সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় প্রভাষকের পদোন্নতিতে মহাপরিচালকের প্রতিনিধি হলেন ঝাউডাঙ্গা কলেজ অধ্যক্ষগণঅভ্যুত্থান স্মরণে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের স্মরণসভামাদকের আখড়ায় অতিষ্ঠ ঝাউডাঙ্গার দত্তবাগ এলাকাবাসীচলতি মাসেই হতে পারে ছাত্রদলের নতুন কমিটি : আলোচনায় যারাপেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, পাইলটসহ নিহত ১৩সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা : এনডিসির উদ্ধতপূর্ণ আচরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দাসাইবার দলের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাতক্ষীরায় কেক কাটা ও বৃক্ষরোপণঢাকাস্থ দেবহাটা উপজেলা সমিতির ৩২ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনজলাবদ্ধতা নিরসনে নদী-খাল পুনরুদ্ধারের দাবি : সাতক্ষীরায় নাগরিক পরামর্শ সভাগণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় জামায়াতের গণমিছিল

যে কোনো পরিস্থিতিতে ভোটে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে দুই সুর বিএনপিতে

অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপি এখন দুই ধারায় বিভক্ত। যে কোনো পরিস্থিতিতেই ভোটে যাওয়ার পক্ষে বড় একটি অংশ। তবে আরেকাংশ ‘নো খালেদা নো ইলেকশন’ এমন ধারায় বিশ্বাসী। এ অংশটি নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নে শুধু খালেদা জিয়াই নয়, নির্বাচনের সময় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের নিশ্চয়তা চায়। ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না হলে নির্বাচন বর্জনের পক্ষেই তারা। এ অংশের নেতারা জানান, এবার বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে ক্ষমতাসীন সরকার টিকবে না। সুতরাং বিএনপিকে ছাড়া সরকারও নির্বাচনে যাবে না। সে ক্ষেত্রে বিএনপির দাবি মানতে সরকারও বাধ্য। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া জেলে থাকুক বা মুক্ত হোক, বিএনপিকে নির্বাচনে যেতে হবে। বিএনপিতে যারা বলছেন নো খালেদা নো ইলেকশন, তারা ভুল পথে আছেন। বড় দলের অহংকার ভুলে বিএনপিকে সব গণতান্ত্রিক শক্তির সমন্বয়ে সম্মিলিত বিরোধী দল গঠন করতে হবে। বিনা চ্যালেঞ্জে সরকারকে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। তাদের বুঝতে হবে, বেগম জিয়াকে জেলে রেখেই সরকার আরেকটি নির্বাচন করতে চায়। আর সেজন্যই তারা নতুন নতুন কর্মপদ্ধতি প্রয়োগ করছে।’
বিএনপির বড় অংশই মনে করে, যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যেতে হবে। নইলে বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। মোটামুটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলেও ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ ছাড়া নির্বাচন বর্জনও কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। কোনো কারণে একাদশ নির্বাচন বর্জন করলে ক্ষমতাসীনরা আবারও বিনা বাধায় দেশ পরিচালনার সুযোগ পাবে। সে ক্ষেত্রে বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা কী হবে তাও বলা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় বিএনপির চরম দুর্দিন নেমে আসবে। সেখান থেকে উত্তরণ ঘটাতে না পারলে মুসলিম লীগের মতো দল হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বিএনপির এ অংশ মনে করে, নির্বাচনের সময়ের সরকারকে একটি ‘ধাক্কা’ দিতে হবে। ওই সময়কার সরকারকে সমঝোতায় আনতে বাধ্য করা হবে। বিএনপিকে সেই প্রস্তুতি নিয়েই এগোতে হবে। ওই সময় সারা দেশে একযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ক্ষমতাসীন দল ও প্রশাসন ইচ্ছা করলেও সারা দেশে কিছু করতে পারবে না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করাও ভুল ছিল বলে মনে করে এ অংশটি।
দলের আরেকাংশ বলছে, কোনোভাবেই খালেদা জিয়াবিহীন নির্বাচনে যাওয়া ঠিক হবে না বিএনপির। তাহলে সরকারের পাতা ফাঁদেই পা দেওয়া হবে। এ অংশটি নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষের নেতাদের সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে চলার অভিযোগও আনছেন। এ অংশের একাধিক নেতা জানান, বিএনপিতে সুবিধাবাধী নেতারাই খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে। ওয়ান-ইলেভেনে সংস্কারপন্থি নেতাদের বড় অংশই খালেদাবিহীন নির্বাচনে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। প্রয়োজনে একাদশ জাতীয় নির্বাচনও বর্জনের পক্ষে এ অংশটি। বিএনপি সমর্থিত বুদ্ধিজীবী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে নির্বাচন হলে সেখানে বিএনপির অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তা আছে। একটি অংশ রয়েছেন, তারা বেগম জিয়াবিহীন নির্বাচনে যেতে রাজি নন। তবে আমার মনে হয়, বিএনপি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিলে ভালো করবে। অবশ্যই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বিএনপিকে সর্বাত্মক আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আবার যে কোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিতে হবে। আর আমিও মনে করি, সেইভাবেই বিএনপি প্রস্তুত হচ্ছে।’

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষের নেতারা বলছেন, বিএনপিতে যারা কথায় কথায় নির্বাচন বর্জনের হুমকি দিচ্ছেন, তারাই মূলত সরকারের এজেন্ট। তাদের পেছনেও সরকার আর্থিক ব্যয় করছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি যাতে অংশগ্রহণ না করে, সে ব্যাপারে এই নেতাদের টোপ দেওয়া হয়। তারাই বেগম জিয়াকে বুঝিয়ে নির্বাচন বর্জনে বাধ্য করেন। এজন্য একটি মহলবিশেষ তাদের পুরসৃ্কতও করে। এ অংশটি প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের অ্যাসাইনমেন্ট বাস্তবায়ন করে বলেও অভিযোগ নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষের নেতাদের। এদিকে খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়ার পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে পিছিয়ে দলটি। দল গোছানোর কার্যক্রমও বন্ধ। নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির উদ্যোগও নেই। এরই মধ্যে দোরগোড়ায় পাঁচ সিটি নির্বাচন। সে বিষয়েও বিএনপি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। খালেদা জিয়াবিহীন বিএনপি সামনে কোন পথে এগোবে, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি। সূত্রমতে, খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার আগে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিজ নিজ সংসদীয় আসনে নানাভাবে গণসংযোগ কর্মসূচিও চালাতে দেখা গেছে। নির্বাচনী আমেজে থাকা বিএনপিতে হঠাৎই ছন্দপতন ঘটে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগও এখন থমকে গেছে। সবাই এখন ব্যস্ত খালেদা জিয়ার মুক্তির কর্মসূচি বাস্তবায়নে। নির্বাচনের আগে বেগম জিয়ার মুক্তি মিলবে কি না তাও অনিশ্চিত। এ নিয়ে মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও হতাশা লক্ষ্য করা গেছে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রাকার ‘শেষ রাতের গল্প’

ঢাকাই চলচ্চিত্রের নবগতা মুখ রাকা বিশ্বাস। ইতোমধ্যে তার একটি চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় আছে। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি অভিনয় করছেন কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রতেও। অন্যদিকে ছোট পর্দায় সাফল্য অর্জনের পর বড় পর্দায় নাম লেখান অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন। সিনেমায় এসেও তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। বেশ কিছু সিনেমায় তার অভিনয় প্রশংসা পেয়েছে।

পুরাতন ও নতুন এই দুইজন মিলন ও রাকা এবার জুটি বাঁধছেন একটি চলচ্চিত্রের জন্য। তবে সেটা পূর্ণদৈর্ঘ্য নয়, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এফ আই শাহীনের পরিচালনায় স্বল্পদৈর্ঘ্যটির নাম ‘শেষ রাতের গল্প’। এতে মিলন ও রাকা
ছাড়া আরো অভিনয় করবেন একে আজাদ।

এ প্রসঙ্গে রাকা বিশ্বাস বলেন, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করার খুব বেশি ইচ্ছে নেই। কিন্তু এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটির গল্প ও আয়োজন বেশ ভালো লেগেছে। তাই কাজটি করছি। এরপর আর স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করব না।

আগামী ৫-৬ এপ্রিল পুবাইল ও ঢাকায় চলচ্চিত্রটির দৃশ্যধারনের কাজ হবে। ‘শেষ রাতের গল্প’র চিত্রনাট্য লিখেছেন আওরঙ্গজেব। এটি প্রযোজনা করছেন রুপস মাল্টিমিডিয়া।

এর আগে রাকা ২০১৪ সালে আরো একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন যা কিনা মালয়শিয়ার একটি ফ্যাস্টিবালে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত হয়েছে।

উল্লেখ্য রাকা অভিনীত ‘প্রেমের কেন ফাঁসি’ সিনেমার শুটিং শেষ করে মুক্তি অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া ‘প্রেমাচল’ নামে নতুন একটি সিনেমার কাজ সম্প্রতি শুরু করেছেন তিনি। এফ আই শাহীন পরিচালিত এ সিনেমায় রাকার বিপরীতে অভিনয় করছেন নবাগত শায়ের আজিজ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাকিবের কাছে রিয়াদের হার

গা গরম করার ম্যাচে সাকিব-রিয়াদরা খেলেছেন গা ছাড়া ভাবে। বিশেষভাবে আয়োজিত টি-২০ ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর রিয়াদ সবুজ দলকে সহজেই হারাল সাকিব আল হাসানের লাল দল। ৯৭ রানের লক্ষ্য ২৩ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় তারা।

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি সবুজ দলের। ১৭ রানের মধ্যে তারা হারায় প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে। তাদের কেউ যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। আরিফুল হক, মাহমুদউল্লাহ বিদায় নেন দুই অঙ্ক ছুঁয়ে। নাহিদুল ইসলামের ১৮ ও দেলোয়ার হোসেনের অপরাজিত ২০ রানে একশ’ রানের কাছাকাছি যায় সবুজ দলের সংগ্রহ।

২০ রানে ৩ উইকেট পান বাঁ-হাতি স্পিনার রায়হান। পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ২ উইকেট নেন ১৩ রানে।

জবাবে লাল দলের ইনিংসের শুরুতেই চমক! জাকির হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ওপেনিংয়ে আসেন সাকিব আল হাসান। প্রথম তিন বলে সাকিবের ব্যাট থেকে আসে দুই বাউন্ডারি। সাকিব ও জাকির হাসানের ওপেনিং জুটিতে আসে ২৭ রান। তারপর সীমানা ছাড়া করতে গিয়ে বল আকাশে তুলে সাকিব বিদায় নেন ১৫ রানে।

সাকিবের বিদায়ের পর খুব দ্রুতই ৩ উইকেট হারায় লাল দল। উইকেটে সুবিধা করতে পারেননি আফিফ, হৃদয় কেউই। সাব্বির ১৯ ও জনি তালুকদার ১২ রান করেন। তবে উইকেটের অপরপ্রান্তে সতর্ক থেকে ওপেনার জাকির করেন অপরাজিত ৩৭ রান। ফলে ২৩ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে জয় তুলে নেয় সাকিবের লাল দল।

সবুজ দলের পক্ষে ১টি করে উইকেট নিয়েছেন জুবায়ের লিখন, নাহিদুল ও তাইজুল ইসলাম।

বিসিবি সবুজ : ১৭.৩ ওভারে ৯৬ (মারুফ ৭, রনি ২, সাদমান ৫, আল-আমিন ১, আরিফুল ১২, নাহিদুল ১৮, মাহমুদউল্লাহ ১১, তাইজুল ৪, দেলোয়ার ২০, সাঈদ ৪, শুভাশিস ৭; সাইফ উদ্দিন ২/১৩, শরিফুল ১/১০, অনিক ১/৬, সাকিব ১/১৮, আজিম ১/১৭, আফিফ ০/১১, রায়হান ৩/২০)।

বিসিবি লাল : ১৬.১ ওভারে ৯৭ (সাকিব ১৫, জাকির ৩৭*, সাব্বির ১৯, হৃদয় ৬, আফিফ ৪, জনি ১২*; দেলোয়ার ০/১৪, শুভাশিস ০/২৫, আল-আমিন ০/২, নাহিদুল ১/২০, জুবায়ের ১/১৫, তাইজুল ১/১৪, মাহমুদউল্লাহ ০/৬)।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে শাকিব খান

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। চিকিৎসার জন্য বর্তমানে তিনি রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায়  খবরটি জানিয়েছেন ল্যাবএইড হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাইফুর ইসলাম লেনিন। তিনি বলেন, শাকিব খান আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টার দিকে ল্যাবএইডে ভর্তি হন।

লেনিন আরো বলেন, বর্তমানে শাকিব খান কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ ওয়াদুদ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন। চেস্ট ডিসকফোর্টের কারণে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতাল আসেন তিনি। তারপর চিকিৎসকের পরামর্শে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি হন শাকিব।

প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়ার পর শাকিব খানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, দুই থেকে তিনদিন শাকিব খানকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। তবে ল্যাবএইড থেকে কখন ছাড়া পাবেন এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নারকেল তেলের কিছু অজানা ব্যবহার

নারকেল তেলকে বলা হয় ‘মিরাকেল অয়েল’। কারণ চুল কিংবা ত্বক পরিচর্চার পাশাপাশি অনেকগুলো স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধান করে থাকে এই নারকেল তেল। এর কিছু ব্যবহার আছে যা আমাদের কাছে এখনও অজানা। তবে আর দেরি না করে চলুন জেনে নেই সেগুলো সম্পর্কে।

১। ছোটখাটো জ্বালাপোড়া
হঠাৎ করে হাত পুড়ে গেলে সেখানে কিছু পরিমাণ নারকেল তেল ব্যবহার করুন। দেখবেন জ্বালাপোড়া অনেকটা কমে গেছে। কিছুক্ষণ পর পর পুড়ে যাওয়া স্থানে নারকেল তেল ব্যবহার করুন।

২। ত্বক ময়েশ্চারাইজ করতে
ত্বক ময়েশ্চারাইজ করতে নারকেল ব্যবহার করা হয়। লোশন ব্যবহার না করে ত্বকে নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন। এটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের জ্বালাপোড়া এবং রিংকেল দূর করে দেয়।

৩। ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে
ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে বগলে কিছু পরিমাণ নারকেল তেল ম্যাসাজ করে লাগান। নারকেল তেলে থাকা উপাদান ঘাম শুষে নেয়, যা দুর্গন্ধ হওয়া রোধ করে।

৪। ব্যথা প্রশমিত করতে
জয়েন্টের ব্যথা কিংবা হাঁটু ব্যথাতে কুসুম গরম নারকেল তেল ম্যাসাজ করুন। এটি ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।

৫। অনিদ্রা দূর করতে
ঘুমের সমস্যা দূর করে দেবে নারকেল তেল। প্রতিদিন তিন টেবিল চামচ বিশুদ্ধ নারকেল পান করুন। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া ঠিক রাখে। যা আপনাকে ভালো ঘুমে সহায়তা করে।

৬। বলিরেখা দূর করতে
বলিরেখা এবং রিংকেল প্রতিরোধ করতে নারকেলের জুড়ি নেই। দিনে দুইবার ত্বকে নারকেল তেল ম্যাসাজ করে লাগান। এটি নিয়মিত করুন। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকে বলিরেখা পড়া রোধ করে।

৭। এ্যার্নাজি বৃদ্ধিতে
খাবার উপযুক্ত নারকেল তেল প্রতিদিন খেলে তা দেহের এনার্জি বৃদ্ধি করে। এছাড়া নারকেল তেলের থাকা অ্যাসিড মস্তিষ্ক রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে। তবে রান্নায় বিশুদ্ধ নারকেল তেল ব্যবহার করা উচিত।

৮। হজমের সমস্যা দূর করতে
নারকেল তেলে কিছু উপকারি ফ্যাট রয়েছে। এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান পাকস্থলীর ইনফেকশন দূর করে। ফলে হজমের সমস্যা দূর হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সেরা অভিনেত্রী তিশা ও কুসুম শিকদার, কণ্ঠশিল্পী শাওন

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬-এর জন্য চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সভাপতিত্বে বৈঠক শেষে ২০১৬ সালে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিভাগে সেরাদে চূড়ান্ত নামের তালিকা ঘোষিত হয়।

এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬-এর জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জনপ্রিয় দুই অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা ও কুসুম শিকদার। সেরা কণ্ঠশিল্পী(নারী) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নির্মাতা, গায়িকা ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন।

২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘অস্তিত্ব’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিশা ও ‘শঙ্খচিল’-এর জন্য কুসুম শিকদারকে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। আর সেরা কণ্ঠশিল্পী হিসেবে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘কৃষ্ণপক্ষ’র জন্য নির্বাচিত হয়েছেন শাওন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভারতীয় মন্ত্রীর বোনকে নিয়ে পালাল বাংলাদেশি যুবক !

ভারতের উত্তর প্রদেশের মন্ত্রীর এস পি সিং বাঘেলের বোনকে নিয়ে এক বাংলাদেশি যুবক উধাও হয়েছেন। মন্ত্রীর পরিবার ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, ‘প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে নিয়ে পালিয়েছেন তিনি’।

সম্পদ অধিকারী নামের ওই যুবক বাংলাদেশের নড়াইল জেলার বাসিন্দা। সেখান থেকে ভারতে গিয়ে উত্তরপ্রদেশের প্রভাবশালী মন্ত্রীর বোনকে নিয়ে পালানোর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ওই যুবককে খুঁজছে পুলিশ।

ভারতীয় দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্পদ অধিকারী নামের ওই যুবক প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই কিশোরীকে নিয়ে ১২ দিন আগে পালিয়েছে। ওই যুবক উত্তরপ্রদেশ থেকে মন্ত্রীর বোনকে নিয়ে পালিয়ে আসে উত্তর২৪পরগনায়। প্রথমে বারাসতে এসে ঠাঁই নিলেও পরে আর তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে বোনকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন মন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা। রাজ্যজুড়ে দুইজনের ছবি টানানো হয়েছে। কিশোরীর খোঁজে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তেও নজরদারি চলছে।

তবে সম্পদ অধিকারীর আত্মীয়স্বজনরা বলছেন, কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে উত্তপ্রদেশে পাড়ি জমায় সম্পদ। সেখানে গিয়ে বারাসতের কানাপুকুর এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করে। তারপর সেই বাড়ি ভাড়ায় দিয়ে উত্তরপ্রদেশে বোনের কাছে চলে যান তিনি।

নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভগ্নিপতির ওষুধের দোকানে বসতেন সম্পদ অধিকারী। এলাকায় হাতুড়ে ডাক্তার হিসেবে নামডাকও হয়। সেখান থেকেই মন্ত্রীর বোনের সঙ্গে পরিচয় তার।

মন্ত্রীর ভাই নীরজ সিং বলেন, সম্পদের সম্পর্কে সব তথ্য জোগাড় করেছেন তারা। বাংলাদেশে সম্পদের বাবা-মা থাকেন। সেখানে ইতি অধিকারী নামে এক স্ত্রীও রয়েছে সম্পদের। তা সত্ত্বেও মন্ত্রীর ১৬ বছরের বোনকে নিয়ে পালিয়েছেন। নিজেকে খুব বড়লোক বলে পরিচয় দিয়েছিলেন সম্পদ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভালোবাসা এবং ভালোবাসা মুহম্মদ জাফর ইকবাল

মার্চ মাসের ৩ তারিখ শনিবার বিকালে আমি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের তৈরি করে আনা রোবটদের যুদ্ধ দেখছি, হঠাৎ করে মনে হলো আমার মাথায় বুঝি ‘আকাশ ভেঙে’ পড়েছে। বড় কোনো দুঃসংবাদ পেলে আমরা বলি মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে, তবে এটি পুরোপুরি আক্ষরিক। মনে হচ্ছে মাথার ওপর সত্যি কিছু ভেঙে পড়েছে একবার, দুবার, বারবার। কী হচ্ছে বুঝতে পারছি না। মানুষের চিৎকার হৈচৈ তার মাঝে আমি উঠে দাঁড়ালাম। বুঝতে পারলাম যেটাই ঘটে থাকুক সেটা শুধু আমাকে নিয়ে। মঞ্চ থেকে আমি নিচে তাকিয়েছি, ছাত্রছাত্রীরা আতঙ্কিত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়েছে। একজন ছাত্রীর চোখে অবর্ণনীয় আতঙ্ক, সে দুই হাতে মুখ ঢেকে চিৎকার করছে।

আমি তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলাম। হাত নেড়ে বললাম, ‘আমার কিছু হয়নি, আমি ঠিক আছি’— কিন্তু আমার কথায় কোনো কাজ হলো না। নিচে দাঁড়ানো ছেলেমেয়েরা চিৎকার করতেই থাকল। আমি মাথায় হাত দিলাম এবং রক্তের উষ্ণ ধারা অনুভব করলাম। হঠাৎ করে বুঝতে পারলাম ভয়ানক কিছু একটা ঘটে গেছে, কেউ একজন আমাকে মেরে ফেলার জন্য আক্রমণ করেছে।

সেই মুহূর্তের অনুভূতিটি আমি কখনো ভুলব না। অনুভূতিটি ভয়ের নয়, অনুভূতিটি যন্ত্রণার নয়, অনুভূতিটি হতাশা কিংবা ক্রোধেরও নয়, অনুভূতিটি ছিল লজ্জার অনুভূতি। আমি বিস্ময়কর এক ধরনের লজ্জায় কুঁকড়ে উঠেছিলাম। আমার মনে হলো এ পৃথিবীতে এমন মানুষ আছে যে আমাকে এত ঘৃণা করে সে আমাকে প্রকাশ্য দিবালোকে মেরে ফেলতে চায়? আমি কী করেছি?

চারপাশে কী হচ্ছে আমি বোঝার চেষ্টা করছিলাম। মঞ্চের এক পাশে একজনকে অনেকে মিলে মারছে, কাছে একটা চাকু পড়ে আছে। আমি দুর্বলভাবে তাকে না মারতে বললাম। আমার কথা কেউ শুনতে পেল কিনা জানি না। আমার ছাত্র আর সহকর্মীরা ততক্ষণে আমাকে জাপটে ধরে টেনে সরিয়ে নিতে থাকে। পুলিশের অনুসরণ করতে থাকে এবং এতদিন যেটাকে আমি পুলিশ বাহিনীর একটা অর্থহীন কাজ বলে ভেবে এসেছি হঠাৎ করে সেটি আমার জীবন বাঁচানোর কাজে লেগে গেল। একটা ছেলে তার শার্ট খুলে আমার মাথায় চেপে ধরে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করতে থাকে। অন্যরা আমাকে রীতিমতো পাঁজাকোলা করে মাইক্রোবাসে তুলে নিল এবং মুহূর্তের মধ্যে মাইক্রোবাসটি আমাকে নিয়ে হাসপাতালের দিকে ছুটে যেতে থাকে।

প্রথম আমার যে কথাটি মনে হলো সেটি হচ্ছে— আমি এখনো জ্ঞান হারাইনি, কাজেই আমাকে আমার স্ত্রী এবং কন্যার সঙ্গে নিজে কথা বলতে হবে যেন তাদের খবরটি অন্য কারও কাছ থেকে পেতে না হয়। সাধারণত আমি এবং আমার স্ত্রী দুজনে সবসময় একসঙ্গে থাকি কিন্তু আজকে এ মুহূর্তে সে ঢাকায়। প্রথমে আমার মেয়ের সঙ্গে, তারপর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে যতটুকু সম্ভব শান্তভাবে তাদের খবরটি দিলাম। বললাম, এখনো জ্ঞান আছে এবং এখনো চিন্তা করতে পারছি তবে যেহেতু অনেক রক্ত পড়ছে তাই পরে কী হবে জানি না। আমি আমার ছেলে, ভাইবোন সবাইকে খবরটা দিতে বললাম। এ ধরনের খবর টেলিভিশন থেকে পেতে হয় না। মনে হলো ভাগ্যিস আমার মা বেঁচে নেই, না হলে তাকেও এ খবরটি দিতে হতো!

মাইক্রোবাস মোটামুটি ঝড়ের বেগে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে এবং তখন আমি একটু বোঝার চেষ্টা করলাম আমার আঘাত কতটুকু গুরুতর। পুরো শরীর রক্তে ভিজে যাচ্ছে, আমি ভেবেছিলাম আমার আঘাত মাথায়, তাই একটা শার্ট দলামোচা করে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে কিন্তু পিঠেও একটা অনেক বড় আঘাত আছে আমি যেটার কথা তখনো জানি না। আমার একমাত্র সম্বল আমার মস্তিষ্কটি, মাথার আঘাতে সেটার কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা কে জানে? আমি ভাবলাম পরীক্ষা করে দেখি মস্তিষ্কটি ব্যবহার করতে পারি কিনা। তাই ফিবোনাচি সিরিজটি বের করার চেষ্টা করলাম। গোটা দশেক পদ বের করে আমি বুঝতে পারলাম এখনো হিসাব করতে পারছি। তখন আমি আমার ১ যোগ ১ সমান ২, ২ যোগ ১ সমান ৩, ২ যোগ ৩ সমান ৫…’

জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতাটি আমার খুব প্রিয় কবিতা। মনে মনে তার প্রথম কয়েকটা লাইন আওড়ে গেলাম— ‘হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে…’ যখন দেখলাম বনলতা সেন কবিতাটি মনে আছে তখন নিজেকে নিজে বোঝালাম মস্তিষ্কের সম্ভবত গুরুতর ক্ষতি হয়নি।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানে বিশাল হৈচৈ শুরু হয়ে গেল। এত দ্রুত কীভাবে খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং এত দ্রুত কীভাবে হাসপাতাল লোকারণ্য হয়ে যায় সেটি আমার জন্য একটি রহস্য! আমাকে প্রথমে হুইল চেয়ারে, তারপর একটি ট্রলিতে শুইয়ে হাসপাতালের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গাতে নিয়ে যাওয়া হতে থাকল। একটি ট্রলি দুজনই ঠেলে নিতে পারে কিন্তু আমি দেখলাম কয়েক ডজন ছাত্র-শিক্ষক এবং অপরিচিত মানুষেরা আমার ট্রলিটি ঠেলে হাসপাতালের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। তার মাঝে বিপজ্জনক জায়গায় দাঁড়িয়ে টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যানরা ছবি নেওয়ার চেষ্টা করছে। দেখলাম কম বয়সী একজন একটা ক্যামেরা নিয়ে ভিড়ের মধ্যে অনেক ঠেলাঠেলি করে একটা মোক্ষম ছবি তোলার চেষ্টা করছে! আমার কী মনে হলো কে জানে, সকৌতুকে ছেলেটিকে ডেকে বললাম, ‘এসো, একটা সেলফি তুলে ফেলি!’ ছেলেটি লজ্জা পেয়ে সরে গেল, এখন মনে হচ্ছে ছেলেটাকে এভাবে লজ্জার মাঝে ফেলে দেওয়া ঠিক হয়নি কিন্তু তখন আমি যথেষ্ট সন্তুষ্টি অনুভব করেছিলাম। মনে হয়েছিল যেহেতু এরকম অবস্থাতেও আমার সেন্স অব হিউমার অক্ষত আছে তার মানে আমার মস্তিষ্কটিও নিশ্চয়ই অক্ষত আছে! হাসপাতালের নানা জায়গা ঘুরে আমাকে অপারেশন থিয়েটারে আনা হলো। ততক্ষণে ডাক্তার এবং নার্সরাও চলে এসেছেন।

শুধু ডাক্তার এবং নার্স নয়, তার সঙ্গে অসংখ্য মানুষ, ক্যামেরাসহ সাংবাদিক, ছাত্র, শিক্ষক, সহকর্মী, পুলিশ এবং অসংখ্য কৌতূহলী দর্শক! আমার অনেক সহকর্মী এবং পরিচিত মানুষ ভেঙে পড়ে কান্নাকাটি করছেন এবং আমি তাদের নানাভাবে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছি! আমি ডাক্তার নই কিন্তু কমনসেন্স থেকে বুঝতে পারছি আমার রক্তপাত বন্ধ করতে হবে এবং রক্ত দিতে হবে। অপারেশন থিয়েটারের এ বাজারের ভিতর সেটা কেমন করে করা হবে আমি জানি না। এর মাঝে আমার রক্তের গ্রুপের কথা বলা হয়েছে (শুনে অনেকে বিশ্বাস নাও করতে পারেন, আমি আমার রক্তের গ্রুপ জানি, এ পজিটিভ!) আমি যদিও এ পজিটিভ বলেছি, অপারেশন থিয়েটারে শুয়ে মনে হলো উৎসাহী কেউ কেউ সেটাকে ও পজিটিভ শুনতে পেয়েছে! যে ডাক্তার আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাকে বললাম, ‘রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা না করে আমাকে রক্ত দেবেন না, প্লিজ! ‘ডাক্তার আমাকে অভয় দিলেন, বললেন, রক্তের গ্রুপ না মিলিয়ে কখনো রক্ত দেওয়া হয় না।

অপারেশন থিয়েটারবোঝাই মানুষজনের মাঝেই ডাক্তাররা কাজ শুরু করে দিলেন। আমাকে জানালেন, আমার আঘাতটা যাচাই করে চিকিৎসা শুরু করার আগে আমাকে জেনারেল এনেসথেসিয়া দিতে হবে। ঠিক কী কারণ জানা নেই আমার, মনে হচ্ছিল আমাকে অজ্ঞান করা হলে আমি বুঝি আর জ্ঞান ফিরে পাব না। মাঝে মাঝেই আমার মনে হচ্ছিল আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলব কিন্তু আমি দাঁতে দাঁত চেপে জ্ঞান ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। আমি অবুঝের মতো ডাক্তারদের সঙ্গে তর্ক করতে শুরু করেছি, তাদের বলতে শুরু করেছি আমাকে অজ্ঞান না করে চিকিৎসা শুরু করেন। ডাক্তাররা বললেন, তাহলে আপনার এত যন্ত্রণা হবে যে সেই যন্ত্রণাতেই আপনি অজ্ঞান হয়ে যাবেন। আমি তাতেই রাজি-কিন্তু ডাক্তাররা আমার মতো অবুঝ মানুষের ছেলেমানুষী আচার মেনে নিশ্চয়ই চিকিৎসা করতে আসেননি। তাই আমি নিজেও জানি না কখন আমি জ্ঞান হারিয়েছি।

এরপর আবছা আবছাভাবে যখন আমার জ্ঞান হলো তখন মনে হলো আমাকে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যতক্ষণ জ্ঞান ছিল ততক্ষণ নিশ্চয়ই আমার শরীরে এড্রেনেলিনের বন্যা বইছিল, তাই সবকিছুতেই সজাগ হয়েছিলাম। এখন আমি পুরোপুরি নির্জীব। কোনো কিছুতেই আর কিছু আসে যায় না। এক সময় চোখ খুলে তাকাতেই মনে হলো আমাদের শিক্ষামন্ত্রী আমার ওপর ঝুঁকে পড়ে কিছু একটা বলছেন। আমি শোনার চেষ্টা করলাম, মনে হলো তিনি বলছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসার জন্য আমাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমি যেন কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা না করি।

তখন আমার চিন্তা করার বিশেষ ক্ষমতা নেই। চেতনা এবং অচেতনার মাঝে ঝুলে আছি। হেলিকপ্টারে আমার এক-দুজন সহকর্মীকে দেখতে পেলাম। এক সময় হেলিকপ্টার উড়তে শুরু করল। কতক্ষণ উড়েছে জানি না, মনে হলো বুঝি অনন্তকাল পার হয়ে গেছে। এক সময় হেলিকপ্টার থেমেছে, আমাকে স্ট্রেচারে করে নামানো হলো, সবাই আমাকে নিয়ে ব্যস্ত, তাই কেউ উপরে আকাশের দিকে তাকায়নি। শুধু আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি— নির্মেঘ বিশাল একটি আকাশ, তার মাঝে ভরা একটি চাঁদ স্নেহভরে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি শিহরণ অনুভব করলাম, পৃথিবী এত সুন্দর? এ সুন্দর পৃথিবীতে আমি আরও কিছু দিন বেঁচে থাকতে পারব।

আমাকে অ্যাম্বুলেন্সে সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়া হলো। সেখানে আমার সব আপনজনেরা অপেক্ষা করছে। কেউ কাছে আসছে না, সবাই দূর থেকে দেখছে। ডাক্তাররা আমাকে পরীক্ষা করলেন, আমার স্ত্রী এসে একটু কথা বলল, তারপর আবার আমাকে সরিয়ে নেওয়া হলো। কিছুক্ষণের মাঝে সিসিইউয়ের অসংখ্য জটিল যন্ত্রপাতির মাঝে আমি আটকা পড়ে গেলাম। আবছা আবছাভাবে মনে পড়ে কোনো এক সময় ডাক্তারদের কাছে চিঁ চিঁ করে জানতে চাইলাম, আমার অবস্থা কেমন? তারা বললেন, ভালো। আমি জানতে চাইলাম সবাইকে কি এটা জানানো হয়েছে? তারা বলেছেন, হ্যাঁ, জানানো হয়েছে, আমার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। আমি একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। আমি এখনো জানি না কারণটা কী, কিন্তু আমি অনুভব করতে পারি এ দেশের অসংখ্য ছেলেমেয়ের আমার জন্য এক ধরনের ভালোবাসা আছে, ‘ধুম’ করে মরে গিয়ে তাদের মনে কষ্ট দেওয়ার আমার কোনো অধিকার নেই।

বাইরে কী হচ্ছে আমি কিছু জানি না। ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পর শুনতে পারলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দেখতে আসবেন। অবিশ্বাস্য ব্যাপার— আমি কে? আমাকে দেখার জন্য এ দেশের প্রধানমন্ত্রী চলে আসবেন?

সত্যি সত্যি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দেখতে এলেন। ডাক্তাররা আমার সম্পর্কে রিপোর্ট দিলেন। সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ডাক্তাররা অবিশ্বাস্য চাপের মাঝে থেকেও কী অসাধারণভাবে আমাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছেন সেটা বললেন। প্রধানমন্ত্রী আমার সঙ্গে কথা বললেন, খোঁজখবর নিলেন। চলে যাওয়ার সময় আমি কুণ্ঠিত স্বরে বললাম, আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে, ১৬ কোটি মানুষের দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী আমার মতো একজনকে দেখতে চলে এসেছেন।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার দিকে তাকিয়ে আপনজনের মতো হেসে বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কোনো বড় কিছু না, আজ আছি কাল নেই। কিন্তু এটা সত্যি যে, আমি হচ্ছি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে! এটা আমার অনেক বড় অহংকার, কেউ এটা আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না।’

আমার মনে হলো এরচেয়ে বড় সত্যি কথা আর কী হতে পারে? সঙ্গে সঙ্গে আমার এটাও মনে হলো যে, আমার কত বড় সৌভাগ্য যার ধমনীতে বঙ্গবন্ধুর রক্ত তিনি আমাকে দেখতে চলে এসেছেন। কী অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার।

যাই হোক, আমি আমার জীবনে এভাবে এর আগে কখনো হাসপাতালে থাকিনি। হাসপাতালে থাকার অভিজ্ঞতাটুকু খুবই বিস্ময়কর। কাউকে যদি বলতে হয় আমাকে শুধু একটি কথা দিয়ে বোঝাতে হবে— সেটি হচ্ছে ভালোবাসা। যে মেয়েটি আমার ঘরের মেঝেটি মুছে দিয়েছে সেখান থেকে শুরু করে যার নেতৃত্বে এ বিশাল প্রতিষ্ঠানটি চলছে সবাই আমার জন্য যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন আমি কোনো দিন তার প্রতিদান দিতে পারব না। কথা প্রসঙ্গে আমি তাদের বলেছি যদি কোনোভাবে আমার এ হাসপাতালের অভিজ্ঞতাটুকু আগে হতো তাহলে আমি নিশ্চিতভাবে আমার অগ্রজ হুমায়ূন আহমেদকে তার চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে না গিয়ে এখানে চিকিৎসা করার জন্য বলতাম। আমার জন্যই সবার বুকের ভিতর এত ভালোবাসা, হুমায়ূন আহমেদকে তারা সবাই না জানি কত গভীর মমতা দিয়ে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করতেন।

আমার এ ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পর শুনেছি সারা দেশে এক ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়েছে, দেশের অনেক মানুষ নানাভাবে আমার জন্য তাদের ভালোবাসাটুকু প্রকাশ করেছেন। আমি সে দিনগুলোর খবরের কাগজ দেখিনি, টেলিভিশনের খবর শুনিনি তারপরও আমি সবার ভালোবাসাটুকু অনুভব করতে পারি। সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের অস্থিরতার খবর জানতাম বলে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাসায় না এসে সরাসরি এয়ারপোর্ট গিয়েছি, একটা প্লেন ধরে সিলেট গিয়েছি। যে মুক্তমঞ্চে বিভ্রান্ত ছেলেটি আমাকে আক্রমণ করেছিল সেই একই মুক্তমঞ্চে দাঁড়িয়ে আমার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কথা বলেছি। মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় আমার ঘুরেফিরে অভিজিৎ, অনন্ত, নিলয়, ওয়াসিক দীপন এরকম সবার কথা মনে পড়ছিল যারা কেউ বেঁচে নেই। আমি কীভাবে বেঁচে গেছি কেন বেঁচে গেছি এখনো জানি না। যখন এ লেখাটি লিখছি তখন আমার প্রিয় ছাত্র মাহিদ আল সালামের কথা মনে পড়ছে। শাহবাগে আমার ওপর আক্রমণের প্রতিবাদ সভায় সে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেছে অথচ দুর্বৃত্তের আক্রমণে দুই দিন আগে একেবারে হঠাৎ করে তাকে জীবন দিতে হলো। কে জানে পৃথিবীটা কেমন করে এত নিষ্ঠুর হয়ে যেতে পারে।

দেশের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য আমি এ লেখাটা লিখছি। অসংখ্য মানুষ আমাকে ভালোবাসা জানিয়ে চিঠি লিখেছেন, তাদের সবার জন্য ভালোবাসা। যারা আমাকে লিখেছে আলাদা করে আমি তাদের সবার কথা উল্লেখ করতে পারব না, শুধু ছোট একটা মেয়ের কথা লিখি। যে আমাকে সাহস দিয়ে লিখেছে— একটু বড় হয়েই সে কারাটে ক্লাসে ভর্তি হয়ে যাবে। তারপর ব্ল্যাক বেল্ট হয়ে আমার বডিগার্ড হয়ে বাকি জীবন আমাকে পাহারা দিয়ে বেড়াবে যেন আর কেউ কখনো আমার ওপর আক্রমণ করতে না পারে।

আমার ওপর এ আক্রমণটি না হলে আমি কি কখনো জানতে পারতাম কতজনের বুকের ভিতর আমার জন্য কত ভালোবাসা জমা হয়ে আছে?

লেখক : অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest