সর্বশেষ সংবাদ-
গাজী নজরুলের ফাঁ*সির দাবিতে উত্তাল শ্যামনগরসাতক্ষীরায় যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা, আনন্দ মিছিলগণপিটুনিতে মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনসাতক্ষীরা জেলা যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা: সভাপতি মুকুল, সম্পাদক বাবুবিজনেস অ্যান্ড লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন সাতক্ষীরার সুদীপ্তকেঁড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. আনিছুর রহমানের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজআশাশুনিতে ওসি জাহাঙ্গীর আরিফের নেতৃত্বে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৬দেবহাটায় সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার৫ হাজার টাকা সম্মানিসহ ৭ দফা দাবিতে সাতক্ষীরায় দলিল লেখক সমিতির সমাবেশসাতক্ষীরায় নতুন আঙ্গিকে চালু হলো ‘মাল্টি কম্পিউটার ল্যান্ড ও ডিজিটাল রেকর্ডিং স্টুডিও’

অভিনয়ের জন্য পারিশ্রমিক নেন না আমির

বিনোদনের খবর: আমির খানকে বলা হয় বলিউডের ‘মিস্টার পারফেক্টশনিস্ট’। তিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছেন। এ জন্য দর্শকের প্রশংসাও পেয়েছেন ক্যারিয়ারের পুরোটা সময়। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, অভিনেতা হিসেবে কোনো সিনেমার জন্য পারিশ্রমিক নেন না তিনি।
তিনি বলেন, আমি অভিনয়ের জন্য পারিশ্রমিক নেই না। পুরো সিনেমার খরচ ফেরত এবং সব কলাকুশলী তাদের প্রাপ্য পাচ্ছে কিনা এটা দেখা আমার দায়িত্ব। যখন এসব কিছু মিটে যায় তারপর আমি লভ্যাংশ নিই। এটা আমার কর্তব্যবোধ এবং এর ফল আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন।

তিনি তার সফলতা নিয়ে বলেন, আমি নতুন কিছু না করাকে ভয় পাই। নিজের ব্যর্থতা নিয়ে কখনও ভয় পাই না।একজন প্রযোজক বা পরিচালক হিসেবে যখন কোনো গল্প দর্শকের ভালো লাগে আমার মনে হয় শিল্পী হিসেবে আমি কিছু অর্জন করতে পেরেছি।

প্রসঙ্গত, আমিরের পরবর্তী সিনেমা থাগস অব হিন্দুস্তান। সিনেমাটিতে আমিরের চরিত্রের নাম ফিরাঙ্গি। এছাড়াও এতে অভিনয় করছেন-অমিতাভ বচ্চন, ক্যাটরিনা কাইফ, ফাতিমা সানা শেখ প্রমুখ। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন বিজয় কৃষ্ণ আচার্য। এর আগে আমির খানের ধুম-থ্রি সিনেমাটি পরিচালনা করেন তিনি। আগামী ৮ নভেম্বর মুক্তি পাবে থাগস অব হিন্দোস্তান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নিয়মিত রুটি খেলে কী সমস্যা শরীরে বাসা বাঁধতে পারে?

অনলাইন ডেস্ক: খাদ্য তালিকায় রুটি কম বেশি সবাই রাখেন। অনেকেই মনে করেন, ভাতের বদলে রুটি খেলে শরীর সুস্থ থাকে বেশি। এছাড়াও পেট পরিষ্কার রাখার জন্য গমের তৈরি নানা উপাদানই অনেকের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। তবে রুটি খেলেও হতে পারে কিছু সমস্যা যা আপনার শরীরের অনেক ক্ষতি করতে পারে। আসুন সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক, রুটি থেকে শরীরে কোন কোন সমস্যা তৈরি হতে পারে।

গমের তৈরি খাবার খেলে কোলেস্টেরলের সমস্যাও বৃদ্ধি পেতে পারে। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, গমের তৈরি খাদ্য উপাদান ত্বকের বয়স বাড়িয়ে দিতে পারে। ত্বক কুচকে যায়, বলিরেখা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও গমের তৈরি খাবারবেশি পরিমাণে খেলে অকালে চুল ঝরে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

‘আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিকাল নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, পাঁউরুটি খাওয়া মাত্র শরীরে এমন কিছু পরিবর্তন হয় যার প্রভাবে বিশেষ কিছু হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায় যা মানসিক অবসাদ এবং ডিপ্রেশনের মতো সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, গমে উপস্থিত গ্লুটেন হজম হতে অনেকটাই সময় নেয়। আর হজম হওয়া মানেই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে ইনসুলিনের ক্ষরণও বেড়ে যায়। এমনটা দিনের পর দিন হতে থাকলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা মারাত্মক বৃদ্ধি পায়। সেই কারণে যাদের পরিবারে এই মারণ রোগটির ইতিহাস রয়েছে, তাদের গমের তৈরি খাবার থেকে শত হস্ত দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

গমে উপস্থিত থাকে অতিরিক্ত গ্লুটেন যা সহজে হজম হতে চায় না। তাই হজমের সমস্যা হতে পারে। এই গ্লুটেন থেকেই অনেক সময় পেটের নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, আটা-ময়দা দিয়ে তৈরি কোন খাবার খেলে খাওয়ার পর শরীরে একদিকে যেমন শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায়, তেমনি কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণও বাড়তে শুরু করে। ফলে ওজন বাড়তে শুরু করে। বেড়ে যায় উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মামলার ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা নিলেন এসআই

অনলাইন ডেস্ক: গাজীপুরে মামলার ভয় দেখিয়ে সাত ব্যক্তির কাছ থেকে দুই লাখ তিন হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রকাশ করলে একাধিক মাদক ও হত্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দিয়েছেন তিনি। অভিযুক্ত উপপরিদর্শক ইয়াসিন আরাফাত গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী থানায় কর্মরত।

ভুক্তভোগী সাত ব্যক্তির মধ্যে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, দুজন মুদি দোকানি এবং অন্যদের কেউ ইট সরবরাহকারী, কৃষক, গাড়িচালক ও স্কুলছাত্র।
নগরের কোনাবাড়ীর মধ্য আমবাগের বাংলালিংক টাওয়ার এলাকার বাসিন্দা ইট সরবরাহকারী মৃত আবেদ আলীর ছেলে জামাল হোসেন (২৯) বলেন, তিনি গত ১৯ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে তাঁর ঘরে ভাত খাচ্ছিলেন। তখন এসআই ইয়াসিন আরাফাত একজন পুলিশ সদস্যসহ ঘরে ঢুকে জামালের মোবাইল ফোনসেট নিয়ে নেন। পরে তাঁকে তাঁদের সঙ্গে থানায় যেতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, তিন-চার বছর আগে তাঁর বাসায় অবৈধ গ্যাস লাইন ছিল। গ্যাস পোড়ানোর বিল বাবদ দুই লাখ টাকা দিতে হবে। না দিলে থানায় নিয়ে মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে আদালতে পাঠানো হবে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে স্বজনদের সামনে ইয়াসিন ও তাঁর সঙ্গী অশ্লীল গালাগাল এবং মারধর শুরু করেন। বাধ্য হয়ে জামালের বৃদ্ধ মা ধার করে ২৮ হাজার টাকা দিলে রাত ১১টার দিকে তাঁরা চলে যান। যাওয়ার আগে এ কথা প্রকাশ করলে নাশকতার পুরনো মামলায় গ্রেপ্তারের ভয় দেখান।

একই এলাকার মৃত নুরু সরকারের ছেলে প্রাইভেট কারচালক সানোয়ার হোসেন জানান, ১৯ অক্টোবর রাত সোয়া ১১টার দিকে এসআই ইয়াসিনসহ তিনজন (দুজন পুলিশ ও একজন আইনজীবী পরিচয় দেন) তাঁর ঘরে হানা দেন। তখন সানোয়ার খেতে বসেছিলেন। একই ধরনের অভিযোগ তুলে তাঁর কাছেও দুই লাখ টাকা চান ইয়াসিন। অপারগতা প্রকাশ করলে দরজায় লাথি ও অশ্লীল গালাগাল শুরু করেন। শব্দে সানোয়ারের মা, স্ত্রী ও সন্তান উঠে পড়ে। তাদের সামনেই তাঁকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন ইয়াসিন ও সঙ্গে থাকা পুলিশ কনস্টেবল। ধার করে ৫০ হাজার টাকা দিলে রাত সোয়া ১২টার দিকে এ ঘটনা না প্রকাশের জন্য শাসিয়ে চলে যান। ১৮ ও ১৯ অক্টোবর রাতে ওই ধরনের হুমকি দিয়ে একই এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মতিন সরকারের ছেলে বাতেন সরকারের (৪০) কাছ থেকে ৫০ হাজার, রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে কৃষক রাইজুদ্দিনের (৪৮) কাছ থেকে ৩০ হাজার, ইন্নছ আলীর ছেলে মুদি দোকানি রাশেদ মিয়ার (২৬) কাছ থেকে ১৫ হাজার, সবুর আলীর ছেলে কৃষক আলাল মিয়ার (৪৮) কাছ থেকে পাঁচ হাজার এবং মৃত নাসির উদ্দিনের ছেলে স্কুলছাত্র আদিল হোসেনের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেন ইয়াসিন।

আদিল হোসেন বলে, তার বাড়িতে কোনো দিন অবৈধ চুলা জ্বলেনি। বৈধ চুলার কাগজপত্র দেখাতে চাইলেও এসআই ইয়াসিন কোনো কথা শোনেননি। উল্টো তাকে ও তাঁর বড় বোনকে থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। ঘটনাটি আদিল প্রতিবেশী মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক শেখ আক্কাসকে জানান। পরে তিনি ২৫ হাজার টাকায় ফয়সালা করে দেন। ওই রাতে ১০ হাজার, এক দিন পর ১৫ হাজার টাকা শেখ আক্কাসের ভাতিজার মাধ্যমে এসআইকে পৌঁছে দেয় আদিল।

আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আক্কাস বলেন, ‘কিছুদিন আগে আদিলের বাবা মারা গেছেন এবং ওরা কোনো অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করেনি। তাই তাকে (আদিল) হয়রানি না করতে এসআইকে বলেছিলাম। টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানা নেই।’
এসআই ইয়াসিন আরাফাত প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরলে বলেন, ‘ভুল হয়ে গেছে। মাফ করে দেন। সবার টাকা ফেরত দেব।’

এ বিষয়ে জানতে কোনাবাড়ী থানায় গিয়ে ওসি এমদাদ হোসেনকে পাওয়া যায়নি। পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হাসনাত জানান, ওই ধরনের কোনো অভিযোগ তাঁদের কাছে কেউ করেনি। হুমকি দিয়ে টাকা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাজার ভরা বিদেশি খাদ্যপণ্য মান যাচাই হয় না

অনলাইন ডেস্ক: গুঁড়া দুধ, ফলের জুসসহ বিভিন্ন শিশুখাদ্য বিএসটিআইয়ের অনুমতি ছাড়াই বন্দর পেরিয়ে দেশে ঢুকছে এবং সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) এসব পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিএসটিআইকে একাধিক চিঠি দিয়েও সাড়া পাচ্ছে না। বিদেশি বলে মানুষও চোখ বন্ধ করে এগুলো খাচ্ছে। তারা ভাবছে না সত্যিকার অর্থেই এই পণ্যগুলো স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ বা এর লেবেলের গায়ে যে ধরনের উপাদান থাকার কথা ঘোষণা করা হচ্ছে সেগুলো থাকছে কি না; বা দেশের কোনো নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান পণ্যটি পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে দেখেছে কি না। পণ্যের মধ্যে আছে বিভিন্ন প্রকারের গুঁড়া দুধ (ফুল ক্রিম, হাফ ক্রিম), হেলথ ফর্মুলা, ইনফ্যান্ট ফর্মুলা, ফুড সাপ্লিমেন্ট, ফ্রুট জুস, ফ্রুট ড্রিংকস প্রভৃতি।

পরীক্ষা না করার প্রসঙ্গে বিএসটিআইয়ের (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট) ভাষ্য হলো এসব পণ্যের ক্ষেত্রে অনুমোদন নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই; তুলনা করার মতো স্থানীয় মানও নেই। তারা এ কথা বললেও অনুমোদনহীনভাবে বাংলাদেশের বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করার যুক্তি তুলে বিচারের মুখোমুখি আনা হয়েছে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ লিমিটেডের একটি পণ্য হরলিকসের বিরুদ্ধে। এ মামলায় আজ বুধবার আদালতে শুনানি রয়েছে।

গত বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বিএফএসএ চিঠির মাধ্যমে বিএসটিআইকে আমদানি করা এসব পণ্যের বিডিএস মান (জাতীয় মান) নির্ধারণের তাগিদ দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, গুঁড়া দুধ, ইনফ্যান্ট ফর্মুলা, ফ্রুট জুস, ফ্রুট ড্রিংকস, মেয়োনেজের জাতীয় মান থাকলেও বিদেশ থেকে আমদানি করা এ ধরনের খাদ্যপণ্যগুলোর লেবেলে বা গায়ে কোথাও বিএসটিআইয়ের সিল ব্যবহার করা হয় না। একই সঙ্গে বন্দরে খালাসের আগে বিএসটিআই কর্তৃক পরীক্ষাপূর্বক অনুমতিও নেওয়া হয় না, যা খাদ্য নিরাপত্তা নীতির পরিপন্থী। একটি চিঠিতে বলা হয়, এসব খাদ্যপণ্য ছাড়াও বিএসটিআই এখতিয়ারভুক্ত যত পণ্য রয়েছে সেগুলো বন্দরে খালাসের আগে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তারপরই খালাসের অনুমতি দিতে হবে। আরেকটি চিঠিতে এসব পণ্যের লেবেলে উল্লিখিত উপাদান ও পুষ্টিগুণ সঠিক এবং নিরাপদ কি না, তা নির্ধারণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) মাহবুব কবীর বলেন, ‘অমরা চিঠি দিয়েছি এক বছরের বেশি সময় হয়েছে। তবে এর পরিপ্রেক্ষিতে কোনো কাজ শুরু হয়েছে কি না আমাদের জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।’
বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানি করা বিভিন্ন হেলথ ফর্মুলা বা ফুড সাপ্লিমেন্টে বাজার সয়লাব। এর মধ্যে আছে হরলিকস, ওভালটিন, কমপ্লেইন, মালটোভা, বুস্টসহ আরো অনেক পণ্য; গুঁড়া দুধের মধ্যে আছে নিডো, বেবি ইনফ্যান্ট ফর্মুলা, যেমন—সেরেলাকসহ নানা প্রকার ফ্রুট ড্রিংকস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মায়োনাইজ ও ড্রিংকস।

তবে পণ্যের মান প্রণয়নে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এত দ্রুত এগুলোর মান নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য অনেক সময় এবং কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। বিএসটিআইয়ের পরিচালক (মান) মো. ইসহাক আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এসব পণ্যের স্ট্যান্ডার্ড না থাকায় আমরা পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে পারি না। কারণ পরীক্ষা করতে হলে আগে আমাদের মান নির্ধারণ করতে হবে। মান না থাকলে আমরা কোনো উপাদান পরীক্ষা করতে পারব না। এ জন্য এসব পণ্য বাজারজাতে কম্পানিগুলো আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে আইনত বাধ্য নয়।’ মান নির্ধারণে বিএফএসএর তাগাদার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক সময়ের ব্যাপার। বিভিন্ন দেশের স্ট্যান্ডার্ডগুলোও দেখতে হবে। তারা কিভাবে করছে সেগুলোর খোঁজ নিতে হবে। তবে মান নির্ধারণ অসম্ভব নয়।’
বিএসটিআই এ জাতীয় যুক্তি দিলেও গ্ল্যাক্সোস্মিথাইন বাংলাদেশ লিমিটেডের একটি পণ্য হরলিকসের বিরুদ্ধে অনুমোদনহীনভাবে বাংলাদেশে ব্যবসা করা এবং লেবেলিং নীতিমালা ভঙ্গ করে মিথ্যা বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে দায়ের করা এ মামলায় হরলিকসের পক্ষ থেকেও অনুমোদনের বিষয়ে একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিয়োজিত আইনজীবী আদালতের কাছে বলেছেন, তাঁরা বিএসটিআইয়ে অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক পণ্য তালিকায় হরলিকস না থাকায় তারা একটি এনওসি প্রদান করে। এটি নিয়েই দেশের বাজারে হরলিকস ব্যবসা করে যাচ্ছে।

তবে এ পণ্যটির অনুমোদন দেওয়ার জন্য এখনো কেন বিএসটিআই ব্যবস্থা নিতে পারেনি, কেনই বা তাদেরকে এনওসি দিয়েছে এবং এর যৌক্তিকতা কী, বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকায় হরলিকস আছে কি না, না থাকলে এটি অন্তর্ভুক্ত না করার কারণ যথাযথ ব্যাখ্যাসহ লিখিতভাবে আদালতে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ আদেশের প্রতিলিপি বিএসটিআই মহাপরিচালক বরাবর দেওয়া হয়েছে। এ মামলার বিষয়ে আজ বুধবার আদালতে শুনানি রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নির্ধারিত মান স্ট্যান্ডার্ড মেনেই রপ্তানি করতে হচ্ছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়াম (বিআরসি) গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড সনদ অর্জন করেছে বাংলাদেশের প্রাণ অ্যাগ্রো ও নাটোর অ্যাগ্রো লিমিটেড।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সবার নজর সংলাপে

সবার নজর সংলাপে

কর্তৃক daily satkhira

দেশের খবর: সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনুষ্ঠেয় সংলাপের দিকে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি দেশের সবার নজর আটকে আছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগের মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি দলের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ড. কামাল হোসেন সংলাপের নেতৃত্ব দেবেন। এতে ঐক্যফ্রন্টের আরো ১৫ সদস্যের নাম চূড়ান্ত করা হলেও আওয়ামী লীগের পক্ষে কারা থাকছেন তা এখনো জানা যায়নি। তবে বিএনপি মহাসচিবসহ পাঁচ সদস্য উপস্থিত থাকছেন।
সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের আলোচনায় তাদের দেওয়া সাত দফাই প্রাধান্য পাবে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে ড. কামাল হোসেনকে দেওয়া চিঠিতে সংবিধানের মধ্য থেকে আলোচনার কথা বলেছেন।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ বছর বাড়ানোর ফলে এই সংলাপের সফলতা নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সংশয় দেখা দেয়। বিশেষ করে বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে এ বিষয়ে নেতিবাচক আলোচনা চলে। তাঁদের অনেকেই মনে করেন, হঠাৎ করে সংলাপের আহ্বান স্রেফ বিএনপিকে ফাঁদে ফেলার জন্য।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেখানোর জন্যও এটি করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর পর তাত্ক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এতে সংলাপের ফল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই সংলাপ নিয়ে আওয়ামী লীগ কতটুকু আন্তরিক তাও জনগণ বুঝতে পারছে।

বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতারাও মনে করেন, সোমবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাজা এবং পরদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। তাঁদের মতে, বিএনপিকে চাপে রেখে সংলাপ করা শুধু আইওয়াশ। জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে গতকাল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত নেতারা বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারের কূটকৌশল তথা তৎপরতার দিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কিন্তু তার পরও সংলাপে যাওয়ার পক্ষে সবাই মত দেন।

জানা যায়, ঐক্যফ্রন্টের একটি দলের পক্ষ থেকে সংলাপে যাওয়ার আগে খোলা মনে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আরেকটি চিঠি দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু তাতে সংলাপের উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, পাশাপাশি জনমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে—এমন বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত সংলাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নেতারা মনে করেন, সংলাপ ভণ্ডুল হয় এমন দায় বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের নেওয়া ঠিক হবে না। কারণ বিদেশিদের চোখে দায় তাতে ঐক্যফ্রন্টের ওপর পড়বে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের আলোচনার ভিত্তি হবে সাত দফা। মওদুদ আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাত দফা ও ১১ লক্ষ্যের কথা ড. কামাল হোসেনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী রাজি হয়েছেন এটি খুব ভালো ইঙ্গিত।’ খালেদা জিয়ার নতুন করে সাজা ও সাজা বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘আপাতত আমাদের সহ্য করে যেতে হবে। আমাদের কারণে সংলাপ ভণ্ডুল হোক সে রকম ফাঁদে আমরা পড়তে চাই না।’ মওদুদ বলেন, তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী একটু নমনীয় হলে দেশে সুষ্ঠু একটি নির্বাচন সম্ভব।

গত ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে সাত দফা ও ১১ লক্ষ্যের কথা বলেন ড. কামাল হোসেন। আর ড. কামাল হোসেনকে দেওয়া চিঠিতে ‘সংবিধান সম্মত’ আলোচনার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়েও ফ্রন্টের দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে।

যুক্তফ্রন্টের সাতটি দাবি হচ্ছে—সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠন, খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা, যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সব কালো আইন বাতিল, নির্বাচনের ১০ দিন আগে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন, দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করা এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে ফলাফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও নতুন কোনো মামলা না দেওয়া।

ঐক্যফ্রন্টের ১৬ সদস্যের প্রতিনিধিদল
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের ১৬ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন গণফোরামের সভাপতি ও ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। দলে বিএনপির পাঁচজন থাকছেন। তাঁরা হলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও মির্জা আব্বাস।

থাকবেন গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সহসভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও এস এম আকরাম, ঐক্যপ্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মুহাম্মদ মনসুর ও আ ব ম মোস্তফা আমিন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে অনুষ্ঠিত ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে নামগুলো ঠিক করা হয়। বৈঠক শেষে আ স ম আবদুর রব সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণকে স্বাগত জানাই। আমরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে যাব।’ ড. কামাল হোসেন ও ১৫ জন গণভবনে যাবেন বলে জানান তিনি। রব বলেন, ‘কামাল হোসেন আমাদের নেতা, তিনি ১৫ জনের বাইরে। জাতি আশা করে, এই সংলাপের মাধ্যমে আগামী দিনে একটা সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। কোনো সংলাপ ব্যর্থ হয়নি। এই সংলাপে সাত দফাসহ সব কিছু নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা মনে করি, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, কথা বলব কি বলব না। আজকে প্রধানমন্ত্রীর এই সংলাপের মধ্য দিয়ে দরজা খোলা হলো, আলাপ-আলোচনা হচ্ছে, হবে এবং চলবে।’
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের তালিকা রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় মোস্তফা মহসিন মন্টুকে।

বিএনপি মহাসচিব এই প্রতিনিধিদলে থাকবেন কি না, প্রশ্ন করা হলে রব বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব একশবার যাবেন। তাঁকে বাদ দিয়ে তো সংলাপ হবে না।’ তিনি জানান, ঐক্যফ্রন্টের একজন মুখপাত্র নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর নাম আ স ম আবদুর রব। এর বাইরে ফ্রন্টের কেউ কোনো কথা বললে তা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য হবে না।

জিয়া এতিমখানা মামলায় উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর প্রসঙ্গে রব বলেন, ‘এই মামলাটা আমরা মনে করি একটি প্রতিহিংসামূলক মামলা। তিন-তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দুই-তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করতে পারেন, এটা মানুষ বিশ্বাস করে না, আমি কী করে বিশ্বাস করব।’ ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে বিএনপির মির্জা ফখরুল, খন্দকার মোশাররফ, মওদুদ আহমদ, জেএসডির আ স ম রব, তানিয়া রব, আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের মান্না, জাহেদ উর রহমান, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর, মোস্তফা আমিন, নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী এবং গণস্বাস্থ্যের জাফরুল্লাহ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

ঐক্যফ্রন্টকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল ঐক্যফ্রন্টের চিঠির জবাব দিয়েছেন। ড. কামাল হোসেনকে লেখা চিঠিতে তিনি আগামীকাল ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে সংলাপের জন্য ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লেখেন, ‘জনাব সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন। আপনার ২৮ অক্টোবর ২০১৮ তারিখের পত্রের জন্য ধন্যবাদ। অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সংবিধানসম্মত সকল বিষয়ে আলোচনার জন্য আমার দ্বার সর্বদা উন্মুক্ত। তাই, আলোচনার জন্য আপনি যে সময় চেয়েছেন, সে পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ০১ নভেম্বর ২০১৮ তারিখ সন্ধ্যা ০৭-০০টায় আপনাদের আমি গণভবনে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

গতকাল সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর এই দাওয়াতের চিঠি নিয়ে কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় যান আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ। এ সময় সেখানে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। গোলাপ বলেন, ‘২৮ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনের সই করা একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো হয়। তা আমি অফিশিয়ালি গ্রহণ করি। সেই চিঠির জন্য প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ দিয়েছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে একটি অফিশিয়াল বক্তব্য আমার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের কাছে পাঠিয়েছেন।’
মন্টু বলেন, ‘আমরা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সংলাপের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি চিঠি দিয়েছিলাম। তারপর তাঁরা জানিয়ে দিয়েছিলেন খুব তাড়াতাড়ি বসবেন। আমরা কয়জন যাচ্ছি, কে কে যাচ্ছি সেই লিস্ট তাঁরা জানতে চেয়েছেন। আমরা আজকেই (গতকাল) লিস্টটা দিয়ে দেব। তাঁরা আমাদের ১ নভেম্বর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।’
সংলাপ চেয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের কাছে গত ২৮ অক্টোবর দুটি চিঠি দেয় ঐক্যফ্রন্ট।

আওয়ামী লীগের টিমে সরকারসংশ্লিষ্টরা প্রাধান্য পাবেন
সরকার সংশ্লিষ্টরাই ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগের দলে প্রাধান্য পাবেন। মন্ত্রিসভার সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্য থেকে এই দলের সদস্যদের বাছাই করা হবে। দলের সভাপতিমণ্ডলী ও উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন এমন নেতারা এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। সরকার ও আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সূত্র কালের কণ্ঠকে এই তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সংলাপে তাঁর ভূমিকা কী থাকবে সে নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ নয়, সরকারের সঙ্গেই সংলাপ করতে চেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের চিঠির জবাব দেওয়া যুক্তিযুক্ত বলে নেতাদের জানান। সে অনুযায়ী সোমবার রাতে ওই চিঠি তৈরি করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্যাডে শেখ হাসিনা এই চিঠি দিয়েছেন।

আলোচনা হবে খোলা মনে : ওবায়দুল কাদের
সংলাপে খোলা মনে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের নেতাদের সঙ্গে একসঙ্গে আলোচনা করে নেত্রীর সঙ্গে একমত হয়েছি। আমরা কালক্ষেপণ করিনি। সিডিউলের আগে যাতে সংলাপ হয়, এ জন্য ড. কামাল হোসেনকে চিঠি দিয়েছি। আমরা গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে এই সংলাপে সম্মত হয়েছি। এই আলোচনা হবে খোলা মনে।’

গতকাল যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি আরো বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। তাঁর নীতি-নৈতিকতা আছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে চাচা বলে সম্বোধন করেন। যদিও তিনি ঐক্যফ্রন্টের বা ওই জোটের শীর্ষ নেতা কি না আমরা নিশ্চিত নই। তিনি হয়তো শীর্ষ নেতা নন, এই জোটের নেতৃত্ব কী লন্ডন থেকে দেওয়া হচ্ছে নাকি বাংলাদেশ থেকে দেওয়া হচ্ছে, তা সংলাপে বসার পর বোঝা যাবে।’ সংলাপ নিয়ে কোনো সংশয় না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা সংশয়বাদী, ১ তারিখের পর সেই সংশয় কেটে যাবে।’

সংলাপের কোন কোন ইস্যুতে আলোচনা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনারা (ঐক্যফ্রন্ট) চিঠির সঙ্গে উনাদের সাত দফা দাবি এবং এবং ১১টি লক্ষ্যের কপি সংযুক্ত করে দিয়েছেন। এসব নিয়েই আলোচনা হবে। তবে সাত দফার মধ্যে কয়েকটি দফা আছে যা সংবিধান সম্পর্কিত। দু-একটি আছে আইন আদালতের সঙ্গে সম্পর্কিত। আর দু-একটি আছে নির্বাচন কমিশন সম্পর্কিত।’ সংলাপের আর কোন কোন বিষয়ে কথা হবে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের দলীয় প্রধানের সঙ্গে আলোচনা হবে, তাই এ ব্যাপারে আমি কোনো কথা বলব না।’

এই সংলাপকে ব্যতিক্রমধর্মী উল্লেখ করে সড়ক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অতীতে কখনোই শেখ হাসিনার সঙ্গে কারো সংলাপ হয়নি। কাজেই এখন যে সংলাপ হচ্ছে, এটি একেবারেই ‘অ্যাক্সেপশনাল।’
সংলাপের বিষয়ে সোমবার রাতে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মন্টুকে ফোন করেছিলেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জানতে চেয়েছিলাম, আপনারা কয়জন আসবেন। উনি জানালেন যে উনারা ১৫ জন আসবেন। তখন আমি বলেছি, ১৫ জন কেন, ২০ জন বা ২৫ জন নয় কেন? আপনারা ২০ জন, ২৫ জন যতজন খুশি আসতে পারেন, আমাদের কোনো আপত্তি নাই।’ সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কতজন থাকবে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, ‘আগে উনারা তালিকা দিক। আমাদের কয়জন থাকবেন সেটা আমরা পরে ঠিক করব।’

তালিকায় জামায়াতের লোকজন থাকলে আপনাদের অবস্থান কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিবন্ধনের বাইরে কারও আসার সুযোগ নাই।’ মান্নার দল তো নিবন্ধিত নয়, তিনি যদি তালিকায় থাকেন তাহলে আপনারা কী করবেন জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটি ড. কামাল হোসেনের ওপর ছেড়ে দিন।’ জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট রয়েছে, এ ক্ষেত্রে বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বিএনপির সঙ্গে সংলাপ করছি না। আমরা সংলাপ করছি ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে। সংলাপে বিএনপির লোকজন থাকবে কি না আমরা এ ব্যাপারে কোনো শর্ত দেইনি।’ তবে সংলাপের মাধ্যমে সংকটের সমাধান হবে আশাবাদ ব্যক্ত করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সংলাপের উত্তাপে সংকটের বরফ গলবেই। তারা যেটিকে সংকট বলছে, আমরা সেটিকে সংকট মনে করি না। আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে অনেক সংকটই সমাধান হয়ে যায়।’

এদিকে সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধির সংখ্যা কমানোর বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে তিনি বলেন, ‘আমি এমন কিছু বলিনি। কিছু কিছু পত্রিকায় খাবারের মেন্যু নিয়েও সংবাদ ছাপানো হয়েছে, এগুলো অপ্রয়োজনীয়, অপ্রত্যাশিত। এগুলো ঠিক নয়।’ এই সংলাপের পর অন্য কোনো দলের সঙ্গে সংলাপে বসবেন কি না জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, ‘সেই সুযোগ নাই। তফসিল ঘোষণার পর আর কারও সঙ্গে সংলাপের সুযোগ নাই।’

ঐক্যফ্রন্টের দাবির ব্যাপারে তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের সময় উনারা বিদেশি পর্যবেক্ষক চেয়েছেন, এতে আমাদেরও আপত্তি নাই। তবে এটা ইসির বিষয়। আপনারা বিশ্বাস রাখুন, আস্থা রাখুন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তাঁদের ডেকেছেন। ড. কামাল প্রস্তাব দিয়েছেন, সে কারণেই তাঁদের ডাকা হয়েছে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ থেকে নির্বাচনী ক্ষণ গণনা শুরু

দেশের খবর: আজ বুধবার থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। কেননা বর্তমান দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছিল ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ শেষের ৯০ দিন পূর্বে এই ক্ষণ গণনা শুরু হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১লা নভেম্বর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যকার সংলাপের দিকে নজর রাখছে ইসি। এদিকে, সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদিত হওয়ায় বিধিমালায় বিভিন্ন ধারা-উপধারা সংযোজন ও নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে ৩রা নভেম্বর তফসিলের আগে সবশেষ বৈঠকে বসছে ইসি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর থেকে ক্ষণ গণনা শুরু হচ্ছে। কমিশনও প্রস্তুতি অনেকটা গুছিয়ে এনেছে। আগামী ৩ নভেম্বর কমিশন সভা আহ্বান করা হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদে সংশোধিত আরপিও অনুমোদন পেয়েছে। শিগগিরি আইন আকারে পেয়ে যাবো। এ কারণে ওই সভায় বিভিন্ন বিধিমালায় কোন কোন ধারায় পরিবর্তন আনা হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হবে।
রাজনৈতিক সমঝোতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিবেন জানিয়ে রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে রাজনৈতিক সমঝোতা হলে ভালো। যদি সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে কোন রাজনৈতিক সমঝোতা হয় তাহলে সংবিধান ও আইনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ সমন্বয় করা হবে।

আজ থেকে নির্বাচনী ক্ষণ গণনা শুরু হলেও নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্ব স্থাপিত হবে তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত। সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০০৮ অনুযায়ী নির্বাচনের পূর্ব সময় বলতে বোঝানো হয়েছে, জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন কিংবা কোন শূন্য আসনে নির্বাচনের ক্ষেত্রে কমিশন কর্তৃক নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর দিন থেকে নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে তারিখ পর্যন্ত সময়কাল। নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনও (ইসি) তফসিল ঘোষণার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। আগামী সপ্তাহের যে কোনদিন তফসিল ঘোষণা করতে পারে ইসি। ভোট হতে পারে ১৮ থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে।

৩রা নভেম্বর কমিশন সভা
আগামী ৩রা নভেম্বর বিকাল ৩টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে তফসিল ঘোষণার আগে শেষ কমিশন সভা আহ্বান করা হয়েছে। এই সভায় দু’টি বিষয় এজেন্ডাভুক্ত করা হয়েছে। প্রথমত-সংশোধিত আরপিও ও বিধিমালা পর্যালোচনা ও সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি। মন্ত্রিপরিষদ সংশোধিত আরপিওর তিনটি সংশোধনী অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার, অনলাইনে মনোনয়ন দাখিল এবং ঋণখেলাপির শর্ত শিথিলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিধিমালায় এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

প্রাক প্রস্তুতি প্রায় শেষ
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে প্রাক-প্রস্তুতির প্রায় সবই সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, এরই মধ্যে ভোটার তালিকা প্রস্তুত, তিনশ আসনের সীমানা নির্ধারণ, ৪০ হাজার ১৯৯টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখের বেশি ভোট কক্ষের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭শ কোটি টাকা। খাতভিত্তিক ব্যয়ের জন্য নির্বাচন কমিশন অনুমোদন দিয়েছে।

আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক আজ
আজ বুধবার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডেকেছে কমিশন। প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ বিষয়ক এ সভায় জাতীয় নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা গ্রহণসহ ১১টি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। ইসি সচিবের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনপ্রশাসন, শিক্ষাসহ ২৩ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটে থাকবে ইভিএম
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংযুক্ত করে সংশোধিত আরপিও গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুমোদন করেছে। এর ফলে আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কমিশনও ইভিএম ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। নির্বাচন কমিশনার মোঃ রফিকুল ইসলামের মতে, ১০ শতাংশ আসনে ইভিএম ব্যবহার করার মতো আপাতত সক্ষমতা আছে ইসির।

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার অংশ হিসাবে আগামীকাল বিকাল ৪টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে পাঁচ সদস্যর কমিশন। ইসির সর্বশেষ প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন ও নারী ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন। তবে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত যারা ভোটার হবেন তারাও ভোট দিতে পারবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা ১ নভেম্বর শুরু

অনলাইন ডেস্ক: আগামীকাল ১ নভেম্বর থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা শুরু হবে। এতে ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ তথ্য জানান।
দেশের ২৯ হাজার ৬৭৭টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আগামী ১ থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দুই হাজার ৯০৩টি কেন্দ্রে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। এবার জেএসসি-জেডিসির ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৬০১ জন ছাত্রী এবং ১২ লাখ ২৩ হাজার ৭৩২ জন ছাত্র। আট বোর্ডের অধীনে এবার জেএসসিতে ২২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৩ জন এবং মাদরাসা বোর্ডের অধীনে জেডিসিতে ৪ লাখ ২ হাজার ৯৯০ জন পরীক্ষায় অংশ নেবে।
মন্ত্রী বলেন, জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা চলাকালে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখা হবে। পরীক্ষা চলাকালে কোচিং সেন্টার খোলা রাখলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সকল পরীক্ষার্থীকে নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্র প্রবেশ করতে হবে। এবারও বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র ছাড়া অন্য বিষয়ের পরীক্ষা সৃজনশীল প্রশ্নে হবে। পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে শিক্ষক, ছাত্র, কর্মচারীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।
মন্ত্রী জানান, শ্রবণ প্রতিবন্ধীসহ অন্য প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা এবারও অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে। এছাড়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই তারা শ্রুতি লেখক সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। এছাড়া অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম এবং সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বৃদ্ধিসহ শিক্ষক, অভিভাবক বা সাহায্যকারীর বিশেষ সহায়তায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর ছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তফসিলের আগে ৩ নভেম্বর শেষ কমিশন সভা

দেশের খবর: আজ থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হবে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। কেননা বর্তমান দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছিল ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ শেষের ৯০ দিন পূর্বে এই ক্ষণগণনা শুরু হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১ নভেম্বর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যকার সংলাপের দিকে নজর রাখছে ইসি।
এদিকে, সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদিত হওয়ায় বিধিমালায় বিভিন্ন ধারা-উপধারা সংযোজন ও নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে ৩ নভেম্বর তফসিলের আগে সবশেষ বৈঠকে বসছে ইসি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর থেকে ক্ষণ গণনা শুরু হচ্ছে। কমিশনও প্রস্তুতি অনেকটা গুছিয়ে এনেছে। আগামী ৩ নভেম্বর কমিশন সভা আহ্বান করা হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রীপরিষদে সংশোধিত আরপিও অনুমোদন পেয়েছে। শিগগিরি আইন আকারে পেয়ে যাবো। এ কারণে ওই সভায় বিভিন্ন বিধিমালায় কোন কোন ধারায় পরিবর্তন আনা হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হবে।
রাজনৈতিক সমঝোতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিবেন জানিয়ে রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপরাজনৈতিক সমঝোতা হলে ভালো। যদি সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে কোন রাজনৈতিক সমঝোতা হয় তাহলে সংবিধান ও আইনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ সমন্বয় করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest