সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় পূর্ব শত্রুতার জেরে মুদি ও চায়ের দোকানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগডিবিসি নিউজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ: ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহানভিডিও কন্টেন তৈরীর আড়ালে চাঁদাবাজী -ব্লাকমেইল-আলোচিত মামুন গ্রেফতারশ্যামনগরে অনলাইন জুয়া চক্রের মূল হোতা আটক: ‌দুটি মোবাইল জব্দসাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের ২০২৭ সালের ইংরেজি নববর্ষ প্রকাশনার উদ্বোধন১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে এবার দাম বাড়ল ২২৩ টাকাসাতক্ষীরায় নির্মানাধীন ভবনের কাজ নিয়ে দুপক্ষের বিরোধের মীমাংসাবীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা: সাতক্ষীরায় মানববন্ধনশ্যামনগরে বাস-ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে ইজিবাইক চালক নিহততালায় উপজেলার শ্রেষ্ঠ সংগঠক নির্বাচিত তরুণ সমাজকর্মী এস. এম. নাহিদ

জেএমবির ‘ভারপ্রাপ্ত আমির’ রেজা গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক : জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) ভারপ্রাপ্ত আমির রেজাউল হক রেজা ওরফে তানভীর মাহমুদ শিহাবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ বলছে, রেজাউল বর্তমানে জেএমবির ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। সংগঠনটির একমাত্র সূরা সদস্যও তিনি। অনেক দিন পর জেএমবির শীর্ষ কোনো নেতা ধরা পড়লো। সর্বশেষ জেএমবির ভারপ্রাপ্ত আমির ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার খুরশিদ আলম। ২০১৮ সালের দিকে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান তিনি।

সিটিটিসির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ চৌধুরী বলেন, জেএমবির ভারপ্রাপ্ত আমিরের পদ ছাড়াও রেজাউল সংগঠনটির দাওয়া এবং বাইতুলমাল বিভাগের প্রধান। তিনি মূলত জেএমবির শীর্ষ নেতা সালাউদ্দিন সালেহীনের নির্দেশনায় বর্তমানে সংগঠনকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সালেহীন অনেক দিন ধরে দেশের বাইরে পলাতক। ২০০৫ সালে দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলায়ও রেজাউল জড়িত ছিলেন। সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় ওই বছরই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি।

পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ দিন কারাগারে থাকার পর ২০১৭ সালে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার সাংগঠনিক কাজে সম্পৃক্ত হন জেএমবির ভারপ্রাপ্ত আমির। তার বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। বিমানবন্দর ও জিআরপি থানার দু’টি মামলার আসামিও তিনি। ওই দুই মামলা আদালতে বিচারাধীন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল পুলিশকে জানান, দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফরের মাধ্যমে নতুন সদস্য সংগ্রহে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি। সারা দেশে জেএমবির সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদার টাকায় পরিচালিত কথিত বাইতুলমাল তত্ত্বাবধান করেন রেজাউল। এরই মধ্যে জেএমবির সদস্য কারাবন্দি তাদের পরিবারকে প্রায় নিয়মিত অর্থ সহায়তা করে আসছেন তিনি। বিভিন্ন সময় অনলাইনের মাধ্যমে সারাদেশের জেএমবি সদস্যদের মাঝে উগ্র মৌলবাদী বিষয় নিয়ে বক্তৃতা দিতেন রেজাউল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মেয়াদোত্তীর্ণ ইউপি চেয়ারম্যানরা তিন মাস বাড়তি সময় পেলেন

অনলাইন ডেস্ক : পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও যেসব ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন করা সম্ভব হচ্ছে না, সে সব ইউপির মেয়াদ আরো তিন মাস বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউপিতে একজন চেয়ারম্যান কিংবা মেম্বার সর্বোচ্চ নব্বই দিন চেয়ারে থাকবেন। তবে তার আগেই নির্বাচন হয়ে গেলে কমে যাবে বাড়তি দায়িত্বের সময়।

দৈব দুর্বিপাকজনিত (করোনা মহামারি) নির্বাচন স্থগিতের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রাম পর্যায়ের সরকারে সুযোগটি পাচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমদ এ বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন থেকে দ্বৈব দুর্বিপাকজনিত ভোট করতে না পারার চিঠি পেয়েছি। তার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকদের ইতোমধ্যে নির্দেশনা পাঠিয়েছি। এ ক্ষেত্রে যেসব ইউপির মেয়াদ শিগগিরই শেষ হবে এবং তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন স্থগিত হয়েছে, সেসব ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান, মেম্বাররা সর্বোচ্চ নব্বই দিন দায়িত্ব পালন করবেন।

গত বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) স্থানীয় সরকার সচিবকে এ সংক্রান্ত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা পাঠান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান।

এতে উল্লেখ করা হয়, সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতি হওয়ার কারণে জনসমাগম এড়ানোর লক্ষ্যে আগামী ১১ এপ্রিল ২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ১ম ধাপে ১৯টি জেলার ৬৪টি উপজেলার ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন; সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এর শূন্য পদে উপনির্বাচন এবং সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের ১১নং সাধারণ ওয়ার্ডের শূন্য সদস্য পদে নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

ফলে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ধারা ২৯(৩) অনুসারে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯ এর ২৯(৫) ধারা অনুযায়ী পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে বিষয়টি অবহিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

ইউপি আইনের ২৯(৫) ধারায় বলা হয়েছে, দ্বৈব-দুর্বিপাকজনিত বা অন্যবিধ কোনো কারণে নির্ধারিত ৫ (পাঁচ) বৎসর মেয়াদের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হইলে, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কিংবা অনধিক ৯০ (নব্বই) দিন পর্যন্ত, যাহা আগে ঘটিবে, সংশ্লিষ্ট পরিষদকে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে।

হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, এমন বিষয় সামনে এলে সিটি করপোরেশনে আমরা প্রশাসক নিয়োগ করে থাকি। কিন্তু ইউপিতে যারা দায়িত্ব করছেন, তাদেরই দায়িত্ব দেওয়ার কথা আইনে বলা আছে।

ইউপি আইন অনুযায়ী, কোনো পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা, এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, সংশ্লিষ্ট পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠানের তারিখ থেকে ৫ বছর সময়ের জন্য ওই পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন। নির্বাচনের বিষয়ে বলা হয়েছে, পরিষদ গঠনের জন্য কোন সাধারণ নির্বাচন ওই পরিষদের জন্য অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী সাধারণ নির্বাচনের তারিখ থেকে ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।

সবশেষ ২০১৬ সালে ছয় ধাপে ৪ হাজারের বেশি ইউপিতে ভোট করেছিল ইসি। সে সময় ২২ মার্চ ৭৫২টি, ৩১ মার্চ ৬৮৪টি, ২৩ এপ্রিল ৬৮৫টি, ৭ মে ৭৪৩টি, ২৮ মে ৭৩৩টি এবং ৪ জুন ৭২৪টি ইউপিতে অর্খাৎ ছয় ধাপে মোট ৪ হাজার ৩২১টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বাকি ১৬২টিতে অন্যান্য সময়ে ভোট হয়েছে।

পরিষদের নির্বাচনের মেয়াদ পূর্তির বিধান মোতাবেক এবার প্রথম ধাপে ২১ মার্চের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করা কথা। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ৩৭১ ইউপিতে ১১ এপ্রিল ভোটের তারিখ দিয়েছিল। এসব পরিষদে প্রথম সভার তারিখ একেকটাতে একেক রকম হওয়ায় সবাই একই পরিমাণ অতিরিক্ত সময় পদে থাকবেন, তা নয়। এ ক্ষেত্রে যাদের দায়িত্বের মেয়াদ আগে শেষ হবে তারা অপেক্ষাকৃত বেশি বাড়তি দিন পাবেন। যারা প্রথম সভা পরে করেছেন তারা কম বাড়তি সময় পাবেন। কেননা, স্থগিতাদেশ ওঠে গেলে নির্বাচন একই দিন হবে।

ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান বলেন, খুব একটা সময় নাও পেতে পারেন তারা। যদি করোনা পরিস্থিতি এক মাস পরেই স্বাভাবিক হয়ে আসে, তখন তো নির্বাচন হয়ে যাবে। তাই আইন অনুযায়ী, সময়টা তারা বেশি পাচ্ছেন। কিন্তু পরিস্থিতি ঠিক হয়ে গেলে সে সুযোগ নাও থাকতে পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি, যেন করোনার চেয়ে ‘কেনাকাটা’ গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষ ডেস্ক : দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এরমধ্যেও প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। ফলে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউনে যাচ্ছে সরকার।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী সামনের লকডাউনগুলোতে জরুরি সেবা ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। ফলে সামনে বৈশাখ ও ঈদুল ফিতর থাকায় করোনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বিপণিবিতান ও শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

গত ৫ তারিখ থেকে দেশে বিধিনিষেধ আরোপ করায় সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় সরকার। তবে এ নির্দেশনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন করতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। পরে তাদের দাবির মুখে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেয় সরকার।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার শুরুর দিন থেকে প্রতিনি বিপণি বিতানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই লক্ষ্য করা যায়নি। রাজধানীর নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাদনী চক, নূরজাহান মার্কেটসহ বেশির ভাগ মার্কেটগুলোতেই ক্রেতাদের উপচে পরা ভিড় দেখা গেছে। আগের মতোই গাদাগাদি করে কিনতে হচ্ছে প্রয়োজনীয় পণ্য। এদের দেখে বোঝার উপায় নেই যে, গোটাদেশই এখন মহামারির হুমকিতে রয়েছে।

দেখা গেছে, সময় যত গড়িয়েছে ক্রেতার চাপে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যবিধি। মার্কেটের প্রবেশপথে জীবাণুনাশক টানেল থাকলেও তা ব্যবহারে চরম অনীহা দেখা যায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের। আবার বিপণিবিতানের ভেতরে মাস্ক ছাড়া দেখা যায় বিক্রয় কর্মীদেরও। ক্রেতাদের অনেকেরই দাবি, অনেকটা বাধ্য হয়ে এসেছেন কেনাকাটা করতে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় লাশ উদ্ধারের ৩ ঘন্টার মধ্যে আসামি আটক, ২০০ টাকার জন্য খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বন্ধুকে জবাই করে হত্যার খুনি বন্ধু সাগর হোসেনকে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিসহ তিন ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে সাতক্ষীরা পুলিশ।

২০০ টাকার জন্য তার বন্ধুকে খুন করেছে বলে স্বীকার করেছে সে । ঘাতক সাগর হোসেন (১৪) সাতক্ষীরা সিটি কলেজ এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে।

সাতক্ষীরার গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক ইয়াসিন আলম চৌধুরী জানান ঘাতক সাগর হোসেনকে শনিবার বিকালে লাশ উদ্ধারের তিন ঘন্টার মধ্যে শহরের পলাশপোলের সরকারি গোরস্থানের কাছ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শহরতলির লাবসা বাইপাসের কাছে একটি গ্যারেজ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো ছুরি জব্দ করা হয়েছে। তার দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী শুক্রবার রাত ৩ টায় সে তার বন্ধু সালাউদ্দিন কে হত্যা করে।

জবানবন্দির সূত্র ধরে তিনি আরও বলেন বন্ধু সাগর হোসেন সালাউদ্দিনের কাছে গাঁজা কিনবার জন্য ২০০ টাকা দিয়েছিল । কিন্তু সালাউদ্দিন গাঁজা কিংবা টাকা কোনোটাই ফেরত না দেওয়ায় সে তাকে খুন করেছে বলে জানিয়েছে। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এর আগে শনিবার বেলা দেড়টার দিকে সাতক্ষীরা শহরতলির কাশেমপুর মালীপাড়া এলাকা থেকে এক কিশোরের জবাই করা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত কিশোর ইজিবাইক চালক সালাউদ্দিন হোসেন(১৫) শহরতলীর কাশেমপুর মালীপাড়া শাহজাহান আলী ওরফে বাবুর ছেলে।

হত্যাকারী কিশোর সাতক্ষীরা সিটি কলেজ এলাকার সাগর হোসেন তার বাবা শহিদুল ইসলামকে যেয়ে এ খবর জানায় এবং নিহত বন্ধু সালাউদ্দিনের লাশ ঘরে রয়েছে বলে জানায়।

সালাউদ্দিনের বাবা শাহজাহান আলী বরাত দিয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ বোরহান উদ্দিন জানান, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে বন্ধু সাগর হোসেন তার বন্ধু ইজিবাইক চালক সালাউদ্দিন আহমেদের(১৫) ঘরে ঢোকে। এক পর্যায়ে সে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে সাগর হোসেন তার বাবা শহিদুল ইসলামকে এ খবর জানায়। নিহত সালাউদ্দিন বাড়ির একটি কক্ষে একাই থাকতো।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সালাউদ্দিন ও তার ঘাতক বন্ধু সাগর হোসেন দুজনেই ছিল মাদকাসক্ত। তারা মাদক কারবারের সাথেও জড়িত ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সরকারি দলের অনেকেই ব্যস্ত আত্মপ্রচারে, হেফাজত ঘটনা নিয়ে চুপচাপ

রাজনীতির খবর : সংসদীয় আসন ঢাকা-১৮ এর উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন ৫৬ জন। ব্যাপারটি দেশের ইতিহাসে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। ওয়ার্ড থানার নেতা, গার্মেন্ট মালিকসহ অনেক অচেনা মুখও ছিলেন নৌকা প্রতীকের প্রত্যাশায়। দলের দুঃসময়ে মাঠে না থাকলেও এমপি প্রার্থী হতে মরিয়া ছিলেন এসব নেতা। ‘অমুক’ ভাইকে এমপি পদে দেখতে চাই এমন প্রচারণায় ফেসবুকে সোচ্চার ছিলেন তাদের নিজ নিজ সমর্থকরা। শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচনই নয়, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন তো বটেই বিভিন্ন হাটবাজার সমিতির নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে নেতা-কর্মীদের যেন ঢল নামে। তৃণমূলের বিভিন্ন নির্বাচনে তো প্রার্থীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় কেন্দ্রকে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কিংবা আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মপ্রচারে সরব থাকেন রাত-দিন। তাদের কর্মী-সমর্থকরাও ‘ভাই’ কী করল, ‘ভাবি’ কোথায় মার্কেট করল সেগুলোও নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান দেন।

আর জন্মদিন কিংবা বিয়েবার্ষিকী হলে তো কথাই নেই। শুভেচ্ছাবার্তায় ভরে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর নিউজ ফিড। কিন্তু হেফাজতের তান্ডব ও তাদের নানা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মাঠে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাদের তৎপরতা তেমন দেখা যায়নি গত কয়েক দিনে। অর্থাৎ যখন আওয়ামী লীগ নেতাদের সরবতা প্রয়োজন সে সময়ে তারা নীরব থাকছেন। আর যখন প্রয়োজন নেই তখন নিজের আত্মপ্রচার, নিজের পদ-পদবি থেকে উচ্চ পদের নেতাদের নিয়ে তেলবাজিতে সরব থাকছেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২৬ মার্চ বাংলাদেশে দুই দিনের সফরে আসেন। এই সফর ঘিরে ২৩ মার্চ শুক্রবার থেকে হেফাজতে ইসলাম তান্ডব চালানো শুরু করে। শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করে তারা ঢাকায় বিক্ষোভ করে। এ সময় সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে ওই দিন বিকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হামলা-ভাঙচুর চালায় হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্ররা। সেখানে সংঘর্ষের ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদ জানাতে ওই দিন বিকালেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাস্তায় নামেন হেফাজত কর্মীরা। তারা রেলস্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং শহরে ব্যাপক তান্ডব চালায়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয় একজন। রেলস্টেশন, সরকারি অফিসসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেয়।

গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে নারীসহ স্থানীয় জনতার হাতে আটক হন হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক। এ ঘটনায় হেফাজতের নেতা-কর্মীরা তান্ডব চালিয়ে মামুনুলকে ছিনিয়ে নেয়। এরপর ওই নারী ও মামুনুলের ফোনালাপ ফাঁস হয়। বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্র-পত্রিকায় তা গুরুত্বের সঙ্গে ছাপা হলেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, সরকারের মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মীই দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন। আবার যারা পদ-পদবিতে নেই সেই নেতারা, বিশেষ করে সাবেক ছাত্রনেতাদের একটি বিশেষ অংশ ব্যাপক সরব ছিল। গতকাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ৮১ সদস্যের মধ্যে প্রায় ২৫ জন নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত কোনো পোস্ট চোখে পড়েনি। অর্থাৎ সময়ে নীরব থাকছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। আর অসময়ে সরব হয়ে উঠছেন। একইভাবে হেফাজতের আস্ফালন নিয়ে সরকারের একজন উপমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই কড়া অবস্থানে ছিলেন। কিন্তু অন্য মন্ত্রী বা দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ‘দেখা যাক পরিস্থিতি কোন দিকে যায়’ পর্যবেক্ষণে ছিলেন।

গত রবিবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন হেফাজতের তান্ডব নিয়ে বক্তৃতা করেন, তারপর কিছু নেতা ও মন্ত্রী হেফাজতের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চেয়ে টেলিভিশন কিংবা অনলাইন পত্রিকায় সাক্ষাৎ বা বিবৃতি দিয়েছেন। ‘আইডিতে রিপোর্ট’ করে ডিজএবল করে দেবে এই ভয়ে তারা নীরব ভূমিকায় রয়েছেন বলে একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ছাত্রলীগ-যুবলীগের অনেক নেতা-কর্মী হেফাজতের কর্মকান্ড সমর্থন করে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে সমর্থন দিয়েছেন। এ জন্য কয়েকজনকে ইতিমধ্যে পদচ্যুত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের নেতারা কিংবা মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর দিকে চেয়ে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী কোনো ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিলে তখন তারা ঝাঁপিয়ে পড়েন। তার আগে কেউ কিছু বলেন না। তারা এও বলছেন, সব যদি একজন ব্যক্তিকেই করতে হয় তাহলে এত বড় মন্ত্রিসভা কিংবা দলের এত বড় কমিটি রেখে লাভ কী? শুধু আওয়ামী লীগই নয়, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, তাঁতী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সম্মেলনের হাজার হাজার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা রয়েছেন। জেলা-মহানগর, উপজেলায় পৃথক পৃথক কমিটি রয়েছে। কেউ হেফাজতের তান্ডব, ফোনালাপ ফাঁস, কিংবা হেফাজত আওয়ামী লীগকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে, সেসবের জবাব দিচ্ছেন না। যারা দলীয় পদ-পদবিতে নেই শুধু তারাই সোচ্চার হয়েছেন। আবার একটা সময় আওয়ামী লীগের সাইবার যোদ্ধা হিসেবে যারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন, তাদের অনেকেই ফেসবুকে নীরব। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের একটি উপ-কমিটির উদ্যোগে কয়েক লাখ সাইবার যোদ্ধা সৃষ্টি করার ঘোষণা দিলেও সেটার কোনো প্রতিফলন হেফাজতের তান্ডবের সময় চোখে পড়েনি।

সূত্রমতে, ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিল দেড় ডজন। হেফাজতের ‘কারখানা’ খ্যাত যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ এবং ডেমরা এলাকায় উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে দৌড়ে যেসব প্রার্থী ছিলেন তারাও হেফাজতের তান্ডবের সময় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহস দেখাননি। সঠিক নেতৃত্ব না থাকায় যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ, সাইনবোর্ড, শনির আখড়ায় ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে হেফাজত। এই সময়ে হেফাজতের নেতাদের নানা অপকর্ম যখন বের হচ্ছে, তখন আওয়ামী লীগ নেতা-মন্ত্রীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নীরব থাকা নিয়ে খোদ দলের ভিতরে-বাইরেই নানামুখী প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সাবেক ছাত্রনেতারা রাগে-ক্ষোভে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখছেন, এখনই চেনার উপযুক্ত সময় ‘সীমিত পরিসরে’ কারা আওয়ামী লীগ করছে। তারা আরও লিখছেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতা কিংবা মন্ত্রীদের কাছে হাইব্রিডদের ধাক্কায় যাওয়া যায় না। ‘তেলবাজ’ নব্য লীগাররা ‘ভাই লীগ’ নিয়ে যত সক্রিয় সরকারের উন্নয়ন প্রচার কিংবা অপপ্রচারের জবাব দিতে ততটা নন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
স্বাধীনতার জন্য লড়াইকারীদের নাম এখন উচ্চারণ হয় না : মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা দীর্ঘকাল ধরে স্বাধিকার-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন এখন আর তাদের কারো নাম উচ্চারণ হয় না। এমনকি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, তাজউদ্দীন আহমদ, জিয়াউর রহমানের নামও আজকে উচ্চারিত হয় না।

শনিবার বিকেলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক প্রবাসী সরকারের ভূমিকা ও প্রস্তাবিত প্রজাতন্ত্র দিবস’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়। মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল সমগ্র জাতির আত্মবিকাশের আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সংবিধানকে ছিন্নভিন্ন করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে তিরোহিত করে।

তিনি আরো বলেন, ইতিহাসের সত্য না বলা অপরাধ। আওয়ামী লীগ তাদের তৈরি করা ইতিহাস প্রতিষ্ঠা করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনায় আরো অংশ নেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, ছানোয়ার হোসেন তালুকদার, সা কা ম আনিছুর রহমান খান, সিরাজ মিয়া, তানিয়া রব এবং প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
খুলনা স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক দুই বছর ধরে থাকেন রেস্টরুমে, দেন না ভাড়াও

খুলনা প্রতিনিধি : খুলনা স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা। দুই বছরেরও বেশি সময় আগে খুলনায় যোগদানের পর থেকেই সপরিবারে থাকছেন খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের রেস্টরুমে। দীর্ঘ এ সময় ধরে রেস্টরুম ব্যবহার করলেও তার জন্য কোনো ভাড়া দেন না রাশেদা সুলতানা। অথচ প্রতি মাসে বাসাভাড়া ভাতা হিসেবে ৩২ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেন সরকারের তহবিল থেকে। খুলনায় দায়িত্ব পালনকালে রেস্টরুমের ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচসহ প্রায় ৬ লাখ টাকা সরকারি তহবিলে জমা দেননি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন এ কর্মকর্তা।

এদিকে রাশেদা সুলতানা গেস্টরুম আটকে রাখায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সিভিল সার্জন কার্যালয়কে। ওই কার্যালয় সংশ্লিষ্ট কাজে অন্যান্য জেলা থেকে কোনো কর্মকর্তারা এলে তাদের বিকল্প কোনো জায়গায় রাখতে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের। আর শুধু রেস্টরুম ব্যবহারই নয়, ভবনটির একটি সেমিনার কক্ষও রাশেদা সুলতানা প্রায়ই বিনা ভাড়ায় ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, খুলনা নগরীর বড় মির্জাপুরের সামসুর রহমান সড়কের শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের (স্কুল হেলথ ক্লিনিক) দুই তলায় খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ‘রেস্টরুম’ রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কাজে কোনো কর্মকর্তা খুলনায় এলে তাদের সেখানে অবস্থান করার কথা। অবশ্য তার জন্য ভাড়া দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এখানে দুটি কক্ষ ও একটি রান্নাঘর রয়েছে। একটি কক্ষের সঙ্গে একটি শৌচাগার (বাথরুম) ও রান্নাঘর রয়েছে। দুই কক্ষে রয়েছে দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি)। একটি কক্ষের দিনপ্রতি ভাড়া ৩০০ টাকা। সেই অনুযায়ী দুটি কক্ষের ভাড়া হয় ৬০০ টাকা। এ ভাড়া দিয়ে রেস্টরুমের সব ব্যয় নির্বাহ করা হয়। সিভিল সার্জনের সভাপতিত্বে একটি কমিটি (সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই সদস্য) এটি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে।

রাশেদা সুলতানা খুলনা বিভাগের ঝিনাইদহ জেলা থেকে ২০১৯ সালের ৩০ মার্চ খুলনায় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসাবে যোগ দেন। সেই দিন থেকেই তিনি পরিবার নিয়ে এই রেস্টরুমে বসবাস শুরু করেন। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্য পরিচালকের কোনো আত্মীয়স্বজন এলে তাদেরও এখানে রাখা হয়। যদিও এর জন্য তিনি কোনো প্রকার ভাড়া দেন না। এটা আইনসংগত না হলেও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আদেশ রাখতে সিভিল সার্জনরা অনেকটা বাধ্য হয়ে চুপ থাকেন।

রাশেদা সুলতানা এ পর্যন্ত সঠিক নিয়মে রেস্টরুমের ভাড়া দিলে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ভাড়া হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা হতো। তাছাড়া বিদ্যুৎ বিল (এসিসহ) ও রেস্টরুমের রক্ষণাবেক্ষণবাবদ আরও প্রায় প্রায় দেড় লাখ টাকা উল্লিখিত সময়ে ভাড়ার সঙ্গে যোগ হওয়ার কথা। কিন্তু কোনো টাকাই দেন না রাশেদা সুলতানা। উপরন্তু বিদ্যুৎ বিল (এসিসহ) ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও সিভিল সার্জন কার্যালয়কে বহন করতে হয়। অথচ সরকারি চাকরির নীতিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক চাকুরেকে নিজ কর্মস্থলে থাকার জন্য আবাসন ভাতা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী প্রতি মাসে ৩২ হাজার টাকা করে বাসাভাড়া ভাতা উত্তোলনও করেন রাশেদা সুলতানা।

খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, রাশেদা সুলতানা গেস্টরুম আটকে রাখায় বিভিন্ন সময়ে ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। সিভিল সার্জন কার্যালয় সংশ্লিষ্ট কাজে অন্যান্য জেলা থেকে কোনো কর্মকর্তারা এলে তাদের সার্কিট হাউস বা জেলা পরিষদের রেস্টহাউজে রাখতে হয়। অনেক সময় ওইসব কর্মকর্তার জন্য জরুরি প্রয়োজনে থাকার জায়গার সংকুলান করতে না পেরে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় সিভিল সার্জন কার্যালয়কে। একই অবস্থা হয় ঢাকা থেকে আসা কোনো কর্মকর্তার বেলায়ও।

এদিকে শুধু ভাড়া ফাঁকিই নয়, শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের একটি সেমিনার কক্ষও রাশেদা সুলতানা প্রায়ই বিনা ভাড়ায় ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কক্ষের এক দিনের ভাড়া ১ হাজার ৫০০ টাকা। ওই কক্ষে বিভিন্ন সেমিনার ও সভা করেন রাশেদা। যা সিভিল সার্জন কার্যালয় সংশ্লিষ্ট নয়, এমনকি স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট নয় এমন অনুষ্ঠানও মাঝেমধ্যে সেখানে করে থাকেন। আর এসব অনুষ্ঠানের জন্য রাশেদা কোনো ভাড়াই দেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ম্যাডাম (রাশেদা সুলতানা) একজন বড় কর্মকর্তা। ভাড়া না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও আমাদের কিছু করার নেই। তিনি এভাবে থাকায় আমার কার্যালয়ের গেস্টদের অন্য জায়গায় রাখতে হয়। সবাই সব জানে, কিন্তু আমরা অসহায়। নিয়ম অনুযায়ী তাকে বাসা নিয়ে থাকতে হবে। তার জন্য সরকার তাকে ঘরভাড়াও দেয়। তিনি ঘরভাড়া নিচ্ছেন, কিন্তু ঘরভাড়া দিচ্ছেন না। তার বিরুদ্ধে কথা বলে কে চাকরি হারাবে?’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা নিয়ম অনুযায়ী দুটি সুযোগ নিতে পারে না। এটা ক্ষমতার অপব্যবহার। সম্পূর্ণ অবৈধ ও দুর্নীতির শামিল। এটা হওয়া উচিত নয়।’

অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর খুলনা শাখার সাবেক সভাপতি শিক্ষাবিদ আনোয়ারুল কাদির বলেন, ‘সিভিল সার্জন বলছেন গেস্টরুম আছে আর ম্যাডাম বলছেন নেই। গেস্টরুম যদি ব্যবহারযোগ্য না থাকে তাহলে ওনার মতো একজন হাই অফিশিয়াল দিনের পর দিন আর মাসের পর মাস থাকেন কীভাবে? বিদ্যুৎ বিলটাও তিনি বহন করছেন না! সিভিল সার্জনও এই দায় নিচ্ছেন না। আমাদের জিজ্ঞাসা তাহলে এই দায়টা কার?’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খুলনার সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি এখানে কয়েক মাস আগে যোগদান করেছি। এখানে একটি গেস্টরুম আছে বলে জেনেছি। ওখানে যে গেস্টরা থাকবেন তাদের ভাড়ার টাকা থেকে মূলত ওই গেস্টরুমের রক্ষাবেক্ষণসহ সব ব্যয় বহন করা হয়। এখন আরও খোঁজখবর নিয়ে ও ম্যাডামের সঙ্গে আলোচনা করে এর একটি সুরাহা করার চেষ্টা করবো।’

ভাড়া না দিয়ে গেস্টরুম দখলে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘গত ডাইরেক্টররাও (খুলনা স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক) এখানে থাকতেন। এর আগের সিভিল সার্জন রাজ্জাক সাহেব আমাকে এখানে থাকতে দিয়েছিলেন। সেই হিসাবেই থাকছি। পরবর্তী সময়ে করোনা এসে গেল। তাছাড়া আজ পর্যন্ত আমি কোনো রেজল্যুশন পাইনি যে এ জায়গাটি একটি গেস্টরুম। আমাদের সরকারিভাবে থাকার কোনো জায়গা নেই। রেস্টরুমের ভাড়ার তো নির্দিষ্ট তালিকা নেই। তাহলে কীভাবে ভাড়া কাটব? তাছাড়া রুমটির অবস্থা বেশ খারাপ। আমি কয়েকবার এর কাজ করিয়েছি।’

সরকারের তহবিল থেকে মাসে মাসে বাসাভাড়া ভাতা উত্তোলন করলেও রেস্টরুমের ভাড়া না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওটা তো (রেস্টরুম) আর বাসা নয়, তাহলে কীভাবে আমি বাসা ভাড়া দেবো?’

আর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিষয়ে রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘ভবনের নিচতলায় কোল্ডস্টোরেজ (যেখানে করোনার টিকাসহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সকল প্রকার ভ্যাকসিন রাখা হয়) রয়েছে। সেই রুমের মিটারের সঙ্গে আমার রুমের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া। ফলে ওই বিলের সঙ্গে আমার বিল পরিশোধ হয়।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট, তালায় যুবক গ্রেফতার

এসএম বাচ্চু : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিয়ে মানহানিকর পোস্ট করায় মমিন মোড়ল(৩০) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে তালা থানা পুলিশ। সে উপজেলার শিরুশুনী গ্রামের আজিজ মোড়লের ছেলে।

তেতুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের আজিজ মোড়লের ছেলে মমিন মোড়ল গত ৮ই মার্চ দুুপুর আনুমানিক ১ টার দিকে তার ব্যবহৃত ফেসেবুকে বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে মানহানিকর পোস্ট করে। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সাদির নির্দেশে আমি বাদী হয়ে তালা থানা একটি মামলা দায়ের করি। পরে পুলিশ মমিনকে গ্রেফতার করেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কাওছার জানান, বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট প্রদান করায় মমিন মোড়ল কে ২০১৮ এর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫/২৯/৩১ ধারা মোতাবেক গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। থানায় মামলা নং ২ তারিখ ০৯.০৪.২১।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest