন সম্পাদক শিবাস্তিন মিত্র কালু, আ’লীগ নেতা ফজর আলীসহ এলাকাবাসী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে বংশীপুরে আ’লীগের ২ গ্রুপের সংঘর্ষে আহত-২

বিশেষ প্রতিনিধিঃ শ্যামনগরে বংশীপুরে আওয়ামীলীগের ২ গ্রুপের সংঘর্ষে ২ জন মারাত্মক আহত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে যানা যায় ,গত ইং ২২ অক্টোবর রাত ৮ টার দিকে আসন্ন শ্যামনগরের ইশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কে কেন্দ্র করে পরস্পর একে অপরের বিরুদ্ধে মিছিলের শ্লোগানের এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগ সমর্থীত সাদেম চেয়ারম্যান গ্রুপ ও শোকর আলী গ্রুপের মধ্যে বংশীপুর বাসস্ট্যান্ডে এ সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে সাদেকুর রহমান সাদেম গ্রুপের সমর্থিত বংশীপুর গ্রামের মুজিবর রহমানের স্ত্রী হাসিনা খাতুন(৫০) ও শোকর আলী গ্রুপের ধুমঘাট গ্রামের আহম্মাদ আলীর পুত্র আব্দুল জলিল(২৭) উভয়ই মারাত্মক হন। পরবর্তীতে স্থানীয় ও থানা পুলিশ উভয়ের সহযোগিতায় তাদেরকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।

ইশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক একাধিক বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান জি, এম, সাদেকুর রহমান সাদেক ওরফে সাদেম চেয়ারম্যান ২০১৯ সালে প্রথম দিকে আওয়ামীলীগে যোগদান করায় ইশ্বরীপুর ইউনিয়নে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন মুলক কাজের চিত্র জনগনের মাঝে তুলে ধরেন। যার ফলে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ জনগণ আসন্ন ইশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত সাদেম চেয়ারম্যান গ্রুপের জনসমর্থন দিন দিন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সাবেক চেয়ারম্যান জি, এম, সাদেকুর রহমান সাদেক ওরফে সাদেম চেয়ারম্যান জানান, সরকারের উন্নয়নের চিত্র ইশ্বরিপুর ইউনিয়নে প্রতিটি ওয়ার্ডের জনগণকে সচেতন করতে দিনরাত্র পথসভা সহ মতবিনিময় অব্যহত রাখার কারনে বর্তমান আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান শোকর আলী গ্রুপের লোকদের সাথে মুলত বিরোধ সৃষ্ঠি হয়। উভয় আওয়ামীলীগ সমর্থিন হওয়ার স্বত্তেও নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বংশীপুর বাসস্ট্যান্ডে মুলত এ বিরোধের সৃষ্টি হয়। এতে পথচারী সাদেম সমর্থিত হাসিনা খাতুন কে ব্যাপক মারধর ও ফুলা জখম করা হয়। অপর দিকে আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান শোকর আলী জানান, তার কর্মী আব্দুল জলিল কে বেধড়ক মারপিট করে সাদেম গ্রুপের লোকজন। শ্যামনগর থানার ওসি (তদন্ত) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনা শোনা মাত্রই সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছিয়ে উভয় পক্ষ কে বড় ধরণের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থেকে রক্ষা করে পরিবেশ শান্ত করা হয়, তবে এ পযর্ন্ত লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি অভিযোগ পেলে তিনি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা করবেন বলে জানান।এ ঘটনায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে উভয় পক্ষের মধ্য ব্যাপক টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় গণ অনশন

আসাদুজ্জামান : কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্ট্রগ্রাম, ফেনী ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে সারাদেশের ন্যায় সাতক্ষীরায় গণ অনশন, গণ অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার আয়োজনে শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত টানা তিন ঘন্টা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এ কর্মসুচি পালিত হয়।

গণ অনশন ও বিক্ষোভ কর্মসুচি পালনকালে সংহতি প্রকাশ করে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ (তালা+কলারোয়া) আসনের সাংসদ অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাধু, পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ, নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম, জাসদের জেলা সভাপতি শেখ ওবায়দুল সুলতান বাবলু

, রাধাশ্যামসুন্দর মন্দিরের অধ্যক্ষ কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী, জয় মহাপ্রভু সেবক সংঘের সভাপতি গোষ্ট বিহারী মন্ডল, সাংবাদিক রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, প্রমুখ।

সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার শীল।

বক্তারা বলেন, দুর্গাপুজা চলাকালিন মহাষ্টমীর দিনে কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড় মন্দিরে পরিকল্পিতভাবে রেখে দেওয়া একটি কোরআন শরীফকে নিয়ে সেখানে মন্দিরসহ হিন্দুদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট শেষে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এরপর একে একে চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নোয়াখালি, ফেনী, রংপুরসহ দেশের কমপক্ষে ১৫টি জেলার মন্দির, প্রতিমা, হিন্দুদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট শেষে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বক্তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বক্তারা এ সময় মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, নির্যাতন, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী জানান। ##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের পুনর্বাসনে সরকারের উদ্যোগ

দেশের খবর : সাম্প্রতিক সহিংসতার পর ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুদের পুনর্বাসন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের আস্থা বৃদ্ধির জন্য সরকার এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে।

সরকারি হিসেব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগে ২০,৬১৯ জনকে অভিযুক্ত করে মোট ১০২ টি মামলা দায়ের হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৮৪ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

সরকার ও দলের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা, খাদ্য, কাপড়, অন্যান্য নিত্য পণ্য এবং গৃহ নির্মাণ সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছেন যে, সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ঘর তৈরি করে দেয়া হবে। গণভবনে তাঁর সরকারি বাসভবনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে।

সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা তাদের সহায়তা করছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ৩৭টি জেলা ও তিনটি মহানগরীতে মোট ১১৭ প্লাটুন আধা-সামরিক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে, পুলিশ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ন (র‌্যাব) এবং সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী চব্বিশ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে।

অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দলের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগ তাদের দেশব্যাপী ইউনিটগুলোকে সতর্ক থাকতে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যে কোন সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা রোধ করতে সহায়তার নির্দেশ দিয়েছে। দলটি ইতোমধ্যেই জঘন্য সহিংসতার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমাবেশ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের প্রেক্ষিতে গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা, সংসদ সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং কাউকে তা নস্যাৎ করতে দেওয়া হবে না।’

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন মিডিয়াগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, এবং বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপকসহ দুই ডজনেরও বেশী লোককে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশনসহ সকল জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকতে এবং নিজ নিজ এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে যথাযথ ভূমিকা পালনের জন্য নির্দেশনা জারি করেছে এবং এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় রোববার ভার্চুয়াল বৈঠক করবে।

এলজিআরডি মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম পবিত্র কোরআন শরীফের অবমাননার অভিযোগে যেখান থেকেই সহিংসতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কুমিল্লার সেস্থান পরিদর্শন করেন।

ইতোমধ্যে পুলিশ সন্দেহভাজন ব্যক্তি ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। সে কুমিল্লার একটি পূজা মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরীফ রাখে বলে জানা যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এ আওয়াল হাওলাদার বলেন, এ মন্ত্রণালয় বিগত কয়েকদিন ধরে প্রধান ধর্মগুলোর ধর্মীয় নেতাদের সাথে বৈঠক করে শান্তি বজায় রাখার জন্য সচেতনতা সৃষ্টি ও লোকজনকে অনুপ্রাণিত করতে তাদের নির্দেশ দেন।

এদিকে ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান রংপুরের পীরগঞ্জে জেলে পল্লীর ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে যান এবং ৬১ পরিবারের প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা দেন। এর পাশাপাশি তিনি শিশু খাদ্য ও গবাদি পশুর খাবার বিতরণ করেন। সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবকের ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গ্রামে লোকজন হামলা চালায় এবং তাদের ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসিন বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারের জন্য মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে একশ’ বান্ডেল ঢেউ টিন, ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য চার লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং এক হাজার দুইশ’ প্যাকেট খাদ্য বরাদ্দ করেছে।

রংপুর জেলা প্রশাসন রোববার রাতে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৫ পরিবারের মধ্যে নগদ নয় লাখ টাকা এবং একশ’ বান্ডিল ঢেউ টিন বিতরণ করেছে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) গৃহহীন মানুষকে আশ্রয় দিতে অনেক ক্যাম্প স্থাপন করেছে যাতে তাদেরকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে না হয়।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ পীরগঞ্জ গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের দেখতে যান এবং সহিংসতা ও হামলার শিকার হওয়া প্রত্যেক হিন্দু পরিবারের মাঝে পাঁচ হাজার টাকা ও ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন পরিবারকে নগদ টাকা, খাদ্য ও বস্ত্র দেয়া হয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের একটি কেন্দ্রীয় টিম দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে খুব শিগগিরই সারা দেশ সফর করবেন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু এবং হুইপ আবু সাঈদ আল-মাহমুদ স্বপনসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা রংপুরের ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে যান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest