সর্বশেষ সংবাদ-
শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ৫০ হাজার টাকা জরিমানাদেবহাটায় বিভিন্ন বাজার ও স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচারাভিযানবিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাতক্ষীরায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার মৃত্যু৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল লেবাননে নিহত শুভ দাসের মরদেহসাতক্ষীরায় ৯৬ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ নিখোঁজআশাশুনির মহিষকুড় মৎস সেট সংলগ্ন সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধনশ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন : সভাপতি মনির- সাধারণ সম্পাদক লিটনঅবৈধভাবে বালু উত্তোলন: সাতক্ষীরার গাবুরায় লাখ টাকা জরিমানাতালায় জেলে-কৃষকের জীবন-জীবিকার কথা শুনলেন ড. হোসেন জিল্লুরদেবহাটায় ম্যান ফর ম্যান ফাউন্ডেশনের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ

দাউদ ইব্রাহীম: ভারতীয় উপমহাদেশের কুখ্যাত মাফিয়া ডন

বিদেশের খবর: তাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে অজস্র সিনেমা। তিন দশক যাবত তিনি মুম্বাই পুলিশ তথা ভারতীয় আদালতের কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তি, অন্যদিকে পাকিস্তানের কাছে একজন সুরক্ষিত মেহমান। করাচির ক্লিফটন বিচের কাছে তার অবস্থানকে প্রায় দুর্ভেদ্য করে রেখেছে পাকিস্তানের আইএসআই। বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত তার মাফিয়া চক্রের জাল। হাজার হাজার কোটি রুপি তিনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ধার দিয়েছিলেন বলে সন্দেহ পোষণ করেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। পাকিস্তানের নন্দিত ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াদাদের ছেলে জুনায়েদের সাথে নিজের মেয়ে মাহরুখকে বিয়ে দিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন তিনি। তাকে ধরার জন্য ভারতীয় পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজেছে দিনের পর দিন; কিন্তুু নাগাল পায়নি। ফোর্বস ম্যাগাজিনে তার নাম উঠেছিলো পৃথিবীর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায়। প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করা কিংবা নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য যেকোনো পদক্ষেপ নিতে জুড়ি নেই তার। তিনিই হলেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের অঘোষিত সম্রাট দাউদ ইব্রাহীম হাসান কসকর।

এক সৎ পুলিশ কনস্টেবলের অপরাধী পুত্র
ভারতের সবচেয়ে সম্পদশালী প্রদেশ মহারাষ্ট্রের উপকূলবর্তী অঞ্চল রত্নগিরির মুমকা জেলার অধিবাসী হাসান কসকর বোম্বে নগরীর ডুংরিতে এক সেলুনের দোকান দেন। হাসান কসকরের ছেলে ইব্রাহীম কসকর পড়াশোনা করে বোম্বে পুলিশে ঢোকেন। অনেক বছর চাকরি করার পর তিনি হেড কনস্টেবল পদে উন্নতি লাভ করেন। হেড কনস্টেবল পদটি যথেষ্ট সম্মানের। তাছাড়া মুসলিমদের মধ্যে এই পদে খুব কম পুলিশই যেতে পারতো। অত্যন্ত ধার্মিক ইব্রাহীম কসকর বিশ্বাস করতেন- মুখ দিয়েছেন যিনি, আহার দেবেন তিনি। তাই বিয়ের পর তিনি পরিবার পরিকল্পনাকে আমলে না নিয়ে একে একে ৭ ছেলে ও ৫ মেয়ের জন্ম দেন। এই হেড কনস্টেবল ইব্রাহীম কসকরের দ্বিতীয় ছেলেই হলেন অপরাধজগতের ভয়ঙ্কর ত্রাস, ভারতীয় আন্ডারওয়ার্ল্ডের ‘বাপ কা ডন’ দাউদ ইব্রাহীম।
দাউদ ইব্রাহীম ভেঙে দিয়েছিলেন অপরাধ সংগঠনের চেনা ছক, ক্ষেত্রবিশেষে তিনি ছিলেন ইতালিয়ান ও মেক্সিকান মাফিয়াদের চেয়েও ভয়ংকর; গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য জুড়েই ছিলো তার নেটওয়ার্ক। টাটা, বিড়লা কিংবা আম্বানীদের মতোই তিনি গড়ে তুলেছিলেন হাজার হাজার কোটি রুপির বিশাল এক সাম্রাজ্য।

বোম্বের অপরাধ জগতে দাউদের জড়িয়ে পড়া
বোম্বে নগরী মায়াময়, যাদুর শহর। সব সম্ভাবনা আর স্বপ্নের শহর। তেমনি এ শহর কালো টাকা আর অপরাধমূলক কাজেরও আখড়া। সদাব্যস্ত এ শহরে যে লাইনেই কাজ করা যায়, সেই লাইনেই টাকা। বোম্বে নগরীর দক্ষিণ প্রান্তে বিশাল সংখ্যক মুসলমানদের বাস। আর মুসলমানদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাঠানদের বাস। দেশভাগের পূর্বে তারা পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ থেকে সেখানে বসবাস করতে এসেছিলো রোজগারের আশায়। দেশভাগের পরও তারা বোম্বে নগরী ছাড়েনি। কারণ দুর্ধর্ষ পাঠানরা ভয় কী জিনিস তা জানে না। হিন্দুদের তুলনায় মুসলমানরা ছিল শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে। আর অপরাধ প্রবণতায় মুসলমানদের ধারে কাছেও ছিল না হিন্দুরা।
দাউদ ইব্রাহীম সম্পর্কে আলোচনা করতে হলে বোম্বের মুসলিম মাফিয়াদের সম্পর্কে জানতেই হবে। মুসলমান মাফিয়াদের আদিগুরু হাজী মাস্তান বোম্বের উপকূল জুড়ে চোরাচালানের ব্যবসা করে অঢেল বিত্তের মালিক হন। সঙ্গী শুকুর বখিয়াকে সাথে নিয়ে তিনি মহারাষ্ট্র-গুজরাট জুড়ে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। হিন্দি মুভির নায়িকা মধুবালার ভক্ত ছিলেন হাজী মাস্তান। দিলীপ কুমারের সাথে এক অনুষ্ঠানে দেখাও হয়েছিল তার। হাজী মাস্তানের সমসাময়িক পাঠান মাফিয়া ছিলেন করিম লালা। মারমুখী পাঠানদের নিয়ে তিনি দক্ষিণ বোম্বেতে বাস করে চাঁদাবাজির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। করিম লালা-হাজী মাস্তান জুটি মিলিতভাবে বোম্বের অপরাধ জগতের সম্রাট বনে যান। ঠিক সেই সময়টাতে দাউদ ইব্রাহীমের পিতা ইব্রাহীম কসকর ডুংরিতে বসবাস শুরু করেন।
২৬ ডিসেম্বর, ১৯৫৫ সাল। জন্ম হয় দাউদ ইব্রাহীমের। তার জন্মের খবর শুনে ইব্রাহীম কসকরের বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে যান করিম লালা। করিম লালা যদি জানতেন, এই ছেলে বড় হয়ে তার অপরাধ সাম্রাজ্য ভেঙে তছনছ করবে- তাহলে নিশ্চয়ই তিনি মিষ্টি নিয়ে তাকে স্বাগত জানাতে যেতেন না।
সে যা-ই হোক, ছোটবেলা থেকেই দাউদ ইব্রাহীম দেখে আসছিলেন পিতার নিদারুণ অভাবের সংসার। কর্মসূত্রে এক ভুল বোঝাবুঝির ঘটনায় দাউদের পিতা চাকরি থেকে অব্যাহতি পান। অভাবের তাড়নায় সপ্তম শ্রেণীতে ওঠার পর দাউদ আর স্কুলে যাননি।
এরপর তিনি জড়িয়ে পড়েন ছিনতাই আর ছিঁচকে চুরিতে। পথচারীদের ভয় দেখিয়ে জিনিসপত্র লুট করার কাজে তার সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিল বড় ভাই সাবির ইব্রাহীম। দুই ভাই মিলে ছোঠখাটো একটি দল বানিয়ে ফেললেন। বোম্বে জুড়ে তখন পাঠান মাফিয়াদের একচ্ছত্র রাজত্ব। ধীরে ধীরে সবাই টের পাচ্ছিল, দক্ষিণ বোম্বে থেকে হেড কনস্টেবল ইব্রাহীম কসকরের ছেলেও অপরাধজগতে হাত মকশো করছে।

সাবির ইব্রাহীম খুন: প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত দাউদ
দাউদ-সাবির দুই ভাই যখন ধীরে ধীরে বোম্বের অপরাধজগতে রাজত্ব করতে চাইলো, তখনই নারীঘঠিত কারণে খুন হয় সাবির ইব্রাহীম। এশিয়ার সবচেয়ে বড় পতিতালয় বোম্বের কামাথিপুরায় জনৈক দেহপসারিণীকে ভালো লেগে যায় সাবির ইব্রাহীমের। সেই পতিতাকে আবার নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান পাঠান মাফিয়া আমিরজাদা। এ দ্বন্দের জেরে আমিরজাদা খুন করে সাবিরকে। সঞ্জয় গুপ্তের মুভি ‘শ্যুটআউট এট ওয়াডালা’তে এ বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ঠাণ্ডা মাথায় নৃশংসভাবে শত্রুকে শেষ করার পরিকল্পনা করতেন দাউদ; source: The Logical Indian
আমিরজাদাকে হত্যা করার জন্য হন্যে হয়ে উঠে দাউদ ও তার দলবল। পরিচয় হয় কিলার বড় রাজনের সাথে। বড় রাজন দাউদের খেদমতে এক ভাড়াটিয়া খুনীকে প্রেরণ করে। তার নাম পরদেশী। সাবির হত্যা মামলায় আমিরজাদা তখন জেলে। দাউদ-বড় রাজন-পরদেশী, এই তিনজন মিলে সিদ্ধান্ত নেয় আমিরজাদাকে কোর্ট প্রাঙ্গনে হত্যা করা হবে। যে কথা সে কাজ। আমিরজাদাকে শত শত মানুষের সম্মুখে কোর্ট প্রাঙ্গনে হত্যা করে পরদেশী। কিন্তু সে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। গ্রেফতার হয় দাউদ ও বড় রাজন। যদিও বেশ কিছুদিন পর আবার জামিনে বেরিয়ে পড়ে দাউদ।

পাঠানদের পাল্টা হামলা ও দাউদ ইব্রাহীমের দেশত্যাগ
আমিরজাদা হত্যার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে পাঠানরা। এ হামলার মাস্টারমাইন্ড দাউদের সহচর বড় রাজন তখনও জেলে। বড় রাজনকে ঠিক সেই কায়দায় কোর্ট প্রাঙ্গনে হত্যা করার পরিকল্পনা করে তারা। পাঠান গ্যাং আলমজেব এজন্য আবদুল কুনজুকে ভাড়া করে। নির্ধারিত দিনে বড় রাজনকে কোর্টে তোলা হয়। পুলিশ নিরাপত্তার চাদরে কোর্টপ্রাঙ্গন ঢেকে ফেলে। কিন্তু হায়! আবদুল কুনজুর ভাড়া করা কিলার নৌবাহিনীর ইউনিফর্ম পড়া সাফালিকা ভদ্র মানুষের মতো কোর্ট প্রাঙ্গনে ঘোরাফেরা করতে থাকে। পুলিশের এই ধারণা ছিলো না যে, নৌবাহিনীর সদস্য সেজে কোনো কিলার পুলিশকে বোকা বানাতে পারে। পুলিশের আশেপাশেই কিলার অবাধে ঘুরতে থাকে, যেহেতু তাকে আর কেউ আটকায়নি। একদম কাছে এসে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে কথিত নৌ-সেনা বড় রাজনকে হত্যা করে।
এবার দাউদের পালা। বড় রাজন হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য দাউদ পাঠান গ্যাংদের বিরুদ্ধে দাবার গুটি সাজাতে থাকে। উত্থান ঘটে ছোটা রাজনের। ছোটা রাজনের সাথে বিরোধ ছিলো পাঠান গ্যাং আবদুল কুনজুর। আবদুল কুনজু তখন জেলখানায়। ছোটা রাজন আবদুল কুনজুকে আবার কোর্ট প্রাঙ্গনে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। বোম্বে পুলিশ অপরাধীদের এসব প্রতিহিংসাপরায়ণ কাণ্ডকারখানা শক্ত হাতে দমন করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই কুনজুকে কোর্ট প্রাঙ্গনে হত্যা চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ছোটা রাজন অন্য পথ বেছে নেয়। একদিন কুনজুকে চিকিৎসার জন্য জেল থেকে হাসপাতালে আনা হলো। ছোটা রাজন সেই সংবাদ পড়ে আহত হওয়ার ভান ধরে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে পড়ল। চোখের পলকে সবাই দেখলো, হাতে-পায়ে ব্যান্ডেজ করা এক লোক হঠাৎ সুস্থ মানুষের মতো পিস্তল নিয়ে দৌড় দিলো। কুনজুর কেবিনে গিয়ে বৃষ্টির মতো গুলি ছুঁড়তে লাগলো সে। কুনজু খতম।
শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু- এই নীতি ধারণ করে মাফিয়া ডন দাউদ ছোটা রাজনকে তার দলে ভেড়ানোর জন্য উঠেপড়ে লাগলো। ছোটা রাজন দাউদের দলে যোগ দিয়ে দাউদের শক্তি বৃদ্ধি করলো। আরেক দুর্ধর্ষ পাঠান সামাদ খানকে দাউদ ছোটা রাজনের সহায়তায় হত্যা করলো। এভাবে একটার পর একটা খুনখারাবির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ায় পুলিশের খাতায় তার নাম উঠে গেলো চিরতরে। বোম্বে নগরী আর নিরাপদ মনে হলো না তার কাছে। ১৯৮৬ সালে দাউদ তার জন্মভূমি বোম্বে নগরী ছেড়ে দুবাই পালিয়ে গেলো।

হোয়াইট হাউজ ইন দুবাই: মাফিয়া ডন দাউদের নতুন আস্তানা
দুবাই শহর তখন বিকশিত হচ্ছে। ভারতীয় মাফিয়া ডনদের নিরাপদ আস্তানা হয়ে উঠে দুবাই। বন্দী বিনিময় চুক্তি না থাকায় দুবাইয়ে কোনো ভারতীয় গ্রেফতার হলেও তাকে ভারতে ফেরত আনা যেতো না। স্বর্ণ চোরাচালান, জাল টাকার ব্যবসা, অস্ত্র সরবরাহ, চাঁদাবাজি, কন্ট্রাক্ট কিলিং- এসব কাজ দুবাইতে বসেই করতো দাউদের কুখ্যাত ‘ডি কোম্পানি’। দাউদের দলে যোগ দেয় আবু সালেম, ছোটা রাজন, ছোটা শাকিল, লম্বু শাকিল, টাইগার মেমন- এসব কুখ্যাত ডনরা। পুরো মধ্যপ্রাচ্য আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে ছিলো দাউদের নেটওয়ার্ক। দাউদ নিজেকে মহিমান্বিত করার জন্য দুবাইয়ের জুমেরাহ বিচ সংলগ্ন তার বাসভবনের নাম দিয়েছিল ‘হোয়াইট হাউজ’।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এই যে, বলিউডের সাথে দাউদের ছিলো চরম সুসম্পর্ক। বেনামে অনেক সিনেমার প্রযোজনা করতো দাউদ। শুধু তা-ই নয়, বলিউড নায়িকা মন্দাকিনীর সাথে দাউদের রোমাঞ্চের খবরও চাউর হয়েছিলো সিনে পত্রিকায়। হিন্দি সিনেমার পাইরেটেড সিডির ব্যবসাও ছিলো দাউদের নিয়ন্ত্রণে।
ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়, যখন বোম্বে নগরীতে ১৯৯৩ সালে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা হওয়ায় পাকিস্তানের আইএসআইয়ের ছত্রচ্ছায়ায় দাউদ বোম্বেতে বোমা হামলার পরিকল্পনা করে। এ কাজে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে টাইগার মেমন। এই বোমা হামলায় ২৫৭ জন লোক নিহত হয়। দাউদ হয়ে পড়েন ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী। আমিরাত সরকারের সাথে বন্দী বিনিময় চুক্তি করে দাউদকে পাকড়াও করার উদ্যোগ নেয় ভারত। সেই মুহুর্তে দাউদ পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। আইএসআইয়ের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই দাউদ করাচীতে আছেন বলে ভারতের গোয়েন্দাদের মতামত। ক্রিকেটার জাভেদ মিঁয়াদাদের ছেলের সাথে নিজের মেয়ের বিয়ের সময় দাউদ অনুষ্ঠানস্থল দুবাইয়ে হাজির থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আইএসআই তাকে অনুষ্ঠানে থাকতে নিষেধ করে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর ভয়ে।
হাজার হাজার কোটি রুপি অবৈধ পথে আয় করে দাউদ করাচির রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও নাকি টাকা ধার দেন দাউদ! ওদিকে বোম্বে পুলিশ ক্রসফায়ারে প্রায় ১,৫০০ সন্ত্রাসীকে হত্যা করে। ভেঙে যায় বোম্বের মাফিয়াদের নেটওয়ার্ক। দাউদের সাঙ্গপাঙ্গদের মধ্যে কেউ ক্রসফায়ারে নিহত হন আর কেউ বা জেলে বন্দী আছেন। দাউদেরও বয়স হয়েছে। অপরাধী নেটওয়ার্ক গুটিয়ে এনে চুপচাপ পাকিস্তানে বসবাস করছেন তিনি। পাকিস্তান যদিও কখনো তা স্বীকার করে না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
হঠাৎ সূচি পরিবর্তনে ক্ষুব্ধ মাশরাফি

খেলার খবর: হংকংয়ের বিদায়ের মধ্য দিয়েই এশিয়া কাপের ‘সুপার ফোর’র চার দল নির্ধারিত হয়ে গেছে। তবে বাকি ছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ নির্ধারণ। গতকাল ভারত-পাকিস্তান ও আজ বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচের পরই ঠিক হতো দলগুলোর অবস্থান।

যদিও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) সেসবের ধার ধারেনি। গ্রুপপর্বের দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই সুপার ফোর’র সূচি চূড়ান্ত করে ফেলেছে সংস্থাটি। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে এসিসির পাঠানো সূচি অনুযায়ী গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপ হওয়ার মূল্য আর থাকছে না। রাতের আঁধারে টুর্নামেন্টের সূচি বদলের বিরল ঘটনা ঘটালো এসিসি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে হলেও এশিয়া কাপের আয়োজক ভারত। আর তাদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা শুরু থেকেই করে আসছে এসিসি। ভারতীয় দল আবুধাবিতে খেলতে রাজি নয়। ভারতের সুবিধা টিকিয়ে রাখতে নগ্ন হয়ে নেমেছে এসিসি। যা পাড়ার ক্রিকেটেও আজকাল আর দেখা যায় না।

জানা গেছে, ভারতকে এ-১, পাকিস্তানকে এ-২ এবং শ্রীলঙ্কাকে বি-১, বাংলাদেশকে বি-২ ধরেই সূচি করেছে এসিসি। শ্রীলঙ্কা বাদ পড়ায় আফগানিস্তানকে বি-১ ধরা হচ্ছে। আগের সূচি অনুযায়ী গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে বাংলাদেশের সুপার ফোরের তিনটি ম্যাচ হতো আবুধাবিতে। রানার্সআপ হলে একটি দুবাই, দুটি আবুধাবিতে।

কিন্তু ভারত আবুধাবি যাবে না বলে পরিবর্তন এসেছে সূচিতে। এখন বাংলাদেশকে ‘বি-২’ ধরে করা হয়েছে। যেখানে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপের কোনো আলাদা গুরুত্ব নেই। আজ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আবুধাবিতে খেলবে বাংলাদেশ। ঠিক পরদিনই আবার সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে দুবাইয়ে খেলতে হবে ভারতের বিপক্ষে। পরের দুটি ম্যাচ আবার আবুধাবিতে।

সূচির এমন ‘বিস্ময়কর’ বদলে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ দল। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা গতকাল বলেছেন, এসব দেখে পাগলও ভালো প্রতিক্রিয়া দিবে না। আইসিসি একাডেমি মাঠে তিনি আরও বলেছেন, গতকাল সকালে মাঠে এসেই নতুন সূচি জানতে পেরেছেন। যেখানে বাংলাদেশকে ধরা হয়েছে ‘বি-২’ হিসেবে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সূচিতে হঠাত্ এমন পরিবর্তন দেখে দারুণ হতাশ মাশরাফি। গতকাল তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সূচি বদল নিয়ে চিন্তা করার সুযোগই পাইনি। তবে অবশ্যই এটা হতাশার। প্রথম থেকেই আমাদের পরিকল্পনায় ছিল যে, আমরা যদি শ্রীলঙ্কাকে প্রথম ম্যাচে হারাতে পারলে আমরা হয়ত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এগিয়ে যাব। এরপর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে গ্রুপ ‘এ’ রানার্সআপ দলের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ খেলবো সুপার ফোরে। কিন্তু আজকে (গতকাল) সকাল থেকে জানতে পারছি, আমরা আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিতি আর হারি, আমরা ‘বি-২’ হয়ে গেছি। এটা অবশ্যই হতাশার।’
দল থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক বলেছেন, ‘জানি না। আমি তো মাঠে এসেই জানলাম। একটু আগেই ম্যানেজারের কাছে শুনেছি। এটা নিয়ে আর দ্বিতীয় প্রশ্ন করিনি।’
এসিসির এহেন কাণ্ডে বাকি দলগুলো বিস্মিত। যার সমালোচনা করেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদও। গতকাল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাশরাফিও। তিনি বলেন, ‘একজন পাগলও এটায় ভালোভাবে রিঅ্যাক্ট করবে না। এটা অবশ্যই ঠিক না, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের টুর্নামেন্টে ম্যাচের আগের দিন আপনি শুনছেন যে, গ্রুপ পর্যায়ের শেষ ম্যাচের আগেই আমরা ‘বি-২।’
সবমিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখেই বাংলাদেশ দল। মাশরাফি বলেন, ‘এটা যদি বাংলাদেশে হতো, ওখানেও অনেক গরম, তবু ম্যানেজ করা যেত। কিন্তু এখানে শরীর থেকে যে পরিমাণ ঘাম বের হয়, যতটা শক্তি ক্ষয় হয়, সেটা রিকভারির জন্য নির্দিষ্ট একটা সময় দরকার। যেটা হবে না, ২১ তারিখের ম্যাচে অনেক প্রভাব পড়তে পারে।’

এশিয়া কাপের নতুন সূচি

তারিখ, ম্যাচ, ভেন্যু

২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-ভারত দুবাই

২১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান-আফগানিস্তান আবুধাবি

২৩ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তান-বাংলাদেশ আবুধাবি

২৩ সেপ্টেম্বর ভারত-পাকিস্তান দুবাই

২৫ সেপ্টেম্বর ভারত-আফগানিস্তান দুবাই

২৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-পাকিস্তান আবুধাবি

২৮ সেপ্টেম্বর ফাইনাল দুবাই

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আলোচনায় বসতে মোদিকে ইমরানের চিঠি

বিদেশের খবর: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করতে চেয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন। খুব স্পষ্টভাবে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে বলতে গেলে নিউইয়র্কে চলমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এই মাসের শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ কোরেশী এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বৈঠকের কথা বলেছেন তিনি।
এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের মধ্যে একটা অর্থবহ এবং গঠনমূলক সম্পর্কে তৈরির আগ্রহের প্রেক্ষিতে এ চিঠি দিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এর আগে পাকিস্তানের নব-নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তার বিজয়ী ভাষণে বলেছিলেন দু’দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ভারত যদি এক ধাপ এগিয়ে আসে তাহলে পাকিস্তান দুই ধাপ এগিয়ে যাবে।
গত কয়েকসপ্তাহ ধরে এই কানাঘুষা চলছিলো যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সুষমা স্বরাজ এবং মাহমুদ কোরেশী মধ্যে বৈঠক হবে কিনা। গত মাসে পাকিস্তানে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ চিঠির মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে আলোচনার জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলেন ইমরান খান।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ইমরান খান বলেছেন তিনি দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা পুনরায় শুরু করতে চান। এর আগে ২০১৫ সালে আলোচনা শুরু হলেও পাঠানকোট হামলার কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরই প্রেক্ষিতে ইমরান খান বলেন ভারত এবং পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ এবং কাশ্মিরের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা করতে হবে।
এর আগে ২০১৫ সালে ডিসেম্বরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এশিয়া সম্মেলনে যোগ দিতে ইসলামাবাদ সফরে যান। সেটাই দু’দেশের মধ্যে শেষ আনুষ্ঠানিক আলোচনা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চুলে রং করলে যেসব সমস্যা হতে পারে

অনলাইন ডেস্ক: নারী-পুরুষ উভয়েই নিজের মনের মতো করে চুল সাজিয়ে নেন পছন্দের রঙে। চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে অনেকেই চুল রং করে থাকেন। কিন্তু এতে বেশ কিছু সমস্যা হতে পারে। অনেকে এসব বিষয়ে অবগত না।
আজকের প্রতিবেদনে এমনই কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো:
* অতিরিক্ত চুল ভেঙে পড়া: অতিরিক্ত চুলের রং ব্যবহার করলে চুল ঝরে যাওয়ার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। চুল রঙের ক্ষতিকর রাসায়নিক চুলের ফলিকল একেবারেই নষ্ট করে দেয়।

* অ্যালার্জি: অনেকের ত্বক বেশি সংবেদনশীল হয়ে থাকে। ফলে সামান্য রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা মাত্রই অ্যালার্জির সমস্যা শুরু হয়ে যায়। অর্থাৎ পিপিডি অনেক বেশি অ্যালার্জি উদ্রেককারী রাসায়নিক যার প্রভাবে মাথার ত্বকে চুলকুনি, জ্বালা, ফুলে যাওয়া, র‌্যাশ ওঠা, খুশকি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়াও অ্যালার্জি যদি মারাত্মক পর্যায়ে চলে যায় তাহলে চোখ ফুলে যাওয়া, চোখ, নাক ও মুখের চারপাশের ত্বকে অ্যালার্জির প্রকোপে র‌্যাশ দেখা দিতে পারে।
ফলে চুলের মাঝখান থেকে চুল ভেঙে যেতে শুরু করে এবং নতুন চুল গজানোতেও বাধা সৃষ্টি করে।

* ক্যান্সার: দ্য অ্যামেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি-র গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পিপিডি মানুষের ডিএনএ সেল নষ্ট করে ক্যান্সারের কোষ উৎপন্ন করতে পারে। এই রাসায়নিক হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দিতেও সক্ষম। যার ফলে স্তন ক্যান্সারের আশঙ্কাও অনেকটাই বেড়ে যায়। যদিও চুল রং করার রাসায়নিক মিশ্রণে এই পিপিডি নামক বস্তুটি পাওয়া গিয়েছে খুবই সামান্য পরিমাণে তা সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে আরো সতর্ক হওয়া উচিত।

* হাঁপানি: অবাক হলেও একথা সত্যি যে, চুলের রঙের জন্য হাঁপানির সমস্যা দেখা দিতে পারে বা বাড়তে পারে। একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা নিয়মিত চুল রং করেন, তাদের ত্বকে অ্যালার্জি বা হাঁপানি হওয়ার প্রবনতা অনেকটাই বেশি। এখানেও কাজ করে সেই একই ক্ষতিকর রাসায়নিক পিপিডি।

চুলের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। রুক্ষ ও ভঙ্গুর হলে আপনার চুল রং করানোর উপযুক্ত নয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইউএনওদের জন্য উচ্চমূল্যে ১০০ জিপ গাড়ি

দেশের খবর: উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) জন্য উচ্চমূল্যে ১০০ জিপ গাড়ি কেনার প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
প্রতিটি গাড়ির মূল্য প্রায় ৯১ লাখ টাকা ধরে সরকারি যানবাহন অধিদফতরের প্রস্তাবে আপাতত অনুমোদন দেয়া হয়নি।
সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি যানবাহন অধিদফতরকে এ ব্যাপারে একটি চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে এসব উচ্চ মূল্যের গাড়ি কেনার প্রয়োজনীয়তা এবং ইউএনও’দের বর্তমান গাড়ির সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, গাড়ির প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে। কিন্তু ঢাকায় অবস্থান করে সরকারের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও এক কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি ব্যবহার করেন না। অথচ উপজেলা পর্যায়ে এত উচ্চ মূল্যের গাড়ি কেনার যৌক্তিকতা দেখছে না মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি কোন প্রক্রিয়ায় গাড়ির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেটিও সুস্পষ্ট নয়। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে উচ্চ মূল্যের এসব গাড়ি কেনার প্রস্তাবটি অনুমোদন দিলে অহেতুক সমালোচনার মুখে পড়তে পারে সরকার। এসব বিষয় বিবেচনা করে গাড়ি কেনা যৌক্তিকতা সুনির্দিষ্ট করতে বলা হয়েছে অধিদফতরকে। মূলত এ কারণেই গাড়ি কেনা বাবদ প্রায় ৯১ কোটি টাকার প্রস্তাব এই মুহূর্তে অনুমোদন দেয়া হয়নি।

জানা গেছে, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি যানবাহন অধিদফতরে একশ’ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মূলত সরকারের প্রয়োজনে মোটরযান ক্রয় করতে এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যানবাহন অধিদফতর ইউএনওদের জন্য ১০০টি জিপ গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। অধিদফতরের গাড়ি কেনা সংক্রান্ত ‘কনডেম কমিটি’র বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এরপর গাড়ি কেনার জন্য অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন চাওয়া হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে। সম্প্রতি অর্থ সচিবকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছে সরকারি যানবাহন অধিদফতর।
ওই চিঠিতে যানবাহন অধিদফতরের পরিবহন কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের গতিশীলতা আনতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের ব্যবহারের জন্য ১০০টি জিপ গাড়ি কেনা দরকার। এজন্য অধিদফতরের অনুকূলে বরাদ্দ থেকে ৯০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে অনুমতি প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হল।’

সূত্রমতে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা গাড়ি ক্রয়ের প্রস্তাবটি বিশ্লেষণ করে এর পক্ষে একমত হতে পারেনি। যে কারণে প্রাথমিকভাবে কেনার অনুমোদন না দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে এর যৌক্তিকতার পাঁচটি বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। বিশেষ করে ইউএনওদের ব্যবহৃত গাড়ি অকেজো বলা হয়েছে।
এই অকেজো ঘোষণা সংক্রান্ত বিআরটিএ’র পরিদর্শক দলের প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। এছাড়া কোন কোন উপজেলায় ইউএনওদের গাড়ি অকেজো হয়েছে সে তালিকাও দিতে বলা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ইউএনওদের ব্যবহৃত গাড়িগুলো কত সালে ক্রয় করা হয়েছিল, গাড়ির মডেল কী এবং গাড়িগুলো কত মূল্যে কেনা হয়েছে- এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়া হয়।
এছাড়া গাড়ি কেনার জন্য কনডেম কমিটির বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের রেজুলেশনের অনুলিপি চাওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিটি গাড়ির মূল্য ৯০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা নির্ধারণের যৌক্তিকতার বিষয়টি সুস্পষ্ট করতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের জন্য সর্বশেষ ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ২০৮টি গাড়ি কেনা হয়। এর আগে অর্থবছরে অর্থাৎ ২০০৬-০৭ সালে কেনা হয় ৪৭টি জিপ গাড়ি। গত ১১ বছর মোট ২৫৫টি গাড়ি কেনা হয় ইউএনওদের জন্য।
সরকারি যানবাহন অধিদফতরের সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি বিধান অনুযায়ী একটি গাড়ির আয়ুষ্কাল ন্যূনতম ৮ বছর। ইউএনওদের ব্যবহৃত গাড়িগুলোর আয়ুষ্কাল ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।

এছাড়া গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তায় বেশি চলাচল করে ইউএনওদের গাড়ি। যে কারণে গাড়িগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি এসব গাড়ি মেরামতে অনেক ব্যয় হচ্ছে। এতে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। এসব যৌক্তিকতা থেকে গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
অর্থ সচিবকে পাঠানো সরকারি যানবাহন অধিদফতরের চিঠিতে বলা হয়, সরকারি কাজের স্বার্থে প্রতিস্থাপক হিসেবে ইউএনওদের জন্য ১০০টি জিপ গাড়ি কেনা দরকার।
এসব গাড়ি কেনার পক্ষে সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকেও। গাড়ি কেনার জন্য প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে প্রাপ্ত দরপত্র চাওয়া হয়।
তাদের দেয়া দরপত্র অনুযায়ী প্রতিটি জিপ গাড়ির ক্রয় মূল্য হবে ৯০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। ওই হিসেবে ১০০টি গাড়ি কিনতে ব্যয় হবে ৯০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
চিঠিতে আরও বলা হয়, মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের কাজের গতিশীলতা আনতে এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুতি গাড়িগুলো কেনার প্রয়োজন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এক নিয়োগ আবেদনে ৪০ কোটিরও বেশি আয়

অনলাইন ডেস্ক: ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে চাকরির আবেদনের জন্য কোনো প্রকার ফি না নিতে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নির্দেশনা কে সাধুবাদ জানিয়ে চাকুরি প্রার্থীরা চান ব্যাংকের মতো সরকারি চাকরিতেও নিয়োগ কার্যক্রমের জন্য ফি নেয়া বন্ধ হোক।
বাংলাদেশের প্রচুর পরিমাণ বেকার জনশক্তি একটি চাকরি পাওয়ার আশায় হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। একটি আসনের বিপরীতে শতশত প্রার্থী আবেদন করছেন। এই সুযোগই নিচ্ছে সরকারি সংস্থা বা বিভাগগুলো।’
দেখা গেছে, শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক’ নিয়োগ পরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদন করেছেন ২৪ লাখ ১ হাজার ৫৯৭ জন প্রার্থী। গত ১ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত এই আবেদন কার্যক্রম চলে। এই নিয়োগ পরীক্ষাবাবদ প্রতিজনের আবেদনের জন্য ১৬৮ টাকা ফি আদায় করা হয়। এই হিসাবে ২৪ লাখ ১ হাজার ৫৯৭ জন প্রার্থীর আবেদনে ৪০ কোটি ৩৪ লাখ ৬১ হাজার ৫৭৬ টাকা জমা হয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তাফা কামাল জানান বলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এবার রেকর্ডসংখ্যাক আবেদন জমা হয়েছে। এ বাবদ যে অর্থ জমা হয়েছে তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফান্ডে রয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশ করতে বিপুল পরিমাণে ব্যয় হয়ে থাকে। এ জন্য সারাদেশে বিপুল পরিমাণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত রাখতে হয়। সব মিলে অধিকাংশ অর্থ ব্যয় হয়ে যায়। তবে এবার রেকর্ডসংখ্যক আবেদন আসায় সরকারি রাজস্ব আয় কিছু হলেও হতে পারে।
জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য টেলিটক মোবাইল ফোনে এসএমএমের মধ্যমে ফি জমা নেয়া হয়। সে অনুযায়ী, টেলিটকে দুটি এসএমএস পাঠানোবাবদ ৪ টাকা কর্তন করা হয়। বাকি টাকা নিয়োগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে জমা দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শাকিল আহমেদ জানান, বেশি আবেদন জমা হলেই টেলিটক কোম্পানির খুব বেশি লাভ হয় না। পুরো অর্থই নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে চলে যায়। তাই আবেদনকারীর কাছে দুটি এসএমএস বাবদ ৪ টাকা কর্তন করা হলেও আবেদনকারীকে একাধিক এসএমএস পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, প্রতি আবেদনে ৪ টাকা নিলেও টেলিটক কোম্পানির আয় হয়ে থাকে মাত্র দুই শতাংশের বেশি। আবেদন প্রতি ৪ টাকা কেটে বাকি টাকা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দিতে হয়।

ডিপিই সূত্রে জানা গেছে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ২৪ লাখ ১ হাজার ৫৯৭ আবেদনকারীর মধ্যে সর্বোচ্চ আবেদন রয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। এ জেলায় মোট ৯৮ হাজার ৯৬৯টি আবেদন পড়েছে। এরপরে ময়মনসিংহে ৮৮ হাজার ২১৮টি, কুমিল্লায় ৮৪ হাজার ৭২৮টি, দিনাজপুরে ৬২ হাজার ৯৭১টি, রংপুরে ৫৯ হাজার ৭১টি, জয়পুরহাটে ১৮ হাজার ১৭৮টি, বগুড়ায় ৬৪ হাজার ৭২৭টি, নওগাঁয় ৪৯ হাজার ৮৬৩টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩০ হাজার ২৭১টি আবেদন পড়েছে।

রাজশাহীতে ৫৭ হাজার ৩৮২টি, নাটোরে ৩৫ হাজার ২৫৭টি, সিরাজগঞ্জে ৫৮ হাজার ১৪৯টি, পাবনায় ৫১ হাজার ২৩১, কুষ্টিয়ায় ৩২ হাজার ৬০৯টি, মেহেরপুরে ১০ হাজার ৮৮৮টি, চুয়াডাঙ্গায় ১৮ হাজার ৬৬১টি, ঝিনাইদহে ৩৭ হাজার ৬১৭টি, মাগুরায় ২১ হাজার ৯৬২টি, যশোরে ৫৫ হাজার ৯৩২টি, নড়াইলে ১৫ হাজার ৬১৪টি, সাতক্ষীরায় ৪৫ হাজার ৬১টি, খুলনায় ৪৭ হাজার ১৮৮টি, বাগেরহাটে ৩২ হাজার ৯৭টি, জামালপুর ৫০ হাজার ৫০টি, শেরপুরে ২৫ হাজার ৪৬৬টি, নেত্রকোণায় ৪২ হাজার ৭৫৩টি, কিশোরগঞ্জে ৪৭ হাজার ৮৮৫টি, টাঙ্গাইলে ৬১ হাজার ৬৩০টি, গাজীপুরে ৩৫ হাজার ৫১৭টি, নরসিংদীতে ৩৮ হাজার ১৪৩টি, মানিকগঞ্জে ২৫ হাজার ৭১১টি, ঢাকায় ৬৪ হাজার ৫৫৮, নারায়ণগঞ্জে ২৭ হাজার ১২৭টি, মুন্সিগঞ্জে ১৮ হাজার ৭৫৯টি, রাজবাড়ীতে ২১ হাজার ৯০৬টি, ফরিদপুরে ৩৩ হাজার ৬৪৩টি, মাদারীপুরে ২৪ হাজার ৮০৭টি, শরীয়তপুরে ১৮ হাজার ৭৮৬টি, গোপালগঞ্জে ২৯ হাজার ২১৫টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৮ হাজার ৪০টি আবেদন পড়েছে।

চাঁদপুরে ৪৬ হাজার ৯১টি, লক্ষ্মীপুরে ২৩ হাজার ৩৩০টি, নোয়াখালীতে ৪০ হাজার ৭৩৯টি, ফেনীতে ২১ হাজার ৫০১টি, কক্সবাজারে ২৬ হাজার ৭৫০টি, বরিশালে ৬১ হাজার ৮৮৩টি, পিরোজপুরে ২৯ হাজার ২৭৮টি, ঝালকাঠিতে ১৯ হাজার ১৩৮টি, বরগুনায় ২১ হাজার ৭১৭টি, পটুয়াখালীতে ৪০ হাজার ৮০৭টি, ভোলায় ২৫ হাজার ১৪৫টি, সুনামগঞ্জে ৩৫ হাজার ৫১২টি, সিলেটে ৫০ হাজার ৩৭০টি, হবিগঞ্জে ৩৩ হাজার ৪৭৫টি, মৌলভীবাজারে ৩২ হাজার ১০৬টি, পঞ্চগড়ে ২১ হাজার ৬২৯টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ৩১ হাজার ৭৯৭টি, নীলফামারীতে ৩৯ হাজার ৭৫২টি, লালমনিরহাটে ২৬ হাজার ১২২টি, কুড়িগ্রামে ৪৩ হাজার ২৯৪টি এবং গাইবান্ধায় ৫৫ হাজার ৫১৭টি আবেদন।

জানা গেছে, সারা দেশে ১২ হাজার আসনের বিপরীতে প্রতি আসনে ২০০ জনের বেশি চাকরি প্রত্যাশী এই পরীক্ষায় অংশ নেবেন। চলতি বছরের ১৯ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে লিখিত পরীক্ষা আয়োজনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ডিসেম্বরের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা শেষ হতে পারে।
বেশি আবেদন পড়ার বিষয়ে ডিপিই’র মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এবার সর্বোচ্চ আবেদন এসেছে। এটি একটি ইতিবাচক বিষয় হিসেবে গণ্য করা হবে। বেশি আবেদন এলে কঠিন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষক নেয়া সম্ভব হবে।

প্রার্থীরা http://dpe.teletalk.com.bd ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। ওএমআর শিট পূরণের নির্দেশাবলি এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য ওয়েবসাইটে (www.dpe.gov.bd) পাওয়া যাবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মধু খেলেই ৭ জটিল সমস্যার সমাধান

অনলাইন ডেস্ক: নানা গুণের মধুর উপকারিতা সম্পর্কে কম বেশি সবাই জানি। গবেষণায় দেখা গেছে, মধু ও দারুচিনির মিশ্রণ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি।
হৃদরোগ থেকে শুরু করে ওজন কমানো পর্যন্ত প্রায় সব কিছুতেই মধু-দারুচিনির মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকরী। জেনে নিতে পারেন, মধু খেলে যে ৭ জটিল সমস্যা সহজেই সমাধান করতে পারবেন।

১) হৃদরোগ: হার্ট সুস্থ্য রাখার জন্য দারুচিনি ও মধুর পানির কোনও বিকল্প নেই। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস মধু ও দারুচিনি মিশ্রিত পানি পান করলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এই মিশ্রণ রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদরোগের সম্ভাবনা অনেকটাই কমিয়ে দেবে।

২) কোলেস্টরল: এক কাপ চায়ের সঙ্গে দুই টেবিল চামচ মধুর সঙ্গে তিন টেবিল চামচ দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন। এটি রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা অন্তত ১০ শতাংশ কমেয়ে দেবে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এই মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকর।

৩) পিত্ত থলিতে সংক্রমণ: মধু-দারুচিনির মিশ্রণ পিত্ত থলির সংক্রমণ রোধ করতে সক্ষম। মধু দারুচিনিতে অ্যান্টি ব্যাক্টোরিয়াল উপাদান আছে, যা পিত্ত থলিকে বাইরের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে।

৪) বাত/আর্থারাইটিস-এর সমস্যা: একাধিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মধু দারুচিনির পানি পান করার ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাতের ব্যথা কমে যায়। এক গ্লাস গরম পানিতে দুই টেবিল চামচ মধু আর এক টেবিল চামচ দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এই পানি প্রতিদিন নিয়ম করে সকালে ঘুম থেকে উঠে আর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করুন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি আপনার বাতের ব্যথা কমিয়ে দেবে।

৫) চুল পড়া রোধে: অলিভ অয়েলের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ মধু, ১ চা চামচ দারচিনির গুঁড়া মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করে নিন। এটি চুলের ফাঁকা জায়গায় লাগান (যেখান থেকে চুল পড়ে গেছে সেখানে)। ১৫ মিনিট পর উষ্ণ গরম পানি দিয়ে চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এটি নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।

৬) নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ দূর করতে: উষ্ণ গরম পানিতে মধু ও দারচিনি মেশান। প্রতিদিন সকালে এই মিশ্রণ পান করুন। এটি আপনার মুখের দুর্গন্ধ কাটাতে সাহায্য করবে।

৭) ওজন কমাতে: শরীরের বাড়তি ওজন কমাতেও মধু দারচিনির জুড়ি মেলা ভার। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দারচিনি ও মধু খুব দ্রুত চর্বি কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন দারচিনি গুঁড়ো ও মধু দিয়ে ফোটানো এক গ্লাস পানি খালিপেটে পান করুন। এটি আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘মিডিয়ার মেয়ে’ বলে বিমানবন্দরে সাফা কবিরকে হেনস্তা

বিনোদনের খবর: কিছুদিন আগে নাটকের শুটিংয়ের জন্য থাইল্যান্ড পাড়ি জমান মডেল ও অভিনেত্রী সাফা কবির। শুটিং শেষে গতকাল বুধবার বিকেলের ফ্লাইটে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমসের একদল নিরাপত্তারক্ষীর হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে। সেসময় তিনি একাই ছিলেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে সাফা কবির জানান, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার ফ্লাইটে থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট সন্ধ্যায় ঢাকাতে পৌঁছান। সেসময় বিমানবন্দরের কাস্টমস অতিক্রম করার সময় একদল সাদা পোশাকধারী নিরাপত্তাকর্মী তাকে তিনটি লাগেজসহ থামান। এরপর নিরাপত্তারক্ষীরা সাফা কবিরকে ‘মিডিয়ার মেয়ে’ বলে কটূক্তি শুরু করেন। একপর্যায়ে তার তিনটি লাগেজ তল্লাশিও করতে চান। নিরাপত্তারক্ষীরা পুরুষ হওয়ায় লাগেজ চেক করতে সাফা কবির আপত্তি করেন।
সাফা কবির নারী নিরাপত্তারক্ষীদের মাধ্যমে তার লাগেজ চেক করতে অনুরোধ করলে তারা সে বিষয়টি আমলে না নিয়ে সাফাকে নিয়ে নানা বাজে মন্তব্য করতে শুরু করেন।
সাফা বলেন, ‘নারী হিসেবে আমার একটা প্রাইভেসি আছে। তাই কোনো নারী নিরাপত্তারক্ষী দিয়ে আমার লাগেজ তল্লাশি করাতে আমার কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু সাদা পোশাকধারী ওই নিরাপত্তারক্ষীরা বলেন, মিডিয়ার মেয়ের আবার প্রাইভেসি কীসের? এভাবে কথা কাটাকাটি চলে প্রায় ৩০ মিনিট। একপর্যায়ে একজন নারী নিরাপত্তারক্ষী এগিয়ে এসে আমার লাগেজ তল্লাশি করেন।’

সাফা বলেন, ‘তল্লাশি করে অবৈধ কিছু পেয়ে আটকাতে না পেরে আমার বহন করে আনা জিনিসের ট্যাক্স দাবি করে বসেন তারা। কিন্তু আমার কাছে ট্যাক্স দেয়ার মতো কোনো পণ্য ছিল না। পরে আইনিভাবে আটকাতে না পেরে ছেড়ে দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার তিনটি লাগেজে পোশাক ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী ছিল। নিরাপত্তার নামে আমি হেনস্তার শিকার হয়েছি। নিরাপত্তারক্ষীরা আমাকে সাহায্য না করে বরং চরম অপমান করেছেন। এভাবে হেনস্তা করার সময় আশপাশের অনেক মানুষ জড়ো হয় এবং সেগুলো তারা ভিডিও করেছে। এটা আমার জন্য মানিহানিকর। আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
যোগ করে আরও বলেন, ‘বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে একজন মেয়ে হিসেবে আমি চরম অপদস্থ হয়েছি। মিডিয়ার মেয়ে বলে ওই নিরাপত্তারক্ষীরা আমাকে বাজেভাবে অপমান করেছেন। শিল্পী তো দূরের কথা, দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি যথার্থ মূল্যায়ন পাইনি। আমার মতো একজন শিল্পীর যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন কীভাবে হেনস্তা হয় ধারণা করা যায়?’
এ বিষয়ে তদন্ত করে ওইসব নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন সাফা কবির।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest