সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে শিক্ষার্থী জাকারিয়া হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধনবিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীর জন্য নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল আবাসন নিশ্চিতের দাবি সাতক্ষীরায় তাঁতীদলের ১৩৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনসাতক্ষীরায় কিশোর গ্যাং এর সদস্যের ছুরিকাঘাতে কলেজ ছাত্র জাকারিয়া খু%ন : প্রধান আসামী নাহিদসহ গ্রেপ্তার-২গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জামায়াত নেতা মাও: আব্দুস সবুরসাতক্ষীরায় জামায়াত নেতার নেতৃত্বে ঘের লুটপাটের অভিযোগ : ১০ লাখ টাকার ক্ষতিশ্যামনগরে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ : কার্যক্রম স্থগিতের আবেদনসাংবাদিক শাহীন গোলদারের মায়ের মৃত্যুতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের শোকসম্ভাবনা ও সংকটে দেবহাটা: পাঁচ ইউনিয়নের মানুষের চোখে আগামীর প্রত্যাশাবাকশিস সাতক্ষীরা জেলা শাখার নির্বাচন: সভাপতি খলিলুর -সম্পাদক নূর মোহাম্মদ

সাতক্ষীরায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা!

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ চার দিনের ব্যবধানে দু’বার ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার ভিকটিম এসএসসি পরীক্ষাথী মাইমুনা ইয়াসমিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়ার চাচা মুনসুর আলীর বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
মৃত মাইমুনা ইয়াসমিন সাতক্ষীরা শহরের দক্ষিণ কাটিয়া ঈদগাহ এলাকার আজিজুর রহমানের মেয়ে। সে নবারুন বালিকা বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

কাটিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, গত ৩ মে সাতক্ষীরা শহরতলীর ইটাগাছার বনলতা হাউজিং কমপ্লেক্স এলাকায় এক সময়কার সহপাঠীর বাড়িতে যেয়ে পূর্ব পরিচিত জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইরুনিয়নের খলিষাবুনিয়া গ্রামের হৃদয় হোসেন(২১) চেতনানাশক ¯েপ্র করে মাইমুনা ইয়াসমিনকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একইভাবে গত ৭ মে সন্ধ্যার পর বাড়ির পিছনে এক নারীর সহযোগিতায় গোয়ালঘরে হৃদয় হোসেন তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
চার দিনের ব্যবধানে ওই মেয়ে দুইবার ধর্ষিত হয়েছে এমন অভিযোগে তার বাবা আজিজুর রহমান বাদি হয়ে ৯ মে সাতক্ষীরা সদর থানায় হৃদয় হোসেন ও দুই নারীর নাম উল্লেখ করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(২)/৩০ ধারায় মামলা(২০) দায়ের করেন।
মামলা রেকর্ড করার ঘটনাস্থলে যেয়ে ও ওই দুই নারীসহ চারজনকে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ভিকটিমের বক্তব্যের সাথে মামলায় বর্ণিত অভিযোগ গোলমেলে মনে হওয়ায় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

১০ মে মেয়েটি সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম ইয়াসমিন নাহারের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। একই দিনে সদর হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। মামলার পর থেকে মেয়েটি বিমর্ষ ছিল।

মিজানুর রহমান আরো জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে মাইমুনা ইয়াসমিনের লাশ তার বাড়ি সংলগ্ন ঢাকায় অবস্থানকারি চাচা মুনসুর রহমানের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। মেয়েকে ঘরের মধ্যে তালাবদ্ধ রেখে চাবি তার বাবা আজিজুর রহমান নিয়ে গিয়েছিলেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মকর্তা মোঃ গোলাম কবীর জানান, মাইমুনা ইয়াসমিনের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মৃতের বাবা বাদি হয়ে মঙ্গলবার রাতে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। লাশের ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।#

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেশের মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি

অর্থনীতির খবর: মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবারও ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে। এর ফলে রিজার্ভ কমে ৪২ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১১ মাসে (২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ৩১ মে) প্রায় ৬০০ কোটি (৬ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বিপরীতে বাজার থেকে ৫৩ হাজার কোটি টাকার (প্রতি ডলার ৮৯টাকা) বেশি তুলে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এত ডলার বাজারে ছাড়া হয়নি। এরপরও বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে।

বাজারে চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ কম। সে কারণে প্রতিদিনই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আন্তব্যাংক দরে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সামাল দিতে সবশেষ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরেক দফা কমিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ দফায় এক ধাক্কায় টাকার মান ১ টাকা ১০ পয়সা কমিয়ে সব ব্যাংকের জন্য ডলারের একক দর ৮৯ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেয়া দরে ডলার কেনাবেচা করলেও সাধারণ মানুষের কাছে নগদ ডলার বিক্রি করছে সাড়ে ৪ টাকা থেকে ৭ টাকা বেশি দরে। খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে বিক্রি হচ্ছে আরও বেশি দামে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক মঙ্গলবার ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। জনতা ব্যাংক থেকে ১ ডলার কিনতে লেগেছে ৯৩ টাকা ৯০ পয়সা। অগ্রণী ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯৩ টাকা ৫০ পয়সায়।

বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক থেকে ১ ডলার কিনতে লেগেছে ৯৬ টাকা। প্রাইম ব্যাংক নিয়েছে ৯৫ টাকা। খোলাবাজারে প্রতি ডলার ৯৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

অস্থির বাজারে ১৭ মে খোলাবাজারে ডলারের দর ১০০ টাকা ছাড়িয়ে ১০৪ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। ১৮ মে ১০০ টাকার বেশি দরে কার্ব মাকেটে ডলার বিক্রি হয়। ১৯ মে অবশ্য ডলারের দর ১০০ টাকার নিচে নেমে এসে ৯৬ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৯৬ টাকায় ৩০ পয়সায় বিক্রি হয়। এরপর থেকে কার্ব মাকেটে ডলার ৯৬ টাকা থেকে ৯৮ টাকার মধ্যেই কেনাবেচা হচ্ছে।

ওই কয় দিন ইস্টার্ন ও প্রাইম ব্যাংক ৯৮ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে।

ব্যাংকগুলোর দাবির পরিপেক্ষিতে রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক আন্তব্যাংক কেনাবেচার ক্ষেত্রে ডলারের দাম ৮৯ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। পাশাপাশি আমদানিকারকদের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের দাম ৮৯ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। ব্যাংকগুলো অবশ্য আন্তব্যাংক লেনদেনে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছিল।

ব্যাংকগুলো সোম ও মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেয়া ৮৯ টাকা দরে নিজেদের মধ্যে ডলার কেনোবেচা করেছে। আমদানিকারকদের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রেও ৮৯ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করা দর মেনেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বাজারে ডলারের চাহিদা মেটাতে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের মঙ্গলবার পর্যন্ত অর্থাৎ অর্থবছরের ১১ মাসে মোট ৫৯৫ কোটি (৫.৯৫ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক । বিভিন্ন সময়ে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার দরে এই ডলার বাজারে ছাড়া হয়েছে।

মঙ্গলবার যে ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার ছাড়া হয়েছে তা সোমবার থেকে নতুন বেঁধে দেওয়া দর ৮৯ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে।

করোনা মহামারির কারণে গত ২০২০-২১ অর্থবছর জুড়ে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন দেখা যায়। সে কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায়। সে পরিস্থিতিতে ডলারের দর ধরে রাখতে গত অর্থবছরে বাজার থেকে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তারই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

আগস্ট মাস থেকে দেখা যায় উল্টো চিত্র। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে আমদানি। রপ্তানি বাড়লেও কমতে থাকে রেমিট্যান্স। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও কমতে থাকে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়; বাড়তে থাকে দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই একই জায়গায় ‘স্থির’ ছিল ডলারের দর। এরপর থেকেই বাড়তে থাকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রার দর।

হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, এই ১০ মাসে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অনলাইন ডেস্ক : ২০০৯ সাল থেকে দূরদর্শী রাজস্ব ও ঋণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশ। গত ৪০ বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিক রয়েছে এবং মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ২০২০ সালে এই অঞ্চলের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে তা সাড়ে ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান প্রায় এক তৃতীয়াংশ। তবে ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান এক পঞ্চমাংশ থেকে বেড়ে এক তৃতীয়াংশ হয়েছে।

১৯৮০ সালের পর থেকে জিডিপিতে উৎপাদন খাতের অবদান দ্বিগুণ হয়েছে। ১৯৯০’র দশকের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি ২০ গুণ বেড়ে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি হয়েছে। ২০১৯ সালের ১৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স থেকে শুরু করে স্বল্প মজুরির শ্রমও অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।

রেমিটেন্স, রপ্তানি এবং কৃষির শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ফলে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভারতের তুলনায় মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ২০২০ সালে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ২ হাজার ৯৮ ডলার থেকে কমে এক হাজার ৯২৯ ডলার হয়েছে। দেশটির অর্থনীতির আকার ২ দশমিক ৮৭ ট্রিলিয়ন থেকে কমে ২ দশমিক ৬৬ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

গত ১৫ বছরে প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ ধরে রাখায় ২০২০ সালে মাথাপিছু জিডিপি ১ হাজার ৯৬১ মার্কিন ডলার নিয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। একই বছর বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৩৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। ২০০৪ সালের পর থেকে প্রত্যেক বছর বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। ২০১৭ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি কমতে শুরু করায় বড় প্রতিবেশী এই দেশটিকে ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশ।

২০০৮ সালের বৈশ্বিক ঋণ সংকটের আগে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ভারতের অর্ধেক থাকলেও ২০১৪ সালের মধ্যে তা ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালে ভারতের অর্থনীতি ৭.৩ শতাংশ সংকুচিত হলেও একই সময়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৩ শতাংশ বেড়েছে।

আজ বাংলাদেশ রাজস্ব ঘাটতি, পণ্যসামগ্রী বাণিজ্যের ভারসাম্য, কর্মসংস্থান, সরকারি ঋণ এবং বিনিয়োগ থেকে জিডিপির অনুপাতেও ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া মানব উন্নয়ন কর্মসূচি বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা, প্রজনন হার এবং বাল্যবিয়ে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।

গড় আয়ু, জন্মহার এবং শিশু পুষ্টির মতো বেশ কিছু মানব উন্নয়ন সূচকে ভারতের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্থানের সুযোগ-সুবিধা বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে গেছে। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করেছে, যার ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নত হয়েছে।

অন্যদিকে, মানব উন্নয়ন সূচকে ভারতের অবস্থান সুবিধাজনক নয়। বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া রাজ্যগুলোতে এসব সূচক অত্যন্ত নাজুক। যেমন— বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে গত বছর কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের হার ছিল ১৯ শতাংশ। আর বাংলাদেশে তা ৩৫ শতাংশ।

ভারতের হিন্দিভাষী রাজ্যগুলো বাল্যবিয়ে এবং অকাল গর্ভধারণ মোকাবিলায় রীতিমতো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বিহার রাজ্যে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি ১ হাজারে অন্তত ৪৭। বাংলাদেশের সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রজনন সমস্যার সমাধান।

ভারত ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে পুরোনো ৫০০ এবং ১০০০ রুপির নোট বাতিলের ঘোষণা দেয়। দুর্নীতি প্রতিরোধ, ডিজিটাল লেনদেনে মানুষকে উৎসাহ দান, দেশকে জাল নোট মুক্ত করা এবং কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কয়েক বছর ধরে ওঠানামা করেছে। তবে ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে।

নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত মানুষের দৈনিক খাদ্য ও জ্বালানি কেনাকাটা বাধাগ্রস্ত করে। এর নেতিবাচক প্রভাব ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদনেও আঘাত করে। প্রায় ৮৬ শতাংশ নগদ অর্থ রাতারাতি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় দেশটির অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কল্যাণে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থানীয় মুদ্রায় গত ৫০ বছরে প্রায় ২৭০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশের বাজেট ঘাটতি জিডিপির মাত্র ৫ শতাংশ বা তার কম রয়ে গেছে। রপ্তানিমুখী শিল্প সম্প্রসারণের ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।

মূলত বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে শ্রমঘন এবং অদক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিক নির্ভর খাত টেক্সটাইল, গার্মেন্টস ও জুতো শিল্প থেকে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের সুবিধাভোগী অবস্থান, বিনিয়োগবান্ধব আইন এবং কম মজুরির কারণে অনেক ভারতীয় ক্রেতা বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতামূলক থাকতে বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হয়েছে।

ভারতের ষষ্ঠ বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার বাংলাদেশ। ২০২০-২১ সালে উভয় দেশের মধ্যে ১০ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হয়েছে। যা ২০১৯-২০ সালের সাড়ে ৯ বিলিয়নের চেয়ে বেশি। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বৃদ্ধি করবে। তবে এর পুরো সম্ভাবনা কেবল উন্নত পরিবহন সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হবে।

বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করতে সম্প্রতি যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে পণ্য, পরিষেবা ও জ্বালানির বাণিজ্য বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তঃসীমান্ত বিনিয়োগ উৎসাহিত করা। এমনকি ছোট এক প্রতিবেশী এগিয়ে যাওয়ায় এখনও অব্যবহৃত অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার অন্বেষণ বাকি রয়েছে। তবে আপাতত দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক বীরত্বের যাত্রা উপভোগ করছে বাংলাদেশ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণকেই নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে এগিয়ে আসতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র সবসময় বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার (৩১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিক্যাব টকে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় ডিক্যাব সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈন উদ্দিন বক্তব্যে রাখেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ভয়ভীতিহীন সাংবাদিকতা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় উৎসাহ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৫০ বছরে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করে যাবে, যেভাবে গত ৫০ বছর কাজ করে গেছে।

র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে পিটার হাস বলেন, র‌্যাবের ওপর অভিযোগের সুরাহায় সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা ও বাহিনীটিকে জবাবদিহিতায় আনা ছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। আমরা র‌্যাবকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় কার্যকর একটি বাহিনী হিসেবে দেখতে চাই। তবে তাদের মৌলিক মানবাধিকারও মেনে চলতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পাটকেলঘাটা খাদ্য গুদামে নিম্ন মানের চাল ক্রয়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি.এল.এস.ডি) আবুল হাসানের বিরুদ্ধে নিম্ন মানের চাল আমাদানীসহ নানা অনিময় দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছর সরকার নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী ৫৭২৯ মেট্রিক টন চাল ও ২৫৩৪ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের জন্য বরাদ্ধ পান ওই কর্মকর্তা।

একই সাথে উপজেলা ভিত্তিত মিল এবং কৃষকদের কাছ থেকে ধান চাল ক্রয়ের কথা থাকলে ও বাস্তবে দেখা গেছে তার ভিন্ন রুপ। সরজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, খাদ্য কর্মকর্তা যোগাদের পর থেকে স্থানীয় গন্যমাধ্যম কর্মীদের ম্যানেজ করে পাটকেলঘাটা এলাকার গোটা কয়েক ব্যাবসায়ীদের সাথে গড়ে তোলে গভীর সখ্যতা। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন মিলের নামে বরাদ্দকৃত চাল না নিয়ে অসাধু ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহনের মাধ্যমে নিম্ন মানের চাল আমাদানি করেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিইচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যাবসায়ী জানান, খাদ্য কর্মকর্তা আবুল হাসান পাটকেলঘাটা বাজারের জৈনেক ব্যাবসায়ী প্রনয় কুমার পালের কাছ থেকে ৩৩ মিলের বরাদ্ধ দিয়ে কুষ্টিয়া জেলা থেকে নিম্ন মানের চালের আমদানী করেন।

এছাড়া আরো কয়েক ব্যাবসায়ীর সাথে অবৈধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অধিক মুনাফার আশায় আশাশুনি ও কলারোয়া উপজেলা থেকে চাল আমদানী করেন। এছাড়া চলতি বছর আমদানীকৃত ধান চাল থেকে ১০-১৫ লক্ষ টাকা আয় করবেন ওই কর্মকর্তা। এ আয়ের একটি বড় অংশ যায় জেলা ও উপজেলা খাদ্য খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাদের পকেটে বলে অভিযোগ তার। কিছুদিন আগে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করতে গেলে ডুমুরিয়া উপজেলা থেকে ট্রাক ভর্তি চাল আমদানীর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এক পর্যায়ে ওই ব্যাবসায়ী চাপে পড়ে অপকটে সিন্ডিকেটের বিষয়টি স্বীকার করেন। এছাড়া নিম্ন মানের চাল আমদানির বিষয়ে তথ্য দিয়ে পরিচয় গোপনের জন্য অনুরোধ জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সরাকারী মূল্য তালিকা ৪০ টাকা কেজি হিসাবে ধার্য করা হয়েছে। অনেক সময় নিম্ন মানের চাল কিনে গোডাউনে দিতে হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এজন্য আবুল হাসানকে ১-২%হারে টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে পাটকেলঘাটা বাজারের ব্যাবসায়ীর প্রনয় কুমার পালের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি তালা উপজেলা মিল মালিক সমিতির সভাপতিসহ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ পদে সুনামের সাথে দ্বায়িত্ব পালন করে আসছি। কে বা কারা আমার নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে সেটি আমার বোদগম্য নয়। ৩৩ টা মিলের নামে আমার কোন বরাদ্ধ নেই আমি নিজেই একটি মিল চালাই। কুষ্টিয়া থেকে চাল আমাদানি করি ঠিকই তবে সেটি সরকারী গোডাউনে বিক্রি করিনা। তবে কেন ব্যাবসায়ীদের চাল কম পড়লে সাহায্য করি বলে তিনি অপকটে স্বীকার করেন। এবিষয়ে অভিযুক্ত ওই পাটকেলঘাটা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি.এল.এস.ডি) আবুল হাসানের সাথে কথা বললে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মিলের নামে বরাদ্ধ যে কেউ নিতে পরে তার জন্য দায়ী আমি না। আমার গোডাউনে কোন নিম্ন মানের চাল আমদানী করা হয়না। তবে বরাদ্ধকৃত মিলের তালিকা চাইলে তিনি তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মাদার তেরেসা পুরুস্কার পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেককে জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ’র শুভেচ্ছা 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

সাংগঠনিক  দক্ষতা ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখায়  আলোকিত মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মাদার তেরেসা গোল্ডেন এ্যাওয়ার্ড – ২০২২ ইং এর পুরুস্কার পাওয়া জাতীয় শ্রমিকলীগ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী

(দাহ্য পর্দাথ বহনকারী ব্যতীত) ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং- খুলনা ৭৬৪ এর সভাপতি  বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল খালেককে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী (দাহ্য পর্দাথ বহনকারী ব্যতীত) ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং- ৭৬৪ এর নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার সকালে নারিকেল তলা মোড়স্থ অত্র শ্রমিক ইউনিয়ন কার্য্যলয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল খালেককে ফুলেল জানান জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী (দাহ্য পর্দাথ বহনকারী ব্যতীত) ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং- খুলনা ৭৬৪ এর সহ-সভাপতি মোঃ রকিব,  সাধারণ সম্পাদক  মোঃ আব্দুল কাদের কাদু,

সহ-সাধারন সম্পাদক শেখ জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, সড়ক সম্পাদক কবিরুল ইসলাম, কোষাইধক্ষ আশরাফুজ্জামান ময়না, অফিস সম্পাদক সেলিম আহমেদ,  কার্য্যকারী সদস্য আবু সিদ্দিক,  শামিম রেজা, আঃ রাজ্জাক, আঃ কাদের, আক্তার হোসেন বাবলু, শহিদুল বিশ্বাস, সাইফুল ইসলাম, মামুন কবির, অফিস সহকারী আশরাফ আলী প্রমূখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিশ্ব বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে

অনলাইন ডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা জারির পর আবারও বেড়েছে তেলের দাম। বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সোমবার (৩০ মে) রাতে ব্রাসেলসে একটি সম্মেলনে সমুদ্রপথে রাশিয়ার তেল পরিবহনের ওপর সর্বসম্মত নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইইউর দেশগুলো। এ নিয়ে চুক্তিও করে ইইউর নেতারা। তাদের এমন সিদ্ধান্তের কারণে এখন থেকে রাশিয়ার দুই-তৃতীয়াংশ তেল ইউরোপে রপ্তানির পথ বন্ধ হয়ে গেল। কারণ, রাশিয়ার তেলের দুই-তৃতীয়াংশ সমুদ্রপথেই ইউরোপে যায়।

বিবিসি জানিয়েছে, ইইউর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারির পরই বিশ্ববাজারে বাড়তে থাকে তেলের দাম। মঙ্গলবার সকালে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২৩ ডলারের ওপরে উঠেছিল।

ইউক্রেন যুদ্ধ ও করোনার বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। ক্রমবর্ধমান জ্বালানির খরচে ইউরোপের ভোক্তা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও রাশিয়াকে চাপে রাখতে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে।

বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমদানি করা তেলের ২৭ শতাংশ ও গ্যাসের ৪০ শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে। এর মাধ্যমে রাশিয়া বছরে প্রায় ৪২ হাজার ৯০৯ কোটি ডলার বা ৪০০ বিলিয়ন ইউরো আয় করে।

এদিকে তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলেও এখন পর্যন্ত রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি ইইউ। শুধু রাশিয়া থেকে জার্মানিতে যাওয়া নতুন একটি গ্যাস পাইপলাইনের পরিকল্পনা স্থগিত হয়েছে। এ ছাড়া আর কোনো উদ্যোগ নেয়নি ইইউর দেশগুলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চালের দামের উর্ধ্বগতি ঠেকাতে মাঠে মন্ত্রণালয়ের ৮ টি টিম

দেশের খবর: বোরো ধানের ভরা মৌসুমে চালের দামের উর্ধ্বগতি ঠেকাতে অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ৮টি টিম। মঙ্গলবার (৩১ মে) থেকেই টিমগুলো মাঠে নেমেছে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে তার অফিস কক্ষে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বোরোর ভরা মৌসুমে ধান-চালের দাম বেশি কেন- সোমবার এ প্রশ্ন তুলে মন্ত্রিসভা অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্য মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপ নিলো।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ধান-চালের অবৈধ মজুত ঠেকাতে আজ থেকেই মাঠে নামছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ৮ টিম। টিমের সদস্যরা কেউ অবৈধ মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কি না তা খতিয়ে দেখবে এবং অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কাজ করবে।

অবৈধ মজুতদারী প্রতিরোধে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) আধা-সরকারি চিঠি পাঠানো এবং এনএসআই, র্যাব ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকেও এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়াও শিগগির কৃষি, খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত সভা আয়োজন করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন খাদ্যমন্ত্রী।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। অবৈধ মজুতের তথ্য জানাতে কন্ট্রোল রুমের +৮৮০২২২৩৩৮০২১১৩,০১৭৯০৪৯৯৯৪২ এবং ০১৭১৩০০৩৫০৬ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘এই ভরা মৌসুমে চালের দাম কেন বেশি-বৈঠকের সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের মার্কেট সার্ভে করে ইমিডিয়েটলি একটা অ্যাকশনে (বাজার জরিপ করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে) যেতে বলা হয়েছে। কেন চালের দাম বাড়বে? তাই কোথায় কে চাল মজুত করে এবং আমাদের কিছু ইনফরমেশন আছে যে, আমি যে ইন্ডাস্ট্রি টা করব বা যে প্রোডাকশনে যাবো, আমার তো মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন আছে। মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশনে তো বলা আছে, আমি কি করতে পারব?’

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘খাদ্যমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, খাদ্য সচিব, বাণিজ্য সচিব ও কৃষি সচিবকে দ্রুত বসে মার্কেট সার্ভে করে, এই বিষয়গুলো দেখতে বলা হয়েছে। ভরা মৌসুমে কেন চালের দাম এত বেশি থাকবে?’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘কিছুদিন আগে তেলের বিপরীতে যেভাবে ড্রাইভ দেওয়া হল, ওই রকম ড্রাইভ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদি কেউ এভাবে আন অথরাইজড চালের ব্যবসা করে বা মজুত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest