সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় প্রভাষকের পদোন্নতিতে মহাপরিচালকের প্রতিনিধি হলেন ঝাউডাঙ্গা কলেজ অধ্যক্ষগণঅভ্যুত্থান স্মরণে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের স্মরণসভামাদকের আখড়ায় অতিষ্ঠ ঝাউডাঙ্গার দত্তবাগ এলাকাবাসীচলতি মাসেই হতে পারে ছাত্রদলের নতুন কমিটি : আলোচনায় যারাপেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, পাইলটসহ নিহত ১৩সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা : এনডিসির উদ্ধতপূর্ণ আচরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দাসাইবার দলের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাতক্ষীরায় কেক কাটা ও বৃক্ষরোপণঢাকাস্থ দেবহাটা উপজেলা সমিতির ৩২ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনজলাবদ্ধতা নিরসনে নদী-খাল পুনরুদ্ধারের দাবি : সাতক্ষীরায় নাগরিক পরামর্শ সভাগণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় জামায়াতের গণমিছিল

‘অবশেষে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘকে মেনে নিচ্ছে মিয়ানমার’

মিয়ানমার শেষপর্যন্ত জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বা ইউএনএইচসিআরকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে রাজী হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম একথা জানিয়ে বলেছেন,এতদিন মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বাংলাদেশ চাইলেও মিয়ানমার ইউএনএইচসিআরকে যুক্ত করতে রাজী ছিল না। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রথম দফায় আট হাজার জনের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়ার যে তালিকা দিয়েছিল, সেই তালিকার মাত্র কয়েকশ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়ার ছাড়পত্র দিয়েছে মিয়ানমার। প্রত্যাবাসনেরও কোন দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। তারপরও বাংলাদেশ দ্বিতীয় তালিকা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক সব আলোচনায় বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআরকে যুক্ত করার প্রস্তাব তুলেছিল।কিন্তু সেই প্রস্তাবে মিয়ানমারকে রাজী করানো সম্ভব হয়নি বলে ঢাকায় কর্মকর্তারা বলছেন।

মিয়ানমারকে রাজী করাতে ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশ নিজেদের প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআরকে যুক্ত করেছে। এখন এনিয়ে মিয়ানমারের সাথে সরাসরি আর কোন আলোচনা করেনি বাংলাদেশ।

তবে সম্প্রতি জেনেভায় ইউএনএইচসিআর এর প্রধানের সাথে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতি মন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

ঢাকায় ফিরে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইউএনএইচসিআর এর প্রধানের বরাত দিয়ে বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার ইউএনএইচসিআরকে যুক্ত করতে রাজী হয়েছে।

“বাংলাদেশ এককভাবে ইউএনএইচসিআর বা ইউএন এজেন্সিকে যুক্ত করতে চেয়েছিল।কিন্তু মিয়ানমারকে আমরা রাজী করাতে পারিনি।কিন্তু অতিসম্প্রতি মিয়ানমার রাজী হয়েছে।আমি জাতিসংঘে বৈঠক করেছি গত সপ্তাহে। ইউএনএইচসিআর এর প্রধান আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে, মিয়ানমার সরকার তাদেরকে প্রস্তাব দিয়েছেন। তারা ইউএনএইচসিআরকে প্রত্যাবান প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে চান।এটা অনেক আশাবাদী একটা খবর।”

মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘকে কিভাবে যুক্ত করতে পারে, তার কোন ইঙ্গিত কি বাংলাদেশ পেয়েছে?

এই প্রশ্নে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য হচ্ছে, “এটা মিয়ানমার এবং ইউএনএইচসিআর আলোচনা করে ঠিক করবে।বাংলাদেশ এবং ইউএনএইচসিআর এর আলোকে আমি বলতে পারি, আমরা যে ফরমগুলো ফিলাপ করছি, তা ইউনএইচসিআর নিশ্চিত করলে প্রত্যাবাসনে সুবিধা হবে।আরেকটি বিষয় হচ্ছে, স্বেচ্ছায় ফেরত যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি পরিবারের পক্ষে ঐ পরিবারটির কর্তা ফরমে স্বাক্ষর করবেন।এগুলো ইউএনএইচসিআর নিশ্চিত করলে মিয়ানমারের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে।”

এছাড়াও রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার পর তাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত করা হচ্ছে কিনা, সে ব্যাপারেও বাংলাদেশ ইউএনএইচসিআর এর ভূমিকা চায়।

কিন্তু মিয়ানমার কোন ধরণের শর্থের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাটিকে যুক্ত করবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা আইওএম এর সাবেক কর্মকর্তা আসিফ মুনির বলেছেন, আন্তর্জাতিক চাপের কারণে শুধু লোক দেখানো হিসেবে মিয়ানমার যদি ইউএনএইচসিআরকে যুক্ত করে, তাতে কোন লাভ হবে না।

“মনে রাখতে হবে, এই যুক্ত করাটা যেন সাইনবোর্ড সর্বস্ব না হয়।”

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ এখন তালিকা বিনিময় করছে।

প্রথম দফায় বাংলাদেশ যে ৮ হাজার ৩২ জনের তালিকা দিয়েছে। তারমধ্যে মাত্র সাড়ে পাঁচশ জনের মতো রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার ছাড়পত্র দিয়েছে।

মিয়ানমার ফেরত নেয়ার কোন সময় এখনও দেয়নি।

তবে আগামী মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিবদের নেতৃত্বে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকে বাংলাদেশ দ্বিতীয় দফায় দশ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা দিতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলছিলেন, তারা রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই তাদের ফেরত পাঠানোর প্রশ্নে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

“বিষয়টা কিন্তু অনেক জটিল। আমরাও চাই না, ১১ লাখ রোহিঙ্গা যারা বাংলাদেশে আছেন, এরমধ্যে অনেক তাড়াহুড়ো করে যদি এক লাখও পাঠানো হয়, তাদের দু’শ জনও নির্যাতিত হয়ে চলে আসেন বাংলাদেশে। সেটা বাকি ১০ লাখ রোহিঙ্গার উপর একটা খারাপ প্রভাব ফেলবে। এটা পুরো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকেই ঝুলিয়ে দেবে।”

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা এটাও বলছেন, ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ে এই সংকট দীর্ঘ হতে পারে, এটিও বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সাহায্য নিয়ে এগুচ্ছে।

এদিকে, এখন বর্ষা মৌসুমের আগে কক্সবাজারের বালুখালী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে এক লাখ ভূমি ধসের ঝুঁকিতে আছে বলে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

তাদের আগামী দুই মাসের আগে ঐ শিবিরেই নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আগামিকাল দেবহাটায় আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কে.এম রেজাউল করিম, দেবহাটা ব্যুরো: দেবহাটায় আগামীকাল ৩১ মার্চ আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি। উদ্বোধন করবেন দেবহাটা থানার নতুন ভবন। এছাড়া তিনি পুলিশ প্রশাসনের আয়োজনে দেবহাটায় সুধী সমাবেশে অংশগ্রহন করবেন এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। পুলিশের একটি সূত্র মতে, শনিবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে দেবহাটা ফুটবল মাঠে সকাল সাড়ে ১০ টায় আসবেন। পরে তিনি থানার নতুন ভবন উদ্বোধন করে দেবহাটা হাইস্কুল সম্মুখে স্থানীয় সুধীজনের সাথে এক সুধী সমাবেশে অংশগ্রহন করবেন। সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি। বিশেষ অতিথি হিেেসব উপস্থিত থাকবেন যথাক্রমে অধ্যাপপক ডাঃ রুহুল হক এমপি, মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবি এমপি, এস.এম জগলুল জগলুল হায়দার এমপি, এ্যাডঃ মোস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি, মিসেস রিফাত আমিন এমপি, খুলনা রেজ্ঞ ডিআইজি দিদার আহম্মদ বিপিএম, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন, জেলা আঃলীগের সভাপতি আলহাজ¦ মুনসুর আহম্মেদ ও জেলা আঃলীগের সাধারন সম্পাদক জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম। মতবিনিময় শেষে তিনি নলতা যেয়ে খাঁন বাহাদুর আহছানউল্লাহ (রঃ) মাজার জিয়ারত করবেন এবং সেখানে দুপুরে মধ্যহ্নভোজ করে দেবহাটা উপজেলার দেবীশহর মাঠে উপজেলা আঃলীগ আয়োজিত এক জনসভায় অংশগ্রহন করবেন। এখানে সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন দেবহাটা উপজেলা আঃলীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মুজিবর রহমান। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যামনগরের গিয়ে সুন্দরবন ঘুরবেন বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বৃটিশ শাসনামলে তৈরী দেবহাটা থানার পূর্বের ভবনটি জরাজীর্ন হওয়ার কারনে গত ইং ২০১৪ সালে ঐ ভবনটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় থেকে বিক্রি করে দেয়া হয়। সূত্র মতে জানা গেছে, নতুন ভবন ও প্রাচীর নির্মান বাবদ ৬ কোটি ৩৮ লক্ষ ২০ হাজার ৯ শত ১৬ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কাজটি করার জন্য যশোরের বিশ^াস বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পায়। গত ইং ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর তারিখে থানা ভবনটি তৈরীর জন্য কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়। আর কাজটি শুরু করা হয় ইং ২০১৫ সালের ৮ মার্চ। নতুন ভবনটি তৈরীর কাজ শেষ হয়ে গেছে। দেবহাটা থানার ওসি কাজী কামাল হোসেন জানিয়েছেন, মন্ত্রী মহোদয়ের আগমনকে কেন্দ্র করে একটি নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সদর উপজেলার কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ: সাতক্ষীরায় খরিপ-১/২০১৮-১৯ মৌসুমে উফশী আউশ ও নেরিকা আউশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, রাসায়নিক সার, সেচ সহায়তা ও আগাছা দমন সহায়তা কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সদর উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেনের সভাপতিত্বে সার, বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান বাবু, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তহমিনা খাতুন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আমজাদ হোসেন, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম প্রমুখ। সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৬৬০ জন কৃষককে নেরিকা আউশ এবং ৪৫০ জন কৃষককে উফশী আউশ ধানের বীজ দেওয়া হয়। প্রত্যেক কৃষককে ৫ কেজি নেরিকা আউশ বীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি, সেচ সহায়তা ও আগাছা নাশক সহায়তা হিসেবে ১ হাজার টাকা বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে প্রদান করা হয় এবং ৪৫০ জন কৃষককে প্রত্যেককে ৫কেজি উফশী আউশ বীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি এবং সেচ সহায়তা বাবদ বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে ৫০০ শত টাকা প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস.এম রেজাউল ইসলাম, জেলা তাঁতীলীগের সভাপতি মীর আজহার আলী শাহিন, সাধারণ সম্পাদক শেখ তৌহিদ হাসান, উপসহকারি কৃষি অফিসার বৈদ্যনাথ সরকার, কিরণ¥য় সরকার, রঘুজিৎ গুহ, আফজাল হোসেন, শেখ হাসান রেজা, শওকাত হায়দার, সুমন সাহা, শাহানা আফরোজ, নাজমা আক্তার প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপসহকারী কৃষি অফিসার অমল কুমার ব্যাণার্জী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়েও পিছিয়ে গেল আর্জেন্টিনা

স্পেনের কাছে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হারের লজ্জায় ডোবার পর আরেকটি দুঃসংবাদ পাচ্ছে আর্জেন্টিনা। ৬-১ গোলের হারে ফিফার র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়েছে দলটি। আগামী ১২ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করবে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।

জার্মানির বিপক্ষে দারুণ জয় পেলেও শীর্ষে উঠতে পারছে না ব্রাজিল। হারের পরেও শীর্ষস্থান ধরে রাখছে জার্মানি। ১৩ মাস আগে শীর্ষে ছিলো মেসির আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে বর্তমানে তাদের অবস্থান চারে। তবে নতুন র‍্যাঙ্কিক প্রকাশিত হলে তারা একধাপ নিচে নেমে যাবে। গত আট মাস ধরে জার্মানি শীর্ষে আছে জার্মানরা। আর ব্রাজিল তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে।

অন্যদিকে সোমবার রাতে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৩-০ গোলে হেরে যাওয়ায় পর্তুগালও এক ধাপ পিছিয়ে চতুর্থ স্থানে নামবে। আর দুই ধাপ এগিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠবে বেলজিয়াম। দুই ধাপ করে উপরে উঠবে সুইজারল্যান্ড (ষষ্ঠ) ও ফ্রান্স (সপ্তম)। স্পেন এক ধাপ পিছিয়ে অষ্টম স্থানে থাকবে। আর এক ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠবে চিলি। চার ধাপ পিছিয়ে দশম স্থানে পোল্যান্ড।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
লিভারের কর্মক্ষমতা ঠিক রাখে কাঁচা আম!

দৌড়াদৌড়ির মাঝে আমরা আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের খেয়াল রাখতে ভুলে যাই। ফলে যা হওয়ার তাই হয়, একদিকে আয়ু কমতে থাকে, অন্যদিকে বাড়তে থাকে নানা রোগ ভোগের আশঙ্কা। দেখা যাচ্ছে গত এক দশকে আমাদের দেশে মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পয়েছে লিভারের অসুখ। শরীরে মেদ জমতে থাকলে ধীরে ধীরে লিভারের কর্মক্ষমতাকে কমে যায়। ফলে শরীরে উপস্থিত বিষ বা টক্সিক উপাদান ঠিকমতো বেরতে পারে না, সেই সঙ্গে রক্তে শর্করার মাত্রাও বাড়তে শুরু করে।

ওজন কমানোর পাশাপাশি লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়তে এই প্রকৃতিক উপাদনগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই লিভারকে চাঙ্গা রাখার মধ্যে দিয়ে যদি দীর্ঘ দিন বাঁচতে চান, তাহলে এইখাবারগুলিগুলি নিয়মিত খেতে ভুলবেন না। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কী কী খাবার খেতে বলা হয়েছে-

১) ব্রকলি: এই সবজিটির ভিতর উপস্থিত আইসোথিয়োসায়ানেট নামক উপাদান দেহের ভিতর প্রদাহের মাত্রা কমানোর পাশাপাশি লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ইলিনোস ইউনিভার্সিটির গবেষকদের করা এক পরীক্ষায় দেখা গেছে “নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার”এর মতো রোগকে দূরে রাখতে ব্রকলির কেনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই লিভারকে যদি সুস্থ রাখতে হয়, তাহলে সপ্তাহে ৩ দিন ব্রকলি খাওয়া দরকার।

২) কাঁচা আম: গবেষণায় দেখে গাছে শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে কাঁচা আমের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। শুধু তাই নয়, লিভার এবং গল ব্লাডারের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও কাঁচা আম বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৩) আপেল: কথায় বলে, “প্রতিদিন যদি একটা করে আপেল খাওয়া যায়, তাহলে কোনও দিন চিকিৎসকের মুখ দেখতে হয় না।” আসলে আপেলে উপস্থিত একাধিক পুষ্টিকর উপাদান লিভারের ভিতর যাতে কোনও ক্ষত সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর রাখার পাশাপাশি সার্বিকভাবে শরীরের প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা বাড়তেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে ছোট-বড় সব রোগ দূরে রাখে।

৪) গাজর: ক্যারোটিনয়েড নামে একটি অতি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে গাজরের শরীরে, যা দেহের ফ্রি রেডিকাল বা টক্সিক উপাদনদের কোনও অঙ্গের ধারে কাছে যেতে দেয় না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শুধু লিভার নয়, কোনও অরগ্যানেরই ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

৫) লেবু: লেবুও একটি সাইট্রাস ফল, যাতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বায়োফ্লেবোনাইডস। এই উপাদানগুলি লিভারকে পরিষ্কার করার পাশাপাশি শরীরের ভিতর যাতে অক্সিডাইজ ড্যামেজ বেশি মাত্রা না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ায় শিক্ষার্থীর চোখ রক্ষার্থে অর্থ সংগ্রহে বন্ধুদের চিত্র প্রদর্শনী

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ায় রাসেল আলম নামক এক শিক্ষার্থীর চোখ রক্ষার্থে অর্থ সংগ্রহের জন্য তারই বন্ধু ও সহপাঠিরা আয়োজন করলো চিত্র প্রদর্শনী।
২৯মার্চ সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কলারোয়া গার্লস পাইলট হাইস্কুলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো পাইলট হাইস্কুলের ছাত্র নাইম হাসান শাওন ও প্রাপ্তির চিত্র প্রদশর্নী।
বন্ধু ও সহপাঠি আয়োজিত ওই প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বদরুজ্জামান বিপ্লব। পরে দর্শনার্থী হিসেবে ওই স্কুলটির ছাত্রীরা নামমাত্র ১০টাকার বিনিময়ে শুভেচ্ছা টিকিট সংগ্রহ করে কয়েক শতাধিক চিত্র অবলোকন করেন।
এর আগে গত ২৭ তারিখে কলারোয়া মডেল হাইস্কুলে অনুষ্ঠিত হয় নাঈম হাসান শাওনের একক চিত্র প্রদশর্নী। ওই প্রদর্শনী থেকেও প্রাপ্ত টাকা রাসেলের চিকিৎসার জন্য প্রদান করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়- পাইলট হাইস্কুলের এসএসসি ব্যাচ ২০১৮ এর শিক্ষার্থী নাঈম হাসান শাওনের উদ্যেগে এটি পরিচালিত হচ্ছে। উক্ত ব্যাচের ইসমাঈল, শান্ত, রাসেল, প্রণয়, মাহফুজ, হাসান, রিফাত, নন্দ, নির্জন, আযাদ, প্রিমা ও ৮ম শ্রেণীর ক্ষুদে শিল্পী শোহানা আসরাফ প্রাপ্তিও মহতি এ আয়োজনে উপস্থিত ছিল।
অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীরা বিপুল উৎসাহের সাথে অংশ নেয়। অনুষ্ঠান দু’টি নাঈমের রং-পেন্সিল গ্রুপ তত্বাবধায়ন করছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রাশিয়া ছাড়তে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে এক গুপ্তচরকে বিষপ্রয়োগ নিয়ে রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কারের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ কূটনীতিককে বহিষ্কার এবং সেন্ট পিটার্সবার্গে দেশটির কনস্যুলেটের কার্যক্রম বন্ধ করেছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গত ৪ মার্চ ব্রিটেনের সলসবেরির উইল্টশায়ারে একটি পার্কের বেঞ্চ থেকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পক্ষত্যাগী সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল (৬৬) এবং তার মেয়ে ইউলিয়াকে (৩৩) উদ্ধার করা হয়। তাদের নোভিচক গ্রুপের একটি নার্ভ এজেন্ট দেওয়া হয়েছিল বলে পরীক্ষায় জানা যায়।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন সত্তর ও আশির দশকে এ সিরিজের নার্ভ এজেন্টগুলো তৈরি করেছে। সেগুলো সবচেয়ে মারাত্মক নার্ভ এজেন্ট (উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক) হিসাবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
মস্কোর নির্দেশেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়েকে বিষপ্রয়োগে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ যুক্তরাজ্যের।তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ২০টির বেশি দেশ থেকে রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত সোমবার ৬০ জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের পাশাপাশি সিয়াটলে রাশিয়ার কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর পাল্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের বহিষ্কার ও কনস্যুলেট বন্ধের বিষয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লাভরভ।

“সমান সংখ্যক কূটনীতিক বহিষ্কার এবং সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউএস কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যক্রমের অনুমতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা,” বলেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠি; পাচার হওয়া অর্থে আসছে অস্ত্র, যাচ্ছে জঙ্গিদের হাতে

অনলাইন ডেস্ক: প্রতিদিন দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। অর্থ লেনদেনের অবৈধ মাধ্যম ‘হুন্ডি’র মাধ্যমে এ অর্থ পাচার হচ্ছে। আর পাচার হওয়া টাকায় কেনা অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য দেশে আসছে চোরাপথে। আবার এসব অস্ত্রশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে চলে যাচ্ছে। এ কাজে এক শ্রেণীর চোরাকারবারী লিপ্ত বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আশঙ্কা করা হয়েছে। একটি বিশেষ সংস্থার গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের যুগ্ম-সচিব ফরিদ আহাম্মদ। সম্প্রতি দেয়া ওই চিঠির সঙ্গে ২৯ পাতার প্রতিবেদনটিও সংযুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা প্রতিবেদনটিও গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।

প্রতিবেদনটির ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মল্লিকা খাতুন স্বাক্ষরিত চিঠি পুলিশ সদর দফতরে দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন ও চিঠি পাওয়ার পর পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বৃহস্পতিবার সারা দেশে পুলিশের সব ইউনিটে চিঠি পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- সম্প্রতি কিছু রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও পুলিশ সদস্য সিন্ডিকেট করে এজেন্ট ও সাব-এজেন্টের মাধ্যমে টাকা ও বিদেশি মুদ্রা ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করছে। এক্ষেত্রে স্থলবন্দর ও সীমান্তের চেকপোস্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। এর সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকাসহ কিছু এলাকার বাণিজ্যিক ব্যাংক, কুরিয়ার সার্ভিস, সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং ইমিগ্রেশনের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত।

প্রতিবেদনে বলা হয়- পাচার হওয়া অর্থের একটি বড় অংশের বিনিময়ে দেশে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকসহ নানা নিষিদ্ধ দ্রব্য আসছে। আবার এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক বিভিন্ন হাত ঘুরে শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ জঙ্গি ও অপরাধীদের হাতে চলে যায়। এসব অস্ত্র জঙ্গিদের হাতে চলে যাওয়ায় দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এতে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নানা পদ্ধতিতে হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে অর্থ পাচার হচ্ছে। আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে এলসি খোলা ও বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এ কারণে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে টাকার মালিক ও হুন্ডি ব্যবসায়ীদের মধ্যে গোপন সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়। চোরাকারবারীরা সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে অস্ত্র, বিস্ফোরকসহ নানা পণ্য কিনতে সেসব দেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে বিদেশি মুদ্রা সংগ্রহ করে। এরপর ওই মুদ্রা সমপরিমাণ টাকা বাংলাদেশে থাকা তাদের (চোরাকারবারী) এজেন্টদের মাধ্যমে প্রবাসী স্বজনদের পরিশোধ করে। এতে সরকার রেমিটেন্সবঞ্চিত হয়। চোরাচালানি পণ্যগুলোর মূল্য পরিশোধের জন্য চোরাকারবারীরা বাংলাদেশে অবস্থানকারী হুন্ডি ব্যবসায়ীদের টাকা দেয়। ওই টাকার সঙ্গে সাঙ্কেতিক চিহ্ন বা চিরকুট থাকে। ওই সাঙ্কেতিক চিহ্ন বা চিরকুট নিয়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী ওই সব দেশের হুন্ডি ব্যবসায়ীদের কাছে গেলে তারা তাৎক্ষণিক টাকা পরিশোধ করে। এতে চোরাকারবারীরা দ্রুত অর্থ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা পায়।

প্রতিবেদনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ভারতে অভিবাসী হওয়ার প্রবণতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তারা অর্জিত আয় ও ভূ-সম্পত্তি বিক্রির টাকা ভারতে সঞ্চয় করতে বেশি নিরাপদ বোধ করে। এ ধরনের অর্থের বেশিরভাগই আবার হুন্ডির মাধ্যমে পাচার হয়ে থাকে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মন্তব্যে বলা হয়- হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার অপেক্ষাকৃত সহজ হওয়ায় এটি এখন অর্থ পাচারের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। আমদানি বা রফতানির মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট দেখাতে হয়। এতে অপরাধীর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। হুন্ডিতে এজেন্টের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হওয়ায় এর অনুঘটকরা থাকে পর্দার আড়ালে। কাগজপত্র ছাড়া লেনদেন হওয়ায় এ প্রক্রিয়ায় পাচারকারীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া হুন্ডির মাধ্যমে টাকা হস্তান্তরে খরচ কম হয়। তাই পাচারকারীদের প্রথম পছন্দ এটি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশে রেমিটেন্স প্রবাহে হুন্ডি বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। কারণ বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থের একটি বড় অংশ আসছে হুন্ডির মাধ্যমে। আর রেমিটেন্স আয়ের এ অংশটি হুন্ডির মাধ্যমে আসায় তা বিদেশে পাচারের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনই দেশের পুঁজি গোপনে বিদেশে চলে যাচ্ছে। তাই বৃহত্তর স্বার্থে হুন্ডি বন্ধ করতে হবে।

প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, সীমান্তবর্তী এলাকায় র‌্যাব-বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করে হুন্ডি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো যেতে পারে। স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের সক্রিয়তা বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেয়া যেতে পারে। বিভিন্ন দেশ থেকে বৈধ চ্যানেলে কম খরচে দ্রুত টাকা পাঠানোর নিশ্চয়তা বিধান করা যেতে পারে। হুন্ডির মাধ্যমে টাকা বা বৈদেশিক মুদ্রা পাচারে সহায়তাকারী সন্দেহজনক সিএন্ডএফ এজেন্টদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নজরদারির পাশাপাশি তাদের মোবাইল মনিটরিং করা যেতে পারে। গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রচারণা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

এ ব্যাপারে জানতে বৃহস্পতিবার একাধিকবার আইজিপির দফতরে যাওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনেও তার সাড়া মেলেনি। তবে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি সহেলী ফেরদৌস বলেন, হুন্ডি চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা এসেছে সে অনুয়ায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।

সূত্র: যুগান্তর

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest