সর্বশেষ সংবাদ-
প্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক রহমাতুল্লাহর মৃত্যুসাতক্ষীরায় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সভা: সভাপতি মুনির- সম্পাদক সামাদসাতক্ষীরায় ঘোড়ার মাংস গরু বলে বিক্রির অভিযোগে এক ব্যক্তি আটকসরকার গণতন্ত্রের পরিবর্তে জবরদখল ও দলীয়করণ শুরু করেছে: এমপি ইজ্জত উল্লাহআ.লীগ ও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করে দেশ চালাচ্ছে সরকার: নাহিদএনসিপির কমিটি পুনর্গঠন: পাটওয়ারী-হাসনাত-সারজিস-আসিফের পদোন্নতি৮১ বছরে জাতিসংঘ: বিশ্ব চায় প্রতিশ্রুতির কার্যকর বাস্তবায়ন – নিকোলাস বিশ্বাসএরশাদের ৯ বছরের শাসন আমলে দেশের মানুষ সবচেয়ে ভালো ছিল: সাবেক এমপি আশুসাতক্ষীরায় জামায়াতে যোগ দিলেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা ফারুক হোসেনসাতক্ষীরায় পৌর ও সদর উপজেলা তাঁতীদল এর সাংগঠনিক আলোচনা সভা

পরীমনির মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

বিনোদন সংবাদ : কারাবন্দী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনির মুক্তির দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষুব্ধ নাগরিকজনের ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়েছে। শনিবার (১৪ আগস্ট) বিকেল চারটায় শুরু হওয়া এই মানববন্ধনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন লন্ডন অবস্থানরত বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী। চলচ্চিত্র, রাজনৈতিক ও সংস্কৃতি অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষ এই মানববন্ধনে অংশ নেন।

পরীমনির মুক্তির দাবি জানিয়ে গাফফার চৌধুরী বলেন, পরীমনির সঙ্গে যেটা করা হয়েছে সেটা অন্যায়। নারী বলে তাকে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানাই আমি।

লেখক ও মানবাধিকার কর্মী শাশ্বতী বিপ্লব বলেন, দেশে এখন নষ্ট মেয়ে বানাবার চল শুরু হয়েছে। যাকে যখন ভালো লাগবে না তাকে তখন নষ্ট মেয়ের তকমা লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা হতে পারে না। নষ্ট মেয়ের তকমা লাগানো খুবই সহজ। প্রতিটি প্রতিবাদী নারীকে নষ্টা মেয়ে তকমা লাগাতে পারেন। কারা এই মেয়েদের নষ্ট করেছে? নষ্ট মেয়ে ঠিক করা তো আপনাদের কাজ না। মোল্লাদের মতো কিছু কিছু সংবাদমাধ্যমও নারীদের চরিত্র হননে ব্যস্ত হয়ে গেছেন। এটা বন্ধ হওয়া উচিত।

বিক্ষুব্ধ নাগরিকজনের আহ্বায়ক ও শ্রাবণ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী রবিন আহসান বলেন, আমরা আজ শুধু পরীমনির জন্য দাঁড়াইনি, আমরা দেশের সমগ্র নারী সমাজের জন্য দাঁড়িয়েছি। তালেবানের আফগানিস্তানের মতো নারীদের পাথর ছুঁড়ে মারার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। মাত্র কয়েক বোতল মদের জন্য ৬ দিন রিমান্ড। অথচ গুলশান বনানী সব জায়গায় মদ আছে, সেগুলোর খোঁজ কে রাখে। কিন্তু মদ পাওয়ায় পরীমনিকে আটকে রাখা হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায় এর পেছনে অন্য কিছু আছে। এমন চলতে থাকলে এমন দিন আসবে যেদিন নারী সংবাদ পাঠক পাব না, চলচ্চিত্রে প্রতিভাবান নায়িকা পাব না। গণমাধ্যম দীর্ঘসময় পরীমনিকে নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করেছে। পুলিশ যেভাবে উপস্থাপন করেছে, সংবাদমাধ্যম সেভাবেই কাজ করেছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এই প্রথম এভাবে নারী নিপীড়নের সংবাদ প্রচার হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বোট ক্লাবের ঘটনার পরই কেন পরীমনির বাসায় অভিযান। আপনারা কেন প্রশ্ন করেন না যে, একটা বোট ক্লাব কেন পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা চালাবে? পরীমনিকে দ্রুত মুক্তি না দিলে সাংস্কৃতিক সমাজকে নিয়ে বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। কেউ আমাদের সঙ্গে না থাকলেও সামাজিক গণমাধ্যম আমাদের সঙ্গে আছে। শুধু পরীমনি নয়, আমরা সবাই নারী সমাজের পাশে দাঁড়াবো।

রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড আবুল হোসেন বলেন, জাতীয় শোক দিবসের প্রাক্কালে এই ধরনের বিক্ষুব্ধ কথা বলতে হবে এটা আমরা চিন্তা করিনি। এই সমাজ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কাজ হলো নারীকে অবদমন করা ৷ পরীমনির সঙ্গে সেটাই করা হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে কোনো বাড়তি সুবিধা চাই না। পরীমনি একজন বাংলাদেশের নাগরিক। তার ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। সরকারের কাছে আমরা সেই দাবিটুকুই জানাচ্ছি।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক রঞ্জু চৌধুরী, মানবাধিকারকর্মী মুশফিকা লাইজু, নির্মাতা রাশিদ পলাশ, নির্মাতা সংগীতা ঘোষ, প্রকাশক দেলোওয়ার হোসেন, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোক্তা আকরামুল হক প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেশের খবর : জাতীয় শোক দিবস আজ। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দিবসটি পালন করবে। তবে, এবারও বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করা হবে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য ধানমণ্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তাঁর অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

দেশে করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে ও জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে এ মাসের প্রথম দিন থেকেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করছে।

স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন। টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দলের শ্রদ্ধা নিবেদন। এ ছাড়াও, দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীতে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থা জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ব স্ব কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে।

মূলত, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট থেকেই বাংলাদেশে এক বিপরীত ধারার যাত্রা শুরু করে। বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক শাসনের অনাচারি ইতিহাস রচিত হতে থাকে।

সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেল জয়ী পশ্চিম জার্মানির নেতা উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যে কোনও জঘন্য কাজ করতে পারে।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ সি চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে।

দ্য টাইমস অব লন্ডন-এর ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় উল্লেখ করা হয় ‘সব কিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সব সময় স্মরণ করা হবে। কারণ, তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোনও অস্তিত্ব নেই।’ একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’

শেখ মুজিবের সুচিন্তা থেকে আজকের বাঙালিরও শেখার আছে উল্লেখ করে ভারতীয় বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন সম্প্রতি বলেছেন, তাঁকে ‘বাংলাদেশের জনক’ বা বঙ্গবন্ধু বলাটা নিতান্তই কম বলা। তিনি এর চেয়ে বড় কোনও অভিধা এবং নাম কিনতে চাননি। মানুষ তাঁকে অন্তর থেকে ভালোবাসতেন।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদ বিচারের হাত থেকে খুনিদের রক্ষা করতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সকে আইন হিসেবে অনুমোদন করেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সুদীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় এলে ১৯৯৬ সালের ১৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তিন প্রধান আসামি বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

একই বছরের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারী (পিএ) এ এফ এম মোহিতুল ইসলাম পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি এফআইআর করেন।

১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর খুনিদের বিচারের হাতে ন্যস্ত করতে পার্লামেন্টে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং একই বছরের ১২ মার্চ ছয় আসামির উপস্থিতিতে আদালতে বিচার শুরু হয়।

১৯৯৭ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত বিচারক বিব্রত হওয়াসহ স্বাধীনতা-বিরোধী চক্রের নানা বাধার কারণে আটবার বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর মামলার রায়ে বিচারক কাজী গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। অন্যদিকে, ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৪ দিনের শুনানি শেষে বিভক্ত রায় প্রদান করে। বিচারক এম রুহুল আমিন অভিযুক্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বজায় রাখেন। কিন্তু অপর বিচারক এ বি এম খায়রুল হক অভিযুক্ত ১৫ জনকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

পরবর্তীতে ২০০১ সালের অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে বিচার কাজ বন্ধ থাকে। দীর্ঘ ছয় বছর পর ২০০৭ সালের ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুপ্রিম কোর্টে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করেন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ২৭ দিনের শুনানি শেষে পাঁচ আসামিকে নিয়মিত আপিল করার অনুমতিদানের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন।

২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর ২৯ দিনের শুনানির পর চূড়ান্ত আপিল শুনানি শেষ হয় এবং আদালত ১৯ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। ওইদিন (১৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির দায়ের করা আপিল আবেদন খারিজ করা হয়। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে ২৮ জানুয়ারি পাঁচ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে দায়মুক্ত করা হয়।

২০১০ সালের পর গত বছরের (২০২০) ১২ এপ্রিল ভারতে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর আরও একজন খুনি আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যার ৪৫ বছর, নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের মামলার ২৫ বছর এবং উচ্চ আদালতের রায়ে পাঁচ আসামির ফাঁসি কার্যকরের প্রায় ১০ বছর পর গ্রেপ্তার হয় খুনি মাজেদ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটার কুলিয়ায় গোপনে বাল্য বিবাহ করেও শেষ রক্ষা হলো না!

দেবহাটা ব্যুরো: লকডাউনে স্কুল বন্ধ, এই সুযোগে দেবহাটার বহেরা গ্রামের ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর সাথে একই গ্রামের ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রের বিয়ে দেওয়ায় অপ্রাপ্ত বয়স্ক ওই নববধূর মাকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

ঘটনাটি উপজেলার বহেরা গ্রামের। আহ্লাদে বিয়ে করা বর ও নববধূ উভয়েই স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

বাল্যবিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে শনিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাছলিমা আক্তার মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনাসহ নববধূর মাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

মহিলা বিষয়ক অফিসার নাসরিন জাহান জানান, কিছুদিন পূর্বে বহেরা গ্রামের হযরত আলী সাহা নামের এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন যে, তার স্কুল পড়ুয়া ৮ শ্রেণির ছেলের সাথে একই এলাকার রবিউল ইসলামের স্ত্রী নিজের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যাকে কাউকে না জানিয়ে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বয়স বাড়িয়ে বিয়ে দিয়েছেন। হযরত আলী নোটারী পাবলিকের নকল তুলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগটি দায়ের করেন।

তারই প্রেক্ষিতে শনিবার নির্বাহী অফিসার সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন এবং বাল্য বিয়ে দেয়ার অপরাধে ওই অপ্রাপ্ত বয়স্ক নববধূর মাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তাছাড়া সদ্য বিবাহিত দম্পত্তি প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত একে অপরের থেকে আলাদা থাকার নির্দেশনাও দেন।

এসময় মহিলা বিষয়ক অফিসার নাসরিন জাহান, কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছলিমা আক্তার জানান, ছেলের বাবার অভিযোগের সুত্র ধরে কন্যার বাড়িতে গিয়ে বাল্যবিয়ের সত্যতা পাওয়ায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কন্যার মাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি : মহামারী করোনাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের প্রস্তুতির উদ্বোধন ও জেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১২টায় সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উদ্যোগে পরিষদ চত্বরে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের প্রস্তুতি ও জেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করেন স্থানীয় সরকার খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মো. গিয়াস উদ্দিন।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহসান হাবিব, জেলা পরিষদের সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ¦ মো. আল-ফেরদাউস আলফা, এ্যাড. শাহনওয়াজ পারভীন মিলি, জেলা পরিষদের প্রকৌশলী আসিফ এহছান, জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস.এম খলিলুর রহমান প্রমুখ। এসময় অতিথিবৃন্দ সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করেন। এসময় জেলা পরিষদের সদস্য ও কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, রবিবার ১৫-ই আগস্ট সকালে মহামারী করোনাকালীন সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসাবে জেলার ৩ হাজার ২শ’ অসহায় পরিবারের মাঝে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ বিতরণ করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সারাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার শিয়ালী গ্রামের মল্লিকপাড়ায় ,পটুয়াখালীর কলাপাড়ার রাখাইন এলাকায়, সাতক্ষীরার ফতেপুর ও চাকদাহ গ্রামের হিন্দু পাড়ায়, যশোরের অভয়নগর, নাসিরনগর, কক্সসবাজারের রামু, শাল্লার হিন্দু পল্লী ও মৌলভী বাজার কুলাউড়ার আদিবাসীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলা ভাংচুর, লুটপাট ও জমি জবর দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখা ও তার অঙ্গ সংগঠণের পক্ষে থেকে এ কর্মসুচি পালন করা হয়।

শনিবার বিকেল চারটায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে আশাশুনি- সাতক্ষীরা সড়কে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহবায়ক সুজন ঘোষের সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালে বক্তব্য রাখেন সংগঠণের উপদেষ্টা অ্যাড. পঙ্কজ কুমার মল্লিক, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা ডাঃ সুব্রত ঘোষ, জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি প্রাণনাথ দাস, মানবাধিকার কর্মী রঘুনাথ খাঁ, হিন্দু মহাজোট সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি মিলন বিশ্বাস, হিন্দু যুব পরিষদের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সদস্য সচিব মনদীপ মণ্ডল, বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহবায়ক ধীমান সরকার, হিন্দু পরিষদ শ্যামনগর উপজেলা হিন্দু পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক পিযুস বাউলিয়া পিন্টু, হিন্দু পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক উত্তম দাস, দলিত পরিষদের নেতা জগবন্ধু দাস, তাপস কুমার ঘোষ, হিন্দু ছাত্র মহাজোটের সাতক্ষীরা জেলা শাখার উপপ্রচার সম্পাদক অনামিকা সরকার প্রমুখ।
বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘুরা তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক ছাড়া কিছু নয়। যেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে হিন্দুদের সমঅধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে সেখানে খুলনার রুপসা উপজেলার শিয়ালী মল্লিকপাড়ায় ৫৬টি হিন্দু বাড়িতে ভাঙচুর লাুটপাট, ৩৫ জনকে পিটিয়ে জখম ও ১০টি মন্দির ও মন্দিরের ভিতর প্রতিভা ভাঙচুর স্বাভাবিক বলে মনে হয়।

বাংলাদেশে বসবাস করতে হলে সকল হিন্দুদের একতাবদ্ধ হয়ে হিন্দুদের উপর সকল অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। #
সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন হিন্দু যুব পরিষদ আশাশুনি উপজেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক অনিমেষ বিশ্বাস ও হিন্দু ছাত্র পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহবায়ক ধীমান সরকার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাংলাদেশে ট্রায়াল হবে নাক দিয়ে শ্বাস নিলেই করোনার টিকার

স্বাস্থ্য সংবাদ : নাক দিয়ে শুধু একবার নিঃশ্বাস নেবেন। আর তাতেই আপনার টিকা নেওয়া হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, এই টিকা করোনাভাইরাসের সব ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধেই প্রায় শতভাগ কার্যকর।

ওয়েবসাইটে নিবন্ধন, হাসপাতালে যাওয়া, বিশাল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে টিকা সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে টিকা নেওয়া— এগুলো হতে পারে অতীত। আপনি টিকা নেবেন আপনার পছন্দ মতো সময়ে, নিজেরটা নিজেই।

একটি পাউডার টিকা সম্পর্কে এমনটিই বলা হয়েছে। বাংলাদেশ এই টিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে যাচ্ছে। সুইডেনের বিজ্ঞানীরা এমন একটি কার্যকর টিকা নিয়ে কাজ করছেন। টিকাটি মানুষের ওপর ট্রায়ালের অপেক্ষায় রয়েছে। সর্ব সাধারণের জন্য এটি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার আগে টিকাটির গবেষণা ও উন্নয়নের তৃতীয় এবং চূড়ান্ত ট্রায়াল হবে। যে ট্রায়াল আগামী মাসে বাংলাদেশে শুরু হবে।

সরকার যদি সহজভাবে গবেষণা ও অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়, আগামী বছরের শুরু থেকেই এই নাকে নেওয়ার টিকাটি ব্যবহারের জন্য সহজলভ্য হবে।

ট্রায়াল সফল হলে বাংলাদেশ উৎপাদন মূল্যে টিকাটি কিনতে পারবে। এমনকি দেশেও এই টিকা উৎপাদন করতে পারবে। জাতির পিতার নাম অনুসারে টিকাটির নাম ‘বঙ্গবন্ধু আইএসআর’ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সুইডিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হোল্ডিং এবি (আইএসআর) তাদের উৎপাদিত টিকাটি বাংলাদেশে মানুষের ওপর ট্রায়ালের খুব কাছে রয়েছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কয়েকজন ডাক্তার ও বিজ্ঞানী, যারা সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বাস করছেন, তারা এই টিকা তৈরির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

মানুষের ওপর ট্রায়ালের জন্য আইএসআর এই মাসের শুরুর দিকে কন্ট্রাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিআরও) হিসেবে বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস লিমিটেডের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

সিআরও এর প্রধান তদন্তকারী প্রফেসর ডা. এবিএম আবদুল্লাহ এবং প্রফেসর ডা. আহমেদুল কবির। রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই টিকার ট্রায়াল পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রথম ধাপের ১৮০ জন সুস্থ মানুষের ওপর এই পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে প্রফেসর আবদুল্লাহ জানান, করোনাভাইরাসের অন্যান্য দুই ডোজের টিকার মতোই এই টিকাটি প্রথমবার নাকের সামনে রেখে নিঃশ্বাস নেওয়ার পর তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার একই কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘ইঁদুরের ওপর পরিচালিত সুইডিশ এই টিকার ট্রায়ালের ফলাফল খুবই আশাব্যঞ্জক। কারণ এর কার্যকারিতার হার শতভাগের কাছাকাছি এবং টিকাটির কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। প্রধানমন্ত্রী টিকাটি সম্পর্কে সবকিছু জানেন। আমরা এর নাম বঙ্গবন্ধু আইএসআর রাখার প্রস্তাব দিয়েছি।’

প্রফেসর আহমেদুল কবির জানান, তারা ইতোমধ্যেই প্রটোকল প্রস্তুত করেছে এবং বাংলাদেশে ট্রায়ালের নৈতিক অনুমোদনের জন্য চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) কাছে জমা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সদস্য সচিব প্রফেসর কবির জানান, যদি প্রথম ধাপের ট্রায়াল সফল হয় তাহলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালও এদেশেই হবে।

তিনি বলেন, ‘ট্রায়ালের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বাংলাদেশ উৎপাদন খরচে টিকাটি কিনতে পারবে। এমনকি সরকার চাইলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এটি উৎপাদন করতে পারবে।’

আইএসআর এর বিজ্ঞানীদের মতে, শুকনো পাউডারের টিকাটি তৈরিতে কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রোটিন ব্যবহার করা হয় এবং এটি ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে।

তারা আরও জানান, টিকাটি উন্নয়নে একটি বড় সুবিধা হচ্ছে— বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত কোভিডের যে টিকাগুলো আছে সেগুলোর তুলনায় এটি সংরক্ষণ করা খুব সহজ।

আইএসআর প্রতিষ্ঠাতা সুইডেনের অন্যতম প্রধান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের ইমিউনোলজির প্রফেসর ওলা উইনকুইস্টের উদ্ধৃতি দিয়ে ২৬ জুলাই বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এই টিকার গেমচেঞ্জিং অবস্থান হলো, এটি তাপানুকূল পরিবেশে না রেখেই খুব সহজে বিতরণ করা যাবে এবং স্বাস্থ্যকর্মী না থাকলেও এটি প্রয়োগ করা যাবে।’

আইএসআর এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওলা উইনকুইস্ট তাদের ওয়েবসাইটে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের শুরুতে প্রথম ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আমার সন্তোষজনক সাফল্যের জন্য বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে খুবই আনন্দিত।’

প্রফেসর কবির জানান, যদি তারা ক্লিনিকাল ট্রায়ালের অনুমতি পায়, স্থানীয় একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক আইএসআর-এর সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী টিকা সরবরাহ করবে।

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ টিকা তৈরি ও বিতরণের জন্য আইএসআর ৬ জুলাই ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

‘সমঝোতা স্মারকের উদ্দেশ্য হলো, একটি লাইসেন্সিং চুক্তির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার জন্য সম্মত হওয়া। যা ইউনিমেডকে বাংলাদেশে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের বিরুদ্ধে আইএসআর এর টিকা তৈরি ও বিতরণের একচেটিয়া অধিকার দেবে,’ আইএসআর তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউনিমেড প্রতি বছর ১০০ মিলিয়ন ইউনিট টিকা উৎপাদন করবে। তাদের লক্ষ্য পাঁচ বছরের মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ইউনিট বা তার বেশি বার্ষিক উৎপাদন করা।

প্রফেসর কবীর জানান, যদি সবকিছু সুষ্ঠুভাবে হয় এবং বিএমআরসি দ্রুত অনুমোদন দেয়, তাহলে প্রথম ধাপের ট্রায়াল নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে এবং তথ্য বিশ্লেষণ করে তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু করা যাবে।

প্রফেসর কবির আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা আশা করছি আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে দেশে এই টিকা উৎপাদন করতে পারব।’

প্রক্রিয়ার শুরু :

ওলা উইনকুইস্টের সঙ্গে পরিচিত বাংলাদেশ-বংশোদ্ভূত সুইডিশ অর্থনীতিবিদ শাহজাহান সায়েদ যখন শুকনো পাউডার টিকা আবিষ্কারের কথা জানতে পেরেছিলেন তখন এই প্রক্রিয়া শুরু হয়।

শাহজাহান তখন কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডা. আরিফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বাংলাদেশে টিকাটির ট্রায়ালের জন্য।

ডা. আরিফুর তখন চার জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক— হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. চৌধুরী হাফিজ আহসান ও প্রফেসর ডা. মাসুদুল হাসান, নেফ্রোলজিস্ট প্রফেসর ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ সাদেক এবং জাতিসংঘের সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা মাহমুদ উশ সামস চৌধুরীকে বাংলাদেশে ট্রায়াল শুরু করার জন্য বাংলাদেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

প্রফেসর আবদুল্লাহ এবং প্রফেসর কবির তখন ট্রায়ালের জন্য একটি প্রটোকল প্রস্তুত করেন। ডা. আরিফুর এতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন এবং সুইডেন থেকে পুরো বিষয়টি সমন্বয় করেন।

ডা. আরিফুর জানান, কোভিডের কারণে বাংলাদেশ ভয়াবহভাবে ভুগছে। তাই তারা এগিয়ে এসেছেন।

তিনি বলেন, ‘এখন সবকিছু প্রায় প্রস্তুত। টিকার কোনো বিরূপ প্রভাব আছে কিনা সে বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন পাব বলে আশা করছি। জার্মান একটি সংস্থার কাছ থেকে প্রতিবেদন পেলে আমরা এটি সিআরও এর কাছে পাঠাব। যাতে এটি ট্রায়ালে নৈতিক অনুমতির জন্য বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারে।’

‘আমরা আশা করি ট্রায়াল সফল হবে এবং বাংলাদেশ কোভিড টিকা উৎপাদনে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবে,’ তিনি বলেন।

প্রফেসর মাসুদুল বলেন, ‘সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হলে এটিকে আমরা জাতির জন্য একটি মহান সেবা হিসেবে বিবেচনা করব।’

‘দেশপ্রেম আমাদের প্রচেষ্টার পিছনে একমাত্র চালিকা শক্তি। আর কিছু নয়। সংকটের এই মুহূর্তে আমরা দেশের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলাম। এর আগে, আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভেন্টিলেটর এবং টিকার ব্যবস্থা করেছি এবং সেগুলো বাংলাদেশে পাঠিয়েছি,’ যোগ করেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে স্বেচ্ছায় রক্তদান

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১টায় সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত রক্তদান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম আশিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, জেলা আওয়ামীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি একেএম ফজলুল হক।
রক্তদান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শেখ সাহিদ উদ্দীন, সৈয়দ ফিরোজ কামাল শুভ্র, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু, আ.হ.ম তারেক উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান,কাজী আক্তার হোসেন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতি, দপ্তর সম্পাদক হারুন উর রশিদ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: সুব্রত কুমার ঘোষ, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড.ওসমান গণি, কলারোয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ স্বপন, সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক জহিরুল ইসলাম নান্টু প্রমুখ। এসময় জেলা ছাত্রলীগের সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন হোসেন।
পরে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের দেওয়া ৩০ ব্যাগ রক্ত সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পরীমণি ইস্যুতে শিল্পী সমিতির আচরণে শাকিব ক্ষুব্ধ

বিনোদন সংবাদ : ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা পরী মণি গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্প সমিতির আচরণ ‘বিতর্কিত’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খান।

দীর্ঘ এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে শাকিব খান লিখেছেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে খেয়াল করছি শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে পরী মণি গ্রেপ্তারের পর তার প্রতি কোনো ধরনের সহযোগিতার হাত না বাড়িয়ে, দুঃসময়ে শিল্পীর পাশে না থেকে উল্টো তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। মুহূর্তে পরী মণির সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে! এ যেন কাটা ঘায়ে নুনের ছিঁটে!’

পরী ইস্যুতে শাকিব প্রশ্ন তুলেছেন, ‘সমিতির এই আচরণ সত্যিই খুব রহস্যজনক। বিষয়টি নিয়ে বিবেকবান অনেক সিনিয়র জুনিয়র শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের আক্ষেপ রয়েছে। শিল্পীর সাথে সংগঠনের এটি একটি অমানবিক আচরণ। প্রশ্ন থেকে যায়, এখনকার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি তাহলে কাদের স্বার্থে?’

পরী মণির দুই সিনেমার নায়ক ও একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনায়ক শাকিব আরও যুক্ত করেছেন, ‘বিগত দিনেও একাধিক সিনিয়র শিল্পী এর চেয়েও ভয়ঙ্কর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। কিন্তু তখনকার শিল্পী সমিতি অভিযুক্ত সদস্যের সদস্যপদ স্থগিত করেনি। বরং পাশে ছিল, রাস্তায় নেমেছিল। কিন্তু এখনকার শিল্পী সমিতির এসব আচরণ বিতর্কিত। আবারও বোঝা গেল, এই শিল্পী সমিতি সবাইকে এক করতে পারেনি, বরং বিচ্ছিন্ন করেছে। বিভেদ তৈরি করে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের পরিবেশ নষ্ট করেছে। হয়তো এ জন্য চলচ্চিত্রের আজ এই দুর্দশা। এমনিতেই নানা কারণে সিনেমা আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তার মধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সামনে আরো ঘোর বিপদ।’

৪ আগস্ট পরী মণির বাসায় অভিযান চালিয়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) নানা ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ, ভয়ংকর মাদক এলএসডি (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডায়েথিলামাইড), ইয়াবা এবং আইস (ক্রিস্টাল মেথ) উদ্ধার করে। এর পর ৭ আগস্ট বিকাল ৫টায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা পরী মণির সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত করে চলচ্চিত্র শিল্পীদের স্বার্থ সংরক্ষণে গঠিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি।

বর্তমানে চিত্রনায়িকা পরী মণি রিমান্ড শেষে কারাগারে আছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest