সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় দুর্গাপূজার নবমীতে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আশরাফুল আলমআশাশুনিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজসাতক্ষীরায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সাবেক মেয়র চিশতিউপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ: চারা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের অঙ্গীকারপ্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না শ্যামনগরের বিএনপি নেতা আদম আলীএখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরের

আল-হেরা ফাউন্ডেশনের পক্ষে ভ্যান ও সেলাই মেশিন বিতরণ
প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসাবে দারিদ্রতা বিমোচনে কাজ করে যাচ্ছে আল-হরা ফাউÐেশন। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময় তারা আত্মমানবতার সেবাই ও দারিদ্রতা বিমোচনে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তারই অংশ হিবাবে করোনা মাহামারির এই সময়ে হত দরিদ্র মানুষের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে ভেন ও সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
“ কোন কর্ময় ছোট নয় ”  এই ¯েøাগান কে সামনে রেখে ৯ই অক্টোবর শনিবার বাদ জোহর ফাউÐেশনের সভাপতি সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম ইমরানের উপস্থিতিতে ভেন ও সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রমের সূচনা হয়।
এই সময় প্রধান অথিতি হিসাবে উপস্থিত থেকে ফাউন্ডেশনের পক্ষে ভেন ও সেলাই মেশিন বিতরন করেন সাতক্ষীরা পৌরসাভার ৯ নং ওয়ার্ডের বার বার নির্বাচিত কাউ¯িœলর শেখ শফিক-উদ-দৌলা সাগর।
প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে অসংখ্য মানুষ তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছে। আর এই সময় আল হেরা ফাউÐেশন হত দরিদ্র মানুষদের মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান তৈরিতে যে ভূমিকা রাখছে তা প্রশংসার যোগ্য। আমি আশা করি আগামীতে ও তাদের এই প্রয়াশ অব্যাহত থাকবে। এই সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লা আল মাসুম, মসজিদের পেশ ইমাম তাজবীর আলম, রেদওয়ান ইসলাম(রাফি), আবুল বাশার , তামিম, ওয়ালিদ, হাপিজুল, সাব্বির, রকি, শাওন সহ আরও অনেকে।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অনলাইন ডেস্ক :  বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত থেকে এলো সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত ১০ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন। প্রায় সাড়ে ছয় মাস পর অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ফর্মুলায় তৈরি এসব টিকা পাঠানো হলো।

শনিবার বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভ্যাকসিনের এই চালান এসে পৌঁছে।

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চিফ এক্সকিউটিভ অফিসার (সিইও) রাব্বুর রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাব্বুর রেজা বলেন, বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ১০ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে। সেখান থেকে ভ্যাকসিনগুলো সংরক্ষণের জন্য ওয়্যারহাউজে নিয়ে যাওয়া হবে।

২০২০ সালের ৫ নভেম্বর দেশে সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার কাছ থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ করোনা ভ্যাকসিন আনতে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাংলাদেশ সরকার, বেসরকারি ফার্মাসিউটিক্যালস বেক্সিমকো ও ভারতের ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী সিরামের সঙ্গে এই চুক্তি সই করা হয়। পরে ১৩ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত ক্রয়চুক্তি সই করে সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছে পাঠানো হয়।

৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন কেনার জন্য ৫০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা দেওয়া হয় সেরাম ইনস্টিটিটিউটকে। চুক্তি অনুযায়ী ৫ জানুয়ারি আসে সিরামের কাছ থেকে সরকারের কেনা ভ্যাকসিনের প্রথম চালান। এই চালানে ভ্যাকসিন আসে ৫০ লাখ ডোজ। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে ছয় মাসে তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন বাংলাদেশের পাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু ২১ জানুয়ারি ২০ লাখ চার হাজার ডোজ ভ্যাকসিন এসে পৌঁছায়। সেগুলো অবশ্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে আরও ৩২ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে এসে পৌঁছায়।

২৬ মার্চের পর ভ্যাকসিনের আর কোনো চালান ভারত থেকে আসেনি। ভারতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এবং নিজ দেশের নাগরিকদের ভ্যাকসিন নিশ্চিতে সেরাম ইনস্টিটিউট রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। দেশটিতে করোনা সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসায় এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নাগরিককে টিকার আওতায় আনায় ভারত আবার টিকা রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফিংড়ী ইউপি’ র ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বর পদে প্রচারনায় নেমেছেন হাবিবুর 
ফিংড়ি প্রতিনিধি :
আগামী ১১ নভেম্বর ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বর পদে প্রচারনায় নেমেছেন মো. হাবিবুর রহমান। ফিংড়ী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড  (গোবরদাড়ী) হতে মেম্বর পদে নির্বাচন করার লক্ষে নতুন মুুখ মো. হাবিবুর রহমান।
জনগনকে সেবা করার জন্য সকাল হতে গভীর রাত পর্যন্ত তার পক্ষের কর্মীদের সাথে নিয়ে ভোটারদের বাড়িতে যেয়ে খোজ খবর নেওয়াসহ অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন।
ইতিমধ্যে তিনি গ্রামের বিভিন্ন রাস্তা খারাপ অংশগুলো ইট খোয়া শুরকি দিয়ে জন চলাচলের উপযোগি করে তুলেছেন। এলাকার রাস্তাঘাটে স্টিক লাইট বসিয়ে মন জয় করে নিয়েছেন ভোটারদের। চায়ের দোকান গুলোতে চলছে নির্বাচনী ঝড়। হাবিবুর রহমান জানান, তিনি জয়ী হলে তার ওয়ার্ডের সকল সমস্যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করবেন।
কোন মানুষ  অন্যায় ভাবে পুলিশি হয়রানি হতে দিবেন না। সকলের নায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এলাকাবাসীসহ সকলের নিকট তার জন্য দোয়া ও সমার্থন কামনা করেছেন।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় জাতীয় তামাক মুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভা

“জীবন বাঁচাতে তামাক ছাড়ি, তামাক কোম্পানীর আগ্রাসন প্রতিহত করি” প্রতিপাদ্যে সাতক্ষীরায় জাতীয় তামাক মুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১২টায় সাতক্ষীরা সিভিল কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, সাতক্ষীরা সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা পুলক কুমার চক্রবর্তী।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসার ডাঃ মোঃ হুসাইন শাফায়াত।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট(বাটা),সিমান্ত উন্নয়ন ফাউন্ডেশন,সুন্দরবন ফাউন্ডেশন, প্রভা সংস্থা, মিডা, নারী কন্ঠ, উদ্দিপ্ত মহিলা উন্নয়ন সংস্থা,সবুজ ফাউন্ডেশন,মৌমাছি’র যৌথ আয়োজনে

সীমান্ত উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাকিলা ইয়াসমিন মেরি, সাতক্ষীরা বাটা’র সদস্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ আফজাল হোসেন, মৌমাছি সংস্থার সুশান্ত মল্লিক, মিডার নির্বাহী পরিচালক দুলাল চন্দ্র দাস, উদ্দিপ্ত মহিলা উন্নয়ন সংস্থার দিলিপ চন্দ্র দাস প্রমুখ।

এসময় বক্তারা তামাক মুক্ত দেশ গড়তে সকলকে তামাকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কা‌লিগ‌ঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা মিলেছে

অাহম্মাদ উল‌্যাহ বাচ্ছু কা‌লিগঞ্জ : কালিগঞ্জের মথুরেশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইনের বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তদ‌ন্তের সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

গত ৪ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার রবিউল ইসলাম সরেজমিনে তদন্ত করে ৬টি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি খুঁজে পান। পর দিন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরিত ০৫.৪৪.৮৭৪৭.০০০.১৪.০০১.১৯-৭৬৬ নং স্মারকে ইউএনও স্বাক্ষরিত পত্রে এ সত্যতা পাওয়া যায়।

তদন্ত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০১৭ -১৮ অর্থবছরে এলজিএসপি’র অধীনে ১ লাখ টাকা বরাদ্দে ৫ নং ওয়ার্ডের দেয়া পিচের মুখ হইতে পুরাতন ইট সোলিং পর্যন্ত ও ইটের মুখ হইতে বজলু সরদারের বাড়ীর অভিমুখ পর্যন্ত নতুন ইট সোলিং রাস্তা নির্মাণ, ২০১৮ -১৯ অর্থবছরে (বাস্তবায়ন ২০১৯-২০) এলজিএসপি’র অধীনে ১ লাখ টাকা বরাদ্দে দেয়া মনোরঞ্জন ঘোষের বাড়ি হইতে নিলকোমল ঘোষের বাড়ির অভিমুখে ইট সোলিং রাস্তা নির্মান, ৭৯ হাজার ৮’শ টাকা বরাদ্দের উজয়মারী জয়দেবের বাড়ির মুখ হইতে উজয়মারী প্রাইমারী স্কুল পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেয়া বজলুর সরদারের বাড়ীর মুখ হইতে কোমলের বাড়ীর অভিমুখে নতুন নির্মাণ ৪১ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়।

কিন্তু এসব প্রকল্প স্হানে কাজ হয়নি। তদন্তকালে প্রকল্প সভাপতি সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা ও ইউপি চেয়ারম্যান সন্তোষ জনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে এলজিএসপি’র ৪ লাখ টাকা বরাদ্দে বসন্তপুর গ্রামের হবি মোল্লার বাড়ির মুখ হইতে সাইফুল মেম্বারের বাড়ির অভিমুখে পানি নিষ্কাশনের আউট ড্রেন নির্মাণ এবং হাড়দ্দাহ কলগেট হইতে ঘূর্ণিঝড়ে আয়লার পানি প্লাবন হইতে রক্ষা পাওয়ার জন্য মাটির রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তদন্তে প্রকল্প দুটি আংশিক সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে আরো জানা গেছে, মিজানুর রহমান গাইন ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে কাগজে কলমে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে সরকারের উন্নয়নের ধারাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকল্পের কাগজপত্র তুলে বাস্তবে কাজের কোন মিল খুঁজে পাওয়ার একপর্যায়ে চেয়ারম্যান মিজানের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত মাসে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক হুমায়ন কবীরের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৪ অক্টোবর বেলা ১১টায় ইউনিয়নের পোর্ট বসন্তপুর, হাড়দ্দাহ, দেয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযুক্ত প্রকল্প গুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পত্র প্রেরণ করা হয়। তাতে দেখা যায়, তদন্তে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বিভিন্ন অর্থ বছরে এলজিএসপি প্রকল্পের ৪টি খাতে শতভাগ অনিয়ম ও দুর্নীতি খুঁজে পাওয়া গেছে এবং ২টি খাতে আংশিক সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তকালে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইন, সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য-সদস্যা ও প্রকল্প চেয়ারম্যানসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইনের ব‌্যব‌হ্নিত ০১৭৩০৯৮৬৯২৩ মুঠোফো‌ন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার রবিউল ইসলামের নিকট দুর্নী‌তির তদ‌ন্তের সত‌্যতা জান‌তে চাইলে তিনি বলেন, ই‌তিমধ্যে তদন্ত শে‌ষে প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক মোঃ হুমায়ুন ক‌বির স্যারের কাছে পাঠিয়েছি। ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে ৬‌টি উন্নয়ন প্রক‌ল্পের সত্যতা পাওয়া গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরার প্রাণ সায়ের পাড় দখল করে নি¤œমানের কাপড় বিক্রয়ের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আসাদুজ্জামান ঃ অবৈধভাবে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ সায়ের খালপাড় দখল করে পরিবেশ নষ্ট এবং নি¤œমানের কাপড় বিক্রয় করে ক্রেতাদের ঠকানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন, বস্ত্র ব্যবসায়ী মালিক সমিতি সভাপতি মোঃ গোলাম রসুল।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, সাতক্ষীরাবাসীর প্রাণ হচ্ছে প্রাণ সায়র খাল।

সম্প্রতি সরকার কোটি টাকা খরচ করে প্রাণ সায়ের খাল খনন ও খালের দুইপাড়ের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করেছেন। কিন্তু খননের কয়েক মাস পরেই আবারো খালের দুইপাড় দখলের উৎসবে মেতে উঠেছেন কিছু অসাধু ব্যক্তি। বিশেষ করে শহরের সুলতানপুর বড়-বাজার থেকে থানা মসজিদ পর্যন্ত কাপড়ের ব্যবসা পরিচালিত হয়। কিন্তু সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যক্তি সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল জলিল সাহেবের বাড়ির পূর্ব পাশে (ওয়ান ব্যাংকের সামনে) প্রাণ সায়র খালপাড় দখল করে নি¤œমানের কাপড় বিক্রয় করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তাদের ধোকায় পড়ে অনেক ক্রেতা ঠকেছেন।

এ নিয়ে প্রায়ই তাদের সাথে ক্রেতাদের ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকে। সম্প্রতি একজন মহিলা ক্রেতাকে তারা মারপিটও করেছেন। খালপাড় দখল করে তারা খুটিপুতে সেখানে অস্থায়ীভাবে দোকান দিয়ে প্রতিনিয়ত ময়লা আজর্বনা প্রাণ সায়ের খালে ফেলে পরিবেশ দূষিত করছে।

তিনি বলেন, আমরা সাতক্ষীরা বস্ত্র ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সদস্যরা নিয়মিত সরকারের ভ্যাট ও ট্রাক্স প্রদান করে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করি। কিন্তু ওই সকল ব্যক্তিরা মিথ্যা প্রলোভনে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার কারণে আমারও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। অথচ আমরা লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে ক্রেতাদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে গুনতম মানের কাপড় দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু খালপাড়ের অবৈধ দোকানদারদের কাছ থেকে নি¤œ মানের কাপড় কিনে একদিকে যেমন প্রতারিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, ক্রেতারা আমাদের মার্কেট থেকে কাপড় কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

এর ফলে আমাদের ব্যবসায়ীক সুনাম নষ্ট হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ইতিপূর্বে আমরা সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সদর এ্যাসিল্যান্ড বরাবর আবেদন করি। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এঘটনায় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আমরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এ সময় সাতক্ষীরা বস্ত্র ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রাণ সায়ের খালপাড় দখলকারী ওই সকল অসাধু ব্যবসায়ীদের দ্রুত উচ্ছেদ পূর্বক প্রাণ সায়ের খাল রক্ষা এবং বস্ত্র ব্যবসায়ীদের ক্ষতির হাত রক্ষা করতে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পাটকেলঘাটায় মন্দিরের নামে সরকারি সম্পত্তি দখল চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় ধর্মের দোহাই দিয়ে মন্দিরের নামে সরকারী এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি দখল চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন, তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার ঝড়াগাছা গ্রামের মৃত হরিপদ ঘোষের ছেলে পরিমল কান্তি ঘোষ।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, পাটকেলঘাটার ধানদিয়া ইউনিয়নের নলকুড়া বাজারে ৫৮০ নং খতিয়ানে ১২২১, ১২২২ ও ১২২৩ দাগে আমার জেঠা স্বর্গীয় মনিন্দ্র নাথ ঘোষ উক্ত সম্পত্তির মালিক ছিলেন। তিনি তার নিজস্ব সম্পত্তিতে বাংলাদেশ স্বধীনের আগে অত্র এলাকার মানুষের সুবিধার্থে সেখানে বাজার স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তিনি ওই সম্পত্তি বাজারের নামে দান করেন।

 

দীর্ঘকাল যাবত সেখানে বাজার বসে। অত্র এলাকার প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সেখানে খোলা মাঠে বসে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় বিক্রয় করতেন।

উক্ত সম্পত্তির পাশে আমার জেঠাতো ভাইয়ের নিজ নামীয় রেকর্ডীয় সম্পত্তিও রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি একই এলাকার সাবেক ইউপি মেম্বর বিশ^জিত ঘোষ, দিপংকর সুর, মোনজ ঘোষ, সঞ্জয় ঘোষ, কৃষ্ণপদ ঘোষ ও বিষ্ণুপদ ঘোষ উক্ত বাজারের সম্পত্তি দখলের চক্রান্ত শুরু করে। অথচ উক্ত সম্পত্তি বর্তমান মালিক সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক।

এছাড়া এই সম্পত্তির পাশে আমার জেঠাতো ভাইয়ের সম্পত্তিও তারা একই সাথে দখলের উদ্দেশ্যে পাকাস্থাপনা নির্মান শুরু করেন। আর তাদের এই অবৈধ দখলকে বৈধ করার জন্য সেখানে একটি মন্দিরের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগিয়েছেন এই চক্রের হোতা বিশ^জিত ও দিপংকর। সরকারী কর্মকর্তারা যাতে তাদের দখল উৎসবে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে সে কারনে তারা সরকারী ছুটির দিন শুক্রবার তড়িঘড়ি করে তালা উপজেলাসহ বিভিন্নস্থানের ভাড়াটিয়া ক্যাডার বাহিনী নিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের নির্মান কাজ বন্ধ রাখার জন্য বললেও তারা নির্মান কাজ চালিয়ে গেলে পরে সেখানে পুলিশ ও ভুমিকর্মকর্তা গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু তারপরও উল্লিখিত ব্যক্তিরা রাতের আধারে সেখানে ভাড়াটিয়া বাহিনী দিয়ে গোপনে স্থাপনা নির্মান পূর্বক দখল করতে পারে বলে আমরা আশংকা করছি।

তিনি বলেন, এই বিশ^জিত গং ইতিপূর্বে স্থানীয় কুঞ্জ বিহারী ঘোষের দোকানঘর ভেঙে সেখানে তুলশীপীড়া বানিয়েছেন। এছাড়া অত্র এলাকার অসহায় নিরীহ মানুষের সম্পত্তি মন্দির ও থানের নামে অবৈধভাবে তা দখল করে মহাউৎসব চালিয়ে যাচ্ছেন এই চক্রটি। তিনি আরো বলেন, উক্ত বাজারটি দখল হয়ে গেলে অত্র এলাকার প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়বেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এ সময় এই চক্রের হাত থেকে মন্দিরের নামে সরকারী এবং ব্যক্তি রেকর্ডীয় সম্পত্তি রক্ষার জন্য সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেশের সব মানুষ পাবে নিরাপদ পানি : জাতীয় ওয়াটার গ্রিড তৈরির পরিকল্পনা

দেশের খবর : গ্যাস ও বিদ্যুৎ গ্রিডের আদলে ‘জাতীয় ওয়াটার গ্রিড’ তৈরির চিন্তা করছে সরকার। দেশের সব এলাকার মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে এমন ভাবনা। ‘ওয়াটার গ্রিড’ হলে ভূ-গর্ভস্থ পানির উত্তোলন কমবে, ভূ-উপরিস্থ উৎসের পানির ব্যবহার দিয়েই চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। উপকূলীয় অঞ্চলসহ সব এলাকার মানুষ সুপেয় পানি পাবে আর সেটা হলে দেশের ভূ-গর্ভস্থ পানির লেভেল ঠিক থাকবে। ভূমিধসের ঝুঁকি কমবে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে। পানি উৎপাদন ও সরবরাহের টেকসই এ উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হবে বড় উপহার।

জানা যায়, গত ২৬ মে দি রিজিওনাল সেন্টার অন আরবান ওয়াটার ম্যানেজমেন্টের (আরসিইউডব্লিউএম) ‘গভর্নিং বোর্ড মিটিং-২০২১’ এ বক্তৃতা করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ভার্চুয়াল ওই সভায় মন্ত্রী ‘জাতীয় ওয়াটার গ্রিড’ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান। এ ছাড়া আঞ্চলিকভাবে পানি সমস্যা সমাধানে আন্তঃসীমান্ত ওয়াটার গ্রিড লাইন চালুর বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন আলোচনা সভা, সেমিনার ও সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি ‘জাতীয় ওয়াটার গ্রিড’ করার দৃঢ় ইচ্ছার কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, দেশের কিছু কিছু এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ করা চালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘জাতীয় ওয়াটার গ্রিড’ তৈরির মাধ্যমে জোন এবং সাব-জোন করে পানি সরবরাহ করলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। আর এ অঞ্চলের অনেক দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পানি রয়েছে। কিছু দেশে প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি রয়েছে। সদস্য দেশগুলোর সমন্বয়ে পানি স্বল্পতা নিরসন সম্ভব।

তিনি বলেন, সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ এবং আন্তঃসীমান্ত ওয়াটার গ্রিড নির্মাণ সংক্রান্ত ধারণাটি আরসিইউডব্লিউএম’র সদস্য দেশগুলোর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়া যেতে পারে। রাশিয়া, রোমানিয়া ও গ্রিসে এ ধরনের কানেক্টিভিটি থাকলে এশীয় অঞ্চলে থাকবে না কেন। আঞ্চলিক সহযোগিতা ছাড়া এ অঞ্চলের পানি সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

অস্টেলিয়ার ন্যাশনাল ওয়াটার অথোরিটির ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে দেশটির সরকার জাতীয় ওয়াটার গ্রিড কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে ওয়টার গ্রিড উন্নয়নের কার্যক্রম জোরদার করতে ১২টি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। দেশটির সরকার মনে করছে, ওয়াটার গ্রিড কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করবে এবং অঞ্চলিক স্থিতাবস্থা তৈরিতে সহায়তা করবে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. গোলাম মোস্তফা বলেন, ঢাকা ওয়াসা নতুন করে পানি সরবরাহ লাইন তৈরির কাজ করছে। এটা তৈরির কাজ শেষ হলে ঢাকার দুই সিটির ৩০৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় পানি সরবরাহের জন্য ‘ওয়াটার গ্রিড’ তৈরি করা সম্ভব হবে। এক এলাকায় পানি সংকট হলে অন্য এলাকার সরবরাহ লাইন থেকে সেটা দেওয়া সম্ভব হবে। তবে জাতীয়ভাবে এটা কিভাবে সম্ভব সেটা আমার বুঝে আসছে না।

তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসা ভূ-গর্ভস্থ পানির উৎস থেকে ভূ-উপরিস্থ উৎসে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সে লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। আগামী ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে সেটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। আমরা ১৪৫টি অঞ্চলে ভাগ করে নতুন পাইপলাইন তৈরির কাজ করছি। ইতোমধ্যে অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ইরিগেশনের মাধ্যমে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পানি সরবরাহের উদাহরণ রয়েছে। সেহেতু এটা অবাস্তব বা অসম্ভব কোনো চিন্তা বা উদ্যোগ নয়। তবে এটা খুবই ব্যয়বহুল ব্যাপার। এটা নিয়ে বিশদভাবে গবেষণা করে সামনে এগোতে হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘জাতীয় ওয়াটার গ্রিড’ স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর একটি চিন্তা। তিনি দেশের সুপেয় পানি ব্যবস্থাপনা টেকসই সমাধান করতে এমন চিন্তা করছেন। তবে এটা বাস্তবায়নের ব্যাপারে এখনো মন্ত্রণালয় থেকে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি।

তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো জাতীয় ওয়াটার গ্রিড তৈরির চিন্তা করছেন মন্ত্রী। যে কোনো বিষয়ে প্রথমে তো চিন্তা আসে তারপর সেটা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হয়। মন্ত্রীর নির্দেশনা পেলে এ ব্যাপারে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

দেশের পানি ব্যবস্থাপনার চিত্র :

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ পানি সরবরাহের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ মানুষ ভূ-উপরিস্থ উৎসের পানি ব্যবহার করছে। আর ৫০ শতাংশ ভূ-গর্ভস্থ উৎসের পানি ব্যবহার করছে। দেশের চারটি মহানগর অর্থাৎ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী মহানগরের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, চট্টগ্রামে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ঢাকার মতো নেমে যাচ্ছিল। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সেখানে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরের ৯৫ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহ করছে। সেখানকার বর্তমান পানির চাহিতা দৈনিক ৫০ কোটি লিটার। এর বিপরীতে দৈনিক ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে ৪৫ কোটি লিটার। বাকি ৫ কোটি লিটার পাম্পের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন সরবরাহ করছে। চট্ট্রগ্রামে ৪০০টি পাম্প ছিল, ভূ-উপরিস্থ উৎসের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় ২০০টি পাম্প ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ভূগর্ভস্থ পানির উৎসের চাপ কমায় ওই এলাকার পানির ভূগর্ভস্থ স্তরও স্বাভাবিক পর্যায় চলে আসছে। আর খুলনা শহরে চাহিদার ৫০ ভাগ ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে সরবরাহ করছে খুলনা ওয়াসা। সেখানে বর্তমান পানির চাহিদা ২৪ কোটি লিটার। প্রতিদিন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে পরিশোধিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ১২ কোটি লিটার। বাকি ১২ কোটি লিটার পানির চাহিদা পূরণ হচ্ছে ১০ হাজার চাপকলের মাধ্যমে। এ শহরের ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক রাখতে হলে শতভাগ ভূ-উপরিস্থ উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে। খুলনা ওয়াসায় কোনো পাম্প নেই। রাজশাহী মহানগরে দৈনিক পানির চাহিদা ১১ কোটি লিটার। এর মধ্যে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে ৩০ ভাগ পানি সরবরাহ করছে। এটা আসছে একমাত্র ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে। বাকি ৭০ ভাগ ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে সরবরাহ করছে। এ কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলের এ শহর পানির ভূগর্ভস্থ স্তর শুষ্ক মৌসুমে নিচে নেমে যাচ্ছে।

রাজধানীতে পানি সরবরাহ করছে ঢাকা ওয়াসা। এখানে দৈনিক পানির চাহিদা ২৪০ কোটি লিটার। এর প্রায় ২৫ ভাগ সরবরাহ করছে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে। আর বাকি ৭৫ ভাগ ভূ-গর্ভস্থ উৎস থেকে সরবরাহ করা হয়। এ চাহিদা পূরণে প্রায় ৮০০ পাম্প পরিচালিত হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে সরকার তাগিদ দিলেও ওয়াসা সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানায়, এখনো সারা দেশের গৃহস্থালি ও খাবার পানির ৯৪ শতাংশ চাহিদা পূরণ হচ্ছে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। এ উৎস থেকে গ্রাম এলাকায় ৯৯ শতাংশ ও ৮০ ভাগ শহর এলাকায় পানি সরবরাহ করা হয়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে দেশের ১৮ শতাংশ নলকূপের পানি উত্তোলনে সমস্যা হয়। ঢাকা মহানগর, পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চল ও বরেন্দ্র অঞ্চলগুলোতে পানির ভূগর্ভস্থ স্তর দ্রুত পুনঃভরণ সম্ভব হয় না। এজন্য ক্রমেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। আর সেচ ও অন্যান্য কাজে ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলন পানি সংকটকে আরও প্রকট করে তোলে। এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকার গভীর ও অগভীর ভূ-স্তরের মাত্রাতিরিক্ত আয়রণ ও আর্সেনিকের উপস্থিতি এবং উপযুক্ত ভূ-গর্ভস্থ পানির আধারের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে নিরাপদ পানিপ্রাপ্তি বিঘ্নিত করে। উপকূলীয় এলাকায় পলিমাটির আধিক্য ও গভীর নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অঞ্চলগুলোতে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়। জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত কারণে শুষ্ক মৌসুমে খরা, অনাবৃষ্টি ও বিলম্বিত বৃষ্টিপাতের কারণে পুকুর ও খাল শুকিয়ে যাওয়ায় চলতি বছরে দেশের বেশির ভাগ এলাকার মানুষ সুপেয় পানির চরম কষ্টে পড়েন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest