সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরা কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির নব-নির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভাদেবহাটায় ৬৯৬ বোতল উইনকেরেক্সসহ নারী আটক : দুইজনের বিরুদ্ধে মামলাসাতক্ষীরায় জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিতপ্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ যুবদল নেতা সুমনের: অপসাংবাদিকতার চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনফেক ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম আইডি খুলে ছবি বিকৃতি ও ব্ল্যাকমেইলিং সাতক্ষীরায় থানায় জিডিসখিপুরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে শিশুদের মাঝে খেলাধুলার পোশাক বিতরণসাতক্ষীরায় ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের উদ্যোগে সমন্বয় সভাতালায় রেকর্ডীয় জমি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধনসাতক্ষীরা সদরের লাবসায় ‘পাবলিক হেয়ারিং’অনুষ্ঠিতসাতক্ষীরায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক নিয়ে কল্যাণ ব্যানার্জি’ ফেসবুক আইডির পোস্ট: ব্যবস্থা গ্রহণে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ

গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরা মেডিকেলে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি : ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালায় ক্ষমতাসীন বি এন পি দলীয় নেতাকর্মীরা।

এতে আওয়ামীলীগের গুরত্বপূর্ণ নেতা নেত্রী সহ অনেকে নিহত – আহত হন। এরই প্রতিবাদে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ শাখার আয়োজনে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট,বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা’কে হত্যার উদ্দেশ্যে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। ২১ আগস্ট সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সংগ্রামী সভাপতি আজমল হোসেনের নেতৃত্বে ২১ আগস্ট,২০০৪ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখহাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যে বর্বরোচিত গ্রেনেডে হামলা করা হয় তার প্রতিবাদ সমাবেশ এবং বিক্ষোভ মিছিল বঙ্গবন্ধু ছাত্রহল থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ একাডেমিক ভবন প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।

বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড খুনি তারেকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন সংগঠনে সভাপতি আজমলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং গেনেড হামলায় নিহত আওয়ামিলীগ নেতা আইভিরহমানসহ সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। এসময় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের নেতা নেত্রী ও কর্মীরা উপস্থিত থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।###

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ১২ কেজি ওজনের ভারতীয় রুপার গহনা ও মটরসাইকেলসহ যুবক আটক

আসাদুজ্জামান : ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচারের সময় সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে সাড়ে ১২ কেজি ওজনের রুপার গহনা ও মোটর সাইকেলসহ এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২২ আগষ্ট) দুপুরে সদর উপজেলার সাতানী সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। জব্দকৃত রপার গহনার বর্তমান বাজার মূল্য ১৩ লাখ ৭ হাজার টাকা।

আটককৃত যুবকের নাম ফিরোজ রহমান (৩২)। সে সাতক্ষীরা শহরের চালতেতলা বাগান বাড়ি এলাকার আব্দুস ছাত্তারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, সাতক্ষীরার সাতানী সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে চোরাই পথে অবৈধভাবে রুপার একটি বড় চালান আনা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশের এস.আই ফকির জুয়েল রানার নেতেৃত্বে পুলিশের একটি টহলদল সেখানে অভিযান চালায়।

এ সময় সেখানে মোটর সাইকেলযোগে আসা ফিরোজ রহমানকে তারা গতিরোধ করে তাকে আটক করে। এরপর তার মোটরসাইকেলের ভিতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা সাড়ে ১২ কেজি ওজনের রুপার গহনা জব্দ করে। জব্দকৃত রপার গহনার বর্তমান বাজার মূল্য ১৩ লাখ ৭ হাজার টাকা।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এস.এম. কাইয়ুম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক যুবকের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক নজরুল ইসলামের নির্বাচনী মতবিনিময়

দেবহাটা প্রতিনিধি :
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে গণসংযোগ ও মতবিনিময় শুরু করেছেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম।

সোমবার (২২ আগস্ট) থেকে নির্বাচনী এলাকা জেলার ৭৮টি ইউনিয়ন পরিষদ ও দু’টি পৌরসভা সফর শুরু করেছেন তিনি। চলমান এ নির্বাচনী সফরে জেলার সাতটি উপজেলার সহস্রাধিক জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে তিনি তার বিগত ৫ বছরের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে মতামত, পরামর্শ ও অভিযোগ সমূহ আমলে নিয়ে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে দেবহাটা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সাথে পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভা করেছেন আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম।

সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদে প্রথম মতবিনিময় সভায় আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বিগত পাঁচ বছরে সরকারের থেকে যেটুকু অর্থ জেলা পরিষদে বরাদ্দ পেয়েছি তা দিয়ে আপনাদের এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি। বরাদ্দের তুলনায় আপনাদের প্রত্যাশা বেশি থাকায় হয়তো সকলের চাহিদা আমরা পূরণ করতে পারিনি, কিন্তু সবসময় আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।

আমার প্রতি আপনাদের আস্থা, ভালবাসা ও পূর্ণ সমর্থন আছে কি-না তা জানতে প্রার্থী হওয়ার আগেই সরাসরি আপনাদের দুয়ারে ছুটে এসেছি। আমাকে যোগ্য মনে করে যদি আপনারা পুনরায় আমাকে সমর্থন দেন, তাহলেই আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো; অন্যথায় আমি নির্বাচন করবো না’।

এসময় উপস্থিত জনপ্রতিনিধিগণ আগামী নির্বাচনে সমর্থন দেয়ার ব্যাপারে আলহাজ্ব নজরুল ইসলামকে আশ্বস্ত করেন। ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও আগামী নির্বাচনের প্রার্থী আলহাজ্ব আল ফেরদাউস আলফা’র সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দেবহাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মুজিবর রহমান।

এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মুনসুর আলী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আব্দুর রশিদ, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তানভীর হুসাইন সুজন, দেবহাটা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সবুজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জিএম স্পর্শ, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিন্নুর সহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় শেষে ভিজিডি চক্রের সুবিধাভোগীদের মাঝে সরকারি চাল বিতরণ করেন তিনি। পরবর্তীতে কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আছাদুল হক, পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুন ও সবশেষে নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন সাহেব আলীর নেতৃত্বে স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে জনপ্রতিনিধিদের সাথে পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা করেন আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বল্লীতে হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা, নিরাপদ পানি ও মাসিক ব্যবস্থাপনাযুক্ত ওয়ার্ড ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা সদরের বল্লী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড আমতলা গ্রামকে সবার উপযোগী হাত ধোয়া স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা, নিরাপদ পানি ও মাসিক ব্যবস্থাপনাযুক্ত ওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়েছে।

ওয়াল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর সমতা প্রকল্পের সহযোগিতায় সোমবার ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আমতলা প্রাইমারী স্কুল চত্বরে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এক নম্বর ওয়াডের মেম্বার রফিকুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বল্লী ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মহিতুল ইসলাম। উক্ত ওয়ার্ড ঘোষণার জন্য চেয়ারম্যান এডভোকেট মহিতুল ইসলাম এক নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ রফিকুল ইসলাম কে একটি সার্টিফিকেট প্রদান করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন যদি আমরা সকলেই সঠিক সময়ে হাত ধুই ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার এবং নিরাপদ পানি পান করি তাহলে আমরা সবাই সকল রোগ জীবাণুর হাত থেকে মুক্ত থাকতে পারবো।

তিনি আরো বলেন যদি আমরা নিজ উদ্যোগ উদ্যোগে এই কাজগুলো নিজেরাই করি এবং প্রতিটা ওয়ার্ডে ১০০ % হাত ধোয়া নিরাপদ পানি স্যানিটেশন ও মাসিক ব্যবস্থাপনা যুক্ত ওয়ার্ড ঘোষণা করতে পারি তাহলে আমাদের আমাদের ইউনিয়নে রোগ জীবাণু মুক্ত ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন সমতা প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর প্রতিভা বিকাশ সরকার, মোঃ তহিদুর রহমান, ও মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ওয়াল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর প্রজেক্ট অফিসার জয়ন্ত কুমার দাস।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ইউপি চেয়ারম্যান বিশাখার বিরুদ্ধে ওয়ারেশ কায়েম সনদ না দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি : ওয়ারেশ কায়েম সনদ না দিয়ে হয়রানির অভিযোগে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী এক নারী। ঘটনাটি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার ১নং জয়নগর ইউনিয়নে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জয়নগর ইউনিয়নের ক্ষেত্রপাড়া গ্রামের মৃত এরশাদ আলী গাজীর স্ত্রী রেকছোনা খাতুন তার স্বামী মারা যাওয়ার পরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারেশ কায়েম সনদ পত্র নিতে গেলে টালবাহানা শুরু করেছে কলারোয়া উপজেলার একমাত্র মহিলা চেয়ারম্যান জয়নগর ইউপির বিশাখা তপন সাহা, ইউপি সদস্য রেজাউল ও তানজিলা।

রেকছোনা খাতুনের স্বামী এরশাদ আলী গাজী গত ৩ আগস্ট ২০২০ ইংরেজি তারিখে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে এরশাদ আলী গাজী এক স্ত্রী ও ১৫ বছরের পুত্র সন্তান রেখে যান। রেকছোনা খাতুন ২০২১ সালের ২১ শে জুন তারিখে জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান সামছুদ্দীন আল মাসুদ বাবুর স্বাক্ষরিত একটি ওয়ারেশ কায়েম সনদপত্র নেন পরিষদ থেকে। কিন্তু সেটি বেশ আগের হওয়ায় রেকছোনা খাতুনের ব্যক্তিগত কাজের জন্য বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারেশ কায়েম সনদপত্রের প্রয়োজন।
তাই চলতি বছরে রেকছোনা খাতুন তার স্বামীর ওয়ারেশ কায়েম সনদপত্রের জন্য জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করেন। কিন্তু ক্ষেত্রপাড়া গ্রামের মজিদ মোড়লের নাতজামাই মো. মুকুল মোড়ল, বসন্তপুর গ্রামের এরশাদ বিশ্বাসের পুত্র মো. শফিকুল রহমানের ইন্ধনে ০১নং জয়নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিশাখা তপন সাহা, ইউপি সদস্য রেজাউল ও তানজিলার যোগসাজসে রেকছোনাকে তার স্বামীর ওয়ারেশ কায়েম সনদ থেকে বাদ দিয়েছে। রেকছোনার স্বামীর ব্যাংকে রেখে যাওয়া টাকা এবং তার স্বামীর সম্পত্তির অধিকার থেকে বাদ দিয়ে তার বাড়ি দখল করবে বলে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে চেয়ারম্যান সহ তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা। ইউপি চেয়ারম্যান বিশাখা তপন সাহা রেকছোনার স্বামীর ভূয়া তালাকের এফিডেভিট দেখিয়ে তাকে হয়রানী করছে বলে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সূত্র আরো জানায়, রেকছোনা খাতুনের স্বামী মৃত্যুর মাত্র ১০ মাসের মাথায় তৎকালীন চেয়ারম্যান সামছুদ্দীন আল মাসুদ বাবু ওয়ারেশ কায়েম সনদপত্র দিয়েছিলেন। ২০২১ সালের ২১ জুন তারিখে ০১নং জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ২৩০/২১ নং স্মারকে তৎকালীন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য কোহিনুর বেগমের তদন্তের মাধ্যমে এরশাদ আলী গাজীর মৃত্যুর পর তার ওয়ারেশ দুইজন। একজন তার পুত্র আব্দুল্লাহ আল-মামুন এবং স্ত্রী মোছা. রেকছোনা খাতুন।
অথচ চলতি বলছে রেকছোনা বর্তমান চেয়ারম্যান বিশাখা তপন সাহার নিকট আবেদন করলে চেয়ারম্যান বিশাখা তপন সাহা একটি ভূয়া এফিডেভিট দেখিয়ে রেকসানার স্বামী তাকে ডিভোর্স দিয়েছেন বলে তার ওয়ারেশ কায়েম সনদ দিবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন বলছেন রেকছোনা।

তিনি আরো জানান, চেয়ারম্যান বিশাখা তপন সাহা ভূয়া যে তালাক নামার অজুহাতে রেকসানাকে ওয়ারেশ কায়েম সনদ থেকে বাদ দিতে চাচ্ছেন ওই আইনজীবী তার ভূয়া স্বাক্ষরিত চেয়ারম্যান বিশাখা তপন সাহা যে ভূয়া তালাক নামা তৈরি করেছেন সেটিরও প্রত্যায়নপত্র দিয়েছেন। সাতক্ষীরা জজ কোর্টের এ্যাডভোকেট ও নোটারি পাবলিক এ.টি.এম আলী আকবার গত ৩১ জুলাই ২০২২ ইংরেজি তারিখে ১৬ নং স্মারকের মাধ্যমে তিনি প্রত্যায়নপত্র প্রদান করছেন যে রেকছোনা খাতুনকে তার স্বামী মো. এরশাদ গাজী গত ২৯.০৫.২০২২ তারিখে তার কার্যালয়ের ৪৪৭ নং সিরিয়ালের মাধ্যমে যে তালাক কপি প্রদান দেখাচ্ছেন সেটি সঠিক নয়। এ সংক্রান্ত বিষয়ে কেউ তার কাছে যায়নি, বরং তার নথিপত্র খুঁজেও দেখেছেন যে ৪৪৭ নং সিরিয়ালের কোনো এফিডেভিট এর সন্ধান পান নি। উক্ত ঘটনায় চেয়ারম্যান বিশাখা তপন সাহা আইনজীবি এটিএম আলী আকবারের নামে মামলা করবেন বলে ফোনে হুমকি প্রদর্শন করেন।
বিশাখা চেয়ারম্যান গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ইংরেজি তারিখে ইউনিয়ন পরিষদের ৮৩/২২ নং স্মারকের মাধ্যমে এরশাদ আলী গাজী স্ট্রোকজনিত কারনে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে প্রত্যায়ন দেন।

রেকছোনা বলেন, ভূয়া এফিডেভিটের বলে চেয়ারম্যান বিশাখা আমাকে যে হয়রানি করছে তার সঠিক প্রমাণ কপি আমি আমার আবেদন কপিতে সংযুক্ত করে ইউএনও স্যারের কাছে দিয়েছি। আশা করছি আমি সুষ্ঠু বিচার পাবো।
তাই যাতে রেকছোনা ওয়ারেশ কায়েম পেতে পারে তার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ সহ সকলের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। একইসাথে নারী ইউপি চেয়ারম্যান বিশাখা তপন সাহা যাতে তাকে পরবর্তীতে কোনো ক্ষতিসাধন করতে না পারে তার বিহীত ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছে।

রেকছোনার ওয়ারেশ কায়েম সনদের ব্যাপারে জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশাখা তপন সাহা বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য, সংরক্ষিত ইউপি সদস্য এবং গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তদন্ত করিয়েছি। তারা বলেছেন দেয়া যাবেনা। সেজন্য ওয়ারেশ কায়েম সনদ দিতে পারছিনা।

এ ব্যাপারে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুলী বিশ্বাস জানান, জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশাখা তপন সাহার নিকট আইন অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চিঠি করে দিয়েছেন তিনি। এমনকি চেয়ারম্যানকে মোবাইলে ফোন করেও বিষয়টি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেছেন বলে জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে  সন্ত্রাসী হামলায় আদিবাসী নরেন্দ্র মুন্ডা হত্যায় আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের অন্তাখালী গ্রামে আদিবাসী মুন্ডাদের উপর সন্ত্রাসী হামলায় আহত ৩ জন নারী ও নরেন্দ্র নাথ মুন্ডা হত্যায় আসামীদের গ্রেফতার মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব চত্তরে মুন্ডা সম্প্রদায় স্বার্থ সংরক্ষণ ও আন্দোলন সংগ্রাম কমিটি আয়োজিত এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে সামসের সভাপতি গোপাল মুন্ডার সভাপতিত্বে ও সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কমিটির সদস্য শেখ ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী,

প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ ঘোষ, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কমিটির সদস্য প্রভাষক ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশ তীর্ণমূল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি ফেডারেশনের সভাপতি শিপন শীল, স্বদেশের নির্বাহী পরিচলাক মাধব দত্ত, হেডের পরিচালক লুই রানা গাইন, শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম আকবর কবির, এলএআরটির সহকারী পরিচালক রওশন জাহান মনি, লিডার্সের মোহন কুমার মন্ডল, সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার নজরুল ইসলাম, আলী আশরাফ, সিডিওর পরিচালক গাজী আল ইমরান, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের পরিচালক আফজাল হোসেন, সুন্দরবন মুন্ডা সম্প্রদায়ের সভাপতি কৃষ্ণপদ মুন্ডা, নিলিমা মুন্ডা, হিন্দু পরিষদ শ্যামনগর উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন কুমার দাশ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, জমিদাররা মুন্ডাদের রাঁচি থেকে এনেছিলেন সুন্দরবন কেটে বসতি গড়ার জন্য। তারা বাঘ কুমিরের মুখে জীবন দিয়ে সুন্দরবনের বসতি গড়েছেন। তারাই আজ নিজের জায়গা হারাচ্ছে। ১৯৫০ সালের প্রজাসত্ত্ব আইনে মুন্ডা সম্প্রদায়ের জমি হস্তান্তর যোগ্য নয় বলে আইন পাশ হয়। কিন্তু সরকারী দলের নাম ভাঙিয়ে প্রভাবশালীরা মুন্ডাদের পদবী পরিবর্তন করে কৌশলে তাদের জমি হাতিয়ে নিচ্ছে। মানববন্ধন থেকে নরেন্দ্র মুন্ডার হত্যাকারীকে শাস্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনে নামার হুমকি দেওয়া হয় এবং ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিরা কোন ভাবেই দায় এড়াতে পারেন না।

বক্তারা আরো বলেন, সন্ত্রাসী হামলার নেতৃত্বে থাকা উপজেলা তরুণলীগের সভাপতি আব্দুল আলিম, যুবলীগ ফিরোজসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষ আসামীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে প্রকৃত অপরাধীদের আসামী করে মামলা নেওয়াসহ হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।
এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা কমিটি সাতক্ষীরা, উত্তরণ আমার প্রকল, ডিস্ট্রিক হিউম্যান রাইসটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক সাতক্ষীরা , লিডার্স, স্বদেশ, সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা সামস্, কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটি, বাংলাদেশ দলিত পরিষদ, সুন্দরবন ফাউন্ডেশন সাতক্ষীরা, আদিবাসী বিষয়ক জাতীয় কোয়ালিশন সাতক্ষীরা,জাগো যুব ফাউন্ডেশন, জেলা নাগরিক কমিটি, সি,ওয়াই,ডি, প্রভাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন এতে অংশ নেয়।

আন্দোলনকে বেগবান করতে অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহীকে আহবায়ক ও গোপাল চন্দ্র মুন্ডাকে সদস্য সচিব করে মুন্ডা সম্প্রদায় স্বার্থ সংরক্ষণ ও আন্দোলন সংগ্রাম কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এড.মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গ্রেপ্তার এড়াতে হাইকোর্টে ইমরান, বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ

বিদেশের খবর: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিচারক ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এ মামলা করা হয়। তাঁর বাড়ি ঘিরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান আজ সোমবার তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে গ্রেপ্তার-পূর্ব জামিনের আবেদন করেছেন। খবর জিও নিউজের।

খবরে বলা হয়, পিটিআইয়ের আইনজীবী ফয়সাল চৌধুরী ও বাবর আওয়ান ইমরান খানের পক্ষে আবেদনটি দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে এক সমাবেশ থেকে হুমকি দেওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট আলি জাভেদের অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর মারাগালা থানায় গত শনিবার রাত ১০টায় এই এজাহার (এফআইআর) করা হয়।

এতে বলা হয়, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ওই সমাবেশ থেকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জেবা চৌধুরী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকি–ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। এ ভয়ভীতি প্রদর্শনের মূল উদ্দেশ্য পুলিশ কর্মকর্তা ও বিচার বিভাগকে আইনি বাধ্যবাধকতা পালনে বাধা দেওয়া।

এজাহারে আরও বলা হয়, ইমরান খানের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল মানুষের মধ্যে অস্থিরতা ও ভীতি ছড়িয়ে দেওয়া।

এদিকে, মামলার পর ইমরান খানের বানিগালা বাসভবনের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অননুমোদিত লোকজনের জন্য তাঁর বাসায় যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ লোকজন এবং ওই এলাকার বাসিন্দাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।

পিটিআই নেতা-কর্মীরাও ইমরান খানের বাসভবন চত্বরে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে পিটিআই নেতা মুরাদ সাঈদ টুইটারে দলের চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারে আদেশ জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রড-সিমেন্টের দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ

অনলাইন ডেস্ক: দেশে কয়েক মাসের মধ্যে ডলারের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি। হঠাৎ করেই ডিজেলের দামও বেড়েছে ৪২ শতাংশ। এই দুই দাম বৃদ্ধির সরাসরি ভুক্তভোগী হয়েছে দেশের নির্মাণ খাত। জ্বালানি এবং ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে সর্বকালের সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছেছে নির্মাণ শিল্পের অন্যতম উপকরণ রড। তার সঙ্গী হয়েছে সিমেন্ট। কারণ রড তৈরির কাঁচামাল স্ক্র্যাপ ও সিমেন্ট উৎপাদনের কাঁচামাল ক্লিংকারের পুরোটাই দেশে আসে আমদানি হয়ে। এর মূল্য পরিশোধ করতে হয় ডলারে। আর পরিবহন করতে হয় জাহাজ ও ট্রাকে।

রড-সিমেন্টের ডিলার, মিলমালিক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন নির্বাহীদের সঙ্গে কথা বলে একমাসের বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি টন এমএস রড বিক্রি হচ্ছে ৯০ হাজার থেকে ৯২ হাজার ৩শ টাকায়। এর আগে কখনো রডের দাম এত বেশি হয়নি। একমাস আগেও এসব রড ছিল ৮৫-৮৬ হাজার টাকা। আবার ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৫৩০ টাকায়। এর আগে গত মার্চে সিমেন্টের দাম ৫২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তবে একমাস আগে এসব সিমেন্ট ছিল ৪০০-৪২০ টাকা।

মাসের ব্যবধানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম বেড়েছে ১০০-১২০ টাকা। বর্তমানে ডলার এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে রড-সিমেন্টের দাম বাড়ছে। এ কারণে বিক্রি একেবারে কমে গেছে।

রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী আকিল আহমেদ বলেন, বাজারে রড-সিমেন্টের দাম হু হু করে বাড়ছে। একমাসের ব্যবধানে রডের দাম প্রতি টনে ৫-৮ হাজার টাকা বেড়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিএসআরএম ব্র্যান্ডের এমএস রড ৯২ হাজার ৩শ টাকা, কেএসআরএমের রড ৯০ হাজার ৫শ টাকা, একেএস ৯১ হাজার ৫শ এবং জিপিএইচ ৯১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এখন কারখানায় উৎপাদন বন্ধ করে দিলে ব্যাংকগুলোর লোন রেগুলার করা যাবে না। এতে ব্যাংকের সঙ্গে কারখানা মালিকদের সম্পর্কের অবনতি ঘটবে। সে কারণে এখন লস দিয়ে হলেও মাল বিক্রি করে যাচ্ছি।

রুপালি ট্রেডিংয়ের ম্যানেজার জয়দেব সাহা বলেন, বাজারে বর্তমানে ৫শ টাকার নিচে কোনো সিমেন্ট নেই। মাসের ব্যবধানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম বেড়েছে ১০০-১২০ টাকা। বর্তমানে ডলার এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে রড-সিমেন্টের দাম বাড়ছে। এ কারণে বিক্রি একেবারে কমে গেছে।

বাজারে বর্তমানে রড-সিমেন্টের দামে অস্থিরতা চলছে বলে জানালেন পটিয়ার ব্যবসায়ী লতিফুর রহমান বাবু। তিনি বলেন, একমাসে প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম ১২০-১৩০ টাকা বেড়েছে। ৪৩০ টাকার রুবি সিমেন্ট এখন ৫৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডায়মন্ড সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৫২০ টাকা। একমাস আগে ছিল ৪২০ টাকা। তবে প্রিমিয়ার সিমেন্টের দাম কিছুটা কম আছে। প্রিমিয়ার সিমেন্ট ৪৯০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে কথা হলে রয়েল সিমেন্টের মহাব্যবস্থাপক আবুল মনসুর রোববার বলেন, এখন ডলারের দাম ২২-২৫ শতাংশ বেড়েছে। আগে ৮৪-৮৫ টাকা হিসেবে ডলার পেমেন্ট দিতাম। এখন সেই ডলার ১১০-১১২ টাকা পর্যন্ত গিয়েছিল। তাছাড়া সিমেন্টের কাঁচামালের যে দাম বেড়েছে তার দাম কমেনি। আগে যে ক্লিংকার ৪০-৪২ ডলারে পাওয়া যেত, এখন সেই ক্লিংকারের দাম ৬৫ ডলারের উপরে। এখন জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে কারখানা থেকে সিমেন্ট সরবরাহে পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। প্রতি ব্যাগ সিমেন্টের শুধুমাত্র পরিবহন খরচ বেড়েছে ১০-১৫ টাকা। সব মিলিয়ে বাজারে প্রভাব পড়েছে। এ কারণে একদিকে দাম বেড়েছে, অন্যদিকে চাহিদা কমে গেছে। কারণ রড-সিমেন্টের দাম বাড়ায় মানুষ নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছে।

প্রিমিয়ার সিমেন্টের মহাব্যবস্থাপক গোলাম কিবরিয়া বলেন, সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামালের প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশে ৩৫টি সিমেন্ট কারখানায় উৎপাদন চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টিতে ক্লিংকার আমদানি করে সিমেন্ট উৎপাদন করে থাকে। একব্যাগ সিমেন্ট তৈরিতে ৫০০ টাকা খরচ হলে ৪০০ টাকায় খরচ হয় কাঁচামালে। এখন ডলারের যে হারে দাম বেড়েছে তাতে শুধু সিমেন্ট নয়, আমদানিনির্ভর সব শিল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, আমরা সর্বশেষ একটি এলসির মূল্য পরিশোধ করেছি প্রতি ডলার ১১২ টাকা ৫০ পয়সা হারে। ওই এলসিতে দুই কোটি ৯০ লাখ টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। এখন টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ। তার প্রভাব পড়েছে উৎপাদনে। এখন শুধু ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি বস্তায় ৭০-৮৫ টাকা দাম বেড়েছে। আবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়তি থাকায় সারাবিশ্বে বাংকারিংয়ের দাম বেড়েছে। এতে জাহাজ ভাড়াও বেড়ে যায়। ক্লিংকারের আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। ফ্রেইট চার্জ বেড়ে যাওয়ার কারণে এখন ক্লিংকার ৬২-৬৩ ডলারে কিনতে হচ্ছে।

দেশে ডিজেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাবও পড়েছে এ খাতে। ডিজেলের বাড়তি দামের কারণে ট্রাক ও লাইটার জাহাজের ভাড়া বেড়েছে বলে জানান প্রিমিয়ার সিমেন্টের এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, সিমেন্টের দাম বাড়ার আরেক কারণ হচ্ছে দেশে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়া। ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়াতে মাদার ভেসেল থেকে লাইটারিং করতে লাইটারেজের ভাড়াও বেড়ে গেছে। হিসাব করে দেখেছি, প্রতি টনে ১০০ টাকার উপরে লাইটারিং খরচ বেড়ে গেছে।

দেশের রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীরাও বলছেন, ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্র্যাপের দাম বাড়ার কারণে দেশে রডের দামে রেকর্ড হয়েছে। এখন কেউ বাধ্য হয়ে উৎপাদন বন্ধ রাখছেন আবার কেউ লস দিয়েও ব্যবসা চালিয়ে নিচ্ছেন।

দেশের শীর্ষ রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল বলেন, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ইস্পাত শিল্পের উদ্যোক্তারা বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে। ডেফার্ড পেমেন্ট এলসিতে (পরে পরিশোধ) স্ক্র্যাপ আমদানি করা হয়। ডেফার্ড এলসির কারণে আমরা আমদানির ৬ মাস পর এলসি মূল্য পরিশোধ করি। ৬ মাস আগে ডলারের মূল্য ছিল টাকা। সেই হিসেবে কস্টিং করে উৎপাদিত রড বিক্রি করে দিয়েছি। এখন ডলার হয়ে গেছে ১১২ টাকা। এতে প্রতি ডলারে আমাদের ১৮ থেকে ২২ টাকা পর্যন্ত লোকসান দিতে হচ্ছে। প্রতি টন স্ক্র্যাপে ৫০০ ডলার পরিশোধ করতে হলে টাকায় ১০ হাজার টাকা বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। যারা লোহার ব্যবসা করেন, তারা প্রায় সবাই ডেফার্ড পেমেন্ট এলসি করেন। এতে প্রায় সবারই বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওযার কারণে বিশ্ববাজারে জাহাজের ভাড়া বেড়ে গেছে। আবার ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ একটি পর্যায়ে পৌঁছানোয় আমরা আশা করেছিলাম স্ক্র্যাপের দাম কমবে। কিন্তু কমার বদলে বেড়ে গেছে। এখন প্রতি টন স্ক্র্যাপ ৪২০ ডলারের জায়গায় ৪৭০-৪৮০ ডলারে কিনতে হচ্ছে।

দাম বাড়ার কারণে বিক্রি কমেছে জানিয়ে এ ব্যবসায়ী বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে যে হারে রডের দাম বাড়ছে, গ্রাহকরা তার ভার নিতে পারছেন না। যে কারণে অনেকে তাদের নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছেন। আবার অস্থিতিশীল বাজারের কারণে লৌহ শিল্পের ছোট ছোট কারখানাগুলোও চাপ সামলাতে পারছে না। বড় কয়েকজন বাদে অন্যরা এলসি করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার আশায় তারা এলসি করেনি। এখন তারা ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

এখন প্রতি টন রড তৈরিতে এক লাখ টাকার মতো খরচ হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এখন কারখানায় উৎপাদন বন্ধ করে দিলে ব্যাংকগুলোর লোন রেগুলার করা যাবে না। এতে ব্যাংকের সঙ্গে কারখানা মালিকদের সম্পর্কের অবনতি ঘটবে। সে কারণে এখন লস দিয়ে হলেও মাল বিক্রি করে যাচ্ছি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest